Corruption crippling in Telecom Sector - BTRC Kept Quiet

Author Topic: Corruption crippling in Telecom Sector - BTRC Kept Quiet  (Read 404 times)

Offline arefin

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 1173
  • Associate Professor, Dept. of ETE, FE
    • View Profile
Corruption crippling in Telecom Sector - BTRC Kept Quiet
« on: May 17, 2013, 11:01:33 AM »


দেশের টেলিকম বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হতে চলেছে। ঢালাওভাবে ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডাব্লিউ), ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) ও ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ের (আইআইজি) লাইসেন্স দেওয়ার পর এখন এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিটিআরসির অনাগ্রহ আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন যথাযথভাবে কার্যকর কি না, সে প্রশ্নও অনেকের।

নতুন আইজিডাব্লিউগুলোর বেশ কয়েকটি তাদের সেবা দেওয়া শুরু করার পর আন্তর্জাতিক কল থেকে আয়ের অংশ সরকার তথা বিটিআরসির পাওনা টাকা দিতে গড়িমসি শুরু করেছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত দুটি আইজিডাব্লিউ অপারেটরের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ২১ কোটি ৩৭ লাখ মিনিট কলের তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে।

এই কল থেকে বিটিআরসির পাওনা প্রায় ২৫ কোটি টাকা। ভিশন টেল লিমিটেড নামের একটি অপারেটর গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের মাধ্যমে আসা এক কোটি ৬৯ লাখ মিনিটের আন্তর্জাতিক কলের তথ্য গোপনের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই কল থেকে বিটিআরসির পাওনা ছিল পাঁচ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ভিশন টেল ওই টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাটেল নামের আরেকটি অপারেটরও শেষ পর্যন্ত বিটিআরসির প্রাপ্য রাজস্ব দিতে রাজি হয়েছে। আরো যেসব আইজিডাব্লিউর বিরুদ্ধে বিটিআরসির রাজস্ব পরিশোধে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অথবা বিটিআরসি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিশেষ পরিচিত।

তাঁদের কাছে টাকা পরিশোধের দাবি খুব বেশি পাত্তা পাচ্ছে না। বিটিআরসির চিঠির জবাবে সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েই নিশ্চিন্তে থাকতে পারছেন তাঁরা।

সূত্রে জানা যায়, এসব ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ের মালিকদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে চোরাই পথে আন্তর্জাতিক কলের ব্যবস্থা করার এবং তা থেকে সরকারের প্রাপ্য কয়েক শ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে বর্তমানে দুদকে একাধিক মামলা রয়েছে। আগেও এ বিষয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা ছিল।

কিন্তু এর পরও ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সহায়তায় তাঁরা নামে-বেনামে আইজিডাব্লিউসহ অন্যান্য গেটওয়ের লাইসেন্স হাতিয়ে নিয়েছেন। বিটিআরসির একজন মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তার মন্তব্য, ঢালাওভাবে এসব লাইসেন্স দেওয়ার অঘোষিত উদ্দেশ্যই ছিল দেশের টেলিযোগাযোগ খাত থেকে দ্রুত লুটপাটের পথ খুলে দেওয়া।

সে কারণে ওই পথ বন্ধে বিটিআরসির কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। তিনি বলেন, আইজিডাব্লিউ অপারেটরদের মাধ্যমে আসা আন্তর্জাতিক কলের তথ্য গোপন করার অর্থই হচ্ছে বড় ধরনের দুর্নীতি। এ ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে এর আগে পাঁচটি পিএসটিএন অপারেটরের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। মোবাইল অপারেটরদের কয়েক শ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু সেই আইনি পদক্ষেপ বর্তমান ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।

বিটিআরসির মহাপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস ডিভিশন) কর্নেল মো. জাকির হোসেন গত ৬ ফেব্রুয়ারি আইজিডাব্লিউ অপারেটরদের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক কলের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে। বিটিআরসি ২৯টি আইজিডাব্লিউ, ২৬টি আইসিএক্স ও ৩৪টি আইআইজি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণে রাখতে পারছে না। আবার এগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য একক কোনো মনিটরিং প্লাটফর্মও গড়ে ওঠেনি। এ কারণে অনেক অপারেটর পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে।

কর্নেল জাকির সমস্যার সমাধানে আইজিডাব্লিউ অপারেটরদের ইন্টারন্যাশনাল ক্লিয়ারিং হাউস (আইসিএইচ) গঠনের নির্দেশনা দেন। আইসিএইচ হচ্ছে একটি ফোরাম, যার মাধ্যমে আইজিডাব্লিউ অপারেটররা সম্মিলিতভাবে নিজেরাই নিজেদের পর্যবেক্ষণে রাখবে। গত ১৯ মার্চ এই আইসিএইচ গঠন হয়েছে এবং অপারেটররা এই অঙ্গীকার করেছে যে, প্রতি মিনিট সাড়ে তিন সেন্টের কমে তারা কল আনবে না। কিন্তু এই অঙ্গীকার আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সন্দেহ রয়েছে।

এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসের টেলিফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। কথা বলতে আগ্রহী নন তিনি।

তবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক আইজিডাব্লিউ অপারেটরদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, 'বিটিআরসির কাছে তথ্য-প্রমাণ থাকলে অবশ্যই তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে হবে। পাওনা পরিশোধের জন্য কোনো অপারেটর যদি সময় বাড়ানোর আবেদন করে, তা হলে তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আপত্তির কিছু আছে বলে আপাতত আমরা মনে করি না।'

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভিশন টেলের অন্যতম পরিচালক শরীফুল ইসলাম তথ্য গোপন ও বিটিআরসির পাওনা সম্পর্কে গত সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কারিগরি কোনো সমস্যার জন্য ওই সব কলের কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে না-ও থাকতে পারে। তবে বিটিআরসির সঙ্গে আমরা বিরোধে জড়াতে চাই না। আমরা টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছি।'

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা যায়, ভিশন টেলের গেটওয়ে থেকে ওই সব কল বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে তাদের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এমনকি ভিশন টেল এসব কলের ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের পাওনাও পরিশোধ করেছে। এর তথ্য-প্রমাণও বিটিআরসির কর্মকর্তারা জোগাড় করেছেন।

বিটিআরসির দাবি ও অভিযোগের বিরুদ্ধে গত ৪ মার্চ ভিশন টেলের হেড অব অপারেটর মিনহাজ উদ্দীন আহমেদ পাল্টা এক চিঠিতে দাবি করেন, এসব কল তাঁদের গেটওয়ের মাধ্যমে আসেনি।

এদিকে অভিযুক্ত অন্য দুটি গেটওয়ে অপারেটরের একটি বিটিআরসিকে জানায়, গত অক্টোবর ও নভেম্বরে তাদের মাধ্যমে ১৭,৯৯,৫৯৬ মিনিট কল আসে। কিন্তু আইসিএক্স ও মোবাইল অপারেটরদের তথ্যানুসারে, ওই সময় অভিযুক্ত অপারেটরের কল আসে ১৫,৩১,৭৪,৭১৩ মিনিট। দ্বিতীয় অপারেটরটি জানায়, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তাদের মাধ্যমে ৫,৬২,৬০,৩৮৬ মিনিট কল এসেছে। কিন্তু বিটিআরসি প্রমাণ পেয়েছে ওই দুই মাসে তাদের মাধ্যমে ১১,৮৬,৭৬,৬০৪ মিনিট কল এসেছে।

প্রসঙ্গত, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে তখনকার তিন স্তরবিশিষ্ট দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সেবা (আইএলডিটিএস) নীতিমালার অধীনে ২০০৮ সালের প্রথম দিকে বেসরকারি খাতে প্রথম এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়। ওই সময় প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে তিনটি প্রতিষ্ঠান- মীর টেলিকম, নভোটেল ও বাংলা ট্র্যাককে আইজিডাব্লিউ লাইসেন্স দেওয়া হয়।

দুটি প্রতিষ্ঠান গেটকো এবং আরএমঅ্যান্ডএইচকে আইসিএক্স ও একটি প্রতিষ্ঠান ম্যাংগোকে আইআইজি লাইসেন্স দেওয়া হয়। সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলকেও ওই তিন ধরনের অবকাঠামোর একটি করে লাইসেন্স দেওয়া হয়।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর টেলিযোগাযোগে অবকাঠামোগত এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে নতুন আইএলডিটিএস পলিসি-২০১০ প্রণয়ন করা হয়। পরে বিটিআরসির আপত্তি উপেক্ষা করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি আইজিডাব্লিউ, আইসিএক্স ও আইআইজির জন্য মোট ৮৬টি প্রতিষ্ঠানের নাম চূড়ান্ত করে বিটিআরসিতে পাঠায়।

এর পর গত বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সংগঠন আইএসপিএবির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, টেলিকম খাতে তিন ধরনের অবকাঠামোর ৮৬টি লাইসেন্স দিতে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এই খাতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হবে। ফলে অবৈধ পথে যাওয়া ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো উপায় থাকবে না।

কিন্তু এসব আপত্তি-মন্তব্য তখন আমলে নেয়নি মন্ত্রণালয়। জিয়া আহমেদের মৃত্যুর পর টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিবের পদ ছেড়ে বিটিআরসির দায়িত্ব নেন সুনীল কান্তি বোস। ফলে ঢালাও ওই লাইসেন্স দেওয়ার কুফল সম্পর্কে এখন কথা বলার সুযোগও বিটিআরসির কোনো কর্মকর্তার নেই।

বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, নতুন ২৫টি আইজিডাব্লিউ অপারেটরের মধ্যে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে তাদের সেবা চালু করেনি। দেশের মোট ২৯টি গেটওয়ে পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, 'আগে আমরা চারটি গেটওয়ে সামাল দিতে পারতাম না। এখন এতগুলো সামাল দেওয়া কিভাবে সম্ভব।

একটি গেটওয়ের অভিযোগ তদন্ত করতে গেলে আমাদের ২৬টি আইসিএক্স থেকে তথ্য নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। এটা কঠিন বিষয়। এ অবস্থায় সব গেটওয়ে সম্পর্কেই যদি তদন্তে নামতে হয়, তা হলে তা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর চেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, গেটওয়েগুলোর প্রকৃত মালিক কারা? তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা ও দৃঢ়তা আমাদের কর্তৃপক্ষের আছে কি না?'


সৌজন্যে: দৈনিক কালের কণ্ঠ
“Allahumma inni as'aluka 'Ilman naafi'an, wa rizqan tayyiban, wa 'amalan mutaqabbalan”

O Allah! I ask You for knowledge that is of benefit, a good provision and deeds that will be accepted. [Ibne Majah & Others]
.............................
Taslim Arefin
Assistant Professor
Dept. of ETE, FE
DIU