ইসলাম ও মহাশূন্য বিজয়

Author Topic: ইসলাম ও মহাশূন্য বিজয়  (Read 709 times)

Offline yousuf miah

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 171
    • View Profile
ইসলাম ও মহাশূন্য বিজয়
« on: June 19, 2013, 10:50:16 AM »
  ‘হে জিন ও মানবকুল, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের প্রান্ত অতিগম করা
    যদি তোমাদের সাধ্যে কুলোয় তবে অতিগম কর। তবে (আল্লাহ
    তাআলার পক্ষ থেকে) ক্ষমতা ব্যাতিরেকে তোমরা তা অতিগম
    করতে পারবে না। (রহমান, ৫৫ : ৩৩)

এই আয়াতের প্রকৃত অনুবাদ বুঝার জন্যে কিছু ব্যাখ্যার প্রয়োজন। বাংলা
ভাষায় ‘যদি’  শব্দটি এমন একটি শর্ত নির্দেশ করে যা,
হয়তো সম্ভব কিংবা অসম্ভব। আরবি ভাষায় ‘যদি’ বুঝানোর জন্যে
একাধিক শব্দ ব্যবহৃত হয়। যখন ‘লাও’ শব্দ ব্যবহৃত হয়, তা এমন
একটি শর্ত নির্দেশ করে যা অসম্ভব। আর যখন ‘ইন’ শব্দ ব্যবহৃত
হয়, তা এমন একটি শর্ত নির্দেশ করে, যা সম্ভব। উপরিউক্ত আয়াতে
কুরআন মাজিদ ‘ইন’ শব্দ ব্যবহার করেছে। ‘লাও’ শব্দ ব্যবহার
করেনি। অতএব কুরআন মাজিদ ইঙ্গিত করছে, এক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা
বিদ্যমান রয়েছে যে, মানুষ একদিন নভোম-ল ও ভূম-লের স্তরসমূহ ভেদ
করতে পারবে। আরও লক্ষণীয় যে, নিম্ন লিখিত আয়াতেও মহাশূন্য ভেদ
করার কথা উল্লেখ করে। কিন্তু তাতে ‘লাও’ ব্যবহৃত হয়েছে


    ‘আর যদি আমি ওদের সামনে আকাশের কোনো দরজাও খুলে দিই, আর
    তারা তাতে দিনভর আরোহনও করতে থাকে, তবুও তারা এ কথাই বলবে,
    আমাদের দৃষ্টির বিভ্রাট ঘটানো হয়েছে, না- বরং আমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে
    পড়েছি।’ (হিজর, ১৫ : ১৪-১৫)

এই আয়াতটিতে মক্কার কাফিরদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা
হয়েছে, এমনকি যদি তারা নভোম-ল ভেদ করতেও সক্ষম হয়, তারা
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীকে বিশ্বাস করবে না।
এই আয়াতে যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা হচ্ছে ‘লাও’ যা এমন
সম্ভাবনার কথা বলে, যা বাস্তবায়িত হওয়ার নয়। ইতিহাস দেখিয়েছে,
মক্কার কাফিররা মুহাম্মদ সাল্লাল্ললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর
অসংখ্য মুজিজা প্রত্যক্ষ করেছে। তথাপি তারা তিনি যে বার্তা নিয়ে এসেছিলেন
তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে নি।

ইতোপূর্বে উদ্ধৃত আয়াত সম্পর্কে আরো একটি বিষয় লক্ষ্য করার আছে।
তাতে আরবি শব্দ ‘তানফুযু’ ব্যবহৃত হয়েছে, যার ক্রিয়ামূল হল
‘নাফাজা’ যার পরে আরবি শব্দ ‘মিন’ এসেছে। আরবি অভিধান
অনুসারে এই বাকরীতির অর্থ হল, ‘সোজা অতিক্রম করা এবং একটি বস্তুর
একদিকে প্রবেশ করে অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে আসা। অতএব এটি নির্দেশ
করে একটি গভীর অনুগমন এবং একটি বস্তুর অপরপ্রান্ত দিয়ে নির্গমন।
এটি হুবহু তা-ই, যে অভিজ্ঞতা বর্তমানে মহাশূন্য বিজয়ের ক্ষেত্রে মানুষ
লাভ করেছে। পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তি একটি বস্তু ছেড়ে দেয় এবং তা
মহাশূন্যে তার বাহিরে নির্গমন করে। এভাবে কুরআন মাজিদ মহাশূন্য
বিজয়ের বিস্ময়কর ঘটনা বর্ণনার ক্ষেত্রে সর্বাধিক উপযুক্ত শব্দ ব্যবহার
করেছে। অধিকন্তু এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিকতথ্য, সর্বাধিক উপযুক্ত
শব্দে, চৌদ্দশ বছরেরও পূর্বের এমন একজন নিরক্ষর মানুষের নিছক কল্পনা
বলে আরোপিত হতে পারে না, যিনি তার পুরো জীবন কাটিয়েছেন একটি
মরুময় এলাকায়।

    অতি পারমানবিক কণিকার উপস্থিতি
    আর কাফিররা বলে, ‘কিয়ামত আমাদের কাছে আসবে না’।
    বলুন, ‘অবশ্যই আমার রবের কসম! যিনি অদৃশ্য সম্পকের্ অবগত,
    তা তোমাদের কাছে আসবেই। আসমানসমূহে ও জমীনে অন ু
    পরিমাণ কিংবা তার চেয়ে ছোট অথবা বড় কিছুই তার অগোচরে
    নেই। বরং সব কিছু সুস্পষ্ট কিতাবে (লিপিবদ্ধ) রয়েছে। (সাবা,
    ৩৪ : ০৩)

এই আয়াতে যে আরবি শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তা হল, ‘যাররাহ’ ।
আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলী ও মারমাডিউক পিকথাল ইংরেজিতে ‘যাররাহ’
শব্দের অনুবাদ করেছেন ‘যাররাহ’ বা পরমাণু শব্দ দ্বারা। যখন এই আয়াত
অবতীর্ণ হয় তখন ‘যাররাহ’ (পরমাণু) ছিল মানুষের জানা মতে সবচেয়ে
ক্ষুদ্র কণিকা। এই আয়াতে কুরআন মাজিদ ‘যাররাহ’র চেয়েও ক্ষুদ্রতর
কণিকার উপস্থিতির কথা বর্ণনা করে।

পদার্থ বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা দেখিয়েছে, পরমাণুকে আরও ক্ষুদ্রতর
এককে বিভাজিত করা যেতে পারে। কুরআন মাজিদ এই বিষয়টির স্বীকৃতি
দিয়েছে পদার্থ বিজ্ঞানীরা তা আবিষ্কার করার চৌদ্দশ’ বছরেরও অধিককাল
পূর্বে।

Offline Md. Zakaria Khan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 310
  • active
    • View Profile
Re: ইসলাম ও মহাশূন্য বিজয়
« Reply #1 on: December 11, 2013, 03:59:59 PM »
This is very good thinking