শসার আছে নানা গুণ

Author Topic: শসার আছে নানা গুণ  (Read 505 times)

Offline yousuf miah

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 171
    • View Profile
শসার আছে নানা গুণ
« on: June 23, 2013, 04:41:20 PM »
শসা খাওয়া সুন্নত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি শসা খুব পছন্দ করতেন। তাইতো শসার এত গুণ। পচন্ডে গরমে শরীর ও মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন মনে হয় ঠান্ডা কিছু খেতে যদি সেটা হয় শসার তাহলে তো জুড়ি নেই। শসা খেলে শরিরের পানি চাহিদা পুরণ হয় শতকরা ৯৫ভাগ। এটি শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কে নিয়ন্ত্রণ করে। শরীর শীতল রাখতে সহায়তা করে। শসায় ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। প্রতি ১০০ গ্রাম শসায় আছে মাত্র ১৫ ক্যালরি। এতে কোনো সম্পৃক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই।
সাদাসিধে এই শসার খোসার গুণও খুব একটা কম নয়। খোসাসহ শসা কোষ্ঠকাঠিন্য কে কমিয়ে দেবে অনেক খানি এবং অন্ত্র থেকে দেহের জন্য ক্ষতিকর পদার্থগুলোকে বের করে দিয়ে অন্ত্রের ক্যান্সারের মত রোগ থেকে কিছুটা রক্ষা করে । শসায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পটাশিয়াম আছে। কারণ এই আয়নটি রক্তচাপ কমিয়ে আনতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শসায় পানি এবং পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি মৃদু মাত্রার মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। যার দরুণ উচ্চরক্তচাপ ও ওজন কমাতে শসার ভূমিকা বেশ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া খাদ্যতালিকায় শসাকে নিয়মিত রেখে দেহের ইউরিক এসিডকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কিডনি ও মূত্রথলির কতিপয় পাথর থেকে পেতে পারেন। শসায় বিটা ক্যারোটিন, আলফা ক্যারোটিন, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ল্যুটেইন প্রভৃতি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।
এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো শরীরের সুরায় বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে। দেহযন্ত্রের নানাবিধ ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন হওয়া ক্ষতিকর মুক্তআয়নগুলো থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো। তারুণ্য ধরে রাখতেও এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলোর জুড়ি নেই।
শুনতে একটু আজব হলেও একথা সত্যি যে শসায় আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে। ভিটামিন কে আমাদের দেহের হাড়গুলোকে সুস্থ রাখতে সব সময় অনবদ্য। শুধু তাই নয় স্নায়ুর ক্ষতিগ্রস্ততাকে কমিয়ে ‘আলঝেইমার ডিজিজ’-এর মত রোগেও নিরীহ শসা ভূমিকা রাখতে পারে বলে সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা মতপ্রকাশ করেছেন। সৌন্দর্য চর্চায়ও আপনার সঙ্গী হতে পারে এই শসা। ত্বকের নানাবিধ সমস্যা, চোখের চারপাশের ফোলাভাবসহ ত্বকের সকল প্রকার ক্লান্তি দূর করে ত্বককে প্রাণবন্ত করে তুলতে শসার ভূমিকা খুব একটা কম নয়। নানারকম গুণে ভরপুর এই শসাকে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শসা রাখুন।

শসার গুণাগুণ সম্পর্কে জানি
* শসা হল কিউকারবিটা সি ফ্যামিলির অন্তর্গত। শসায় প্রায় ৯৫% পানি আছে। এছাড়াও আছে সিলিকা, ম্যাগনেশিয়াম, লিগনেন, পটাশিয়াম, লাইপোজ ইম ইত্যাদি উপাদান। তাই শুধু গরমেই নয়, বছরের যে কোনও সময়ই শসা খাওয়া উচিত।
* শসায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকার জন্য তা রিহাইড্রেট করার পাশাপাশি শরীরকে টক্সিনমুক্ত করে। গরমের সময় শরীর থেকে ঘাম হয়ে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। এই রিহাইড্রেশন তাই খুবই জরুরি। শসায় থাকা প্রতিটি ভিটামিন ও মিনারেলস প্রতিদিন শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়।
* শসায় থাকে এরিপসিন নামে এনজাইম। এই এনজাইম প্রোটিন ব্রেক ডাউন করে। ইউরিক এসিড মেটাবলিজমে সাহায্য করে।
* সিলিকা নামে যে উপাদান শসায় থাকে তা আমাদের হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ফলে হাড়-সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের সমস্যা যেমন-আর্থারাইটিস, গাউট প্রতিরোধ-নিয়ন্ত্রণ দুই-ই করা যায়।
* শসায় থাকে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম। এই উপাদানগুলো রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণ করতেও এই দুই উপাদানের বড় ভূমিকা আছে। কাজেই হাইপ্রেশার এবং লোপ্রেশার-দুই ধরনের রোগীই নিশ্চিন্তে শসা খেতে পারে।
* শসার ম্যাগনেশিয়াম এবং সিলিকা স্কিনের জন্যও ভালো। সিলিকা ও ম্যাগনেশিয়াম থাকার জন্যই শসা প্যাক হিসেবে নেওয়া হয়। এতে স্কিনের ইরিটেশন কমে, ত্বকের উজ্বল করতে সাহায্য করে।
* শসার প্যাক নিলে ত্বক পানি ধরে রাখতে পারে। ত্বক সজীব রাখার জন্য শসায় থাকা ক্যাসেইক এসিডের ভূমিকাই প্রধান।
* অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টি লাইপোজ ইম থাকার জন্য এক টুকরা শসা মুখে রেখে দিলে জীবাণু নষ্ট হয়, দূর হয় মুখের দুর্গন্ধ।
* শসার মধ্যে থাকে ৩ ধরনের লিগনেন। যেমন-ল্যারিসায়ারেসিনল, পাইনোরেসিনল এবং সেকয়সোলারিসায়ারসিনল ইত্যাদি। এই লিগনেনগুলো নানা ধরনের ক্যানসার যেমন-ব্রেস্ট প্রস্টেট, ইউটেরাইন এবং ওভারিয়ান ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
* ডায়বেটিক রোগীদের জন্য শসা খুবই উপকারী। শসার মধ্যে থাকা পলিপেপটাইড সি প্যাংক্রিয়াসের ইনসুলিন নিঃসরণে সাহায্য করে।
* শসার জল ও ফাইবার কনটেন্টের জন্য কিডনি-স্টোন প্রতিরোধ করে।  ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও।
* ফাটা দাগ বা ভঙ্গুর নখের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে শসার সিলিকা উপাদান।
* আর সালাদ হিসেবে তো সবারই প্রিয় । তরকারিতেও চমৎকার। -