Author Topic: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১- যা ঘটেছিল এই দিনে  (Read 4431 times)

Offline Farhana Israt Jahan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 406
    • View Profile
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১- যা ঘটেছিল এই দিনে...

১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় দিন। বিশ্বের বুকে স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবী নিয়ে স্বাধিকারের জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা পূর্ণতা পায় ১৯৭১ সালের ৯ মাসব্যপী মুক্তিযুদ্ধে। যে যুদ্ধ পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। যে যুদ্ধ তৎকালীন বিশ্বের দুই পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। যৌথবাহিনী ঢাকা অবরোধ করে পাকবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের আত্মমসমর্পণের আহবান জানাচ্ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বার বার যোগাযোগ করছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাথে। পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করছিল চীনকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে। এটা বুঝতে পেরে সোভিয়েত ইউনিয়ন চীন সীমান্তে সেনা মোতায়েন শুরু করে। তখন চীনের এত শক্তি ছিল না তাদেরকে আটকাবার। তাই চীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে নিজেকে বিরত রাখে।

১৪ ডিসেম্বরই বোঝা গিয়েছিল, পাকিস্তানি বাহিনীর মরণঘণ্টা বেজে গেছে। ঢাকা থেকে রাওয়াল পিন্ডিতে বার্তা পাঠানোর সংখ্যা সেদিন অনেক বেড়ে গিয়েছিল আকস্মিক ভাবে। এই সব বার্তায় ফুটে উঠছিল চরম হতাশার সুর। সকাল ১০টায় প্রেরিত এক বার্তায় বলা হয়, ‘আমরা আশ্বাসের ওপর বেঁচে আছি।… কিছু ঘটবে কী না অনুগ্রহ করে জানান, যা ঘটবার সেটা অতি দ্রুত হতে হবে।’ আরেক বার্তায় বলা হয়, ‘আমাদের কোনো মিসাইল নেই, আমরা কীভাবে গোলা নিক্ষেপ করব? কোনো বিমানবাহিনী নেই। বিমান হামলা হয়ে উঠেছে দুশ্চিন্তার কারণ।’ ১৫ ডিসেম্বর দিনটি শুরু হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানে সরকারবিহীন পরিস্থিতিতে এবং বাতাসে পাওয়া যাচ্ছিল আত্মসমর্পণের আভাস। ভেতরের খবর অবশ্য সবার জানা ছিল না, আগের দিন বিকেলে গভর্নর ও নিয়াজির কাছে প্রেরিত বার্তায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জানান, ‘আপনি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যখন আর প্রতিরোধ কোনোভাবেই সম্ভব নয়, সেটা কোনো কাজের কথাও হবে না। এখন যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য সব রকম ব্যবস্থা আপনাদের নেওয়া উচিত।’ তবে সর্বশেষ এই বার্তাতেও আত্মসমর্পণ কথাটা ঊহ্য রাখা হয় এবং দায়দায়িত্ব চাপানো হয় ইস্টার্ন কম্যান্ডের ওপর।

কী ঘটছিল পর্দার অন্তরালে, তার এক বিবরণ দিয়েছেন ঢাকাস্থ জাতিসংঘ উদ্বাস্তুবিষয়ক কর্মকর্তা জন কেলি। ইস্টার্ন কম্যান্ডের হেডকোয়ার্টারসে জেনারেল নিয়াজি চাইছিলেন রাওয়ালপিন্ডি থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশ আসুক আত্মসমর্পণের জন্য। সকালে তিনি গভর্নর মালিকের কাছ থেকে চিঠি পেয়েছিলেন ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। গভর্নর লিখেছিলেন, ‘আপনার ও আমার কাছে প্রেসিডেন্ট প্রেরিত বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে আপনার দিক থেকে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, সেটা আমি জানতে চাইছি। বার্তায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে আপনি সংঘাত বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, পশ্চিম পাকিস্তানের ও এখানকার বিশ্বস্তজনদের জীবন রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। যা দরকার সেটা করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।’ নিয়াজি পিন্ডিতে জেনারেল হামিদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। জেনারেল হামিদ তাঁকে ‘নির্দেশমতো কাজ করতে’ বলেন। নিয়াজি আকুল হয়ে প্রেসিডেন্ট আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে কথা বলতে চান। দেশের এই গুরুতর পরিস্থিতিতে ইয়াহিয়ার তখন অন্য দশা, নিয়াজি লিখেছেন, ‘জেনারেল হামিদ বললেন তিনি (ইয়াহিয়া) বাথরুমে গেছেন। আদতে তিনি বাথরুমে ছিলেন না, অতিরিক্ত মদ্যপানে তার তখন বেসামাল অবস্থা। এরপর এয়ার মার্শাল রহিম খান আমার সঙ্গে কথা বলেন, তাঁকেও মনে হচ্ছিল মাতাল, তিনি চাপ দেন আমি যেন প্রেসিডেন্টের হুকুম তামিল করি।’ এর পরপরই মালিক-ফারমান আলী মুসাবিদা করা লড়াইয়ে ক্ষান্ত দেওয়ার বার্তা ভারতীয়দের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা নেন নিয়াজি।

১৬ ডিসেম্বর, সকাল ১০ টা বেজে ৪০ মিনিট। যৌথবাহিনী ঢাকাতে প্রবেশ করে। এর আগেই অবশ্য বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে মিরপুর ব্রিজ দিয়ে ঢাকায় ঢুকে পড়েন। একাত্তরের এই দিনে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক কর্মকর্তা জন কেলি সকাল বেলায় ঢাকা সেনানিবাসের কমান্ড বাঙ্কারে পৌঁছেন। সেখানে লে. জেনারেল নিয়াজীকে পাওয়া গেল না। বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া গেল জেনারেল রাও ফরমানকে। রাও ফরমান জন কেলিকে বলেন, মিত্রবাহিনীর কাছ থেকে তারা আত্মসমর্পণের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। কিন্তু মিত্রবাহিনীর সাথে তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় এই খবরটি তাদের জানাতে পারছে না। এই সময় জন কেলি রাও ফরমানকে জাতিসংঘের বেতার সংকেত ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। এ সময় আত্মসমর্পণের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয় বিকেল সাড়ে ৪টা। ঢাকাবাসী যখন এই আত্মসমর্পণের সময় জানতে পারল তখন তারা মেতে উঠে আনন্দ উল্লাসে।

রেসকোর্স ময়দান লোকে লোকারণ্য। পাকবাহিনীর জয়েন্ট কমান্ডার লেফটেনেন্ট জেনারেল নিয়াজি পরাজয় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন। আর যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লেফটেনেন্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেসময়ের ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চীফ ইয়ার কমডোর এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন এই স্মরণীয় অনুষ্ঠানে। প্রায় ৯৩০০০ পাকিস্তানি সেনা আত্মসমর্পণ করে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই ছিল সবচেয়ে বড় আত্মসমর্পণের ঘটনা। অভ্যুদয় হলো বাংলাদেশের।

তথ্যসূত্রঃ
উইকিপিডিয়া
Farhana Israt Jahan
Assistant Professor
Dept. of Pharmacy

Offline tasnim.ete

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 505
  • Test
    • View Profile
thanks for sharing :)