বিশ্বকাপ জয়ে ‘হকিং ফর্মুলা’!

Author Topic: বিশ্বকাপ জয়ে ‘হকিং ফর্মুলা’!  (Read 230 times)

Offline maruppharm

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 1227
  • Test
    • View Profile
ইংল্যান্ডের ব্রাজিল বিশ্বকাপ ২০১৪ জয়ের ফর্মুলা বাতলে দিয়েছেন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। রীতিমতো গণিত, পদার্থবিজ্ঞান আর পরিসংখ্যানের তথ্য নিয়ে সেই ফর্মুলা বানিয়েছেন তিনি। আর এই ফর্মুলা বাতলে দিতে গিয়ে জোগান দিয়েছেন নিখাদ বিনোদনের।


 
 

ইংল্যান্ড কি জিততে পারবে এবারের বিশ্বকাপ? বিলেতি বাবুদের মুখে মুখে এখন এই এক প্রশ্ন।

হকিংয়ের সোজাসাপ্টা উত্তর,-- ‘মনে হয় না।’

এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ম্যাচগুলোর সময় সুবিধের নয়। ইংল্যান্ডের ফুটবল দলের জন্য খেলার সব থেকে ভালো সময় হল বিকাল ৩টা। আর ফুটবলাররা যে তাপমাত্রায় খেলে অভ্যস্ত, ভেনুর তাপমাত্রা তার থেকে ৫ শতাংশ বাড়লেই জয়ের সম্ভবনা ৫৯ শতাংশ কমে যায় বলেই জানিয়েছেন হকিং।

ফুটবল ভক্ত নন হকিং, তবে পদার্থবিজ্ঞানের কঠিন সূত্র আর অংক কষা বাদ দিয়ে হঠাৎ কেন ইংল্যান্ড দলের বিশ্বকাপ জয়ের ফর্মুলা নিয়ে মাতলেন?

কারণ প্যাডি পাওয়ার নামের এক আইরিশ বাজিকর!

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের চাবিকাঠি আর ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের ৪৫টি খেলায় ব্যর্থতার কারণই-বা কী, তা খতিয়ে দেখতে হকিংকে অনুরোধ করেছিলেন পাওয়ার।

ব্যস, পদার্থবিজ্ঞান ছেড়ে ইংল্যান্ড দলের ইতিহাস নিয়ে মেতেছেন বিজ্ঞানী।

এ ব্যাপারে সংবাদকর্মীদের কাছে হকিংয়ের বক্তব্য, “তাদের হয়ত মনে হয়েছে পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে আমার যোগ্যতা পল দ্য অক্টোপাসের থেকে কিছুটা হলেও বেশি।”

ইউরো ২০০৮-এর ৬টি ম্যাচ এবং ফিফা বিশ্বকাপ ২০১০-এর ৭টি ম্যাচের সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে আলোচনায় এসেছিল পল দ্য অক্টোপাস।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের জন্য তবে সহায়ক কী হতে পারে? ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোর বিপরীতে গিয়ে খেলোয়াড়দের বউ-প্রেমিকাদের পক্ষেই অবস্থান নিলেন হকিং।

ইউরো ২০০৮-এ ট্যাবলয়েডগুলোর বদৌলতে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন গ্যালারিতে উপস্থিত খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও প্রেমিকারা।

ফুটবলারদের লাল জার্সিতেই খেলানো উচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন হকিং। তিনি বলেন, “জার্মানির সাইকোলজিস্টদের গবেষণা অনুযায়ী লাল রংয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে দলগুলো। মাঠে হয়ে ওঠে আক্রমণাত্বক আর প্রভাববিস্তারি।”

পেনাল্টি শুট-আউটে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে অনেকবার। পেনাল্টি নিয়ে ব্যর্থতার জন্য ইংল্যান্ড দলকে এক কথায় ‘ধুয়ে দিয়েছেন’ হকিং। বলেছেন, “ব্যাঞ্জো দিয়ে একটা গরুর পশ্চাৎদেশেও মারতে পারবে না ইংল্যান্ড।”

অবশ্য পেনাল্টি শুট-আউটের ফাঁড়া কাটানোর উপায়ও বাতলে দিয়েছেন তিনি। তবে জার্মানদের নাকি বলা যাবে না সেই ফর্মুলা। শুরু করতে হবে টেকনিক দিয়ে, বলে কিক করার দৌঁড়ে নিতে হবে তিন কদমের বেশি। “ঝুলিয়ে মারতে হবে। আর তিন কদম বা তারও কম দৌঁড়ালে গোল হওয়ার সম্ভবনা কমে নেমে আসে ৫৮ শতাংশে। তবে লক্ষ্য ঠিক না থাকলে গতির যে কোনো মূল্য নেই, তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জুতোর ফিতে দিয়ে না মেরে মারতে হবে সাইড ফুট দিয়ে। সাইড ফুট পেনাল্টি কিকে গোলের সম্ভবনা যে ১০ শতাংশ বেড়ে যায় তা পরিসংখ্যানেই প্রমাণিত। কিক করতে হবে গোলবক্সের ডান বা বাম দিকের কোনার দিকে লক্ষ করে। পেনাল্টি থেকে ৮৪ শতাংশ গোল যে ওই জায়গাগুলোতেই হয়।

আর পেনাল্টি কিকটা কার নেওয়া উচিত সেটা নিয়ে হকিং যে ফর্মুলা দিয়েছেন তা চোখ কপালে উঠানোর জন্য যথেষ্ট। “পেনাল্টির জন্য মিডফিল্ডার আর ডিফেন্ডারদের থেকে স্ট্রাইকাররাই ভালো। আরও ভালো ন্যাড়া মাথার খেলোয়াড়রা। কারণটা এখনও পরিষ্কার নয়। এটা হয়তো বিজ্ঞানের ইতিহাসে রহস্য হয়েই থেকে যাবে এটা।”-- এমনটাই বলেছেন হকিং।     

আইরিশ বাজিকরের কাছ থেকে পাওয়া এই অভিনব কাজটা বেশ মজা নিয়েই করেছেন বলে জানিয়েছেন হকিং। পাওয়ারের কাছ থেকে পাওয়া ফির অর্ধেক সিরিয়ার শিশুদের জন্য দান করেছেন সেভ দ্য চিলড্রেন ফান্ডে। আর বাকিটা দিয়েছেন মোটর নিউরিন ডিজিজ ক্যাম্পেইনে।
Md Al Faruk
Assistant Professor, Pharmacy