Author Topic: "শিশুদের জন্য সাহিত্য নাকি সাহিত্যের জন্য শিশু"  (Read 1417 times)

Offline Farhana Helal Mehtab

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 248
  • Test
    • View Profile
sharing the write up of my classmate/friend who works in Bangladesh Shishu Academy. Hope you all will enjoy this:

শিশুদের জন্য সাহিত্য নাকি সাহিত্যের জন্য শিশু


শিশুসাহিত্য শিশুর মানসিক খাদ্য। এই খাদ্য তার মনকে করে সতেজ, সবল। তার স্বপ্ন ও কল্পনাশক্তির বিকাশে উপভোগ্য শিশুসাহিত্যের কোনো বিকল্প নেই। মুক্ত মন, উদার চিন্তা, গণতান্ত্রিক মন-মানসিকতা এই সবকে গড়ে তোলে অদ্ভুত, বিস্ময়কর, অসামান্য কোনো বই। এ কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, শিশু সবচেয়ে বেশি শেখে তার পরিবার থেকে, আশেপাশের পরিবেশ থেকে, তার নিজস্ব জগত্ থেকে। সেই শিখে নেওয়ার ওপর একটি স্থায়ী প্রলেপ দিয়ে দেয় আনন্দ ও আবেগে পড়া প্রিয় বইটি। এভাবেই মা-বাবা ছাড়াও বইয়ের কোনো কোনো চরিত্র হয়ে ওঠে শিশুর আদর্শ নায়ক, বীর বা মানসসঙ্গী। নিজস্ব সংস্কৃতির ধারাও শিশুর ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। আর এভাবেই সে দেশকে ভালবাসতে শেখে, ভালবাসতে শেখে সারা পৃথিবীকে। নানা বর্ণের, নানা গোত্রের বিচিত্র সব মানুষের সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ঐতিহ্যর সঙ্গে সে পরিচিতি লাভ করে আর এভাবেই সে হয়ে ওঠে বিশ্ব নাগরিক।

অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়সী যে কোনো মানব সন্তানকেই আমরা শিশু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে থাকি। কিন্তু এদের সবার বুঝবার ক্ষমতা, বোধ, অনুভূতি ও বুদ্ধিদীপ্ততা কিন্তু এক নয়। বয়স অনুযায়ী এদের পছন্দ, চাহিদা সবকিছুই ভিন্ন। পছন্দ, চাহিদা বা মন-মানসিকতার ভিত্তিতে শিশুদেরকে আমরা মোটা দাগে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করতে পারি— ১ম পর্যায় (০-৫ বছর বয়সী), ২য় পর্যায় (৫-১০বছর বয়সী) এবং ৩য় পর্যায় (১০-১৮ বছর বয়সী)। যদিও উন্নত বিশ্বে এই বিভাজনটা আরো কয়েকটা পর্যায়ে বিভক্ত।

১ম পর্যায়ের শিশুরা রঙিন ঝলমলে যে কোনো জিনিসের প্রতিই আকর্ষণ বোধ করে। বয়স যাই হোক না কেন শিশুরা কিন্তু বই পছন্দ করে। গবেষণায় দেখা গেছে— দুই বছর বয়স থেকেই শিশুরা রঙচঙে ছবিওয়ালা বই পছন্দ করে যাতে মানুষ, পশুপাখি, বাড়ির নানাবিধ আসবাবপত্রের ছবি আছে। যদিও এই বয়সের শিশুর বই পড়ার প্রশ্নই আসে না, তবু অন্যের পড়ার সুর শুনতে এবং পাঠরত ব্যক্তির মুখের অভিব্যক্তি উপভোগ করতে সে ভালবাসে। সাধারণত এই বয়সী শিশুরা ভীষণ কৌতূহলী হয়। এরা অবাক বিস্ময়ে চারপাশের পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করে। এদের মনে ভিড় করে হাজারো প্রশ্ন। যদিও এরা নিজেরা পড়তে পারে না কিন্তু ছন্দোময় কবিতা, ঘুমপাড়ানি গান এদের খুব পছন্দ। রঙিন-ঝলমলে ছবিওয়ালা বই এদেরকে আকর্ষণ করে। বইয়ের সেসব ছবি দেখে এরা কল্পনা করে নেয় নিজের মনের মতো কোনো কাহিনি। এর মধ্যে দিয়েই এরা প্রবেশ করে গল্প, রূপকথা বা সৃজনশীলতার জগতে। যেহেতু এরা অনুকরণপ্রিয়, তাই বড়দের অনুকরণে নিজের পছন্দের কোনো বই নিয়ে সে পাতার পর পাতা উলটাতে থাকে আর কল্পনা করে নেয় একের পর এক কাহিনি। তার কল্পনার রাজ্যে সেই থাকে একমাত্র বীর।

উন্নত দেশগুলোতে দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য যেসব বই প্রকাশ করা হয় সেগুলো মূলত ছবিপ্রধান বা Picture Book অর্থাত্ ছবির মাধ্যমেই বুঝিয়ে দেওয়া হয় বইটির সম্পর্কে। বিষয়টি সম্পর্কে যে বর্ণনা থাকে তাও অত্যন্ত সহজ সরল ছোট ছোট বাক্যে বিন্যাস করা থাকে। মোটকথা ছবিটাই বইয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে লেখকের পাশাপাশি যিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তিনি হচ্ছেন একজন চিত্রশিল্পী। শিশুরা নিখুঁত অলংকরণের অপরূপ সৌন্দর্য, রঙের বাহার ও মাধুর্যে আকৃষ্ট হয়। সুতরাং তাদেরকে যথাযথভাবে বইয়ের প্রতি আকর্ষিত করার ক্ষেত্রে, লেখকের ভাবনাকে শিশু উপযোগী করে হূদয়গ্রাহী করে তুলতে পারেন একমাত্র চিত্রশিল্পী।

পাশ্চাত্যর দেশগুলোতে Pre School Children অর্থাত্ স্কুলপূর্ব শিশুদের জন্য যাদের বয়স পাঁচ বছরের নিচে তাদের জন্য নানা ধরনের বই প্রকাশ করা হচ্ছে এবং সেই বইগুলো অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে টেলিভিশনের জনপ্রিয় সিরিয়াল বা ভিডিওর সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। শিশুরা সেসব রঙিন, চিত্র-বিচিত্র বই দেখে তাদের কল্পনার জগেক বিস্তৃত করছে। একইসঙ্গে এমন কিছু বইও প্রণীত হচ্ছে যা বাবা-মা শিশুর সামনে মেলে ধরে তাকে একদিকে গল্প শোনায় অন্যদিকে তার কল্পনাশক্তিকেও উসকে দেয়। এক্ষেত্রে আমাদের শিশুবিষয়ক প্রকাশনাসমূহের অবস্থা খুবই করুণ। পাঁচ বছরের নিচের বয়সের শিশুদের উপযোগী কোনো বইই নেই বলতে গেলে। অথচ এ সময়েই শিশু তার পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে শুরু করে। আশার কথা এই যে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে এ ব্যাপারে অল্প হলেও কাজ শুরু হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ভুক্ত শিশুরা অর্থাত্ যাদের বয়স ৫-১০ বছর, তারা আবার ছবিওয়ালা বইয়ের পাশাপাশি ছোট ছোট গল্প, রূপকথা বা লোকগাথার গল্প, কৌতুক, অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি বা কোনো বীর বা আকর্ষণীয় ব্যক্তির জীবন বৃত্তান্ত ইত্যাদির প্রতি আকর্ষণ বোধ করে। বই পড়ার প্রতি অদম্য আগ্রহ বা একের পর এক গল্প শোনার কৌতূহলের মধ্য দিয়ে তাদের এই গ্রন্থপ্রীতি বাড়ে। এই বয়সে তার মনস্তাত্ত্বিক জগতে আসে এক নতুন চঞ্চলতা ও রূপান্তর, ব্যক্তিত্বে আসে পরিবর্তন ও আত্মবিশ্বাস। তার মনে আসে হাজারো প্রশ্ন এবং সেগুলোর থাকে যুক্তি ও সঙ্গতি। যে নিজে নিজেই কিছু একটা বানাতে বা করতে চায়। একজন সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে কল্পনাশক্তির স্থিতিশীলতা শুরু হয় এই বয়স থেকেই। কিন্তু প্রকাশনার মানের দিক থেকে এই বয়সী শিশু উপযোগী বইও আমরা শিশুদের হাতে তুলে দিতে ব্যর্থ হয়েছি।

আমাদের দেশে যাকে আমরা 'শিশুসাহিত্য' বলছি ,তা আসলে কিশোরসাহিত্য। যারা তৃতীয় পর্যায়ভুক্ত অর্থাত্ যাদের বয়স ১০-এর অধিক কিন্তু অনূর্ধ্ব ১৮। আমাদের একটা নিয়মই হয়ে গেছে শিশুদের ওপর সবকিছু চাপিয়ে দেওয়া। তাদেরকে পরিচর্যা করে কঠিন নিয়মের শৃংখলে বন্দি করে ফেলা! আর তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে শিশুদের বই প্রকাশনার ক্ষেত্রেও। শিশুর মুখ্য অনুভূতি ও কল্পনাপ্রবণ মন এবং কৌতূহলকে আমরা তেমন আমল দেই না। এই বয়সে বই যে তার অন্যান্য খেলার সামগ্রীর মতোই একটা সামগ্রী সেটাও বিশেষ চিন্তা করি না। অধিকাংশ সময়ই দেখা যায় যে, লেখকরা লেখার সময়ে কোন বয়সের শিশুদের জন্য, শিশুরা কী চায়, কী ধরনের রচনা তাদের জন্য জুতসই হবে এবং একইসঙ্গে যাঁরা ছবি আঁকেন তাঁরাও কোন ধরনের চিত্র ঐ শিশুদেরকে তাদের কল্পজগতে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে— এসব নিয়ে খুব একটা ভাবেন বলে মনে হয় না। ফলে আমাদের প্রণীত বই অধিকাংশ শিশুর কাছে আবেদন সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়। আমাদের প্রকাশিত বইসমূহে আমরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিশুদেরকে জ্ঞানদান করে থাকি, যা তাকে বই সম্পর্কে ভীতি বা বিরক্তি এনে দেয়।

শিশুদের বই প্রকাশে খরচও হয় অনেক বেশি। চার রঙা ছবি, ভালো মুদ্রণ ও উন্নত মানের কাগজ এবং ছবিবহুল হওয়ার ফলে বই প্রকাশে যে খরচ হয় সেই মূল্য দিয়ে কেনার সামর্থ্য খুব কম অভিভাবকেরই আছে। ফলে বই বিক্রি করতে প্রকাশককে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কিছু কিছু প্রকাশক সুন্দর ও আকর্ষণীয় শিশুবান্ধব বই প্রকাশের উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং একুশের বইমেলাকে কেন্দ্র করে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ক্ষেত্রে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে। পুস্তক প্রকাশনাকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে শিশুসাহিত্য প্রকাশনার ক্ষেত্রে বিশেষ উত্সাহমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে— শিশুপুস্তক প্রকাশনার ক্ষেত্রে সহজ শর্তে ব্যাংক লোনের সহায়তা প্রদান করা। শিশুসাহিত্যিকদের উচ্চতর হারে গ্রন্থস্বত্ব কিংবা সম্মানী লাভের ব্যবস্থা। শিশু উপযোগী বই প্রকাশের জন্য সহায়ক প্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম স্থিতিশীল ও নাগালের মধ্যে রাখা। সরকারি, বেসরকারি উদ্যোগে পাড়ায় পাড়ায় 'শিশু গ্রন্থাগার' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা।

রেজিনা আখতার, ঢাকা


source: http://www.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMDdfMTZfMTRfMV82M18xXzE0NTg3NQ%3D%3D
« Last Edit: July 19, 2014, 12:46:20 PM by Farhana Helal Mehtab »

Offline Nujhat Anjum

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 466
  • Test
    • View Profile
it is realy very impotant.Government must take initiatives in this sector.

Offline fahad.faisal

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 624
  • Believe in Hard Work and Sincerity.
    • View Profile
Fahad Faisal
Senior Lecturer
Department of CSE