Author Topic: জন্মের ঋতু ঠিক করে দেয় মেজাজমর্জি  (Read 212 times)

Offline khairulsagir

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 140
  • Test
    • View Profile
শীত নাকি গ্রীষ্ম, কোন ঋতুতে আপনার জন্ম? জন্মের সময়কার আবহাওয়ার ধরনই ঠিক করে দিয়েছে আপনার মেজাজমর্জি কেমন হবে। গবেষণার পর এমন দাবি করেছে বিজ্ঞানীদের একটি দল।
গবেষণাটি করেছেন হাঙ্গেরির বিজ্ঞানীরা। ৪০০ মানুষের জন্মের ঋতু ও তাদের মেজাজমর্জি নিয়ে গবেষণার পর তাঁরা বলছেন, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে জন্মের কারণে নির্দিষ্ট ধরনের মেজাজমর্জি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যেমন গরমের সময় জন্ম হয়েছে, এমন শিশু বড় হওয়ার পর তাদের মনমর্জি ক্ষণে ক্ষণে বদলাতে থাকে। আবার যাদের জন্ম বছরের ঠান্ডা সময়ে, খিটখিটে মেজাজের হওয়ার সম্ভাবনা তাদের ক্ষেত্রে অনেক কম।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা, মানুষের মেজাজমর্জি নির্ভর করে ডোপামাইন ও সেরোটোনিনের মতো নির্দিষ্ট কিছু মনোমাইন নিউরোট্রান্সমিটারের ওপর। এগুলোর ওপর আবার প্রভাব আছে শীত-গরমের। ফলে জন্মের সময় প্রকৃতিতে শীত নাকি গরম, তার অনেকখানি নির্ভর করে ওই শিশু বড় হয়ে কেমন মেজাজের হবে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

তবে ৪০০ মানুষের ওপর গবেষণায় যেটুকু জানা গেছে, তার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা বলছেন, কিছু মানুষ দেখা যাবে, যারা এই ফুরফুরে মেজাজে আছে তো পরক্ষণেই বিমর্ষ। এমন হরহামেশা দোল খেতে থাকে যাদের মেজাজ, তাদের বেশির ভাগেরই জন্ম গরমের সময়ে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবার যারা অতিমাত্রায় আশাবাদী স্বভাবের, তাদের জন্ম গ্রীষ্ম অথবা বসন্তে হতে পারে।
গ্রীষ্মের বিপরীত ঋতু শীতে যাদের জন্ম, তারা সাধারণত খিটখিটে কম হয়। আর সেই সব মানুষের বিষাদগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই, যারা জন্মেছে শরতে।
গবেষক দলের নেতা সহকারী অধ্যাপক জিনিয়া গোন্ডা বলেন, ‘জৈব-রাসায়নিক গবেষণায় দেখা গেছে যে জন্মের ঋতুর আবহাওয়ার ধরন খুব জোরালো প্রভাব রাখে ডোপামাইন ও সেরোটোনিনের মতো নির্দিষ্ট কিছু মনোমাইন নিউরোট্রান্সমিটারের ওপর। এই প্রভাব থাকে বড় হওয়ার পরও। এসব কিছুর ভিত্তিতে আমাদের মনে হয়েছে, জন্মের সময়কার আবহাওয়ার প্রভাব অনেক দীর্ঘমেয়াদি।

তবে জিনিয়া গোন্ডা এ কথাও বলেন যে এ বিষয়ের ওপর অন্য কেনো কিছুর যে প্রভাব নেই, সে কথা আমরা এখনো বলতে পারছি না। নির্দিষ্ট ঋতু ও নির্দিষ্ট মেজাজের সঙ্গে জিনগত বৈশিষ্ট্যের কোনো ব্যাপার আছে কি না, সেটাই আমরা এখন খুঁজে দেখার চেষ্টা করছি। দ্য টেলিগ্রাফ।



Source: www.prothom-alo.com