Author Topic: Prospect of Social Business (সামাজিক ব্যবসার সম্ভাবনা)  (Read 1329 times)

Offline Badshah Mamun

  • Global Moderator
  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 1809
    • View Profile
    • Daffodil International University
সামাজিক ব্যবসার সম্ভাবনা


সামাজিক ব্যবস্থার মূল কথাই হচ্ছে বর্তমান সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিপুল পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সৃষ্টি করা। এই বিশাল দুর্যোগ মোকাবিলায় সামাজিক ব্যবসার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার কি কোনো গুরুত্ব আছে? এটা কি একটি হাস্যকর প্রচেষ্টা নয়? যে নিশ্চিত গতিতে পুঁজিবাদ অর্থনীতির শোষণপ্রবাহ এগিয়ে চলছে, সে প্রবাহে সামাজিক ব্যবসা কি ডুবন্ত মানুষের কাছে ভাসমান বড় গাছের গুঁড়ি, যাকে আঁকড়ে ধরে সে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করবে, নাকি এটা কোনো খড়কুটো, যা ধরে মানুষ নিজেকে শুধু প্রবোধ দিচ্ছে যে সে কোনো রকমে এ যাত্রায় রেহাই পেয়ে যাবে। সামাজিক ব্যবসার গুরুত্ব কিংবা অসারত্ব ভবিষ্যৎই প্রমাণ করবে। কিন্তু এটা পরিষ্কার, আমাদের সামনে আশু বাস্তবায়নযোগ্য আর কোনো দৃশ্যমান পথ নেই। কাজেই তাকে আঁকড়ে ধরে এগোনো ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই।

যতই দিন যাচ্ছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে যে পৃথিবী যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না। এ রকম পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না। পৃথিবীতে দারিদ্র্য কমছে, কিন্তু তাও পানির ওপর নাকটা ভাসিয়ে রাখার মতো। পানি ছেড়ে ডাঙায় ওঠার কোনো রূপকল্প নেই। গরিবের আধলা পয়সা উন্নতি হওয়ার আগে ধনীর ঘরে মিলিয়ন ডলার উঠে আসছে। ধনী-দরিদ্রের আয় ও সম্পদের বৈষম্য ক্রমাগত বাড়ার সব আয়োজন পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় স্থায়ীভাবে স্থাপন করা আছে। এর থেকে পরিত্রাণের কোনো আয়োজন এই ব্যবস্থায় নেই। তার সঙ্গে স্থায়ীভাবে বাসা বেঁধে আছে বেকারত্ব। ধনী দেশেও বেকারত্ব, গরিব দেশের তো এটাই প্রাথমিক পরিচয়। মানুষ বাড়ছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, শ্রমের চাহিদা সে অনুপাতে বাড়ছে না, বাড়ছে বেকারত্ব। আগে রাষ্ট্রের দানের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তির সংখ্যা থেকে  বোঝা যেত, ধনী দেশে কত লোক বেকার আছে। এখন তা আর দরকার হয় না। শুধু তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের পরিমাণ দেখলে বোঝা যায় সমস্যাটা কত গভীরে। ইউরোপের অনেক দেশে দেশব্যাপী তরুণ বেকারদের সংখ্যা মোট তরুণদের অর্ধেক। গরিব দেশের কথা তো বলার মতো না। সংখ্যায় এটা এত বেশি যে এ নিয়ে আমরা পরিসংখ্যান তৈরিকেও আর গুরুত্ব দিই না।

এ অবস্থার কি পরিবর্তন হবে? খুব সহজে যে কথাটা বলা যায়, তা হলো, এই অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। পরিবর্তন হতেই হবে। মানুষ যা মেনে নেয় না, সেটা পাল্টে যেতে বাধ্য। যা আমাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য, আমাদেরই তা পাল্টাতে হবে। অন্য কোনো ঊর্ধ্বতন ক্ষমতা আমাদের জন্য সেটা করে দেবে না।

সামাজিক ব্যবসার মূল শক্তিটা আসে কোথা থেকে? এ শক্তি হলো মানুষের সীমাহীন সৃজনশীলতার শক্তি। এ শক্তি এখন একটা কাজেই ব্যবহার করা হয়, মুনাফা অর্জনের জন্য, অর্থাৎ ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য। এটা করতে গিয়ে সমাজের যদি কোনো মঙ্গল হয়, সেটা উপরি পাওয়া। কোনো ব্যবসায় এই উপরিপাওনা বেশি, কোনো ব্যবসায় এটা কম। কোনো ব্যবসায় হয় ঠিক তার উল্টোটাই, এখানে সমাজের মঙ্গল করার চেয়ে অমঙ্গল বয়ে নিয়ে আসছে ঢের বেশি। ব্যবসাকে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির একটা ব্যবস্থা হিসেবে না রেখে সামাজিক ব্যবসা এটাকে মানবকল্যাণের একটা ব্যবস্থা হিসেবে রূপান্তরিত করে দিয়েছে। এই পরিবর্তন সম্ভব হলো শুধু ব্যবসা থেকে ব্যক্তিগত মুনাফাটাকে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। যে-মাত্র ব্যক্তিগত মুনাফার স্থলে উপস্থাপিত হয়েছে মানুষের মঙ্গল, তখনই ব্যবসার স্বভাব ও চরিত্র বদলে গেল। ব্যবসা নামের যে পদ্ধতিটি মানুষের জন্য নানা উৎপাতের সৃষ্টি করত, সেটি এখন সম্পূর্ণ উল্টো কাজের জন্য একটা বিশ্বস্ত যন্ত্রে পরিণত হয়ে গেল। মানুষের যেকোনো সমস্যার সমাধানে এটাকে এখন কাজে লাগানো যায়।

অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার মাধ্যমে মানুষের সৃষ্ট সমস্যাগুলোর অবয়ব এখন এত বিশাল হয়ে দাঁড়িয়েছে যে এগুলো থেকে কোনো দিন নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে, এটা ভাবাই যায় না। একক ব্যক্তির ক্ষমতা এত সীমাবদ্ধ যে সে এত বড় সমস্যা সমাধানের কথা চিন্তা করতেই সাহস করে না। সমস্যাটার আয়তন যদি হাতির সমান কল্পনা করা যায়, তাহলে তার সামনে মানুষ একটা ছোট পিঁপড়ার মতো। পিঁপড়া কীভাবে হাতিকে ঘায়েল করবে। কাজেই ওদিকে এগোনোই আর হয়ে ওঠে না।

সামাজিক ব্যবসা কিন্তু এতে মোটেই নিরুৎসাহিত বোধ করে না। কোনো বিশাল সমস্যার সামনে আত্মবিশ্বাস নিয়ে দাঁড়াতে তার কোনো সংকোচ বোধ হয় না। তার রণকৌশল একক ব্যক্তি বা কয়েকজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য খুবই লাগসই। তার রণকৌশল অনেকটা মহামারির ওষুধ আবিষ্কার করার মতো। একজন রোগীকে যদি এ ওষুধ বাঁচাতে পারে, তবে সহস্র কোটি লোককেও একই ওষুধ একই কারণে বাঁচাতে পারবে। প্রথমে ওষুধটা আবিষ্কার করো। সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে সমাজের যেকোনো রোগের ওষুধ তৈরি করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। এক কোটি বেকার যুবককে বেকারত্ব থেকে মুক্তি দেওয়ার কাজ সবার মাথা একযোগে গুলিয়ে দেওয়ার মতো একটা বিরাট কর্মকাণ্ড। কিন্তু পাঁচজন বেকার তরুণকে বেকারত্ব থেকে বের করে আনা তেমন কোনো আহামরি কাজ নয়, যদি সামাজিক ব্যবসার পদ্ধতি এখানে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে এটা আরও সহজ হয়ে যায়। এমন একটা ব্যবসা সৃষ্টি করতে হবে, যেখানে পাঁচজন বেকারের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের মাধ্যমেও এটা করা যায়। কিন্তু সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে এটা খুব সহজে করা যায়, যেহেতু এখানে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার কোনো শর্ত নেই। ব্যবসার খরচ পোষাতে পারলেই হলো। এ রকম একটা ব্যবসা সৃষ্টির জন্য একজন বড় মাপের বিশেষজ্ঞকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে তাও নয়। একজন সাধারণ বুদ্ধির মানুষই এই ব্যবসার সৃষ্টি করতে পারে। এবার ধরুন সত্যি সত্যি আমরা একটা সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে পাঁচজন বেকার তরুণকে স্থায়ীভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলাম। এবার ব্যবসাটি নিজের আয়ে নিজে চলতে থাকবে। এ ব্যবস্থায় যিনি বিনিয়োগ করলেন, তাঁর টাকা তিনি কয়েক বছরের মধ্যে ফেরত পাবেন। তারপর যা মুনাফা হবে, তা ব্যবসার কাছেই থেকে যাবে। সেটা ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে লাগানো হবে। পাঁচজন বেকারের সমাধান খুব সহজে হয়ে গেল। কিন্তু এক কোটি বেকারের সমাধান কীভাবে হবে? সোজা উত্তর: একইভাবে হবে, কারণ আমরা বেকারত্ব সমাধানের পথ খুঁজে পেয়েছি। যাদের হাতে টাকা আছে, তারা এ রকমভাবে সামাজিক ব্যবসায় বিনিয়োগ করলেই বেকারত্বের অবসান হবে। একজন ব্যক্তি বিনিয়োগ করতে পারে, ফাউন্ডেশন বিনিয়োগ করতে পারে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারে, সরকার বিনিয়োগ করতে পারে। বেকারত্ব দূরীকরণের মহোৎসব সৃষ্টি হতে পারে। যতই এসব সামাজিক ব্যবসার সমৃদ্ধি হবে, ততই তারা আরও বেকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে থাকবে। অর্থাৎ, সমস্যা যত ভয়ংকর হোক না কেন, তার ক্ষুদ্রতম একটা অংশ নিয়ে দেখলে দেখা যাবে, সেটা অত ভয়ংকর নয়। এই অংশটি যত ক্ষুদ্র হবে তার সমাধান তত সহজ হয়ে যায়। সামাজিক ব্যবসা সমস্যার ক্ষুদ্রতম অংশ নিয়েই অগ্রসর হয়।

ছোট একটা পদক্ষেপ সফল হলেই বাকি কাজ সোজা। একের পর এক পদক্ষেপ যুক্ত হলেই হাজার মাইলের রাস্তা পাড়ি দেওয়া যায়। নিজেদের ওপর বিশ্বাস জন্মাতে পারলেই আস্থা ফিরে আসে আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

প্রযুক্তিতে পরিবর্তন আসছে বিপুল বেগে। সামাজিক ব্যবসা সৃষ্টি হলে প্রযুক্তিতে বড় রকমের পরিবর্তন আসবে। পৃথিবীতে যারা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে, তারা প্রযুক্তিও নিয়ন্ত্রণ করে। প্রযুক্তি বিকাশের আসল উৎসাহ আসে বিরাট মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনাকে ঘিরে। সামনে থাকে ব্যক্তিগতভাবে প্রচুর লাভবান হওয়ার মুলা, আর তার পেছন পেছন ছোটে প্রযুক্তির বিকাশ। যেখানে ব্যক্তিগত মুনাফা নেই, বর্তমান বিশ্বে সেখানে প্রযুক্তি মোটেই অগ্রসর হয় না। প্রযুক্তি কিন্তু এমন একটি জিনিস, যাকে যেকোনো দিকেই সম্প্রসারিত করা যায়। নামমাত্র খরচে রোগবালাই থেকে সব মানুষকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য অতি শক্তিশালী প্রযুক্তি সহজেই সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু প্রযুক্তিকে ওদিকে নিয়ে যাওয়ার কেউ নেই। বরং ওদিকে কেউ নিতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়ার জন্য অনেকে প্রস্তুত থাকবে। গরিবের কাছে নামমাত্র খরচে চিকিৎসা নিয়ে গিয়ে লাভ কী? এতে তো ব্যক্তিগত মুনাফা নেই। বরং ওটা করতে গিয়ে যারা এখন রোগীর অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে অনেক টাকা মুনাফা করছে, তারা তাদের ব্যবসা হারাবে। কাজেই এই প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকো। এই প্রযুক্তির পেছনে টাকা ঢেলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ছাড়া কোনো ফায়দা নেই।
ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের চিন্তা থেকে মানুষকে মুক্তি দিয়ে সামাজিক ব্যবসা এমন সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তির মহাশক্তিকে উন্মোচন করতে পারে, যা বর্তমান ব্যবস্থায় সম্ভব নয়। সামাজিক ব্যবসাকে জায়গা করে দিলে প্রযুক্তির অনাবিষ্কৃত বিশাল জগৎ উন্মোচিত হতে আরম্ভ হবে। যে সমস্যার প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান এখন চিন্তাই করা যায় না, সামাজিক ব্যবসার কারণে তা ভবিষ্যতে অতি সহজ একটা বিষয়ে পরিণত হবে।

সামাজিক ব্যবসা নতুন প্রযুক্তির দুয়ার খুলবে এবং এটা আমাদের কাজকে সহজ করে দেবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু নতুন প্রযুক্তির জন্য অপেক্ষা করে থাকারও কোনো দরকার নেই। বর্তমানে প্রযুক্তি যে পর্যায়ে আছে, সেই পর্যায় থেকেই সামাজিক ব্যবসা শুরু হতে পারে। যে প্রযুক্তি শুরু হয়েছিল মুনাফা অর্জনের জন্য, সেটাকে মোড় ঘুরিয়ে সমস্যা সমাধানের কাজে লাগানো কঠিন কাজ নয়। এটাও সৃজনশীলতার কাজ। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি এমন পর্যায়ে আছে, যেটা এখনই বহু রকমের সমস্যার সমাধান সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে সহজ করে দিতে পারে। পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী প্রযুক্তি যখন আসতে শুরু করবে, এই সমাধানগুলোর বাস্তবায়ন সহজতর এবং দ্রুততর হয়ে পড়বে।



একটা বাস্তব সামাজিক ব্যবসার জন্ম কীভাবে হয়, তার একটা উদহারণ দিচ্ছি। বছর চারেক আগে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে ‘ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস’ নামে একটা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। কোনো একটা দেশ থেকে আমন্ত্রণ পেলে তারা সে দেশে সামাজিক ব্যবসা সৃষ্টির কাজে সাহাঘ্য করতে এগিয়ে যায়। তারা এটা সামাজিক ব্যবসার ভিত্তিতে করে থাকে। অন্য কয়েকটি দেশসহ তিউনিসিয়াতে এভাবে তারা এখন কাজ করছে। কিছুদিন আগে তারা আমাকে আমন্ত্রণ করল তিউনিসিয়ায় তাদের একটা প্রকল্প বাছাই অনুষ্ঠানে যোগদান করতে। তিউনিসিয়ায় তারা স্থানীয়দের নিয়ে ‘ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস তিউনিসিয়া’ নাম দিয়ে একটা স্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছে। সে প্রতিষ্ঠান তিউনিসিয়াজুড়ে সামাজিক ব্যবসার বিজনেস প্ল্যান তৈরির একটা প্রতিযোগিতা আহ্বান করেছিল। বলা হয়েছিল, এই প্রতিযোগিতায় যেসব বিজনেস প্ল্যান আকর্ষণীয় হবে, তাদের বাস্তবায়নে ‘ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস ফান্ড তিউনিসিয়া’ থেকে অর্থ বিনিয়োগ করা হবে। এই প্রতিযোগিতায় দুই হাজার ৩০০টি বিজনেস প্ল্যান জমা পড়ে। এত বেশিসংখ্যক লোক উৎসাহ নিয়ে কষ্ট করে বিজনেস প্ল্যান তৈরি করে জমা দেবে, আয়োজকেরা আশা করেনি। তারা আশা করেছিল, বড় জোর ১০০ থেকে ১৫০টি প্রস্তাব পাবে। তারা দুই হাজার ৩০০টি বিজনেস প্ল্যান থেকে বাছাই করে ২০টি প্রজেক্ট প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করল। সেগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করার জন্য তারা এক সপ্তাহের একটা কর্মশালার আয়োজন করে। যে উদ্যোক্তারা এগুলো জমা দিয়েছিল, তাদের তিউনিস শহরে আনা হলো তাদের চিন্তাভাবনাগুলো পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য, পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে তাদের সক্ষমতা যাচাই করার জন্য।

এই তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আমার একটি দিন কাটানোর সুযোগ হলো। আমি খুবই চমৎকৃত হলাম সামাজিক ব্যবসা সম্বন্ধে তাদের স্বচ্ছ ধারণা দেখে এবং তাদের রচিত প্রজেক্টগুলোর বাস্তবমুখিতা দেখে। বলা বাহুল্য, প্রতিটি প্রজেক্ট অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী, সৃজনশীল ও চিন্তাশীল মনের পরিচায়ক। প্রতিটি প্রকল্পই উদ্যোক্তার সমাজচেতনার একটি চমৎকার উদাহরণ। আয়োজকেরা মনস্থির করেছিল, ২০টি প্রকল্প থেকে তারা এই কর্মশালার মাধ্যমে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাছাই করবে এবং এতে প্রয়োজনীয় অর্থ বিনিয়োগ করবে। বলা বাহুল্য, তাদের তহবিলে যদি পর্যাপ্ত টাকা থাকত, তাহলে তারা ২০টির সব কটিতে আনন্দসহকারে বিনিয়োগ করত। তারা অবশিষ্ট প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাবে বলে আমাকে জানাল।
এই ২০টি প্রকল্পের মধ্যে মৌমাছি পালনের একটা প্রকল্প ছিল। আমি মৌমাছি পালনে উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত আবেগ ও অনুভূতি দেখে অভিভূত হলাম। তার সঙ্গে কথা বললে মনে হবে, সে মৌমাছি-সমাজের একজন সদস্য। তাদের ভালো-মন্দ নিয়েই তার সার্বক্ষণিক চিন্তা। তার আফসোস, কেন মানুষের জন্য উপকারী ছোট্ট এই প্রাণীর প্রতি মানুষ কোনো ভালোবাসা দেখায় না।
মৌমাছি পালন এবং তার অর্থনীতি সম্বন্ধে আগে থেকেই আমার পরিচয় ছিল। বাংলাদেশে যারা মৌমাছি পালনে অগ্রগামী, তাদের অনেকের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। সারা বিশ্বে এটা একটা পরিচিত কর্মসূচি। যারা মৌমাছি পালে, তারা মধু উৎপাদন করে অর্থ উপার্জন করে তো বটেই, তাদের সঙ্গে মৌমাছির একটা আত্মিক বন্ধনও সৃষ্টি হয়ে যায়।

তিউনিসিয়ার জানদুবা এলাকার হাসান নামের এই তরুণ বলা যায় মৌমাছি-অন্তঃপ্রাণ। মৌমাছির কথা বলতে গিয়ে সে আবেগে আপ্লুত হয়ে যাচ্ছিল। সে নিজে মৌমাছির চাষ করে অর্থ উপার্জন করে এবং তরুণেরা যারা মৌমাছির চাষ শিখতে চায়, তাদের প্রশিক্ষণ দেয়। তার নতুন প্রজেক্টটা ব্যাখ্যা করে সে আমাদের বোঝাচ্ছিল। সে তার বর্তমান প্রশিক্ষণের কাজকে আরও বড় আকারে করতে চায় এবং তার সঙ্গে আরও নতুন জিনিস যোগ করতে চায়।

হাসান জানাল, এত দিন তার মধ্যে এত রকমের চিন্তা মাথায় আসেনি। শুধু মধু উৎপাদন নিয়েই সে ব্যস্ত ছিল। যখন শুনল প্রতিযোগিতার জন্য ভালো প্রজেক্ট তৈরি করতে পারলে ‘সামাজিক ব্যবসা ফান্ড’ থেকে পুঁজি দেওয়া হবে, তখন সিদ্ধান্ত নিল, সে একটা প্রজেক্ট দেবে। প্রজেক্টটি বানাতে গিয়ে তার মাথায় অনেক নতুন চিন্তা এসে ভর করতে থাকে। যতই নতুন নতুন চিন্তা মাথায় আসছিল, ততই সে আনন্দে উত্তেজিত হয়ে পড়ছিল।

হাসান তার প্রজেক্টটা এভাবে তৈরি করেছে: তার বর্তমান ব্যবসাকে সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলে সে এটাকে সামাজিক ব্যবসায় রূপান্তরিত করবে। ব্যবসা থেকে যে বেতন পাবে, তাতেই তার ব্যক্তিগত আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে পারবে। মধু উৎপাদন, এখন যেটা তার মূল ব্যবসা, সেটা থেকে সে সরে আসবে। মধু উৎপাদনকারী তৈরি করা এবং তাদের মাধ্যমে মধু উৎপাদন করাই হবে তার প্রজেক্টের উদ্দেশ্য। সে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেবে উত্তম মধু উৎপাদনকারী হওয়ার জন্য। যারা তার পরীক্ষায় পাস করবে, তাদের সে একটা অফার দেবে। তারা তার সঙ্গে যৌথভাবে মধু উৎপাদনের কাজ করতে পারবে। এ কাজে যত টাকার বিনিয়োগ লাগবে, সব টাকা সে দেবে (‘ফান্ড’ থেকে যে টাকা বিনিয়োগ হিসেবে পাবে, সেই টাকা থেকে)। মৌমাছি উৎপাদনের যাবতীয় সাজসরঞ্জাম সে সরবরাহ করবে। অর্থাৎ, আগ্রহী তরুণকে নিজের পকেট থেকে কোনো বিনিয়োগ করতে হবে না। সে হবে হাসানের ফ্র্যাঞ্চাইজি। সে হাসানের নিয়মে এবং আদর্শে মধু উৎপাদন করবে, হাসানের নির্দেশিত পন্থায় গুণগত মান রক্ষা করবে। যত মধু উৎপাদন হবে, হাসান সেটা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির দায়িত্ব নেবে। এর চেয়ে ভালো দামে যদি তরুণটি মধু নিজস্ব আয়োজনে বিক্রি করতে পারে, হাসানের তাতে কোনো আপত্তি থাকবে না। কারণ, সামাজিক ব্যবসা হিসেবে হাসানের মূল লক্ষ্য হবে তার ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সবার জন্য আয় বাড়ানোর কাজ করে যাওয়া। হাসানের লক্ষ্য হবে তিউনিসিয়ার তরুণেরা যেন বেকার বসে না থাকে। তারা যেন স্বাবলম্বী হয়। তারা যেন আকর্ষণীয় পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারে। তারা যেন নিজেদের গ্রাম ছেড়ে কর্মসংস্থানের জন্য বেআইনি প্রবাসী হিসেবে ইউরোপের শহরে শহরে ঘুরে না বেড়ায়। মৌমাছি থেকে মধু ছাড়াও যত রকম মূল্যবান বাই-প্রোডাক্ট তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের জ্ঞান সম্বন্ধে হাসান অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। ফ্র্যাঞ্চাইজিরা প্রত্যেকে মধু থেকে যেমন আয় করবে, তেমনি তারা নানাবিধ মূল্যবান বাই-প্রোডাক্ট থেকেও উপার্জন করতে পারবে। যে তরুণই আগ্রহী হবে, হাসান তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তার ফ্র্যাঞ্চাইজ ব্যবসার নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসতে সদা প্রস্তুত থাকবে। সে আমার কথার প্রতিধ্বনি করে বলল: ‘আমি নিশ্চিত করতে চাই, আমরা কেউ চাকরিপ্রার্থী হব না, আমরা চাকরিদাতা হব।’

হাসানের কথা শুনতে শুনতে অবাক হচ্ছিলাম। হাসান কি আমাকে খুশি করার জন্য এসব কথা বলছে, নাকি সত্যি সত্যি এসব কথা তার বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে বলছে। যে কারণেই বলে থাকুক সামাজিক ব্যবসার কাঠামোতে ঢুকে সে এখন এ রকম চিন্তা করার সুযোগ পেয়েছে, সেটা সম্বন্ধে আমি নিশ্চিত। তার দেশের তরুণদের স্বাবলম্বী করার ব্যাপারে তার আগ্রহ শ্রোতাকে অভিভূত না করে পারছিল না। সামাজিক ব্যবসার ধারণা তাকে যদি পুরোনো চিন্তা থেকে মুক্ত করে থাকে সেটাই হবে সামাজিক ব্যবসার বড় অবদান।
তাকে জিজ্ঞেস করলাম: তুমি তিউনিসিয়ার সব বেকার তরুণ-তরুণীর জন্য মধু উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে চাও। কিন্তু তুমি কি ভেবে দেখেছ, এত তরুণ-তরুণী যদি মধু উৎপাদন করে, তাহলে এত মধু খাওয়ার লোক পাওয়া যাবে কি না। বাজার পাবে কোথায়?

সে তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিল, মধুর বাজার সীমাহীন। এর বাজার এত বড় যে তিউনিসিয়ার সব তরুণ-তরুণী মধু উৎপাদন করলেও বিশ্ববাজারের চাহিদা অপূর্ণ থেকে যাবে। তা ছাড়া আমরা এখন শুধু মধু বিক্রির কথা বলছি, বাই-প্রোডাক্ট বিক্রির কথা বলছি। মধুর উৎপাদন বেড়ে গেলে মধুভিত্তিক আরও বহু খাদ্যসামগ্রী আমরা তৈরি করতে পারব। যেহেতু মধুর আগাগোড়া বাজারব্যবস্থা আমাদের হাতে থাকবে, তাই বাইরের কেউ আমাদের ঠকানোর সুযোগ পাবে না।

স্বাভাবিকভাবেই খুবই অনুপ্রাণিত বোধ করলাম হাসান এবং তার নয়জন সাথি-উদ্যোক্তার উৎসাহ ও চিন্তার ব্যাপ্তি দেখে। হাসানদের সামাজিক ব্যবসাগুলো তাদের যাত্রাপথে তিউনিসিয়া এবং বিশ্বের আরও বহু তরুণ-তরুণীকে অনুপ্রাণিত করবে। তাদের চিন্তার কাঠামোটিই পরিবর্তিত হয়ে যাবে। যখন ব্যক্তিগত মুনাফার চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে ফেলা যাবে, চোখের সামনে তখন সব রকম সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের পথ একটার পর একটা ভেসে উঠতে শুরু করবে, মানুষের কল্যাণমুখী উদ্যোগগুলো রূপ পেতে আরম্ভ করবে। যখন এ ধরনের ছোট একটি উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে, তখন সেটিই হবে আমাদের জন্য আশ্চর্য বীজ। মিরাকল সিড। এই বীজ তখন ছড়িয়ে যাবে পৃথিবীর সব প্রান্তে।

এই বীজ নির্মাণে বড় বড় বিজ্ঞানীর জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। হাসানদের মতো তরুণেরাই ঘরে ঘরে, মাঠেঘাটে এই বীজ তৈরি করবে। একজনের মধু উৎপাদনের সামান্য একটি উদ্যোগ হঠাৎ করে দেশের একটা বড় সমস্যা সমাধানের জন্য উপযোগী হয়ে যেতে পারবে। তিউনিসিয়ার গ্রামের নারীরা, তরুণীরা, যারা কোনো দিন চাকরির সন্ধানে শহরের দিকে যায়নি, হঠাৎ দেখা যাবে তারা একটা বড় সামাজিক ব্যবসার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেরাই ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছে। মধু উৎপাদন কীভাবে করতে হয়, সেটাও তারা জেনে যাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে, টাকা ও সাজসরঞ্জামও পেয়ে যাবে মূল কোম্পানি থেকে, মধু বাজারজাতকরণের চিন্তাও আর তাদের করতে হবে না। সবকিছুর পেছনে থাকবে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজ সামাজিক ব্যবসা।
সামাজিক ব্যবসা মানুষের ব্যবসায়িক চিন্তাকে ব্যক্তিগত মুনাফার একচ্ছত্র আধিপত্য থেকে মুক্ত করে দিয়ে নতুন আঙ্গিকের পৃথিবী গড়ার সুবিশাল সম্ভাবনাগুলো সবার সামনে তুলে ধরছে।
বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে সামাজিক ব্যবসা

১. এসবি (সামাজিক ব্যবসা) ডিজাইন ল্যাবের (পরিকল্পনা ও কর্মশালা) মাধ্যমে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি সামাজিক ব্যবসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ডিজাইন ল্যাবের মাধ্যমে ৪৮৫টি প্রতিষ্ঠান সামাজিক ব্যবসা তহবিলের প্রস্তাব দিয়েছে, ৪৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
২. বাংলাদেশ ও অন্যান্য স্থানে বেশ কয়েকটি যৌথ উদ্যোগে স্বাধীন সামাজিক ব্যবসা
ডিজাইন ল্যাবের মাধ্যমে পরিচালিত সামাজিক ব্যবসার পাশাপাশি বাংলাদেশে আরও ১২টি সামাজিক ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ডানোন, ভিওলিয়া, ইউনিক্লো, ইন্টেল, ইউকিগুনি মাইতাকে, গ্লাসগো ক্যালডোনিয়ান ইউনিভার্সিটি, বিএএসএফ, সাম্পান গ্রুপ এবং ব্যাবিলন গ্রুপের নয়টি যৌথ উদ্যোগ।
৩. ১২টি দেশে পাঁচ শতাধিক সামাজিক ব্যবসা কার্যক্রম চলছে।
৪. সামাজিক ব্যবসা তহবিল তৈরি করা হয়েছে ১০টি দেশে: হাইতি, আলবেনিয়া, ব্রাজিল, তিউনিসিয়া, কলম্বিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, উগান্ডা, মেক্সিকো ও ফ্রান্স।
৫. ১৯টি দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনূস এসবি সেন্টার বা ইউনূস চেয়ার রয়েছে।

বাংলাদেশের পরশপাথর

কেউ কেউ সই করলেন সমঝোতা চুক্তিতে। কী? তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা হবে সামাজিক ব্যবসার পাঠ। শুধু তাত্ত্বিকতার সীমাতেই বিষয়টি আটকে থাকল না। স্বাক্ষরিত হলো সামাজিক ব্যবসার চুক্তিপত্র। অনেকেই শোনালেন তাদের সামাজিক ব্যবসার জাদুই সাফল্যের গল্প। তাঁরা এসেছেন মেক্সিকো, হাইতি, স্পেন, আলবেনিয়া, ইসরায়েলসহ নানা দেশ থেকে
সামাজিক ব্যবসা কী? অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বললেন, মুনাফাহীন নিঃস্বার্থ ব্যবসা। কীভাবে তা সম্ভব? সেই অসম্ভবের কথা শোনাতেই প্রতিবছর এক দেশের পর আরেক দেশে চলছে সামাজিক ব্যবসা সম্মেলনের আয়োজন। সেখানে মুহাম্মদ ইউনূস মঞ্চে উঠছেন জাদুকরের মতো। নিপাট সরল ভাষায় এমন এক সম্মোহন ছড়িয়ে তার ব্যাখ্যা করছেন, মনে হচ্ছে একেবারে জলবত্তরলং। গেল ২৭-২৮ নভেম্বরে মেক্সিকো সিটির সামাজিক সম্মেলনে বিষয়টি তিনি সেভাবেই ব্যাখ্যা করলেন আবার।
শুধু যে বললেনই, তা তো নয়। সামাজিক ব্যবসায় জড়িত, উৎসাহী, পণ্ডিত, করপোরেট কর্তা—এ রকম এন্তার লোক সেখানে এলেন। কেউ কেউ সই করলেন সমঝোতা চুক্তিতে। কী? তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা হবে সামাজিক ব্যবসার পাঠ। শুধু তাত্ত্বিকতার সীমাতেই বিষয়টি আটকে থাকল না। স্বাক্ষরিত হলো সামাজিক ব্যবসার চুক্তিপত্র। অনেকেই শোনালেন তাদের সামাজিক ব্যবসার জাদুই সাফল্যের গল্প। তাঁরা এসেছেন মেক্সিকো, হাইতি, স্পেন, আলবেনিয়া, ইসরায়েলসহ নানা দেশ থেকে।
এসেছিলেন ওয়ালমার্টের সিইও বা মেক্সিকোর প্রথম সারির ব্যাংক বানামেক্সের উচ্চপদস্থদের মতো আরও বহু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হর্তাকর্তারা। তাঁদের কেউ কেউ এরই মধ্যে সামাজিক ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। কেউ হয়তো যুক্ত হতে আগ্রহী। তাঁদের অনেকে এসেছেন বিষয়টির পরিধি ও সম্ভাবনা বুঝে দেখতে।
মুহাম্মদ ইউনূস তাঁদের বোঝাতে চান, করপোরেট সামাজিক দায়িত্ব থেকে এসব প্রতিষ্ঠান যে টাকা খরচ করছে, তাতে নানা ব্যক্তি উপকৃত হচ্ছেন বটে। কিন্তু সেই টাকা আর ফিরে আসছে না। কিন্তু সেই টাকায় সামাজিক ব্যবসার মূলধন গড়ে তুললে তার সুফল পাবেন অনেকে। সেখান থেকে টাকা নিয়ে কোনো নবীন উদ্যোক্তা উঠে দাঁড়িয়েই টাকাটি ফেরত দিয়ে দেবেন। সেই টাকা তখন আরেক উদ্যোক্তার কাজে লাগবে।
মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকেই জানা গেল, কার্লোস স্লিম সামাজিক ব্যবসার মন্ত্রে দারুণ উজ্জীবিত। সামাজিক ব্যবসাকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। জনাব স্লিম এখন পৃথিবীর শীর্ষতম ধনী। এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর করপোরেট হোল্ডিংয়ের মোট পরিমাণ ছিল ৭৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কার্লোস স্লিমের বাড়ি মেক্সিকো। সামাজিক ব্যবসার মডেল দেশের বাইরে মেক্সিকোতেই সবচেয়ে বড় আকারে কাজ করছে। মেক্সিকোয় মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা দারুণ। এখানকার এক সাংবাদিক, এদুয়ার্দো সান্তানা, এই প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস মেক্সিকোয় রীতিমতো রক-তারকার মতো জনপ্রিয়।’
কথা হলো বিশ্ব সামাজিক ব্যবসায় সম্মেলনের প্রধান হান্স রাইৎসের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশের একটি সৃষ্টিশীল ভাবনা থেকে সারা পৃথিবী শিখছে। শুধু শিখছে না, সে মডেল প্রয়োগ করে নানা রকমের সামাজিক সংকটের সমাধান করছে। কেমন এক অনুপ্রাণিত হওয়ার মতো ঘটনা, বলো?’

সূত্র: ইউনূস সেন্টার


Source: http://goo.gl/VCMgP9
Md. Abdullah-Al-Mamun (Badshah)
​Senior Administrative Officer
Daffodil International University
01811-458850/01925-069949
badshah@daffodilvarsity.edu.bd
www.daffodilvarsity.edu.bd

www.fb.com/badshahmamun.ju
www.linkedin.com/in/badshahmamun
www.twitter.com/badshahmamun
www.badshahmamun.weebly.com