Author Topic: কচুপাতা মেলাল পরিচ্ছন্নতার সূত্র  (Read 133 times)

Offline nmoon

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 234
  • Test
    • View Profile
আবরণটি নিজে নিজেই পরিচ্ছন্ন থাকতে পারবে। সহাবস্থান করবে তেলের মতো পদার্থের সঙ্গে। সিরিশ কাগজ দিয়ে ঘষলেও এটির বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হবে না। কচুরপাতার পানিরোধী বৈশিষ্ট্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বিশেষ ধরনের এই আবরণ তৈরি করেছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) গবেষক ইয়াও লু এবং তাঁর তত্ত্বাবধায়ক ও একই প্রতিষ্ঠানের অজৈব রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ক্লেয়ার কারমল্ট।
এই রঙের আবরণ দেওয়া যাবে কাপড়চোপড়, কাগজ, কাচ এবং ইস্পাতের ওপর। এমনকি আঠালো অন্যান্য পদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে দিলেও রংটি নিজেকে পৃথক বা পরিচ্ছন্ন রাখতে পারে। এই আবরণ তৈরির কাজে গবেষকেরা টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইডের অতি ক্ষুদ্র কণা বা ন্যানোপার্টিকেল ব্যবহার করেছেন। প্রচলিত বিভিন্ন আবরণ সাধারণত পানি বা তেলের সংস্পর্শে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু নতুন রঙের আবরণটি পানিতে ডুবিয়ে রাখলেও নষ্ট হবে না বলে দাবি করছেন গবেষকেরা।
পদ্ম বা কচুগাছের পাতা পানিতে কোনোভাবেই ভেজে না। উদ্ভিদের এই বৈশিষ্ট্য ইয়াওকে বিস্মিত করে। তিনি রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে এসব পাতার উপরিতলের মতো আবরণ তৈরির চেষ্টা শুরু করেন। ইয়াও এবং কারমল্ট বলেন, তাঁদের তৈরি নতুন আবরণটি স্থায়ী এবং ক্ষয়ের বিরুদ্ধে একধরনের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। কাপড়চোপড় ও মোটরগাড়িসহ দৈনন্দিন জীবনে অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা যেতে পারে। সম্পূর্ণ পানিরোধী আবরণে পানির ফোঁটাগুলো গড়িয়ে যায়। তখন সেই পানির সঙ্গে সঙ্গে ময়লা, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াও পরিষ্কার হয়ে যায়। ব্যাপারটা অনেকটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের কাজের মতো।
এ গবেষণা প্রতিবেদন সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। কারমল্ট বলেন, উপরিতলে পড়ার পর পানি প্রায় বর্তুলাকার বল তৈরি করে। সেটা গড়িয়ে যাওয়ার সময় ময়লা ও জীবাণুগুলো শুষে নেয়। কাচ ও ধাতুর মতো শক্ত জিনিসের ওপরে নতুন ওই আবরণ দিতে পারলে পরিচ্ছন্ন রাখার কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। পাশাপাশি সাধারণ আঠালো পদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে সুতা বা কাগজের উপরেও এই আবরণ দেওয়া যেতে পারে।
আবরণটি তৈরির জন্য গবেষকেরা দুই ধরনের টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড ন্যানোপার্টিকেলের সঙ্গে ফ্লুরোসিলেনের তৈরি মোমজাতীয় পদার্থ ব্যবহার করেন। কারমল্ট বলেন, নিজে নিজে পরিচ্ছন্ন থাকার উপযোগী এই আবরণ ব্যাপকভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যে সমস্যা হতে পারে তা হলো প্রতিদিনের ক্ষয় রোধ করা। তবে প্রচলিত অন্যান্য আবরণের চেয়ে তাঁদের তৈরি নতুন আবরণটি অনেক বেশি টেকসই। আশা করা যায়, ইউসিএলের গবেষকেরা এটিকে আরও উন্নত রূপ দিতে সমর্থ হবেন।
ইয়াও লু এবং কারমল্টের গবেষণায় সহায়তা করেন ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং চীনের দালিয়ান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা মনে করেন, নতুন আবরণটির তুলনায় প্রচলিত অন্য আবরণগুলোর রাসায়নিক গঠন দুর্বল। কারণ, সেগুলো ভাঁজ করলে বা সিরিশ কাগজ দিয়ে ঘষলে সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু নতুন আবরণটি এসব বাধা মোকাবিলা করতে পারে। মোটরগাড়ির আবরণ তৈরি করা এবং অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল। আবার হাসপাতাল থেকে সংক্রামিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধেও এই আবরণ সহায়ক হতে পারে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বা উপকরণে জীবাণুরোধী আবরণ দেওয়ার জন্য টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইডের ন্যানোপার্টিকেল বিশেষ কার্যকর হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স ও সায়েন্স ডেইলি