Author Topic: গুগলের দৃষ্টিতে দেখে নিন সেরা কর্মচারীর ৫টি গুণ  (Read 220 times)

Offline Nahian Fyrose Fahim

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 287
  • Test
    • View Profile
কর্মচারীর সবচাইতে ভালো গুণ কী কী? খুব ভালো পড়াশোনা অথবা লম্বা সময় কাজের অভিজ্ঞতা? না, এর চাইতেও বেশি জরুরী হলো নিজের সহকর্মীদের ওপর আস্থা রাখা এবং আপনি যে কাজটি করতে পারবেন, তার ওপর বিশ্বাস রাখা। আপনার সহকর্মীরা যদি হয়ে থাকেন খুব প্রতিভাবান অথচ তাদের ওপরে মোটেই আস্থা রাখা না যায়, তাহলে বেশি সময় তাদের সাথে কাজ করতে পারবেন না আপনি।

এ ব্যাপারে আমাদের ধারণা আগে থেকেই আছে বৈ কি। কিন্তু সম্প্রতি গুগল একটি গবেষণা করে যা থেকেও এই ফলাফল পাওয়া যায়। গত দুই বছরে ২০০ জনেরও বেশি গুগল কর্মচারীর ইন্টারভিউ, এবং এর পাশাপাশি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এবং দক্ষতার এনালাইসিস ছিলো এই গবেষণায়। দেখা যায়, একজন মানুষ সবচাইতে ভালো কাজ করতে পারে যখন তারা সহকর্মীদের ওপর আস্থা রাখতে পারে এবং ঝুঁকি নিয়েও নিরাপদ থাকতে পারবে বলে ধরে নেয়, একে অপরের ওপর নির্ভর করে এবং নিজেদের টিমের লক্ষ্য সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা থাকে।

গুগলের মুখপাত্র রয়া সোলেইমানি Huffington Post কে জানান, এই গবেষণা এমন সব জিনিস নিয়ে কথা বলার সুযোগ করে দেয় যেগুলো আসলে রকেট সায়েন্স নয়, কিন্তু এগুলো আলোচনার পথ উন্মুক্ত করে দেয়।

এই গবেষণার তথ্য এলো এমন এক সময়ে যখন গুগল এবং এমন আরও বড় বড় টেক কোম্পানিগুলো নিজের কর্মচারীদের মাঝে বিভিন্ন ধরণের মানুষের সমন্বয় ঘটাতে হিমশিম খাচ্ছে। গুগলে কাজ করা অর্থাৎ “গুগলার”-দের মাত্র ৩০ শতাংশ হলো নারী, আর ৭০ শতাংশই শ্বেতাঙ্গ। গুগল যখন শুরু হয়েছিলো তখন তারা শুধুমাত্র আইভি লিগ থেকে উঁচু স্যাট স্কোর পাওয়া মানুষদের কাজে নিত। এটা যে আসলে হাস্যকর একটা পদ্ধতি তা অবশ্য তারা শীঘ্রই বুঝে যায়। গুগলের পিপল চিফ লাযলো বক জানান, আগে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এলিটিস্ট থাকলেও এখন তারা প্রতিভাবান এবং পরিশ্রমী কর্মচারীই নিতে চায়।

এই গবেষণার মাধ্যমে কাজের এমন পরিবেশ তৈরি করে ফেলা যাবে যাতে আরও নারী এবং সংখ্যালঘু ধরণের মানুষেরা এখানে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। বিভিন্ন ধ্যান-ধারণার মানুষকে এখানে টেনে আনতে মানসিক নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং আস্থার বিকল্প নেই, জানান সোলাইমানি। তিনি আরও বলেন, কোম্পানিটি এক্ষেত্রে যথাসম্ভব কাজ করে চলেছে। গুগল খুঁজে পায় কর্মচারীদের সফল একটি টিমের পাঁচটি চাবিকাঠি-

1) মানসিক নিরাপত্তা- কর্মচারীরা একে অন্যের সাথে কাজ করার সময় ঝুঁকি নিয়েও নিরাপদ বোধ করতে পারে

2) নির্ভরতা- এসব কর্মচারীর ওপর নির্ভর করা যায়, তারা ঠিক সময়ে এবং ভালো মানের কাজ করে দেখাতে পারবে

3) কাঠামো এবং স্বচ্ছতা- টিমে কাজ করার সময়ে প্রতিটি কর্মচারীর একটি করে নির্দিষ্ট অবস্থান থাকবে, টিমের একটি দৃঢ় কাঠামো থাকবে, তাদের লক্ষ্য এবং পরিকল্পনায় থাকবে স্বচ্ছতা

4) অর্থবহ- প্রতিটি কর্মচারীর কাছে তার কাজটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থবহ

5) ফলাফল- টিমের সদস্যরা ধরে নেন তাদের এই কাজ গুরুত্বপূর্ণ এবং তা বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে সক্ষম

ইউনিভার্সিটি অফ নটর ডেমের বিজনেস স্কুলের আরেকটি গবেষণায় শক্ত হয় এই ফলাফল। তারা ছয়টি কোম্পানি নিয়ে গবেষণা করে এবং দেখে, কর্মচারীদের মাঝে একে অন্যকে সাহায্য করার মনোভাব থাকলে তারাই ভালো করে। অর্থাৎ শুধু নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ দিলে খুব বেশি লাভ হয় না।
গুগল আসলে এই গবেষণাটি চালিয়েছিল একটি টিমের কর্মচারীদের মাঝে কী কী দক্ষতা থাকলে তারা ভালো করতে পারবে তা জানার জন্য। কিন্তু এই গবেষণায় আসলে দেখা যায়, দক্ষতার চাইতে কাজের প্রতি মনোভাবটাই বেশি জরুরী।



মূল: Huffington Post

লেখক
কে এন দেয়া
অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর, প্রিয় লাইফ
প্রিয়.কম
Nahian Fyrose Fahim
Lecturer ( Employee ID# 710001914)
Department of Pharmacy
Daffodil International University
Email: fyrose.ph@diu.edu.bd