Author Topic: কিশোর মুরাদের স্বপ্নের বিমান  (Read 117 times)

Offline myforum2015

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 218
  • সমস্ত কিছুর নিয়ন্ত্রন এক আল্লাহ্ তায়ালারই
    • View Profile
চারদিকে যখন পৌর নির্বাচনের হাওয়া বইছে ঠিক এমন সময় আকাশ থেকে বিকট শব্দে বিমান আছড়ে পড়ল ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের ফকিরবাড়ির সামনের ফসলি জমিতে। লোকমুখে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার শত শত উৎসুক জনতা বিমানটি দেখার জন্য ভিড় জমায়। তবে সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উল্টো চিত্র। শুধু নিজের শখ আর অন্যকে আনন্দ দেয়ার জন্য নিপুণ হাতে এমন বিমান নির্মাণ করছে ওই এলাকার এক হতদরিদ্র রিকশাচালকের ছেলে কিশোর মুরাদ হোসেন (১৫)। প্রায় আড়াই মাস ধরে নির্মাণ করা এ বিমানের কাজ এখন পুরোপুরি শেষ হয়নি। মেরামত শেষে তা আনুষ্ঠানিকভাবে পানিতে ভাসিয়ে বিজয় দিবসের আনন্দ করবে বলে মুরাদ হোসেন জানিয়েছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মু+রাদের নির্মাণ করা বিমানটি দেখার জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী-পুরুষ ছুটে আসছে। একটু দূর থেকে দৃষ্টি দিলেই মনে হয় এই মাত্র বিমানটি যেন আকাশ থেকে আছড়ে পড়েছে এ গ্রামে। তবে এর কাছে না গেলে বোঝার কোনো উপায় নেই যে, এটি শখের বশেই মুরাদ নির্মাণ করছে। ওই গ্রামেরই বাসিন্দা তছলিম মহুরি জানান, দরিদ্র মুরাদের এমন উৎসাহ দেখে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেছে। তার নিপুণ হাতের কাজ দেখে অভিভূত হই। সাধ্য থাকলে আমার নিজের পকেট থেকে লাখ টাকা দিয়ে দিতাম। যে টাকায় সে আরও নতুন নতুন কিছু তৈরি করে আমাদের দেখাতে পারে। মুরাদ জানায়, এর আগে সে হেলিকপ্টার, লঞ্চ নির্মাণ করে তা পানিতে ভাসিয়ে এলাকার লোকদের আনন্দ দিয়েছে। বিনিময়ে কিছু না চাইলেও মুরাদের নির্মাণশৈলী দেখে আনন্দে উদ্বেলিত মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে মুরাদ আর উৎসাহ পায়। জানা গেছে, তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সবার বড় মুরাদ অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। অভাব আর অনটনের কারণে মুরাদের পড়ালেখা বেশিদূর এগোতে পারেনি। তার বাবা নজরুল ইসলাম একজন রিকশাচালক, মা জাহানার বেগম বাকপ্রতিবন্ধী। লেখপড়া করতে না পেরে মুরাদ ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করছে বর্তমানে।
সেখান থেকেই নতুন কিছু উদ্ভাবনের চিন্তা তার মাথায় আসে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে মুরাদ হোসেন গত আড়াই মাসে ওই বিমানটি তৈরি করেছে। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে তার ১৫-২০ হাজার টাকা। এটি নির্মাণ করতে ককসিট, স্টিলের রড, ব্যাটারি, কাঠসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করতে হয়েছে। এর ভেতরে থাকা ইঞ্জিন চালু করলে অবিকল বিমানের শব্দ শোনা যায়। বসার জন্য বিমানটির পাইলট ছাড়াও সাতটি আসন রাখা হয়েছে।
 See more at: http://www.jugantor.com/bangla-face/2015/12/09/20684#sthash.e9m0udQO.dpuf
Solaiman Hoque
Lecturer (Mathematics)
Dept. of NS
solaiman.ns@diu.edu.bd