হাথুরুসিংহেকে দেওয়া কথা রাখলেন তামিম

Author Topic: হাথুরুসিংহেকে দেওয়া কথা রাখলেন তামিম  (Read 80 times)

Offline Md. Alamgir Hossan

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 857
  • Test
    • View Profile
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রধান কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শতক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তামিম। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে বেশি দেরি করেননি তিনি। তৃতীয় ম্যাচে এসেই খেলেছেন তিন অঙ্কে ছোঁয়া ইনিংস।

বাংলাদেশের ইনিংস শেষে তামিম নিজের প্রতিশ্রুতির কথা জানান, “আমি হাথুরুসিংহেকে বলেছিলাম, এই বিশ্বকাপে আমি তোমাকে একটি শতক এনে দেব। এটা খুব ভালো সংগ্রহ।”

তামিমের শতকে ২ উইকেটে ১৮০ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৯ রান ওঠে তামিম ও সৌম্য সরকারের জুটিতে। তামিম জানান, আরেকটু দ্রুত রান তোলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

“আমাদের শুরুতে দ্রুত রান তুলতে পারিনি, এই সময়ে তারা ভালো বল করেছে। কয়েকটি চার হাঁকানোর পর আমি ভালো অনুভব করছিলাম। পাওয়ার প্লেতে আমরা ৩৫-৪০ রান চেয়েছিলাম। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের লম্বা সময় ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা ছিল।   

অফ ড্রাইভে বল বাউন্ডারির দিকে পাঠিয়েই উদযাপন শুরু করেন তামিম। শূন্যে লাফ দিয়ে যেন ছুঁতে চাইলেন আকাশ! অবসান হলো বাংলাদেশের অপেক্ষার। তামিমের প্রথম টি-টোয়েন্টি শতক টি-টোয়েন্টিতে দেশের প্রথমও।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনে ওঠার লড়াইয়ে ওমানের বিপক্ষে ২০ ওভারে ২ উইকেটে ১৮০ রান করেছে বাংলাদেশ।

সেঞ্চুরির আগেও আরেকটি মাইলফলক ছুঁয়ছেন তামিম। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে স্পর্শ করেছেন ১ হাজার টি-টোয়েন্টি রান।

এর আগেও দু দফায় পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করেছিলেন তামিম। কোনোবারই ছাড়াতে পারেননি আশির গণ্ডি। এবার নিজেকে ছাড়ালেন, ছাড়িয়ে গেলেন দেশের সবাইকেও। 

৫৮তম ম্যাচে এসে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম শতক পেল বাংলাদেশ। এই সংস্করণে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ ছিল তামিমেরই অপরাজিত ৮৮, ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

চলতি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৫৮ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। সেদিন ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, শতকের ভাবনা তার ছিল না। দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়াই ছিল তার লক্ষ্য।

৮ রানে হারের পর নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক পিটার বোরেন বলেছিলেন, সঙ্গীদের সহায়তা পেলে তামিমের সেদিনই শতক পেয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ওমানের বিপক্ষে সঙ্গীদের কাছ থেকে সেই সহায়তা পেলেন দেশসেরা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

ওমানের ‘মালিঙ্গা’ মুনিস আনসারিকে ছক্কায় পা রাখেন নব্বইয়ে। শতকের আগে অবশ্য একটু থমকে গিয়েছিলেন। ৯৭ রানে ডট বল খেলেছিলেন ৩টি। এরপরই ওই অফ ড্রাইভে চারে অসাধারণ এই শতক।

শেষ পর্যন্ত ৬৩ বলে ১০৩ রানে অপরাজিত তামিম। ১০টি চারের পাশে ৫ ছক্কায় স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের রেকর্ড। এর আগে ইনিংসে ৫টি ছক্কা মেরেছিলেন নাজিমউদ্দিন ও জিয়াউর রহমান।

শতকের পর তামিম জড়িয়ে ধরেন অন্য প্রান্তে থাকা সাকিব আল হাসানকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ ছিল সাকিবেরই। ২০১২ সালের আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫৪ বলে ৮৪ রানের সেই ইনিংস খেলেছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক শতক দেখেছিল মেহরাব হোসেন অপির ব্যাটে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে শতক করেন তিনি। টেস্টে শতকের পর খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি। অভিষেকে টেস্টেই শতক করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে শতকের আক্ষেপ গত বছর দূর করেন মাহমুদউল্লাহ। বিশ্বকাপে তার ব্যাট ধরেই আসে প্রথম শতক। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও শতক পেল বাংলাদেশ।