Author Topic: Birds of Bangladesh  (Read 1844 times)

Offline milan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 303
  • Test
    • View Profile
    • https://daffodilvarsity.edu.bd/page/show_page_detail/coordination-offices
Re: Birds of Bangladesh
« Reply #15 on: July 13, 2017, 06:48:34 PM »
Nice post
Milan Hossain
Coordination Officer
Department of Civil Engineering
Faculty of Engineering
Cell: 01847140165
e-mail: ceoffice@daffodilvarsity.edu.bd
Ext. 258
https://daffodilvarsity.edu.bd

Offline Lazminur Alam

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 333
  • Test
    • View Profile
দুধরাজ
« Reply #16 on: July 14, 2017, 10:44:27 AM »
ছবির এই দুধসাদা পুরুষ পাখিটি বাসায় বসে ডিমে তা দিচ্ছে কী সুন্দর মোহনীয় ভঙ্গিতে! লেজের লম্বা ফিতাপালক দুখানা টানটান করে ছড়িয়ে দিয়েছে। আসলে পুরুষ পাখিরা ডিমে তা দেয় না, ডিমে তা দিতে দিতে ক্লান্ত বা ক্ষুধার্ত হলে মেয়েপাখিটি যখন বাসা ছেড়ে উড়াল দেয় ডানার আড়ষ্টতা কাটানোর জন্য বা খাবার খেতে, তখন পুরুষটি ডিমে বসে, তায়ে সুবিধার জন্য ঠোঁট দিয়ে ডিম উল্টেপাল্টে দেয়। দুঃসাহসী এই পুরুষ পাখিরা বাসার চারপাশ কড়া পাহারায় রাখে। বাসার ত্রিসীমানায় বেজি-বনবিড়াল, পোষা কুকুর-বিড়াল, গুইসাপ-বিষধর সাপসহ শিকারি পাখিরা এলেই বাতাসচেরা কর্কশ ধাতব ডাক ছেড়ে আক্রমণ করে। আক্রমণের গতি ও আকস্মিকতায় শত্রুরা ভড়কে যায়। এই সুবিধা নেওয়ার জন্য এই পাখিদের বাসার কাছাকাছি বাসা করে কমলা দোয়েল, হলদে বউ, চশমা পাখি, নাচুনে, ভ্যাদাটুনি, বুলবুলিসহ নিরীহ ও কিছুটা সাহসী পাখি।

অনেকটাই গেরিলা কৌশলে ওড়াউড়ি এদের। পছন্দ ছায়া ছায়া বনবাগান। সবচেয়ে বেশি পছন্দ বাঁশবন বা বাঁশমহাল। বাঁশের ঝুলন্ত কঞ্চিতে বাসা করতেও পছন্দ করে খুব। আম-কাঁঠালগাছ বেশি পছন্দ। তবে বাসা করবে কিছুটা ঝুলন্ত সরু ডালে। বছর বছর একই এলাকায় বা একই গাছের ভিন্ন ভিন্ন ডালে বাসা বাঁধার প্রবণতা এদের প্রবল। বাসা করে বসন্ত-বর্ষায়। বাসা বাঁধা শেষ করতে সময় লাগে চার থেকে সাত দিন। চারটি গোলাপি রঙের ডিম পেড়ে ১৫-২১ দিনের তায়ে ছানা ফোটায় এরা। মূল খাদ্য এদের উড়ন্ত কীটপতঙ্গ, লার্ভা ও ফুলের নির্যাস। সুযোগ পেলে তাল-খেজুরের রসও পান করে। পুরুষ ছানারা দু-তিন বছর পর্যন্ত লালচে বা লালচে-বাদামি থাকে, তারপরে একেবারে দুধসাদা রঙের হয়ে যায়। মেয়েটি সারা জীবনই লালচে-বাদামি পাখি থাকে, তার লেজে ফিতাপালক থাকে না। পুরুষটি বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর পাখি। সুদৃশ্য লম্বা লেজ দুটি এদের শরীরের তুলনায় চার–পাঁচ গুণ বড়। বাতাসে এই সুদৃশ্য লেজ-ফিতা যখন দোলে, তখন নান্দনিক সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়।

সারা দেশেই আছে এরা; তবে চালচলনে লুকোছাপা থাকার কারণে মানুষের নজরে পড়ে না সহজে।

চতুর-সাহসী-বুদ্ধিমান ও তুখোড় প্রেমিক এই পাখিদের নাম দুধরাজ। মেয়েটি হলো দুধরানি। দুধরানির যেকোনো বিপদে দুধরাজ কী রকম আহাজারি আর ক্রন্দন যে করে! লেজঝোলা, সাদা সিপাহি, লাল সিপাহি ও সাহেব বুলবুলি নামেও পরিচিত এরা। ইংরেজি নাম Asian Paradise Flycatcher। বৈজ্ঞানিক নাম Terpsiphone paradise। লেজসহ দৈর্ঘ্য ২০ সেন্টিমিটার। ওজন ২০ গ্রাম।

(সূত্র: প্রথম আলো)
MD.LAZMINUR ALAM
|| BA (Hons) in English || || MBA in Marketing ||

Senior Student Counselor
Daffodil International University
Cell: 01713493051
E-mail: lazminur@daffodilvarsity.edu.bd
            lazminurat@yahoo.com
Web: www.daffodilvarsity.edu.bd

Offline Lazminur Alam

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 333
  • Test
    • View Profile
তিনরঙা মুনিয়া
« Reply #17 on: July 16, 2017, 02:15:04 PM »
মুনিয়া এ দেশের আবাসিক পাখি তিনরঙা মুনিয়া। খয়েরি মুনিয়া নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Tricolored Munia, Three-colored Munia Black-headed Munia। একসময় এরা কালোমাথা মুনিয়া নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে এরা দুটি আলাদা প্রজাতিতে ভাগ হয়ে গেছে; খয়েরি বা তিনরঙা মুনিয়া ও তামাটে বা কালোমাথা মুনিয়া (Chestnut Munia)। Estrildae পরিবারের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Lonchura malacca।

তিনরঙা মুনিয়া লম্বায় প্রায় ১১ সেন্টিমিটার এবং ওজনে মাত্র ১২ গ্রাম। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা, ঘাড়, গলা, বুকের কেন্দ্র, অবসারণী ও লেজের তলা চকচকে কালো। বুকের বাকি অংশ সাদা। ডানা, পিঠ ও লেজ লালচে-বাদামি বা খয়েরি। ঠোঁট বেশ শক্ত, ত্রিকোণাকার ও হালকা নীলচে। পা, আঙুল ও নখ কালো।

তিনরঙা মুনিয়া লম্বা ঘাসবন, জলা, ধান‌খেত ও ছোট ঝোপে বিচরণ করে। মুনিয়ারা ছোট থেকে বড় মিশ্র ঝাঁকে থাকে। কখনো কখনো ডোরা বাবুই এবং কালোবুক বাবুইয়ের সঙ্গেও চরতে দেখা যায়। ঘাসবীচি, কাউন, ধান ইত্যাদি প্রিয় খাদ্য। ঘাসবন বা ধান-কাউনের খেতে দলে দলে খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়ায়। এমনিতে নিরীহ হলেও ঝাঁক বেঁধে ফসলের বেশ ক্ষতি করে।

মে-নভেম্বর প্রজননকাল। এ সময় জলার ধারে পাতা ও ঘাস দিয়ে বড় বলের মতো বাসা বানায়। বাসায় ঢোকার জন্য লম্বা সুড়ঙ্গের মতো পথ থাকে, ঘাসফুল দিয়ে যার চারপাশটা মুড়ে নেয়। ডিম পাড়ে চার থেকে সাতটি, ধবধবে সাদা। স্বামী-স্ত্রী মিলে ১২-১৩ দিন তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। বাচ্চারা ১৪-১৫ দিনে উড়তে শেখে।

(সূত্র: প্রথম আলো)
MD.LAZMINUR ALAM
|| BA (Hons) in English || || MBA in Marketing ||

Senior Student Counselor
Daffodil International University
Cell: 01713493051
E-mail: lazminur@daffodilvarsity.edu.bd
            lazminurat@yahoo.com
Web: www.daffodilvarsity.edu.bd

Offline Lazminur Alam

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 333
  • Test
    • View Profile
নলঘোঙ্গা
« Reply #18 on: August 01, 2017, 07:50:54 PM »
পোড়া ইটের মতো লালচে রঙের বকেরা দিনে ক্যামোফ্লেজ হয়ে চুপচাপ থাকে নলবন, কাশবন, হোগলাবন, বাগানের ঝোপঝাড় ও বাঁশবনের গোড়ায়। কচুরিপানার দঙ্গলের ভেতরে বাসা যখন করে, তখন কচুরিপানার ভেতরেই দিনের আশ্রয় নেয়। এদের ঠোঁট তীক্ষ্ণ, ধারালো। বাসা করে গ্রীষ্ম-শরতে। বাসা তৈরির সময় এরা খুব ভোরে অথবা চাঁদনি রাতে উপকরণ আনে, যেন সহজে কেউ দেখতে না পায়। বাসা বাঁধতে সময় লাগে ৩-৫ দিন। ৩-৪টি ডিমে পালা করে তা দেয় মেয়ে ও পুরুষটি। ডিম ফুটে ছানা বের হয় ১৭-২২ দিনে। ছানারা উড়তে পারে ২৫-২৮ দিনে। সদ্য ফোটা ছানা দেখতে খুবই সুন্দর। ঘন লালচে রঙের শরীরে থাকে বিচিত্র রঙের চমৎকার আঁকিবুঁকি। পাখিটির নাম নলঘোঙ্গা। লালবক নামেও পরিচিত।

নিরীহ-ভীত ও নিজেকে আড়াল করার জন্মগত প্রবণতা এদের প্রবল। বিপদের গন্ধ পেলে দুই পাসহ শরীর ও ঘাড়-মাথা-ঠোঁট নলের মতো সোজা করে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে টানটান থাকে। এমনভাবে থাকে যে দেখাই যায় না।

সদ্য উড়তে শেখা ছানাদের নিরাপত্তার জন্য এরা প্রথম প্রথম ফুটফুটে জোছনা রাতে বেরোবে। মূল খাদ্য এদের বিভিন্ন রকম পোকামাকড়-কীটপতঙ্গ। মেটেসাপ বা জলসাপসহ ব্যাঙ-কাঁকড়াও গেলে। এরা হাঁটে একেবারে পেশাদার সৈনিকের মতো প্যারেড করে বা মার্চ করে।

অপেক্ষাকৃত খাটো লেজের লাজুক স্বভাবের এই বকদের ইংরেজি নাম Cinnamon Bittern. বৈজ্ঞানিক নাম ixobrychus cinnamomeus. দৈর্ঘ্য ৩৬-৩৮ সেন্টিমিটার। হলুদাভ ঠোঁট ও পায়ের অধিকারী এই পাখিদের পুরুষটি খুবই সুন্দর। চকচকে গলা-বুক। মেয়েটির ঘাড়-গলায় কালচে-বাদামি রেখা টানা থাকে। ঢাকা শহরতলি থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশেই আছে এরা।
MD.LAZMINUR ALAM
|| BA (Hons) in English || || MBA in Marketing ||

Senior Student Counselor
Daffodil International University
Cell: 01713493051
E-mail: lazminur@daffodilvarsity.edu.bd
            lazminurat@yahoo.com
Web: www.daffodilvarsity.edu.bd

Offline Lazminur Alam

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 333
  • Test
    • View Profile
বনমোরগ
« Reply #19 on: August 03, 2017, 07:32:50 PM »
এরা বনমোরগ। বনমুরগি বা জংলি মুরগি নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Red Jungle Fowl। Phasianidae পরিবারের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Gallus gallus murghi. গৃহপালিত মুরগির উৎপত্তি কিন্তু এই বনমোরগ থেকেই। তবে এ নিয়ে মতপার্থক্য আছে।

বনমোরগ ও মুরগি লম্বায় ৬৫-৭৫ ও ৪২-৪৬ সেন্টিমিটার। মোরগের ওজন এক কেজি, আর মুরগির কিছুটা কম। মোরগের মাথার খাঁজকাটা বড় ঝুঁটি, মুখমণ্ডল ও ঠোঁটের নিচের লতিকা টকটকে লাল। পিঠ কমলা-লাল। ডানার পালক লাল-কালো-সোনালি। ঘাড় থেকে সোনালি-হলুদ সরু পালক পিঠে নেমে গেছে। কাস্তের মতো লম্বা কেন্দ্রীয় পালকসহ লেজের পালক সবুজাভ কালো। বুক-পেট কালচে-বাদামি। মুরগি একনজরে বাদামি। মাথা তামাটে, ঝুঁটি ছোট ও লাল। মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে লাল। লেজ কালচে। পিঠ ও ডানা কালচে-বাদামি, তাতে অসংখ্য ছোপ। উভয়েরই ঠোঁট কালচে-বাদামি এবং পায়ের পাতা, নখ ধূসর-বাদামি।

বনমোরগ সচরাচর দৃশ্যমান আবাসিক পাখি। চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের সব বনে এবং সুন্দরবনে বাস করে। ভারত, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে দেখা যায়। এককালে দেশের প্রায় সব বনজঙ্গলেই দেখা যেত। ব্যাপক শিকারের কারণে পাহাড়ি বনে এরা হুমকির মুখে। এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো কোনো হাটবাজারে বনমোরগ বিক্রি হয়। তবে সিলেটের চা-বাগান ও সুন্দরবনে এরা ভালো আছে। খুব ভোরে ও সন্ধ্যার আগে মাটি থেকে কুড়িয়ে বিভিন্ন শস্যদানা, ঘাসের গোড়া, কীটপতঙ্গ, ফল ইত্যাদি খায়। রাত কাটায় উঁচু গাছের ডালে বা বাঁশঝাড়ে। ভালো উড়তে পারে। কক্ কক্ শব্দে ডাকে।

মার্চ-মে প্রজননকাল। বনের মধ্যে পায়ের নখ আঁচড়িয়ে মাটিতে সামান্য গর্ত করে শুকনো ঘাস ও কাঠিকুটি বিছিয়ে বাসা বানায়। ৪-৬টি ডিম পাড়ে। ২০-২১ দিনে ডিম ফোটে। বাচ্চাগুলো ফোটার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসা ছাড়ে ও মায়ের সঙ্গে খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। প্রায় পাঁচ বছর বাঁচে।

Source: Prothom Alo
MD.LAZMINUR ALAM
|| BA (Hons) in English || || MBA in Marketing ||

Senior Student Counselor
Daffodil International University
Cell: 01713493051
E-mail: lazminur@daffodilvarsity.edu.bd
            lazminurat@yahoo.com
Web: www.daffodilvarsity.edu.bd

Offline Lazminur Alam

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 333
  • Test
    • View Profile
চিত্রিত গলা কাঠঠোকরা
« Reply #20 on: October 10, 2017, 06:26:00 PM »
আবাসিক এই পাখির নাম চিত্রিত গলা কাঠঠোকরা। সবুজ ডোরা কাঠঠোকরা নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Streak-throated woodpecker। বৈজ্ঞানিক নাম picus xanthopygaeus। দৈর্ঘ্য ৩০ সেন্টিমিটার। ওজন ১০০ গ্রাম। মাটিতে চলতে চলতে ক্লান্ত হলে এরা লেজের পালক মেলে দিয়ে, সেই শক্ত পালক মাটিতে ঠেকিয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসার মতো বসতে পারে খাড়া হয়ে। লেজটাকে এরা তৃতীয় পা হিসেবে ব্যবহার করে। গাছের চেয়ে মাটিতেই থাকে বেশি।

মূল খাদ্য এদের পিঁপড়া, পিঁপড়ার রসালো সাদা ডিম, বাচ্চা উইপোকাসহ ওদের রস টসটসে ডিম-বাচ্চা, বিটল পোকা-কেঁচো, নানান রকম পোকামাকড়-লার্ভা ইত্যাদি। এ ছাড়া পান করে ফুলের মধুরেণু, তাল–খেজুরের রসসহ শিশিরকণা।

পুরুষ পাখিটির মাথার চূড়া ও তালু শুকনো আলতার মতো লাল, লেজের গোড়ার উপরিভাগ ও পিঠে এক ছোপ করে হলুদ রং, পিঠ হলুদাভ সবুজ, কানের পাশটা চকচকে ছাই বাদামি, চিবুক ধূসরাভ সাদা। তাতে সরু সরু কালচে রেখা টানা। কালচে কমলা রঙের আভা থাকে ঘাড়ে। চোখের ওপর দিয়ে সাদাটে টান থাকে। বোজানো অবস্থায় পাখার প্রান্তদেশ সাদাটে বাদামি ছোপের সারির অপূর্ব বিন্যাস। গলা-বুক-পেটেও শিল্পীর বাদামি ডোরা ও ছিট-ছোপের আশ্চর্য চিত্রিত শিল্পকর্ম।
MD.LAZMINUR ALAM
|| BA (Hons) in English || || MBA in Marketing ||

Senior Student Counselor
Daffodil International University
Cell: 01713493051
E-mail: lazminur@daffodilvarsity.edu.bd
            lazminurat@yahoo.com
Web: www.daffodilvarsity.edu.bd

Offline Lazminur Alam

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 333
  • Test
    • View Profile
বেগুনি বক
« Reply #21 on: October 22, 2017, 06:46:57 PM »
সদা সতর্ক হুঁশিয়ার লম্বা পা ও নলাকৃতির লম্বা গলার এই পাখি বিপৎসীমানার ভেতরে মানুষ বা অন্য কোনো শত্রু দেখলে ঘাড়-মাথা ও পুরো শরীর টানটান করে, ঠোঁটটি আকাশমুখো করে স্থির হয়ে যায়। আর যদি ঘাসবন, কাশবন, হোগলাবন বা অন্য কোনো জলজ ঝোপঝাড়ের ভেতরে থাকে, তাহলে মুহূর্তেই নিজেকে আড়াল করে ফেলে। শরীরের রংটাও এদের গাছপালার সঙ্গে মিশে যাওয়ার উপযোগী। ঘাড়ের ওপরের কিছু অংশসহ পিঠ-ডানার উপরিভাগও বেগুনি আভা মাখানো ছাই-ধূসর। পিঠের নিচের দিকটা হালকা লালচে। উড়াল দেওয়ার মুহূর্তে দুই ডানা অনেকটাই খেপজালের মতো খুলে যায়। তখন ডানার প্রান্তের কালো পালকগুলো নজরে পড়ে। চিবুকসহ ঘাড়ের উপরিভাগটা লালচে। গলার কাছ থেকে একটি করে মোট দুটি কালো-সরু রেখা গলার দুই পাশ থেকে নেমে বুকের উপরিভাগে মিশেছে। টিকির মতো দুগাছি কালো সুতাপালক কানের কাছ থেকে পেছন দিকে গিয়েছে। মাথার চাঁদি কালো। ঠোঁটের নিচের গলাটুকু সাদা। হলুদাভ পা-ঠোঁট। বুক ও ঘাড়ের দুই পাশ থেকে সেমাইয়ের মতো সরু কিছু সুতাপালক ঝুলে থাকে।
পাখিটির নাম বেগুনি বক। ঝুঁটিকাক ও খয়রা কানা নামেও দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিত ছিল। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত নদীচর-মোহনা-উপকূল-কাপ্তাই হ্রদ, বৃহত্তর খুলনা ও সিলেট অঞ্চলের হাওর-বিলে দেখা মিলত। এরা আমাদের আবাসিক পাখি। কিন্তু এই ২০১৭ সালে এটি এখন বাস্তুচ্যুত পাখি। হেমন্ত-শীতে কিছু পাখি আমাদের দেশে আসে। পরবাসী এই পাখির ইংরেজি নাম Purple Heron. বৈজ্ঞানিক নাম Ardea perpurea. দৈর্ঘ্য ৭০-৯০ সেন্টিমিটার। ওজন প্রায় দেড় কেজি।
মূল খাদ্য এদের মাছ-ব্যাঙ-জলজ নির্বিষ সাপ-পোকামাকড়-ছোট কাঁকড়া ও দু-চার দিন বয়সী কচ্ছপছানা। এদের বাসা হয় গাছে, সরু-শুকনো কঞ্চি ও ডালপালা দিয়ে বড়সড় বাসা বানায়। সেই গাছে থাকতে পারে অন্যান্য বকের বাসাও। ডিম পাড়ে ৪-৬টি। ফোটে ২৫-২৬ দিনে।

Source:http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1349271/বেগুনি-বক
MD.LAZMINUR ALAM
|| BA (Hons) in English || || MBA in Marketing ||

Senior Student Counselor
Daffodil International University
Cell: 01713493051
E-mail: lazminur@daffodilvarsity.edu.bd
            lazminurat@yahoo.com
Web: www.daffodilvarsity.edu.bd

Offline Lazminur Alam

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 333
  • Test
    • View Profile
গাঙশালিক
« Reply #22 on: October 25, 2017, 06:04:48 PM »
এরা ডিম পাড়ে ছয়-সাতটি করে। মেয়ে ও পুরুষ পাখি পালা করে ডিমে তা দেয়। বাসা করার সময়ও দুজনে পালা করে গর্ত খোঁড়ে। এরা অঙ্ক ও জ্যামিতিতে পাকা। মৃত্তিকাবিজ্ঞানীও বলা যায়। বাসা করে মাটি পরীক্ষার পর মাপজোখ করে।

গাঙশালিকেরা নদীর খাড়া পাড়ে বা পুল-কালভার্টের তলায় এমন জায়গায় বাসা বাঁধে, যেখানে শিয়াল-খাটাশ-বনবিড়ালেরা চড়তে গেলেই পিছলে পড়বে। দুষ্টু ছেলেমেয়ে ও বাজ-ইগলেরা ডিম-ছানা নাগালে পাবে না। বৃষ্টির পানি খাড়া পাড় বেয়ে নামার সময় সহজে সুড়ঙ্গের ভেতর ঢুকবে না। বাসা শেষ করতে সময় লাগে ছয় থেকে নয় দিন। কয়েক জোড়া পাখি মিলে কলোনি বাসা করার আগে জুতসই জায়গাটা নির্বাচন করে। তারপরও বাসার মুখ থাকে ছোট। গভীরতা দুই থেকে চার ফুট ও একটু ডানে বা বামে ঘুরে গিয়ে থাকে ডিম-বাচ্চার চেম্বার। ডিম ফুটে ছানা হয় ১৫ থেকে ২১ দিনে। ছানারা উড়তে শেখে ১৯ থেকে ২৪ দিনে।

বুদ্ধিমান গাঙশালিকদের বেশি দেখা যায় ছোট-বড় নদী এলাকার আশপাশে। বলা যায়, নদীকেন্দ্রিক জীবন এদের। দলে চলে। গলার স্বর অনেকটাই ভাতশালিকের (Common Myna) মতো। তবে খুব মিষ্টি ও মোলায়েম শব্দে গলার ভেতরে এরা যেন জলতরঙ্গ বাজায়। মূল খাদ্য এদের ফল-পোকামাকড়-কীটপতঙ্গ ও নানান রকম শস্যদানা। নিয়মিত বালুস্নান করে, ধানগাছে জমে থাকা শিশিরে ডানা ঝাপটে মজা করে শিশির-স্নানও করে।

গাঙশালিক একনজরে নীলচে ধূসর পাখি। ডানার প্রান্ত ও লেজ কালো, লেজের অগ্রভাগ গোলাপি-সাদা। ঘন-কমলা রঙের চোখের পাশটার সঙ্গে একই রঙের ঠোঁটটা খুবই মানানসই। ঠোঁটের গোড়ায় আবার কপালমুখো ছোট একগুচ্ছ ঝুঁটি। ডানার প্রা‌ন্তে সাদা ছোপ। পা গোলাপি হলুদ। ইংরেজি নাম Bank Myna. বৈজ্ঞানিক নাম Acridotheres ginginianus. দৈর্ঘ্য ২১ সেমি। ওজন ৭২ গ্রাম।

Source: http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1351286/ওরা-অঙ্ক-জ্যামিতি-জানে

MD.LAZMINUR ALAM
|| BA (Hons) in English || || MBA in Marketing ||

Senior Student Counselor
Daffodil International University
Cell: 01713493051
E-mail: lazminur@daffodilvarsity.edu.bd
            lazminurat@yahoo.com
Web: www.daffodilvarsity.edu.bd

Offline Lazminur Alam

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 333
  • Test
    • View Profile
দুঃসাহসী কালিম পাখি
« Reply #23 on: November 22, 2017, 04:43:34 PM »
বিপদে পড়লে এই পাখিরা কামড় বসাতে মহা ওস্তাদ। মোটা-শক্ত ঠোঁটের আগা তীক্ষ্ণ-ধারালো। পেশাদার জাল-ফাঁদ শিকারিরা এদের জালফাঁদ থেকে ছাড়ানোর সময় সাবধানতা অবলম্বন করেন। বন্দুক শিকারিরাও আহত পাখি ধরতে সতর্ক থাকেন। কামড় বসাতে পারলে ছাড়ানো কষ্ট। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর খুলনার ফকিরহাট-চিতলমারী-মোল্লাহাট-তেরখাদা-ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হতো। বন্দুক শিকারিরা গুলি করে মারতেন। হাটবাজার থেকে পাখি কিনে ক্রেতার হাতে ধরিয়ে দেওয়ার আগে বিক্রেতারা পাখিটির নাকের ভেতর দিয়ে এই পাখিটিরই ডানার একটি পালক ছিঁড়ে নাকের এপাশ-ওপাশ দিয়ে বের করে ঠোঁটে পালক বেঁধে দিতেন। ক্রেতারা মুরগির মতো পা ধরে উল্টো করে ঝুলিয়ে বাড়িমুখো হতেন। ২০১৭ সালেও এ পাখি বিক্রি হচ্ছে। তবে অতি গোপনে। দেশের হাওরাঞ্চলে ধরা-মারা-বেচাবিক্রি চলে আজও। চাহিদা ভালো। মাংসমূল্যের জন্যই পাখিটি আজ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। অথচ বন্য প্রাণী আইনে দেশের যেকোনো পাখিই ধরা-মারা-বিক্রি ও পোষা দণ্ডনীয় অপরাধ।

দুঃসাহসী-লড়াকু ও বদমেজাজি এই জলাজমির পাখিটির নাম কালিম। ফকিরহাট-বাগেরহাট তথা বৃহত্তর খুলনায় এটি ‘বুরি’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত। ইংরেজি নাম purple swamphen। বৈজ্ঞানিক নাম porphyrio porphyrio। দৈর্ঘ্য ৪৫ সেন্টিমিটার। ওজন ৬৫০ গ্রাম। মারকুটে এই পাখিরা একনজরে চকচকে নীলচে-বেগুনি। রোমান যোদ্ধাদের মতো কপাল-মাথা জোড়া আলতা রঙের দর্শনীয় বর্ম। লালচে রঙের পা ও পায়ের লম্বাটে
আঙুল। লেজের তলা কার্পাস তুলোর মতো সাদা। চোখের পাশে বৃত্তাকারে সাদাটে ছোপ। বেশ নাদুসনুদুস স্বাস্থ্যবান এই পাখিরা সব সময় যেমন সতর্ক থাকে, তেমনি যেন রেগেও থাকে। প্রজনন মৌসুমে পোষা মোরগের কায়দায় দুটি পুরুষ যখন লড়াই করে, তখন কপালের বর্মে বর্মে শব্দ বাজে। বন্দুকের গুলির ছররায় যদি একখানা পা আহত হয়, তাহলে পা মুখে কামড়ে ধরে উড়ে পালায়।

এদের মূল খাদ্য জলজ উদ্ভিদ-গুল্মের কচি-নরম পাতা-ডগাসহ পদ্মফুলের ভেতরের অংশ, ব্যাঙের বাচ্চা, ছোট মাছ। ৫০ বছর আগেও হেমন্ত-শীতে ঢাকার শহরতলির বিল-ঝিলসহ সারা বাংলাদেশের বিল-হাওরে দেখা মিলত। এখন এরা কোণঠাসা দেশের কয়েকটি হাওরাঞ্চলে। গ্রীষ্ম-শরতে ভাসমান জলজ উদ্ভিদ-গুল্ম-কচুরিপানা ও ঝোপঝাড়ের তলায় ডাল-লতা দিয়ে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে তিন-সাতটি। ছানা ফোটে ১৮-২৩ দিনে। ছানারা হয় শ্লেটি-কালো। তাতে ধূসরের আভা ছড়ানো। মাথা-কপাল জোড়া শিল্ড থাকে, রং ওই লালই। পা ও পায়ের আঙুলও লাল। মা-বাবা পাখি ছানাদের নিয়ে চরাই করে। মুরগিছানাদের মতো ছানারা মা-বাবার পিঠে চড়ে, তেমনি মায়ের দুই পাখা ও বুকের তলায় বসে অদৃশ্য হয়ে থাকে। কিশোরগঞ্জ ও শেরপুর-জামালপুরে পোষা পাখি তথা গৃহপালিত বুরি পাখি দেখা যায়।

Source: http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1371091/দুঃসাহসী-কালিম-পাখি
MD.LAZMINUR ALAM
|| BA (Hons) in English || || MBA in Marketing ||

Senior Student Counselor
Daffodil International University
Cell: 01713493051
E-mail: lazminur@daffodilvarsity.edu.bd
            lazminurat@yahoo.com
Web: www.daffodilvarsity.edu.bd

Offline Lazminur Alam

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 333
  • Test
    • View Profile
কমলাবুক হরিয়াল
« Reply #24 on: November 27, 2017, 05:04:39 PM »
পুরুষ বুক ফুলিয়ে আর লেজ-মাথা শৈল্পিক ভঙ্গিতে দুলিয়ে দুলিয়ে বউটিকে কত প্রেম-সংগীত যে শোনায়! এরা ২টি সাদা রঙের ডিম পাড়ে। পালা করে তা দেয় দুজনে। ছানা হয় ১২-১৫ দিনে। বাচ্চারা উড়তে শেখে ২১-২৭ দিনে। অন্য ঘুঘুদের মতো এরাও ছানাদের প্রথম দিকে ৪-৫ দিন ঘুঘুর দুধ পান করায়। তারপর অল্প অল্প করে খাওয়াতে শুরু করে মূল খাবার। খাবার তালিকায় আছে নানান রকম ফল। মিষ্টি বরই এদের খুবই পছন্দ। শুধু ফুল নয়, ফুলের নরম পাপড়ি ও কলিও খায়। বাগেরহাট অঞ্চলে ‘উড়ে আম’ (Bischofia javanica) একটি গাছ বেশ সুলভ, ওই গাছের ফলের আকৃতি যেমন অনেকটাই আঙুরের মতো। ওই ফল এই পাখিদের অতি প্রিয়। ‘বলা’ ফলও খেতে ভালোবাসে খুব। এই গাছটিও বাগেরহাটে সুলভ। বন্দুকধারী শিকারিরা এবং আদিবাসী গোষ্ঠীর তির-ধনুকধারীরা এদের শিকার করে। আঠার ফাঁদেও আটকায়। তবে ওদের শিকার করা মোটেই সহজ কাজ নয়। অতিশয় হুঁশিয়ার এরা। মুহূর্তের মধ্যে গাছের ডালে বসে স্টিল যেমন হতে জানে, তেমনি ঝট করে উড়াল দিয়ে পালাতেও পারে।

এদের একজন দলপতি থাকে। পুরো দল দলপতির শারীরিক ভাষা বুঝতে পারে। সব নির্দেশনা পালন করে। ত্রুটি হলে দলপতি ও অন্যরা মিলে শাস্তি দেয়। আবার, তরুণ পাখিরা দলপতির আসনে বসতে চেয়ে দলপতির সঙ্গে মরণপণ লড়াইয়েও নামে। অস্ত্র মূলত দু-পাখার চটপট থাপ্পড়। সুখের সময় আপন মনে চাপা-মিষ্টি শিস যেমন বাজায়, তেমনি আহাজারি করার মতোও ডাকে।

এই পাখির নাম কমলাবুক হরিয়াল। বাগেরহাটে ‘কমলা হরেল’ নামে ৫০ বছর আগেও ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিল। নির্বিচার শিকার, ওদের খাদ্য-গাছ দ্রুত হারে কমে যাওয়ায় এখন দুর্দশা। এদের দৈর্ঘ্য ২৯ সেমি, ওজন ১৫০-২২০ গ্রাম। কমলাবুক হরিয়ালের ইংরেজি নাম Orange-breasted Green Pigeon. বৈজ্ঞানিক নাম Treron bicinctus.

৫৫ বছর আগে গ্রামবাংলায় সুলভ থাকলেও এখন প্রাকৃতিক বনে কোণঠাসা। সুন্দরবনসংলগ্ন জেলাগুলোতে অল্প সংখ্যায় দেখা যায় আজও। এদের বুকের নিচটা কমলা রঙের, বাকি বুক ও পেট কমলাটে-গোলাপি। মাথার তালু ও ঘাড় ধূসরাভ জলপাই-বাদামি। ডানার প্রান্তে চওড়া কমলা-হলুদ ব্যান্ড। জলপাই-সবুজ পিঠ। লেজের উপরিভাগ শ্লেটি-ধূসর। পাখার শেষ প্রান্ত কালো। লেজের তলাটা লালছে। গলা হলদেটে নীলচে ঠোঁট, লালছে পা।

Source: http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1373141/কমলাবুক-হরিয়াল
MD.LAZMINUR ALAM
|| BA (Hons) in English || || MBA in Marketing ||

Senior Student Counselor
Daffodil International University
Cell: 01713493051
E-mail: lazminur@daffodilvarsity.edu.bd
            lazminurat@yahoo.com
Web: www.daffodilvarsity.edu.bd

Offline fahad.faisal

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 619
  • Believe in Hard Work and Sincerity.
    • View Profile
Re: Birds of Bangladesh
« Reply #25 on: January 29, 2018, 05:53:08 PM »
Thanks a lot for the informative post.
Fahad Faisal
Senior Lecturer
Department of CSE

Offline Lazminur Alam

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 333
  • Test
    • View Profile
গায়ক পাখি কমলা দোয়েল
« Reply #26 on: September 02, 2018, 10:38:44 AM »
পাখিটি আদতে অতি নিরীহ। চোখে সব সময় ভয় ভয় ভাব লেপ্টে থাকে। তবে সে গায়ক। এই পাখিদের পছন্দ হলো ছায়া ছায়া, মায়া মায়া বন-বাগান আর ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকা। আবার গেরস্থ বাড়ির উঠোন-বাড়িতেও এদের নির্ভয় যাতায়াত। মাটির ওপর দিয়ে ছন্দময় ভঙ্গিতে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে যায় এরা।

পাখিটির নাম কমলাবউ। গ্রীষ্ম থেকে শরতে বাসা করে গাছের ঝোপালো ডালে বা সুপারির ৭-৮ ফুট উঁচু চারার পাতার ডগার গোড়ায়। বাসা চমৎকার গোলাকার। দ্বিস্তরবিশিষ্ট বাসাটার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, চামচের হাতার মতো বাসারও একটা হাতা থাকে, সেটি সুপারি পাতার সঙ্গে শক্ত করে জুড়ে দেয়। যাতে ঝড়ে বাসা উড়ে না যায়। আমার নিজের গ্রামের সুপারিবাগানগুলোতে এদের বাসা প্রতি মৌসুমে কমপ‌ক্ষে ৫০টি দেখা যায়। পিরিচের ওপর স্যুপের বাটি বসালে যেমন দেখায়, বাসাটি দেখতে প্রায় তেমন।

এরা ঝরাপাতা-ডালপালা ওল্টায় ঠোঁট দিয়ে। নানা রকমের পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ, টিকটিকি-অঞ্জনের বাচ্চা, ব্যাঙাচি, ব্যাঙের পিচ্চি ছানা তাদের খাবার। উইপোকার ডিম-বাচ্চা এদের কাছে পোলাও ভাত। কেঁচো গেলে নুডলসের মতো।

বিপদের গন্ধ পেলে তীক্ষ্ণ-সুরেলা-ধাতব কণ্ঠে ‘হুইসেল’ বাজিয়ে দ্রুত উড়াল দেয়। আশপাশের সব পাখি এই সতর্কসংকেতের অর্থ বোঝে। শীতে পরিযায়ী পাখি ধূসর দামা ও রঙিলা দোয়েলরা এদের সঙ্গে মিলে একত্রে খাবারের সন্ধান করে।

মেয়ে পাখি গোলাপি-মাখন রঙা ডিম পাড়ে ৪টি। ডিম ফুটে ছানা হয় ১৪ দিনে। ১০ থেকে ১৫ দিনে তারা উড়তে শিখে যায়। কিশোর বয়সী ছানাদের বুক-ঘাড়-মাথা ও ডানার উপরিভাগে অসংখ্য বাদামি রঙের ছিট থাকে। মা পাখিটিকেও অনেকটাই ও রকম দেখায়। ছেলে পাখির মাথা-ঘাড়-বুক-পেট কমলা অথবা লালচে কমলা। পিঠ ধূসর-নীলচে। ডানার প্রা‌ন্তে এক সারিতে গোল ফোঁটা থাকে ৫-৬টি। লেজের তলা সাদা। গলা সাদাটে, ঠোঁট কালো। গোলাপি পা।

এরা রাতে আশ্রয় নেয় বাঁশের কঞ্চি, পেঁপে পাতার ডগা ও মোটা লতার ওপরে। শীতে মা-বাবা পাখি যখন পাশাপাশি হয়ে শরীর ফুলিয়ে গোলগাল পটকা মাছের মতো হয়ে ঠোঁট পিঠে গুঁজে দিয়ে ঘুমায়, তখন এদের দেখতে দারুণ লাগে। টর্চলাইটের আলোয়ও ওদের ঘুম ভাঙে না। গভীর হয় ঘুম।

কমলাবউয়ের ইংরেজি নাম অরেঞ্জ–হেডেড থ্রাস। বৈজ্ঞানিক নাম zoothera citrina। এরা মেটে দোয়েল, দামা, গুয়ে হালতি ও কমলা দোয়েল নামেও পরিচিত। দৈর্ঘ্য ২১ সেন্টিমিটার। ওজন ৬০ গ্রাম।

দক্ষিণ এশিয়ায় এই পাখির ১৫টি প্রজাতি আছে। এর মধ্যে কমলাবউ বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। সুরেলা কণ্ঠে গান গায় বলে অনেকে একে রসিক পাখিও বলে।
MD.LAZMINUR ALAM
|| BA (Hons) in English || || MBA in Marketing ||

Senior Student Counselor
Daffodil International University
Cell: 01713493051
E-mail: lazminur@daffodilvarsity.edu.bd
            lazminurat@yahoo.com
Web: www.daffodilvarsity.edu.bd