Author Topic: সঠিক খাবার সুস্থ হৃদযন্ত্র  (Read 481 times)

Offline taslima

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 464
    • View Profile
একজন গৃহিণী, চল্লিশের উপর তার বয়স। ভোজন রসিক। বেশ মেদবহুল। প্রচুর ভাত খান। সকালে মোটা করে রুটি ভাজেন ডালডায়। সঙ্গে কখনো পুরো ডিম,কখনো গরুর গোশত। কখনো পুরো রুটি চিনিতে ভিজিয়ে আয়েশে খান।
এ ভাবেই এক যুগ পেরিয়ে গেছে। ডাক্তার বাবুর কাছে এসেছেন এনজাইনা নিয়ে, ‘এনজাইনা পেকটরিস’ হার্টের ব্যাথা। নিজের দোষেই আজ হৃদরোগ।
প্রচুর অনিয়ন্ত্রিত খাবার খেয়েছেন। এখন থেকেই সর্তক না হলে সামনে বিপদ। হার্টের ব্যাথা থেকে হার্ট এ্যাটাক। সারা বিশ্বে হৃদরোগ এক নাম্বার ঘাতক রোগ। এ রোগ হওয়া মানেই দেহের রক্তনালিতে বেশি খারাপ চর্বি বা কোলেস্টেরলের বাসা। তারপর সেগুলো স্তরে স্তরে জমা-যেন সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে কঠোর অবস্থানে। এক সময় রক্তনালিতে জমে তাতে ব্লক সৃস্টি করে। পরে হার্ট এ্যাটাক। প্রতিদিনের খাবারে কোলেস্টরলসমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে হৃদপিন্ডকে বাঁচান।
# খাবেন না ডুবো তেলে ভাজা খাবার। বেশি মসলা ও ভাজা খাবার রান্না করে খাওয়া উচিত নয়। টেস্টিং সল্ট বা পাতে লবন। বেশি স্বাদ মেশানো খাবার। দুধের যেকোন তৈরী খাবার। চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার একদম না খেলেই ভাল হয়। মদ্যপান/ধূমপান। জীবনের গতি বাড়ান। সময় বাড়ান। খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনতেই হবে।
# চর্বি খাবেন, তা হতে হবে অসম্পর্কিত। বাদাম। উপকারী চর্বি। মাছের তেল। মাছ/সামুদ্রিক মাছ। সয়াবিন তেল,,কর্ন তেল বা সূর্যমুখী তেলে রান্না খাবেন, ভাল থাকবেন। শাকসবজি,সালাদ, টকফল, ছোলাবুট, খোসাসহ পেয়ারা, কামরাঙা, আমলকী,,বরই, লেবু আমড়া। হৃদযন্ত্র ভাল থাকবে ,মন হয়ে উঠবে সতেজ। তাহলেই সুস্থভাবে বেশি দিন বাঁচবেন।
ডায়াবেটিক রোগীর নীরব ঘাতক রক্তস্বল্পতা
ডায়াবেটিস রেগীদের মধ্যে ক্লান্তি ও অলসতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটা শুধু রক্তে অনিয়ন্ত্রিত গ্লুকোজের জন্য ঘটে থাকে তা নয়, অন্যান্য কারণেও ক্লান্তি লাগতে পারে। এর মধ্যে একটি কারণ রক্তস্বল্পতা। এটি সম্পর্কে সচেতনতা ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে খুব কমই দেখা যায়। সঠিকভাবে রক্তস্বল্পতা শনাক্ত করা গেলে ও চিকিৎসা করলে এটি নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্তস্বল্পতা ডায়াবেটিস রোগীদের কিডনী জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার একটা কারণ।
ডায়াবেটিস, কিডনী ও রক্তস্বল্পতা
কিডনী রোগের ক্ষেত্রে, কিডনী সমস্যা বোঝার আগেই রক্তস্বল্পতা ঘটে থাকে। সম্প্রতি কিডনী ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক পর্যায়ে এনিমিয়া হওয়ার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে কিডনীর সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। ডায়াবেটিসের কারণে সাধারণত কিছু ছোট রক্তনালী ( যা কিডনীর সঙ্গে সংযুক্ত ) পরিবর্তন হয়ে যায়। যদিও বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে এ চিন্তাটা থাকে যে কিডনী নষ্ট হওয়া প্রতিরোধ করতে হলে এই রক্তনালিগুলো পরিবর্তন হওয়ার প্রতিরোধ করতে হবে। কিডনী অসমর্থতা হলো রেনাল এনিমিয়া। এই রেনাল এনিমিয়া শুরু হয় কিডনীর কার্যকারীতা নষ্ট হতে শুরু হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ থেকেই, এমনকি যারা ডায়ালাইসিস শুরু করেনি, তাদের মধ্যে রেনাল এনিমিয়া দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় জাতীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরীক্ষা সমীক্ষায় দেখা গেছে যে কিডনীর কার্যকারিতা কমে যাওয়া সঙ্গে হিমোগ্লোবিন কম থাকা এবং রক্তস্বল্পতা হওয়ার জোরালো সম্পর্ক রয়েছে।
ইরাইত্রোপ্রোটিনের কার্যকারীতা হ্রাস
ইরাইথ্রোপ্রোটিন হলো কিডনী থেকে সৃষ্ট এক ধরণের আমিষ, যা লাল রক্তকণিকা উৎপাদন করে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে যেমন ডায়াবেটিক নেফ্রোলজি, কিডনী ফেইলিওর, টিউমারে প্রদাহ অথবা টিউমারের জন্ম ইরাইথ্রোপ্রেটিন উৎপাদন ব্যাহত অথবা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে লাল রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যায় এবং এর ফলে হিমোগ্লেবিন নামে রক্তস্বল্পতার সৃষ্টি হয়। যখন শরীরে লাল রক্তকণিকা কমে যায় এবং এ কারণে রক্তে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়।
নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে
ডায়াবেটিকস চিকিৎসা ক্ষেত্রে রক্তসল্পতাকে বেশির ভাগ সময়ই চিকিৎসার আওতায় আনা হয় না বা গুরুত্বই দেওয়া হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের একজন ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ডায়াবেটিসের রোগীরা যখন ক্লান্তিতে ভুগছে মনে করে, তাদের ধারণা, এটা হচ্ছে রক্তে চিনির পরিমান যাওয়ার জন্যই। কিন্তু রোগীরা ক্লান্ত বা অবসন্নতায় ভুগছে বলে জানালে তখনই এনিমিয়া পরীক্ষা দরকার। দেখা গেছে ক্লান্ত ডায়াবেটিসের রোগীদের বেশীর ভাগই এনিমিয়ায় ভুগছে। একটি জরিপে দেখা গেছে যে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে ১ শতাংশ রোগী রক্তস্বল্পতা পরীক্ষা করান।
চিকিৎসা না করালে যা হয়
যদি সঠিক সময়ে রক্তস্বল্পতার সঠিক চিকিৎসা করা না হয়,তবে হৃদযন্ত্রের ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে। কারণ, অক্সিজেন বহন করে যে হিমোগ্লেবিন, তা প্রচুর পরিমানে কমে যাওয়ার কারণে হৃদযন্ত্র ঠিকমত চলতে পারে না। এনিমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ২০ শতাংশ রোগীরই হৃদযন্ত্রের সমস্যা থাকে। যেসব ডায়াবেটিস রোগী কিডনী জটিলতায় ভুগছে এবং কখনো ডায়ালাইসিস করেনি, তাদের মধ্যে এমনটা দেখা যায়। হৃদরোগ জটিলতার সঙ্গে যদি এনিমিয়া যুক্ত হয় তবে তা রোগীর জীবনের ওপর ভয়াবহ বিরূপ প্রভাব ফেলে। এনিমিয়ায় আক্রান্ত হলে ডায়াবেটিসের কাজের দক্ষতা, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক সম্পর্ক সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেন, রক্তস্বল্পতার চিকিৎসা হলো রক্ত সংযোজন করা। এই চিকিৎসাই বেশির ভাগ সময় দেওয়া হয়। যদিও এটি ব্যয়বহুল এবং এতে ঝুঁকিও রয়েছে। যাদের অনেক দিন ধরে কিডনীর সমস্যা রয়েছে, ইরাইথ্যোপ্রোটিন তাদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা হতে পারে। ডায়াবেটিস ও কিডনী রোগীদের মধ্যে এনিমিয়া থেকে মুক্তি দিতে ইরাইথ্রোপ্রেটিন একটি ভূমিকা রাখতে পারে। সম্পতি একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে যদি ইরাইথ্রোপ্রেটিনের পরিমাণ ঠিক রাখা যায়, তাহলে রক্তস্বল্পতা সম্পূর্ণ সেরে যেতে পারে।
সচেনতা প্রয়োজন
ডায়াবেটিস রোগীদের এনিমিয়া নির্ণয় করা ও এর যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। রক্তস্বল্পতা থেকে দুর্ভোগ এড়ানো এবং এ থেকে হৃদরোগে ক্ষতি কমানোর জন্য এনিমিয়া সম্পর্কে সচেতন বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। ডায়াবেটিক ও কিডনী চিকিৎসকদের সমন্বয় থাকা জরুরী, যেন রোগীরা এ দু’ধরনের বিশেষজ্ঞের কাছ তেকে সমন্বিত চিকিৎসা পেতে পারে।। সূত্র:ডায়াবেটোলজিয়া জার্নাল
http://roudrodin.com/wp/right-food-good-heart
Taslima Akter
Sr. Accounts Officer (F&A)
Daffodil International University
Call+8801847140035
Tel: 9116774 (Ext-135)
Email: taslima_diu@daffodilvarsity.edu.bd