Author Topic: মেধাস্বত্ব, পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক,শিল্পনকশা,ভৌগলিক পণ্য নির্দেশক (জিআই পণ্য)  (Read 561 times)

Offline Md. Rashadul Islam

  • Newbie
  • *
  • Posts: 29
  • Test
    • View Profile
ট্রেডমার্ক আর শিল্পনকশা এই তিনটি স্বত্বকেই মেধাস্বত্ব বলা হয়।

 

★ পেটেন্ট :
পেটেন্ট হলো – একটি দেশের কোনো উদ্ভাবককে তার উদ্ভাবনী পণ্যসেবাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এককভাবে নির্মাণ, বিতরণ ও সংরক্ষণ করার অধিকার সনদ।

 

★ ট্রেডমার্ক :
ট্রেডমার্ক হলো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বাতন্ত্র্যসূচক চিহ্ন, যা ওই ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের পণ্যসেবাকে সমজাতীয় অন্যান্য পণ্যসেবা থেকে আলাদা করে। এটি কোনো নাম বা অক্ষর বা শব্দ বা প্রতীক বা ছবি বা এসবের সমন্বয়ে হতে পারে। যেমন—মার্সিডিজ বেঞ্জের লেখাসংবলিত নকশা হলো এর ট্রেডমার্ক।

★ শিল্পনকশা :
শিল্পনকশা হলো হাতে বা যন্ত্রে প্রস্তুত করা দৃশ্যমান নকশা, যা কোনো প্রস্তুত পণ্যে ব্যবহার করা যায়। হাল আমলে আইপড বা আইফোনের নকশা হলো বিশ্বের অন্যতম সুন্দর শিল্প নকশা।

★ ভৌগলিক পণ্য নির্দেশক (জিআই পণ্য) :
ভৌগলিক পণ্য নির্দেশক (Geographical Indications of Goods বা জিআই পণ্য) হলো একটি প্রকিয়া যার মাধ্যমে একটি দেশ তার দেশের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যকে নিবন্ধন করে। এর ফলে ঐ পন্যটি যেমন ব্র্যান্ডিং পায়, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারে সেই পণ্যের মূল্যও বাড়ে।

★ পেটেন্ট :
‘পেটেন্ট’ হচ্ছে কিছু স্বতন্ত্র বা একচেটিয়া অধিকার যেগুলো আইনগত সিদ্ধ কর্তৃপক্ষ দ্বারা কোনো উদ্ভাবককে তার উদ্ভাবনের জন্য প্রদান করা হয়। একটি নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য পেটেন্ট দেয়া হয় যা পরে নবায়ন করা যায়। পেটেন্টকৃত উদ্ভাবনের কৌশল সংশ্লিষ্ট আইনী দপ্তরের মাধ্যমে সবাই জানতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম টেলিভিশনের পেটেন্ট নিয়েছিলেন জার্মান বিজ্ঞানী পল গটলায়েব নিপকো।

★ ট্রেডমার্ক :
ট্রেডমার্ক বা ব্যবসা স্বত্ত্ব হল একটি চিহ্ন বা প্রতীক যা দ্বারা একটি প্রতিষ্ঠান বা উৎস থেকে আগত পণ্য বা সেবা থেকে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসের পণ্য বা সেবা পৃথক করা যায়। সাধারণত, পণ্যের মোড়কের গায়ে বা অন্যান্য কাগজপত্রে ট্রেডমার্ক অঙ্কিত থাকে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থাপনায় এটি দেখা যায়। ট্রেডমার্ক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেয়া হয় যা নবায়নযোগ্য। ট্রেডমার্ক প্রকাশ করার জন্য সাধারণত নিম্নের প্রতীকগুলো ব্যবহার করা হয়ঃ

® একটি বৃত্তের মাঝে R যার অর্থ হল এটি যথাযথ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুমোদিত ও নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক।
TM ইংরেজি অক্ষর TM বা ‘Trade Mark’ হল অনিবন্ধিত (রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি এমন) ট্রেডমার্কের প্রতীক। এটি কোন পণ্য বা ব্র্যান্ডকে মানুষের সাথে পরিচিত করানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
℠ ইংরেজি অক্ষর SM বা ‘Service Mark’ এটিও কোন পণ্য বা ব্র্যান্ডকে মানুষের সাথে পরিচিত করানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। সার্ভিস মার্ক নিবন্ধিত হয়ে গেলে সেটিকে ® চিহ্নের সাহায্যে প্রকাশ করা যেতে পারে। ট্রেডমার্ক সাধারণত একটি ছবি, বর্ন, অক্ষর অথবা প্রতীক হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, উইন্ডোজ লোগো মার্কিন সফটওয়্যার নির্মাতা মাইক্রোসফটের রেজিস্টার্ড ট্রেডমার্ক।

★ কপিরাইট / মেধাস্বত্ব :
মেধাস্বত্ব বা কপিরাইট (ইংরেজি: Copyright) কোন একটি বিশেষ ধারণার প্রকাশ বা তথ্য ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণকারী বিশেষ কিছু অধিকারের সমষ্টিগত নাম হলো মেধাসত্ত্ব। একটি আইনি ধারণা। সাধারণত কোন দেশের সরকার এই ধারণাটির বাস্তবায়ন করে। কপিরাইট বলতে কোন কাজের মূল সৃষ্টিকর্তার সেই কাজটির উপর একক, অনন্য অধিকারকে বোঝানো হয়। কপিরাইট সাধারণত একটি সীমিত মেয়াদের জন্য কার্যকর হয়। ঐ মেয়াদের পর কাজটি পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্গত হয়ে যায়।

মেধাস্বত্ব কোন একটি বিশেষ ধারণার প্রকাশ বা তথ্য ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণকারী বিশেষ কিছু অধিকারের সমষ্টি বা সেট। সবচেয়ে সাধারণ ভাবে, শাব্দিক অর্থে এটা কোন মৌলিক সৃষ্টির ‘অনুলিপি তৈরির অধিকার’ বুঝায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই অধিকারগুলো সীমিত সময়ের জন্য সংরক্ষিত থাকে। কপিরাইটের চিহ্ন হল ©, এবং কিছু কিছু স্থানে বা আইনের এখতিয়ারে এটার বিকল্প হিসেবে (c) বা (C) লেখা হয়।

সৃষ্টিশীল, বুদ্ধিবৃত্তিক কিংবা শিল্পের বিভিন্ন প্রকার কাজের একটা বিরাট পরিব্যাপ্তিতে মেধাস্বত্ব থাকতে পারে বা হওয়া সম্ভব। কবিতা, থিসিস, নাটক এবং অন্যান্য সাহিত্যকর্ম, চলচ্চিত্র, কোরিওগ্রাফির কাজ (নাচ, ব্যালে ইত্যাদি), মিউজিকাল কম্পোজিশন, অডিও রেকর্ডিং, চিত্র বা পেইন্টিংস, আঁকা বা ড্রইং, স্কাল্পচার বা মূর্তি/প্রতিকৃতি বানানোর শিল্প, ফটোগ্রাফ, সফটওয়্যার, রেডিও ও টেলিভিশনের সরাসরি ও অন্যান্য সম্প্রচার, এবং কিছু কিছু এখতিয়ারে শিল্প-নকশা (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন) এর অন্তর্গত।

নকশা বা শিল্প-নকশাগুলোর (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন) জন্য কোন কোন এখতিয়ারে আলাদা বা যুগপৎ/অধিক্রমণকারী (ওভারল্যাপিং) আইন থাকতে পারে। মেধাস্বত্ব আইন, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (ইন্টেলেকচুয়্যাল প্রোপার্টি) সংক্রান্ত একটি ব্যাপ্ত বিষয়ের অধীনে অনেকগুলি আইনের একটি।

★ মেধাসত্ত্ব বা পেটেন্ট আইন মানতে হলে সমস্যা কী?
পেটেন্ট কোন প্রতিষ্ঠানকে মেধাসত্ত্ব দিয়ে দেয়। ফলে সে সেই মেধাসত্ত্বের ভিত্তিতে সেই পেটেন্টের সাথে সম্পর্কিত যে কোন বাণিজ্যে সে রয়্যালটি দাবী করতে পারে। যেমন নিমের পেটেন্ট করা আছে আমেরিকার তাই নিম গাছ থেকে উৎপাদিত যে কোন পণ্যে সে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়্যালটি দাবী করতে পারবে। বীজ এবং কৃষি পণ্যের দাম অনেকগুন বেড়ে যাবে বলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তৈরি পোশাক শিল্পকেও ব্র্যান্ড নামে ব্যবহূত এদেশের তৈরি এ্যাকসেসরিজের জন্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানিকে রয়্যালটি দিতে হবে। বাসমতি চাল,চিরতার রস,নিমের দাঁতন ইত্যাদি হেন বস্তু নেই যা আগেভাগেই মার্কিনীসহ বিদেশি কোম্পানিরা পেটেন্ট করে রাখেনি। মেধাস্বত্ব অধিকারের ধারা প্রয়োগ করে তারা এসবকিছুর জন্য রয়্যালটি প্রদানে বাংলাদেশকে ‘টিকফা’ চুক্তি মাধ্যমে বাধ্য করবে। একবার নাইজেরিয়ায় একটা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট কিনেছিলাম যেটা অ্যামেরিকান প্যাটেন্ট করা, সেই প্যারাসিটামল ট্যাবলেটের দাম যেখানে বাংলাদেশে এক টাকার কম সেটা নাইজেরিয়ায় বাংলাদেশী মুদ্রায় ২৭ টাকা লেগেছিল। এই অতিরিক্ত ২৬ টাকা প্যাটেন্ট বা মেধাসত্ত্বের মূল্য। মেধাসত্ত্বের মূল্য সবসময় মুল পণ্যটির চাইতে কয়েকগুন হয়ে থাকে।

★ মেধাস্বত্ব : কেন এটা জরুরি ?
অথচ বিশ্বব্যাপী পণ্য ও সেবার উদ্ভাবনের মেধাস্বত্ব নিতে আবেদনের হিড়িক বেড়েছে। বিদেশি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন তাই ক্রমেই বাড়ছে। একই কারণে দেশীয় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি হারে নিবন্ধনও পাচ্ছে তারা। দেশীয় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে মেধাস্বত্বে আগ্রহবিমুখ, সেখানে প্রতিবছরই এ দেশ থেকে মেধাস্বত্ব নিতে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বিদেশি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন যেমন বেশি করছে, তেমনি তাদের পক্ষে নিবন্ধনও বেশি হচ্ছে।

★ ভৌগলিক পণ্য নির্দেশক (জিআই পণ্য) :
ভৌগলিক পণ্য নির্দেশক (Geographical Indications of Goods বা জিআই পণ্য) একটি প্রকিয়া যার মাধ্যমে একটি দেশ তার দেশের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যকে নিবন্ধন করে। এর ফলে ঐ পন্যটি যেমন ব্র্যান্ডিং পায়, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারে সেই পণ্যের ভাল মূল্যও বাড়ে।

★ ভৌগলিক পণ্য নির্দেশক সংরক্ষণের প্রয়োজনীতা :
বাংলাদেশ মসলিন, জামদানি, নকশিকাঁথা, ফজলী আম, ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্য ভৌগলিক নির্দেশক পণ্যের (জিআই) অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। বাংলাদেশের বিশেষায়িত পণ্য জিআইয়ের নিবন্ধন পেলে দেশ হিসেবে আমরা বিশ্বব্যাপী যেমন ব্র্যান্ডিং পাবো, তেমনি দেশীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যও বাড়বে।

যে কটি পণ্য বিশ্বে বাংলাদেশকে পরিচিত করেছে তার একটি মসলিন। মসলিনেরই টিকে যাওয়া একটি ধরন জামদানি। ঐতিহ্যগতভাবে জামদানি বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য। দেশে-বিদেশে এর গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণও রয়েছে। এত কিছুর পরও ভারতের অন্ধ প্রদেশ ২০০৯ সালে জামদানিকে তাদের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন করেছে। এর নাম দিয়েছে ‘উপাদ্দা জামদানি’। অথচ, বাংলাদেশ এখনো নিজেদের জামদানিকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনই করতে পারেনি।

★ ভৌগলিক পণ্য নির্দেশক (জিআই পণ্য) – সংরক্ষণে করণীয় :
বাংলাদেশকে জিআই নিবন্ধনে ভালো করতে হলে এ ক্ষেত্রে গবেষণা বাড়াতে হবে। বিভিন্ন পণ্যের ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। পণ্যের জিআই নিবন্ধনের জন্য যথাযথভাবে তথ্য-উপাত্তসহ তাদেরই ডিপিডিটিতে আবেদন করতে হবে
Md. Rashadul Islam
Sr. Administrative Officer
Brand & Marketing Section