Author Topic: ব্যাংকঋণের সুদহার ১০ শতাংশের নিচে  (Read 69 times)

Offline Md. Alamgir Hossan

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 837
  • Test
    • View Profile
 দেশের ব্যাংকঋণের সুদহার ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। যদিও ক্রেডিট কার্ডে গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ সুদ নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। কোনো কোনো ব্যাংক আবার এর চেয়েও বেশি হারে সুদ নিচ্ছে। ক্রেডিট কার্ডে কয়েকটি ব্যাংকের সুদহার তুলনামূলক কম থাকলেও সেগুলোর গ্রাহক ও ঋণের পরিমাণ খুব একটা বেশি নয়।

ঋণ সুবিধায় ব্যক্তিপর্যায়ে কেনাকাটা ও নগদ অর্থের তাত্ক্ষণিক চাহিদা মেটাতে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ক্রেডিট কার্ড। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও চাহিদা বাড়ছে সেবাটির। বাংলাদেশ ব্যাংকের তফসিলভুক্ত ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে ৩০টি বর্তমানে ক্রেডিট কার্ডে ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ছাড়াও বেসরকারি ২৬টি এবং বিদেশী তিনটি ব্যাংক থেকে এ সুবিধা পাচ্ছেন গ্রাহকরা। বর্তমানে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৭ লাখ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৭ সালের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ডে ঋণ সুবিধা প্রদানকারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেসরকারি খাতের দ্য সিটি ব্যাংক সুদ নিচ্ছে ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ। সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ সুদ নিচ্ছে বেসরকারি খাতের এমন ব্যাংকের মধ্যে আরো আছে— ইস্টার্ন, ব্র্যাক, ইউসিবি, ট্রাস্ট, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, স্ট্যান্ডার্ড, এক্সিম, এনসিসি, মার্কেন্টাইল, ব্যাংক এশিয়া, প্রাইম, সাউথইস্ট, যমুনা ও মিডল্যান্ড ব্যাংক। এর মধ্যে শ্রেণীভেদে সর্বনিম্ন ২৭ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ সুদ নিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। বেসরকারি খাতের ওয়ান ব্যাংকের সর্বনিম্ন ২৮ দশমিক ৫০ থেকে ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ রয়েছে ক্রেডিট কার্ডে। বিদেশী ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশে এ ঋণের সুদহার ৩৩ থেকে ৩৬ শতাংশ।

বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডে এ সুদহার বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম বলে দাবি করেন ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান। তিনি বলেন, অন্যান্য ঋণের তুলনায় ক্রেডিট কার্ডে খেলাপির হার বেশি। কারণ ক্রেডিট কার্ডে বাজার কিংবা নগদ টাকা উত্তোলন করে কিছু গ্রাহক কার্ড ফেলে দেন। অনেক সময় ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহককে খুঁজে পাওয়া যায় না। ছোট অংকের ঋণ হওয়ায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে মামলা করে টাকা আদায় করাও কষ্টকর। এ কারণে ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সুদহার অপেক্ষাকৃত বেশি।
যদিও পরিসংখ্যান বলছে, ক্রেডিট কার্ডে যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার গড়ে ১৪ শতাংশ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় এ ঋণে সুদহার গড়ে ১২ এবং মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে ১৫ শতাংশ। আর শ্রীলংকায় ক্রেডিট কার্ডে সুদহার গড়ে ২৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ডে ২৭ শতাংশ সুদ নিচ্ছে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক। আর ২৪ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে ঢাকা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের।

দেশী-বিদেশী ব্যাংকগুলোর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে সুদহার সবচেয়ে কম রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের। ক্রেডিট কার্ডে ঋণের বিপরীতে ১৪ শতাংশ সুদ নিচ্ছে ব্যাংকটি। এছাড়া বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের ঋণে সুদ নিচ্ছে ১৮ শতাংশ।

নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডসেবা চালু করেছে দুটি ব্যাংক। এর মধ্যে মিডল্যান্ড ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সুদহার ৩০ ও এনআরবি ব্যাংকের ২৮ শতাংশ।

দেশে ক্রেডিট কার্ডের এ সুদহারকে মাত্রাতিরিক্ত বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, একটি ব্যাংক ১৮ শতাংশ সুদে যে সেবা গ্রাহকদের দিচ্ছে, একই সেবা দেয়ার জন্য অন্য ব্যাংক নিচ্ছে ৩৪ শতাংশ সুদ। এর মাধ্যমেই বোঝা যাচ্ছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো কোনো ব্যাংক বেশি হারে সুদ নিচ্ছে।

দেশের আটটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সুবিধা দিচ্ছে দুটি ব্যাংক। এর মধ্যে এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ
(এক্সিম) ঋণের সুদ নিচ্ছে ৩০ শতাংশ ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ২৪ শতাংশ।

বিদেশী ব্যাংকগুলোর মধ্যে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ক্রেডিট কার্ডে ২১ থেকে ২৪ শতাংশ সুদ নিচ্ছে। এ খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এনবিপি) ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে ১৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক গ্রাহকদের ২৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে ক্রেডিট কার্ডে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সুদহার বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করে দেয়নি। ব্যাংকগুলো নিজেদের সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সুদহার নির্ধারণ করেছে। অন্যান্য খাতে ঋণের সুদহারের তুলনায় ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সুদহার একটু বেশি। এটা যেন অযৌক্তিক পর্যায়ে না যায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর প্রতি মৌখিক নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ক্রেডিট কার্ডে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত সুদ প্রদান করতে হয় না। এছাড়া স্বল্পমেয়াদি ও জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের কারণে এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বেশি সুদ নেয়।