Author Topic: অটো প্রমোশন’ পাবেন সবাই  (Read 436 times)

Offline Md. Alamgir Hossan

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 837
  • Test
    • View Profile
সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল থাকছে না, এটা চূড়ান্ত করে দিয়েছে বেতনবৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। কারো জন্য স্বতন্ত্র কোনো বেতন কাঠামোও হবে না। তবে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলের বিকল্প হিসেবে ‘অটোমেটিক প্রমোশন’ বা স্বয়ংক্রিয় পদোন্নতি প্রথা চালু করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় একই গ্রেডে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ১০ বছর চাকরি করলে পরের বছর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি পদোন্নতি পেয়ে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত হবেন। এভাবে প্রথম পদোন্নতি পেয়ে ওপরের গ্রেডে যাওয়ার ছয় বছর পর তিনি আবারও আরেক গ্রেড ওপরে উঠবেন। সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সমান সুযোগের এটিই সর্বোত্তম পন্থা বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিসভা কমিটির প্রধান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
গতকাল রবিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শফিউল আলম, অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ ও শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।   টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজের শিক্ষকদের আন্দোলন ও দাবিদাওয়া প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও বিসিএস উত্তীর্ণ কলেজ শিক্ষকরা অনেক অভিযোগ করেছেন। তাঁদের ধারণা, যেহেতু টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড নেই, তাই তাঁদের সুযোগ-সুবিধা হয়তো রেসট্রিকটেড হয়ে গেল। তাঁদের এ ধারণা সঠিক নয়। নতুন বেতন কাঠামোতে কারোরই সুযোগ-সুবিধা কমবে না বলে বারবার নিশ্চিত করেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকরা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড ব্যবহার করে ওপরের গ্রেডে ওঠেন। আমরা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দিয়ে দিয়েছি। শিক্ষা ক্যাডারের জন্য হয়তো এটা মেনে নেওয়া যেতে পারে। তবে আমরা যে ব্যবস্থা করব, তাতে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড আনব না। যেখানে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তাঁরা পেতেন, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তা হলো- ১০ বছর কেউ যদি একটি গ্রেডে থাকেন, তাহলে ১১তম বছরে তিনি পরের গ্রেডে উন্নীত হবেন। সেখানে যদি আরো ছয় বছর থাকেন, তাহলে সপ্তম বছরে তিনি আরেক গ্রেড উপরে উঠবেন। এসব পদোন্নতি অটোমেটিক করে দেওয়া হয়েছে। সবার জন্য সুযোগ বৃদ্ধির এটাই শ্রেষ্ঠ উপায়। ’
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীই স্বাভাবিক পদোন্নতি পান। কোনো কারণে তিনি যদি পদোন্নতি না পান বা ব্লকড পদের কারণে পদোন্নতির কোনো সুযোগ না থাকে, তাহলে তিনি অবশ্যই ১০ বছর পর একটি এবং পরবর্তী ছয় বছর পর আরেকটি উচ্চতর গ্রেডে পৌঁছবেন। আগে স্বাভাবিক পদোন্নতি না পাওয়া ও ব্লকড পদে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পেয়ে উচ্চতর গ্রেডে পৌঁছতেন। ফলে অটোমেটিক পদোন্নতি সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলের বিকল্প হিসেবে একই ধরনের ফল দেবে। সব ক্যাডারের কর্মকর্তারা ১ নম্বর গ্রেডে (সচিব) যাতে পৌঁছতে পারেন, সে জন্য ব্যবস্থা করা হবে জানিয়ে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর থেকে প্রত্যেক ক্যাডারই ১ নম্বর গ্রেডে পৌঁছেন। এটা আগে ছিল না। আগে বোধ হয় ছয়-সাতটি ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তারা ১ নম্বর গ্রেডে যেতেন। অন্য ক্যাডারদের সবাই গ্রেড-৩-এ গিয়ে শেষ হয়ে যেতেন। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, গ্রেড-৩, গ্রেড-২ ও গ্রেড-১-এ যাতে প্রত্যেক ক্যাডারের কর্মকর্তারা যেতে পারেন, সেই সুযোগ করে দেওয়া। ’ ‘সরকার সবার জন্য সুযোগ নিশ্চিত করবে’ অঙ্গীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এত দিন যাঁরা বিভিন্ন কারণে নানা সুবিধা পেয়ে আসছেন, তাঁদের সুযোগ কমানোর কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই, ছিলও না। কমিশনের রিপোর্টেও সে উদ্দেশ্য ছিল না। আমাদের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তেও সে ধরনের উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা যে গেজেট জারির জন্য নির্দেশনামা তৈরি করছি, সেখানেও তা নেই। এ ব্যাপারে আমি সবাইকে নিশ্চিত করতে চাই যে সবার জন্য সুযোগ থাকতে হবে। এটাই আমাদের সংস্কারের মূলনীতি। ’
গত ৩০ জুনের পর থেকে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেলসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ভোগ করছেন, সেগুলো কর্তন না করার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গেজেট জারির আগ পর্যন্ত যা কিছু হচ্ছে, সবই আগের নিয়মে হচ্ছে। সেখানে আমরা কোনো বাধানিষেধ দিইনি। আমরা নিশ্চিত করছি, নতুনটি যেদিন জারি হবে, সেদিন থেকেই এটি কার্যকর হবে। পুরনো কাঠামো অনুযায়ী এর আগে যেসব সুবিধা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রাপ্য হবেন, তার কোনো কিছুই আমরা নাকচ করছি না। এটা আমরা যেকোনোভাবে সমন্বয় করে নেব। ’
প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান সুবিধা বহাল রেখে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়ার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রতিনিয়ত বেতন কাঠামো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আজকেও (রবিবার) বৈঠকের আগে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। সেখান থেকেও নির্দেশনা আসছে যে কারো সুযোগ কমানো যাবে না। যার যে সুযোগ ছিল, সেটা সুরক্ষা করে যেন আরো ভালো কিছু করা যায়, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য। ’
নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের সমন্বয় কমিটি প্রকৃচি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, ২৬ ক্যাডার সমিতি ও বিসিএস শিক্ষক সমিতি বেতন-ভাতা সম্পর্কে অনেক আপত্তি তুলেছে এবং দাবিদাওয়া পেশ করেছে। বিভিন্ন মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গেও দেখা করেছে তারা। তাদের এসব আপত্তির সুরাহা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আপত্তির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় আমাদের সবার অভিমত হলো- এসব বিষয়ের ‘পজিটিভ’ সমাধান চাই। ”
এত কিছুর পরও বেতন কাঠামোতে যে কিছু বৈষম্য আছে, তা অকপটে স্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় পৌনে চার লাখ সহকারী শিক্ষক রয়েছেন, যাঁরা তৃতীয় শ্রেণির। তাঁদের প্রধান শিক্ষকরা প্রথম শ্রেণির। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য অনেক। এ ধরনের বৈষম্য আমরা রাখতে চাই না। যেভাবেই হোক, এ বৈষম্য আমরা কমাব। ’ সকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নেতারা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বেতনবৈষম্য কমানো ছাড়াও স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো দেওয়া এবং প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ বন্ধের দাবি জানান। তবে বাকি দুই দাবি নাকচ করে দেন অর্থমন্ত্রী।
এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন কাঠামো ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশনের রিপোর্ট সরাসরি মন্ত্রিসভায় আলোচিত হয়েছে এবং মন্ত্রিসভা তার ওপর সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তার পরও অনেক ছোট ছোট বিষয় আছে, যেগুলো ঠিক করতে কয়েক দিন সময় লাগবে। আমরা আশা করছি, এ সপ্তাহেই গেজেটের নির্দেশনা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। ’
আর কোনো বেতন কমিশন গঠন না করার কথা পুনর্ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রিসভা কমিটির আলোচনায় যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে, সেটি হলো নতুন কাঠামোতে আমরা বেতন-ভাতা ব্যাপক পরিমাণে বাড়িয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ভবিষ্যতে এ রকম আর কোনো বেতন-ভাতা কমিশন হবে না। এটা নিয়মিতভাবে প্রতিবছর বা দুই-তিন বছর- সেটা যাই হোক আমরা পর্যালোচনা করব। কারণ, আমরা মনে করি, এখন যে স্কেল আমরা দিচ্ছি, সেটি অত্যন্ত ভালো একটি স্কেল। এই স্কেলের মধ্যেই প্রত্যেকে তাদের জীবনযাপন নির্বাহ করতে পারবে সুখে-শান্তিতে। ’