Author Topic: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই ফসলহানি  (Read 99 times)

Offline Md.Shahjalal Talukder

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 108
  • Test
    • View Profile
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হাওরে অসময়ে ফসলডুবির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ২০০৮ সালে অকালবন্যা হয়েছিল, তাতে পাকা ফসল তলিয়েছিল। সেটা হয়েছিল এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে। এটাই যে উদাহরণ, তা কিন্তু নয়। প্রথম কথা হচ্ছে, হাওরাঞ্চলে ৭০ দশকের আগে এ রকম ব্যাপকভাবে বোরো ধান চাষ করা হতো না। বোরো চাষ শুরু হয়েছে ৭০-এর দশকে। কারণ ডুবন্ত বাঁধ, সেটার কাজ ছিল মে মাস পর্যন্ত পানিটাকে ঠেকাবে। তাহলে মে মাসের মাঝামাঝিতে ধান তুলে নেওয়া যাবে। তখন আমরা লক্ষ করেছি, বন্যা আসত এপ্রিল মাসের ২৫ তারিখ থেকে মে মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে। এখন আমরা বলছি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এটা মার্চ মাসের মাঝামাঝিও শুরু হয়ে যেতে পারে। যেটা এ বছর হয়েছে।

ফসল রক্ষার জন্য হাওরে বাঁধ যেমন দরকার, তেমনি বাঁধ কেটে দিতেও হয়। ডুবন্ত বাঁধগুলো নভেম্বর মাসের মধ্যে কেটে দিতে হয়, কোন জায়গা কেটে দিতে হয়, গ্রামের লোক ও কৃষক জানেন। কাজেই গ্রামের লোককে একত্র করে উপকারভোগীকে দায়িত্ব দিতে হবে বাঁধ মেরামতের। যাঁর ঘর পুড়ছে, তিনিই তো সবচেয়ে বেশি বুঝছেন। তাই স্থানীয় জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে কাজটি করতে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের সময় নিয়ে ভাবা উচিত এবং এ কাজে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের একাত্ম করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের মেরামতকাজ অবশ্যই প্রতিবছর মার্চের ১৫ তারিখের মধ্যে শেষ করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কৈফিয়ত হচ্ছে, আমরা সময়মতো টাকা বরাদ্দ পাই না। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। কেন তারা জুলাই-আগস্ট মাসে পরবর্তী বছরের কাজের পরিকল্পনা করে না। সবচেয়ে বড় কথা, ইউনিয়ন পরিষদকে সঙ্গে রাখে না। এদের দায়িত্ব দিতে হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধি হাওরের বাঁধ রক্ষায় ব্যর্থ হলে পরবর্তী নির্বাচনে তাঁরা জনগণের কাছে এর জবাবদিহি করবেন।

বলা হচ্ছে, ৩০ লাখ টন ধানের ক্ষতি হয়েছে। এই যে ক্ষতি হলো, এটা জাতীয় অর্থনীতির ওপর বিরাট বিরূপ প্রভাব ফেলবে। মূল কথা হচ্ছে, এ ঘটনা যে ঘটতে পারে, এটা আমাদের জানা আছে, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি। কিন্তু দায়িত্ব নিচ্ছিল না কেউ।

জলবায়ু পরিবর্তনে হাওরে ধান ফলানোর সময় নিয়েও ভাবতে হবে। হাওরের বাঁধ মেরামতের কাজটি আমরা আগে জানতাম মে মাসের মধ্যে করতে হবে। এখন আমরা বলছি মার্চ মাসে। হাওরে এখন শীতকালে কিছু কিছু জমিতে রবিশস্য হয়। রবির পর বোরো করলে বোরো পিছিয়ে যায়। হয় রবিশস্য বাদ দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বোরো অথবা আগে রবিশস্য করে বোরো ধান ফলাতে হবে। আবার হাওরে সেই ধান লাগাতে হবে, যেগুলোর ফলনে সময় কম লাগে, সেই ধানের ব্যাপক প্রচলন করতে হবে।

আইনুন নিশাত: পানি ও নদী বিশেষজ্ঞ