Author Topic: History of Muslim'S  (Read 1526 times)

Offline Md. Zakaria Khan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 306
  • active
    • View Profile
History of Muslim'S
« on: August 08, 2016, 11:47:57 AM »

প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করা :
জান্নাতে প্রবেশ করার অন্যতম মাধ্যম
প্রতিবেশীর সাথে উত্তম ব্যবহার করার জন্য রাসূল (ছাঃ) বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, জিবরীল (আঃ) এসেই আমাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে উপদেশ দেন। মনে হচ্ছিল তিনি যেন প্রতিবেশীকে আমার উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিবেন। মানুষ অধিকহারে নফল ছালাত-ছিয়াম আদায় ও দান-ছাদাক্বা করেও যদি প্রতিবেশীর সাথে দুর্ব্যবহার করে তাহ’লে সে জান্নাতে যেতে পারবে না। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যক্তি বলল,
يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ فُلاَنَةَ تُذْكَرُ مِنْ كَثْرَةِ صَلاَتِهَا وَصِيَامِهَا وَصَدَقَتِهَا غَيْرَ أَنَّهَا تُؤْذِيْ جِيْرَانَهَا بِلِسَانِهَا قَالَ هِيَ فِي النَّارِ، قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَإِنَّ فُلاَنَةَ تُذْكَرُ مِنْ قِلَّةِ صِيَامِهَا وَصَدَقَتِهَا وَصَلَاتِهَا وَإِنَّهَا تَصَدَّقُ بِالْأَثْوَارِ مِنْ الْأَقِطِ وَلَا تُؤْذِيْ بِلِسَانِهَا جِيْرَانَهَا قَالَ هِيَ فِي الْجَنَّةِ-
‘হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! অমুক মহিলা অধিক ছালাত পড়ে, ছিয়াম রাখে এবং দান-ছাদাক্বাহ করার ব্যাপারে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তবে সে নিজের মুখের দ্বারা স্বীয় প্রতিবেশীদেরকে কষ্ট দেয়। তিনি বললেন, সে জাহান্নামী। লোকটি আবার বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! অমুক মহিলা যার সম্পর্কে জনশ্রুতি আছে যে, সে কম ছিয়াম পালন করে, দান-ছাদাক্বাও কম করে এবং ছালাতও কম আদায় করে। তার দানের পরিমাণ হ’ল পনীরের টুকরা বিশেষ। কিন্তু সে নিজের মুখ দ্বারা স্বীয় প্রতিবেশীদেরকে কষ্ট দেয় না। তিনি বললেন, সে জান্নাতী’।[1]
প্রতিবেশীকে কষ্ট দানকারী ব্যক্তি মুমিন নয় বলে রাসূল (ছাঃ) ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, واللهِ لاَ يُؤْمِنُ، وَاللهِ لاَ يُؤْمِنُ، وَاللهِ لاَ يُؤْمِنُ قِيلَ : مَنْ يَا رَسُول الله؟ قَالَ الَّذِي لاَ يَأمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ- ‘আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার নয়। আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার নয়। আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার নয়। জিজ্ঞেস করা হ’ল হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! সে কে? তিনি বললেন, যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট হ’তে নিরাপদ নয়’।[2] এ ধরনের লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তিনি বলেন, لاَ يَدْخُلُ الجَنَّةَ مَنْ لاَ يَأمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ- ‘সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট হ’তে নিরাপদ নয়’।[3]

[1]. আহমাদ, বায়হাক্বী, মিশকাত হা/৪৯৯২; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব হা/২৫৬০।
[2]. বুখারী হা/৬০১৬; মিশকাত হা/৪৯৬২।
[3]. মুসলিম হা/৪৬; মিশকাত হা/৪৯৬৩।

Offline Md. Zakaria Khan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 306
  • active
    • View Profile
Re: History of Muslim'S
« Reply #1 on: August 09, 2016, 08:10:30 PM »
কিয়ামতের দিন রাসুল
(সঃ) কে যে তিনটি স্থানে পাওয়া যাবে:-
হযরত  আনাস রা.বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিয়ামতের দিন আমার জন্য সুপারিশের আবেদন জানালাম । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
(হ্যাঁ)আমি তোমার জন্য সুপারিশ করব। আমি বললাম,হে আল্লাহর রাসূল! আমি (সেদিন) আপনাকে কোথায় খুঁজব। নবীজী বললেন,প্রথমে (পুল)সিরাতেরকাছে খুঁজবে।  বললাম,সেখানে যদি আপনার
সাথে আমার সাক্ষাৎ না হয় তাহলে কোথায়খুঁজব?  তিনি বললেন,তাহলে আমাকে মীযানের কাছে খুঁজবে। আমি বললাম, সেখানেওযদি আপনাকে না পাই?নবীজী বললেন,তাহলে হাউজের
(হাউজে কাউসার)কাছে খুঁজবে। কারণ আমি সেদিন এই তিন স্থানের কোনো না কোনো স্থানে থাকবই।
{জামে তিরমিযী,
হাদীস : ২৪৩৩;
মুসনাদে আহমাদ,
হাদীস : ১২৮২৫

Offline Md. Zakaria Khan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 306
  • active
    • View Profile
Re: History of Muslim'S
« Reply #2 on: August 10, 2016, 08:14:14 PM »
মহাবীর আলেকজান্ডার মৃত্যু শয্যায় তাঁর সেনাপতিদের ডেকে বলেছিলেন-
“আমার মৃত্যুর পর আমার তিনটা ইচ্ছা তোমরা পূরণ করবে। এতে যেন কোনো ব্যঘাত না ঘটে।”
• আমার প্রথম অভিপ্রায়- "শুধু আমার চিকিৎসকেরা আমার কফিন বহন করবেন"।
•আমার দ্বিতীয় অভিপ্রায়- "আমার কফিন যে পথ দিয়ে গোরস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে,সেই পথে আমার কোষাগারে সংরক্ষিত সোনা,রুপা
ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর ছড়িয়ে দিবে"।
• আমার শেষ অভিপ্রায় - "কফিন বহনের সময় আমার দুই হাত কফিনের বাইরে ঝুলিয়ে রাখেবে"।
মৃত্যু শয্যায় উপস্থিত লোকজন তাঁর এই অদ্ভুত অভিপ্রায়ে বিস্মিত হন। কিন্তু এ ব্যাপারে তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস
করার সাহস পাচ্ছিলেন না কেউ। তখন তাঁর একজন প্রিয় সেনাপতি তাঁর হাতটা তুলে ধরে চুম্বন করে বলেন-
‘হে মহামান্য, অবশ্যই আপনার সব অভিপ্রায় পূর্ণ করা হবে; কিন্তু আপনি কেন এই বিচিত্র
অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন?’ একটা দীর্ঘ শ্বাস গ্রহণ করে আলেকজান্ডার বললেন - আমি দুনিয়ার সামনে
তিনটি শিক্ষা রেখে যেতে চাই।
• 'আমার চিকিৎসকদের কফিন বহন করতে বলেছি এ কারণে যে,যাতে লোকে অনুধাবন করতে পারে চিকিৎসকেরা
আসলে কোনো মানুষকে সারিয়ে তুলতে পারেন না। তাঁরা ক্ষমতাহীন আর মৃত্যুর থাবা থেকে কাউকে রক্ষা করতে অক্ষম।’

• ‘গোরস্থানের পথে সোনা-দানা ছড়িয়ে রাখতে বলেছি মানুষকে এটা বোঝাতে যে ওই সোনা-দানার একটা কণাও আমার
সঙ্গে যাবে না।আমি এগুলো পাওয়ার জন্য সারাটা জীবন ব্যয় করেছি, কিন্তু নিজে সঙ্গে কিছুই নিয়ে যেতে পারছি না।
মানুষ বুঝুক ধন-সম্পদের পেছনে ছোটা সময়ের অপচয় মাত্র।’

• ‘কফিনের বাইরে হাত ছড়িয়ে রাখতে বলেছি মানুষকে এটা জানাতে যে- খালি হাতে আমি এই পৃথিবীতে এসেছিলাম;
আবার খালি হাতেই পৃথিবী থেকে চলে যাচ্ছি।’

আল্লাহ, আমাদের সহি বুঝ দান করুণ আমিন।

Offline Md. Zakaria Khan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 306
  • active
    • View Profile
Re: History of Muslim'S
« Reply #3 on: October 06, 2016, 10:43:15 AM »
মুহাম্মদ আগে মাছি প্রসঙ্গে (সা.) ১৪০০ বছর

প্রায় ১৪০০ বছর আগে নাজিল হওয়া আল কোরআনের বিশ্লেষণ করে মানুষ মঙ্গল গ্রহ পর্যন্ত পৌঁছেছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ১৪০০ বছর আগে মাছি প্রসঙ্গে যে কথাটি বলেছিলেন, তা আমাদের আধুনিক বিজ্ঞানও মেনে নিয়েছে।

বুখারী ও ইবনে মাজাহ হাদীসে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি তোমাদের কারো পাত্রে মাছি পতিত হয় সে যেন উক্ত মাছিটিকে ডুবিয়ে দেয়। কেননা তার একটি ডানায় রোগজীবাণু রয়েছে, আর অপরটিতে রয়েছে রোগনাশক ঔষধ’(বুখারী)।

জ্ঞানবিজ্ঞানের যখন অগ্রগতি হলো, যখন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস জীবাণু সম্পর্কে জ্ঞানের অগ্রগতির মাধ্যমে বর্ণিত হচ্ছে, মাছি মানুষের শত্রু, সে রোগজীবাণু বহন করে এবং স্থানান্তরিত করে। মাছির ডানায় রোগজীবাণু রয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।’ তাই যদি হয় তাহলে কিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোগজীবাণু বহনকারী মাছিকে ডুবিয়ে নেয়ার আদেশ করলেন?

এ বিষয়ে কিং আব্দুল আজীজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উস্তাদ ডক্টর ওয়াজিহ বায়েশরী এই হাদীসের আলোকে মাছি নিয়ে কয়েকটি পরীক্ষা চালান। জীবাণুমুক্ত কিছু পাত্রের মধ্যে কয়েকটি মাছি ধরে নিয়ে জীবাণুমুক্ত টেস্ট টিউবের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখেন। তারপর নলটি একটি পানির গ্লাসে উপুড় করেন। মাছিগুলো পানিতে পতিত হওয়ার পর উক্ত পানি থেকে কয়েক ফোঁটা পানি নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পান, সেই পানিতে অসংখ জীবাণু রয়েছে।

তারপর জীবাণুমুক্ত একটি সূঁচ দিয়ে মাছিকে ওই পানিতেই ডুবিয়ে দেন। তারপর কয়েক ফোঁটা পানি নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন, সেই পানিতে আগের মত আর জীবাণু নেই, বরং কম। তারপর আবার ডুবিয়ে দেন। তারপর কয়েক ফোঁটা পানি নিয়ে আবার পরীক্ষা করেন। এমনিভাবে কয়েকবার পরীক্ষা করে দেখেন যে, যত বার মাছিকে ডুবিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন ততই জীবাণু কমেছে অর্থাৎ ডক্টর ওয়াজীহ এটা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, মাছির একটি ডানায় রোগ জীবাণু রয়েছে এবং অপরটিতে রোগনাশক ঔষধ রয়েছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত অষ্টম চিকিৎসা সম্মেলনে কানাডা থেকে দু’টি গবেষণা-রিপোর্ট পাঠিয়েছিল যাতে বর্ণিত ছিল, মাছিতে এমন কোন বস্তু রয়েছে যা জীবানুকে ধ্বংস করে দেয়। শাইখ মোস্তফা এবং শাইখ খালীল মোল্লা এই বিষয়ে জার্মান ও ব্রিটেন থেকে রিসার্চগুলো ধারাবাহিক সংগ্রহের মাধ্যমে একটি বই বের করেছেন যার মূল বিষয় ছিল:
‘নিশ্চয়ই মাছির একটি ডানায় রয়েছে রোগ, আর অপরটিতে রয়েছে রোগ নাশক ঔষধ’ (বুখারী)।

মাছি যখন কোন খাদ্যে বসে তখন যে ডানায় জীবাণু থাকে সে ডানাটি খাদ্যে ডুবিয়ে দেয়। অথচ তার অপর ডানায় থাকে প্রতিরোধক ভাইরাস। যদি মাছিকে ডুবিয়ে দেয়া হয়, তাহলে প্রতিরোধক ভাইরাস খাদ্যের সঙ্গে মিশে মারাত্মক জীবাণুগুলিকে ধ্বংস করে দেয় এবং সেই খাদ্য স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য অনুকূল থাকে। নতুবা এই খাদ্যই জীবাণুযুক্ত হয়ে মানব ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

সেই চৌদ্দশ বছর পূর্বে এই ক্ষুদ্র জীবাণু দেখার শক্তি মানুষের ছিল না। অথচ রাসূল (স:) সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং সে সম্পর্কে কথা বলেছেন এবং ঐ বিপদজনক দিক বর্ণনা করেছেন যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।

Offline Md. Zakaria Khan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 306
  • active
    • View Profile
Re: History of Muslim'S
« Reply #4 on: November 02, 2016, 09:36:53 AM »
সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবি (রহ): দুনিয়াতে খুব সামন্য সম্পদই রেখে গেছেন...

মাত্র ১৯ বছর। এ ১৯ বছর ধরে তিনি তার সুসংগঠিত সৈন্যবাহিনী নিয়ে ইউরোপিয়ানদের দখলকৃত মসজিদে আকসা উদ্ধার করার জন্য অবিরাম লড়াই করেছেন। তার পরিচালিত সর্বমোট যুদ্ধাভিযান সংখ্যা- ৭৪ টি।

ফিরিঙ্গিরা যে মসজিদে আকসা দখল করে রেখেছিল প্রায় ৯১ বছর ধরে- তিনি তার জীবনবাজি রেখে সেই হারানো প্রথম কেবলা আমাদের জন্য উদ্ধার করে দিয়েছিলেন।

এ উদ্ধার অভিযানে শুধু ফিরিঙ্গিরা নয়, তাকে লড়তে হয়েছে অনেক মুনাফিক মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধেও। তিনি হাল ছাড়েননি। মসজিদে আকসার বিজয় তার সৌভাগ্যমন্ডিত ললাটে চুমো দিয়েছে।

এ মহান বিজেতার নাম সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী। শুধু তার নামটুকুই আমরা জানি। আমরা অনেকেই হয়তো জানি না- মৃত্যুকালে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির পরিমাণ। অজস্র যুদ্ধে ইউরোপিয়ানদের বিপক্ষে বিজয়ী এ সেনাপতির সম্পদের পরিমাণ কতো হতে পারে- অনুমান করা যায়?

অবাক হওয়ার মতো তথ্য হল- তার রেখে যাওয়া সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৭ দিরহাম এবং একটি দিনার। তার নিজের কোনো ঘর ছিল না, কোনো জমিও ছিল না। তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল বন্ধুদের ধার করা দিরহাম-দিনার দিয়ে। ভাবা যায়!

চারদিকে এমন গবেষণা ও এগিয়ে যাওয়ার এ যুগেও আমাদের এ বীরপুরুষ সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। আমরা বনে-জঙ্গলে পালিয়ে বেড়ানো চে-গু’র ছবি বুকে নিয়ে গর্ব করি, নেপোলিয়ন, মুসোলিনি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, হিটলারের বাঙ্কার আর তার প্রেমিকার নাম-ধাম নিয়ে উৎসাহ বোধ করি- এদের আড়ালে নিজেদের বীর মহাপুরুষদেরকে ভুলে আছি!

শেকড়ের সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন বলেই আজ আমরা এমন আগাছা-পরগাছা হয়ে বেঁচে আছি। বোঝা যায়!

হে আল্লাহ! আমাদের (কর্ম ও ত্যাগের মাধ্যমে) সালাফদের যুগে ফিরিয়ে নাও । (আমীন)

Offline Md. Zakaria Khan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 306
  • active
    • View Profile
Re: History of Muslim'S
« Reply #5 on: November 06, 2016, 10:21:44 AM »
অহংকারের নিদর্শন সমূহ...
 অহংকারের নিদর্শন সমূহ (১০টি)
(১) দম্ভভরে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা : এটাই হ’ল প্রধান নিদর্শন।  এটি করা হয়ে থাকে মূলতঃ দুনিয়াবী স্বার্থের নিরিখে। কখনো পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে, কখনো ব্যক্তিগত, সামাজিক বা রাজনৈতিক স্বার্থের দোহাই দিয়ে বা অন্য কোন কারণে।
(২) নিজেকে সর্বদা অন্যের চাইতে বড় মনে করা : যেমন ইবলীস আদমের চাইতে নিজেকে বড় মনে করেছিল এবং আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিল। সে যুক্তি দিয়েছিল, أَأَسْجُدُ لِمَنْ خَلَقْتَ طِينًا‘আমি কি তাকে সিজদা করব, যাকে আপনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন? (ইসরা ১৭/৬১)। এই যুক্তি ও অবাধ্যতার শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তাকে বলেন, فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ ‘বের হয়ে যাও এখান থেকে। কেননা তুমি অভিশপ্ত’ (ছোয়াদ ৩৮/৭৬)। মানব সমাজেও যারা অনুরূপ অবাধ্য ও শয়তানী চরিত্রের অধিকারী, তারা সমাজে ও সংগঠনে এভাবেই ধিকৃত ও বহিষ্কৃত হয়। তবে যারা আল্লাহর জন্য বিতাড়িত ও নির্যাতিত হন, তারা ইহকালে ও পরকালে পুরস্কৃত হন।
(৩) অন্যের আনুগত্য ও সেবা করাকে নিজের জন্য অপমানজনক মনে করা : এই প্রকৃতির লোকেরা সাধারণতঃ উদ্ধত হয়ে থাকে। এরা মনে করে সবাই আমার আনুগত্য ও সেবা করবে, আমি কারু আনুগত্য করব না। এরা ইহকালে অপদস্থ হয় এবং পরকালে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হয়। আল্লাহ বলেন,تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِيْنَ لاَ يُرِيْدُوْنَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلاَ فَسَادًا- ‘পরকালের ঐ গৃহ আমরা তৈরী করেছি ঐসব লোকদের জন্য, যারা এ দুনিয়াতে উদ্ধত হয় না ও বিশৃংখলা সৃষ্টি করে না’ (ক্বাছাছ ২৮/৮৩)।উম্মুল হুছায়েন (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,إِنْ أُمِّرَ عَلَيْكُمْ عَبْدٌ مُجَدَّعٌ أَسْوَدُ يَقُودُكُمْ بِكِتَابِ اللهِ تَعَالَى فَاسْمَعُوا لَهُ وَأَطِيعُوا ‘যদি তোমাদের উপর একজন নাক-কান কাটা হাবশী ক্রীতদাসও আমীর নিযুক্ত হন, যিনি তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী পরিচালনা করেন, তোমরা তার কথা শোন ও তার আনুগত্য কর’।[1] আল্লাহকে খুশি করার নিয়তে যিনি যত বিনয়ী ও আনুগত্যশীল হন, তিনি তত সম্মানিত হন এবং আখেরাতে পুরস্কৃত হন।
(৪) নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করা : শক্তিশালী ব্যক্তি, সমাজনেতা, রাষ্ট্রনেতা কিংবা যেকোন পর্যায়ের পদাধিকারী ব্যক্তি বা কর্মকর্তা ও ধনিক শ্রেণীর কেউ কেউ অনেক সময় নিজেকে এরূপ ধারণা করে থাকেন। তিনি ভাবতেই পারেন না যে, আল্লাহ যেকোন সময় তার কাছ থেকে উক্ত নে‘মত ছিনিয়ে নিতে পারেন। আবু জাহল এরূপ অহংকার করেছিল। সে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে তার অভিজ্ঞ পারিষদবর্গ ও শক্তিশালী জনবলের ভয় দেখিয়েছিল। জবাবে আল্লাহ বলেছিলেন, فَلْيَدْعُ نَادِيَهُ، سَنَدْعُ الزَّبَانِيَةَ- ‘ডাকুক সে তার পারিষদবর্গকে’। ‘অচিরেই আমরা ডাকব আযাবের ফেরেশতাদেরকে’ (‘আলাক্ব ৯৬/১৭-১৮)। পরিণতি কি হয়েছিল, সবার জানা। উক্ত প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, كَلاَّ إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى، أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى ‘কখনই না। মানুষ অবশ্যই সীমালংঘন করে’। ‘কারণ সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে’ (‘আলাক্ব ৯৬/৬-৭)। আল্লাহ একেক জনকে একেক মেধা, প্রতিভা ও যোগ্যতা দিয়ে দুনিয়াতে সৃষ্টি করেছেন। ফলে প্রত্যেক মানুষই পরস্পরের মুখাপেক্ষী। কেউ অভাবমুক্ত নয়। তাই মানুষের জন্য অহংকার শোভা পায় না। আল্লাহ কেবল ‘মুতাকাবিবর’ (অহংকারী)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেছেন আল্লাহ বলেন, الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِيْ ‘অহংকার’ আমার চাদর এবং ‘বড়ত্ব’ আমার পায়জামা। অতএব যে ব্যক্তি ঐ দু’টির কোন একটি আমার থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য টানাটানি করবে, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব’।[2] অতএব সকল প্রকার অহঙ্কার ও শ্রেষ্ঠত্বের মালিক তিনি। তাই অহংকার কেবল তাঁরই জন্য শোভা পায়।
(৫) লোকদের কাছে বড়ত্ব যাহির করা ও নিজের ত্রুটি ঢেকে রাখা : মূসা (আঃ) যখন ফেরাঊনকে লাঠি ও প্রদীপ্ত হস্ততালুর নিদর্শন দেখালেন, তখন ফেরাঊন ভীত হ’ল। কিন্তু নিজের দুর্বলতা ঢেকে রেখে সে তার লোকদের জমা করল। অতঃপর তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বলল,أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى- فَأَخَذَهُ اللهُ نَكَالَ الْآخِرَةِ وَالْأُولَى- ‘আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ পালনকর্তা’। ‘ফলে আল্লাহ তাকে পরকালের ও ইহকালের শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলেন’ (নাযে‘আত ৭৯/২৩-২৪)।বস্ত্ততঃ ফেরাঊনী চরিত্রের লোকের কোন অভাব সমাজে নেই। সমাজ দুষণের জন্য প্রধানতঃ এসব লোকেরাই দায়ী।একবার হযরত উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-এর পিছে পিছে একদল লোককে চলতে দেখে খলীফা ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) তাঁর প্রতি চাবুক উঁচু করলেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তাঁকে মারলেন। তখন তিনি এর কারণ জিজ্ঞেস করলে খলীফা বললেন, هَذَا ذِلَّةٌ لِلتَّابِعِ وَفِتْنَةٌ لِلْمَتْبُوْعِ ‘এটা অনুসরণকারীর জন্য লাঞ্ছনাকর এবং অনুসৃত ব্যক্তিকে ফিৎনায় নিক্ষেপকারী’।[3] প্রখ্যাত তাবেঈ সাঈদ বিন জুবায়ের (৪৬-৯৫ হিঃ) তাঁর অনুগমনকারীদের প্রতি অনুরূপ বক্তব্য রেখেছিলেন।[4] এখানে ‘ফিৎনা’ অর্থ অহংকার। অথচ উবাই বিন কা‘ব (রাঃ)-এর ন্যায় বিখ্যাত ছাহাবীর জন্য এরূপ ফিৎনায় পড়ার কোন অবকাশ ছিল না। কিন্তু খলীফা ওমর (রাঃ) চেয়েছিলেন উবাইয়ের মনের মধ্যে যেন কণা পরিমাণ অহংকারের উদয় না হয়। তিনি চেয়েছিলেন যেন তার এক ভাই অহেতুক অহংকারের দোষে দোষী হয়ে জাহান্নামে পতিত না হয়। এটাই হ’ল পরস্পরের প্রতি ইসলামী ভালোবাসার সর্বোত্তম নমুনা। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী।উল্লেখ্য যে, উবাই বিন কা‘ব (রাঃ) ছিলেন রাসূল (ছাঃ)-এর জীবদ্দশায় কুরআন সংকলনকারী চারজন ছাহাবীর অন্যতম এবং যার সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেছিলেন, তোমরা চারজনের নিকট থেকে কুরআন পাঠ শিখে নাও, তাদের একজন ছিলেন উবাই।[5]শুধু তাই নয়, একদিন রাসূল (ছাঃ) তাকে ডেকে বলেন, আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমার উপর সূরা বাইয়েনাহ পাঠ করি। উবাই বললেন, আল্লাহ আপনার নিকট আমার নাম বলেছেন? রাসূল (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তখন উবাই (খুশীতে) কাঁদতে লাগলেন’।[6]এরূপ দৃষ্টান্ত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকেও এসেছে। তিনি তাঁর পিছনে অনুসরণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন,لَوْ تَعْلَمُونَ ذُنُوبِي مَا وَطِئَ عَقِبِي رَجُلاَنِ وَلَحَثَيْتُمْ عَلَى رَأْسِي التُّرَابَ، وَلَوَدِدْتُ أَنَّ اللهَ غَفَرَ لِي ذَنْبًا مِنْ ذُنُوبِي-‘আমার যে কত পাপ রয়েছে তা যদি তোমরা জানতে, তাহ’লে দু’জন লোকও আমার পিছনে হাঁটতে না এবং অবশ্যই তোমরা আমার মাথায় মাটি ছুঁড়ে মারতে। আমি চাই আল্লাহ আমার গোনাহসমূহ মাফ করুন’।[7]
(৬) অন্যকে নিজের তুলনায় ছোট মনে করা : মূসা ও হারূণ (আঃ) ফেরাঊনের কাছে তাওহীদের দাওয়াত নিয়ে গেলে তারা বলেছিল, فَقَالُوا أَنُؤْمِنُ لِبَشَرَيْنِ مِثْلِنَا وَقَوْمُهُمَا لَنَا عَابِدُونَ ‘আমরা কি এমন দু’ব্যক্তির উপরে বিশ্বাস স্থাপন করব যারা আমাদেরই মত মানুষ এবং তাদের সম্প্রদায় আমাদের দাসত্ব করে’? (মুমিনূন ২৩/৪৭)।মক্কার কাফের নেতারাও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট থেকে বেলাল, খোবায়েব, ছুহায়েব, ইবনু মাসঊদ প্রমুখ দুর্বল শ্রেণীর লোকদের সরিয়ে দিতে বলেছিল, যাতে তারা তাঁর সঙ্গে বসে পৃথকভাবে কথা বলতে পারেন। তখন আয়াত নাযিল হয়,وَلاَ تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِنْ شَيْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِمْ مِنْ شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ - (الأنعام ৫২)-‘যেসব লোক সকাল-সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালকের ইবাদত করে এবং এর মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে, তাদেরকে তুমি দূরে সরিয়ে দিয়ো না। তাদের কোন আমলের হিসাব তোমার দায়িত্বে নেই এবং তোমার কোন আমলের হিসাব তাদের দায়িত্বে নেই। এরপরেও যদি তুমি তাদের সরিয়ে দাও, তাহ’লে তুমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে’ (আন‘আম ৬/৫২)।ধনে-জনে ও পদমর্যাদায় নিম্নস্তরের লোকদের প্রতি মনের মধ্যে কোন তুচ্ছভাব উদ্রেক হওয়াটা অহংকারের লক্ষণ। অতএব এই স্বভাবগত রোগ কঠিনভাবে দমন করা অবশ্য কর্তব্য।অন্যকে হেয় গণ্যকারী ব্যক্তিদেরকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন উঠাবেন এমন অবস্থায় যে, তারা ঐসব দুর্বল শ্রেণীর লোকদের পায়ের নীচে থাকবে। এটি হবে তাদেরকে দুনিয়ায় হেয় জ্ঞান করার বদলা স্বরূপ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,يُحْشَرُ الْمُتَكَبِّرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْثَالَ الذَّرِّ فِى صُوَرِ الرِّجَالِ يَغْشَاهُمُ الذُّلُّ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ فَيُسَاقُونَ إِلَى سِجْنٍ فِى جَهَنَّمَ يُسَمَّى بُولَسَ تَعْلُوهُمْ نَارُ الأَنْيَارِ يُسْقَوْنَ مِنْ عُصَارَةِ أَهْلِ النَّارِ طِينَةِ الْخَبَالِ-‘অহংকারী ব্যক্তিরা কিয়ামতের দিন উঠবে মানুষের চেহারা নিয়ে পিঁপড়া সদৃশ। সর্বত্র লাঞ্ছনা তাদেরকে বেষ্টন করে রাখবে। অতঃপর তাদের ‘বূলাস’ নামক জাহান্নামের এক কারাগারের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যেখানে লেলিহান অগ্নি তাদেরকে ঢেকে ফেলবে। সেখানে তারা জাহান্নামীদের পোড়া দেহের গলিত পুঁজ-রক্তে পূর্ণ ‘ত্বীনাতুল খাবাল’ নামক নদী থেকে পান করবে।[8]একদিন ছাহাবী আবু যর গিফারী (রাঃ) নিগ্রো মুক্তদাস বেলাল (রাঃ)-কে তার কালো মায়ের দিকে সম্বন্ধ করে কিছু বললে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁকে ধমক দিয়ে বলেন, يَا أَبَا ذَرٍّ أَعَيَّرْتَهُ بِأُمِّهِ إِنَّكَ امْرُؤٌ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ ‘হে আবু যর! তুমি তাকে তার মায়ের নামে তাচ্ছিল্য করলে? তোমার মধ্যে জাহেলিয়াত রয়েছে’।[9] আবু যর গিফারীর ন্যায় একজন নিরহংকার বিনয়ী ছাহাবীর একদিনের একটি সাময়িক অহংকারকেও আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বরদাশত করেননি।
(৭) মানুষের সাথে অসদ্ব্যবহার করা ও তাদের প্রতি কঠোর হওয়া : এটি অহংকারের অন্যতম লক্ষণ। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাক্ষাৎপ্রার্থী হ’ল। তিনি বললেন, তোমরা ওকে অনুমতি দাও। সে তার গোত্রের কতই না মন্দ ভাই ও কতই না মন্দ পুত্র! অতঃপর যখন লোকটি প্রবেশ করল, তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার সাথে অতীব নম্রভাবে কথা বললেন। পরে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি লোকটি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করলেন। আবার সুন্দর আচরণ করলেন, ব্যাপারটা কি? জবাবে তিনি বললেন, হে আয়েশা! إِنَّ شَرَّ النَّاسِ مَنْ تَرَكَهُ النَّاسُ اتِّقَاءَ فُحْشِهِ ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেই ব্যক্তি যাকে লোকেরা পরিত্যাগ করে ও ছেড়ে যায় তার ফাহেশা কথার ভয়ে’।[10]
(৮) শক্তি বা বুদ্ধির জোরে অন্যের হক নষ্ট করা : এটি অহংকারের একটি বড় নিদর্শন। আল্লাহ কাউকে বড় করলে সে উদ্ধত হয়ে পড়ে এবং যার মাধ্যমে তিনি বড় হয়েছেন ও যিনি তাকে বড় করেছেন সেই বান্দা ও আল্লাহকে সে ভুলে যায়। সে এই কথা ভেবে অহংকারী হয় যে, আমি আমার যোগ্যতা বলেই বড় হয়েছি। ফলে সে আর অন্যকে সম্মান করে না। সে তখন শক্তির জোরে বা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে অন্যের হক নষ্ট করে। এই হক সম্মানের হতে পারে বা মাল-সম্পদের হতে পারে। অন্যায়ভাবে কারু সম্মানের হানি করলে ক্বিয়ামতের দিন অহংকারী ব্যক্তিকে পিঁপড়া সদৃশ করে লাঞ্ছনাকর অবস্থায় হাঁটানো হবে।[11] অথবা তাকে ঐ মাল-সম্পদ ও মাটির বিশাল বোঝা মাথায় বহন করে হাঁটতে বাধ্য করা হবে।[12]
(৯) অধীনস্তদের প্রতি দুর্ব্যবহার করা ও তাদেরকে নিকৃষ্টভাবে খাটানো : অহংকারী মালিকেরা তাদের অধীনস্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের প্রতি এরূপ আচরণ করে থাকে। যা তাদের জাহান্নামী হবার বাস্তব নিদর্শন। এই স্বভাবের লোকেরা এভাবে প্রতিনিয়ত ‘হাক্কুল ইবাদ’ নষ্ট করে থাকে। অতঃপর তাদের হক পূরণ না করে নিজেরা ঘন ঘন হজ্জ ও ওমরায় যায়। আর ভাবে যে, সদ্য ভূমিষ্ট সন্তানের ন্যায় তারা পাপমুক্ত হয়ে ফিরে এল। আদৌ নয়। আল্লাহর হক আদায়ের মাধ্যমে কখনোই বান্দার হক বিনষ্টের কাফফারা আদায় হয় না। বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, اتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ ، فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللهِ حِجَابٌ ‘তুমি মযলূমের দো‘আ থেকে বেঁচে থাক। কেননা মযলূমের দো‘আ ও আল্লাহর মধ্যে কোন পর্দা নেই (অর্থাৎ সাথে সাথে কবুল হয়ে যায়)।[13] الظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘যুলুম কিয়ামতের দিন ঘন অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে’।[14] তিনি একদিন বলেন, তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে? সবাই বলল, যার কোন ধন-সম্পদ নেই। তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন ছালাত, ছিয়াম, যাকাত নিয়ে হাযির হবে। অতঃপর লোকেরা এসে অভিযোগ করে বলবে যে, তাকে ঐ ব্যক্তি গালি দিয়েছে, মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, তার মাল গ্রাস করেছে, হত্যা করেছে, প্রহার করেছে। অতঃপর তার নেকী থেকে তাদের একে একে বদলা দেওয়া হবে। এভাবে বদলা দেওয়া শেষ হবার আগেই যখন তার নেকী শেষ হয়ে যাবে, তখন বাদীদের পাপ থেকে নিয়ে তার উপর নিক্ষেপ করা হবে। অবশেষে ঐ ব্যক্তিকে জাহানণামে নিক্ষেপ করা হবে।[15] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ক্বিয়ামতের দিন অবশ্যই হকদারকে তার হক আদায় করে দেয়া হবে। এমনকি শিংওয়ালা ছাগল যদি শিংবিহীন ছাগলকে গুঁতো মেরে কষ্ট দিয়ে থাকে, সেটারও বদলা নেওয়া হবে (মানুষকে ন্যায়বিচার দেখানোর জন্য)।[16]তিনি বলেন, ابْغُونِى فِيْ ضُعَفَائِكُمْ فَإِنَّمَا تُرْزَقُونَ وَتُنْصَرُونَ بِضُعَفَائِكُمْ ‘তোমরা আমাকে তোমাদের দুর্বলদের মধ্যে তালাশ কর। কেননা তোমাদেরকে রূযী পৌঁছানো হয় ও সাহায্য করা হয় তোমাদের দুর্বলদের মাধ্যমে।[17] এর অর্থ তোমরা আমার সন্তুষ্টি তালাশ কর দুর্বলদের প্রতি তোমাদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে। তিনি বলেন, যখন খাদেম তোমার খাবার নিয়ে আসে, তখন তাকে খাইয়ে তুমি শুরু কর। অথবা তাকে সাথে বসাও বা তাকে এক লোকমা খাদ্য দাও।[18] আল্লাহ বলেন, তোমরা মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলো’ (বাক্বারাহ ২/৮৩)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যেখানেই তুমি থাক, আল্লাহকে ভয় কর। আর মন্দের পিছে পিছে উত্তম আচরণ কর। তাহ’লে মন্দ দূরীভূত হয়ে যাবে’।[19] আল্লাহ বলেন, ভাল ও মন্দ সমান নয়। অতএব তুমি মন্দকে ভাল দ্বারা প্রতিহত কর। তাহলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে, সে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত হয়ে যাবে’ (হামীম সাজদাহ ৪১/৩৪)।
(১০) মিথ্যা বা ভুলের উপর যিদ করা : এটি অহংকারের অন্যতম নিদর্শন। নবীগণ যখন লোকদেরকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতেন, তখন তারা বাপ-দাদার দোহাই দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করত এবং নিজেদের ভুল ও মিথ্যার উপরে যিদ করত। যদিও শয়তান তাদেরকে (এর মাধ্যমে) জ্বলন্ত অগ্নির শাস্তির দিকে আহবান করে (লোকমান ৩১/২১)।কেবল কাফেরদের মধ্যে নয়, বরং মুসলমানদের মধ্যেও উক্ত দোষ পরিলক্ষিত হয়। যেমন শিরক ও বিদ‘আতে অভ্যস্ত লোকেরা বিভিন্ন অজুহাতে উক্ত পাপের উপর টিকে থাকে। অমনিভাবে বিচারক ও শাসক শ্রেণী তাদের ভুল ‘রায়’ থেকে ফিরে আসেন না। বরং একটি অন্যায় প্রবাদ চালু আছে যে, ‘হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না’। অথচ মানুষের ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। খলীফা ওমর (রাঃ) যখন আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ)-কে কূফার গভর্ণর করে পাঠান, তখন তাকে লিখে দেন যে, তুমি গতকাল কোন সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকলে সেখান থেকে ফিরে আসতে কোন বস্ত্ত যেন তোমাকে বাধা না দেয়। কেননা الرُّجُوعُ إِلىَ الْحَقِّ خَيْرٌ مِنَ التَّمَادِى فِى الْبَاطِلِ ‘মিথ্যার উপরে টিকে থাকার চাইতে সত্যের দিকে ফিরে আসা অধিক উত্তম’।[20]খলীফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (৯৯-১০১ হিঃ) বলতেন, مَا مِنْ كِتَابٍ أَيْسَرُ عَلَىَّ رَدًّا مِنْ كِتَابٍ قَضَيْتُ بِهِ ثُمَّ أَبْصَرْتُ أَنَّ الْحَقَّ فِى غَيْرِهِ فَفَسَخْتُهُ ‘আমি সিদ্ধান্ত দিয়েছি এমন কোন বিষয় বাতিল করা আমার নিকটে সবচেয়ে সহজ, যখন আমি দেখি যে তার বিপরীতটাই সত্য।[21]আব্দুর রহমান বিন মাহদী (৩৫-১৯৮ হিঃ) বলেন, আমরা এক জানাযায় ছিলাম। যেখানে ওবায়দুল্লাহ বিন হাসান উপস্থিত ছিলেন, যিনি তখন রাজধানী বাগদাদের বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। আমি তাঁকে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করলে তিনি ভুল উত্তর দেন। তখন আমি বললাম,أصلحك الله، القول في هذه المسألة كذا وكذا ‘আল্লাহ আপনাকে সংশোধন হওয়ার তাওফীক দিন! এ মাসআলার সঠিক উত্তর হ’ল এই, এই। তখন তিনি কিছুক্ষণ দৃষ্টি অবনত রাখেন। অতঃপর মাথা উঁচু করে দু’বার বলেন, إذًا أرجع وأنا صاغر ‘এখন আমি প্রত্যাবর্তন করলাম এবং আমি লজ্জিত’। অতঃপর বললেন, لأن أكون ذنبا في الحق أحب إلي من أن أكون رأسا في الباطل ‘ভুল স্বীকার করে হক-এর লেজ হওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয় বাতিলের মাথা হওয়ার চাইতে’।[22] অর্থাৎ হক-এর অনুসারী হওয়া বাতিলের নেতা হওয়ার চাইতে অনেক উত্তম।

Offline Md. Zakaria Khan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 306
  • active
    • View Profile
Re: History of Muslim'S
« Reply #6 on: November 07, 2016, 09:05:03 AM »
ফেরাউন কন্যার চুল আঁচড়ানোর কাজে নিয়োজিত ছিল একজন মহিলা। কোনো একদিন ফেরাউন কন্যার চুল আঁচড়ানোর সময় সহসা চিরুণি তার হাত থেকে মাটিতে পড়ে গেল। তা ওঠাতে গিয়ে আনমনে তার মুখ থেকে বের হয়ে পড়ল,বিসমিল্লাহ্।আল্লাহু আকবর।
এ কথায় ফেরাউনের কন্যার সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করল, ফেরাউন ছাড়াও কি তোমার কোনো আল্লাহ আছে নাকি? দাসী জবাবে বলল,
"আমার আল্লাহ সেই যে ফেরাউনেরও আল্লাহ।
শুধু ফেরাউন নয় সে আকাশ জমিনেরও আল্লাহ। তিনি একক তাঁর কোনো শরীক নেই।
একথা শুনে রাগে ফেরাউনের কন্যা অগ্নিশর্মা হয়ে পিতার কাছে গিয়ে বলল, আব্বা আমার চুল বিন্যাসকারিণী বলে কি, আমার আল্লাহ সেই যে ফেরাউনেরও আল্লাহ, আসমান জমিনেরও আল্লাহ। তার কোনো শরীক নেই।
ফেরাউন বলল, এক্ষুণি তাকে হাজির কর'।
সাথে সাথে তাকে হাজির করা হলো।
সেও নির্ভয়ে হাজির হলো।
আজ তার আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার ঈমানী পরীক্ষার দিন। এতে প্রাণ দিতে হলে দেবে। তারই ভালোবাসায় যদি জীবন দেওয়া যায় তবেই তো ধন্য।
ফেরাউন জিজ্ঞেস করল, তুমি আমাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত কর?
তিনি বললেন, "হ্যাঁ"।
ফেরাউন বলল, সে আল্লাহকে ছেড়ে এখনই আমার সামনে আমার আল্লাহয়ী স্বীকার কর'।
তিনি বললেন, "না কিয়ামত পর্যন্তও তা আমার দ্বারা সম্ভব হবে না"।
নির্দেশ দেওয়া হলো তাকে সিকল দিয়ে বেধে ফেলার। তৎক্ষণাৎ তাকে শুইয়ে তার হাতে ও পায়ে সিকল বাধা হলো। তারপর আল্লাহ ওয়ালাদেরকে কষ্ট দেওয়ার জন্য যে বিষাক্ত সাপ, বিচ্ছু রাখা হতো তাও এনে তার উপর ছেড়ে দেওয়া হলো।
বলা হলো, এখনো সময় আছে তোমার আল্লাহকে ছাড় নতুবা তোমাকে লাগাতার এ শাস্তি দেওয়া হবে'।তিনি বললেন, "তুমি আমাকে যত পার শাস্তি দিয়ে দেখ আল্লাহ্ প্রতি ভালোবাসা এক বিন্দুও কমবে না, বরং বাড়বে"।
ঈমানের অবস্থা এই রকম যে, যখন তার স্বাদ কোনো অন্তরে প্রবেশ করে তখন তা আর বের হয়না। হে ফেরাউন শুনে রাখ, তুমি যদি বছরের পর বছর আমাকে শাস্তি দিতে থাক তবুও আমি আমার মহান প্রভুকে পরিহার করব না।
এ নেক মহিলার পাচটি সন্তান ছিল একটি ছিল দুগ্ধপোষ্য। ফেরাউন তাকে উচিত শিক্ষা দিতে সন্তানদেরকে তার মায়ের সামনে এনে।প্রথমে বড় সন্তানকে গরম তেল এর পাতিলে ফেলে দেয়।
তারপর বলল, 'এখনও সুযোগ আছে নতুবা সব সন্তানকে হারাবে। তোমার দুগ্ধপোষ্য এ শিশুটিকেও হত্যা করা হবে। তিনি বললেন, "যদি তুমি যাই কর, তবুও আমি আমার আল্লাহকে ছাড়ব না।
একথা শুনে হুকুম দেওয়া হলো পর পর চারটি শিশুকে গরম তেল এ ফেলে দেওয়া হল।আর কিছুক্ষণ পরেই ভেসে উঠছিল তাদের হাড়গুলো। দুদ্ধপুষ্ট শিশু সন্তানটি মায়ের বুকের উপর চড়ে দুধ পান করছিল তাকেও টেনে হিছড়ে নিয়ে যেতে ধরল।এ অবস্থা দেখে মায়ের চোখে পানি আর ধরছিল না।
৬ মাসের এ শিশুর মুখ থেকে কথা বের হলো, বলল, মা কেন কাঁদ?
জান্নাত তোমার জন্য সুসজ্জিত করা হচ্ছে। মা জান্নাতে পৌঁছে আল্লাহর দীদার হাসিল হবে"।এখনো কথা বলতে পারে না এমন শিশুর মুখ থেকে একথা শুনে মা অবাক হলেন। ঈমান আরও মজবুত হলো।
জালিমরা শিশুটিকে হত্যা করল। এরপর তাকেও গরম তেল এ ফেলা হল।মা প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে চির জান্নাত বাসিনী হলেন। তাফসিরে দুররে মানসুরে আছে, রাসুল (সাঃ) যখন মেরাজে যাচ্ছিলেন, বোরাক মিসরের কাছাকাছি এক ময়দানে পৌঁছল,তখন জান্নাতের খুশবু তিনি অনুভব করলেন।
বললেন, "খুব সুন্দর সুঘ্রাণ পাচ্ছি, মনে হয় এটা জান্নাতের সুঘ্রাণ।" জিবরাইল (আঃ) বললেন, জান্নাত তো অনেক দূরে, মনে হয়,ফেরাউন কন্যার কেশ বিন্যাসকারিণী মহিলার কবর থেকে এ সুঘ্রাণ আসছে। সুবহানাল্লাহ।

Offline Md. Zakaria Khan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 306
  • active
    • View Profile
Re: History of Muslim'S
« Reply #7 on: December 10, 2016, 02:31:30 PM »
ফাতিমা (রা) ছিলেন রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কলিজার টুকরো। ভালবাসার আতিশয্যে, খুশির তীব্রতায় রাসুল দাঁড়িয়ে যেতেন যখন ফাতিমা (রা) হাজির হতেন তাঁর সামনে। নিজে আরাম আয়েশে থাকতেন না, খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটিয়েছেন, কিন্তু নিজের মেয়ের জন্য তিনি চাইলে একটি আরামের জিন্দেগির ব্যবস্থা খুব সহজেই করতে পারতেন।

অথচ বিয়ে দিয়েছিলেন তাঁকে সেই সময়ের সবচেয়ে গরিব সাহাবীদের একজন, আলী (রা) এর সাথে। কিন্তু রাসুলের ভাষায়, তিনি ছিলেন সর্বোত্তম পাত্রের একজন। গায়ে দেয়ার মত জামাটুকু যার ছিল না। একবার রাস্তায় পরে থাকা একটি চামড়ার টুকরোকে গলার কাছ দিয়ে ছিদ্র করে গায়ে জড়িয়েছিলেন, এরপর বের হতে হয়েছিল খাবারের তালাশে।

ঘরের সব কাজ একাই করতে হত ফাতিমা (রা) কে। সমস্ত বিশ্বের জন্য যাকে রাসুল হিসেবে পাঠানো হয়েছে, তার মেয়ে হয়ে ঘর ঝাড়ু দিতেন তিনি, যাতা পিষতেন তিনি। পিষতে পিষতে ফোষ্কা পড়ে যেত তার মুবারক হাতে।

হা, প্রতিদিন সকালে নাস্তার জন্য দুই প্রকারের ফ্রেশ ভাজি আর তরকারী রাধতে হতো না তাঁকে। একদম চুলা থেকে নামানো এখনি সেঁকা গরম গরম রুটি, ফলোড বাই টাটকা বানানো চাও সার্ভ করতে হত না। এসব বড়লোকি খাবার যে জুটতোই না তাদের।

একজন কাজের বুয়া চাইতে গিয়েছিলেন তিনি একবার রাসুলের কাছে। প্রচুর গনিমতের মাল এসেছিল তখন। কিন্তু লজ্জার কারনে চাইতে পারেন নি। পরবর্তীতে আলী (রা) তার পক্ষ থেকে অনুরোধ করলেন। ঘরের কাজ একা করতে ফাতিমা রা এর কষ্ট হচ্ছে, বললেন রাসুলকে। কিন্তু রাসুল তাকে মেইড দেন নি। বরং বলেছেন, এর থেকে উত্তম কিছু আমি দিলে, নিবে? রাতে শোয়ার পূর্বে ৩৩বার সুবহানাল্লাহ,৩৩বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবর পড়বে।

নিজেকে একবার ফাতিমা (রা) স্থানে বসিয়ে চিন্তা করি। আমি হলে কী উত্তর দিতাম? খুশি হতাম না রাগ হতাম? আর তাঁর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল!

হা, ফাতিমা (রা) এর নাম স্কলার সাহাবীদের তালিকায় নেই, কিন্তু তিনি হবেন সমস্ত জান্নাতি নারীদের (সায়্যিদাহ) প্রধান। হা, তাঁর নাম বিদ্বান সাহাবীদের তালিকায় নেই, কিন্তু তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ চারজন মহিলাদের একজন।

আল্লাহর কাছে মান সম্মানের ভিত্তি তাক্ব্বওয়া। রাসুলের কলিজার টুকরো ছিলেন সেই সম্মানেই সম্মানিত।

সায়্যিদাতু নিসা-য়ি আহলিল জান্নাহ, ফাত্বিমাহ রদ্বিআল্লাহু আনহা।

Offline Md. Zakaria Khan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 306
  • active
    • View Profile
Re: History of Muslim'S
« Reply #8 on: August 09, 2017, 02:38:16 PM »
কে উত্তম ?
“(তোমার দেবতাগণ ভালো) নাকি যিনি দুর্দশাগ্রস্তের ডাকে সাড়া দেন তিনি?” (২৭-সূরা আন নামল: আয়াত-৬২)
কার কাছে দুর্বল ও অত্যাচারিতরা বিজয় কামনা করে?
কার নিকট সকলে আকুল আবেদন করে? তিনি আল্লাহ। তিনি ছাড়া অন্য কারও উপাস্য হওয়ার অধিকার নেই।
অতএব, আমার ও আপনার কর্তব্য হল স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল উভয় অবস্থায়ই তাকে আহবান করা, তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, দুঃসময়ে তার কাছে আশ্রয় চাওয়া, অনুতপ্ত হয়ে কেঁদে কেটে তার দরবারে আরাধনা করা; তাহলেই তার সাহায্য দ্রুত আসবে।
“(তোমার দেবতাগণ ভালো) না কি যিনি দুর্দশাগ্রস্তের ডাকে সাড়া দেন তিনি?” (২৭-সূরা আন নামল: আয়াত-৬২)
তিনি ডুবন্ত ব্যক্তিকে রক্ষা করেন, মজলুমকে বিজয় দান করেন, পথহারাকে পথ দেখান, অসুস্থকে সুস্থ করেন, আর দুর্দশাগ্রস্তদের সাহায্য যোগান।
“যখন তারা জল জাহাজে (নৌযানে) চড়ে তখন তারা (আল্লাহর) দ্বীনের (ধর্মের) একনিষ্ঠ অনুসারী হয়ে তাকে (আল্লাহকে) বিনীতভাবে ডাকে।" (২৯-সূরা আল আনকাবূতঃ আয়াত-৬৫)
মানুষেরা দুর্দশা দূর করার জন্য যেসব আবেদন করে থাকে, আমি আপনাকে তার জন্য সুন্নাহের কিতাবের কথা বলছি। সে সব কিতাবে আপনি নবী প্রদত্ত দোয়া (প্রার্থনা) দেখতে পাবেন (ও শিখে নিবেন), তা দিয়ে আপনি আল্লাহ্‌কে ডাকতে পারবেন, তাঁর নিকট আকুল আবেদন জানাতে পারবেন এবং তার সাহায্য চাইতে পারবেন এবং যদি আপনি তার প্রতি আপনার ঈমান (বিশ্বাস) হারিয়ে ফেলেন তবে আপনি সব কিছু হারালেন। তার নিকট আকুল আবেদন করে আপনি সর্বোচ্চ ইবাদত করছেন। আপনি নিয়মিতভাবে, বিরতিহীনভাবে ও একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা করেন তবে আপনি দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা থেকে মুক্তি লাভ করবেন। তারটা ছাড়া সব রশিই কাটা, তারটা ব্যতীত সকল দ্বারই রুদ্ধ। তিনি নিকটবর্তী, তিনি সবকিছুই শুনতে পান ও যারা তার নিকট আকুল আবেদন করে তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেন।
ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ
“তোমরা আমাকে ডাক (আমার নিকট আকুল আবেদন কর) তাহলেই আমি তোমাদের আবেদনে সাড়া দিব।" (৪০-সূরা আল মু'মিন: আয়াত-৬০)
যদি আপনি দুঃখ-বেদনা নিয়ে বেঁচে থাকেন তবে আল্লাহকে স্মরণ করুন, তার তাসবীহ পাঠ করুন ও তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করুন। সত্যিকার মুক্তি পাওয়ার জন্য সেজদাহ করে তাঁর প্রশংসা জ্ঞাপন করুন। দু'হাত তুলে নাছোড় বান্দা হয়ে তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করুন। তার দরজায় ধরনা ধরুন, তার সম্বন্ধে সুধারণা রাখুন এবং তার সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করুন তাহলেই আপনি সত্যিকার সুখ ও সাফল্য লাভ করবেন।
গ্রন্থঃ লা-তাহযান [হতাশ হবেন না] | রচনা/অনুবাদ/সংকলনঃ ড. আয়িদ আল করনী

Offline Md. Zakaria Khan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 306
  • active
    • View Profile
Re: History of Muslim'S
« Reply #9 on: August 24, 2017, 02:40:07 PM »
#জাযাকাল্লাহু খাইরান এর অর্থ কি???
==========================
আপনি যখন কাউকে ভাল, সুন্দর বা তাঁর পছন্দসই কোন কাজ উপহার দেন তখন অধিকাংশ মানুষই আপনাকে বলে থাকেন, "জাযাকাল্লাহু খাইরান"।
প্রশ্ন হল, এই বাক্যটির অর্থ কি? আসুন জেনে নেই বাক্যটির অর্থ।
এর বেশ সুন্দর কয়েকটি অর্থ রয়েছে।
১। ﺧﻴﺮ ( খাইর) শব্দটি সে সমস্ত বিষয় বুঝায় যা আল্লাহর নিকট প্রিয়। তাই "খাইর" শব্দের মাধ্যমে আপনার জন্য সবরকমের কল্যাণ কামনা করা হল।
২। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে জান্নাত এবং জান্নাতে তাঁর দিদার দ্বারা সৌভাগ্যবান করুন।
৩। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে কাফিরদের স্থান জাহান্নাম থেকে হেফাজত করুন।
৪। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে সিরাতে মুস্তাক্বিম তথা সরল পথে পরিচালিত করেন।
৫। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার উপর কোন অভিশপ্ত শয়তানকে চাপিয়ে না দেন।
৬। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার রিজিকের মধ্যে বরকত দান করেন।
৭। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ শেষ দিবস পর্যন্ত আল্লাহ যেন আপনাকে মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী করেন।
৮। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে রাসূলের সুন্নাতের অনুসারী করেন।
৯। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে নেক সন্তান দান করুন।
১০। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" আল্লাহ আপনাকে সবরকম কল্যাণ দান করুন।
এর আরো অসংখ্য অর্থ রয়েছে। কেননা খাইর ( ﺧﻴﺮ ) আল্লাহর নিকট অগুনিত। যা গণনা করা অসম্ভব। তবে আমরা বাক্যটির শাব্দিক অর্থ করি, "আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন" বলে।
ﻋﻦ ﺃﺳﺎﻣﺔ ﺑﻦ ﺯﻳﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ( ﻣَﻦْ ﺻُﻨِﻊَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻣَﻌْﺮُﻭﻑٌ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟِﻔَﺎﻋِﻠِﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ . ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺑْﻠَﻎَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﺀِ ) .
ﺭﻭﺍﻩ " ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ " ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻓﻲ " ﺍﻟﺴﻨﻦ ﺍﻟﻜﺒﺮﻯ "
অর্থঃ হযরত উসামা বিন যায়েদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কারো প্রতি কৃতজ্ঞতার আচরণ করা হলো তাই সে ব্যক্তি আচরণকারীকে "জাযাকাল্লাহু খাইরান" বলল, তাহলে সে তার যথাযোগ্য প্রশংসা করল।
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ " ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﻟِﺄَﺧِﻴﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ، ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺑْﻠَﻎَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﺀِ "
অর্থঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেছেন, কেউ যখন তার ভাইকে বলে, "জাযাকাল্লাহু খাইরান" তাহলে সে তার ভূয়সী প্রশংসা করল।
ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﻟَﻮْ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻣَﺎ ﻟَﻪُ ﻓِﻲ ﻗَﻮْﻟِﻪِ ﻟِﺄَﺧِﻴﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ، ﻟَﺄَﻛْﺜَﺮَ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺑَﻌْﻀُﻜُﻢْ ﻟِﺒَﻌْﺾٍ . ( ﺍﻟﻤﺼﻨﻒ ﻻﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺷﻴﺒﺔ )
হযরত ঊমর (রাযি.) বলেন, তোমাদের কারো যদি জানা থাকত যে, তার অপর ভাইকে "জাযাকাল্লাহু খাইরান" বলার মধ্যে তার জন্য কি রয়েছে! তাহলে তোমরা একে অপরের জন্য তা বেশি করে বলতে।

জাযাকাল্লাহু খাইরান
জবাব এটা দিবেন~ ওয়া আনতুম ফা-জাযাকুমু-আল্লাহু খাইরন (وَأَنْتُمْ فَجَزَاكُمُ اللَّهُ خَيْرًا)”।

আসুন Thank's, Thank You ইত্যাদির পরিবর্তে আমরা পরস্পরে "জাযাকাল্লাহু খাইরান"-এর বিনিময় করি।

Offline Md. Zakaria Khan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 306
  • active
    • View Profile
Re: History of Muslim'S
« Reply #10 on: November 05, 2017, 02:27:29 PM »
History of Muslim'S

অনুমতি ব্যতীত অন্যের বাড়ীতে উঁকি দেওয়া ও প্রবেশ করা

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا

‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা নিজ গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে তার মালিকের অনুমতি ও সালাম প্রদান ব্যতীত প্রবেশ করো না’ (নূর ২৭)।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) খুব স্পষ্ট করে বলেছেন, إِنَّمَا جُعِلَ الاِسْتِئْذَانُ مِنْ أَجْلِ الْبَصَرِ ‘দৃষ্টিপাতের কারণেই কেবল অনুমতির ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে’।[1]

আধুনিক কালের বাড়ীগুলি পাশাপাশি গড়ে উঠেছে। তাদের বিল্ডিং বা ঘরগুলি একটা অপরটার সাথে লাগিয়ে, দরজা-জানালাও সামনা-সামনি তৈরী। এমতাবস্থায় এক প্রতিবেশীর সামনে অন্য প্রতিবেশীর সতর প্রকাশিত হয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। কুরআনে মুমিন নর-নারীর চক্ষু সংযত করে রাখার নির্দেশ থাকলেও অনেকে তা মেনে চলে না। অনেকে উপর তলার জানালা কিংবা ছাদ থেকে নীচের অধিবাসীদের সতর ইচ্ছে করে দেখে। নিঃসন্দেহে এটা খিয়ানত, প্রতিবেশীর সম্মানে আঘাত এবং হারাম পথের মাধ্যম। এর ফলে অনেক রকম বিপদাপদ ও ফিৎনা দেখা দেয়। এরূপ গোয়েন্দাগিরি যে কত ভয়াবহ তার প্রমাণ হ’ল, শরী‘আত ঐ ব্যক্তির চোখ ফুঁড়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

مَنِ اطَّلَعَ فِى بَيْتِ قَوْمٍ بِغَيْرِ إِذْنِهِمْ فَقَدْ حَلَّ لَهُمْ أَنْ يَفْقَئُوا عَيْنَهُ– وفي رواية- فَفَقَئُوا عَيْنَهُ فَلاَ دِيَةَ لَهُ وَلاَ قِصَاصَ–

‘যে ব্যক্তি কারো বাড়ীতে তাদের অনুমতি ব্যতীত উঁকি দেয় তাদের জন্য তার চোখ ফুঁড়ে দেওয়া বৈধ হয়ে যাবে’।[2] অন্য বর্ণনায় এসেছে, যদি তারা তার চোখ ফুঁড়ে দেয় তাহলে সেজন্য কোন দিয়াত বা রক্তমূল্য ও ক্বিছাছ দিতে হবে না’।[3]

[1]. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩৫১৫।

[2]. মুসলিম হা/ ২১৫৮।

Offline SSH Shamma

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 334
    • View Profile
Re: History of Muslim'S
« Reply #11 on: November 15, 2017, 04:00:06 PM »
thanks
Syeda Sumbul Hossain
Lecturer, SWE
Daffodil International University
Contact No. 01918455555

Offline Md. Zakaria Khan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 306
  • active
    • View Profile
Re: History of Muslim'S
« Reply #12 on: January 29, 2018, 04:02:47 PM »
ইহুদি ও খ্রিস্টানকে সর্ব প্রথম নিজ থেকেই সালাম দেয়া একটি হারাম কাজ।
==================================
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

لَا تَبْدَؤُوْا الْيَهُوْدَ وَلَا النَّصَارَى بِالسَّلَامِ، فَإِذَا لَقِيْتُمْ أَحَدَهُمْ فِيْ طَرِيْقٍ فَاضْطَرُّوْهُ إِلَى أَضْيَقِهِ.

‘‘তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানকে সর্ব প্রথম নিজ থেকেই সালাম দিও না। বরং যখনই তাদের কাউকে রাস্তায় পাবে তখনই তাকে একেবারে সংকীর্ণ পথেই চলতে বাধ্য করবে’’।

(সহীহ মুসলিম ৫৫৫৪)

এ ছাড়াও সালাম তো ভালোবাসারই একান্ত প্রতীক। তাই ওদেরকে সালাম দেয়া যাবে না। কারণ, তাদের সাথে ভালোবাসা ঈমান বিধ্বংসীই বটে।

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:

«يَآ أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوْا الْيَهُوْدَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَآءَ، بَعْضُهُمْ أَوْلِيَآءُ بَعْضٍ، وَمَنْ يَّتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ، إِنَّ اللهَ لَا يَهْدِيْ الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ».

‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। তারা তো একে অপরের বন্ধু। তোমাদের কেউ তাদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা যালিমদেরকে সুপথ দেখান না’’। (সূরা মা’য়িদাহ্ : ৫১)

ওদের আল্লাহ্ তা‘আলাকে নিশ্চয়ই ভয় করা উচিৎ যারা খেলার পাগল হয়ে কাফির খেলোয়াড়কেও ভালোবাসে এবং গানের পাগল হয়ে কাফির গায়ক-গায়িকাকেও ভালোবাসে; অথচ তাদের করণীয় হচ্ছে শুধু ঈমানদারদেরকেই ভালোবাসা যদিও তারা তার উপর যুলুম ও অত্যাচার করুক না কেন এবং কাফিরদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা যদিও তারা তার উপর দয়া বা অনুগ্রহ করুক না কেন। কারণ, আল্লাহ্ তা‘আলা এ দুনিয়াতে কিতাব ও রাসূল পাঠিয়েছেন এ জন্যই যে, যেন সকল আনুগত্য হয় একমাত্র তাঁরই জন্য। সুতরাং ভালোবাসা হবে একমাত্র তাঁরই আনুগত্যকারীদের জন্য এবং শত্রুতা হবে একমাত্র তাঁরই বিরুদ্ধাচারীদের জন্য। সম্মান পাবে একমাত্র তাঁরই বন্ধুরা এবং লাঞ্ছনা পোহাবে একমাত্র তাঁরই শত্রুরা। ভালো প্রতিদান পাবে একমাত্র তাঁরই বন্ধুরা এবং শাস্তি পাবে একমাত্র তাঁরই শত্রুরা।

Offline Samsul Alam

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 157
  • The works that I left will remember me...
    • View Profile
    • Google Site
Re: History of Muslim'S
« Reply #13 on: April 08, 2018, 02:48:28 AM »
Thanks.
Samsul Alam (710001796)
Lecturer of MIS
Department of Business Administration
Faculty of Business and Entrepreneurship
Daffodil International University