Author Topic: কর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কার্যকরী কিছু উপায়  (Read 473 times)

Offline 710001113

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 469
  • None of your business
    • View Profile

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কর্মী অর্থাৎ মানব সম্পদ। মানব সম্পদকে উৎপাদনের প্রধান উপকরণ হিসেবে চিহ্নিত করেন ব্যবস্থাপনা বিশারদগণ। প্রতিষ্ঠানের সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ভর করে কর্মীদের কাজের দক্ষতার উপর। তাই একজন প্রতিষ্ঠান প্রধানের অধঃস্তন কর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দরকার। তবে কর্মীদের চাওয়া, দাবী, প্রয়োজন ও চাহিদাগুলো একজন প্রধান কিংবা উদ্যোক্তার পক্ষে নির্ণয় করা খুব সহজ নয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মানসিকতা, কাজের পদ্ধতি, একে অপরকে বোঝার ক্ষমতা এক নয়। তবুও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় না রাখলে, যোগাযোগ রক্ষা করা না হলে, ভালো কাজের প্রশংসা না করলে প্রতিষ্ঠান তার দক্ষ কর্মীকে হারাবে যা পুরো প্রতিষ্ঠানের জন্য হতাশাজনক।
আসুন জেনে নিই শীর্ষে থাকা উদ্যোক্তাগণ কর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে কি বলেছেন তা সম্পর্কে-

কর্মীরা কি বলছে বা বলতে চায় তা মনোযোগ সহকারে শুনুন

করকোরান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ‘বারবারা করকোরান’ মনে করেন, যেকোনো সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য শক্তিশালী কৌশল হলো মনোযোগ সহকারে তার কথা শোনা। আপনি যার কথা মনোযোগ সহকারে শুনবেন তিনি আপনাকে মূল্যায়ন করবেন এবং তার কাছে আপনি সম্মানের পাত্র হবেন। ব্যবসায় ভাল কাজ এবং মন্দ কাজ সম্পর্কে চোখ খোলা রাখুন। কর্মীদের কথা শোনার আগে বর্তমান ব্যবসায়ের অবস্থা কেমন বা ব্যবসায়ের অবস্থা কী এইসব জানতে চাওয়া কখনো কখনো নেতিবাচক হতে পারে। প্রেষণা প্রদানের মাধ্যমে তার থেকে উত্তর নিতে পারেন। তবে নীতিবান কর্মীকে গঠনমূলক সমালোচনা করার মাধ্যমে আরো কর্মঠ করতে পারেন।

ক্ষমতা প্রদান, জিজ্ঞাসা ও শোনা


ভাইনার মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ‘গ্যারি ভাইনারচুক’ বলেন, আমাদের কাজ হলো কর্মীদের ক্ষমতা প্রদান করা। আমার কর্মীরা জানে আমি সর্বদা বিজয়ী হতে চাই। আপনি তাদের নিশ্চিত করুন তাদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য, স্বপ্ন পূরণ নিয়ে আপনিও ভাবেন এবং তারা সুখে থাকুক সেটা আপনি প্রত্যাশা করেন। উক্ত প্রেরণা প্রদানের মাধ্যমে আপনি কর্মীদের কাজের প্রতি দ্বিগুণ উৎসাহী করতে পারেন।
কর্মীদের সাথে চমৎকার সম্পর্ক স্থাপনের জন্য মাঝে মাঝে তাদের ব্যক্তিগত খবরাখবর জিজ্ঞেস করুন যেমন, নতুন বাচ্চা কেমন আছে, কেমন যাচ্ছে তার দিনকাল ইত্যাদি।

সার্বিক অবস্থার উপর দৃষ্টিপাত


ড্রাপার এসোসিয়েটস এবং ডিএফজি এর প্রতিষ্ঠাতা ‘টিম ড্রাপার’ মনে করেন, চারদিকে নজর রাখুন অর্থাৎ সার্বিক অবস্থার ওপর দৃষ্টিপাত করুন। কর্মীরা কি করছে এবং কীভাবে করছে এই সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন। আপনি কি করতে চান, কিভাবে করতে চান, কাজ করতে কোন কোন বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে এই সম্পর্কেও তাদেরকে অবগত করুন।

লক্ষ্য অর্জনে প্রত্যকে কর্মীকে সহয়তা করুন


টম ফেরি ইন্টারন্যাশনালের সিইও এবং “লাইফ বাই ডিজাইন” এর লেখক ‘টম ফেরি’র ভাষায়, প্রত্যেক কর্মীকে লক্ষের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করুন। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আপনি কর্মীর সত্যিকারের অনুপ্রেরণার জায়গাটি শনাক্ত করতে পারবেন। এজন্য প্রয়োজন উপযুক্ত কার্যপরিবেশ। কর্মীদের সুষ্ঠুভাবে কাজের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশের সুব্যবস্থা করে দিন। তাদের জিজ্ঞাসা ও কাজের খবরাখবর জানার জন্য পৃথক পৃথক মিটিং এর ব্যবস্থা করতে পারেন অথবা সবাইকে নিয়ে একটি মিটিং কিংবা সভার আয়োজন করতে পারেন। ভালো কাজের জন্য তাদের প্রচুর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিন। মোটকথা একজন কোচ ও জবাবদিহিতার অংশীদার হিসেবে কাজ করুন যেন তারা তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারে।

ব্যবসায় নিজেকে অধিকতর সম্পৃক্ত করুন


ডগলাস এলিমেন এর সিইও ‘ডট্টি হারম্যান’ বলেন, ব্যবসায়ের কোন একটি প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে ধাপে কি হচ্ছে তা আপনি বুঝতে পারবেন না যদি ব্যবসায়ের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত না হন। মানব সম্পদ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে আপনি যদি সকল দায়ভার তাদের উপর দিয়ে রাখেন বিশ্বাস ভেঙ্গেও যেতে পারে। তারা প্রতিষ্ঠানের জন্য মুল্যবান। তারা সব কাজ সঠিকভাবে পালন করবে কিন্তু আপনাকে ব্যবসায়ে সম্পৃক্ত হতে হবে। মানুষ ভালোভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য অন্যের সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। যদি কোন কর্মী হতাশ হয়ে যায় তাহলে সেই কর্মীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাজটা কি কি কারণে হয়নি তা গুরুত্ব সহকারে শোনা উচিত। মোটকথা, আপনি আপনার কর্মীদের পরিচর্যা করুন তারা আপনার ব্যবসার পরিচর্যা করবে।

সম্পর্ক বজায় রাখুন
পোকার সেন্ট্রালের প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাতা ‘জো কাকাটি’ এর ভাষায়,  আপনার বাড়িতে কর্মীদের আগমন উন্মুক্ত করে দিন। আপনি মাঝে মাঝে কর্মীদের বাড়িতে চা’য়ের দাওয়াত নিতে পারেন। এভাবে ব্যক্তি সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যবসায়িক সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়, বিশ্বস্ততার সম্পর্ক স্থাপিত হয়, একে অন্যের প্রতি আস্থাবান হয়। ব্যবসায়ের লক্ষ্য অর্জনের জন্য পারস্পারিক সমঝোতার খুব প্রয়োজন।

কর্মীদেরকে নতুন কিছু করার সুযোগ দিন


ফায়ারচাইল্ড গ্রুপের সিইও এবং “ওয়ে অব দ্যা ওয়েলদি” এর লেখক ‘জন হান্না’ বলেন, কর্মীদের নতুন কিছু করার, দায়িত্ব নেয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করুন। তাদের সাথে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলুন। আপনি সঠিকভাবে তাদের শেখার ব্যাপারে গুরুত্ব দিন এবং ব্যর্থতা মোকাবেলা করার জন্য উৎসাহ প্রদান করুন। কর্মীদের নতুন কিছু আবিষ্কার করার সুযোগ দিন। এতে ব্যক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবসার উন্নয়ন হবে।

“এক বিভাগীয় প্রধানের কারণে আমার ব্যবসায় ৩০,০০০ ডলার ক্ষতি হয়েছে। পরদিন সকালে আমি একটি মিটিং এর আয়োজন করি। আমি এই ক্ষতির কথা মাথায় না নিয়ে বরং ব্যবসায়ের উন্নতি কীভাবে করা যায় তার আরো কৌশল বের করলাম এবং তাদের কাছে ব্যাখা করলাম’। এক পর্যায়ে সে আমাকে থামিয়ে বলেন ‘আপনি জানেন আমি ৩০০০০ ডলার ক্ষতির পেছনে দায়ী? আমি ভেবেছিলাম এই ক্ষতির জন্য আপনি আমাকে গুলি করবেন।”

Offline Abdus Sattar

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 455
  • Only the brave teach.
    • View Profile
    • https://sites.google.com/diu.edu.bd/abdussattar/
Abdus Sattar
Assistant Professor
Department of CSE
Daffodil International University(DIU)
Mobile: 01818392800
Email: abdus.cse@diu.edu.bd
Personal Site: https://sites.google.com/diu.edu.bd/abdussattar/
Google Scholar: https://scholar.google.com/citations?user=DL9nSW4AAAAJ&hl=en