Author Topic: One of the messengers of the Prophet (peace be upon him), Majza Shabba Meraaj  (Read 160 times)

Offline yousuf miah

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 168
    • View Profile
রজব মাস ইসলামের ইতিহাসে একটি গৌরবান্বিত মাস। এই মাসের ২৭ তারিখের রাতে শবে মেরাজে আল্লাহর দিদার লাভ করেন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আল্লাহর অসীম কুদরত শবে মেরাজের এই রাত নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। পুণ্য এই রাতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সৌভাগ্য লাভ করেন। নবুয়তের দ্বাদশ সালের রজব মাসের এক শুভ রাতে কাবা শরিফের হাতিম থেকে বোরাকযোগে ঊর্ধ্বাকাশে গমন এবং আল্লাহর দিদার ও সান্নিধ্য লাভ করেন। এই পুণ্য রাতে মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসংখ্য মোজেজার মধ্যে পবিত্র মেরাজ অন্যতম। মেরাজ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বেগমন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কা শরিফ হতে বায়তুল মোকাদ্দাস এবং বায়তুল মোকাদ্দাস হতে ঊর্ধ্বাকাশে গমন, সপ্ত আকাশ ভ্রমণ, নবীগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বেহেশত-দোজখ দর্শন এবং সিদরাতুল মোনতাহা পর্যন্ত গমন, সিদরাতুল মোনতাহা থেকে রফরফের মাধ্যমে আরশে আজিমে গমন, সেখান থেকে লা-মাকান ভ্রমণ এবং আল্লাহর দিদার ও সান্নিধ্য লাভ এবং সেখান থেকে পুনরায় মক্কায় আগমন এই বিস্ময়কর সফর বা ভ্রমণকেই এক কথায় মেরাজ বলা হয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেরাজ ছিল বাস্তব, শারীরিক ও আধ্যাত্মিক ঘটনা। মেরাজের কথা পবিত্র কোরআনের সূরা বনি ইসরাইলের প্রথম আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রিবেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত যার চারদিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি। যাতে আমি তাঁকে কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দিই। নিশ্চয় তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।’  ও সূরা নজমের প্রথম থেকে ১৭ নম্বর আয়াতে মিরাজের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসেও মেরাজ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার কাবা গৃহ থেকে বায়তুল মোকাদ্দাস, সেখান থেকে সপ্ত আকাশ পাড়ি দিয়ে সিদরাতুল মোনতাহা, তার ওপরে ৩৬ হাজার বছরের পথ পাড়ি দিয়ে আরশে গমন করেন এবং সেখান থেকে ৭০ হাজার নূরের পর্দা অতিক্রম করে একেবারে দিদারে এলাহিতে পৌঁছেন। সেখানে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলে পুনরায় মক্কায় উপস্থিত হয়েছিলেন। এটি সম্ভব হয়েছিল আল্লাহর কুদরতে। অতীতেও আল্লাহ অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। যেমন, বিশ্বাসীদের আদিপিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে আল্লাহতায়ালা নমরুদের অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা করেন এবং অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে বেহেশতি পরিবেশ সৃষ্টি করে তাকে জীবিত রাখেন। মাছের পেটের ভিতর জীবিত রেখেছিলেন হজরত ইউনুস (আ.)-কে। ফেরাউনের হাত থেকে বাঁচাতে হজরত মুসা (আ.)-এর জন্য নীলদরিয়ায় রাস্তা করে দিয়েছেন। হজরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহতায়ালা আকাশে নিয়ে গিয়েছেন এবং তাঁকে আবার এ পৃথিবীতে পাঠাবেন। মেরাজের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখা দিয়ে তাঁকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি উম্মতে মোহাম্মদিদেরও বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। শবে মেরাজের পবিত্র রাতে বেশি বেশি করে ইবাদত-বন্দেগি করা উচিত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সে তাওফিক দান করুন। আমিন।

bd protidin....