Author Topic: গল্প কথনের স্টাইলে ব্র্যান্ডিং করবেন কিভাবে?  (Read 742 times)

Offline masudur

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 164
  • I love teaching.
    • View Profile
    • Visit my website
মূল লেখা বেদ্রস কিউলিয়ান এর। এখানে অনুবাদ করা হয়েছে।

প্রতি বছর সবচেয়ে বিক্রিত বইয়ের তালিকার প্রথমেই বাইবেল থাকার অন্যতম একটা কারণ হলো – এটা তার শিক্ষাগুলো গল্পের মাধ্যমে দেয়। এবং আপনি যদি বাইবেল ছাড়া অন্য কোন বইয়ের কথা বলেন, যেটা বাইবেলের মতোই জনপ্রিয় এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে আছে, আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যে সেখানেও গল্পের ব্যবহার আছে।

মানুষ গল্প শুনতে ও সেটাকে নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখতে অভ্যস্ত। ধর্ম এ ব্যাপারটা অনেক আগেই ধরতে পেরেছিল, যে কারণে তারা সবাই গল্প ব্যবহার করেছে। কারো কাছে কোন তথ্য পৌঁছে দেয়া ও সেটা তার মাথায় আটকে দেবার সেরা মাধ্যম হচ্ছে গল্প।

এ ব্যাপারে নিজের একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলতে পারি- যখন আমি প্রথম দিকে বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা দেয়া শুরু করি, আমি আমার সেরা তথ্যগুলো কোন প্রকার গল্প বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়াই বলতাম। আমি তাদেরকে সোজাসুজি প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতাম, যা ব্যবহার করে আমি আমার কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছিলাম।

আমি ভাবতাম এটিই লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও তাদের দ্বারা কাজ করানোর জন্য যথেষ্ট। কিন্তু তার বদলে ঘরভর্তি মানুষ আমার কথায় ভদ্রভাবে মাথা ঝাঁকিয়ে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত।

এর কিছুদিন পর আমি যখন বক্তৃতাতে আমার ‘বিষয়, গল্প, উপমা’ ফর্মুলাটি ব্যবহার করা শুরু করলাম, তখন আমি মঞ্চ থেকে নামার সময় লোকজন অশ্রুসিক্ত চোখে এসে দাঁড়াতো। তারা আমাকে বলতো, অবশেষে তারা মূল বক্তব্যটি বুঝতে পেরেছে। এবং অন্ধকারে আলোর সন্ধান পেয়েছে। এখন তারা বাড়ি গিয়ে নিজেদের ব্যবসা রক্ষা করতে প্রস্তুত।

এখানে একটা শিক্ষণীয় ব্যাপার আছে- আপনি তাদেরকে কি রকম বোধ করাতে পেরেছেন, মানুষ সেটাই মনে রাখে। আপনি তাদের কি পরিমাণ তথ্য দিয়েছেন- সেটা নয়। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার দায়িত্ব হচ্ছে- পৃথিবীর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো ও তাদেরকে আপনার প্রকল্পের প্রতি আগ্রহী করে তোলা। এজন্য আপনাকে তাদের মনে জায়গা করে নেয়া ও তাদের আবেগকে তুলে ধরতে জানতে হবে।

সঠিক বিষয়, গল্প, উপমা

আপনাকে আরো বেশি সফল করার ব্যাপারে আমার ‘সঠিক বিষয়, গল্প, উপমা’ ফর্মুলাটি সাহায্য করতে পারে। চলুন একটা উদাহরন দেখে নেয়া যাক যাতে পুরো ব্যাপারটা আপনি সহজেই বুঝতে পারেন।

‘বিষয়’ হচ্ছে খুব সাধারণ। আপনার মূল কথাটি সরাসরি বলুন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আমি প্রায়ই মানুষকে একটা কথা বলি- ‘নেতৃত্ব সব সময় একটা সমস্যা, আবার নেতৃত্বই সব সময় সমাধান।’ আপনার বিষয়টি হতে হবে এরকম- সহজ ও সরাসরি।

এরপরেই আসে ‘গল্প’। এতে দেখাতে হয় ‘বিষয়’কে অনুসরণ না করার কুফল, এবং তারপর সেটাকে মেনে চলার সুফল। উদাহরণস্বরূপ উপরের বিষয়ের পর আমি সবসময় আমার নিজের নেতৃত্ব সংক্রান্ত সংকটের গল্প বলি। ২০১৩ সালে আমার কোম্পানি খুব বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলো। আমার অধিকাংশ কর্মীই কোম্পানির বিরুদ্ধে অসন্তুষ্ট হয়ে উঠেছিলো। আর যারা সরাসরি আমার বিপক্ষে ছিলো না, তারাও খুব অলস আর মন্থরগতিতে কাজ করছিলো।

সেইসময় আমি নিজেকে বলতাম- এসব কিছুই হচ্ছে কর্মীদের দোষে। কিন্তু আমি যখন আমার পরিবারের সাথে ক্যালিফের পাম স্প্রিং-এ ছুটি কাটাচ্ছিলাম, হঠাৎই  মনে হলো- এই পুরো বিশৃঙ্খল অবস্থার দায় আসলে আমার নিজের। নেতা হিসেবে আমি খুব ভীতু এবং আমিই অদক্ষ লোকদের কাজ করতে দিচ্ছি। আমি ছুটিকে অর্ধেকে নামিয়ে আনলাম ও বাড়ি ফেরার সময় আমার কেবলই মাথার মধ্যে ঘুরতে লাগলো- এখনই সময়, এখনই সময়। বাড়ি ফিরে আমি আমার পার্টনারসহ সবাইকে বরখাস্ত করলাম, যাদেরকে করা দরকার ছিল। নিজের ও কোম্পানির জন্য উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারন করলাম। এক কথায় আমি একজন সত্যিকারের নেতার মতো কাজ শুরু করলাম।

এটাই আমাদের ‘উপমা’র দিকে নিয়ে যাবে। ‘উপমা’ বিষয়টাকে আবারো উপস্থাপন করবে, তবে কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- নেতৃত্ব ব্যাপারটার উপমা হিসেবে আমি সবসময়ই একজন ভালো ও একজন খারাপ সামরিক অফিসারের মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে কথা বলি।

একজন ভালো অফিসার দৃঢ়তার সাথে সিদ্ধান্ত নেন ও তার বাহিনীর কাছে সেটা পৌঁছে দেন। এবং তিনি সবসময় আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলেন যেন তার বাহিনী মনে করে যে- তারা জয়ের পথেই আছে। অন্যদিকে একজন খারাপ সামরিক অফিসার নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে খুঁতখুঁত করেন ও তার বাহিনীর কাছে এর সমর্থন চান। এটা সবাইকে একটা আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। এবং তারা ভাবে কেউই আসলে নেতৃত্বে নেই।

আপনি যেকোন বার্তাকেই ‘বিষয়, গল্প, উপমা’ ফর্মুলাতে সাজাতে পারবেন। আর যদি এটা কখনো আপনার কাছে পুণরাবৃত্তির মতো শোনায়, তার মানে আপনি ব্যাপারটা ধরতে পেরেছেন। এটা শুধু তথ্য দেয়ার জন্য নয়, বরং শ্রোতাকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও নিজের জীবনে সেসব তথ্য প্রয়োগে উৎসাহিত করাটাই মূল ব্যাপার।

কেন সব ক্ষেত্রে আপনার গল্প দরকার

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে হলে আপনাকে ‘বিষয়, গল্প, উপমা’র ব্যবহার জানতে হবে। কারণ প্রমাণিত প্রায় সকল বিক্রয় পদ্ধতিই এই সূত্র বা কাছাকাছি কিছু মেনে চলে।

এবং এটা এখানেই শেষ না। আপনার টিমে সবচেয়ে প্রতিভাবান মুখগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াতেও আপনি এই টেকনিক কাজে লাগাতে পারেন। যেটা নিয়ে আমি আগেই বলেছি- আপনার এমন কর্মীর দরকার নেই যারা শুধু মাস শেষে বেতন নেয়ার জন্য কাজ করে।

তার বদলে আপনার দরকার একদল কর্মীর যারা কাজের ইতিবাচক ফলাফল আনতে পারে, যাদের উদ্যোক্তাসুলভ মনোভাব রয়েছে ও আপনার গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য অবিরত কাজ করে যাবে। সত্যি কথা বলতে- এমন কর্মী পাওয়া সহজ নয়। কিন্তু আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনি তাদেরকে আপনার ব্যবসাটি কেন আলাদা সেই গল্প বলে আকর্ষণ করতে পারছেন। আর সেসব উদ্যমী মানুষেরা আপনার জন্য ততটাই নিবেদিত হয়ে কাজ করতে চাইবে, যেন তারা নিজেদের কাজই করছে।

সেই সাথে একটা চমৎকার গল্প আপনার ব্যবসাকে একই রকম পণ্য বা সেবা প্রদানকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে আলাদা করে তোলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- আমি জো পোলিশের জিনিয়াস নেটওয়ার্কের সাথে বছরখানেক কাজ করেছি। কারণ আমি তার গল্পটা বিশ্বাস করেছিলাম। পোলিশ একজন মাদকাসক্ত ছিল। এবং নিজে ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার সাথে সে চাচ্ছিল মাদকাসক্তদের জন্য কাজ করতে। সেই সাথে যেসব মাদকাসক্ত একটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়, তাদের জন্য কাজের ব্যবস্থাও করছিল সে। এটা ছিল একটা অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ, যা আমাকে সেখানে কাজ করতে উৎসাহ দিয়েছিল।

কিন্তু আমার কোনো গল্প নেই, আমি কি করবো?

হ্যাঁ, আপনি করবেন। আপনাকে নিজের একটা গল্প খুঁজে বের করতে হবে। প্রথমে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন- কেন আপনি একজন উদ্যোক্তা হতে চান। আপনার কাছে নিজের ব্যবসার সাথে সাথে আরো অনেক বিকল্প ছিল। সেগুলো হয়তো আরো কম ঝুঁকিপূর্ণ ও নিরুদ্বেগ। তবু কেন আপনি এটাই পছন্দ করলেন?

যখন আপনি উত্তর পাবেন, নিজেকে আবার জিজ্ঞেস করুন- কেন? তারপর আবারও- কেন? এভাবে নিজেকে জিজ্ঞেস করতেই থাকুন ও উত্তরগুলো লিখে রাখুন। পাঁচ থেকে দশটি উত্তর লেখা হয়ে গেলেই আপনি আপনার গল্প পেয়ে যাবেন।

সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে- আপনার গল্পটি যতই আজগুবি কিংবা অন্যরকম হোক, আপনি যখন গল্পটি অন্যদের সাথে শেয়ার করবেন তখন আপনি নিজেই চারপাশের মানুষদের মুগ্ধতা ধরতে পারবেন। আপনি যদি তাদের ভেতর থেকে নিজের পার্টনার, কর্মী, গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে পারেন, তবে এটা হবে একটা শক্তিশালী ব্যবসায়ী সাম্রাজ্যের সূচনা।
Mohammad Masudur Rahman,
Lecturer,
Department of Computer Science and Engineering,
Faculty of Science and Information Technology,
Daffodil International University,
Daffodil Tower,
4/2, Sobhanbag, Mirpur Road,
Dhanmondi, Dhaka-1207.

Offline Nusrat Jahan Bristy

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 482
  • Test
    • View Profile
Lecturer in GED



Offline Mousumi Rahaman

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 827
  • Only u can change ur life,No one can do it for u..
    • View Profile
Mousumi Rahaman
Lecturer
Dept. Textile Engineering
Faculty of Engineering
Daffodil International University

Offline sheikhabujar

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 273
  • Life is Coding !
    • View Profile
    • Sheikh Abujar Personal Profile
Sheikh Abujar
Lecturer, Department of CSE
Daffodil International University
Cell: +8801673566566
Email: sheikh.cse@diu.edu.bd
Site: http://www.sheikhabujar.ml

Offline Raisa

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 759
  • Sky is the limit
    • View Profile
:)


Offline rakib.cse

  • Jr. Member
  • **
  • Posts: 92
  • Test
    • View Profile
Md. Rakib Hasan
Lecturer
Dept. of Computer Science & Engineering
Daffodil International University
102, Sukrabad, Mirpur Rd, Dhanmondi, Dhaka 1207, Bangladesh


Offline enamul17

  • Newbie
  • *
  • Posts: 39
  • Teaching is my passion
    • View Profile

Offline hussainuzaman

  • Newbie
  • *
  • Posts: 23
  • পরিবর্তন আসবেই!
    • View Profile
    • Website
চমৎকার লেখা।
অনুপ্রানিত করা যায় কিভাবে সেটা বেশ ভালভাবে বুঝা গেলেও ব্র্যান্ডিং-এর বিষয়টা অবশ্য আমার কাছে এখনও পরিষ্কার হয় নি।
Miah M. Hussainuzzaman, Dept. of CE.
ব্লগ: ১। পরিবেশ প্রকৌশলীর প্যাচাল, ২। খিচুড়ী ব্লগ

Offline Nusrat Jahan Bristy

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 482
  • Test
    • View Profile
Lecturer in GED