Author Topic: World Cup 2018  (Read 161 times)

Offline Shihab Ahammed

  • Newbie
  • *
  • Posts: 36
  • Test
    • View Profile
World Cup 2018
« on: May 22, 2018, 12:14:07 AM »
১৯৭৮ এ আর্জেন্টিনা ওয়ার্ল্ড কাপ প্রথম বারের মতো জিতলো। দুঃখজনক ভাবে আমার জন্ম হয়নাই সেই সময়।

১৯৮২ তে আমি গ্যাদা বাচ্চা। বল কি জিনিস বুঝতাম না। না বুঝে ভালোই হয়েছে। আর্জেন্টিনা সেকেন্ড রাউন্ডে ইটালী আর ব্রাজিলের সাথে রাম ধরা খেয়ে ওই রাউন্ডেই বাদ।

এরপর ১৯৮৬ তে আবার জিতলো। ওই সময়ও খেলা তেমন বুঝতাম না। হা করে টিভির দিকে তাকিয়ে থাকতাম। কিন্তু মনে আছে হাল্কা হাল্কা ম্যারাডোনার ওয়ার্ল্ড কাপ চুমু দেয়া টা। ছোটো খাটো মায়াবী চেহারার ম্যারাডোনা ই আমার সর্বনাশ করলো। হয়ে গেলাম আর্জেন্টিনার ফ্যান।

এরপর ১৯৯০। ইটালী তে খেলা হচ্ছে। আমি থাকতাম মিরপুর। ক্লাস সিক্সে পড়তাম। পুরা বেধে ছেদে খেলা দেখতে বসলাম। আমরা ভাই বোন আর আমার মামাতো ভাই বোন। সবাই ব্রাজিলের সাপোর্টার। কষ্টজনক হলেও সত্যি আমি একা ই আর্জেন্টিনা। আমার মনের দু:খ ঘোচানোর জন্য বেচারি আম্মা খেলা টেলা তেমন না দেখলেও ডিক্লেয়ার করলো, আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। মনে সাহস নিয়ে খেলা দেখছি। আমার মা আমার সাথে আছে। মাদার পাওয়ার! মাদার পাওয়ারে আর্জেন্টিনা প্রথম খেলা তেই ক্যামেরুনের মতো ল্যাদা (সে সময় ওরা প্রথম খেলছিলো) দলের কাছে লাড্ডা খেলো। আমার সেই কি কান্না। আমার মনে আছে ঠিক ওই দিন রাতে আমার অনেক আদরের খালাতো বোনের জন্ম। আমার খালু সুসংবাদ টা দিলেন। আমার খুশি ও লাগলো না। যাক, আমার নবাগত বোনের বেহেশতি শক্তি তে সোভিয়েত কে হারাইলো, রুমানিয়া র সাথে ড্র কইরা ল্যাংচাইতে ল্যাংচাইতে সেকেন্ড রাউন্ডে উঠলো। এরপর সেকেন্ড রাউন্ডে আমার বাসার তিন জন ব্রাজিল আমি আর্জেন্টিনা আর অবাক হইয়া দেখি! আমার আম্মা জান টুক কইরা ব্রাজিলের সমর্থক হইয়া খেলা দেখতাসে। দশ কেজি ভারী হৃদয় নিয়ে খেলা দেখছি। সেই খেলা! স্বপ্নের খেলা! ক্যানিজিয়া গোল কইরা আর্জেন্টিনা কে উঠায়া দিলো কোয়ার্টার ফাইনালে। এরপর যুগোস্লাভিয়া রে পিনাল্টি শুট এ হারায়া আর ইটালী কে আমার সেই সময়ের নায়ক গোলকিপার গয়কোচিয়া হারকিউলিস হয়ে দেয়ালের মতো ইটালী কে রুখে দিলো। আর্জেন্টিনা ফাইনালে!!!

আমার স্বপ্ন পূরন হতে চল্লো। কিন্তু না!!! ফাইনালে সেই হারামী রেফারি ভুয়া পিনাল্টি দিয়ে আর্জেন্টিনার মনোবল কে ধ্বসিয়ে দিলো। পশ্চিম জার্মানী চ্যাম্পিয়ন। চোখ ভরা আমার পানি। আম্মা কয় কাদিস না, আগামী বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা কাপ জিতবে। আমি বলি, তুমি আর কথা ই কইও না। কিন্তু আমি ও আর্জেন্টাইন ফ্যান! কত গম এ কত রুটি দেখায়া দেবো।

১৯৯৪ এ আমি ক্লাস টেনে। আমেরিকায় খেলা হচ্ছে। মামার বাসায় চলে যেতাম খেলা দেখতে। সবাই ব্রাজিল। আমি আমার আমার মামাতো ভাই (উনি ২০১২ তে ইন্তেকাল করেছেন) শুধু আর্জেন্টিনা। আমরা পতাকা টতাকা লাগিয়ে পুরা হৈচৈ বাধিয়ে ফেলেছি। বাকি সবাই মুখ টিপে হাসে। আমরা এই যাত্রায় সবাই কে এক হাত দেখে ছাড়বো। মনে আছে, প্রথম খেলায় গ্রীস কে পুরা কোপানি দিলো। বাতিস্তুতা হ্যাট্রিক, আমাদের ম্যারু গোল দিলো। চার শূন্য। এই বছর খেলা হপ্পে মামা!!! পরের খেলায় নাইজেরিয়া কে হারাইলো। উফ!! চখাম! পতাকা বড় কিনতে হবে! আমরা প্ল্যানিং করতাসি। এই অবস্থায় আমাদের চাইল্ডহুড হিরো ম্যারাডোনা ডোপ কেসে ফাইসা গেলো। ম্যারাডোনা ছাড়া আর্জেন্টিনা বুলগেরিয়ার কাছে হাইরা সেকেন্ড রাউন্ডে উঠলো ঠিকই, কিন্তু হাড্ডাহাড্ডি খেলায় রুমানিয়া র কাছে হেরে গেলো। ম্যারাডোনা কে খুব মিস করতাসিলাম। আবার চোখে পানি। পতাকা নামিয়ে ফেললাম। মনে বড় কষ্ট। আম্মা বলে, নেক্সট বার, হবেই হবে। মিস নাই। আমি ও মন শক্ত করলাম ১৯৯৮ এর ফ্রান্সের বিশ্বকাপ এর জন্য।

১৯৯৮ এ। আমি ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। বুয়েটে। ক্লাস শুরু হতে দেরী। বেশ সময় হাতে। আরাম করে ছক কষে খেলা দেখার প্রস্তুতি। ৩০০ টাকা দিয়ে জার্সি কিনলাম সেই আমলে। আর্জেন্টিনা বলে কথা। এই বার এস্পার কি ওস্পার! এই বার জাপান বেশ টাফ দল, ক্রোয়েশিয়াও। কিন্তু ভয় কে জয় করে টপাটপ তিন খেলায় জিতে গেলো। জাপান, জ্যামাইকা আর ক্রোয়েশিয়া। এরপর সেকেন্ড রাউন্ডে ইংল্যান্ড কে কোপ দিলো পিনাল্টি শুট আউটে। নড়ে চড়ে বসলাম। খেলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে এই বার বিশ্বকাপ টা হাতের নাগাল এ। বাতিস্তুতা, ভেরন, আয়ালা, সিমোনে সবাই পুরা ক্ষুরধার! কিন্তু!!! গেলো! নেদারল্যান্ড এর সাথে ১-১ গোলে থেকেও লাস্ট মিনিটে ডেনিস বার্গক্যাম্প গোল করে আবার আমার চোখে পানি এনে দিলো! আবার গেলো বিশ্বকাপ। চোখে পানি নিয়ে প্রমিজ করলাম। আর খেলাই দেখুম না। আর না! অনেক হইসে! আমার বোন আর আম্মা পোলাও রেধে খাওয়ালো। মনের দু:খ কিছু টা গেলেও, পুরো টা কি আর যায়? একটু হাল্কা বোধ করলাম ফাইনালে ফ্রান্সের ব্রাজিল বধ দেখে। পুরা ৩ খানা গোল খেলো ব্রাজিল। বেশ শান্তি শান্তি একটা ব্যাপার।

২০০২ সাল। বুয়েটের বন্ধু গুলাও বেশীর ভাগ ব্রাজিল। ওরে আমার কপাল রে!!! ও তুই আর্জেন্টিনা র সাপোর্টার! যা, দূরে গিয়া মর!

আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দাতে দাত চেপে খেলা দেখতে বসেছি। প্রথম খেলায় নাইজেরিয়া রে কোপ মারলো। দ্বিতীয় খেলায় ইংল্যান্ড এর সাথে খেলো বাশ। এরপর সুইডেনের সাথে ড্র। চোপা লক। আর্জেন্টিনা সেকেন্ড রাউন্ডে উঠলো না। মনের দুঃখে দুই দিন বুয়েটে গেলাম না। কারন? ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন। মুখ দেখাবো কিভাবে? যাক, এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে। ২০০৬ সালের জন্য আবার অপেক্ষা। আবার স্বপ্ন। আবার সেই আশা।

২০০৬ সালে আমি জব করি। কি মুশকিল! এখানেও বেশির ভাগ ব্রাজিল সাপোর্টারস। কই যাই! আমার মিজাজ মুজাজ ফট্টি নাইন! এই বার কিছু না হইলে আত্মহত্যা ছাড়া উপায় নাই। শুরু টা দারুন! আইভরিকোষ্ট আর সার্বিয়া কে পুরা কোপায়া দিলো। ক্রেসপো, হার্নান্দেজ আর মেসি সেই খেলা দেখাইলো। নেদারল্যান্ড এর সাথে ড্র করলো। সেকেন্ড রাউন্ডে মেক্সিকো কে হারালো। আবার সেই ক্রেসপো। কিন্তু কি আশায় বাধি খেলা ঘর! কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানি র সাথে পেনাল্টি শুট আউটে আউট হয়ে গেলো। খুব মনে পড়লো গয়কোচিয়া কে। আবার চোখে পানি। আব্বা বলে, বুইড়া পোলা, কান্দিস ক্যান! আমি মনে মনে ভাবি, হায়রে ব্রাজিল সাপোর্টার, আমার কষ্ট তুমি কেমনে বুঝবা! বুক টা ভেঙ্গে গেলো। মন টা ঠান্ডা হলো, ব্রাজিল ও ফ্রান্সের কাছে খাইলো ধরা! আমার বাপের ও মন খারাপ। দুই জন মনের দুখে জার্মান কে সাপোর্ট করলাম। সেমিতে জার্মান ও ইটালীর কাছে ধরা খাইলো। ধুর্বাল! খেলাই দেখুম না!

২০১০ এ বেশ প্যাসিমিস্টিক ভাব নিয়া খেলা দেখা শুরু করলাম। প্যাসিমিস্টিক হইয়া লাভ হইলো। আর্জেন্টিনা রাউন্ডে তিন দল কে উড়াইয়া দিলো। ওরে মেসি রে! কি তার পায়ের কাজ! নাইজেরিয়া, সাউথ কোরিয়া আর গ্রীস কে উড়িয়ে দিলো। ভেরন, হিগুয়াইন তো পুরা কোপানি ফর্মে। আমি তবুও আমার ইমোশন কন্ট্রোল করলাম। এক্কেবারে চুপ। কোনো কথা হবে না। খালি কোপ হবে, কোপ! সেকেন্ড রাউন্ডে তেভেজ আর হিগুয়াইনের জাদু তে মেক্সিকো রে পাত্তা ই দিলো না। এই না হইলে আমার আর্জেন্টিনা!! এই বার সেই অধরা স্বপ্ন পূরনের পালা। মনের আনন্দে জার্সি পড়ে ঘুরে বেড়াই। কিন্তু!!! কোয়ার্টারে আবার সেই ডগি জার্মান শেফার্ড! দিলো এক হালি গোল। কি করুম। কান্দুম! না হাসুম? হিগুয়াইনের তো হাগু বের হবার দশা। পুরা ই ফাউল খেল্লো আর্জেন্টিনা। নাহ! এদের সাপোর্ট করা ভুল হইসে! কিন্তু করবো টা কি! ২৪ বছর আগে থেকে মনের প্রথম প্রেম আমার আর্জেন্টিনা! কিছুই করার নাই। যাক, এই বছর টা যাক, আগামী বছর আমরা ফিরে আসছি আবার! যাক, আমার বাপের দল ব্রাজিল ও নেদারল্যান্ড এর সাথে ধরা খাইসে। বেশী খোঁচাখুঁচি করবে না। আমার বাপ কয়, চোখে পানি ক্যান? আমি কই, আরে আম্মা পিয়াজ কাটতাসে, পিয়াজের ঝাক লাগসে।

আম্মা কয়, পিয়াজ এই অবেলায় কাটুম ক্যান। বাচ্চা মেয়ে দের মতো ঢং কইরা কান্দিস না। খেলা তো খেলাই। ব্রাজিল ও তো হারসে। পরের বার হবেই হবে। আমি মন শক্ত করলাম।

ফেইলিওর ইজ দ্যা পিলার অফ সাকসেস। সেই হিসাবে আর্জেন্টিনা মোটামুটি পিলারের দোকানদারি দিয়া ফেলসে। যাক, ২০১৪ তে এই দোকান থেকে ছাদ টা ও ঢালাই হইয়া যাবে ইনশাল্লাহ।

২০১৪ তে আমি বিবাহিত। আমার বউ খেলা টেলা তেমন দেখে না, কিন্তু সাপোর্ট করে ব্রাজিল কে। কি এক জটিল সমস্যা! অভাগা যেদিকে যায়, সাগর শুকায়ে যায়। এরপর ও সাহস করে একটা ৩২০০ টাকা দিয়ে অরিজিনাল জার্সি কিনে ফেললাম। এবার আমি খুব ডেস্পারেট। আর্জেন্টিনা র জিততেই হবে ওয়ার্ল্ডকাপ। সবাই যত ই পচাক, আমাদের মেসি আছে, আমাদের আছে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, আর আছে হিগুয়াইন। আর্জেন্টিনার রেগুলার নেইবার নাইজেরিয়া পাত্তা পেলোনা যথারীতি। মেসি ফাটায়া খেল্লো। এরপর, ইরান আর বসনিয়া কে ও বধ করলো আমার প্রানের দল।

আমি খুব বেশী কনভিন্সড না। ফার্স্ট রাউন্ডে সব সময় আর্জেন্টিনা ফাটায়, আরর পরে যাইয়া নিজে ফাটে। সো, এতো কাপাকাপির কিছু নাই। আমি রিসার্চে বসলাম। আর্জেন্টিনা ৪-৪-২ এ খেলবে নাকি ৪-৩-৩ এ খেলবে?

সেকেন্ড রাউন্ডে আর্জেন্টিনা আরো অ্যাটাকিং! মিড ফিল্ড খুব ই অর্গানাইজড। সুইজারল্যান্ড এর সাথে খুব সহজ জয় না পেলেও এক্সট্রা টাইমে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া সেই এক গোল দিয়ে আর্জেন্টিনা কে নিলো কোয়ার্টার ফাইনালে। এবার ই ধাক্কা খাবার সময়। কোয়ার্টার ফাইনাল এর উপর যেতেই আমার দলের ঘাম ছুটে যায়।

কিন্তু আমার ভয় দূর করে বেলজিয়াম কে হারিয়ে আর্জেন্টিনা সেমি তে উঠে গেলো। হিগুয়াইন প্রথম দিকেই একটা গোল দিয়ে আর্জেন্টিনা কে এগিয়ে দিলো। এরপর খেলা টা খাপ ছাড়া হলেও আর্জেন্টিনা যা করার করে ফেল্লো। আমি আনন্দে বাসায় চাইনিজ নিয়ে এলাম।

সেমি তে ব্রাজিল ১-৭ গোলে জার্মানি র কাছে হেরে গেলো। উপরে উপরে আনন্দ পেলেও মনের ভেতর চরম ভয়। না জানি ভয়াবহ নেদারল্যান্ড এর সাথেও না আর্জেন্টিনা র এমন হয়! কিন্তু সারা খেলা আর্জেন্টিনা খেল্লো পুরা ডিফেন্সিভ। ব্রাজিলের হার বেশ ইফেক্ট করেছে বোঝা গেলো। টাইব্রেকার এ রোমেরোর কড়া গোলকিপিং এ আর্জেন্টিনা ফাইনালে পৌঁছে গেলো। আমার স্বপ্ন পূরনের আর এক টা খেলা।

ফাইনাল হবে ব্রাজিল কে ৭ গোল খাওয়ানো জার্মানির সাথে। দূর্দান্ত খেলা হচ্ছিলো। জার্মান একটু বেশীই ভালো খেলছিলো। এরপর ও খেলা গেলো এক্সট্রা টাইমে। একে বারে শেষ বাশি বাজার আগে,

আমার স্বপ্ন টা আবার ও খানখান করে গোয়েটজের গোলে জার্মান বিশ্বকাপ জয়ী হয়ে গেলো। কেনো বার বার এমন হয়? এবার তো খুব কাছে চলে এসেছিলো। তবুও হলো না! আবার ও কষ্ট। আবার ও নতুন করে স্বপ্ন দেখা। ক্লান্ত লাগছে খুব।

সাল ২০১৮।

আর মাত্র ২৪ দিন পর বিশ্বকাপ। আমি আবার সব জোগাড় যন্ত্র করে বসেছি। জার্সি, কফি মগ, পতাকা, সব কেনা শেষ। এখন শুধু অপেক্ষার পালা। এবারের আর্জেন্টিনা নিয়ে আমার আশা কম। অপেক্ষাকৃত দূর্বল দল। মেসি একা আর কত দূর করবে! তবু ও আশায় বুক বেধেছি। স্বপ্ন না দেখলে কি আর বেচে থাকার আনন্দ আছে? প্রতীক্ষায় আছি বিশ্বকাপ ফুটবলের। মহা আনন্দে খেলা দেখবো এবার।

অবশ্যই সাপোর্ট করবো আর্জেন্টিনা কে। আমার মেসি কে।



Collected
Shihab Ahammed
Lecturer, Civil Engineering
Permanent Campus
Daffodil International University