Author Topic: খাই খাই ভাব কী করে কমাবেন  (Read 168 times)

Offline smsirajul

  • Newbie
  • *
  • Posts: 39
  • Test
    • View Profile
খাই খাই তাঁদেরই বেশি হয়, যাঁরা খাওয়া নিয়ে খুব কড়াকড়ি করেন৷ ধরুন, দিনে এক হাজার ক্যালোরির কম খান বা ওজন কম রাখার তাগিদে ভাত–রুটি–আলু তথা সব কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছেন, আপনার কিন্তু বিপদ আছে৷ ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোতে হওয়া গবেষণার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র তিনদিন এই রুটিন চালালে শরীরে লেপটিনের (খাওয়ার পর তৃপ্তি আনে যে হরমোন) পরিমাণ প্রায় ২২ শতাংশ কমে যায়৷ ফলে চতুর্থ দিনে কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্খা জাগে৷ এবং সে বাবদ মোটামুটি ৪৪ শতাংশ বেশি ক্যালোরি খাওয়া হয়ে যায়৷ তাহলে যাঁরা নিয়মিত এ রকম করেন, তাঁদের কী হাল হয় বুঝতেই পারছেন৷ হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও ওজন বাড়ে৷ ডায়াবেটিস থাকলে তার হাল খারাপ হয়৷ হাইপ্রেশারের রোগীর প্রেশার বাড়ে৷ কোলেস্টেরল–ট্রাইগ্লিসারাইড, ফ্যাটি লিভার, সবই বাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে৷মোটা মানুষদের আবার অন্য বিপদ৷ এমনিতে তাঁদের শরীরে লেপটিনের কমতি নেই কিন্তু তার অধিকাংশই অকার্যকর৷ ফলে তাঁদের অনেকের মধ্যেই খাই–খাইভাব প্রবলভাবে বিদ্যমান৷

না, তার মানে এই নয় যে লেপটিনই একমাত্র ভিলেন৷ কর্টিজোল নামে স্ট্রেস হরমোনও আছে এই তালিকায়৷ টেনশন বাড়লে শরীরে এর ক্ষরণ বাড়ে৷ আর ব্রেন তখন রিল্যাক্সড হওয়ার রাস্তা খোঁজে মিষ্টি–চর্বিতে ঠাসা কমফর্ট ফুডের মধ্যে৷ মানুষ দুনিয়া ভুলে খেতে থাকেন৷

সমস্যা বাড়ে যদি ঘুমের সমস্যা থাকে, সে স্ট্রেসের কারণে হোক কি লেট নাইটের কারণে৷ ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো–তে হওয়া এক স্টাডি থেকে জানা যাচ্ছে, মাত্র কয়েক রাত ভাল করে না ঘুমোলেই লেপটিনের পরিমাণ প্রায় ১৮ শতাংশ কমে যায়৷ ৩০ শতাংশ বাড়ে ঘ্রেলিনের পরিমাণ৷ দুইয়ের প্রভাবে খিদে বাড়ে৷ স্টার্চি খাবার, মিষ্টির প্রতি আসক্তি বেড়ে যায় প্রায় ৪৫ শতাংশ৷

ভাবছেন, এ সব ঝামেলা নেই, তাই আপনি বিপন্মুক্ত? তা না-ও হতে পারে৷ হরমোন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক সতীনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের শরীরে লুকিয়ে আছে কিছু কঞ্জুস (থ্রিফ্টি) জিন৷ আদিকালে যখন অত কথায় কথায় খাবার পাওয়া যেত না, তখন এর কাজ ছিল, যত কম ক্যালোরিই খাওয়া হোক না কেন, তার থেকে ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা জমিয়ে রাখা৷ সে স্বভাব এখনও আছে তার৷ তাই সে ক্রমাগত মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে হাই ক্যালোরি খাবার খেতে, যাতে ভাল করে ক্যালোরি সঞ্চয় করা যায়৷ ইচ্ছাশক্তি প্রবল না হলে বা আসক্তি কাটানোর ট্রিক যথাস্থানে প্রয়োগ করতে না পারলে মিষ্টি, চর্বিসমৃদ্ধ বা নোনতা খাবারের সামনে তাই প্রতিরোধ হারিয়ে যাওয়া কোনও বড় ব্যাপার নয়৷’’
আসক্তি কাটানোর ট্রিক

১) প্রবল খিদের মুখে হাই ক্যালোরি ভাজা বা প্রসেস্ড ফুডের আসক্তি বাড়ে৷ কাজেই খিদে মাত্রা ছাড়ানোর আগেই স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে নিন কিছুটা৷ কখন কী খাবেন তার মোটামুটি একটা প্ল্যান যেন থাকে৷

২) খাবারে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন থাকে৷ ওবেসিটি জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধ থেকে জানা যাচ্ছে, খাবারের মোট ক্যালোরির ২৫ শতাংশ প্রোটিন থেকে এলে ভুলভাল খাবার খাওয়ার প্রবণতা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যায়৷ গভীর রাতে বসে বসে ভাজাভুজি খাওয়ার প্রবণতাও হয়ে যায় প্রায় অর্ধেক৷

৩) চিউয়িং গাম মুখে রাখলে মিষ্টি এবং নোনতা খাবারের আসক্তি কিছুটা কমে বলে জানা গিয়েছে৷ তবে তা যেন সুগার–ফ্রি হয়৷ নাহলে আবার কিছু ক্যালোরির ধাক্কা৷

৪) শরীরে জলের ঘাটতি না হলে খাই খাইভাব একটু কমই হয়৷ কাজেই কী ধরনের কাজ করেন তার উপর নির্ভর করে দিনে কম করে আড়াই–তিন লিটার জল খান৷

৫) ঘুম কম হলে ভাজা বা মিষ্টির প্রতি আসক্তি বাড়তে পারে৷ সে বিপদ এড়াতে কাজে আসে ক্যাফেইন৷ কাজেই চিনি ছাড়া কালো চা বা কফি খান দু’–চার কাপ৷ তবে এ হল কুইক ফিক্স, কোনও স্থায়ী সমাধান নয়৷ স্থায়ী ফল পেতে ঘুমের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করুন৷

৬) রাগ, দুঃখ, স্ট্রেস বাড়লে গ্লুকোজসমৃদ্ধ কমফর্ট ফুড খেয়ে ফেলার চান্স প্রতি পদে৷ সে বিপদ এড়াতে গান, ব্যায়াম, আড্ডা বা পছন্দের কোনও বিষয়ে ডুবে যান৷ এক–একটা ক্রেভিংয়ের মুহূর্ত থাকে ৩–৫ মিনিট৷ সে সময়টুকু কাটিয়ে দিতে পারলে বিপদ কমে যায়৷

৭) যা খেতে ইচ্ছে করছে তা না খেলে যদি অসহ্য লাগে ও অন্য উল্টোপাল্টা খাবার খেয়ে ফেলার প্রবণতা বাড়ে, ঠিক করুন, ১৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়ামের পর পছন্দের জিনিসটি অল্প করে খাবেন৷ এতে দু–ভাবে কাজ হয়৷ হয় মিনিট ১৫–র মধ্যে ক্রেভিং চলে যায়৷ আর না গেলে হাইক্যালোরি খাবার খাওয়ার আগে কিছুটা অন্তত ক্যালোরি ঝড়ে৷ তবে যাঁরা পছন্দের জিনিস খেতে শুরু করলে আর থামতে পারেন না, তাঁদের এ পথে না হাঁটাই ভাল৷

৮) চারদিকে পছন্দের খাবার ছড়ানো থাকলে নিজেকে সামলানো খুব কঠিন ব্যাপার৷ কাজেই ঘরে হাইক্যালোরি খাবারের স্টক করবেন না৷ চলাফেরা করার চেষ্টা করবেন এমন এলাকায় যেখানে সেই সব খাবারের নামগন্ধও নেই৷ পার্টিতে যাওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন৷

পার্টির প্রস্তুতি

ড্রিঙ্ক করুন ধীরে ধীরে৷ সঙ্গে রোস্টেড বাদাম, স্যালাড, চিজ–পাইন্যাপেল খান অল্প করে৷ বাদাম–চিজের প্রোটিন ও স্যালাড–ফলের গ্লুকোজ ক্রেভিং কম রাখতে সাহায্য করে৷ মাঝেমধ্যে দু’–এক সিপ করে জল খান৷ যে খাবারে সবচেয়ে বেশি আসক্তি, সেটা খান সবার শেষে, যখন আর খুব বেশি খাওয়ার মতো জায়গা থাকবে না পেটে৷

‘‘বুফের লাইনে ঠেলাঠেলি না করে অপেক্ষা করুন৷’’বললেন চিকিত্সক মুখোপাধ্যায়৷‘‘কম ক্যালোরির একটা পদ, স্যালাড বা স্যুপ অল্প করে নিয়ে ৫–৭ মিনিট ধরে খান৷ পরের পদের জন্য আবার লাইন দিন৷ এই করে মোটামুটি ৩০ মিনিট কাটিয়ে দিন৷ ব্রেনে তৃপ্ত হওয়ার সিগন্যাল পৌঁছতে ২০–৩০ মিনিট সময় লাগে৷ সেটুকু সময় দিলে ওভারইটিং এড়ানো সহজ হয়৷ বসে খাওয়ার সুযোগ থাকলে আরও ভাল৷ কারণ একটার পর একটা পদ আসতে যে সময় যায় তাতে ২০–৩০ মিনিট এমনিতেই লেগে যায়৷’’

কোনটার বদলে কোনটা

ক্রেভিংয়ের ক্ষতি এড়াতে কোনটার বদলে কোনটা খাবেন সেটা জানা খুব জরুরি৷ যেমন ধরুন, চিনির বদলে সুগার সাবস্টিটিউট খেয়ে ভাবলেন হাই ক্যালোরির ধাক্কা সামলেছেন, আসলে হল ঠিক এর উল্টো৷ চিনির গ্লুকোজ ব্রেনের স্যাটাইটি সেন্টারে উদ্দীপনা নিয়ে আসে বলেই মিষ্টি খেয়ে তৃপ্তি হয়৷ কিন্তু সুগার সাবস্টিটিউটে তো গ্লুকোজ নেই, ফলে তা খাওয়ার পরেও আপনি অতৃপ্ত থেকে গেলেন৷ মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্খা সারাদিন ধরে তাড়া করে বেড়ালো৷ সেই ক্রেভিংয়ের তাড়নায় উল্টোপাল্টা ক্যালোরি শরীরে ঢুকল অনেক৷‘‘সে জন্যই যাঁরা চিনি ছাড়া চা–কফি খেতে পারেন না, তাঁদের আমরা সুগার সাবস্টিটিউটের বদলে অল্প করে চিনি দিয়েই খেতে বলি৷ খুব মোটা মানুষ বা ডায়াবেটিকদেরও৷ এতে দিনভর মিষ্টির প্রতি ক্রেভিং কম থাকে৷’’বললেন সতীনাথবাবু।

অন্য খাবারের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার প্রযোজ্য৷ এমনভাবে চলতে হয় যাতে খাওয়ার আকাঙ্খাও মেটে, ক্ষতিও হয় না শরীরের৷ যেমন,পট্যাটো চিপ্সের বদলে খান স্বাস্থ্যকর কাজু, চিনেবাদাম বা আখরোট৷ তাতে মন না ভরলে অল্প করে পপকর্ন খেতে পারেন৷

চকোলেট আসক্তি মাত্রা ছাড়ালে ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ অ্যামন্ড খেয়ে দেখুন৷ কাজ না হলে মিল্ক চকোলেটের বদলে খান ৭০ শতাংশ কোকসমৃদ্ধ ডার্ক চকোলেট৷ অল্প খেলেই ক্রেভিং মিটবে৷

ক্যান্ডি বা পেস্ট্রির বদলে খান টাটকা মিষ্টি ফল৷ কিসমিস, প্রুন বা খেঁজুর খেলেও কাজ হবে৷

কোল্ডড্রিঙ্কের তেষ্টা মেটাতে জিরো ক্যালোরি ভারসান খেলে হবে না৷ সাধারণ কোল্ডড্রিঙ্কের সঙ্গে জিরো ক্যালোরি অর্ধেক অর্ধেক মিশিয়ে খান৷ ক্যালোরি কিছুটা কম ঢুকবে, ব্রেনও তৃপ্ত থাকবে৷ ফলের রস মেশানো স্পার্কলিং ওয়াটার খেতে পারলে তো কথাই নেই৷
Md. Sirajul Islam
Assistant Coordination Officer
Daffodil International University
Daffodil Tower-6, Uttara Model Town,
Dhaka-1230

Offline milan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 304
  • Test
    • View Profile
    • https://daffodilvarsity.edu.bd/page/show_page_detail/coordination-offices
We should control ourself
Milan Hossain
Sr. Coordination Officer
Department of Civil Engineering
Faculty of Engineering
Cell: 01847140165
e-mail: ceoffice@daffodilvarsity.edu.bd
Ext. 258
https://daffodilvarsity.edu.bd