Author Topic: প্লাস্টিকের চাল কি আসলেই বাজারে  (Read 106 times)

Offline Rafiz Uddin

  • Newbie
  • *
  • Posts: 25
  • Test
    • View Profile
প্লাস্টিকের চাল নামক গুজবের কথা নিয়ে এ পোস্ট।
প্লাস্টিকের ডিমের মত এটিও একটি পরিষ্কার গুজব। ধরুন, বাজারে প্লাস্টিকের চাল আছে। তাহলে প্রথম প্রশ্ন প্লাস্টিকের চাল দেখতে কেমন হবে, ধরে নেই দেখতে একেবারেই সাধারন চালের মত। পরের প্রশ্ন ওজন কেমন? প্লাস্টিক তৈরি হয় পলিথিন নামক পলিমার যৌগ থেকে অন্যদিকে চালে থাকে স্টার্চ যেটা এমাইলোজ এবং এমাইলোপেটিন এর সংমিশ্রন। পলিথিন এর বৈশিষ্ট্য অনুসারে এটি স্টার্চের তুলনায় অনেক হালকা। সুতরাং একই পরিমান আসল চাল আর প্লাস্টিকের চাল দু হাতে নিলেই ওজনের পার্থক্য বোঝা যাবে।

প্লাস্টিক কি সিদ্ধ হয়? আপনার হাতের কাছে যদি কোন প্লাস্টিকের টুকরা থাকে সেটাকে পানিতে চুবিয়ে সিদ্ধ করার চেস্টা করুন। দেখুন সিদ্ধ হয় কিনা। বাজারে ৩ ধরনের প্লাস্টিক পাওয়া যায়, হাই, মিডিয়াম এবং লো ডেনসিটি। লো ডেনসিটি প্লাস্টিকের গলনাংক ১০৫-১১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস, হাই ও মিডয়ামের গলনাংক ১১৫-১২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ফুটন্ত পানির তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস সুতরাং ফুটন্ত পানিতে প্লাস্টিক গলবেনা এবং প্লাস্টিকের চাল বানালেও তা ফুলে ভাত হবে না। যরি হয় ও তা আপনি চিবিয়ে খেতে পারবেন না (প্লাস্টিক চিবিয়ে খাবার চেস্টা করে দেখুন)। আর যদি খেয়েও ফেলেন তাহলে হজম করতে পারবেন না কারন প্লাস্টিক হজম হয়না, হয় বেরিয়ে যায় বা ব্লক তৈরি করে।

প্লাস্টিকের চালের প্রমাণ হিসেবে সবাই যে ভিডিওগুলো শেয়ার করছেন সেগুলোতে দেখা যায় কেউ একজন চাল একটা চামচে নিয়ে চুলার আগুনে ধরে রাখছেন, এতে চাল গলে পুড়ে কালো হয়ে যাচ্ছে, তাতে নাকি প্রমান হচ্ছে এটা প্লাস্টিক। তাদের কাছে প্রশ্ন, কখনো "আসল চাল" এভাবে পোড়ানোর চেস্টা করে দেখেছেন কি? না করলে আজকে করে দেখেন। প্লাস্টিকের গলনাংক তো উপরে বলেছি, স্টার্চ (ভাতের মূল উপাদান) এর গলনাংক ২৫০-৪০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। প্রাকৃতিক গ্যাস এর আগুনের তাপমাত্রা প্রায় ২ হাজার ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। সুতরাং সরাসরি মেটালের উপর নিয়ে এভাবে আগুনে ধরলে আসল চালও একইভাবে গলবে এবং পুড়বে। এই কাজটি অনেকে চিপসে আগুন ধরিয়েও করেন এবং প্রমাণ করতে চান প্লাস্টিকের চিপস, তাদের সবার জন্য সমবেদনা। স্টার্চে আগুন ধরে এবং তাও প্লাস্টকের মত গলে যায়। যারা চাল ভাজার কথা বলেন তারা নিজে চাল ভেজে দেখুন, নির্দিষ্ট সময়ের বেশি রাখলে এবং নাড়াচাড়া না করল ওটাও এভাবে পুড়ে গলে যাবে।

পরের প্রমাণ হিসেবে যেটি দেখানো হয় সেটি হলো ভাত মুঠ করে দলা পাকিয়ে বল বানিয়ে মাটিয়ে ফেলে দেখানো যে প্লাস্টিকের চাল তাই বাউন্স করছে। একই কথা এখানেও প্রযোজ্য। "আসল চালের" ভাত এভাবে দলা পাকিয়ে মাটিতে ফেলে দেখেছেন বাউন্স করে কিনা?! দলা পাকালে স্টার্চের মলিকিউলের চেইনগুলো একত্রিত হয় এবং সেটাও কিছুটা বাউন্স করে। তারচেয়ে বড় কথা হলো প্লাস্টিক সাধারন তাপমাত্রায় কখনোই এভাবে দলা পাকানো যায়না।

আরেকটি ভিডিওতে একজন চুলায় ভাত রান্নার সময় উপচে পড়া মাড় শুকিয়ে চুলার পাশে জমা শুকনো স্টার্চের লেয়ারকে প্লাস্টিক/পলিথিন বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। যারা কোনদিন ভাত রান্না করেন নি তাদের এটা ভাবা স্বাভাবিক। ভাতের মাড় উপচে পড়ে শুকালে এভাবে স্টার্চের লেয়ার পড়ে।

তবে প্লাস্টিকের চাল বানানো সম্ভব। থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে সহজেই বানানো যায় কিন্তু এটার খরচ আসল চাল এর চেয়ে অনেক বেশি তাছাড়া ওজনে হালকা হওয়ায় এক মন চাল বানাতে সাধারন চালের চেয়ে অনেক বেশি প্লাস্টিকের চাল লাগবে যা cost effective না।
তথ্যসূত্র:
১। মারুফুর রহমান অপু
২। https://www.quora.com/How-do-I-identify-the-plastic-rice-while-purchasing-or-eating

Md. Rafiz Uddin
Lecturer
Department of English
Daffodil International University

Md. Rafiz Uddin
Lecturer
Department of English
Daffodil International University