Author Topic: ভ্রমণ থেকেই গড়ে উঠল স্টার্টআপ  (Read 99 times)

Offline anowar.bba

  • Jr. Member
  • **
  • Posts: 53
  • Test
    • View Profile
নাম জেমস অ্যাসকুইথ (James Asquith)। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের এই তরুণটির বয়স ২৯ বছর। মাত্র ২৪ বছর বয়সে বিশ্বের ১৯৬টি দেশ ভ্রমণ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে খোদাই করেছেন নিজের নাম। ভ্রমণের তালিকা থেকে বাংলাদেশও বাদ যায়নি।

তরুণ এই উদ্যোক্তা ‘হলিডে সোয়াপ’ নামে একটি স্টার্টআপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সম্প্রতি এই তরুণ উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা হয় ই-মেইলে। এতে তিনি জানিয়েছেন তার ভ্রমণ ও স্টার্টআপ সম্পর্কে।

কেন ভ্রমণ করেছেন এতগুলো দেশ? কী শিক্ষা পেলেন এতে?

আমি আমার মনের দিগন্ত প্রসারে ভ্রমণ করে থাকি। যখন আমার বয়স ১৮, তখন থেকেই আমি ভ্রমণ শুরু করি। যখন আমি ছোট ছিলাম, তখন আমার বাবা-মা বছরে একবার ঘুরতে নিয়ে যেতেন। আমি একটি সেচ্ছাসেবী কাজে তিন মাসের জন্য ভিয়েতনামে ছিলাম। সেই সময়ে আমার সঙ্গে ছিল একটি ট্রাভেল ব্যাগ। সেই সময় থেকেই ভ্রমণে আমার আগ্রহ বেড়ে যায়। সেই সময়েই আমার চারপাশের বিশ্বকে ভালোবাসতে শুরু করি। এখনো আমার মনে হয় আমি কেবল পৃথিবী দেখা শুরু করেছি। আমি ভ্রমণ করে একটি বিষয় শিক্ষা পেয়েছি, তা হলো–আমরা মানুষ হিসেবে এক হলেও আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে।


জেমস অ্যাসকুইথ
হলিডে সোয়াপের শুরুর গল্পটি শুনতে চাই।

যখনই ভ্রমণ করেছি, আমি তখনই মানুষকে জিজ্ঞেস করেছি–তারা কীভাবে বেশি ভ্রমণ করবেন। হোটেল ভাড়া ও বাসা-বাড়ি ভাড়া প্রতিনিয়তই বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের কাছে মনে হলো, একজন মানুষ যদি ঘুমানোর জন্য একটি বিছানা পায় তাহলে তারা আরও বেশি ভ্রমণ করবেন। এতে তাদের থাকার খরচ কমে যাবে। এই ধারণা থেকেই হলিডে সোয়াপের যাত্রা শুরু। ১৮৪টি দেশে আমাদের কার্যক্রম চালু রয়েছে। যা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমাদের এই অ্যাপটির মাধ্যমে এক ডলারের বিনিময়ে রাত যাপন করতে পারবেন একজন পর্যটক। আমরা এসব করেছি ভ্রমণে উদ্বুদ্ধ করার জন্য।

মোট কথা অ্যাপের মাধ্যমে আমরা ভ্রমণকে আরও সহজলভ্য করতে চেয়েছি এবং সাড়া বিশ্বকে একই ছাদের নিচে নিয়ে আসতে চেয়েছি।

অ্যাপটি কীভাবে কাজ করছে?

খুবই সহজ। এ জন্য আপনাকে প্রথমে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর আপনাকে আপনার ঘরটি বা বাড়িটি সম্পর্কে সেখানে লিপিবদ্ধ করতে হবে। পরের ধাপে আপনি যে স্থানে ভ্রমণে ইচ্ছুক তা খুঁজে বের করতে হবে। শেষ ধাপে যে স্থানে আপনি যেতে চান, সেখানে থাকা হলিডে সোয়াপ ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে চলে যেতে পারবেন।

আগামী পাঁচ বছর পর হলিডে সোয়াপকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান?

বিশ্বের সবচেয়ে বড় শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে চাই। সব ট্রাভেল টুলকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে চাই এবং ভ্রমণকে আরও সাশ্রয়ী করতে চাই।

বাংলাদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কী?

আমি বাংলাদেশের ঢাকায় ভ্রমণ করেছি। আমার কাছে লালবাগ কেল্লা অসাধারণ লেগেছে। আশ্চর্য লেগেছে সোনারগাঁও জাদুঘর দেখে। বাংলাদেশে হলিডে সোয়াপের ইতোমধ্যে দুইজন সহকর্মী রয়েছেন। আমি আশা রাখছি, অতি শিগগিরই আমি ফের বাংলাদেশ ভ্রমণ করব। আমার ইচ্ছে আমি, চট্টগ্রাম ভ্রমণ করব।

বিলিয়ন ডলার কোম্পানির বিষয়ে...

হলিডে সোয়াপ স্টার্টআপটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে যোগ হয়েছে বিভিন্ন ট্যুর কোম্পানি, এয়ারলাইনস ও কিছু ব্রান্ডও।

আমি কখনোই আমার এই প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করব না। এয়ারবিএনবি হয়তো ৪০-৫০ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি, বুকিং.কমের মূল প্রতিষ্ঠান প্রাইসলাইনও ১২০ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি। একটি সময় হয়তো হলিডে সোয়াপও বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হবে। কিন্তু আমার কাছে তা শুধু কাগজেই মনে হবে, আমার কাছে তা অপ্রাসঙ্গিকই থেকে যাবে। কারণ অর্থের নেশা আমার নেই।