Author Topic: উত্তরবঙ্গে তাঁত শিল্পের ক্রমবিকাশ  (Read 144 times)

Offline alsafayat

  • Newbie
  • *
  • Posts: 9
  • Seeker of the Unknown
    • View Profile
    • Al Safayat
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাসে কৃষিবহির্ভূত সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রটি নিঃসন্দেহে তাঁত শিল্প, যে শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের একটি আদি নিদর্শন হচ্ছে মসলিন। ইতিহাসের তথ্য পর্যালোচনায় ধারণা করা হয়, খ্রিস্টীয় পনেরো শতকের গোড়ায় বাংলাদেশের বিশেষ পেশাজীবীশ্রেণীর উদ্ভাবিত নিজস্ব তাঁত ব্যবহার করেই ঢাকার অদূরবর্তী ডেমরা-তারাবো অঞ্চলে মসলিনের গোড়াপত্তন। পরবর্তীতে এ মসলিনের প্রভাব এবং এতে ব্যবহূত কারিগরি নৈপুণ্যের স্থানান্তর ও সম্প্রসারণের পথ ধরেই দেশের অন্যান্য অঞ্চলে তাঁত শিল্পের বিকাশ ঘটে। তবে নানা কারণে এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই মসলিনের অবিকল স্থানান্তর ঘটেনি, ঘটেছে তাঁতভিত্তিক অন্য বিভিন্ন বস্ত্রের, যার মধ্যে আজকের শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, তোয়ালে ইত্যাদি অন্যতম। আর যেসব এলাকায় এসবের স্থানান্তর ও বিকাশ ঘটে, তার মধ্যে উত্তরবঙ্গ (বর্তমানে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ) অন্যতম। তবে এ দুই বিভাগের সর্বত্রই যে এ তাঁত শিল্প স্থানান্তর হয় বা উৎপাদনের জন্য স্থান খোঁজে, তা কিন্তু নয়; বরং উত্তরবঙ্গের ওই বিস্তৃত অঞ্চলের গুটিকতক এলাকাই কেবল ক্রমান্বয়ে তাঁতঘন উৎপাদন এলাকায় পরিণত হয় এবং এর পেছনে বেশকিছু ভৌগোলিক ও সামাজিক কারণও রয়েছে, যার খানিকটা এ প্রবন্ধের পরের অংশের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকছে। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গে তাঁত শিল্পের বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কেও এখানে আলোকপাত করা হলো।

উত্তরবঙ্গে মোট জেলা হচ্ছে ১৬টি এবং উপজেলা ১২৮টি। এর মধ্যে তাঁত শিল্পের বিকাশ হয়েছে মাত্র সাতটি জেলার (সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রংপুর, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী) ১১টি উপজেলায় (শাহজাদপুর, বেলকুচি, উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, ঈশ্বরদী, পাবনা সদর, গঙ্গাচড়া, বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও রাজশাহী সদর)। তার মধ্যে শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও রাজশাহী সদর বস্তুত রেশমজাত তাঁতবস্ত্র ও বাকি উপজেলাগুলো সুতিবস্ত্রের উৎপাদন এলাকা। আর উল্লিখিত এলাকায় উৎপাদিত পণ্যাদির মধ্যে রয়েছে শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, তোয়ালে ইত্যাদি এবং এগুলোর উপজাত অন্য সামগ্রী।

এখন স্বভাবতই কৌতূহল জাগে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ঘেঁষে গড়ে ওঠা মসলিন বা বিবর্তনের প্রক্রিয়ায় এর অপভ্রংশ হিসেবে জামদানি তাঁতবস্ত্রের বিস্তার সন্নিহিত অনেক জেলাকে পাশ কেটে সিরাজগঞ্জ ও তৎসন্নিহিত অন্যান্য জেলায় বিস্তার লাভ করল কেন ও কীভাবে? অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের এত উপজেলার (১২৮টি) মধ্যে মাত্র ১১টি উপজেলাতেই বা কেন তাঁত শিল্প গড়ে উঠল? জবাবে প্রথমে এর প্রাকৃতিক কারণটির দিকে তাকাই। মসলিন বা জামদানি তাঁত পল্লীগুলো গড়ে উঠেছিল শীতলক্ষ্যা নদীর পানির আর্দ্রতামিশ্রিত বিশেষ জলবায়ুগত আবহের মধ্যে (যমুনার বিপরীত পাড়ের টাঙ্গাইলে তাঁত পল্লী গড়ে ওঠাও সে ধারারই অংশ)। অন্যদিকে শিবগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের রেশম পল্লীও মহানন্দা ও পদ্মা নদীর বিশেষ গুণগত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পানিরই অবদান। রংপুরের গঙ্গাচড়া ও বগুড়া সদরের তাঁত শিল্পগুলোর উৎপত্তির উৎস ১৯৪৭-এর দেশভাগের প্রক্রিয়ায় বেনারস থেকে দেশান্তরিত জনগোষ্ঠীর তাঁতিরা, যাদের এক বড় অংশের বসবাস সৈয়দপুরে এবং এদের অন্য একটি অংশের হাতে গড়ে ওঠে গঙ্গাচড়া ও বগুড়া সদরের তাঁত শিল্প।

দেশে বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৮৩ লাখ তাঁত শিল্প ইউনিট রয়েছে, যেগুলোর আওতাধীন তাঁতের সংখ্যা প্রায় ৫ দশমিক শূন্য ৬ লাখ। এর মধ্যে সচল তাঁতের সংখ্যা ৩ দশমিক ১৪ লাখ এবং অচল তাঁতের সংখ্যা ১ দশমিক ৯২ লাখ। অর্থাৎ প্রতিটি ইউনিটের আওতায় গড়ে তাঁত রয়েছে প্রায় তিনটি। উল্লিখিত শিল্প ইউনিট থেকে বছরে প্রায় ৬৮ দশমিক ৭০ কোটি মিটার বস্ত্র উৎপাদন হয়। তাঁত শিল্প খাতে সরাসরি নিয়োজিত জনবল রয়েছে প্রায় ১০ লাখ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত আরো প্রায় ছয় লাখ মানুষ। আর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত এ জনবলের অর্ধেকই নারী। উল্লিখিত জাতীয়ভিত্তিক পরিসংখ্যানের বিপরীতে উত্তরবঙ্গের চিত্র কিছুটা ফ্যাকাসে, তবে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়। উত্তরবঙ্গে অবস্থিত মোট তাঁত শিল্প ইউনিটের সংখ্যা, মোট তাঁতের সংখ্যা এবং বার্ষিক উৎপাদন, কর্মরত জনবল— সব ক্ষেত্রেই জাতীয়ভিত্তিক পরিসংখ্যানের তুলনায় এটি ৪০ শতাংশের নিচে।

বাংলাদেশের তাঁত শিল্পের ক্ষেত্রে বিরাজমান সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে— উচ্চতর প্রযুক্তিভিত্তিক যন্ত্রপাতিসংবলিত কারখানায় উৎপাদিত বস্ত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে না পারা, মানসম্পন্ন কাঁচামালের সহজ সরবরাহ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, তাঁতঘন অঞ্চলে (বস্তুত যা গ্রামাঞ্চল) প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ঘাটতি এবং সে ঘাটতির কারণে দাদন প্রথা চালু থাকা, পণ্য বিপণন ব্যবস্থায় একাধিক মধ্যস্বত্বভাগী স্তরের উপস্থিতি, সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সেখানে উৎপাদিত পণ্য (তাঁতবস্ত্র) রফতানি না হওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ঘাটতি, পণ্যের নকশা ও মানোন্নয়নে উদ্যোগের অপর্যাপ্ততা ইত্যাদি। এসব সমস্যা বাংলাদেশের তাঁত শিল্পের ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে যেমন সত্য, তেমনি সমান সত্য উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও। আর ভৌগোলিকভাবে তুলনামূলক বিচারে কিছুটা পশ্চাৎপদ এলাকা বিধায় এ সমস্যাগুলো সেখানকার ক্ষেত্রে আরো বেশি করে প্রকট এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি শুধু উত্তরবঙ্গের তাঁত শিল্পেরই সমস্যা।

তাঁত শিল্প খাতের উল্লিখিত সমস্যাগুলোকে উত্তরবঙ্গের পরিপ্রেক্ষিত থেকে দেখতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় যে, আধুনিক যন্ত্রচালিত কারখানায় উৎপাদিত বস্ত্রের সঙ্গে তাঁতবস্ত্রের বিশ্বব্যাপী যে প্রতিযোগিতা, সেটি উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে আরো বেশি সংকটাপূর্ণ। কারণ বুনন নৈপুণ্যে কর্মকুশলতা থাকলেও উত্তরবঙ্গের স্বল্পশিক্ষিত বা নিরক্ষর তাঁতিদের অধিকাংশই জানেন না যে হস্তচালিত তাঁতে উৎপাদিত বস্ত্রের কদর ও আকর্ষণ পৃথিবীর বহু দেশেই এখন দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় তাদেরকে যদি বিশ্ববাজারের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ব্যাপারে কোনো না কোনোভাবে সহযোগিতা করা যেত, তাহলে সেটি হতে পারত উত্তরবঙ্গের তাঁত শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নের জন্য সর্বোত্তম টেকসই কৌশল। কিন্তু এজন্য দরকার বিশ্ববাজারের ক্রেতার রুচি ও চাহিদা সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান, যাতে এ তাঁতিরা সে অনুযায়ী নিজেদের পণ্যের নকশা ও মানকে ঢেলে সাজাতে পারেন। কিন্তু এরূপ সহযোগিতাদানের তেমন কোনো সুযোগই বাংলাদেশের বিদ্যমান ব্যবস্থায় চালু নেই। অন্যদিকে রফতানি বাজারে প্রবেশের কলাকৌশল ও নিয়মকানুন সম্পর্কেও এ তাঁতিরা অবগত নন। ফলে বিশ্ববাজারের ওই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো তো পরের কথা, আধুনিক যন্ত্রচালিত তাঁতবস্ত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কোনো রকমে টিকে থাকার জন্যই তাদেরকে অহর্নিশ প্রাণান্তকর পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের মোট তাঁতের প্রায় ৪০ শতাংশই এখন বন্ধ, যেখানে জাতীয়ভিত্তিক হিসাবে বন্ধ তাঁতের সংখ্যা হচ্ছে ৩৮ শতাংশ। এ বিপুলসংখ্যক তাঁত বন্ধ থাকার পেছনে যে কারণগুলো দায়ী, তার মধ্যে রয়েছে অন্যায্য বাজার ব্যবস্থায় নানা হাত ঘুরে তাঁতির কাছে আসা কাঁচামালের উচ্চমূল্য, চলতি মূলধনের অভাব, অন্য পেশার তুলনায় এক্ষেত্রে মুনাফার হার কম হওয়া, সামাজিকভাবে তাঁত শিল্পে কাজ করাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে গণ্য না করায় তরুণ তাঁতিদের পেশা ত্যাগ ইত্যাদি। এ অবস্থায় উল্লিখিত সমস্যাগুলো দূরীভূত করতে পারলে তাঁত শিল্প খাতে নতুন মূলধন বিনিয়োগ ও নতুন উৎপাদনক্ষমতা স্থাপন ব্যতিরেকেই সেখানকার উৎপাদনকে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

উত্তরবঙ্গের তাঁত শিল্পের ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী নেতিবাচক অনুষঙ্গ হচ্ছে, সেখানে দাদন প্রথার মতো শোষণমূলক ঋণ ব্যবস্থা এখনো চালু থাকা; যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তাঁত শিল্পে চালু থাকলেও উত্তরবঙ্গের মতো অতটা প্রকট নয়। বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন ব্যবস্থা তথা ব্যাংক কার্যক্রম যথেষ্ট শক্তিশালী ও গ্রামাঞ্চলে সম্প্রসারিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অমানবিক ঋণ ব্যবস্থা কেন ও কীভাবে এখনো দুর্দান্ত দাপটের সঙ্গে টিকে থাকল, তা সংশ্লিষ্ট সবাইকে গভীরভাবে ভেবে দেখা প্রয়োজন। আমাদের ব্যাংকগুলো বিশেষত বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো বর্ধিতসংখ্যক ঋণগ্রহীতা খুঁজে পাওয়ার জন্য যেখানে হন্যে হয়ে ঘুরছে, সেখানে তারা কেন এখনো দাদনভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থার বিকল্প হয়ে উঠতে পারছে না? আর এর প্রতিবিধান হিসেবে রাষ্ট্রের দিক থেকেও তেমন কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত দৃষ্টিগোচর হয়নি এবং সেটি না হওয়া পর্যন্ত দাদনের মতো অমানবিক প্রথা যে উত্তরবঙ্গের তাঁতিদেরকে শুধু মানসিকভাবেই পীড়িত করবে তা নয়, সেখানকার তাঁত শিল্পের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা দুই-ই হ্রাস পাবে এবং একই সঙ্গে ঘটতে থাকবে তাঁতিদের পেশাত্যাগের হারও।

এটা সর্বজনবিদিত, বাংলাদেশের পণ্য বিপণন ব্যবস্থায় নানা মধ্যস্বত্বভোগী স্তরের উপস্থিতির কারণে উৎপাদক ও ভোক্তা দুই-ই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই ঘটনা খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁত শিল্পের ক্ষেত্রেও সত্য। তবে এটি অধিক সত্য উত্তরবঙ্গের তাঁত শিল্পের ক্ষেত্রে। নানা হাত ঘুরে রাজধানী বা দেশের বড় শহরে উত্তরবঙ্গের তাঁতবস্ত্র যে মূল্যে বিক্রি হয়, এর প্রকৃত উৎপাদকরা পান তার সর্বোচ্চ মাত্র ৫৫ শতাংশ। এর একটি কারণ ভৌগোলিক। তবে বড় কারণটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থা। এ বিপণন ব্যবস্থাটিকে কীভাবে আরো সংক্ষিপ্ত করা যায় এবং উত্তরবঙ্গের তাঁতবস্ত্রকে কীভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড (বিএইচবি) ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভূমিকাকে আরো কার্যকর ও সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে শ্রমিক-তাঁতি ও মালিক-তাঁতির মধ্যকার ব্যবধান যত দ্রুত কমিয়ে আনা যাবে, তাঁত শিল্প খাতের উৎপাদন ততই বৃদ্ধি পাবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত দক্ষতার সদ্ব্যবহারও বাড়বে; যা এ খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম নিয়ামক হিসেবে গণ্য হতে পারে। উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শ্রমিক-তাঁতিদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে বিএইচবি বা বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।

নিবন্ধের শুরুতে বাংলাদেশ তথা উত্তরবঙ্গের তাঁত শিল্পের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের সঙ্গে নদী অববাহিকার একটি সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বস্তুত যা গবেষণাভিত্তিক প্রমাণিত সত্য। শুধু বাংলাদেশেই নয়, পুরো পৃথিবীর বস্ত্র শিল্পের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে নদীভিত্তিক  জলবায়ু ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবদান। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও উত্তরবঙ্গের তাঁত শিল্প খাতের যে বিপুল অন্তর্গত সম্ভাবনা রয়েছে, সেটিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারলে আর নতুন কোনো উৎপাদনক্ষমতার সংযোজন ছাড়াই বিদ্যমান উৎপাদনক্ষমতায়ই এ শিল্পকে আরো বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রয়োজন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে একটি সামগ্রিক বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্থানীয় পরিবেশ ও কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা ও তার ত্বরিত ও সময়মাফিক বাস্তবায়ন।

লেখক : পরিচালক
আবু তাহের খান
ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
atkhan56@gmail.com

Source: http://gg.gg/bvyu0

http://bonikbarta.net/bangla/news/2018-10-01/172207/উত্তরবঙ্গে-তাঁত-শিল্পের-ক্রমবিকাশ
Al Safayat
Administrative Officer, CDC, DIU
Cell: +8801991195579
www.safayat.info