Author Topic: পাল্টে গেলেন বাদশা হারুন রশিদ  (Read 164 times)

Offline Mrs.Anjuara Khanom

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 206
  • Test
    • View Profile
‘পৃথিবীর মন্দরাও মনে করে কিয়ামতের মাঠে তাদের ধার্মিক শ্রেণীতে ফেলা হবে।’ হারুনের দিল কেঁপে উঠল বাণী শুনে। নিজে নিজেই বললেন, শান্তির খোঁজে এ উপদেশ যথেষ্ট।

ফটকে টোকা দিল বন্ধু। ভেতর থেকে আয়াজ বিরক্ত হয়ে জানতে চাইলেন, কে ওখানে। বাদশা হারুন রশিদ এসেছেন। বলতেই আয়াজ বিরক্ত হলেন। আমার কাছে তার কী প্রয়োজন। যেন ধমকালেন। তার কাছেই বা আমার কী প্রয়োজন। আমাকে দুনিয়ায় টেনো না। বন্ধু বললেন, বাদশার সম্মান রক্ষা করে ফটক খুলুন। আহ! চঞ্চল করো না আমাকে।

ফটক মেলে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। ফিরে থাকলেন অন্যদিকে। বাদশার মুখ যেন দেখতে না হয়। হঠাৎ আলো নিভিয়ে দিলেন। আঁধারেই আয়াজের হাত চেপে ধরলেন বাদশা। আফসোস করলেন আয়াজ। হায়!

এই নরম কোমল হাত জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পেলে হয়। বলেই নামাজে দাঁড়ালেন। বাদশা কেঁদে কেঁদে বলে চললেন, দয়া করে আরও কিছু বলুন আমাকে। নামাজ শেষে আয়াজ বললেন, মহানবীর আত্মীয় ছিলেন তোমার পিতা। তিনি তার কাছে খলিফা হওয়ার বাসনা করেছিলেন। মহানবী এ কথা বলেছিলেন তাকে। হাজার বছর খলিফাগিরি করার চেয়ে মাবুদের হৃদয়ে আশ্রয় খোঁজ।

আমি তোমাকে রাজ্য রেখে মনোরাজ্য দান করলাম। আয়াজ চুপ হলেন। দয়া করে আরও কিছু বলুন। বাদশা বিনয়ী অনুরোধ জানালেন। আয়াজ এবার খলিফা আবদুল আজিজের উপদেষ্টাদের উপদেশ শোনালেন। ‘পরকালের পাকড়াও থেকে বাঁচতে হলে বৃদ্ধদের পিতা ভেব।

যুবকদের, বালকদের সন্তানের চোখে দেখ। নারীদের সঙ্গে বোন বা মায়ের আচরণ কর। এ রাজ্যই তোমার ঘর। প্রজারা গোটা এক পরিবার। পিতৃতুল্যদের শ্রদ্ধা জানিও। ভাইদের বুকে টেনে নিও। শিশুদের যত্ন নিও। ভয় হচ্ছে।

তোমার নারী সুলভ চেহারা দোজখে না পোড়ে। বাদশা কেঁদে জার জার হলেন। বুক ভাসালেন চোখের জলে। আয়াজ ফের বলতে শুরু করলেন একটু থেমে। মাবুদকে ভয় কর। সাবধান, বিচার দিবসে সবাইকে প্রশ্ন করা হবে। পাপ, পুণ্য সেদিন নিত্তি দিয়ে মাপা হবে। সবাই সুবিচার পাবে।’

যদি কোনো বুড়ি খিদের কষ্টে মাবুদের দরবারে নিশি রাতে কাঁদে। যদি খিদায় না ঘুমান। যদি মাবুদের কাছে অভিযোগ করে তোমার বিরুদ্ধে, তুমি পাকড়াও হবে। আয়াজের সব ঐশী বাণীতে কেঁদে গড়াগড়ি হলেন বাদশা।

শান্ত হয়ে জানতে চাইলেন, আপনার কি কোনো ঋণ আছে? আয়াজ উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, মাবুদের কাছে আমার অনেক ঋণ আছে। এজন্য যদি তিনি আটক করেন তবে কতই না আফসোস। কারও কাছে ঋণী কিনা জানতে চেয়েছি।

হাত কচলালেন বাদশা। শুকরিয়া মাবুদের কাছে। তার প্রচুর ধনসম্পদ আমি অর্জন করেছি। তারপর বাদশা হারুন হাজার মুদ্রা ভরা থলি রাখলেন তার পায়ের কাছে। এই মুদ্রা অবৈধ নয়। এসব মায়ের সম্পত্তি বেঁচে পেয়েছি। দয়া করে গ্রহণ করুন।

ফজল আয়াজ খুব বিরক্ত হলেন। হায়! এসব উপদেশ বাণী কোনো উপকার আসেনি তোমার। এখানে বসে থেকেই অত্যাচার শুরু করলে! তোমাকে হালকা করে পরিত্রাণের চেষ্টা করছি। তুমি আমাকে আক্রান্ত করছ। ঠেলে দিচ্ছ আঁধারে।

যাকে দেয়ার তাকে বঞ্চিত করে থলি দিচ্ছ অন্যকে। হে, হারুন যা কিছু আছে মাবুদকে বিলিয়ে দাও। উপদেশ বাণীতে কোনো উপকারই তোমার হয়নি। বলেই তাদের বিদায় দিয়ে শক্ত করে ফটক বন্ধ করলেন। ভাঙাচোরা শরীরে বিষণ্ণতা অনুভব করলেন বাদশা। ঘোড়ায় চড়ে ফুরফুরে সতেজ মনে বললেন- সত্যিই তিনি মক্কার কামেল দরবেশ।

মানুষ যদি খারাপ সবকিছু ছেড়ে খাঁটি তওবা করে, মাবুদ তাকে মাফ করে দেন। সে যা চায় তাই তাকে দান করেন। আমরা যদি ছোট থেকেই তাওবা করতে শিখি, আমাদেরও ক্ষমা করবেন মাবুদ। আমরাও তখন ঐশী পুরস্কার পাব।

দরবেশ আয়াজের অমর কথা

* নির্জনতা নামে রাতে। রাত্রি আমায় আনন্দ দেয়। ষ দিনে বিষণ্ণতা নামে, হইচই শব্দে। দিবস অপছন্দ আমার। * নির্জনতাকে যে ভয় পায় সে দুনিয়াপ্রেমী। ষ জান্নাতে কান্না যেমন আশ্চর্য হওয়া, অস্থায়ী সংসারে হেসে ওঠাও তেমনই। যে মাবুদকে ভয় করে, সমাজ তাকে ভয় পায়। যে ভয় পায় না মাবুদকে তাকে ভয় করে না কেউ। * সংসারে পা রাখা সহজ। খুব কঠিন বেরোনো। * কারো অনুরোধে সৎ কাজকে ভালোবাসা কপটতা। লোক দেখানো সৎ কাজ করা, আগুন পূজার মতো। * এই দুই ভাব ছাড়তে পারলে মাবুদ তোমাকে হেফাজত করবেন। মাবুদের প্রেম ঢুকবে হৃদয়ে। * কেউ কেউ পবিত্র স্থান থেকে পবিত্রতা লাভ করে। অনকেই মক্কা গিয়েও অপবিত্রতা নিয়ে ফিরে আসে।

লেখক : সাংবাদিক, শিশু সাহিত্যিক