এসইও শিখুন: পর্ব ১

Author Topic: এসইও শিখুন: পর্ব ১  (Read 25 times)

Offline Sultan Mahmud Sujon

  • Administrator
  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 2473
  • Sultan Mahmud Sujon,Admin Officer
    • View Profile
    • Higher Education
এসইও শিখুন: পর্ব ১
« on: January 25, 2020, 09:51:04 AM »
এসইও কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সহজভাবে বলতে গেলে, মূলত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিনের কিছু নিয়মকানুন যা অনুসরণ বা প্রয়োগ করা হলে সার্চ ইঞ্জিন কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটটিকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এবং র‌্যাঙ্ক করে থাকে। বর্তমান প্রতিযোগিতার বিশ্বে এসইও ছাড়া সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর বা ট্রাফিক পাওয়া প্রায় অসম্ভব। সাধারণত এসইও ছাড়া কোনো ওয়েবসাইটকেই সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাঙ্কই করে না।

*ইংরেজি শব্দ এসইও (SEO) এর সম্পূর্ণ রূপ হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (search engine optimization) যা সার্চ ইঞ্জিনের কিছু সুনিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত নিয়ম/পদ্ধতি বা মেথড। যে সকল নিয়মগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটটিকে সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজের প্রথম দিকে দেখাতে পারবেন। এসইআরপি (SERPs) তে প্রথম দিকে আপনার ওয়েবসাইটটিকে দেখানোই এসইও-এর মূল উদ্দেশ্য।

*সার্চ ইঞ্জিন তৈরি হয়েছে মূলত ইউজারদের অনুসন্ধানের সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য আর এসইও (SEO) সেই তথ্যকে সার্চ ইঞ্জিন উপযোগী করে তুলে। এসইও এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি সার্চ ইঞ্জিনে ইউজাররা কী তথ্য খুঁজছে, কী ধরনের সমস্যার সমাধান চাচ্ছে, কী ধরনের শব্দ বা কিওয়ার্ড ব্যবহার করছে এবং কী ধরনের কনটেন্ট তারা চায়। এসইও এর মাধ্যমে আমরা সহজেই ইউজারদের এ সকল সমস্যার সমাধান দিতে পারি।

এসইও এর ইতিহাস:
আজকের এই এসইও অনেক পরিবর্তনের ফলাফল, যা আমরা মূলত গুগলের মাধ্যমে দেখতে পাই। ১৯৯১ সালে ৬ই আগস্ট টিম বার্নাস লির হাত ধরে প্রথম ওয়েবপেজ প্রকাশ করা হয়। এর কয়েক বছর পর ১৯৯৭ সালে প্রথম অফিশিয়ালি এসইও-এর যাত্রা শুরু হলেও ২০০১ সাল থেকে এসইও-এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে।

জেরি ইয়াং এবং ডেভিড ফিলো ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি মাসে ইয়াহু সার্চ ইঞ্জিন প্রতিষ্ঠাতা করেন। তার পাশাপাশি তারা ইয়াহু ডিরেক্টরি তৈরি করেন।

১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিনের হাত ধরে গুগল প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে গুগল সার্চ ইঞ্জিনগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং প্রধান। ইন্টারনেটে গুগল মোট সার্চের ৯০% এর চেয়েও বেশি গ্রাহক পেয়ে থাকে এবং এর পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন জনপ্রিয় পণ্য ও সেবা রয়েছে।

১৯৯৮ সালে গোটো ডটকম (Goto.com) স্পনসর লিংক এবং পেইড সার্চ চালু করে। যেখানে অরগানিক রেজাল্টে প্রথমে থাকার জন্য পেইড করার প্রয়োজন হতো। গোটো মূলত ইয়াহু সার্চ ইঞ্জিনের সমর্থন নিয়ে কাজ করেছিল।
তারপর থেকে এ পর্যন্ত সার্চ ইঞ্জিনগুলো বিভিন্ন অ্যালগরিদম আপডেটের মাধ্যমে আজকের এ জায়গায় এসেছে। প্রতিযোগিতার দিক দিয়ে গুগল বর্তমানে সবার সেরা এবং মানসম্পন্ন সার্চ ইঞ্জিন।

সার্চ ইঞ্জিন বেসিক
সার্চ ইঞ্জিন মূলত একটি উত্তরদাতা যন্ত্র। এগুলো ইন্টারনেট থেকে লাখ লাখ কনটেন্ট পরিমার্জন/সন্নিবেশিত করে এবং এর মধ্য থেকে আবার হাজার হাজার ফ্যাক্টর দিয়ে মূল্যায়ন করার মাধ্যমে ঠিক করে কোনো তথ্যটি ইউজারের সার্চ অনুযায়ী সঠিক তা খুঁজে বের করে ইউজারের সামনে উপস্থাপন করে।

আর সার্চ ইঞ্জিন কাজটি করে থাকে ইন্টারনেটে যত তথ্য পাওয়া যায় (ওয়েব পেজ, ইমেজ, ভিডিও, পিডিএফ ইত্যাদি) তা ক্রলিং এবং ইনডেক্সিং এর মাধ্যমে। যে তথ্যটি ইউজারের জন্য বেশি উপযোগী তা র‍্যাঙ্কিং করে থাকে।


Source: https://www.prothomalo.com/technology/article/1634820/

Offline Sultan Mahmud Sujon

  • Administrator
  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 2473
  • Sultan Mahmud Sujon,Admin Officer
    • View Profile
    • Higher Education
Re: এসইও শিখুন: পর্ব ১
« Reply #1 on: January 25, 2020, 09:54:45 AM »
কোন সার্চ রেজাল্টগুলো ‘অরগানিক’?

ইতিমধ্যে বলা হয়েছে, অর্গানিক সার্চ রেজাল্টগুলো কোনো পেড বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নয় কেবল এসইও–এর মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজে আসে। অর্গানিক রেজাল্টগুলো হলো SERPs-এ দেখানো ‘১০টি ব্লু লিংক’ এবং এর ওপরে, নিচে ও পাশের রেজাল্টগুলোতে অ্যাড লেবেল দেওয়া থাকে। যাতে একটি পেজে থাকা পেড ও অরগানিক রেজাল্ট সহজেই বোঝা যায়। বর্তমানে আমরা যে ধরনের সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজ দেখি, অতীতে এমন ছিল না।

বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজকে বলা হয় SERPs এবং এখন অ্যাডভারটাইজিংয়ের পাশাপাশি অরগানিক রেজাল্ট অনেক বেশি সমৃদ্ধ। SERP-এ অরগানিক রেজাল্ট ফিচার যেমন:

ফিচার স্নিপেট,
অ্যান্সার বক্স,
পিপল ‍অলসো আস্ক/সার্চ বক্স/সাজেশন,
ইমেজ ক্যারোজেল,
ভিডিও ক্যারোজেল,
নিউজ ইত্যাদি।
নতুন SERP ইউজারদের সার্চের ওপর ভিত্তি করে আরও নতুন নতুন ফিচার নিয়ে আসছে।

উদাহরণস্বরূপ: আপনি যদি সার্চ করেন ‘Dhaka Weather’ তাহলে আপনি দেখতে পাবেন কোনো লিংকের পরিবর্তে ঢাকার জলবায়ু পূর্বাভাসের একটি চিত্র। এবং আপনি যদি সার্চ করেন ‘Dhaka Pizza’ তখন দেখবেন কিছু লোকাল পিৎজার অবস্থান গুগল ম্যাপে, কিছু লিংক এবং ক্যারোজেল যেটা শুধু ঢাকা শহরের।

আপনাকে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে, সার্চ ইঞ্জিনের আয়ের উৎস শুধু অ্যাডভারটাইজ বা বিজ্ঞাপন থেকে আসে। তাদের লক্ষ্য হলো ইউজারদের সঠিক তথ্যের সন্ধান দেওয়া যাতে ইউজাররা SERPs-এ পুনরায় আসে এবং দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।

SERPs–এর কিছু ফিচার অরগানিক এবং তা এসইওয়ের মাধ্যমে প্রভাবিত করা যায়। বিজ্ঞাপনগুলোর ওপর এসইওয়ের কোনো প্রভাব নেই। এমন কিছু ফিচার আছে যেগুলোও অর্গানিক অ্যাডভারটাইজ–এ দুই-এর কোনোটাই প্রভাবিত করতে পারে না। যেমন উইকিপিডিয়া, আইএমডিবি, ওয়েবএমডি ইত্যাদি সাইটগুলো থেকে আসা সার্চ রেজাল্ট।

 

এসইও কেন দরকার বা গুরুত্বপূর্ণ?

এসইও (SEO) অনুশীলনের/প্রয়োগের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের গুণগত মান ও ইউজার বৃদ্ধি পেয়ে থাকে, পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজে অরগানিক ফলের মাধ্যমে কোম্পানির ব্র্যান্ডিং হয়ে থাকে।

ওয়েবসাইটে ট্রাফিক/ইউজার জেনারেট করার জন্য যদিও পেইড অ্যাডভারটাইজিং, সোশ্যাল মিডিয়া ‍এবং অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো রয়েছে। তারপরও বেশির ভাগ ইউজার ওয়েবসাইটে আসে সার্চ ইঞ্জিন থেকে।

সার্চ ইঞ্জিন তার রেজাল্ট পেজে বিভিন্ন ডিজিটাল ফিচার ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্যবহুল উত্তর দেখায়, যা পেইড অ্যাডভারটাইজিংয়ের তুলনায় অধিক পরিমাণ ক্লিক জেনারেট করে। উদাহরণস্বরূপ, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সব ক্লিকের মাত্র ২.৮% আসে টাকা দিয়ে দেওয়া বিজ্ঞাপন বা পেইড অ্যাডভারটাইজিং থেকে।

এসইও একমাত্র অনলাইন মার্কেটিং চ্যানেল যেখানে সঠিকভাবে সেটআপ করা কাজ থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আয় হতে বা রেভিনিউ জেনারেট হতে থাকে। আপনি যদি সাইটে তথ্যসমৃদ্ধ ও ব্যবহারবান্ধব কনটেন্ট দিতে পারেন এবং তা সার্চ ইঞ্জিনে সঠিক কি-ওয়ার্ডে র‍্যাঙ্কিং করে। তবে আপনার সাইটে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ক্রমাগত ইউজার আসতে থাকবে। পেড অ্যাডভারটাইজিংয়ে প্রচুর অর্থ খরচ করেও আপনি যা পাবেন না।

বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিনগুলো যদিও অনেক স্মার্ট, কিন্তু সঠিক সার্চ কনটেন্ট দেখানোর জন্য তারপরও আপনার সহযোগিতা দরকার। অপটিমাইজ করার মাধ্যমে আপনার সাইট সার্চ ইঞ্জিনকে তথ্যসমৃদ্ধ ও ইউজার ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট দেবে। যাতে সার্চ ইঞ্জিন আপনার সাইটের কনটেন্ট ক্রলিং, ইনডেক্সিং এবং র‍্যাঙ্কিং করার মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজে দেখাতে পারে।

 

হোয়াইট হ্যাট বনাম ব্ল্যাক হ্যাট এসইও

‘হোয়াইট হ্যাট এসইও’ বলতে এসইও-এর সেই সব কৌশল, বেস্ট প্র্যাকটিস এবং ‍স্ট্রাটেজি বোঝায়, যা সার্চ ইঞ্জিনের সব গাইডলাইন অনুসরণ করে করা হয়। এটার প্রধান ফোকাস মূলত ইউজারদের ওপর।

‘ব্ল্যাক হ্যাট এসইও’ বলতে সেই সব কৌশল এবং ‍স্ট্রাটেজি, যা স্প্যামিংয়ের মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা হয়। যার মাধ্যমে খুব কম সময়ের মধ্যে একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র‍্যাঙ্কিং-এ দেখানো যায়। কিন্তু এর ফলে সার্চ ইঞ্জিন সেই সাইটটিকে পেনাল্টি বা ডিইনডেক্সিং করে দিতে পারে। ‘ব্ল্যাক হ্যাট এসইও’তে সার্চ ইঞ্জিনের কোনো গাইডলাইন অনুসরণ করা হয় না।

পেনাল্টি পাওয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে কোনো ব্যবসায় সফল হওয়া যাবে না। সার্চ ইঞ্জিনের পেনাল্টি পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে এসইও প্রফেশনাল, ‍এজেন্সি বাছাই করতে ভুল করা ও সার্চ ইঞ্জিনের গাইডলাইন অনুসরণ না করা।


Source: https://www.prothomalo.com/technology/article/1636070/%E0%A6%8F%E0%A6%B8%E0%A6%87%E0%A6%93-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%96%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A8