Author Topic: সোনামণির যত্ন | ডিহাইড্রেশন এবং করণীয়  (Read 114 times)

Offline saima rhemu

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 230
  • Test
    • View Profile
ডিহাইড্রেশন অর্থ হচ্ছে পানিশূন্যতা। আমাদের শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় পানির ঘাটতি হলে সেটাকে ডিহাইড্রেশন বলে। এই পানিশূন্যতা ছোট বা বড় যেকোন মানুষের হতে পারে। তবে বাচ্চাদের মধ্যে ডিহাইড্রেশন বড়দের চেয়ে বেশি দেখা যায়। আর যদি সঠিক সময়ে এটি ধরা না পড়ে এবং ঠিকঠাক ব্যবস্থা না নেয়া হয় তবে এর ফলাফল মারাত্নক হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সময় থাকতে ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে। বাচ্চাদের মধ্যে নানা কারণে ডিহাইড্রেশন দেখা যায় যেগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত ঘাম, বমি, ডায়রিয়া অন্যতম। এছাড়া কিছু কিছু বাচ্চা একদমই পানি খেতে চায় না। তাদের ক্ষেত্রেও ডিহাইড্রেশন হবার প্রবণতা দেখা যায়।

ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ


বাচ্চাদের মধ্যে ডিহাইড্রেশনের নানারকম লক্ষণ দেখা যায়। তবে নিচে উল্লেখিত লক্ষণগুলোই বেশি দেখা যায়।

(১) বাচ্চা খুব ক্লান্তবোধ করে।

(২) ছয় ঘন্টা বা তার বেশি সময় ধরে প্রসাব না করা।

(৩) প্রসাবের রঙ গাঢ় হলুদ হয় এবং প্রসাবের গন্ধও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি তীব্র হয়।

(৪) ঠোঁট ও মুখের ভিতর বারবার শুকিয়ে যায়।

(৫) এছাড়া বাচ্চার ডিহাইড্রেশন যদি মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তবে তার মধ্যে উপরের লক্ষণগুলোর সাথে সাথে নিচের আর কিছু লক্ষণ দেখা যায়।

যেমন-

– চোখের নিচে কালি পড়ে যায় এবং চোখ গর্তে বসে যায়।

– হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়।

– মাথার নরম গর্তমতো অংশটি আরও ভিতরে ঢুকে যায়।

– এছাড়া বাচ্চারা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি ঘুমায় এবং অন্য সময়ের তুলনায় বেশি বিরক্ত করে।

বাচ্চার ডিহাইড্রেশন হলে কী করবেন?

ডিহাইড্রেশন দূর করার একমাত্র উপায় হচ্ছে শরীরকে রিহাইড্রেট করা। এর মানে শরীর থেকে যতটা পানি বেরিয়ে যাচ্ছে তার থেকে বেশি পানি যাতে আপনার বাচ্চা গ্রহণ করে যত দ্রুত সম্ভব সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আপনার সন্তানের বয়স যদি ছয় মাসের কম হয় তাহলে তাকে বুকের দুধ দেয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। যদি আপনার সন্তান ফর্মুলা দুধ খায় তবে ঘন ঘন তা খেতে দিন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ডিহাইড্রেটেড বাচ্চা বমি করছে। সেক্ষেত্রে দুধের পরিমাণ এবং সময়ের ফারাক কমিয়ে দিন। যেমন বাচ্চা যদি চার ঘন্টা অন্তর ৬ আউন্স দুধ খায় তাহলে তাকে দুই ঘন্টা অন্তর তিন আউন্স দুধ দেয়া শুরু করুন।

বাচ্চার বয়স যদি ছয় মাসের বেশি হয় তবে তাকে বেশি বেশি তরল খাবার দিন। নিয়মিত স্বাভাবিক খাবারের সাথে স্যুপ এবং ফলের রস খাওয়ান। যদিও বাচ্চারা স্যালাইন খেতে চায় না, তারপরও চেষ্টা করুন বাচ্চাকে স্যালাইন খাওয়ানোর। এছাড়া ডাবের পানি, বেদানার রস, তালমিশরি মেশানো পানি ডিহাইড্রেশনের জন্য খুব উপকারী। এছাড়া বাচ্চাকে এসময় বেশি তেল মশলা জাতীয় খাবার দেবেন না।

বাচ্চার যদি অল্প মাত্রার ডিহাইড্রেশন হয় তবে উপরের নিয়মগুলো মানলেই তা কমে যাবে। কিন্তু যদি ডিহাইড্রেশন বেশি মাত্রায় হয় এবং ডিহাইড্রেশনের কারণ ডায়রিয়া, বমি বা জ্বর হয় তবে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হবে।
Saima Amin
Assistant Coordination Officer
Department of Architecture
Email: archoffice@daffodilvarsity.edu.bd
Cell: 01847140045, Ext: 299