Author Topic: শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের শেষ কোথায়? (কালের কণ্ঠ, ১০ জুলাই, ২০১৯ (পৃ. ১৫)  (Read 25 times)

Offline kekbabu

  • Newbie
  • *
  • Posts: 43
  • Test
    • View Profile
    • https://daffodilvarsity.edu.bd/
শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের শেষ কোথায়
ড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু
১০ জুলাই, ২০১৯

সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা ও নির্যাতন। দেশব্যাপী শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় সচেতন দেশবাসী ও অভিভাবক মহল আজ রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। স্কুল, মাদরাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বাসে-লঞ্চে, পথে-ঘাটে, মাঠে কোথাও আজ যেন শিশুরা নিরাপদ নয়। এ অবস্থা নিঃসন্দেহে একটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং তা ওই জাতির জন্য এক অশনি সংকেতই বটে। আশঙ্কাজনক হারে শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাগুলো বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। বলা বাহুল্য, কোনো সমাজে ধর্ষণ বিস্তৃত হলে এবং ধর্ষকদের কঠোর সাজার ব্যবস্থা করা না হলে সেই সমাজে নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বলে কিছুই থাকে না। এ ধরনের ঘটনা পুরো সমাজ, দেশ ও জাতিকে বিশৃঙ্খলা ও অপরাধের দিকে ধাবিত করে, যা কখনোই ভালো কোনো বিষয় হতে পারে না। এমতাবস্থায় শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ অবস্থা আরো ভয়ানক পর্যায়ে গিয়ে ঠেকবে।

আজকাল পত্রিকা পড়লে কিংবা টেলিভিশনের সংবাদের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই চোখে পড়ে শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা এবং শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত খবর। এসংক্রান্ত খবর পড়তে পড়তে ও দেখতে দেখতে দেশের মানুষের মন বিষিয়ে উঠেছে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের (২০১৯) এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনে সারা দেশে ৪৭টি শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশে প্রতিবছর এক হাজারেরও বেশি নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। শুধু চলতি বছরেই নয়, বিগত বছরগুলোয়ও দেশে শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের চিত্র ছিল ভয়াবহ। ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ নামের ওই বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায়, গত বছর (২০১৮) ধর্ষণের শিকার হওয়ার মোট ৩৪৫টি সংবাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৩৫৬, যার মধ্যে মারা গেছে ২২ জন এবং আহত হয়েছে ৩৩৪ জন। প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়, শিশুরা প্রতিবেশী, উত্ত্যক্তকারী, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক বা অপরিচিত ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যায়, গত বছর ধর্ষণ ছাড়া আরো ৭৭টি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং এর মধ্যে মারা গেছে একজন। ওই রিপোর্টে বলা হয়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মোট ২৭৬টি শিশু হত্যা ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ২২৭ জন। এ পরিসংখ্যান থেকে এটা স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে যে আমরা যেন কোনোভাবেই শিশু ধর্ষণের লাগাম টেনে ধরতে পারছি না। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, দেশে প্রায় ৭০ শতাংশ শিশু তার প্রতিবেশী, আত্মীয়, বন্ধু বা তাদের শিক্ষক দ্বারা ধর্ষণ, হত্যা ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। অন্য এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত দেশে এক হাজার ৩০১ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে; যার মধ্যে প্রতিবন্ধী, গৃহকর্মী ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালের শুরু থেকে ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত এ দেশে সাড়ে ৯ শরও বেশি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে। প্রতিনিয়ত এই ঘৃণ্য অপরাধের মাত্রা বাড়ছে। দেশে প্রতিনিয়ত শিশু হত্যা, শিশু নির্যাতন এবং শিশু অপহরণের মতো বেদনাদায়ক ও জঘন্য ঘটনা ঘটলেও যেন কারো টনক নড়ছে না। পাশাপাশি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া কিংবা পেশিশক্তির জোরে অনেক সময় পার পেয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন সামাজিক অবক্ষয়ের পরিচয় পাওয়া যায়, অন্যদিকে তা সার্বিক সমাজব্যবস্থার ব্যর্থতার পরিচয়ই তুলে ধরে। শিশু হত্যা, শিশু নির্যাতন ও শিশু অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি যে আরো ভয়াবহ হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।   

ধর্ষণের কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় : ১. ধর্ষণকারীদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অপরাধবোধ না থাকার কারণে নির্দ্বিধায় ধর্ষণ করতে উদ্যোগী হচ্ছে। ২. যে সমাজে আইনের শাসন নেই কিংবা থাকলেও তা দুর্বল বা ভঙ্গুর, সেই সমাজের লোকরা ধর্ষণ উপযোগী পরিবেশ পায় এবং ধর্ষণ করে। সুতরাং সামাজিক প্রতিরোধ ও আইনের শাসনের অভাব ধর্ষণের জন্য দায়ী। ৩. পর্নোগ্রাফি, যা দেখে অনেক পুরুষ ধর্ষণে উৎসাহ বোধ করে। ৪. মেয়েদের ওপর আধিপত্য বিস্তার ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার মানসিকতাও ধর্ষণের অন্যতম কারণ। ৫. ক্ষমতাশালী ব্যক্তি সুযোগ পেয়ে কোনো দুর্বল মেয়ে, শিশু বা ছেলের ওপর ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটায় ধর্ষণের মাধ্যমে। ৬. অনেক সময় বন্ধুবান্ধব একসঙ্গে হয়ে আকস্মিকভাবে কোনো অসহায় মেয়েকে একা পেয়ে আনন্দ-ফুর্তি করার জন্যও ধর্ষণ করে। এ ছাড়া বর্তমানে ইন্টারনেটসহ নানা ধরনের তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়াসহ পারিপার্শ্বিক আরো অনেক কারণে ধর্ষণ হতে পারে। তবে যেভাবেই ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতন হোক না কেন, তা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯ ধারা মোতাবেক ধর্ষণের অপরাধে যেসব শাস্তির বিধান রয়েছে তা হচ্ছে—ধর্ষণের ফলে কোনো নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে ধর্ষণকারীর জন্য রয়েছে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত কমপক্ষে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড। একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করলে ধর্ষণকালে বা ধর্ষণের পর যদি তার মৃত্যু ঘটে, তবে ওই দলের সবার জন্যই এই শাস্তি প্রযোজ্য হবে। ধর্ষণের চেষ্টা করলে ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ ১০ বছর ও সর্বনিম্ন পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো বা আহত করার চেষ্টা করলে ধর্ষণকারী যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে। তবে শিশু ধর্ষণ বা নির্যাতন বা হত্যা বিষয়ে মামলা করে বিচার পাওয়ার চেয়ে সমাজে যেন এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই না ঘটে সে ব্যবস্থা নেওয়া অধিকতর মঙ্গলজনক। কারণ Prevention is better than cure। ধর্ষণের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আমাদের দর্শন ও নৈতিকতার উন্নয়ন করতে হবে, আমাদের মনের অশুভ চিন্তা বা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। বর্তমান বাস্তবতায় সমাজে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত কণ্ঠে প্রতিবাদ হওয়াটা খুবই জরুরি। ধর্ষকরা অনেক সময় শাস্তি পায় না বলেই পরবর্তী সময়ে তারা আবারও একই কাজ করে। আর তাদের দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হয়। এভাবে চলতে থাকলে এ সমাজ, দেশ ও জাতি কলুষিত হবে। দেশ পরিণত হবে মগের মুলুকে। তাই ধর্ষণ রোধে প্রতিটি পরিবার থেকে প্রতিটি শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা প্রয়োজন, যেন বড় হয়ে সে কোনোভাবেই এ পথে পা না বাড়ায়। পরিবারই শিশুর আচরণ, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ইত্যাদির ভিত্তি তৈরি করে দেয়। সর্বোপরি ধর্ষণ প্রতিরোধে সরকারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সুধীসমাজসহ সবার একযোগে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রয়োজন ধর্ষণকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা। এ দেশ ও জাতির উন্নয়ন, অগ্রগতি ঘটানোসহ সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এবং একটি সুখী, সুন্দর ও সাফল্যময় দেশ গঠনে ধর্ষণকে কঠোর হস্তে দমন করা এখন অপরিহার্য বিষয় হয়ে পড়েছে।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, আইন বিভাগ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সদস্য
kekbabu@yahoo.com

Link: https://www.kalerkantho.com/print-edition/muktadhara/2019/07/10/789396
Dr. Kudrat-E-Khuda (Babu).
Associate Professor (Dept. of Law), Daffodil International University;
International Member of Amnesty International;
Climate Activist of Greenpeace International; Column Writer;
Mobile Phone: +8801716472306
E-mail: kekbabu.law@diu.edu.bd

Offline Sharminte

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 300
  • Test
    • View Profile
Sharmin Akter
Lecturer
Department of Textile Engineering
Permanent Campus
Email: sharmin.te@diu.edu.bd