Faculty of Engineering > Textile Engineering

Empty Sky.

(1/1)

Reza.:
ঘুমাতে প্রতিদিনই দেরী হয়। পরদিন ছুটি থাকলে তো কথাই নাই। যত রাত বাড়ে - আমি তত জাগ্রত হই। ইংরেজিতে ইন্সমনিয়া বলে একটি কথা আছে। আমি হয়তো ইনসমনিয়াতে আক্রান্ত - কে বলবে? আজকে রাতে বারান্দায় দাড়িয়ে চারিদিকে দেখতেছিলাম। আকাশের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ মনে হল - আমাদের এই জায়গায় আগে কারা থাকতো? আমরা এই জায়গায় আসার আগে মানে উত্তরা হওয়ার আগে। এখানেও আমাদের ১৯ টি বছর কেটেছে। আজকে যেমন মেঘলা আকাশে চাঁদ তারা খুঁজে দেখতেছিলাম - তেমন কি আগেও আর কেউ রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতো?
এখানে হয়তো ছিল বড়বড় গাছপালা। কিংবা একটি পুকুর। হয়তো এখানে কারো ঘর বাড়ি ছিল। যার উঠানে রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকতো। দিনের বেলা সেই উঠানে ছোটছোট ছেলে মেয়েরা খেলা করতো। পাশের রান্না ঘরে রান্না হত সারাদিন। কে বলবে কি ছিল এইখানে? কারা থাকতো? তারা যখন চলে গেল - কেমন লেগেছিল তাদের। তাদের মাঝে কি কান্নার রোল পড়ে গিয়েছিল? ফিরে ফিরে আসত কি তারা তাদের ফেলে যাওয়া আবাসস্থল দেখতে?
আমাদের পরেই বা কারা আসবে এখানে? তারা কি জানবে রাত জেগে আমি সেই কথাই ভাবতেছিলাম।
আমরা বলি চরম বাস্তবতা। যেটাকে কেউ অগ্রাহ্য করতে পারে না। তেমন কিছু কি আসলেই বাস্তবে আছে? বাস্তবতা হল আমরা এই জায়গায় এখন থাকি। আগেও কেউ ছিল। আগে যারা ছিল তাদের কথা আমরা জানি না। আমাদের কথাও পরের জনেরা জানবে না। এইটাই সম্ভব।
যা আমরা আমাদের একেবারে নিজের বলি - সময়ে তা কত পর হয়ে যায়। কিছুই স্থায়ী নয়। কোন কোনটা হয়তো একটু বেশী সময় আমাদের হয়ে থাকে।
আমরা ভুলে যাই অনেককে। একসময় আমাদেরও ভুলে যাবে সবাই। এইভাবেই কেটেছে শত সহস্র বছর। কোটি কোটি জীবনের গল্প কেউ জানিনা। আমরা কেবল আমাদের নিজেদের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। কালের স্রোতে আর মানুষের ভীরে আমরা সবাই এক সময় হারিয়ে যাব। ভাবতেই সব কিছু কেমন শূন্য মনে হয়। এক একটি দীর্ঘশ্বাস নিরবে বয়ে যাবে।
বসে বসে অনুভব করতে চেষ্টা করতেছি সেই সব দীর্ঘশ্বাসের শব্দ।

Navigation

[0] Message Index

Go to full version