শীতে শিশুর ডায়রিয়া রোধে রোটা ভ্যাকসিন

Author Topic: শীতে শিশুর ডায়রিয়া রোধে রোটা ভ্যাকসিন  (Read 22 times)

Online Mafruha Akter

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 307
    • View Profile
শীতকালে শিশুদের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার জন্য দায়ী সংক্রামক ভাইরাস ‘রোটা’। তবে শিশুকে এই ভাইরাস থেকে প্রতিরোধ করতে রয়েছে ভ্যাকসিন। দুই বা তিন ডোজের রোটা ভাইরাস ভ্যাকসিন নিয়ে শিশুকে রাখা যায় নিরাপদ।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা রোটা ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয় বেশি। আর দুই বছরের কম বয়সী শিশুরা আরও বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

ঢাকার উত্তরায় শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাজী মাহমুদ তালুকদার বলেন, রোটা ভাইরাসের সংক্রমণে ডায়রিয়া হলে শিশুরা দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তবে বর্তমানে রোটা ভাইরাস প্রতিরোধের ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জানান, রোটা প্রতিরোধে হাসপাতালগুলোতে রোটা রিক্স ও রোটা টেক নামে দুই ধরনের ভ্যাকসিন রয়েছে। যেকোনো একটি ভ্যাকসিন নিয়েই শিশুকে ভাইরাস থেকে নিরাপদ রাখা যায়। রোটা টেক তিন ডোজ নিতে হয়। রোটা রিক্স দুই ডোজ নিতে হয়।


চিকিৎসক রাজী মাহমুদ তালুকদার বলেন, শীতকালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ৭০ থেকে ৮০ ভাগই রোটা ভাইরাসের সংক্রমণে অসুস্থ হয়। তিনি বলেন, গ্রীষ্ম বা বর্ষায় ডায়রিয়ার কারণ থাকে ব্যাকটেরিয়া। আর আমাদের দেশে শীতকালে রোটা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এটা মুখের মধ্য দিয়েই শিশুদের পাকস্থলীতে প্রবেশ করে। বড়দের ক্ষেত্রে রোটা খুব একটা দুর্বল করতে পারে না। প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরের রোটা ভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতা যথেষ্ট থাকে।

রোটা ভাইরাস রোধ করতে শিশু কী খাচ্ছে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে বলেও জানান চিকিৎসক। তিন বলেন, কিছু ধরার পরে শিশু মুখে আঙুল দিচ্ছে কি না সেটি খেয়াল রাখতে হবে। আর বাইরে থেকে কেনা খাবার যেন অবশ্যই বিশুদ্ধ করে খাওয়ানো হয়।

রোটা ভাইরাস প্রতিরোধে মায়ের দুধ কার্যকর বলে জানান চিকিৎসক রাজী। তিনি বলেন, যেসব শিশু ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খায়, তাদের ঝুঁকি অনেক কম থাকে। আর ডায়রিয়া হলে শিশুর স্বাভাবিক খাবার বন্ধ করা যাবে না। এর ফলে শিশু আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঝুঁকিতে থাকে।

চিকিৎসা কী?
ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় রোটা ভাইরাস রোগের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। রোটা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাই ওরাল স্যালাইনই আসল হাতিয়ার। বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে। ৬ মাসের বড় বাচ্চাদের অন্যান্য খাবার দিতে হবে। নরম জাউ, কাঁচা কলা ভর্তা, ডালের পানি ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর স্যালাইন খাওয়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, এই রোগের আসল ঝুঁকি হলো পানিশূন্যতা।

প্রতিরোধ
প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেওয়া প্রধান প্রতিরোধ। প্রতিরোধ নিরাময়ের চেয়ে শ্রেয়। ফুটানো পানি পান করা, পায়খানার পর ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, রাস্তাঘাটের খোলা খাবার পরিহার করা, বাচ্চাদের এটা-সেটা মুখে দেওয়া থেকে বিরত রাখা ইত্যাদি রোটা ভাইরাস রোগের সংক্রমণে বাধা দেবে।

যেভাবে এই ভাইরাস ছড়ায়
যদি কোনো শিশু রোটা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে আক্রান্ত হওয়ার দিন থেকেই অর্থাৎ লক্ষণ প্রকাশ হওয়ার আগে থেকেই শিশুটির মলে এই ভাইরাসের উপস্থিতি দেখা যায়। কোনো কারণে তা সঠিকভাবে পরিষ্কার করা না হলে বা শিশুটির হাতে পায়ে মল লেগে থাকলে এর মাধ্যমেই রোটা ভাইরাস ছড়াতে পারে।

শিশুটির হাত থেকে রোটা ভাইরাস জীবাণু তার খেলনা, খাবার প্লেট যেকোনো স্থানে ছড়াতে পারে। এ থেকে অন্য যেকোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারে। তাই শৌচকাজ সারার পর ছোট থেকে বড় সবারই ভালোভাবে জীবাণুমুক্তকরণ সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অত্যন্ত জরুরি। গ্রামাঞ্চলে যেখানে এখনো টয়লেট নেই, সেখানে এ রোগ ছড়ানোর হার অত্যন্ত বেশি। রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুর মল কারও কাপড়, জুতো বা পায়ে লেগেও ছড়াতে পারে।

যাদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে
এই রোগ সাধারণত শিশুদের মধ্যেই বেশি দেখা দেয়। তবে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে যারা থাকে বিশেষ করে শিশুর মা বাবা, ভাই বোন বা অন্যান্য আত্মীয় কিংবা ডে কেয়ারের কর্মচারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

রোটা ভাইরাস ডায়রিয়ার লক্ষণ
সাধারণত কোনো শিশু রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দুই দিনের মধ্যেও কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। এই রোগে প্রথমে জ্বর আসে, বমি শুরু হয় এবং তারপর পেট ব্যথা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এটি প্রায় ৫ থেকে ৭ দিন থাকতে পারে। তবে বড়দের ক্ষেত্রে এটি ততটা মারাত্মক হয় না।

যখন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত
রোটা ভাইরাস অত্যন্ত মারাত্মক রোগ। এটি শিশুর মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। তাই কিছু লক্ষণ দেখা মাত্রই দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

যেসব লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে যে রোগীর পানিশূন্যতা হয়েছে তা হলো:
উদ্বিগ্নতা, কান্না করলেও চোখে পানি না আসা, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা ডায়াপার পরালে তা শুকনো থাকা, ক্লান্তি, ঠোঁট শুকনো থাকা, প্রচণ্ড ঘুম পাওয়া, ত্বক শুষ্ক ও বিবর্ণ হওয়া

চিকিৎসকেরা যেভাবে রোটা ভাইরাস ডায়রিয়া পরীক্ষা করে থাকেন
রোটা ভাইরাস ডায়রিয়া সাধারণ ডায়রিয়ার চেয়ে মারাত্মক এবং এর লক্ষণগুলোও অত্যন্ত ভয়াবহ। তাই সাধারণত লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানলেই ডাক্তাররা রোটা ভাইরাস ডায়রিয়া আন্দাজ করতে পারেন। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনেক সময় আক্রান্তের মল পরীক্ষা করতে পারেন।

ডা. রাজী মাহমুদ তালুকদার জানান, দেশে শিশুদের ডায়রিয়ার জন্য দায়ী প্রধান চারটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে রোটা ভাইরাস। রোটা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মানুষের শরীরে এর প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। আক্রান্তদের উপসর্গ হিসেবে প্রথমে শুরু হয় বমি। এরপর আস্তে আস্তে পানির মতো পাতলা পায়খানা। খুব কম সময়ের মধ্যে ডায়রিয়া তীব্র আকার ধারণ করে এবং পানিশূন্যতা এত বেশি হয় যে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া না গেলে প্রাণহানির আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া সঙ্গে জ্বর ও পেটব্যথাও থাকতে পারে। ৯ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে বমি ও জ্বর। ডায়রিয়া থাকতে পারে ২১ দিন।

নাজিয়া হোসেন: প্রথম আলোর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাংবাদিক
Mafruha Akter
Sr. Library officer
Daffodil International University
(Uttara Campus)