Author Topic: কারণ আমরাই পারি  (Read 539 times)

Offline Narayan

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 423
  • যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে।
    • View Profile
কারণ আমরাই পারি
« on: February 29, 2012, 09:05:11 AM »
আমার নাম বোনো। আমি একজন রকস্টার। এত তাড়াতাড়ি আনন্দে উচ্ছ্বসিত হোয়ো না। কারণ, আমার কাছে আরও উচ্ছ্বসিত হওয়ার অনেক চার অক্ষরের শব্দ আছে। তাদের মধ্যে আজ আমি একটি চার অক্ষরের শব্দ ব্যবহার করব—পিইএনএন (পেন ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া)। আমরা অবশ্য আগেও এখানে এসেছিলাম। তখন আমার সঙ্গে ছিল ইউ-টু ব্যান্ড এবং আমাদের অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। তাই সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ দিতে চাই। আমি এমন একটি রক অ্যান্ড রোল ব্যান্ডের সঙ্গে গাইছি, যেটি আমার জীবনের সব সমস্যার সময় আমার সঙ্গে ছিল, সমস্যাগুলো যতটা কঠিন আর আমাদের বিপক্ষেই হোক না কেন! এমন একটা সময় ছিল যখন আমি কী পোশাক পরব, সেটা নিয়ে কঠিন দিন পার করতে হয়েছে। জীবনের এমন একটি অভাবের দিনে আমি অর্জন করেছিলাম ‘ডক্টর অব ল’। আমার জন্য এটি ছিল অনেক বড় প্রাপ্তি। সেই সম্মান হাতে আমি ভাবছিলাম সেই আইনগুলোর অনুশাসন, যেগুলো হয়তো কোনো দিন আমি ভেঙেছি। আমার মনে পড়ছিল, মানুষের চিন্তাচেতনার মধ্যে, তাদের কথাবার্তা ও কর্মের মধ্যে আমার অনেক অপরাধ ছিল। কিন্তু একটি জিনিস আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করে—কোনো এক মনীষী বলেছিলেন, ‘আইনের জন্য হয়তো কোনো প্রতিভার প্রয়োজন নেই। কিছুটা সাধারণ জ্ঞান আর ভালো কিছু করার ইচ্ছাই আইনকে প্রতিষ্ঠা করে।’
কলেজ কিংবা কলেজের লাইব্রেরিতে কখনোই আমার জায়গা হয়নি। আমি সব সময় পড়তাম রক অ্যান্ড রোল সংগীত নিয়ে। আমি বড় হয়েছিলাম সত্তরের দশকের ডাবলিন শহরে। সেখানেই সংগীত আমার জন্য নতুন একটি পৃথিবীর পরিচয় করিয়ে দেয়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে আমার দেখা প্রথম কনসার্ট ছিল ‘দ্য ক্ল্যাশ’ ব্যান্ড। দ্য ক্ল্যাশ তাদের গিটারের মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছিল আজীবন মানুষের সেবা করে যাওয়ার। তাদের অসাধারণ সেই কনসার্টের মধ্য দিয়ে আমি শিখেছি কষ্ট করে কিছু অর্জন করতে।
আমি পড়াশোনায় যতই ভালো অথবা খারাপ হই না কেন, আমি সব সময় চিন্তা করতাম, আমি আমার জীবনে ভিন্ন ধরনের সংগীত করব এবং অন্য মানুষের জীবনে আমি তা করতে পেরেছি এবং যার জন্যই আজ আমি এগিয়ে গিয়েছি এত দূর। সব সময় মনে রেখেছি একটি কথা, যদি কখনো পৃথিবী তোমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি এখানে কী করছ’, তখন তোমার জবাব কী হবে? কখনো যদি তোমাকে তা জিজ্ঞেস করা হয়, তবে সেটি হবে একটি ন্যায্য প্রশ্ন। তাই এর সঠিক উত্তরটি এখন থেকে খুঁজে নিয়ো। বর্তমানে পরিবর্তনের ধারা একটুও কম নয়। বড় কল্পনাগুলো এখন অনেক মূল্যবান, যা ছিল বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, জাসটিস ব্রেনেন এবং আমার ধারণা অনুযায়ী, তা আছে জুডিথ রডিনের (সপ্তম প্রেসিডেন্ট, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া) কাছে। কারণ তাঁরা জানতেন, যদি তুমি সঠিকভাবে কথা বলতে পারো, নিজের চিন্তা-শিক্ষার মধ্যে বেঁচে থাকতে পারো, তবে তা তোমাকে একদিন সুফল দেবেই। এ জন্যই আমার প্রশ্ন হলো, ‘কোথায় তোমাদের সেই মূল্যবান চিন্তাগুলো? কিসের জন্য তুমি তোমার টাকা, মূলধন, পরিশ্রম ও বুদ্ধি দেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কিছু করার জন্য?’ যদি কোনো কিছুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে হয়, তবে নিজ বয়সের সঙ্গে তা করো।
প্রতিযুগের এমন কিছু ঘটনা আছে, যা থেকে আমরা শিক্ষা লাভ করতে পারি। হয়তো এখন তুমি পাচ্ছ না, কিন্তু তোমার ছেলেমেয়েরা পাবে। দাসত্ব, দেশবিভক্তি এসব এমনই কিছু উদাহরণ। এগিয়ে যাওয়ার জন্য অবশ্যই তাই যুগোপযোগী হতে হবে। ১৯৮৫ সালে ফিলাডেলফিয়ায় একটি কনসার্ট হয়। এই কনসার্টের পর আমি ও আমার স্ত্রী অ্যালি ইথিওপিয়াতে যাই। ওখানে আমরা এক মাসের মতো থাকি। একদিন ভোরে একটু আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে। আমরা সেখানে যে খাওয়ার জায়গায় কাজ করতাম, সেখানে এক লোক আসেন। তিনি আমহারিক ভাষায় কথা বলেন। আমি অনুবাদকের কাছে জানতে পারি, তিনি আমাকে তাঁর ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। কারণ লোকটির সঙ্গে তাঁর ছেলে থাকলে সে নিশ্চিত মারা যাবে। আমি তখন খুব অবাক হই এবং সেখান থেকে চলে আসি। কিন্তু ঘটনাটি পরে কখনো আমি ভুলে যেতে পারিনি। বলা যায়, এর পর থেকে আমি মানবহিতৈষী কাজে আগ্রহী হই। তখন আফ্রিকায় এক বড় সমস্যা ছিল এইডস। প্রায় সাত হাজার আফ্রিকান মারা যেত এর কারণে। যাদের আয় ছিল এক ডলারের কম, তাদের কাছে এ অসুখ হয়ে উঠেছিল জরুরি। আর এ জন্যই অবশ্য আমি সেই ১৯৮৫ সালের কনসার্টটা করি, ‘লাইভ এইড’, যা তাদের অনুদান দেওয়ার জন্য আয়োজিত হয়।
আসলে আমাদের অনেক সমস্যা আছে, যার সমাধান আমরা দিতে পারি না, যেমন দুর্নীতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ; কিন্তু আমরা যার সমাধান দিতে পারি, তা আমাদের করা উচিত। ঋণসংক্রান্ত জটিলতা, অন্যায্য বাণিজ্য—সবকিছুতেই, সব সমস্যাতেই আমরা যা পারি, তা করা আমাদের কর্তব্য। আমরাই প্রথম প্রজন্ম, যারা দারিদ্র্য ও এই অসুস্থতা এত বেশি দেখছি। আমরা সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে যদি সবাই এই দারিদ্র্য রোধের জন্য এগিয়ে আসি, তবে আমরা তা বন্ধ করতে সফল হবই। এবং এটাই বাস্তবতা।
বর্তমানে আদর্শবাদের কথা কোথাও বলা হয় না। না রেডিও, না টিভিতে। কৌতূহলী হয়ে কাজ করা, হাসিঠাট্টা বা মজা করা—সবই আমি করি। তবু বলি, এই আদর্শবাদই রোধ করতে পারে স্বার্থপরতা অথবা অন্য সব খারাপ কিছু। আমি এটা বলি না, তোমরা আদর্শবাদ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পুলিশ হও। কিন্তু তোমরা আমেরিকানিজমের জন্য করো। কারণ এটিই বর্ণনা করবে তোমাদের সম্পর্কে।
সব সময় সাফল্যের গান গাও। মনে রেখো, ভালো কিছু করার জন্য কাউকে কোনো অজুহাত বা কৈফিয়ত দিতে হয় না। যখন তুমি জানো, তোমার ভবিষ্যৎ স্থির ও অটুট, তখন তা-ই করো। কিন্তু সব সময় তোমার ভবিষ্যৎ স্থির থাকে না, তা সব সময়ই ভাসমান এবং তখন তুমি নিজে তা শক্তভাবে তৈরি করতে চেষ্টা করো। মূলত এ পৃথিবীটিকে যা তুমি মনে করো তার চেয়ে অনেক বেশি নমনীয়। তোমার শুধু একটা হাতুড়ি প্রয়োজন, যা দিয়ে তুমি তার গঠন ঠিক করতে পারো। এই ভোঁতা অস্ত্রই পারবে তোমাকে সাহায্য করতে। তাই এগিয়ে যাও এবং নিজের জন্য কিছু তৈরি করো। মনে রেখো, জন অ্যাডামস বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন সম্পর্কে যে কথাটি বলেছিলেন, ‘সে আমাদের কাছে অনেক বেশি অস্থির মনে হলেও সাহসী পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করত না।’
এবং তাই এই সময়টি হলো সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার। এটি সেই দেশ, এটি তোমাদের প্রজন্ম। এগিয়ে যাও। ধন্যবাদ।

সূত্র: ওয়েবসাইট
Narayan Ranjan Chakraborty
Assistant Professor
Department of CSE
Daffodil International University.