Author Topic: গলফ শিখতে অসুবিধা কোথায়?  (Read 2574 times)

Offline rubel

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 140
    • View Profile
গলফ শিখতে অসুবিধা কোথায়?

গলফ এ দেশে উচ্চবিত্ত আর অভিজাত শ্রেণীর খেলা বলেই পরিচিত। তবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এ দেশে যারা এ খেলাটিকে নির্ভর করে বেঁচে আছে, তারা দীনহীন ঘরের ছেলে। আপনি যদি সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আর্মি গলফ কোর্সে চলে আসেন, দেখবেন ১৪ থেকে ১৮-২০ বছরের ছেলেরা আপনার ক্যাডি হওয়ার জন্য দৌড়ে চলে আসছে। এরা ক্যাডি হিসেবে আপনাকে গলফ খেলতে সাহায্য করবে, আপনার শটের ভুলত্রুটিগুলো দেখিয়েও দেবে। প্রশ্ন হলো, ওরা এই খেলা জানল কীভাবে?
১৯৬৫-৬৬ সালের দিকে কুর্মিটোলা গলফ কোর্সের জন্ম। অভিজাত আর উচ্চবিত্তদের গলফ ব্যাগ আর ক্লাব (যে স্টিক দিয়ে গলফ বল মারা হয়) বহনের জন্য তখন থেকেই অল্প বয়সের ছেলেরা মাঠে হাজির থাকত। এরা খেলা দেখতে দেখতে অবসর মুহূর্তে নিজেরাও খেলত। আজ প্রতিটি গলফ কোর্সে অনেক ভালো বলবয় বা ক্যাডির দেখা পাওয়া যায়, যারা টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পেলে হয়ে উঠবে এক-একজন সিদ্দিকুর রহমান। যে সিদ্দিক আজ এশীয় শ্রেষ্ঠদের সঙ্গে পাল্লা দেয়, সেও ছিল একসময় বলবয়। সিদ্দিক আজ আমাদের অহংকার।
গলফের সঙ্গে অন্যান্য খেলার প্রথম পার্থক্য হলো, গলফ খেলাতে কোনো রেফারি বা আম্পায়ার নেই। প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজের শটের সংখ্যা নিজেই লিপিবদ্ধ করেন। আমাদের কাছে গলফ খেলাটি অপরিচিত খেলা হয়ে আছে দুটি কারণে। প্রথমত, এ খেলার প্রচার খুবই কম। দ্বিতীয়ত, এই প্রচারের অভাবে দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ লোক এই খেলা কোথায় হয়, কীভাবে হয়, তা-ই জানে না।
আমি গলফের নিজস্ব শব্দ বাদ দিয়ে সাধারণভাবে খেলাটি বোঝাচ্ছি। ধরুন আপনি যদি আর্মি গলফ কোর্সে খেলতে আসেন, এখানে নয় হোলে খেলা হয়। আপনি যেখান থেকে প্রথম গলফ বলটি মারবেন, সেখান থেকে প্রথম ‘হোল’টির দূরত্ব প্রায় ২৫০ গজ। এই ‘গর্তে’ বলটি ফেলার জন্য আপনার প্রথম শটটি খুব বড় নিতে হবে। এ জন্য আলাদা ‘গলফ ক্লাব’ আছে। এই ‘ক্লাব’ হলো গলফ বল মারার স্টিক। প্রথম শটটি যেটা ১৫০ থেকে ১৭৫ গজ দূরত্বে পাঠাতে হবে, সেখানের ‘স্টিক’কে ‘উড’ বলে। এই উডেরও বিভিন্ন নাম্বার আছে। বেশি দূরে বল পাঠানোর জন্য এক নম্বর ‘উড’ই বেশি ব্যবহার হয়। গর্তের দূরত্ব বিবেচনায় এরপর আপনাকে পিচিং ক্লাব বা ৭-৮-৯ নম্বর ক্লাব বেছে নিতে হবে। গ্রিন অর্থাৎ সবুজ ঘাসের মাঝখানে যে ‘গর্ত’টি আছে, সেখানে মারতে হবে ‘পাটার’ ক্লাব দিয়ে। এই গ্রিন পর্যন্ত বল নিয়ে যাওয়ার পথে বিভিন্ন বাধা আছে। কোথাও বালি আছে, কোথাও বা পানির পুকুরের মতো করা আছে। এ সবকিছু অতিক্রম করার জন্য আগেই বলেছি রয়েছে বিভিন্ন গলফ ক্লাব (স্টিক)। আর্মি গলফ ক্লাবের নয়টি হোল খেলতে দেড় থেকে দু ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। প্রতিদিন সব কটি হোল খেলার প্রয়োজন নেই। আর শুরুতে অনুশীলনের জায়গা রয়েছে, রয়েছে অগনিত বলবয় আর ক্যাডি, যারা এই অল্প বয়সেও যথেষ্ট পারদর্শী। তারাও আপনাকে গলফ ক্লাব ব্যবহারে দক্ষ করে তুলবে।
আমাদের দেশে ১২টি গলফ কোর্স আছে। ঢাকায় কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব বাদেও আছে ঢাকা ক্লাব আর আর্মি গলফ কোর্স। চট্টগ্রামে আছে দুটি। একটি বিএমএর কাছে ভাটিয়ারিতে, অন্যটি শাহীন ক্লাবের। এর বাইরে আছে সাভার, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, কুমিল্লা, বগুড়া, যশোর ও রংপুরে। এসব গলফ কোর্স সেনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হলেও বাইরের সদস্যরাও খেলতে পারেন এখানে।
আবারও খেলার কথায় ফিরে আসি। প্রতিযোগিতার সময় প্রতি স্লটে চারজন করে প্রতিদ্বন্দ্বী থাকেন। এঁদের প্রত্যেককে একটি করে স্কোরকার্ড দেওয়া হয়। প্রতি চারজন প্রথম ড্রাইভ মারার পর দ্বিতীয় চারজন শুরু করেন অর্থাৎ ফুটবল, ক্রিকেট, হকির মতো শুধু এগারো-এগারো করে ২২ জনে এ খেলাটি সীমাবদ্ধ নয়, অনেকজন এ খেলাটিতে এক সঙ্গেই অংশ নিতে পারেন। পুরস্কারও অনেক ধরনের।
নিয়ম নিয়ে কথা বলতে হলে—‘পার’ হলো কোন ‘হোল’-এ কত শটে বল ফেলতে হবে। যদি চার শটে আপনার ‘পার’ নির্ধারিত থাকে, তবে তিন স্ট্রোকে ফেললে বলা হবে মাইনাস ওয়ান। পাঁচটিতে ফেললে প্লাস ওয়ান। এখানে যে মাইনাস-এ ফেলল, সে-ই জয়ী।
আমাদের দেশে এ খেলাটিতে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য বেসরকারি খাতে পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। কারণ গলফ খেলার জন্য বিশাল জায়গা দরকার। সাধারণের জন্য আমরা রেসকোর্সের কিছু অংশ ব্যবহার করতে পারি। তাহলে এ অঞ্চলটি অপরাধপ্রবণতা ও অসামাজিক কাজ থেকেও রক্ষা পাবে। দেশে প্রতিটি অঞ্চলেই পার্ক আছে। ইচ্ছা করলে এই পার্কগুলোতে শুধু গলফ গ্রিন তৈরি করে তাতে অনুশীলনের ব্যবস্থা করা যায়।


গলফ শিখতে অসুবিধা কোথায়? - by  মেজর চাকলাদার (অব.)
Prothom-Alo Date : 17-June-2012
Rafiqul Alam Rubel
Senior Assistant Director(IT)
Special Assistant to Chairman, BOT
Daffodil International University
Cell :+88 01713493130 or +8801811458809