Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.

Messages - Monir Hossan

Pages: [1] 2 3 ... 14

This week's news that 22 percent of people worldwide will be obese by 2045 if trends continue put the spotlight on the health of the youngest generations. With child obesity on the rise in the US and 18 percent of children and teenagers aged 5-19 classified as overweight or obese in 2016, according to the World Health Organization, here are five tips for parents designed to help protect children from the dangers of this global epidemic.

Pay attention to your lifestyle before your child is born
According to a study published by the British medical journal The Lancet in April of this year, children born to obese parents and children born to mothers who eat an unbalanced diet during pregnancy (including diet sodas) may be predisposed to obesity. It follows that embracing a healthier lifestyle before your child is born can help to prevent him or her from developing obesity later on.

Delay giving them sugar for as long as possible
Nutritionists warn against the excessive consumption of sugar too early in life. Before the age of three, they recommend limiting treats to fruit puree, dairy snacks, and the occasional cookie, all the more so because parents who feed children too much sugar often do not give them enough healthy fats in the form of eggs, goat and ewe's cheese and oleaginous fruits and nuts. Heavily processed industrial foods (pastries, chocolate bars, breads and manufactured cereals, pizzas, fruit juices, jams and spreads) should be avoided, especially if they contain fructose or glucose syrup.

Less screen-time and more sports
Along with increased cardiovascular risk, children who accumulate extra pounds before the age of five may keep them well into their teens and adulthood. To help children avoid becoming couch potatoes, parents should exercise themselves, spend less time in front of screens and set a good example. The goal should be to emphasize outdoor and sports activities that appeal to children.

Make sure they get enough sleep
Diet and exercise are not the only factors that favor obesity. Numerous studies have shown that lack of sleep can have a detrimental effect on children's weight, because it increases their appetite for fatty and sugary foods. Under-18s who sleep less than they should are more likely to be overweight (+58%), according to a meta-analysis recently published by the journal Sleep. Children aged 13 to 17 should get eight to ten hours of sleep per day, while children in the three-to-five age group need 10 to 13 hours per day.

Encourage children to meditate
Not only do they reduce stress and anxiety, meditation and hypnosis are also effective for the treatment of addictions, and notably food addictions in young children. In a program that began this year at the University Hospital of Rouen, in France's Seine-Maritime, close to 60 patients have been taught how to resist the lure of food through the use of techniques that focus their attention elsewhere.


ICT / Satya Nadella says, Robots not a threat to human labour
« on: May 29, 2018, 11:09:49 AM »

Microsoft's Indian-origin chief, Satya Nadella, does not believe in the "fallacy" that robots will overtake human labour and is confident that artificial intelligence (AI) will solve more problems than cause them. The 50-year-old chief of the tech major expressed optimism in the impact of technology on human lives if applied ethically, Nadella said in an interview with The Sunday Telegraph.

"I don't believe in that lump of labour fallacy, we don't know all the jobs that are going to be there," he said in reference to robots versus human labour.

If robots do replace humans, he says mechanisms such as universal basic income may be needed, drawing comparisons with the labour movement, but that humans will always need jobs.

"There is a certain amount of dignity to what is work so we need to have an incentive system," he said. "What I think needs to be done in 2018 is more dialogue around the ethics, the principles that we can use for the engineers and companies that are building AI, so that the choices we make do not cause us to create systems with bias that's the tangible thing we should be working on," he added. On Brexit, the Microsoft chief believes the UK has "great human capital, great industry, a great system" and therefore in the future it will continue to thrive, with some "turns".

The software giant, responsible for Windows, Office and Internet Explorer, has changed under Nadella's command, the newspaper notes. "What we have learned is to just be consistent in building trust and just making sure that you're not just measuring your success by your own success," Nadella says. On the current debate around privacy, he praised Microsoft's business model because it is based on customers being successful, and if they are successful they will pay. He said: "So we are not one of these transaction-driven or ad-driven or marketplace-driven economies.


Agriculture / ‘DCCI Agro Service Desk’ inaugurated
« on: May 29, 2018, 11:00:46 AM »

Dhaka Chamber of Commerce and Industry (DCCI) has inaugurated a help desk named ‘DCCI Agro Service Desk’ at its premises for the development of Bangladesh’s agriculture sector as well as to assist the stakeholders and entrepreneurs of this sector.

DCCI Senior Vice President Kamrul Islam inaugurated the desk on Sunday. The desk was set up with the support of USAID’s Agriculture Value Chain (AVC) Project.

During the programme, Kamrul Islam said that the contribution of agriculture to county’s GDP is 14.75 percent and it employs 40.6 percent (around 24.5 million people) of the total employment.

He said the export earnings from Agro-food reached to US$553 million in 2016-2017 which is only 1.59 percent of total export basket.

He said Global Good Agriculture Practice (GAP) is an internationally recognised standard practiced by the farmers or producers by adopting which we can ensure safety and quality food chain, capturing new market advantages, improve workers’ health, working conditions and creating new market opportunities for farmers/exporters in developing countries.

To enter into the world market especially the European and US markets, GAP and other standards need to be strictly maintained.

The DCCI leader said the government is trying to formulate Bangladesh G.A.P. initially to ensure the method and practice of this international standard.

Chief of Party, AVC Project Paul Bundick, Vice President of DCCI Riyadh Hossain, Directors, DCCI Imran Ahmed, KMN Manjurul Hoque, representative of Global G.A.P. Lisa Heinemann and Secretary General, DCCI AHM Rezaul Kabir were present at that time.



যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে চালু হয়েছে ‘স্পাইস’ নামের এই রেস্তোরাঁ। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পাস করা ২০ জন রোবোটিকস প্রকৌশলী এই রেস্তোরাঁর উদ্যোক্তা। রেস্তোরাঁর ওয়েবসাইট থেকে ছবিটি নেওয়া

রান্নার কাজকে অনেকেই শিল্প বলে অভিহিত করে থাকেন। ইদানীং অবশ্য রান্নাবান্নায় সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশ ঢুকে গেছে। পুষ্টিগুণ নিয়ে এতটা চিন্তাভাবনা মনে হয় আগে ছিল না। সেদিক থেকে অনেকেই রান্নার কাজকে বিজ্ঞানের সঙ্গে তুলনা দিয়ে থাকেন। শিল্প আর বিজ্ঞানের মধ্যে এ নিয়ে বিতর্ক চলছেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি এমন একটি রেস্তোরাঁ চালু হয়েছে, যেখানে শিল্পের চেয়ে বিজ্ঞানের ছোঁয়াই বেশি। কারণ সেখানে রান্নার দায়িত্বে আছে রোবট!

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে চালু হয়েছে ‘স্পাইস’ নামের এই রেস্তোরাঁ। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পাস করা ২০ জন রোবোটিকস প্রকৌশলী এই রেস্তোরাঁর উদ্যোক্তা। তাঁরা জোট বেঁধেছেন বিখ্যাত শেফ ড্যানিয়েল বুলিদের সঙ্গে। স্পাইসে আছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাবার রান্না করার সাতটি যন্ত্র। মাত্র তিন মিনিট বা তারও কম সময়ে এই যন্ত্রগুলো খাবার রাঁধতে পারে।

রেস্তোরাঁর সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ফারিদ জানান রোবটের খাবার রান্নার বিস্তারিত। তিনি বলেন, ‘যখনই আপনি খাবারের অর্ডার দেবেন, তখনই আমাদের রেস্তোরাঁয় থাকা উপকরণ সরবরাহ করার ব্যবস্থাটি চালু হয়ে যাবে। রেফ্রিজারেটর থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঠিক আকারে কাটা হবে। এরপর তা ৪৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ করা হবে। পরে শুরু হবে রান্নার প্রক্রিয়া। সব কাজ শেষে যন্ত্র থেকে বের হয়ে একটি বাটিতে পৌঁছে যাবে রান্না করা খাবার। এরপর তা সাজিয়ে-গুছিয়ে পরিবেশন করা হয়।’

রেস্তোরাঁটি চালানোর জন্য প্রাথমিকভাবে কিছু মানুষকেও নিয়োগ দিতে হয়েছে। মূলত গ্রাহকদের প্রযুক্তিগত দিকগুলো বোঝাতে এবং রান্না করা খাবারের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এসব কর্মীকে নেওয়া হয়েছে। রেস্তোরাঁর ওয়েবসাইট থেকে ছবিটি নেওয়া

স্পাইসের দাবি, তারাই বিশ্বের প্রথম রেস্তোরাঁ, যার ‘রোবোটিক রান্নাঘর’ আছে এবং তা দিয়ে জটিল রেসিপির খাবার তৈরি করা যায়। উদ্যোক্তারা এই রেস্তোরাঁর প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছিল ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে। প্রথমে প্রোটোটাইপ দিয়ে শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এখন তা বাস্তব রূপ পেয়েছে।

মজার বিষয় হলো, গ্রাহকদের জন্য এই রেস্তোরাঁয় গ্রাহকদের খাবারের টেবিলে আছে একটি করে টাচ স্ক্রিন। তাতে নিজেদের পছন্দমতো পরিমাণের উপকরণ বাছাই করতে পারবেন গ্রাহকেরা। স্ক্রিনে ওই খাবারের ক্যালরির পরিমাণও জানা যাবে। খাবারের প্রকার চূড়ান্ত করার পর কাজ শুরু করে দেবে রোবট। খাবার তৈরির পর কম্পিউটার স্ক্রিনে জানিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজটিও করে রোবট।

মাইকেল ফারিদ বলেন, ‘আমরা যে রোবটটি তৈরি করেছি, তার কোনো মানুষের আকৃতি নেই। এখন এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। গ্রাহকদের আরও ভালো অভিজ্ঞতা দিতে চাই আমরা।’

স্পাইসের দাবি, তারাই বিশ্বের প্রথম রেস্তোরাঁ, যার ‘রোবোটিক রান্নাঘর’ আছে এবং তা দিয়ে জটিল রেসিপির খাবার তৈরি করা যায়। রেস্তোরাঁর ওয়েবসাইট থেকে ছবিটি নেওয়া

রেস্তোরাঁয় রোবটের ব্যবহার এই প্রথম নয়। তবে জটিল ধরনের রান্নায় রোবটের ব্যবহার আগে হয়নি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পরিচারক ও খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার করা হয়েছে।

সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ফারিদ বলেন, রান্নায় রোবট ব্যবহারের কারণে একদিকে যেমন কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে কমে গেছে পরিচালন ব্যয়। রেস্তোরাঁটি চালানোর জন্য প্রাথমিকভাবে কিছু মানুষকেও নিয়োগ দিতে হয়েছে। মূলত গ্রাহকদের প্রযুক্তিগত দিকগুলো বোঝাতে এবং রান্না করা খাবারের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এসব কর্মী নেওয়া হয়েছে।


পরিবেশবিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুরস্কার ‘গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ-২০১৮’-তে এবার নারীদের জয়জয়কার। ছয়জনকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই হলেন নারী। পরিবেশ রক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে তাঁরা কাজ করেছেন।

গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ কর্তৃপক্ষ বলছে, সুন্দর বিশ্বের জন্য আমাদের সংগ্রাম কখনো কখনো পরাজিত হলেও এই বছর পরিবেশ সুরক্ষায় ছয়টি অসাধারণ উদ্যোগ খুঁজে পাওয়া গেছে। যার মধ্যে পাঁচটির রূপকারই নারী।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন ল্যাটিন আমেরিকার পরিবেশবাদী কর্মী ফ্রান্সিয়া মার্কেজ, দক্ষিণ আফ্রিকার নিউক্লিয়ারবিরোধী আন্দোলনকারী মাকোমা লেকালাকালা ও লিজ ম্যাকডাইড, ভিয়েতনামের ক্লিন এনার্জি আইনজীবী নুউ থি খানহ, যুক্তরাষ্ট্রের পরিষ্কার পানি আন্দোলনকারী লিঅ্যান ওয়াল্টস ও ফরাসি সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার কর্মী ক্লেয়ার নুভিয়ান। একমাত্র পুরস্কার বিজয়ী পুরুষ হলেন ফিলিপাইনের সিসাবিরোধী ক্যাম্পেইনার মানি কালোঞ্জো।

আফ্রিকান-কলাম্বিয়ান কমিউনিটির নেতা ফ্রান্সিয়া মার্কেজ বলেন, নিরাপত্তাহীনতা তার প্রচারাভিযানের একটি অবিচ্ছেদ্য সত্য। ফ্রান্সিয়া মার্কেজের পরিবেশবাদী আন্দোলনের কারণে নদীতীরবর্তী অঞ্চলে অবৈধ খনিমালিকদের অপসারণের জন্য সেনা প্রেরণ করে সরকার। অবৈধ ওই খনি খননের জন্য আশপাশের নদীগুলোতে বিষাক্ত সায়ানাইড ও পারদ ছড়িয়ে পড়ছিল।

পরিবেশবাদী আন্দোলন খুব সহজ কোনো বিষয় নয়। আন্দোলন করতে গিয়ে বহু সময় বহুজন প্রাণ দিয়েছেন। এমনকি এখন পর্যন্ত গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ বিজয়ী দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৬ সালের ২ মার্চ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী কাসেরেসকে তাঁর নিজ বাড়ির ভেতরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। কাসেরেস একটি বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০০৫ সালে পুরস্কার বিজয়ের মাত্র নয় মাস পর প্রাণ হারান ম্যাক্সিকান পরিবেশবাদী কর্মী ইসিদো বালদিনিগ্রো লোপেজ। তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।


• ২০১৭ সালে নিবন্ধন হয়েছে ১০৪৭ কোটি ডলারের বিনিয়োগ
• প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ২১৫ কোটি ডলারের।
• আগের বছরের চেয়ে ৭.৭৬ শতাংশ কম বিনিয়োগ এসেছে।

দেশে বিদেশি বিনিয়োগের নিবন্ধন ব্যাপকভাবে বাড়লেও প্রকৃত বিনিয়োগ কমেছে। ২০১৭ সালে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধিত হয়েছে। কিন্তু সত্যিকার বিনিয়োগ আগের বছরের চেয়ে কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এ দেশে ২১৫ কোটি ডলারের প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম। একই সময়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কাছে ১ হাজার ৪৭ কোটি ডলারের বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ নিবন্ধিত হয়েছে।

বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাইলে তাকে প্রকল্পের নিবন্ধন করাতে হয়। এটি প্রকৃত বিনিয়োগ নয়। প্রতিষ্ঠানটি যখন অর্থ এনে কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের কাজ শুরু করে, সেটিই প্রকৃত বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করতে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, অবকাঠামো উন্নয়নের নানা উদ্যোগ এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেই দেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমল। এমনিতেই বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত হারের চেয়ে কম পরিমাণে বিদেশি বিনিয়োগ পায়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে না বাড়ায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় বিনিয়োগের পরিমাণ ২৩ শতাংশে আটকে আছে। বিনিয়োগ না হলে দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হয় না। তাই রপ্তানি বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে দেশে মোট ২৬৮ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে বিদেশিরা ৫৩ কোটি ডলারের বিনিয়োগ তুলে নিয়েছেন। এতে প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২১৫ কোটি ডলার। এ অর্থের মধ্যে ২৫ শতাংশ বা প্রায় ৫৪ কোটি ডলার নতুন বিনিয়োগ বা মূলধন হিসেবে এসেছে। এ দেশে কর্মরত কোম্পানিগুলো তাদের আয় থেকে পুনর্বিনিয়োগ করেছে ১২৮ কোটি ডলার, যা মোট বিনিয়োগের ৬০ শতাংশ। বাকি ৩৩ কোটি ডলার বা ১৫ শতাংশ এসেছে আন্তকোম্পানি ঋণ হিসেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদেশি বিনিয়োগের ধারা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। গত সাত বছরের মধ্যে ২০১৪ সালে বিদেশি বিনিয়োগ সামান্য কিছুটা কমে যায়। ওই বছর নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ছিল ব্যাপক পরিমাণে। সে তুলনায় ২০১৭ সালে পরিস্থিতি ছিল বিনিয়োগের উপযোগী।

এ বছর বিনিয়োগ কেন কমল জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, একটি বিনিয়োগ প্রস্তাব এলে সেটি বাস্তব রূপ পেতে কয়েক বছর সময় লাগে। গত বছর যেসব বিনিয়োগ হয়েছে, সেগুলোর নিবন্ধন হয়েছিল কয়েক বছর আগে। তখন নিবন্ধনের পরিমাণই কম ছিল। তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে দেশে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ নিবন্ধিত হয়েছে। আগামী কয়েক বছরে এর সুফল পাওয়া যাবে। আশা করছি আগামী বছরগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগে একটি উল্লম্ফন দেখব আমরা।’

বিডার তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরের হিসাবে দেশে বছরে হাজার কোটি ডলারের বেশি পরিমাণে বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধিত হয়েছে। ২০১৬ সালে নিবন্ধিত হয় ১ হাজার ১৩২ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এবং ২০১৭ সালে তা দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৬ কোটি ডলার। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এ পরিমাণ অনেক কম ছিল। ওই দুই বছরে দেশে মাত্র ১৫০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধিত হয়েছিল।

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস বা সহজে ব্যবসা সূচকে উন্নতির পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২১ সালে এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯টি দেশের মধ্যে কমপক্ষে ৯৯তম অবস্থানে আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এ সূচকে এখন বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৭তম। অন্যদিকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। এর মধ্যে সরকারি খাতে ছয়টির কাজ এগোচ্ছে। বেসরকারি খাতে ছয়টি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে বিদেশি ব্যবসায়ীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি ও ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেহজাদ মুনিম গত মাসে প্রথম আলোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের রিটার্ন বা মুনাফা অনেক বেশি। এ দেশে যেসব বহুজাতিক কোম্পানি কাজ করে, তাদের অনেকেরই শীর্ষ লাভজনক শাখা বাংলাদেশ।

তারপরও বাংলাদেশে কেন বিদেশি বিনিয়োগ কম আসে, জানতে চাইলে এফআইসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে অনেক দিন ধরে কাজ করছি, তারা নানা বিষয়ে অভ্যস্ত। তবে নতুনদের জন্য বাংলাদেশে ব্যবসা করা কঠিন।’

শেহজাদ মুনিম মনে করেন, সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে সেগুলো সফলভাবে শেষ হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। তবে এসবের প্রচার দরকার। দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে ‘কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং’ করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন  যুব বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি স্পেনে; প্রায় ৫৮%  সারা বিশ্বের ১৮০ কোটি যুবক-যুবতী কোনো কাজ করেন না

বাংলাদেশের যুবসমাজের ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেকার। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই হারে বেকার আছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক যুবসমাজের বেকারত্ব নিয়ে যে তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের এ চিত্র উঠে এসেছে।

কর্মসংস্থান, বেকারত্ব ও শ্রমশক্তি নিয়ে জরিপ করে থাকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য দিয়ে বিবিএসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দেশে প্রায় ২৬ লাখ বেকার রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ যুবক-যুবতী। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের যুব শ্রমশক্তি ধরে বিবিএস। বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, এ বয়সী ১৯ লাখ ৩৯ হাজার তরুণ-তরুণী কোনো কাজ করেন না। তাঁরা সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজও করার সুযোগ পান না, অথচ তাঁরা সব সময়ই কাজের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন।

এদিকে দেশের কর্মক্ষম যুবসমাজকে কাজে লাগাতে জাতীয় যুবনীতি, ২০১৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে এই যুবনীতির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই জাতীয় যুবনীতি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে এ খসড়ার ওপর মতামত নেওয়া শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যুব বেকারত্বের হার অনেক বেশিই। কেননা, বাকি যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের অনেকেই ছদ্মবেকার। অনেকেই টিউশনি করেন, কিন্তু বেকার হিসেবে ধরা হয় না। এতে যুবশক্তির উৎপাদনশীলতার পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, শ্রমবাজারে যে ধরনের দক্ষতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী কর্মীর চাহিদা পূরণ করতে পারছে না শিক্ষাব্যবস্থা। জোগান ও চাহিদার গরমিল আছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের চেয়ে যুব বেকারত্ব বেশি এমন দেশের সংখ্যা অনেক। যেমন, ভারতের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ১০ দশমিক ৪ শতাংশই বেকার। শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের পরই দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে যুব বেকারত্ব পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। আফগানিস্তানে যুবকদের মধ্যে ২০ দশমিক ৮ শতাংশই বেকার। আর শ্রীলঙ্কায় ১৯ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ-তরুণী বেকার। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি নেপালে, এ হার মাত্র ৪ শতাংশ। এ ছাড়া পাকিস্তানে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভুটানে ১০ শতাংশ যুবক বেকার। এ তালিকায় মালদ্বীপ নেই।

বিশ্বব্যাংক বলছে, সারা বিশ্বে প্রায় ১৮০ কোটি যুবক-যুবতী কোনো কাজ করেন না। তাঁরা আবার পড়াশোনা কিংবা কোনো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন না। কিন্তু আগামী এক দশকে প্রায় ১০০ কোটি তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন। বর্তমান শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষমতা অনুযায়ী মাত্র ৪০ শতাংশ তরুণ-তরুণী কাজ পাবেন। সুতরাং আগামী এক দশকে বিশ্বকে আরও ৬০০ কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ধনী দেশের তরুণ-তরুণীরাই বেশি বেকার। যুবসমাজের মধ্যে বিশ্বে সর্বোচ্চ ৫৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেকার স্পেনে। এর মানে হলো, স্পেনে প্রতি ১০০ জন ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীর মধ্যে ৫৮ জনই বেকার। গ্রিসে এই হার ৫৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। তবে শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানে যুব বেকারত্ব তুলনামূলক কম; মাত্র সাড়ে ৬ শতাংশ।
বিশ্ব অর্থনীতির ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে পরিচিত চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের যুব বেকার পরিস্থিতি বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ। চীনে এই হার সাড়ে ১০ শতাংশ আর যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ শতাংশ। এ ছাড়া যুবক-যুবতীদের মধ্যে ফ্রান্সে ২৪ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ, কানাডায় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ, রাশিয়ায় ১২ দশমিক ৯ শতাংশ বেকার।

আফ্রিকা মহাদেশে সবচেয়ে বেশি যুব বেকারত্ব দক্ষিণ আফ্রিকায়। আফ্রিকার অন্যতম এই ধনী দেশটিতে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ যুবক-যুবতীই বেকার। তবে আফ্রিকার আরেক দেশ রুয়ান্ডায় বিশ্বের সবচেয়ে কম যুব বেকারত্ব। দেশটির যুব বেকারত্বের হার দশমিক ৭ শতাংশ।


গত অর্থবছরে ১৩ লাখ কর্মসংস্থান হয়েছে। আর দেশে ৬ কোটি ৮ লাখ লোক মজুরির বিনিময়ে কাজ করেন। এর মধ্যে ৪ কোটি ২২ লাখ পুরুষ, আর নারী ১ কোটি ৮৬ লাখ।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তৈরি করা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শ্রমশক্তি জরিপ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। সেখানে এই চিত্র পাওয়া গেছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ১৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হওয়ার পরও বেকার সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে সারা দেশে ২৬ লাখ ৭৭ হাজার বেকার লোক রয়েছে। এর আগের বছর বেকার লোক ছিল ২৫ লাখ ৯০ হাজার।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নিয়ম অনুযায়ী, মজুরির বিনিময়ে সপ্তাহে এক ঘণ্টার কম কাজের সুযোগ পান, এমন মানুষকে বেকার হিসেবে ধরা হয়।
শ্রমশক্তি জরিপে কর্মসংস্থানের চিত্র উঠে এসেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শ্রমশক্তির জরিপ অনুযায়ী, দেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ আছেন ৬ কোটি ৩৫ লাখ। তাঁরা কাজের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন। তবে এই হিসাবে, পড়াশোনা করেন কিংবা অসুস্থ কিংবা অন্য কোনো কারণে কাজের জন্য প্রস্তুত নন; তাঁরা এই শ্রমশক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হন না।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘নীতিনির্ধারণে যেকোনো সমীক্ষাই কাজে লাগে। এই সমীক্ষাটি আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ করব।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অর্থনীতি কৃষি থেকে শিল্পে স্থানান্তর হচ্ছে। এভাবেই অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন হয়। অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণও বাড়ছে। তিনি মনে করেন, এ পর্যন্ত অর্থনীতির যে গতিপ্রকৃতি, তাতে এ বছর ভালো প্রবৃদ্ধি হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, অর্থনীতিতে যেকোনো নীতি নিতে হলে এই শ্রমশক্তি জরিপ কাজে লাগবে। তিনি মনে করেন, বেকারত্ব হার যৌক্তিক পর্যায়ে নেমে এসেছে।

অনুষ্ঠানে বিবিএসের পরিচালক ও জরিপটির প্রকল্প পরিচালক কবিরউদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম, বিবিএসের মহাপরিচালক আমির হোসেন প্রমুখ।



জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার বাজেটে যে বরাদ্দ দেয় সেটি পর্যাপ্ত নয়। আবার যে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তার প্রভাব ও গুণগত বর্ণনা নেই বাজেট দলিলে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা কঠিন হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য। এতে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে একশনএইড বাংলাদেশ এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেইঞ্জ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ‘জলবায়ু বাজেট’ নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই ‘জাতীয় বাজেটে জলবায়ু অর্থায়নঃ আমরা কোন অবস্থানে আছি?’ শিরোনামে একটি বিশ্লেষণপত্র তুলে ধরেন একশনএইড বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও ন্যায্যতা বিভাগের প্রধান তানজির হোসেন। বিশ্লেষণপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশ দেশীয় প্রবৃদ্ধির হার স্থিতাবস্থায় রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এই প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস পেতে পারে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাঁধাগ্রস্ত হতে পারে। কারণ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির মাঝে প্রথমদিকে। গত বছর ভয়াবহ বন্যার কারণে দেশের অর্থনৈতিক এবং অবকাঠামোগত ক্ষতিসহ কৃষিক্ষেত্রে শস্য ও স্বাদুপানির মাছ উত্পাদনে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এ বছর আগাম মৌসুম ও প্রবল বর্ষার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার কারণে কৃষি উত্পাদনে আবারো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি ও ক্ষতি কমাতে তাই সরকারকে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। শুধু ত্রাণ দিয়ে তো আর দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। আগাম বর্ষা ও বন্যা কেন হচ্ছে সেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে হবে।

আয়োজকরা বিশ্লেষণপত্রে বলেন, গবেষণা ও বিভিন্ন পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীতে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস-এর বেশি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। বাংলাদেশে এর ফলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং হবে। এ কারণে সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এ বিষয়ক জাতীয় কাঠামো ও প্রস্তুতি গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। একইসাথে দুর্যোগ কবলিত জনগণের সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেইঞ্জ এন্ড ডেভেলপমেন্ট-এর পরিচালক ড. সালিমুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক অর্থের উপর নির্ভর করলে চলবে না। আমাদের নিজেদের যে অর্থ এবং সম্পদ আছে সেগুলো জলবায়ু সহনশীল করতে হবে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিজান আর খান বলেন, জলবায়ু বিষয়ক সরকারি প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত শুধু বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কিভাবে খরচ হয়েছে তা প্রতিবেদনের কোথাও উল্লেখ করা নেই। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৫০ থেকে ৫২ শতাংশ বাজেট দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য খরচ করা হয়েছে। কিন্তু কি ধরনের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য খরচ করা হয়েছে তা কিন্তু পরিষ্কার নয়। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কিভাবে অর্থায়ন বাড়ানো যায় সেটা ভেবে দেখার সময় এসেছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের এই বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। শুধু ঢাকা ও মন্ত্রণালয়ে বসে বাজেট করলে হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে কিছু সুপারিশ তুলে ধরে আয়োজকরা বলেন, জলবায়ু বাজেটের যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি যে সকল মন্ত্রণালয় ও প্রকল্পসমূহ জলবায়ু অর্থায়নের তালিকায় রয়েছে, তার যথাযথ বিশ্লেষণ জরুরি। তা না হলে এই বরাদ্দ বা কাজের প্রভাব বোঝা যাবে না। ভবিষ্যত্ করনীয় নির্ধারন কঠিন হবে।

সুপারিশে আরো বলা হয়, দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ত্রাণ বিতরণ, দুর্যোগে সাড়া প্রদান এবং উদ্ধার কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধির চেয়ে তৃণমূল পর্যায়ে প্রস্তুতিতে আরও বেশি দৃষ্টি দেয়া উচিত। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রতি অর্থবছরে জলবায়ু বাজেটে ৫ শতাংশ হারে বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা বলেন আয়োজকরা।


সভ্যতাকে যদি আমরা প্রডাক্ট হিসাবে বিবেচনা করি, তাহা হইলে ইহার বাই-প্রডাক্টকে আমরা ফ্রাংকেনস্টাইন নামে অভিহিত করিতে পারি। আধুনিক জীবনের পুরোটাই এখন যন্ত্রনির্ভর। আর বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র প্রতিনিয়তই তৈরি করিতেছে বিপুল পরিমাণে ই-বর্জ্য। এই ই-বর্জ্যের উত্সটা কয়েক দশক আগেও ছিল অনেকটাই সীমিত পরিসরে। ইহার মধ্যে ছিল বেতার যন্ত্র, টেলিভিশন, ফ্রিজ, ক্যাসেট প্লেয়ার ইত্যাদি। কিন্তু সেগুলিও ছিল সীমিতসংখ্যক মানুষের কাছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্ময়কর বিকাশ ঘটিবার পর কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল ফোন ব্যতীত আমরা একটি দিনও কল্পনা করিতে পারি না। এমনকী এই লেখাটিও কম্পোজ হইতেছে একটি কম্পিউটারের সাহায্যেই, যাহা ভবিষ্যতে পরিণত হইবে ই-বর্জ্যে। আগে একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রের আয়ুষ্কাল অনেক বেশি থাকিত। বাজার-সংস্কৃতির এই যুগে যন্ত্রের আয়ুষ্কাল একদিকে যেমন হ্রাস করা হইতেছে, অন্যদিকে ভোক্তাবৃদ্ধির জন্য উত্পাদন করা হইতেছে কোটি কোটি সংখ্যক সেলফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ইত্যাদি। এই কারণে প্রতিবত্সর বিশ্বে ই-বর্জ্য বৃদ্ধি পাইতেছে প্রায় ১০ শতাংশ হারে। অন্যদিকে এই বর্জ্যের শতকরা ৫ ভাগের বেশি পুনরুদ্ধার করা যায় না।

মনে রাখিতে হইবে, ই-বর্জ্য যেকোনো সাধারণ জৈববর্জ্য হইতে বহুগুণ অধিক ক্ষতিকর। সমস্যা হইল, ই-বর্জ্যের ক্ষতির প্রভাব আপাতভাবে দৃশ্যমান নহে। ই-বর্জ্য পচনশীল না হইবার কারণে ইহার প্রভাবও হয় দীর্ঘমেয়াদি। অন্যদিকে, ইহার ফলে সৃষ্ট শারীরিক জটিলতার কারণটাও সরাসরি বুঝিতে পারা যায় না। বর্তমানে সবচাইতে বেশি ই-বর্জ্য সৃষ্টির জন্য দায়ী মোবাইল ফোনের আধিক্য। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ কোটি মোবাইল ফোনের সংযোগ চালু রহিয়াছে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়াছে, প্রতিটি মোবাইল ফোনে গড়ে যে পরিমাণ ‘লেড’ নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে, তাহা দিয়া প্রায় ৪৫ হাজার গ্যালন পানি দূষিত করা সম্ভব! ইহা ছাড়াও মোবাইল ফোনে ক্যাডমিয়াম, মার্কারি, আর্সেনিক, ক্লোরিনের মতো অত্যন্ত ক্ষতিকর উপাদান রহিয়াছে, যাহা যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে পানি বা মাটিতে মিশিয়া যাইতেছে। খাদ্যচক্রে এই বিষ প্রবেশ করিয়া ঢুকিয়া পড়িতেছে আমাদের শরীরে। অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্য একদল অসচেতন ও অদক্ষ শ্রমিক-কর্মীর হাত ঘুরিয়া পুনর্ব্যবহার-যোগ্য করা হইতেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের অভিমত হইল, পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া যথাযথ না হইবার কারণে সেইসকল ই-বর্জ্য হইতে তৈরি হওয়া নূতন সামগ্রী স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।

ই-বর্জ্যের সমস্যা কেবল বাংলাদেশের নহে, সারা বিশ্বের। উন্নত বিশ্ব এই ব্যাপারে বহুপূর্বেই সচেতন, কিন্তু আমরা এখনো একই তিমিরে পড়িয়া রহিয়াছি। ই-বর্জ্যের ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণেই এখন সময় আসিয়াছে আইন করিয়া নিয়ন্ত্রিতভাবে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ রক্ষার। এই ব্যাপারে উত্পাদক প্রতিষ্ঠানগুলির দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি হইয়া পড়িয়াছে।


লিভার ফেইলিউর মানেই আঁতকে ওঠার মতো একটি রোগের নাম। এ রোগে মৃত্যুর আশঙ্কা পঞ্চাশ থেকে ষাট শতাংশ বা তার কাছাকাছি। এখন পর্যন্ত লিভার ফেইলিউরের সবচেয়ে ধন্বন্তরী চিকিত্সা লিভার ট্রান্সপ্ল্যানটেশন, তবে নানা কারণেই তা বেশ জটিল। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে লিভার ট্রান্সপ্ল্যানটেশনের সুবিধা নেই। পাশাপাশি এমনকি ভারতেও এই চিকিত্সা যথেষ্ট ব্যয়বহুল, যা আমাদের মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে। স্টেম সেল থেরাপি ও লিভার ডায়ালাইসিস এসব ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে এসব কনসেপ্ট একবারেই নতুন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাবের (স্বপ্নীল) উদ্যোগে একদল লিভার ও ট্রান্সফিউশন মেডিসিন ও হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ক্রনিক লিভার ফেইলিউরে সাফল্যের সাথে এক বছরের বেশি সময় ধরে স্টেম সেল থেরাপি ব্যবহার করে আসছেন। আর সম্প্রতি তারা শুরু করেছেন লিভার ডায়ালাইসিস। এই দুই চিকিত্সা পদ্ধতিতেই তারা ব্যবহার করছেন নিজস্ব উদ্ভাবনী ও লাগসই প্রযুক্তি।

স্টেম সেল থেরাপিতে প্রথমে গ্র্যানুলোসাইট কলোনি স্টিমুলেটিং ফ্যাক্টর (জিসিএসএফ) ইঞ্জেকশন ব্যবহার করে রক্তে স্টেম সেলের সংখ্যা বহুশত গুণে বাড়ানো হয়। এরপর রক্ত থেকে জিসিএসএফ প্রয়োগের ফলে বেড়ে যাওয়া স্টেম সেলগুলোকে বিশেষ পদ্ধতিতে আলাদা করে নেওয়া হয়, অনেকটা ছেঁকে নেওয়ার মতো করে। এরপর ক্যাথ ল্যাবে অ্যাঞ্জিওগ্রামের মাধ্যমে ওই স্টেম সেলগুলো সরাসরি হেপাটিক আর্টারি দিয়ে লিভারে ইনজেক্ট করা হয়। আমাদের চিকিত্সকদের অভিনবত্ব হচ্ছে যে তারাই সম্ভবত পৃথিবীতে প্রথমবারের মতো ক্যাথ ল্যাবে অ্যাঞ্জিওগ্রামের মাধ্যমে সরাসরি লিভারে স্টেম সেল থেরাপি করছেন।

স্টেম সেলগুলো আক্রান্ত অর্গান অর্থাত্ এক্ষেত্রে লিভারের যত কাছাকাছি এবং সরাসরি প্রয়োগ করা যাবে, তাতে সাফল্যের সম্ভাবনাও ততই বেশি। আর তাই এদেশে লিভার ফেইলিউরের চিকিত্সায় স্টেম সেল থেরাপি শুধু প্রথমবারের মতো চালু করার জন্যই নয়, বরং লিভারে তা প্রয়োগের অভিনবত্বের জন্যও এদেশের চিকিত্সকরা প্রশংসার দাবিদার। অন্যদিকে যে ইউনিক পদ্ধতিতে লিভার ডায়ালাইসিস শুরু হলো হলো তা যে শুধু বাংলাদেশে প্রথম তাই নয়, বরং সারা পৃথিবীতেই প্রথম। এতে কিডনি হেমোডায়ালাইসিসের মতোই লিভার রোগীর রক্ত থেকে ক্ষতিকারক উপাদান, এক্ষেত্রে বিলিরুবিন রক্ত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এজন্য এফেরেসিস মেশিনে বিশেষ কিট ও কলাম ব্যবহার করা হয় হচ্ছে। বিশেষ কলামের ছাঁকনির ভেতর দিয়ে রোগীর রক্ত প্রবাহিত করে প্লাজমা থেকে বিলিরুবিন আলাদা করে ফেলা হয়। জন্ডিসে দীর্ঘদিন ভুগতে থাকা কিংবা লিভার ক্যান্সার ও লিভার ফেইলিউরের যেসব রোগীর জন্ডিসের প্রচলিত চিকিত্সায় উপকার পাচ্ছেন না তাদের ক্ষেত্রে লিভার ডায়ালাইসিস হতে পারে কার্যকরী চিকিত্সা। উন্নত বিশ্বে যেখানে মার্স ও প্রমিথিউস ডায়ালাইসিস মেশিনে প্রচুর এলবুমিন ব্যবহার করে ডায়ালাইসিস করা হয়, সেখানে এই নতুন পদ্ধতিতে এলবুমিন ব্যবহার না করেই বিলুরিবিন কমানো সম্ভব হচ্ছে।

নতুন এই চিকিত্সা পদ্ধতি দুটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল রিসার্চ কোলাবোরেশনের প্রশংসনীয় উদাহরণ। সীমিত সম্পদ নিয়ে প্রাপ্ত সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যব্যবহার কিভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করে এসব তার নিদর্শন। পাশাপাশি এ ধরনের রোগী বান্ধব এবং বাস্তবধর্মী গবেষণায় আমাদের জনগণও সরাসরি উপকৃত হবেন।


Speakers at a press conference yesterday called upon the government to conduct thorough analysis of the ministries receiving climate finance, to find out whether the allocation benefits the affected people.

They also urged the government to allocate more into climate related research and development to find socially acceptable and technologically viable options on unexplored issues.

International Centre for Climate Change and Development (ICCCAD) and ActionAid Bangladesh jointly arranged the conference on “Climate Budget 2018-19: Where Do We Stand?” at Jatiya Press Club in the capital.

They demanded that the government increase climate related expenditure by five percent a year.

Their other demands include prioritising climate change-vulnerable districts, and establishing a district-level funding mechanism focusing on capacity building of the women, young people and children.

Referring to a report on climate budget published last year, organisers said the government outlined the trend of climate relevance in six selected ministries.

Climate expert and ICCCAD Director Saleemul Huq said only budget allocation and expenditure on climate change are not enough. It has to be found out if the poor and destitute, who are most vulnerable, are being benefited or not.

Farah Kabir, country director of ActionAid Bangladesh, said due to climate change, different types of risk as well as expenditure in peoples' lives have increased. She said initiatives have to be taken to tackle the challenges of climate change, and for this, investment will be required.

Prof Mizan R Khan of environmental science and management department of North South University said the country lacks proper analysis on how climate budget allocation is being spent. He stressed the need for decentralised climate financing at district and upazila levels.



বাংলাদেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী হচ্ছে চীনের সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত জোট। আজ বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

এর আগে গত সোমবার চীনের জোটের কাছে শেয়ার বিক্রিতে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেন ডিএসইর বর্তমান শেয়ারধারীরা। এরপর আজ নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে। এর আগে ডিএসইর মালিকানার অংশীদার হতে চীনের এই জোটের পাশাপাশি ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নেতৃত্বে গঠিত একটি জোটও আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে দর প্রস্তাবে এগিয়ে ছিল চীনের জোটটি। কিন্তু দর প্রস্তাবে পিছিয়ে থেকে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নেতৃত্বাধীন জোটটি ডিএসইর অংশীদার হতে নানামুখী তদবির ও চাপ তৈরি করে।

ডিএসই আজ জানিয়েছে, চীনের জোটটি ডিএসইর ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ার ২১ টাকা দামে কিনবে। তবে এ জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে বিএসইসি। অন্যতম শর্ত হলো এ-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে সিকিউরিটিজ আইন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন পরিপালন করে।



রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংক
নন-ফান্ডেড ঋণ নির্দিষ্ট মেয়াদে শোধ না করায় ফান্ডেড বা নগদ দায়ে পরিণত হচ্ছে।
এরপরও এ ঋণগুলো ধীরে ধীরে খেলাপি হয়ে পড়ছে।

কারখানার জন্য বিদেশ থেকে মূলধনি যন্ত্র ও কাঁচামাল আনেন শিল্পোদ্যোক্তারা। এ জন্য ব্যাংক তাঁদের ঋণপত্র সুবিধা দেয়, যা নন-ফান্ডেড ঋণ নামে পরিচিত। নগদ টাকার পরিবর্তে অন্য যেসব সুবিধা মিলে, তার সবই নন-ফান্ডেড। তবে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলো থেকে ঋণপত্র, গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন নামে নেওয়া নন-ফান্ডেড ঋণ নির্দিষ্ট মেয়াদে শোধ করছেন না অনেকে। ফলে এসব ঋণ ফান্ডেড বা নগদ দায়ে পরিণত হচ্ছে। এরপরও শোধ না করায় এ ঋণগুলো ধীরে ধীরে খেলাপি হয়ে পড়ছে। তাতে এসব ব্যাংকের জন্য নন-ফান্ডেড দায় এখন বড় যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী—রাষ্ট্রমালিকানাধীন এ চার ব্যাংকে ২০১৭ সালে ১৮ হাজার ৮৯১ কোটি টাকার নন-ফান্ডেড ঋণ বর্তমানে ফান্ডেড দায়ে পরিণত হয়েছে। আবার এর মধ্যে ৪ হাজার ১৪২ কোটি টাকার ঋণ ২০১৭ সালে খেলাপির খাতায় নাম লিখিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

চলতি মাসে এ চার ব্যাংকের সঙ্গে এক সভা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ব্যাংকগুলোর ২০১৭ সালের আর্থিক চিত্র উপস্থাপন করা হয়। এতেও উঠে আসে নতুন করে নন-ফান্ডেড ঋণ খেলাপি হওয়ার তথ্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরসহ চার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা এ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে সোনালী ব্যাংকের ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকার নন-ফান্ডেড ঋণ ফান্ডেড ঋণে পরিণত হয়। এর মধ্যে আবার ১ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে গত বছরই। ফলে ২০১৭ সালে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা, ২০১৬ সালে যা ছিল ১০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা।

খেলাপির পরিমাণ বাড়ার পরও ২০১৭ সালে ৭০৯ কোটি টাকা প্রকৃত বা নিট মুনাফা করেছে সোনালী ব্যাংক। কারণ, রাষ্ট্রমালিকানাধীন এ ব্যাংককে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার কারণে ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতির যে ঘাটতি দেখা দেয়, ২০১৭ সালের আর্থিক হিসাবে তা পূরণ করতে হয়নি। এমনকি এ সঞ্চিতি সংরক্ষণ থেকে ব্যাংকটিকে পুরোপুরি অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খেলাপি ঋণ কমাতে না পেরে এ কৌশলের আশ্রয় নেয় সোনালী ব্যাংক।

এদিকে অ্যাননটেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের মতো বড় ধরনের ঋণ অনিয়ম নিয়ে আলোচনায় থাকা জনতা ব্যাংকের ২০১৭ সালে ১৩ হাজার ২৬ কোটি টাকার নন-ফান্ডেড ঋণ ফান্ডেড দায়ে পরিণত হয়েছে। আবার এর মধ্যে ৭ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। ফলে ২০১৭ সাল শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে হয় ৭ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা। আগের বছরই ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৫ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। এরপরও ব্যাংকটি গত বছর ২৭৩ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। খেলাপি ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণে বিশেষ সুবিধা পাওয়ায় ব্যাংকটি মুনাফা দেখানোর সুযোগ পেয়েছে।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুছ ছালাম আজাদ এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিছু নন-ফান্ডেড ঋণ ফান্ডেড হয়ে গেছে। তবে তা খুব বড় অঙ্কের নয়। আমরা নতুন করে ঋণপত্র খোলায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছি। যাচাই-বাছাই করেই নন-ফান্ডেড দায় তৈরি করা হচ্ছে।’

অগ্রণী ব্যাংকে ২০১৭ সালে ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার নন-ফান্ডেড ঋণ ফান্ডেড দায়ে পরিণত হয়। আর এর মধ্যে ৩৬৩ কোটি টাকার ফান্ডেড ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। ২০১৬ সালে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৬ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা, তবে গত বছর তা কমে হয়েছে ৫ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। এদিকে গত বছর ব্যাংকটি ৬৯৩ কোটি টাকা প্রকৃত মুনাফা করে। ২০১৬ সালেও ব্যাংকটি ৬৯৭ কোটি টাকা লোকসান গুনেছিল।

এদিকে রূপালী ব্যাংকে গত বছর ৫১৯ কোটি টাকার নন-ফান্ডেড ঋণ ফান্ডেড দায়ে পরিণত হয়। ফান্ডেড হওয়া ৭৬১ কোটি টাকা ২০১৭ সালে খেলাপি হয়ে পড়ে। ফলে গত বছর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। বিশেষ সুবিধা নিয়ে গত বছর ৬০ কোটি টাকা মুনাফা করে ব্যাংকটি। যদিও ২০১৬ সালে ১২১ কোটি টাকা লোকসান করেছিল।

রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ব্যবসায়ীদের বিলম্ব ঋণপত্র সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। কম সুদ হওয়ায় অনেকেই এ সুবিধা নিয়েছেন। তাঁদের অনেকে খেলাপি হয়ে গেছেন।’

হল-মার্ক কেলেঙ্কারির পর রাষ্ট্রমালিকানাধীন এই চার ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি ও নিরীক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে মতামত দেন। এরপরও ব্যাংকগুলোর পর্ষদে অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হচ্ছে। অ্যাননটেক্স ও ক্রিসেন্ট, যে দুই বড় গ্রাহক নিয়ে জনতা ব্যাংক বিপদে পড়েছে, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধির উপস্থিতিতেই অনুমোদিত হয়।


Pages: [1] 2 3 ... 14