Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - nafees_research

Pages: [1] 2 3 ... 13
1
বিশ্বের সেরা উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

উদ্ভাবনীতে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষেই আছে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ বছর বিশ্বের সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা করেছে। বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগপ্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে গবেষণার ভিত্তিতে এ তালিকা করা হয়েছে। বিশ্বের সেরা উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয় নামের এ তালিকায় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

চার বছর ধরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবনীতে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষেই আছে। বিশ্বের সেরা উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অ্যাডভান্স সায়েন্স, নতুন ধারার প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া, শিক্ষার্থীদের সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চালিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তাদের গবেষণার ক্ষেত্র বাড়িয়ে চলেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্যামেরা প্রযুক্তি, চালকবিহীন গাড়ি এবং অসুস্থ হলে মানুষকে কী পরিমাণ ওষুধ সেবন করতে হতে পারে—এমন নানান উদ্ভাবনী ব্যাপারে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

রয়টার্সের র‍্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার দেশগুলো এবং যুক্তরাজ্যের চেয়ে এগিয়ে আছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তালিকায় মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়জয়কার। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) দ্বিতীয়, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি তৃতীয় স্থানে আছে। ২০১৮ সালের আগের তিন বছরে এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় সেরা তিনে ছিল। দ্য ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া আছে চারে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি র‍্যাঙ্কিংয়ে জায়গা করে নিল। সেরা পাঁচ ও ছয়ে আছে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়। পাঁচে দ্য ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন আর ছয়ে দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস। দ্য ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন গতবারের চেয়ে এবার দুধাপ এগিয়েছে।

সেরা সাতে বেলজিয়ামের ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি লুভেন। র‍্যাঙ্ক অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সেরায় প্রথম ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি লুভেন। ইমপিরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা চ্যাপেল হিল এবং ভ্যানডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি আছে যথাক্রমে আট, নয় ও দশে।

রয়টার্সের উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা দশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয় গতবার সেরা দশে ছিল।

এবারের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২৭ ধাপ এগিয়েছে। গতবারের তালিকার ৮০-তে থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয় এবার ৫৩-তে উঠে এসেছে। শক্তিশালী পদার্থ নিয়ে নিয়মিত গবেষণার কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উল্লম্ফন।

এশিয়ার মান রক্ষা জাপান-কোরিয়ায়
সেরা ১০-এর তালিকায় আমেরিকা ও ইউরোপের সংখ্যা বেশি থাকলেও জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও জাপান। এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জায়গা করে নিয়েছে গবেষণা ও উদ্ভাবনীতে মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করায়।

সর্বেসর্বা যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিন দিন গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে প্রচুর ডলার ব্যয়ের ফল হাতেনাতেই পাচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিজ্ঞানী, গবেষকেরা বিশ্বকে এগিয়ে নিতে নতুন নতুন কাজ করে যাচ্ছেন। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে।

দেশ হিসেবে জার্মানি ও জাপান আছে দ্বিতীয় স্থানে। এ দুটি দেশের নয়টি করে বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় আছে। দক্ষিণ কোরিয়ার আটটি, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের আছে ৫টি করে। সুইজারল্যান্ডের আছে ৩টি, বেলজিয়াম, কানাডা, ইসরায়েল, নেদারল্যান্ডসের দুটি করে।

অঞ্চলের ভিত্তিতে জরিপের দিকে তাকালে উদ্ভাবনী সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় উত্তর আমেরিকা থেকে সবচেয়ে বেশি বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে। ১০০ টির মধ্য ৪৮টি উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র ৪৬, কানাডা ২) থেকে। ইউরোপ থেকে ২৭, এশিয়া থেকে ২৩ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি। তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস।

Source: https://www.prothomalo.com/international/article/1561324/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%80-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%9F%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B

2
Sustainable Development / SDGs: Three years on, where do we stand?
« on: September 24, 2018, 04:46:01 PM »
SDGs: Three years on, where do we stand?

Fahmida Khatun

The leaders of 193 countries adopted the Sustainable Development Goals on September 25, 2015 following a long spell of extensive discussions and debates. Also known as the 2030 Agenda, the SDGs rest on three pillars—economic, social and environmental—so that development is sustainable, inclusive and holistic. At the heart of 17 goals and 169 targets of the SDGs is the principle of leaving no one behind, that is reaching out to each and everyone who is deprived.

The 5P's—people, prosperity, planet, partnership and peace—are the focus of the 2030 Agenda. Considering their breadth and depth, the SDGs have been termed as transformational, comprehensive, bold and ambitious. For example, as opposed to the earlier Millennium Development Goals that were implemented during 2000–2015, the SDGs call for eradication of poverty, abolition of hunger, elimination of all types of discrimination and establishment of equality everywhere.

At the time of the commitments made by the member states of the United Nations, there was skepticism. There were criticisms too. Was all this merely lip service and rhetoric? Moreover, the SDGs were not considered to be perfect and good enough to tackle the myriad problems the world is facing today.



Three years on, what has been the progress on the SDG front? In July 2018, 47 countries presented their voluntary national reviews to the High Level Political Forum. Such reporting indicates the enthusiasm among countries and attempts taken at the national level towards SDG implementation. This is somewhat of an indication of the momentum created at the country level, even though progress is not the same across countries. For example, poverty reduction measures are not adequate yet. And at the current rate of poverty reduction efforts, particularly in Sub-Sahara and South Asia, the world will not be able to end poverty in all its forms everywhere. Similar outcomes may be experienced in case of other goals as well.

The pace of progress can be accelerated by strengthening partnerships at the national and global levels. SDG 17 provides a range of means of implementation for achieving the targets. Achievement of the other SDGs is intrinsically attached to the achievement in SDG 17. At the national level, the government has to call upon the participation of all stakeholders including the private sector, non-government organisations, civil society, grassroots level organisations, various rights groups, and the media in the process of achieving the SDGs. Such a concept is new to many countries that do not believe in people's participation in the development process.

While some momentum is being observed at the country level, commitment to partnership at the international level is still inadequate. In addition to current challenges of rebouncing the global economy back from the economic meltdown a decade ago, protectionist policies and mounting geopolitical tensions are some emerging threats to human civilisation today. The massive agenda of SDG implementation requires finance, investment, trade, technology and capacity building. Developed countries are committed to provide 0.7 percent of their gross national income as overseas development assistance (ODA). However, only five countries—Denmark, Luxembourg, Norway, Sweden and the UK—could fulfil the UN benchmark in providing ODA in 2017. But the global average ODA disbursement was only 0.31 percent of GNI of the developed countries. The requirement for SDG implementation is enormous; it jumped from the initial billions of dollars per year to trillions. Annual investment requirement is USD 5-7 trillion for achieving the SDGs that include basic infrastructure, food security, climate change mitigation and adaptation, health, and education. According to United Nations Conference on Trade and Development, annual investment is currently only USD 1.4 trillion in developing countries.

The other support is through increased cross-border trade. With the moribund state of the World Trade Organization the prospect of receiving trade benefits such as duty-free quota-free market access for and technology transfer to the Least Developed Countries through the multilateral trading system has faded away. Except for the European Union and a handful of developed and developing countries, LDCs are not being able to enter the markets of developed countries at zero or low tariffs. Foreign direct investment is another way to help the LDCs and developing countries in fulfilling their targets of SDGs. In addition to creating opportunities for employment and income, FDI can also help transfer of technology. However, various regulatory limitations in both provider and receiving countries stand in the way. In 2017 FDI to LDCs declined by 11 percent compared to 2016.



So how are the SDGs going to be achieved by 2030? During 2000-2015, the world was able to significantly reduce poverty—much of which is of course due to the reduction of poverty in China itself. Some progress was also made in case of social indicators including gender parity in education and health. However, at present the weakest link of development is the inability of countries to reduce inequality. SDG 10 on eradication of inequality is the most difficult task at a time when the world is observing higher inequality than ever before. The distribution of wealth is concentrated among only a few fortunate people. Much of such resource accumulation through unfair means is being supported by the state itself. These clear cases of weak institutions and lack of governance are linked to SDG 16 that spells out the agenda for good governance, peace, justice, etc. Indeed achievement of all the other SDGs stands on fulfilment of the targets of SDG 16.

Therefore, if the business-as-usual approach continues, the hype about the SDGs will be gradually lost. Being non-binding in nature, the SDGs are in the hands of the goodwill of countries. One only hopes such goodwill turns into passion to make the world livable for everyone.

Source: https://www.thedailystar.net/opinion/macro-mirror/news/sdgs-three-years-where-do-we-stand-1637539

3
গুগলের ১৩ টি সফটওয়্যার যা আপনার জীবনকে সহজ করে তুলবে

প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলছে। আমরা যেখানেই যাই, স্মার্টফোন দেখতে পাই, বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র দেখতে পাই। বর্তমান যুগে সবকিছুর জন্যেই সফটওয়্যার আছে। সামাজিক যোগাযোগের জন্যে, বাজার করার জন্যে, ভালোবাসা খোঁজার জন্যেও সফটওয়্যার আছে, এমনকি ঘুমানোর প্যাটার্ন পরিবর্তন করার জন্যেও সফটওয়্যার আছে। কিন্তু আমরা কি জানি, কোন সফটওয়্যারগুলো আমাদের ব্যবহার করা উচিত আর কোন সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করা উচিত নয়? চলুন, আজকে আমরা গুগলের ১৩ টি সফটওয়্যার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো, যেগুলো ব্যবহার করে আমরা আমাদের জীবনকে আরো সহজ ও সুন্দর করে তুলতে পারবো।




অ্যালো  (Allo)
অ্যালো, গুগলের একটি চ্যাটিং সফটওয়্যার, যেটা শুধুমাত্র এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্যেই তৈরী করা হয়েছে। বেশিরভাগ এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরাই থার্ড পার্টি মেসেঞ্জার সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন, যদিও অ্যালো ঐসব মেসেঞ্জার থেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে। অ্যালোর একটি ফিচার হচ্ছে, আপনি সফটওয়্যারটির উপর যেকোনো স্থানে স্পর্শ করেই সরাসরি চ্যাট করতে পারবেন কিংবা কথা বলতে পারবেন, যা চ্যাটিংকে আরো বেশি দ্রুত করে তুলেছে। এই সফটওয়্যারেই আপনি যেকোনো ছবি এডিট করে বন্ধুদের কাছে সরাসরি পাঠাতে পারবেন।

গুগল টাইমার (Google Timer)
গুগলের আরেকটি অসাধারণ সফটওয়্যার হচ্ছে, গুগল টাইমার। গুগল টাইমারের মাধ্যমে আপনি গুগল ক্রোম ব্রাউজারের দ্বারা আপনার ফোনে কিংবা ল্যাপটপে এলার্ম এডিট করতে পারবেন। ইউটিউব থেকে যেকোনো গান এলার্ম রিংটোন হিসেবে সেট করতে পারবেন। আপনি চাইলে কোনো ধরনের ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই, গুগল টাইমার ব্যবহার করতে পারবেন।

জিমেইলফাই (Gmailify)
আপনার যদি একের অধিক জিমেইল একাউন্ট থেকে থাকে এবং বারবার ভিন্ন ভিন্ন একাউন্টে লগইন এবং লগআউট করাটা ঝামেলার এবং বিরক্তিকর মনে হয়, তাহলে ব্যবহার করতে পারেন জিমেইলিফাই। এই অসাধারণ সফটওয়্যারটি আপনার সকল ইমেইল এড্রেসকে একত্রিত করে একটি একাউন্টের ইনবক্সে অন্তর্ভুক্ত করে, যার ফলে আপনি একটি আইডি থেকেই অনেকগুলো জিমেইল একাউন্ট এক্সেস করতে পারবেন।

গুগল কিপ (Google Keep)
গুগল কিপ হচ্ছে তাদের জন্যে যারা প্রতিনিয়ত লিস্ট তৈরি করতে থাকেন। সফটওয়্যারটির মাধ্যমে আপনি অসাধারণ ডিজাইনের রঙিন লিস্ট তৈরি করতে পারবেন। চাইলে সেগুলোতে রিমাইন্ডার হিসেবে এলার্মও সেট করতে রাখতে পারবেন।গুগল কিপে যে ফিচারগুলো আছে তা হলো কালার কোডিং নোট, ছবি রাখা, লিস্ট তৈরি করা, জিওফেন্সিং, নোট শেয়ার করা ও রঙের মাধ্যমে খোঁজা।

গুগল ফন্টস (Google Fonts)
সাইটের ডিজাইনের পাশাপাশি, ওয়েব ফন্ট, সাইটের কনভার্সেশন রেট বাড়ায়। এ কারণে অনেকেই থিমের ডিফল্ট ফন্টের পরিবর্তে কাস্টম ফন্ট ব্যবহার করেন। গুগল ফন্ট ওয়েব ডিজাইনার এবং ওয়েব ডেভেলপারদের জন্যে ফন্টের এক বিশাল সংরক্ষণাগার তৈরি করে রেখেছে। আপনি চাইলে যেকোনো রঙের, ডিজাইনের ও আকার-আকৃতির ফন্ট এই সফটওয়্যারে পাবেন।

প্যানোরামিয়ো (Panoramio)
প্যানোরামিয়ো হচ্ছে গুগলের একটি সামাজিক যোগাযোগের সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিও আদানপ্রদান করতে পারবেন। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ধরনের কপিরাইটেড ছবি সরাসরি ক্রয় করতে পারবেন।

গুগল সাউন্ড সার্চ (Google Sound Search)
কখনো কোথাও একটা গান শুনেছেন কিন্তু এটার নাম জানেন না? গুগল সাউন্ড সার্চ সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে, সেখানে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত গানের নাম।

থিংক উইথ গুগল (Think With Google)
থিংক উইথ গুগল মূলত মার্কেটারদের জন্যে তৈরী করা হয়েছে। এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে মার্কেটাররা, মার্কেটিং ট্রেন্ড এবং ক্রেতা ও বিভিন্ন কোম্পানির বাজারজাতকরণ তথ্য সম্পর্কে ধারনা পাবেন।

গুগল ট্রান্সলেট (Google Translate)
গুগল ট্রান্সলেট সফটওয়্যারটির মাধ্যমে আপনি যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো টেক্সট কিংবা ছবি যেকোনো ভাষায় অনুবাদ করতে পারবেন। মূলত সফটওয়্যারটি পর্যটকদের জন্যে অনেক বেশি উপকারী। শীঘ্রই এই সফটওয়্যারে যুক্ত হচ্ছে নিউরাল মেশিন ট্রান্সলেটর। নিউরাল মেশিন পদ্ধতি হচ্ছে মানুষের ভাষা, কম্পিউটারকে শেখানোর পদ্ধতি।

গুগল স্ক্রিন সার্চ (Google Screen Search)
গুগল স্ক্রিন সার্চ সফটওয়্যারটি মূলত তাদের জন্যে তৈরী করা হয়েছে, যারা শিখতে পছন্দ করে। এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে আপনি স্ক্রিনে যা পড়ছেন, সেই কন্টেন্ট এর সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাবেন। মূলত সফটওয়্যারটি শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের জন্যে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গুগল আর্ট প্রজেক্ট (Google Art Project)
যারা প্রকৃতি এবং আর্ট পছন্দ করেন তাদের জন্যেই এই সফটওয়্যারটি। সফটওয়্যারে আপনি বিভিন্ন বিখ্যাত আর্টগুলো দেখতে পারবেন এবং সেগুলো সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন। গুগল আর্ট প্রজেক্ট ব্যবহার করে বিশ্বের বড় সব জাদুঘরের বিখ্যাত ছবিগুলোর হাই রেজ্যুলেশন ভার্সন পাওয়া সম্ভব।

বিল্ড উইথ ক্রোম (Build With Chrome)
এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপনি যেকোনো স্থানে বসে লেগো গেম খেলতে পারবেন।

গুগল স্কাই (Google Sky)
গুগল স্কাই মানচিত্রে নক্ষত্রপুঞ্জ, ছায়াপথ, গ্রহ এবং পৃথিবীর চাঁদ সহ মহাজাগতিক বস্তু দেখতে পারবেন। অর্থাৎ, এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপনি মহাকাশের বাইরের বিষয়বস্তু দেখতে পারবেন। আপনার স্মার্টফোন থেকেই সরাসরি দেখতে পারবেন মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি এবং জানতে পারবেন জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত অনেক তথ্য।

Source: http://youthcarnival.com/thirteen-google-apps-that-can-simplify-your-life/

4
টর নেটওয়ার্ক: ইন্টারনেটে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা যেখানে

টর (TOR) হচ্ছে The Onion Router এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ‘Onion’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে পেঁয়াজ। মজার ব্যাপার হল, পেঁয়াজের গঠনের সাথে এই নেটওয়ার্কের গঠন একেবারেই মিলে যায়। পেঁয়াজে যেভাবে একের পর এক স্তর থাকে, তেমনি থাকে এই নেটওয়ার্কেও! এখানে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা প্রদান করে ব্যবহারকারীর তথ্য এনক্রিপ্ট করা হয়।

সহজ করে বলতে গেলে, টর হলো একটি নেটওয়ার্ক, যা একজন ব্যবহারকারীকে ইন্টারনেটে অজ্ঞাত পরিচয়ে থাকতে সহায়তা করে। টর নেটওয়ার্ক মূলত ‘অনিয়ন রাউটিং’ নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল। এই নেটওয়ার্কের বিকাশ ঘটে ১৯৯০ এর দশকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ গবেষণা পরীক্ষাগারে।

টর নেটওয়ার্কের গঠন
যখন আপনার ডাটা টর নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে ঠিক তখনই এটি একটি এনক্রিপ্টেড প্যাকেটে প্রবেশ করে। ডাটা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার সাথে সাথেই টর প্রেরকের প্রায় সকল পরিচয় মুছে দেয় (কিন্তু সাধারণ ইন্টারনেট কানেকশন সেটা করে না)। পরবর্তী ধাপে টর ডেটার গন্তব্য সংক্রান্ত তথ্যকেও এনক্রিপ্ট করে ফেলে। টর কাজ করে ‘অনিয়ন রাউটিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে। এই পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর তথ্য প্রথমে এনক্রিপ্টেড হয় এবং তার পরেই  নেটওয়ার্কের বিভিন্ন রিলে বা স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। তার সাথে প্রতিটি রিলে এর জন্য আলাদা এনক্রিপশন থাকে। এভাবেই বারবার এনক্রিপশনের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় ডেটার নিরাপত্তা।

পাঠক, লক্ষ করুন, আমরা এখানে কয়েকটি রিলে বা স্তরের কথা বলেছি। টর নেটওয়ার্কের মূল কাজটিই হয় মূলত কানেকশনকে স্তরে স্তরে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। সাধারণত, টর নেটওয়ার্কে আপনার ডেটা যায় তিনটি স্তরের মধ্য দিয়ে। স্তরগুলো সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত অবশ্যই জানবো। কিন্তু তার আগে জানা প্রয়োজন যে এই রিলে বা স্তরগুলো কীভাবে পরিচালিত হয়।

রিলে কী?
সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবীর কম্পিউটারের মাধ্যমে টর নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়। এই রিলেগুলো আসলে ঐ স্বেচ্ছাসেবীদের কম্পিউটার, যারা নিজের ব্যান্ডউইথ খরচ করে টর নেটওয়ার্ককে ঠিকঠাক চলতে সাহায্য করেন। বর্তমানে এই নেটওয়ার্কে রিলে এর সংখ্যা প্রায় ৬০০০ এর মতো।

রিলের প্রকারভেদ
এন্ট্রি গার্ড রিলে
এই স্তর হল টর নেটওয়ার্কের প্রাথমিক স্তর। আপনার পাঠানো তথ্য সর্বপ্রথম এই স্তরে প্রবেশ করে। তাই সবচেয়ে স্থিতিশীল ও দ্রুতগতিসম্পন্ন ব্যান্ডউইথ আছে এমন রিলেগুলো থাকে নেটওয়ার্কের এই পর্যায়ে।

মিডল রিলে
মধ্যম ধাপের রিলেগুলোর কাজ হলো আপনার পাঠানো তথ্যকে গার্ড রিলে থেকে এক্সিট রিলে তে নিয়ে যাওয়া। যার ফলে, আপনার পাঠানো তথ্য যখন এক্সিট রিলেতে পৌঁছাবে তখন এক্সিট রিলে জানতে পারবে না কোন গার্ড রিলে থেকে তথ্য এসেছে।

এক্সিট রিলে
এই রিলেগুলো হচ্ছে টর নেটওয়ার্ক থেকে তথ্য গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ। এই রিলে থেকেই তথ্যগুলো ডিক্রিপ্টেড হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়।

তাহলে নিরাপত্তার ব্যাপারটা?
রিলে গুলো কীভাবে কাজ করে, তা তো আমরা জানলাম। কিন্তু নিরাপত্তার ব্যাপার এখনো পরিষ্কার হলো না, তা-ই তো? আপনি কীভাবে বিশ্বাস করবেন যে রিলে থেকে আপনার তথ্য চুরি হবে না কিংবা আপনাকে ট্র্যাক করা হবে না?



এখানেই খেলা হয় এনক্রিপশনের! যখন আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে টর নেটওয়ার্কে কোনো তথ্য পাঠান, তখন সাধারণত এনক্রিপশন হয় তিনটি স্তরে। সবার প্রথমে ডেটা এমনভাবে এনক্রিপ্টেড হয়, যাতে ঐ এনক্রিপশন শুধুমাত্র এক্সিট রিলে খুলতে পারে। এই এনক্রিপশন হওয়ার পরে পুরো প্যাকেটটি আবারো এনক্রিপ্টেড হয়, যাতে মিডল রিলে ছাড়া ঐ এনক্রিপশন অন্য কেউ খুলতে না পারে। আবারো এর উপরে আরেকটি এনক্রিপশন হয় গার্ড রিলের জন্য, যা শুধুমাত্র গার্ড রিলে খুলতে পারবে। অর্থাৎ আপনার পাঠানো ডেটা এখানে পেঁয়াজের মতো র‍্যাপিং করা হচ্ছে।

এখন আপনার পাঠানো তথ্য যখন গার্ড রিলেতে পৌঁছাবে, তখন সেখানে শুধু উপরের স্তর খুলবে এবং জানতে পারবে যে প্যাকেটটি মিডল রিলেতে পৌঁছাতে হবে। গার্ড রিলে আপনার ঠিকানা প্যাকেট থেকে মুছে দিয়ে সেটি মিডল রিলে তে পাঠিয়ে দেয়।

এখানে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে, গার্ড রিলে থেকে চাইলে আপনার আপনার ঠিকানা জানা সম্ভব। কিন্তু আপনার তথ্য জানা সম্ভব নয়। কারণ, আপনার তথ্যের জন্য আরও দুটি এনক্রিপশন লেয়ার খোলা বাকি রয়ে গেছে। তাই আপনার পাঠানো তথ্য বৈধ নাকি অবৈধ, সেটা সে জানতে পারবে না।

মিডল রিলেতে পৌঁছানো মাত্রই আপনি অফিশিয়ালি বেনামী হয়ে গেলেন। কারণ, মিডল রিলে জানবে যে তথ্য এসেছে গার্ড রিলে থেকে। যেহেতু আপনার ঠিকানা আগেই মুছে দেওয়া হয়েছে, তাই কোনোভাবেই এই রিলে থেকে আপনার ঠিকানা জানা সম্ভব নয়। একইসাথে আপনার তথ্যের আরও একটি এনক্রিপশন লেয়ার বাকি থাকার কারণে আপনার তথ্যও সে জানতে পারবে না।

অবশেষে আপনার তথ্য যখন এক্সিট রিলেতে পৌঁছাবে তখন সেখানে আপনার তথ্যের প্যাকেটটি সম্পূর্ণ খোলা হবে। তাই কেউ চেষ্টা করলে এক্সিট রিলে থেকে আপনার পাঠানো ডেটা দেখতে পারবে। কিন্তু আরও কিছু নিরাপত্তা থাকার কারণে এই কাজটিও বেশ কঠিন। অন্তত আপনার ডেটা দেখতে পেলেও আপনার পরিচয় জানা তো সম্ভব নয়ই। কারণ, এক্সিট রিলে জানবে তথ্যটি এসেছে মিডল রিলে থেকে, এইটুকুই!

সুতরাং পাঠকরা বুঝতেই পারছেন, এই নেটওয়ার্কে একইসাথে আপনাকে ট্র্যাক করা এবং আপনার তথ্য বের করা প্রায় অসাধ্যের কাছাকাছি!

ভিপিএন বনাম টর?
একটি প্রশ্ন আসতেই পারে, যে ভিপিএন ভালো নাকি টর? আপনি যদি শুধুমাত্র নিরাপত্তাকেই প্রাধান্য দিতে চান তাহলে টর নেটওয়ার্কের উপরে আর কিছু নেই আপাতত! তবে টর ব্যবহারে কিছু সমস্যাও আছে। কানেকশন এতগুলো রিলে র মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণের তুলনায় এর গতি বেশ খানিকটা কম। এমনকি ভিপিএন থেকেও কম থাকে। কারণ, ভিপিএন ব্যবহারের সময় আপনার তথ্য শুধুমাত্র একটি সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু টর নেটওয়ার্কে তথ্য প্রবাহিত হয় কয়েকটি স্তরের মধ্য দিয়ে। তাই স্বাভাবিকভাবেই গতির হেরফের হয়। আবার একই কারণে টর ভিপিএন থেকে বেশি নিরাপদ। আপনি যখন ভিপিএন ব্যবহার করছেন তখন ভিপিএন প্রোভাইডার আপনার ঠিকানাও জানবে এবং চাইলে তথ্যও দেখতে পারবে। কিন্তু টরের এতগুলো লেয়ারের মধ্য থেকে আপনার ঠিকানা এবং তথ্য বের করা প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি।

টর কীভাবে ব্যবহার করবেন?
টর নেটওয়ার্কটি খুব জটিল জিনিস হলেও একে ব্যবহার করা খুবই সহজ। টর ব্যবহার করার জন্য আলাদা ব্রাউজারই রয়েছে। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জন্য মজিলা ফায়ারফক্সকে কাস্টমাইজড করে তৈরি করা হয়েছে এই ব্রাউজার। পাঠকরা এই ঠিকানা থেকে ব্রাউজারটি ডাউনলোড করতে পারবেন। আর এন্ড্রয়েডের জন্য Orbot এবং Orfox নামে দুটি জনপ্রিয় টুুল রয়েছে। এগুলো দিয়েও আপনি নির্দ্বিধায় টর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন।

সাধারণ নিরাপত্তার ব্যবহার তো রয়েছেই, কিন্তু টর নেটওয়ার্কের সবথেকে বেশি ব্যবহার হয় ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করার জন্য। পরবর্তী একটি লেখায় হাজির হবো ডার্ক ওয়েবের বিস্তারিত নিয়ে। আর সাথে থাকবে ডার্ক ওয়েবে টর নেটওয়ার্কের খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা!

Source: https://roar.media/bangla/main/tech/tor-network/

5
সবচেয়ে বিশুদ্ধ পানি পঞ্চগড়ে, বোতলজাত করার প্রস্তাবনা চিনিকলের

পঞ্চগড়ের পানি দেশের সবচেয়ে সুপেয় এবং পরিশুদ্ধ পানি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। পঞ্চগড় সুগার মিল লিমিটেড এই পানিকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার জন্য বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনাও পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন পঞ্চগড়ের পানিকে বাজার জাত করতে পারলে এই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ব্যাপক প্রভাব পড়বে। 

পানির শুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য গত কয়েক বছরে প্রায় ২৪ হাজার টিবওয়েল এবং কয়েক’শ রিংওয়েলের পানি সংগ্রহ করে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে পঞ্চগড় জনসাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এই অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা একবারেই নেই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণত প্রতিলিটারে ০.০৫ মিলিগ্রাম আর্সেনিক, ০.৩-১.০ আয়রন,১৫০-৬০০ মিলিগ্রাম ক্লোরাইড এবং ফেকল কলিফর্ম এর মাত্রা প্রতি লিটারে শূন্য মিলিগ্রাম থাকলে তাকে গ্রহণযোগ্য বলা হয়। পঞ্চগড়ের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা প্রতিলিটারে ০.০০৩ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৮৫ মিলিগ্রাম, ক্লোরাইড এর মাত্রা ১৪ মিলিগ্রাম এবং ফেকল কলিফর্ম এর মাত্রা একেবারে শূন্য।

পানিতে এই পদার্থগুলো বেশি মাত্রায় থাকলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অন্যান্য জেলার পানিতে এসব পদার্থের উপস্থিতি অত্যন্ত বেশি। তবে পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকার পানিতে কিছুটা আয়রণ বাড়ছে। পঞ্চগড়ের পানি বিশুদ্ধ হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হিমালয়। সমুদ্র থেকে ২৯ ফিট উঁচু ভূমি দ্বারা বেষ্টিত এই জেলা হিমালয়ের স্রোতধারায় প্লাবিত।

পঞ্চগড় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হিমালয়কে বলা হয় পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম ওয়াটার ট্যাংক। দুই মেরু বাদ দিলে সবচেয়ে বেশি পানি ধারন করে আছে এই পর্বতমালা। পঞ্চগড় বিশেষ করে এই জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা হিমালয়ের অত্যন্ত কাছে। ফলে হিমলয়ান স্রোতধারাই এই এলাকার পানির প্রধান উৎস। হিমালয়ান এই পানি প্রাকৃতিকভাবেই বিশুদ্ধ।

পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী  মো. আসফাউদদৌলা জানান, এই জেলার মাটি বালি ও পাথর সমৃদ্ধ হওয়ায় পানি প্রাকৃতিকভাবেই পরিশোধিত হয়ে থাকে। বালি এবং ছোট বড় পাথরে এমন করে পরিশোধিত হয় যে এই পানিতে কোন ক্ষতিকর পদার্থ থাকছেনা। সুস্বাস্থ্যের জন্য এই পানি অত্যন্ত ভাল। এই জেলায় গড়ে ১৫ থেকে ১৬ ফিট গভীরেই বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায়। বর্ষাকালে ২ থেকে ৩ ফিট গভীরেই পাওয়া যায় পরিশোধিত পানি। বাংলাদেশের যে কোন বোতলজাত পানির থেকে এই পানি বেশী সুপেয় এবং পরিশুদ্ধ ।

পঞ্চগড় সুগার মিল লিমিটেড চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি পঞ্চগড়ের বিশুদ্ধ পানিকে বোতলে ভরিয়ে বাজারজাত করার প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন পঞ্চগড়ের পানিকে বোতলজাত করে বাজারে ছাড়া হলে চিনিকলে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে তেমনি দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে। পঞ্চগড় সুগারমিল লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনূর রেজা জানান, চিনিকলের আশেপাশের এলাকার বেশ কিছু টিবওয়েল ও বিভিন্ন সোর্স থেকে পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে এই পানি দেশের সবচেয়ে সুপেয় পানি। এরপর পানি বোতলজাত করে বাজারজাতের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি পানি বোতলজাত করে বাজারজাত করা হলে একদিকে চিনিকলের ক্ষতি যেমন পুষিয়ে নেয়া যাবে মেনি এই জেলার কর্মসংস্থান বাড়বে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী জানান, পঞ্চগড়ের পানি নি‍‍‍:সন্দেহে প্রাকৃতিকভাবে পরিশোধিত পানি। গবেষণার কাজে আমি বাংলাদেশের সকল জেলায় ঘুরে দেখেছি এমন মিষ্টি স্বাদের পানি আর কোথাও পাওয়া যাবেনা। হিমালয় এবং আশেপাশের এলাকা থেকে ৪৪টি ছোটবড় নদী উৎপন্ন হয়ে এই জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু পঞ্চগড়ের অভিন্ন নদীগুলোতে ভারত বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখার ফলে পঞ্চগড়ে পানির স্তর দিন দিন নিচের দিকে চলে যাচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে বিশ বছর পরে পানির স্তর নেমে যাবে ১০০ ফিট নিচে। তাই পানির বাজারজাতের বিষয়টি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হলেও পানির প্রাকৃতিক প্রবাহ অক্ষুণ্ণ রাখার উদ্যোগও নিতে হবে।

Source: http://www.bd-pratidin.com/country/2018/04/04/319825

6
As temperatures rise, so do insects’ appetites for corn, rice and wheat

With temperatures creeping up as the climate warms, those very hungry caterpillars could get even hungrier, and more abundant. Crop losses to pests may grow.

Insects will be “eating more of our lunch,” says Curtis Deutsch of the University of Washington in Seattle. Based on how heat revs up insect metabolism and reproduction, he and his colleagues estimate that each degree Celsius of warming temperatures means an extra 10 to 25 percent of damage to wheat, maize and rice. Their prediction appears in the Aug. 31 Science.

Insects already munch their way through 8 percent of the world’s maize and wheat each year, and damage 14 percent of rice, Deutsch says. If Earth’s average global temperature rises just 2 degrees above preindustrial levels, annual crop losses could reach about 10 percent for maize, 12 percent for wheat and 17 percent for rice. That’s a total loss of about 213 million tons for the three grains combined.

Unlike mammals and birds, insects heat up or chill as their environment does. As an insect warms, its metabolism speeds up, too. The faster it burns energy, the more ravenously the insect feeds and the sooner it reproduces. The speed-up rates aren’t hugely different across kinds of insects, Deutsch says. So he and his colleagues developed a mathematical simulation of how much insects as a whole would rev up, reproduce and ravage grains in warmer times.

Tropical insects are often already near the ceiling of their temperature tolerance, where an insect has to cope with so much heat damage that reproduction rates falter. In cooler temperate zones, where wheat is grown, insects have much more leeway to live faster. That makes future wheat especially vulnerable, Deutsch says.

This is “an incredibly valuable first step” toward predicting future pest losses, says physiological ecologist Nathan Lemoine of Colorado State University in Fort Collins, who studies plant–insect interactions. But he and others note that insect metabolism is just one factor out of many that will affect future crop yields for better or worse.

Farmers will likely adopt new defenses, though that would raise farmers’ costs, says Erich-Christian Oerke of the University of Bonn in Germany, who published data in 2006 that provided the starting point for the new study. Oerke was not involved in the new calculations.

Rising temperatures can encourage, or discourage, insects invading new territories. Temperatures may also affect the parasites that prey on crop-munching pests. Both pests and plants may adapt and evolve. Predictions will have to evolve, too.

“I don’t want people to think this is a sky-is-falling story,” Deutsch says. Hungrier insects will not wipe out these crops entirely. Yet any food loss can be consequential to people who have gotten hungrier themselves in a more crowded world.

Source: https://www.sciencenews.org/article/temperatures-insects-appetites-crop-damage-global-warming?utm_source=email&utm_medium=email&utm_campaign=latest-newsletter-v2

7
রাবি অধ্যাপকের ‘পরিবেশ বান্ধব’ টেক্সটাইল প্রযুক্তি উদ্ভাবন

বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের জন্য টেকসই ও ‘পরিবেশ বান্ধব’ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলম। যা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে পানি ও জ্বালানী সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব এবং ‘টেক্সটাইল প্রি-ট্রিটমেন্ট’ এর ক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পানি, জ্বালানী ও সময় সাশ্রয়ী এই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির সফল প্রয়োগের ফলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি পুরো দেশের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে অনেক শিক্ষক-গবেষক আশা প্রকাশ করেন।
 
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে পোশাক শিল্প অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত একাধিক রাসায়নিক পদার্থ এবং রং-এর বিষাক্ত প্রতিক্রিয়াসহ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ পানি পরিবেশ থেকে নেয়া হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকির কারণ।
 
ড. তৌফিক আলম বলেন, ‘এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের মানুষ যত পানি ব্যবহার করেন তার দ্বিগুণ পানি ব্যবহার করে এই টেক্সটাইল শিল্পগুলো। যা মূলত ‘টেক্সটাইল প্রি-ট্রিটমেন্ট’ এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তাই আমরা যে প্রযুক্তির উন্নয়ন করেছি তা ‘প্রি-ট্রিটমেন্ট’ এর ক্ষেত্রে শতকরা ৪৫ ভাগ পানির সাশ্রয় করবে এবং পরিবেশ দূষণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে যাবে।’


 
হেকেপের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত এ গবেষণায় সহযোগিতা করছেন একই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান এবং ৫ জন এমএসসি ও ২ জন পিএইচডি গবেষকসহ ৭ জন শিক্ষার্থী। সাফল্যের জন্য গত তিন-চার বছর তারা এ গবেষণা করে আসছেন বলে জানা গেছে।

অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম আরো বলেন, ‘গ্রেইজ ফেব্রিকগুলো প্রথমেই ডাইং এর উপযোগী থাকে না। এসব কাপড়ে তেল, চর্বি, মোম, গ্রিজ, প্রোটিন, প্রাকৃতিক রং, হেয়ারি ফাইবার ও অন্যান্য অপদ্রব্য লেগে থাকে। ডাইং করার আগে এসব অপদ্রব্য দূর করে নেয়াই ’প্রি-ট্রিটমেন্ট’ এর প্রধান কাজ। এই ‘প্রি-ট্রিটমেন্টের’ জন্য মূলত দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। প্রথমটি প্রচলিত কস্টিক সোডা-পারঅক্সাইড পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি ব্যবহৃত হলেও ফেব্রিক ডাইং এ ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। ফলে এই প্রক্রিয়াটি অধিক ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয়টি উৎসেচক (এনজাইমেটিক) পদ্ধতি, যা পরিবেশবান্ধব ও পানি সাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও আশানুরূপ ফলাফল না পাওয়ার কারণে এর ব্যবহার সীমিত। এক্ষেত্রে আমরা একটি সক্রিয়ক (একটিভেটর) ব্যবহার করে উৎসেচক পদ্ধতরি গতানুগতিক ফলাফলকে অতিক্রম করে প্রচলিত পদ্ধতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রি-ট্রিটমেন্ট চার থেকে পাঁচ ধাপে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। কিন্তু উদ্ভাবিত পদ্ধতি এক ধাপে সংঘটিত হবে। ফলে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পানির পাশাপাশি সময় ও জ্বালানী সাশ্রয়ও হবে।’
 
উদ্ভাবিত এই পদ্ধতি সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ আর্ন্তজাতিক টেক্সটাইল ও মেশিনারিজ প্রদর্শনীর (ডিটিজি-২০১৮) মাধ্যমে পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি টেক্সটাইল শিল্প কারখানায় এ সাফল্যের কথা জানানো হয়। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এ উদ্ভাবন বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

Source: http://www.ittefaq.com.bd/education/2018/03/27/151865.html

8
জাতীয় মাছ ইলিশের জিন নকশা (জিনোম সিকোয়েন্স)

কোনো একটি সূত্র ধরেই আসে সাফল্য। স্বাভাবিকভাবে সাফল্যের ফল নিয়েই আলোচনাটা হয় বেশি। যা পাওয়া গেল অর্থাৎ যা আবিষ্কার হলো তা কী কী কাজে লাগবে— এমন প্রশ্নই আসে সব তরফ থেকে। সেই উত্তর জানার জন্য কৌতূহলের কোনো শেষ নেই। আবিষ্কারের এই ধাপটি আবিষ্কারকের কাছেও দারুণ উপভোগ্য। তবে সাফল্যের পেছনের গল্পগুলোও কম আকর্ষণীয় নয়। নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ সূত্র যতটা আলোচনায়, সমান্তরালভাবে সূত্র আবিষ্কারের পেছনের ঘটনাও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। কে না জানেন, তিনি আপেল গাছের নিচে বসেছিলেন, একটি আপেল গাছ থেকে মাটিতে পড়ার পর থেকেই তিনি ভাবতে থাকেন আপেল কেন ওপরে না গিয়ে নিচে পড়ল।

জাতীয় মাছ ইলিশের জীবন রহস্য বা জিন নকশা (জিনোম সিকোয়েন্স) বের করার পেছনের গল্পটিও সমান উপভোগ্য। দোকানে গিয়ে ইলিশের দাম বেশি মনে হওয়ায় না কিনে ফিরে এসেছিলেন এক বিজ্ঞানী। আর সেই ফিরে আসা থেকেই ঐতিহাসিক ঘটনার জন্ম হয়েছে। ইলিশ কীভাবে সমুদ্রের নোনা জল ও স্বাদু পানি দুটোতেই বসবাস করে, ইলিশের রোগ বালাই কী, ইলিশ কী বদ্ধ জলাশয়ে চাষযোগ্য মাছ, কেন ইলিশ এত সুস্বাদু, কেন একেক এলাকায় ইলিশের স্বাদ পাল্টায়, পদ্মার ইলিশই বা কেন বেশি সুস্বাদু, স্বাদ অটুট রেখে ইলিশ কী চাষ করা যাবে- এমন সব প্রশ্নের জবাব পাওয়ার দরজাটা এখন খুলে গেছে ইলিশের জিনোম বিন্যাস উদ্‌ঘাটনের ফলে। তবে কী ইলিশকে ‘পোষ’ মানানো যাবে? উত্তর খোঁজা হচ্ছে এই প্রশ্নেরও।

জীববিজ্ঞানের ভাষায় জিনোম বলতে জীবের সমস্ত বংশগতিক তথ্যের সমষ্টিকে বোঝায়। জীবদেহে বহুসংখ্যক কোষ থাকে। জিনোম সিকোয়েন্স হলো কোষের সম্পূর্ণ ডিএনএ বিন্যাসের ক্রম। জিনোম যত দীর্ঘ, তার ধারণ করা তথ্যের পরিমাণ তত বেশি। প্রতিটি কোষ সেই জীবের বিকাশ ও গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বহন করে। জিনোম ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) বা আরএনএ (রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) দিয়ে গঠিত।

ইলিশের জীবন রহস্য উদঘাটনের অভিযানে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাসিনা খানের নেতৃত্বে দেশের কয়েকজন গবেষক। এর মধ্যে দুজন প্রবাসে রয়েছেন। ইলিশের জিনোম সিকোয়েন্স বা জিনোম বিন্যাস যার হাত ধরে এসেছে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. মং সানু মারমার কাছ থেকেই শোনা যাক সেই গল্প।

দাম বেশি হওয়ায় ইলিশ না কিনে ফেরেন, শুরু করেন গবেষণা:
ড. মং সানু এখন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টন শহরে বাস করছেন। সেখানে নতুন প্রজন্মের ডিএনএ বিন্যাস প্রযুক্তির একটি প্রতিষ্ঠানে তিনি বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত। গতকাল শুক্রবার রাতে টেলিফোনে প্রথম আলোর সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিটের দীর্ঘ আলাপে জানিয়েছেন অনেক কথাই। উঠে এসেছে দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা। তিনি বলেন, এ অর্জন বাংলাদেশের মানুষের। খাগড়াছড়িতে বেড়ে ওঠা মং সানু বললেন, ‘আমি একেবারেই গ্রামে বড় হওয়া মানুষ। মানুষের দুঃখ, কষ্ট দেখে বড় হয়েছি’।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার সিংগিনালা গ্রামে বড় হয়েছেন। বাবার নাম মং চাই উরি মারমা ও মায়ের নাম আবাইমা মারমা। চার ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। ১৯৯৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। ১৯৯৭ সালে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় ও জৈব রসায়ন বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। এ বিভাগে তিনি স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। এরপর তিনি জাপানে বৃত্তি নিয়ে আরেকটি মাস্টার্স ডিগ্রি নেন এবং ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় পিএইচডি শুরু করেন। ২০০৫ সালে তাঁর পিএইচডি শেষ হয়। পরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন প্রজন্মের জিন উদ্ভাবন কাজে যুক্ত হন। ২০০৭ সালে নতুন প্রজন্মের ডিএনএ বিন্যাস প্রযুক্তির একটি প্রতিষ্ঠানে তিনি বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন। ওই প্রতিষ্ঠানে এখন তিনি জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও নিউক্লিওটাইড রসায়ন বিভাগের প্রধান। স্ত্রী মাফুই চিং রোয়াজা এবং ১১ বছর বয়সী উমা মারমা ও সাত বছর বয়সী মাশুই নুই মারমা নামে দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে বোস্টনে তিনি বসবাস করছেন।

ইলিশের জীবন রহস্য বের করার চিন্তা এল কেন? তাঁর কাছে প্রথম প্রশ্নটি ছিল এটি।
মং সানু জানালেন, ঘটনাটি প্রায় আড়াই বছর আগের। বোস্টনের একটি দোকানে গেছেন মাছ কিনতে। সেখানে গিয়ে ইলিশ দেখেই কিনতে ইচ্ছে হলো। কিন্তু দাম খুব বেশি মনে হলো। এক পাউন্ডের দাম ১৫ ডলার। অর্থাৎ কেজিতে পড়ছে প্রায় ৩০ ডলার। পাশাপাশি স্যামন মাছের দাম প্রতি পাউন্ড ৫ ডলার। স্বাদে পার্থক্য থাকলেও ইলিশের সঙ্গে স্যামন মাছের মিল হচ্ছে-দুটোই স্বাদু ও লোনা পানিতে টিকে থাকে। মাছ না কিনেই বাড়ি ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল ইলিশ ও স্যামন। স্যামনের জিনোম বিন্যাস আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। ফলে স্যামনের জীবন রহস্য এখন বিজ্ঞানীদের হাতের মুঠোয়। এই কাজটি তো তিনিই জানেন। তাঁর আবিষ্কৃত প্রযুক্তি ডিএনএ বিন্যাস কাজে ব্যবহৃত হয়। তাহলে ইলিশের জন্য নিজের প্রযুক্তি কেন কাজে লাগাচ্ছেন না! দেশের মানুষের জন্য কিছু করার জন্য ছটফট করতে থাকেন। ইন্টারনেটে ইলিশ নিয়ে খোঁজ খবর শুরু করেন। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশ চার লাখ ৯৬ হাজার ৪১৭ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছে।

মং সানু বলেন, ‘প্রথমেই জেনে নিই বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কেমন হয়। দেখলাম ইলিশ থেকে হাজার কোটি টাকা দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়। তার মানে ইলিশ হতে পারে বাংলাদেশের জন্য “সোনার খনি”। সোনার খনিও শেষ হয়, কিন্তু ইলিশের খনি শেষ হওয়ার কথা নয়। হাজার কোটি টাকা বাণিজ্যের মাছে ১০০ কোটি টাকা তো অন্তত গবেষণায় বরাদ্দ রাখা উচিত। অথচ তেমন কোনো তথ্য পেলাম না। মনে হলো, দেশের মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ রয়েছে। আমি যে লাইনে আছি, তা দিয়েই দেশের মানুষের জন্য এই কাজটি করা যায়। দেশে এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করি, এ কাজে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ফান্ড পাওয়া যাবে কিনা।’
তবে ফান্ডের ব্যাপারে ইতিবাচক কিছু না শুনে নিজের প্রযুক্তি প্রয়োগ করার চিন্তা করেন। তবে একটা সমস্যা ছিল, তিনি যেই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, সেটি নতুন প্রজন্মের ডিএনএ বিন্যাস প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উৎকর্ষের জন্য। তবে সেটি মাছের ডিএনএ বিন্যাসের দৈনিক রুটিন কাজের জন্য নয়। এ নিয়ে আলোচনা করেন তাঁর বন্ধু বুলগেরিয়া বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক বিজ্ঞানী ড. পিটার ইনাকেভের সঙ্গে। তিনি তাঁর গবেষণাগারটি বিনা মূল্যে ব্যবহার করতে দিতে রাজি হন। শুধু গবেষনায় প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্য তিনি কিনে নেন। বন্ধুর কাছ থেকে সাড়া পেয়ে এবার ডিএনএ বিন্যাসের জন্য বোস্টনের একটি দোকান থেকে ইলিশ মাছ কিনে আনেন। কিন্তু শুরুতেই হোঁচট খান। মাছটি বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা। ভালোভাবে সংরক্ষণ না হওয়ায় ডিএনএ গুণাগুণ ভালো ছিল না। তাই মাছটি কোনো কাজেই আসেনি তাঁর। বুঝতে পারলেন দেশ থেকে গবেষণা উপযোগী নমুনা হাতে পেলেই কাজটি করা সম্ভব।
এরপরই যোগাযোগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষক এখন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আজিজের সঙ্গে। মং সানু বলেন, ‘এক বছর আগে শ্রদ্ধেয় স্যার আমার কথা শুনে ব্যাপক উৎসাহ দেন। তিনি আলাপ করিয়ে দেন অধ্যাপক হাসিনা খানের সঙ্গে। ম্যাডাম পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কারের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর কাজ সম্পর্কে আমার খুব ভালো ধারণা ছিল। তবে চিন্তা ছিল, তিনি আমাকে কীভাবে নেন। পুরো বিষয়টি শুনে তিনি সাদরে তা গ্রহণ করলেন। মনে অনেক জোর পেলাম যে, এবার কিছু হবে।’

যাত্রা হলো শুরু:
মং সানুর কাছ থেকে জানা গেল, কাজটি শুরুর আগে এর মেধাস্বত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি অধ্যাপক হাসিনা খানকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে গবেষণা করলেও এর মেধাস্বত্ব থাকবে বাংলাদেশের নামে। বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্র পাবে এই মালিকানা। মং সানু বলেন, ‘আমরা গবেষকেরা প্রতিশ্রুতি দিই, এই আবিষ্কার, পেটেন্ট যা কিছু হবে সব বাংলাদেশের জনগণ পাবে। আমরা কোনো মেধাস্বত্ব নেব না। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দেশের অর্জনকে আমরা বড় করে দেখছি। সেভাবেই সব কাগজপত্র লিপিবদ্ধ হয়েছে’।

এরপর অধ্যাপক হাসিনা খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ইলিশ গবেষক এম নিয়ামুল নাসেরের সঙ্গে কথা বলেন। নিয়ামুল নাসেরের নেতৃত্বে দেশের সাতটি স্থান থেকে সংগ্রহ করা হয় অত্যন্ত উচ্চ মানের টিস্যু নমুনা।
নিয়ামুল নাসের প্রথম আলোকে জানান, সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে গবেষণাটি হয়েছে। গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর কাজটি শুরু হয়। নমুনা সংগ্রহ করা হয় ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। গভীর সমুদ্র, মেঘনা নদীর মোহনা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর সংগমস্থল, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, পদ্মার উপরিভাগ ও হাকালুকি হাওর—এই সাতটি এলাকা থেকে ইলিশের ডিএনএ, আরএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বিভিন্ন ধরনের টিস্যু আধুনিক প্রযুক্তিতে সংগ্রহ করা হয়। তিনি বলেন, ইলিশের জীবনে নানা রহস্য রয়েছে। আমরা ইলিশের আচরণগত বৈশিষ্ট্য শুধু জানি। ইলিশ সমুদ্রে থেকে নদীতে আসে, আবার নদী থেকে সমুদ্রে ফিরে যায়, কেন ইলিশের এই আসা-যাওয়া, প্রকৃতি নাকি জিন নিয়ন্ত্রণ করে ইলিশের এই আচরণ— তা আমরা জানি না। এই আবিষ্কার, এই সব রহস্য জানার দ্বার খুলে দিয়েছে। এই জিনোম বিন্যাস আবিষ্কৃত হওয়ায় ইলিশের জীবনের সব রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে। ইলিশের জেন্ডার সম্পর্কে জানা যাবে। বড় ইলিশগুলোকে মেয়ে ইলিশ ও ছোট ইলিশগুলোকে পুরুষ ইলিশ হিসেবে পাওয়া যায়। সমুদ্রের কিছু মাছের মতো ইলিশের জেন্ডার পরিবর্তনের রহস্য আছে কিনা তা জানা যাবে। ইলিশের রোগ বালাই আছে, মৃত্যু আছে। সেগুলো কেন ঘটে তা জানা যাবে।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক হাসিনা খান প্রথম আলোকে বলেন, নমুনা সংগ্রহে মান ঠিক রাখতে অত্যন্ত সতর্ক থাকা হয়েছে। তাঁর বিভাগের তরুণ গবেষক অভিজিৎ দাস ও অলি আহমেদ স্থানীয় পর্যায় থেকে ইলিশ মাছের বিভিন্ন অংশ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করে ড্রাই আইসে (কার্বন ডাই অক্সাইডকে ঠান্ডা করে বরফের মতো জমিয়ে মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রাখা) সংরক্ষণ করে ঢাকায় নিয়ে আসেন। বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে বিশেষভাবে প্যাকেটজাত করে বিমানে করে সেই নমুনা পাঠিয়ে দেওয়া হয় মং সানুর কাছে।

হাসিনা খান জানান, গবেষণায় ইলিশের বংশানুগতি সম্পর্কিত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে দেখা গেছে, ইলিশের পুরো ডিএনএ (জিনোম) এর ক্ষেত্রে প্রায় ১০০ কোটি বেসপেয়ার (কেমিকেল ইউনিট) রয়েছে এবং জিন রয়েছে ৩১ হাজার ২৯৫টি। (মানবদেহে পুরো ডিএনএ রয়েছে ৩২০ কোটি বেসপেয়ার। ইলিশের দেহে কতগুলো জিন আছে জানা গেছে, এখন জিনগুলো কীভাবে কাজ করবে তা বের করা হবে। মং সানু এ বছরের ১ মার্চ ডিএনএ বিন্যাসের কাজ শেষ করেন। এরপরের কাজটি ডিএনএ অ্যাসেম্বলি বা বিন্যাস করা ডিএনএ আবার মালার মতো করে সাজানোর কাজটি করেন আরেক বাংলাদেশি বিজ্ঞানী একেএম আবদুল বাতেন।
এই তথ্য একটি সুপার কম্পিউটারে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন হয়। যেটি বাংলাদেশে নেই। বিজ্ঞানী আবদুল বাতেন অস্ট্রেলিয়ার সাউদার্ন ক্রস ইউনিভার্সিটিতে এই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে ডিএনএ অ্যাসেম্বলির কাজটি শেষ করেন। পরে তিনি নিউজিল্যান্ডে চলে গেলে আরএনএ ডেটা বিশ্লেষণের কাজটি তাঁর পক্ষে আর করা সম্ভব হয়নি।
তবে ইলিশের ডিএনএ তথ্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরএনএ ডেটা বিশ্লেষণ জরুরি। মানুষ, মাছ, উদ্ভিদ ও অন্যান্য উন্নত জীবের ক্ষেত্রে ডিএনএ-তে বংশগতির তথ্যগুলো সংরক্ষিত থাকে। সেই ডিএনএ থেকে তথ্য নিয়ে আরএনএ তৈরি হয়। আর আরএনএ থেকে তথ্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন তৈরি হয়। আরএনএ বিশ্লেষণে গেলে ইলিশে কী রকম প্রোটিন তৈরি হয়, সেটা জানা যাবে এবং ডিএনএতে যে তথ্যগুলো সংরক্ষিত রয়েছে বলে পাওয়া গেছে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ কারণে ইলিশের ডিএনএ অ্যাসেম্বলির পর আরএনএ বিশ্লেষণের কাজের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

হাসিনা খান জানান, বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্কের গবেষণাগারে উচ্চ মানের কম্পিউটারে তাঁর ছাত্রছাত্রীরা আরএনএ ডেটা বিশ্লেষণের কাজটি করছেন।
ইলিশের এই গবেষণায় রয়েছেন প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম, প্রভাষক ফারহানা তাসনিম চৌধুরী, তরুণ গবেষক অলি আহমেদ, অভিজিৎ দাস, তাসনিম এহসান, জুলিয়া নাসরিন ও রিফাত নেহলিন।

ইলিশ কী তবে চাষ হবে?
ইলিশের জিনোম বিন্যাসের যুগান্তকারী আবিষ্কারের তথ্য জানার পর গবেষকেরা সবচেয়ে বেশি মুখোমুখি হচ্ছেন এই প্রশ্নের— ইলিশ কী চাষ করা যাবে? উত্তরটি শোনা যাকে মং সানুর কাছ থেকে। প্রশ্নটি শুনে হাসলেন এই বিজ্ঞানী। বললেন, কাজটি সবে শুরু হয়েছে। যেতে হবে আরও বহু দূর। তবে ইলিশের ব্যাপারে কোনো কিছুই অসম্ভব না—এ কথাটি বলা যেতে পারে। এমন প্রযুক্তি আছে যে, ইলিশের জিনকে প্রয়োজনে পরিবর্তন করে চাষ উপযোগী করা যেতে পারে। স্যামন মাছের জিনোম বিন্যাসের পর যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলো তাতে দেখা গেছে, সমুদ্রের স্যামন থেকে তা দ্রুত বড় হয়। ইলিশের ক্ষেত্রেও এ রকম করা যায় কিনা তা দেখা যাবে। ইলিশের খাদ্য বা প্ল্যাংটনের ওপর এর স্বাদ নির্ভর করে। তাই দেহে থাকা যে চর্বির কারণে একেক জায়গার ইলিশের স্বাদ একেক রকম হয়, সেটা জিনোমে লেখা থাকলে সেই তথ্য ব্যবহার করে ইলিশের স্বাদও একই রকম রাখা সম্ভব। সেই জিন শনাক্ত করা গেলে একই স্বাদের ইলিশ চাষ করা সম্ভব। এমনকি ইলিশের এই স্বাদ অন্য মাছের মধ্যেও স্থানান্তর করা সম্ভব। ইলিশের রোগ নির্ণয় করে মৃত্যু কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোও সম্ভব। তবে এই সব কিছুর জন্য আরও গবেষণা ও আরও অপেক্ষা করতে হবে। ইলিশ মাছকে ঘিরে এই সব সম্ভাবনা মাথায় নিয়ে গবেষণা করতে হবে। তাঁর ভাষায়, মূল দরজাটি খুলে গেছে, এখন শুধু এগিয়ে যাওয়া।

এর আগে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে একদল বাংলাদেশি গবেষক পাটের জীবনরহস্য (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করেন ২০১৩ সালে। বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে গত বছর। এর আগের বছর বাংলাদেশের জামদানি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ইলিশের জীবন রহস্য উদ্‌ঘাটনের পর এবার এর পেটেন্টের জন্য আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশ।

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1556723/%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%A8-%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E2%80%8C%E0%A6%98%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8


9
Google launches new search engine to help scientists find the datasets they need

Google’s goal has always been to organize the world’s information, and its first target was the commercial web. Now, it wants to do the same for the scientific community with a new search engine for datasets.

The service, called Dataset Search, launches today, and will be a companion of sorts to Google Scholar, the company’s popular search engine for academic studies and reports. Institutions that publish their data online, like universities and governments, will need to include metadata tags in their webpages that describe their data, including who created it, when it was published, how it was collected, and so on. This information will then be indexed by Dataset Search and combined with input from Google’s Knowledge Graph. (That’s the name for those boxes that pop up for common searches. So if dataset X was published by CERN, some info about the institute will also be included in the results.)

Speaking to The Verge, Natasha Noy, a research scientist at Google AI who helped create Dataset Search, says the aim is to unify the tens of thousands of different repositories for datasets online. “We want to make that data discoverable, but keep it where it is,” says Noy.

At the moment, dataset publication is extremely fragmented. Different scientific domains have their own preferred repositories, as do different governments and local authorities. “Scientists say, ‘I know where I need to go to find my datasets, but that’s not what I always want,’” says Noy. “Once they step out of their unique community, that’s when it gets hard.”

Noy gives the example of a climate scientist she spoke to recently who told her she’d been looking for a specific dataset on ocean temperatures for an upcoming study but couldn’t find it anywhere. She didn’t track it down until she ran into a colleague at a conference who recognized the dataset and told her where it was hosted. Only then could she continue with her work. “And this wasn’t even a particularly boutique depository,” says Noy. “The dataset was well written up in a fairly prominent place, but it was still difficult to find.”

The initial release of Dataset Search will cover the environmental and social sciences, government data, and datasets from news organizations like ProPublica. However, if the service becomes popular, the amount of data it indexes should quickly snowball as institutions and scientists scramble to make their information accessible.

This should be helped by the recent flourishing of open data initiatives around the world. “I do think in the last several years the number of repositories has exploded,” says Noy. She credits this to the increasing importance of data in scientific literature, which means journals ask authors to publish datasets, as well as “government regulations in the US and Europe and the general rise of the open data movement.”

Having Google involved should help make this project a success, says Jeni Tennison, CEO of the Open Data Institute (ODI). “Dataset search has always been a difficult thing to support, and I’m hopeful that Google stepping in will make it easier,” she says.

To create a decent search engine, you need to know how to build user-friendly systems and understand what people mean when they type in certain phrases, says Tennison. Google knows what it’s doing in both of those departments.

In fact, says Tennison, ideally Google will publish its own dataset on how Dataset Search gets used. Although the metadata tags the company is using to make datasets visible to its search crawlers are an open standard (meaning that any competitor, like Bing or Yandex, can use them to build their own competing service), search engines improve most quickly when a critical mass of users is there to provide data on what they’re doing.

“Simply understanding how people search is important... what kind of terms they use, how they express them,” says Tennison. “If we want to get to grips with how people search for data and make it more accessible, it would be great if Google opened up its own data on this.”

In other words: Google should publish a dataset about dataset search that would be indexed by Dataset Search. What could be more appropriate?

Source: https://www.theverge.com/2018/9/5/17822562/google-dataset-search-service-scholar-scientific-journal-open-data-access

10
আট 'বিশ্বাসঘাতকের' প্রযুক্তি বিপ্লব

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ-ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অঞ্চল, গোটা পৃথিবীর কাছে এর পরিচয় এখন সিলিকন ভ্যালি নামে। নামটি এসেছে সেমিকন্ডাক্টর পদার্থ সিলিকনের নাম থেকে। ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রির মূলে তো এই সেমিকন্ডাক্টরই। তাই এমন নামকরণ। বর্তমান পৃথিবীর প্রযুক্তি জগতের সকল মহীরুহর আবাস এখানে। এখান থেকেই পরিচালিত হয় গুগল, অ্যাপল, ফেইসবুক, মাইক্রোসফট, ইনটেল ও অ্যামাজনের মতো বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। গোটা পৃথিবী যে প্রযুক্তির ওপর ভর করে আছে, তার অধিকাংশের জন্মই এ তিনশো বর্গমাইল অঞ্চলে। এই সিলিকন ভ্যালির শুরুটা হয়েছিল কীভাবে?

সিলিকন ভ্যালির শুরুর ইতিহাস খুঁজতে গেলে ট্রানজিস্টরের উদ্ভাবনের সময়কালে যেতে হবে। সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইসের কল্যাণেই শুরু হয়েছিল সিলিকন ভ্যালির যাত্রা। ট্রানজিস্টর উদ্ভাবিত হয়েছিল বেল ল্যাবসে। প্রায় এক যুগ ধরে বহু বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের নিয়ে বিশাল একটি গবেষণা প্রকল্প চালাতে হয়েছিল এর জন্য। কিন্তু ট্রানজিস্টর উদ্ভাবনের পর এ মৌলিক গবেষণা প্রকল্পটি চালু রাখার আর কোনো প্রয়োজন ছিল না। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই বেল ল্যাবসের অনেক প্রকৌশলীর ঘর ছাড়ার সময় চলে এসেছিল।

বেল ল্যাবস থেকে বের হয়ে আসা গবেষকদের মধ্যে উইলিয়াম শকলিও ছিলেন। বাই-পোলার জাংশন ট্রানজিস্টরের উদ্ভাবক তিনি। প্রযুক্তিবিদ হিসেবে তার যশ-খ্যাতি তখন আকাশছোঁয়া। কিন্তু স্রেফ যশ-খ্যাতি সন্তুষ্ট করতে পারছিল না তাকে। গবেষণা জগতে সফল হওয়ার পর এবার অর্থ-কড়ির নেশা জাগল তার। তার সঙ্গীদের তিনি বলেছিলেন, ‘ফিজিক্যাল রিভিউ’র মতো একাডেমিক প্রকাশনাগুলোতে নিজের নাম যথেষ্ট দেখে ফেলেছেন তিনি, এবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে নাম লেখাতে চান।

শকলি সেমিকন্ডাক্টর ল্যাবরেটরি
শকলি বেল ল্যাবস ছাড়েন ১৯৫৪ সালে। এরপর কিছুদিন ক্যালটেকে অধ্যাপক হিসেবে চাকরি করেন, উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছিলেন সামরিক বিভাগেও। তিনি যার পেছনে ছুটছেন, সে অর্থ-কড়ি উপার্জনের লক্ষ্য যে এসব করে পূরণ হবে না, এসময় তা স্পষ্ট হয়ে যায় তার কাছে। অনেক ভেবেচিন্তে তিনি ব্যবসায় নামার সিদ্ধান্ত নিলেন। নিজের দক্ষতার জায়গা আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস তৈরিকেই বেছে নিলেন ব্যবসার জন্য। তার যশ-খ্যাতির কল্যাণে জন ডি. রকফেলার জুনিয়র সহ সম্পদশালী ও ক্ষমতাবান সব বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়তে সমর্থ্য হন তিনি।

কিন্তু তার সাথে কথা বলে প্রায় সকল বিনিয়োগকারীই পিছিয়ে যান। শকলি ছিলেন ভীষণ একরোখা ও খ্যাপাটে প্রকৃতির। ব্যবসা বিষয়ে তার অজ্ঞতা ও একঘুয়েমি মানসিকতা দেখে কেউই বিনিয়োগের ভরসা করতে পারেনি। শেষমেশ শকলি তার ক্যালটেকে পড়ার সময়কার পরিচিত সিনিয়র আর্নল্ড বেকম্যানের কাছে হাজির হন। বেকম্যান নিজে একজন রসায়নবিদ ছিলেন। ইলেকট্রনিক্স বিষয়েও দক্ষতা ছিল তার, ওয়েস্টার্ন ইলেকট্রিক টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টে কাজও করেছিলেন কয়েক বছর। পরবর্তীতে একটি প্রযুক্তি কোম্পানি দিয়ে বেশ ধনী ব্যবসায়ী বনে যান। তিনি শকলির ওপর ভরসা করে, তার কোম্পানিতে এক মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে সম্মত হন।


শকলি সেমিকন্ডাক্টর ল্যাবরেটরি

আর্থিক নিশ্চয়তা পাওয়ার পর শকলি তার সিলিকন ট্রানজিস্টর ডিভাইস তৈরির কোম্পানি ‘শকলি সেমিকন্ডাক্টর ল্যাবরেটরি’ শুরু করেন। শকলি তার  কোম্পানি স্থাপন করার জন্য বেছে নেন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান-ফ্রান্সিসকো শহরের দক্ষিণে অবস্থিত পালো আলটো শহরটিকে। বেকম্যান অবশ্য প্রথমে রাজি ছিলেন না। তিনি চেয়েছিলেন লস-এঞ্জেলেসে, ক্যালটেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে এ কোম্পানিটি স্থাপন করতে। কিন্তু শকলির জেদের কাছে হার মানেন তিনি। শকলি বেকম্যানকে এ জায়গার উপযোগীতা বোঝাতে অনেক কারণ দেখিয়েছিলেন। তবে তার জেদের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল, এ শহরেই ছিল শকলির পরিবারিক বাসস্থান। এভাবেই সিলিকন ভ্যালি এ অঞ্চলে তার ভৌগলিক ঠিকানা খুঁজে পায়।

শকলি ও আট ‘বিশ্বাসঘাতক’
১৯৫৫ সালে এসে ‘শকলি সেমিকন্ডাক্টর ল্যাবরেটরি’ অফিসিয়ালি প্রতিষ্ঠিত হয়। এবার শকলি তার কোম্পানির জন্য প্রযুক্তিবিদ খুঁজতে শুরু করলেন। তার আগের কর্মস্থল বেল ল্যাবসের কেউ তার কোম্পানিতে যোগ না দেওয়ায় কিছুটা হতাশ হয়েছিলেন। কিন্তু যারা শকলিকে চিনতেন তারা ভালোভাবেই জানতেন, তার মতো একজন ব্যক্তির অধীনে কাজ করা কতটা বিড়ম্বনার। অভিজ্ঞ কাউকে না পেয়ে শকলি তরুণদের দিকে চোখ ফেরালেন। স্বাভাবিকভাবেই তরুণ প্রযুক্তিবিদরা তার মতো কিংবদন্তী প্রযুক্তিবিদের সাথে কাজ করতে ভীষণ উৎসাহী ছিল।



প্রতিভা চেনার ক্ষেত্রে শকলির সহজাত দক্ষতা ছিল। তিনি এসময় অসাধারণ প্রতিভাবান কয়েকজন তরুণকে খুঁজে এনেছিলেন, যার মধ্যে ছিল রবার্ট নয়েস, গর্ডন মুরের মতো পরবর্তীকালে সিলিকন ভ্যালির কিংবদন্তিরা। পালো আলটোতে শকলির এ তরুণ দলটি ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু করলো। তাদের উৎসাহ আরো বেড়ে যায় যখন এর পরের বছর শকলি নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাদের সুখের সময় বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

প্রযুক্তিবিদ হিসেবে শকলি যতই প্রতিভাবান হন না কেন, একজন নেতা হিসেবে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, স্বৈরাচারী ও চরম অসংবেদনশীল। বলা চলে এ কাজের জন্য তিনি চূড়ান্ত রকমের বাজে একজন ছিলেন। এসব কিছুর সাথে হয়তো তার দল মানিয়ে নিতে পারতো, কিন্তু বাজারের চাহিদা বোঝা, ব্যবসা কৌশল ও লক্ষ্য ঠিক রাখা এসব অতি জরুরি বিষয়ে তার কোনো দক্ষতা ছিল না। কিছুদিনের মাথায়ই তিনি তার কোম্পানির লক্ষ্য ট্রানজিস্টর ডিভাইস থেকে সরিয়ে ‘চার-স্তরের ডায়োডের’ দিকে মনোযোগ দেন।

কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ততদিনে ট্রানজিস্টর ডিভাইস তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। তাই শকলি ভাবলেন, তার কোম্পানি কারো পদাঙ্ক অনুসরণ করবে না। সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু নিয়ে কাজ করবে। এ চিন্তা থেকেই তিনি ‘চার স্তরের ডায়োড’ নিয়ে কাজ শুরু করেন। কিন্তু এটি এমপ্লিফিকেশনে সক্ষম ছিল না, বাজারে এর চাহিদা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু একরোখা শকলি কি আর তা বুঝতে চান? কোম্পানির অর্থনৈতিক দিক নিয়ে কোনো পাত্তা না দিয়েই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।

তরুণ প্রকৌশলীরা অনেক চেষ্টা করেছিলেন শকলিকে এ সিদ্ধান্ত থেকে টলাতে, কিন্তু সফল হননি। এতে হতাশ হলেও তারা এ প্রকল্পে কাজ করতে শুরু করেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি যখন কোম্পানির সর্বনাশ ডেকে আনছিল, তখন আর তারা চুপ করে বসে থাকতে পারেননি। মুর, নয়েস সহ মোট আটজন প্রকৌশলী শকলিকে এড়িয়ে সরাসরি আর্নল্ড বেকম্যানের কাছে হাজির হন। কোম্পানির সম্পূর্ণ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তাকে প্রস্তাব দেন, যাতে শকলিকে সরিয়ে অন্য একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেয়া হয় আর প্রযুক্তিখাতের দেখাশোনা করার জন্যে তারাই সক্ষম।

ভেঞ্চার ক্যাপিটালের শুরু
অসুখী পরিবেশে কাজ করতে কে-ই বা চায়? এ আটজন তরুণ প্রকৌশলীও চায়নি। তারা ঠিক করে রেখেছিলেন, একইসাথে বের হয়ে অন্য একটি কোম্পানিতে যোগ দেবেন। তবে তাদের মাথায় কখনো নিজেদের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করার চিন্তা আসেনি। এ পরামর্শটা আসে আর্থার রকের কাছ থেকে। এ আটজনের একজন ইউজিন ক্লেইনারের মাধ্যমে রকের সাথে পরিচয় হয় তাদের। রক তখন সদ্য হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে পাশ করে ওয়াল স্ট্রিটের একটি ব্রোকারেজ ফার্মে কাজ শুরু করেছেন। তিনি তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে পরামর্শ দেন, অন্য কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার বদলে তারা নিজেরাই বিনিয়োগকারী খুঁজে একটি কোম্পানি শুরু করতে।

প্রস্তাবটি মনে ধরে তাদের। তারা সবাই নিজেরাই নিজেদের বস হওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট উৎসাহী হলেও, এর ঝুঁকিটাও জানতেন। তারা সিদ্ধান্ত নিলেন, প্রথমে প্রযুক্তি বিষয়ক বড়সড় কোনো কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে দেখবেন, কেউ তাদের পেছনে বিনিয়োগ করতে রাজি হয় কিনা। রক তাদের হয়ে বেশ কয়েকটি কোম্পানিতে যোগাযোগ চালিয়ে গেলেন। কিন্তু প্রায় সব জায়গা থেকেই নেতিবাচক জবাব এলো। কারণ অধিকাংশ কোম্পানিগুলোই হয় নিজেরাই ট্রানজিস্টর-ডিভাইস তৈরি করা শুরু করেছিল অথবা এ বিষয়ে আপাতত তাদের কোনো আগ্রহ ছিল না।

তারা তখনো শকলির কোম্পানিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এদিকে বিনিয়োগ না পেয়ে তাদের নিজেদের কোম্পানি গড়ে তোলার আশাও ক্ষীণ হয়ে আসছিল। সবাই বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন চাকরি খোঁজার ভাবনাও শুরু করে দিয়েছিল। ঠিক এ সময় শারম্যান ফেয়ারচাইল্ডের সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান রক। শারম্যান ফেয়ারচাইল্ডের বাবা ছিলেন আই.বি.এম এর প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। পিতার একমাত্র সন্তান হিসেবে অঢেল ধন সম্পদের মালিক হন তিনি। রক তাকে এ বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে সমর্থ্য হন। খুব শীঘ্রই আটজনের সাথে তার সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন।

তাদের সাথে বিস্তর আলোচনা শেষে শারম্যান ফেয়ারচাইল্ড দেড় মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে ‘ফেয়ারচাইল্ড সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করতে রাজী হন। চুক্তি অনুযায়ী এ কোম্পানির ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা থাকে শারম্যান ফেয়ারচাইল্ডের, ২০ শতাংশ রকের ব্রোকারেজ ফার্মের এবং বাকি দশ শতাংশে সমান ভাগ থাকে বাকি আটজনের। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, অর্থাৎ কোম্পানিতে শেয়ারের বিনিময়ে বিনিয়োগের যে প্রক্রিয়া সিলিকন ভ্যালিতে এখনো বর্তমান, তার শুরুটা হয় এখান থেকেই। আর্থার রক এখানে এসে প্রথম ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ইনটেল ও অ্যাপল যখন সিলিকন ভ্যালিতে আসে তখন রকের ফার্ম ছিল তাদের প্রধান বিনিয়োগকারীদের একজন।

১৯৫৭ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ সব কিছু তৈরি হয়ে যায়। আট ‘বিশ্বাসঘাতক’ একইসাথে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে শকলির কোম্পানি ছেড়ে আসেন। এখান থেকে কয়েক মাইল দূরেই নিজেদের অফিস নেন তারা। সেসময় সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস তৈরির জন্য যেসব যন্ত্রাদি দরকার হয়, তা কোথাও বিক্রি হতো না। এসব তাদের একদম শূন্য থেকে করতে হয়েছিল। কিন্তু এ আটজন অত্যন্ত প্রতিভাবান প্রকৌশলীর জন্য তা অসম্ভব কিছু ছিল না। নতুন যাত্রা শুরু করার উৎসাহে তারা নিজেদের সবটুকু নিংড়ে দিলেন। শুরুর কয়েক মাস পরেই তারা তাদের প্রথম অর্ডার পান। আই.বি.এমের সাথে পাঁচ লক্ষ ডলারের চুক্তি হয় তাদের। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ফেয়ারচাইল্ড সেমিকন্ডাক্টরের পরিধি।

তাদের মাধ্যমেই সেমিকন্ডাক্টর-ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু হয় সিলিকন ভ্যালিতে। তবে তখন হয়তো কেউ জানতো না এরপর একের পর এক কোম্পানি আসতে থাকবে এ অঞ্চলে এবং একসময় গোটা অঞ্চলটিই চলে যাবে সিলিকন নামক সেমিকন্ডাক্টরের দখলে।

আর শকলির কোম্পানির কী হয়েছিল? খুব সংক্ষেপে বললে সেটি এক প্রকার ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এক পর্যায়ে এসে বেকম্যান যখন প্রকৃত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন, তখন তিনি অখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেন কোম্পানিটি। আর শকলি আবার একাডেমিক জগতে ফিরে যান, সিলিকন ভ্যালির পাশেই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাকাল্টি হিসেবে যোগ দেন তিনি।

আচ্ছা পরবর্তী সময়ে সিলিকন ভ্যালির উথান দেখে কখনো কি তার মনে আফসোস জেগেছে, “যদি তখন এ তরুণদের যথাযথ সুযোগ দিতাম”?

Source: https://roar.media/bangla/main/tech/traitorous-eight-and-beginning-of-silicon-valley/

11
দৃষ্টিহীনদের আলো দেখাবে বায়োনিক আই

অন্ধজনে দাও আলো। বিজ্ঞানের এই যুগে  দৃষ্টিহীনদের এখনো কারো চোখ দানের ওপর নির্ভর করতে হয়। ভবিষ্যতে এমনটা আর হবে না। এমনই আভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা ইউনিভার্সিটির এক দল বিজ্ঞানী। তারা বায়োনিক আই নামের একটি কৃত্রিম চোখ বানিয়ে ফেলেছে। এতদিন আমরা সাইন্স ফিকশন মুভিতেই বায়োনিক আই সম্পর্কে জেনেছি। বাস্তবে বায়োনিক আই যে তৈরি করা যায় সেটা এই প্রথম। এই বায়োনিক আই শুধু যে দৃষ্টিহীনদের কাজে লাগবে এমনটা নয়। যারা বিভিন্ন কারণে দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছে তারা সবকিছু দেখতে পারবে এই বায়োনিক আইয়ের সাহায্যে।

বায়োনিক আই তৈরির খবরটি গত মঙ্গলবার বিজ্ঞান ভিত্তি জার্নাল অ্যাডভান্স ম্যাটেরিয়ালে প্রকাশ করা হয়েছে।

বায়োনিক আই তৈরি করতে বিজ্ঞানীরা একটি থ্রি ডি প্রিন্টারের নির্মাণ করেন। এই থ্রি ডি প্রিন্টারে রয়েছে সিলভার পার্টিসেল। তা দিয়ে প্রিন্ট করা হয়। পুরো যন্ত্রটি একটি হেমিসফিরিক্যাল গ্লাস ডোমের ভেতর বসানো থাকে। প্রিন্ট করতে ব্যবহার করা হয়েছে পলিমার জাতীয়  উপাদান। এসব বস্তুকে সেমিকন্ডাকটিং পলিমার ম্যাটেরিয়াল বলা হয়। এই যন্ত্র আলো কে বৈদ্যুতিক সিগনালে পরিবর্তন করে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। একজন স্বাভাবিক মানুষ চোখে যা দেখে তার ২৫ শতাংশ কৃত্রিম এই চোখ দেখতে পারে। যন্ত্রটি চোখে বসানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নরম হেমিসফিরাক্যাল গ্লাস ডোম তৈরি চিন্তাভাবনা করছেন। আর যন্ত্রের ক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো যায় তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।



এরপর শেষ যে কাজটা বাকী আছে সেটা হচ্ছে যন্ত্রের সিগনালের সঙ্গে মস্তকের সংযোগ স্থাপন। তখনই বায়োনিক আই কাজ করবে সফল ভাবে। এই কাজটি এখনো করা হয়নি। তবে কৃত্রিম চোখ তৈরির প্রথম যে বাধা ছিল সেটি অতিক্রম করা গেছে। Michael McAlpine যিনি বায়োনিক আই তৈরিতে কাজ করছেন। তিনি জানান তার মা দৃষ্টিশক্তি হীন। সে জন্য তিনি এই গবেষণা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন। 

Source: https://sdnews71.blogspot.com/2018/09/blog-post_6.html?m=1

12
We can use old-fashioned technology for this purpose (io get rid of). Latest technology can not get access to old fashioned tech, easily.

13
পুরো পৃথিবীর শক্তি যোগাতে সোলার প্যানেল ব্যবহৃত হয় না কেন?

আমরা বাস করছি এমন এক গ্রহে, যেখানে পানি ছাড়াও আছে জীবাশ্ম জ্বালানী নামক আশীর্বাদ। ভূগর্ভে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে বিশেষ প্রক্রিয়া তৈরি হওয়া এই আশীর্বাদের অংশগুলো হলো তেল, কয়লা, গ্যাস। প্রতি বছর পৃথিবী জুড়ে গড়ে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি জ্বালানি তেল ব্যবহার করা হয়, যেখানে ২০১৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই দিনে গড়ে প্রায় ৯.৩২ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানী ব্যবহার করা হয়েছে। পৃথিবীকে গতিশীল রাখতে তাই এর গুরুত্ব নতুন করে মনে করিয়ে দেবার কিছু নেই। কিন্তু আশীর্বাদটা যখন সীমিত পরিমাণের আর সেই সাথে পাল্লা দিয়ে এর চাহিদাটাও বাড়তে থাকে তখন মাথা ঘামানোটা জরুরি হয়ে পড়ে। ইতোমধ্যেই আমরা পৃথিবীর মোট জ্বালানীর ৪০ শতাংশেরও বেশি খরচ করে ফেলেছি।

কিন্তু আশীর্বাদ যদি অভিশাপ ডেকে আনে তবে? এই সকল জীবাশ্ম জ্বালানীর মূল উপাদান কার্বন, যা ধীরে ধীরে পরিবেশের সাথে মিশে বিষাক্ত করে তুলছে পৃথিবীর পরিবেশ, খুব দ্রুত বাড়িয়ে দিচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা।

আগামী ৫০ বছরের মধ্যে ফুরিয়ে আসতে পারে এই জ্বালানী তেল। আর কয়লার ক্ষেত্রে লাগতে পারে ১০০ বছর। সময়টা আমাদের জন্য নেহায়েত কম নয়, তবে এর জন্য আমাদের পরবর্তী প্রজন্মগুলোকে এর মাশুল গুণতে হবে।

আর তাই আমরা বিকল্প পথে হাঁটা শুরু করেছি নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে, যাতে আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা একেবারে কমে আসে, একইসাথে তা হয় পরিবেশবান্ধব এবং অফুরন্ত। তবে এখনো মোট শক্তির মাত্র প্রায় ১৩ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে। যেখানে কেবলমাত্র সূর্য থেকেই প্রতিমুহূর্তে বিকিরিত হয়ে পৃথিবীতে আসে প্রায় ১৭৩ হাজার টেরাওয়াট সৌরশক্তি (১৭৩ এর পরে ১৫টি শূন্য), যা আমাদের বর্তমান প্রয়োজনের প্রায় ১০,০০০ গুণ।

আর এই সৌরশক্তিকে সংরক্ষণ করার জন্য আমাদের আছে উন্নত প্রযুক্তি- সোলার প্যানেল। হিসাব করে দেখা গিয়েছে, কয়েকশত হাজার বর্গ কিলোমিটার জায়গা দখলকারী একটি সোলার প্যানেল পুরো পৃথিবীর শক্তি যোগানোর জন্য যথেষ্ট। তাহলে একটি প্রশ্ন মনের কোণায় উদয় হওয়া স্বাভাবিক, পুরো পৃথিবীর শক্তির যোগান দিতে কেন কেবলমাত্র সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হচ্ছে না?



এর পেছনে আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক বাধা, বৈজ্ঞানিক ও ভৌগলিক সীমাবদ্ধতা, শক্তির রূপান্তর ও পরিবহনগত সীমাবদ্ধতা। তবে এই উত্তর পাবার আগে আমাদের সোলার প্যানেলের কার্যপদ্ধতির দিকে নজর দেওয়া যাক। কিন্তু এখানে রাজনৈতিক বাধা আমাদের আলোচনার অংশ না। শুরুতেই খুব সংক্ষেপে দেখা যাক সোলার প্যানেল কীভাবে কাজ করে।

সোলার প্যানেলের মূল গাঠনিক একক হলো সোলার সেল বা সৌর কোষ, যার অপর নাম ফটোভোলটাইক সেল। ছোট ছোট অনেকগুলো সেল নিয়ে তৈরি হয় একটি সোলার মডিউল, আর অনেকগুলো মডিউল নিয়ে একটি প্যানেল। আবার এই সেলগুলোর মূল উপাদান হলো সিলিকন। ইলেকট্রনিক্স পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে জাদুর কাঠি বলা চলে এই সিলিকনকে। সিলিকনের অর্ধপরিবাহীতা ধর্মকে কাজে লাগানো হয় এসব ক্ষেত্রে। সোলার প্যানেলেও তার ব্যতিক্রম নয়।

ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট বা আলোকতড়িৎ ক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে সূর্যালোককে তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তর করা হলো এই সকল ফটোভোলটাইক সেলের কাজ। খুব সংক্ষেপে, সহজ ভাষায় আলোকতড়িৎ ক্রিয়া হলো, যখন কোনো আলোর কণা কোনো ধাতব পদার্থে পড়ে, তখন সেই আলোক কণার আঘাতে পদার্থের বহিঃস্তরের ইলেকট্রন নির্গমন ঘটে। এই ক্রিয়া ব্যাখ্যার জন্য ১৯২১ সালে অ্যালবার্ট আইনস্টাইনকে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়।

কিন্তু সোলার প্যানেলে এর কাজ কী? জটিল এই প্রক্রিয়াকে আরেকটু সহজ করে বলা যাক।

সিলিকন ক্রিস্টাল ব্যবহার করা হয় সোলার প্যানেল তৈরিতে। সিলিকন হলো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে এর তড়িৎ পরিবাহীতা বৃদ্ধি পায়। সিলিকনের সাথে কিছু নির্দিষ্ট মৌল ভেজাল হিসেবে মিশিয়ে p টাইপ (পজিটিভ টাইপ) ও n টাইপ (নেগেটিভ টাইপ) অর্ধ-পরিবাহীতে পরিণত করা হয়। সোলার প্যানেলের প্রত্যেকটি সেলে p টাইপ ও n টাইপ অর্ধপরিবাহী সিলিকনকে স্যান্ডউইচের মতো স্তরে স্তরে স্থাপন করে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। স্বাভাবিকভাবে এরা সাম্যাবস্থায় থাকে। ফলে এর মাঝে বিদ্যুৎ চলাচল করে না।

কিন্তু যখন আলোর কণা, ফোটন এসব সেলে এসে পড়ে, তখন আলোকতড়িৎ ক্রিয়ার ফলে ফোটনের আঘাতে সিলিকনের ইলেকট্রনগুলোর বন্ধন থেকে ছুটে যায়। ক্রমাগত ফোটনের আঘাতের ফলে p-n জাংশনে বিভব পার্থক্য থেকে তড়িৎক্ষেত্র সৃষ্টি হয়, যা থেকে বিদ্যুৎপ্রবাহ ঘটে। এই তড়িৎপ্রবাহ হয় একমুখী, যা প্যানেলের সাথে যুক্ত তারের মাধ্যমে প্রবাহিত করে সংরক্ষণ করা হয়।

নিঃসন্দেহে এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া শতভাগ পরিবেশ বান্ধব এবং পরিমাণে অফুরন্ত। আলো আর ইলেকট্রনই যখন এই প্রক্রিয়ার মূল চাবিকাঠি, তখন তা অতিরিক্ত টেকসই হওয়াটাই স্বাভাবিক। ১২টি সোলার সেল একটি মোবাইল ফোন চার্জ দেয়ার জন্য যথেষ্ট, যেখানে একটি পুরো বাড়ির জন্য প্রয়োজন কয়েকটি মডিউল। আর পুরো পৃথিবীকে পরিচালিত করতে মাত্র ৪,৯৬,৮০৫ বর্গ কিলোমিটার বিশিষ্ট সোলার প্যানেল স্থাপন করা প্রয়োজন, যেখানে সাহারা মরুভূমিই আয়তনে ৯.২ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার।

তবে এই স্বপ্ন-প্রকল্প বাস্তবায়নে কীসের এত বাধা?

১৯৫৮ সালে সোলার প্যানেল সর্বপ্রথম ব্যবহার করা হয় ইউএস ভ্যানগার্ড-১ স্যাটেলাইটটিতে। সেসময় খরচ পড়তো প্রতি ওয়াটে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। আর বর্তমান সময়ে খরচের পরিমাণটা প্রতি ওয়াটে মাত্র কয়েক টাকা। গত ৬০ বছরে এই প্রযুক্তির পরিবর্তনটা না হয় মনে মনেই হিসাব করুন। কিন্তু হিসাবটা যখন পুরো পৃথিবীর তখন কল্পনাটা বাস্তবতার কাছে দুর্বল হয়ে যায়।

সূর্যের আলো পৃথিবীর সব স্থানে সমানভাবে পড়ে না। তাছাড়া রাতেও সূর্যের আলো থাকে না। সোলার প্যানেলের প্রধান শত্রু বৈরী আবহাওয়া এবং মেঘে ঢাকা দিন। অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দিনের পর দিন সূর্যের দেখা মেলে না অনেক সময়। বর্ষা এবং শীতপ্রধান অঞ্চলে এই সমস্যা আরো প্রকট। সেসব অঞ্চলে সোলার প্যানেল খুব একটা কাজে আসবে না। এছাড়াও আছে ভৌগলিক অবস্থানগত সীমাবদ্ধতা। কিছু কিছু অঞ্চল সারাবছর রৌদ্রজ্জ্বল থাকলেও মেরু অঞ্চল সারাবছর থাকে বরফে ঢাকা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মেরু অঞ্চলে সোলার প্যানেল বসানোটা কতটা লাভজনক এই প্রশ্ন করাটা রীতিমতো হাস্যকর হয়ে দাঁড়াবে।

আবার সোলার প্যানেল নিজেই এর প্রসারের পথে অন্তরায়। এখন পর্যন্ত বাজারের সোলার প্যানেলগুলোর গড় কর্মদক্ষতা ১৫-২০ শতাংশ। অর্থাৎ কেবল একটি প্যানেল সূর্যের আলোক রশ্মির মাত্র ১৫-২০ শতাংশ শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত চল্লিশ শতাংশের বেশি কর্মদক্ষতা সম্পন্ন প্যানেল তৈরি করতে পেরেছেন। তবে সেই প্রযুক্তি বিশিষ্ট সোলার প্যানেলের বাজারে আনলে তার দাম হবে আকাশচুম্বী।

সোলার প্যানেল থেকে সাধারণত দুভাবে শক্তি উৎপাদন সম্ভব। প্রথমত, বাসা বা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে, দ্বিতীয়ত, সোলার ফার্ম স্থাপন করে গ্রিডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলে সরবরাহ করে। কিন্তু এই উৎপাদিত বিদ্যুৎ পরিবহনে তারের মাধ্যমে অপচয় ঘটে দশ শতাংশ বা তার থেকেও বেশি। তাই আপনি যদি ভেবে থাকেন কেবল সাহারা থেকেই সারা পৃথিবীর শক্তি যোগানো সম্ভব তাহলে সেই ভাবনা বাদ দিতে হচ্ছে। কারণ তার জন্য আমরা এখনো প্রস্তুত নই প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক দিকে থেকে।

তাই সাহারা থেকে কয়েক হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এত বিদ্যুৎ অপচয় করাটা কখনোই সাশ্রয়ী সমাধান নয়। এর সমাধানে আমাদের দরকার অতিপরিবাহী পদার্থ, যাতে কোনো রকম অপচয় না ঘটে। তবে দুঃখের বিষয়, এই প্রযুক্তি এখনো আমাদের নাগালের অনেক বাইরে। এখানেই শেষ নয়, আদতে সোলার প্রযুক্তির যে উন্নতি ঘটেছে গত অর্ধ শতাব্দীতে, তাতে এই স্বপ্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ বহুগুণে বেশি। সোলার প্যানেল প্রস্তুতিকরণে মূল্য যে হারে হ্রাস পেয়েছে, সেই হারে সোলার প্যানেল চালিত বিদ্যুৎ পরিবহনের মূল্য হ্রাস পায়নি।

পুরোপুরিভাবে সোলার প্যানেলের উপর নির্ভরশীল হতে গেলে অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে ব্যাপকভাবে। শুরুতেই লাগবে কার্যকর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন স্টোরেজ। বর্তমানে এর জন্য আমাদের উন্নত প্রযুক্তির লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি আছে, কিন্তু এর ধারণক্ষমতা প্রতি কেজিতে ২.৫ মেগাজুল, যা গ্যাসোলিনের থেকে বিশ শতাংশ কম। একটি জেট প্লেন চালাতে প্রয়োজন পড়বে ১০০ টনের লিথিয়াম ব্যাটারি। সুতরাং, উচ্চ শক্তি-ঘনত্ব ও ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি তৈরি থেকে আমরা যে অনেকটা পিছিয়ে আছি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়া পেট্রোলচালিত সব যানবহনের পরিবর্তে বিদ্যুতচালিত যানবাহনের প্রচলন ঘটাতে দরকার হবে প্রচুর পরিমাণ বিনিয়োগের, যাতে লেগে যেতে পারে কয়েক দশক। রাতারাতি তাই এই বিপ্লব ঘটানো সম্ভব নয়।

উন্নয়নশীল এবং দরিদ্র দেশগুলোর জন্য এই পরিবর্তন রীতিমতো এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত একটি দেশে এই পরিবর্তন আনতে লেগে যেতে পারে কয়েক বছর, সেখানে দরিদ্র, স্বল্পোন্নত কিংবা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য তা কয় দশক লাগবে সেটা আরেক প্রশ্নের দাবিদার।

কিন্তু এত সীমাবদ্ধতা থাকার পরও আমাদের যে প্রযুক্তি আছে তাতেই পুরো পৃথিবীর জৈব জ্বালানী নির্ভরশীলতা অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া পরীক্ষাগারে বিজ্ঞানীগণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আরো কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য। এলন মাস্কের সোলার সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে যাচ্ছে একটি সবুজ পৃথিবী উপহার দেবার জন্য। আমাদের অদূর ভবিষ্যতের কল্পনাও থেমে নেই যেখানে ভাসমান সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সৌরশক্তি সংগ্রহ করা হবে মহাকাশ থেকে। আর বিদ্যুৎ পরিবহন হবে তার ছাড়াই। কিংবা ব্ল্যাকবডি রেডিয়েশন থেকে সংগ্রহ করা হবে শক্তি।

কেবলমাত্র বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলেই ৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি বাড়িতে সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হয়। সারা পৃথিবীব্যাপী এই সংখ্যাটা ১.৩ বিলিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে যাচ্ছে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের জ্বালানীর ৩০ শতাংশ সোলার প্যানেল থেকে ব্যয় করার জন্য। আর ২০২০ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ২৩.৫ শতাংশ করার জন্য, যেখানে আইসল্যান্ড, কোস্টারিকা, আলবেনিয়া, প্যারাগুয়ে, ইথিওপিয়ায় শতভাগের থেকে কিছুটা কম শক্তি আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে।

Source: https://roar.media/bangla/main/science/why-we-not-only-use-the-solar-panels-to-power-the-whole-world/

14
শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করবে ফেসবুক

২০২০ সালের শেষ নাগাদ গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন ৭৫ শতাংশ কমাবে ফেসবুক। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী নিজস্ব পরিচালন ব্যবস্থায় বিদ্যুতের উৎস হিসেবে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার করবে। সম্প্রতি ফেসবুকের পক্ষ থেকে এমনটাই ঘোষণা দেয়া হয়েছে। খবর ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস।

ফেসবুক এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, করপোরেট নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্রয়ে একটি রেকর্ড বছর পার করেছে ফেসবুক। এখন তারা করপোরেট প্রতিষ্ঠানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হওয়ার পথে রয়েছে। তারা তিন গিগাওয়াটের বেশি সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে সই করেছে। এরই মধ্যে এক বছরে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ ক্রয় করা হয়েছে।

গুগল, অ্যাপল, অ্যামাজনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির বৈশ্বিক তথ্যকেন্দ্র ও অফিসগুলোয় প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন পড়ে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এ চাহিদা মেটাতে এখন নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে ঝুঁকছে। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রযুক্তি কোম্পানি শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। গত জুনে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক স্যামসাং ইলেকট্রনিকস যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২০ সাল নাগাদ স্যামসাং তাদের সব ধরনের কার্যক্রমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপলের পাশাপাশি সিলিকন ভ্যালির ডজনখানেক প্রযুক্তি কোম্পানি এরই মধ্যে তাদের শতভাগ কার্যক্রম নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। এবার সে তালিকায় নাম লেখাল ফেসবুক।

ফেসবুকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ সব কার্যালয়ের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অর্ধেক নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য ঠিক করেছিল ফেসবুক। তবে নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ফেসবুক দাবি করেছে, ২০১৭ সালের মধ্যেই কার্যালয়গুলোয় তারা ৫১ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করতে পেরেছে।

গত বছর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সহায়তার অঙ্গীকার করেছে ফেসবুক। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্যারিস চুক্তিকে সমর্থন জানিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যমটি। ধারণা করা হচ্ছে, গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি তারই অংশ।

শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বিষয়ে ফেসবুকের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। ফেসবুকের এমন উদ্যোগের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গের প্রশংসা করেছেন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের জ্যেষ্ঠ করপোরেটে ক্যাম্পেইনার গ্যারি কুক। তিনি বলেন, ফেসবুকের মতো অন্য কোম্পানিগুলোকেও গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জোর দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিপর্যয় এড়াতে এর কোনো বিকল্প নেই।

গত বছর ক্লাইমেট হোম নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব ক্রমেই ডিজিটালাইজেশনের দিকে যাচ্ছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে স্মার্টফোন, ট্যাবলেটসহ অন্যান্য ইন্টারনেট সংযুক্ত ডিভাইস বিশ্বের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভূমিকা রাখবে। ২০৪০ সালের মধ্যে তা ১৪ শতাংশে পৌঁছবে।

বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের প্রসার ঘটছে। এর ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েই চলছে। এ কারণে বিভিন্ন পরিবেশবিষয়ক সংগঠন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের জন্য নবায়নযোগ্য উেসর ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন পরিবেশবাদীরা। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ প্রচলিত উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে নবায়নযোগ্য উেসর দিকে জোর দিতে শুরু করছে। এ খাতে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগও করছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এমন পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Source: http://bonikbarta.net/bangla/news/2018-08-31/169035/%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97-%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95/

15
গুগল ট্র্যাকিং থেকে নিষ্কৃতি প্রায় অসমম্ভব

কৌশলে গ্রাহক তথ্য সংগ্রহ করছে টেক জায়ান্ট গুগল। এ কাজে এতটাই দক্ষতার পরিচয় দেয়া হচ্ছে যে, স্বাভাবিক অনলাইন কার্যক্রমেও কেউ নিজেকে গুগলের নজরদারি থেকে দূরে রাখতে পারবে না। অর্থাৎ অনলাইন সেবা ব্যবহারের সময় গুগল ট্র্যাকিংয়ের হাত থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখা প্রায় অসম্ভব। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক ডগলাস শ্মিট পরিচালিত ৫৫ পৃষ্ঠার গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, গুগল মোবাইল ডিভাইস অপারেটিং সিস্টেম বাজারে অ্যান্ড্রয়েড দিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে। বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহে জনপ্রিয় এ অপারেটিং সিস্টেমকে কাজে লাগানো হচ্ছে। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ক্রোম ব্রাউজারের সহায়তায় প্রতি ঘণ্টায় ১৪ বার একজন গ্রাহকের তথ্য গুগলের সার্ভারে প্রেরণ করে।

গুগল ট্র্যাকিংয়ের হাত থেকে নিজেকে আড়াল করতে অ্যান্ড্রয়েডচালিত বা গুগলের ডিভাইস কিংবা সেবা ব্যবহার ছেড়ে দিলে ডাটা সংগ্রহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়ে। তবে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন খাতে একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে কিছু তথ্যে গুগলের প্রবেশাধিকার থেকেই যায়।

গুগল তথ্য সংগ্রহে যেসব কৌশল অবলম্বন করে সেগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। গুগল ম্যাপ, হ্যাংআউটস চ্যাট ও ইউটিউবের পাশাপাশি ডাবলক্লিক বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গুগলের এসব পণ্য বিভিন্ন কৌশলে গ্রাহক তথ্য সংগ্রহ করে, যা সাধারণ একজন গ্রাহকের পক্ষে শনাক্ত করা সম্ভব নয়।

ডগলাস শ্মিট গবেষণা প্রতিবেদনটির সমাপ্তিতে লিখেছেন, গুগলের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অধিকাংশ সময় সংঘটিত হয়, যখন কেউ সরাসরি এর কোনো পণ্যের সঙ্গে জড়িত থাকে না।

সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারী প্রত্যেকের লোকেশন ডাটা বা অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহ করে গুগল। প্লাটফর্মটির গ্রাহকরা গোপনীয়তা রক্ষায় ডিভাইসের লোকেশন হিস্ট্রি ফিচার বন্ধ রাখলেও কৌশলে তাদের অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গোপনে অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহের এ কৌশলকে বলা হয় ‘ডার্ক প্যাটার্ন’। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের ভুল পথে চালিত করে তাদের তথ্যে নিয়ন্ত্রণ রাখছে গুগল। নতুন গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য এপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্যকে আরো জোরালো করল।

গুগলের পক্ষ থেকে নতুন গবেষণা প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গবেষণা প্রতিবেদনটি একটি লবিস্ট গ্রুপ দ্বারা অনুমোদিত এবং লিখেছেন এমন এক ব্যক্তি, যিনি কিনা ওরাকল ও গুগলের মধ্যে চলমান পেটেন্ট দ্বন্দ্বের প্রত্যক্ষদর্শী। কাজেই প্রতিবেদনটিতে বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকা অস্বাভাবিক নয়।

অবশ্য এপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়টি গুগলের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ স্বীকার করে নেয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে বলা হয়, এসব তথ্য বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার কিংবা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় না।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, গুগলের এ ধরনের চর্চা বেশ ভয়ানক। কারণ ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় যেকোনো সতর্কতা অবলম্বন করলেও ডিভাইস ইন্টারনেটে যুক্ত করলে অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার অবস্থানগত তথ্য নিরবচ্ছিন্নভাবে গুগলে পাঠাতে থাকে। এটি এমন এক ফিচার, যা গ্রাহককে না জানিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারী চাইলেও এ কার্যক্রম থেকে রেহাই পাবে না। কারণ লোকেশন ট্র্যাকিং ফিচার বন্ধ রাখলেও তাদের অবস্থানের তথ্য গুগলের কাছে চলে যাবে। অবস্থান ও পরিচয়সংক্রান্ত ডাটার ব্যবহার বা অপব্যবহার দুটোই হতে পারে বলে মত দিয়েছেন তারা।

Source: http://bonikbarta.net/bangla/news/2018-08-26/168509/%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A6%B2-%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%82-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%AC/

Pages: [1] 2 3 ... 13