Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Anuz

Pages: [1] 2 3 ... 39
1
আগস্ট শেষে সোনালী ব্যাংকের আমানত ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে তা নেমে এসেছে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ শুধু সেপ্টেম্বরেই প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার আমানত হারিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি। যদিও ১ লাখ ৬ হাজার ৪২২ কোটি টাকার আমানত নিয়ে ২০১৮ সাল শুরু করেছিল সোনালী ব্যাংক। আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের জুন শেষে আমানত ছিল ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এ সপ্তাহে ব্যাংকটির আমানত ৩৩ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এ হিসাবে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আমানত কমেছে রূপালী ব্যাংকের।

সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত আরো দুই ব্যাংক জনতা ও অগ্রণীরও আমানতে টান পড়তে শুরু করেছে। ঋণ ও আমানতের সুদহারে নৈরাজ্যের কারণে গত তিন মাসে ২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আমানত হারিয়েছে জনতা ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকও রয়েছে একই কাতারে। সব মিলিয়ে গত তিন মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান চারটি ব্যাংক ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত হারিয়েছে। আমানতের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির হিসাব গণনায় ধরলে চলতি বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত হারিয়েছে ব্যাংকগুলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো আমানত হারিয়েছে। বিএবি ও সরকারের যৌথ সিদ্ধান্ত ছিল, তিন মাস মেয়াদি আমানতের সুদহার ৬ শতাংশের বেশি হবে না। যদিও বেসরকারি ব্যাংকগুলো এ সিদ্ধান্ত মানেনি। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ আমানত বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্তও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বিরুদ্ধে গেছে।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আমরা ৬ শতাংশের বেশি সুদে আমানত নিইনি। এ সুযোগে বেসরকারি ব্যাংকগুলো সুদহার বেশি দিয়ে আমাদের আমানতে টান দিয়েছে। সুদহার নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত জনতা ব্যাংক ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত হারিয়েছে। আইন সবার জন্য সমান হওয়া দরকার। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্তেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। হিসাব করলে দেখা যাবে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের অর্ধেকের বেশি বেসরকারি ব্যাংকে চলে গেছে। কোনোভাবেই এটি প্রত্যাশিত নয়। ৬৪ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা আমানত নিয়ে ২০১৮ সাল শুরু করেছিল জনতা ব্যাংক। গত জুন শেষে আমানতের এ পরিমাণ ৬৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এর পর থেকেই ব্যাংকটির আমানত কমতে শুরু করে। গত সপ্তাহে জনতা ব্যাংকের আমানত ৬৩ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অথচ চলতি বছরের মধ্যেই ব্যাংকটির আমানত ৭০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

জনতা ব্যাংকের হিসাবে গত তিন মাসে তারা ২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আমানত হারিয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য ব্যাংকেও জনতা ব্যাংকের আমানত গেছে। আমানতের স্বাভাবিক প্রবাহ থাকলে সেপ্টেম্বর মাসেই ব্যাংকটির আমানত ৬৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা। গত সপ্তাহ শেষে জনতা ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম ছিল ৪৮ হাজার কোটি টাকা। ৩১ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকার আমানত নিয়ে ২০১৮ সাল শুরু করেছিল রূপালী ব্যাংক। ছয় মাস পর গত জুনে ব্যাংকটির আমানত বেড়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এরপর থেকে আমানত কমতে শুরু করে। গত সপ্তাহে রূপালী ব্যাংকের আমানত ৩৩ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। একই সময়ে ব্যাংকটির ঋণ ও অগ্রিম দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আতাউর রহমান প্রধান বলেন, সুদহারে বিশৃঙ্খলার কারণে গত তিন মাসে রূপালী ব্যাংকের ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত কমেছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো বেঁধে দেয়া সুদহার মানেনি। এ কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে আমানত বেরিয়ে গেছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের আমানত ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। এরপর বছরের প্রথম ছয় মাসে হ্রাস-বৃদ্ধির মধ্যেই ছিল ব্যাংকটির আমানত। গত আগস্টে সোনালী ব্যাংকের আমানত ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। চলতি মাসের মধ্যেই প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার আমানত হারিয়ে চলতি সপ্তাহে তা ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। একই সময়ে ব্যাংকটির বিনিয়োগ ছিল ৪২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। সুদহারে অস্থিরতার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আমানত হারিয়েছে বলে জানান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শামস-উল-ইসলাম। তিনি বলেন, বিএবি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত সবাই মেনে চললে আমানত নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হতো না। গভর্নরও চান, তিন মাস মেয়াদি আমানতের সুদহার ৬ শতাংশের বেশি না হোক। সবার সিদ্ধান্ত মেনে চলা দরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকই শুধু নয়, চলতি বছরের জুনের তুলনায় জুলাই মাসে পুরো ব্যাংকিং খাতেই আমানত কমেছে। যদিও দেশের ব্যাংকিং খাতে সবসময়ই ধারাবাহিকভাবে আমানত বেড়ে আসছিল। জুন শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানতের পরিমাণ ছিল (আন্তঃব্যাংক আমানত ছাড়া) ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। জুলাই শেষে তা ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানত কমেছে দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।আমানতের পাশাপাশি গত জুলাই মাসে ব্যাংকিং খাতের বিতরণকৃত ঋণও কমেছে। জুন শেষে ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। জুলাই শেষে এর পরিমাণ ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকিং খাতে ঋণ কমেছে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ।

আমানত ও ঋণের সুদহার যথাক্রমে ৬ ও ৯ শতাংশ ঘোষণার পর থেকেই ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ কমিয়ে এনেছে বলে অভিযোগ ছিল। কোনো কোনো ব্যাংক ঋণ বিতরণ বন্ধ রেখে আমানতের পেছনে ছুটছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ পরিসংখ্যান সে অভিযোগেরই সত্যতা নিশ্চিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আমানত অন্তত আমার ব্যাংকে আসেনি। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ আমানত বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছিল। এ সিদ্ধান্তের পরও আমরা খুব বেশি আমানত পাইনি। ব্যাংক আমানতের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের সুদহার প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় মানুষ গণহারে সঞ্চয়পত্র কিনছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আমানত সঞ্চয়পত্র কেনায় ব্যয় হতে পারে। ব্যাংকগুলোর হাতে বিনিয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত আমানত না থাকায় বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই থেকে ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাবে— এমন ঘোষণা ছিল অর্থমন্ত্রী, বিএবি, এবিবিসহ ব্যাংকসংশ্লিষ্টদের। এরপর ঘোষিত সুদহার বাস্তবায়নের সময়সীমা কয়েক দফায় পিছিয়েছে। সর্বশেষ ২ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ৯ আগস্ট থেকে নতুন সুদহার কার্যকর হবে। যদিও এখন পর্যন্ত ঋণের সুদহার ৯ ও আমানতের ৬ শতাংশ সুদ বাস্তবায়ন ঘোষণাতেই থেকে গেছে।

2
Brain / ব্রেন স্ট্রোক কেন হয়?
« on: September 19, 2018, 12:55:53 PM »
আপনি কি ধূমপান করেন? ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় আছে? অবসাদে ভুগছেন? তা হলে সাবধান থাকুন। কারণ, বিশেষজ্ঞদের মতে এগুলি স্ট্রোক বা ব্রেন স্ট্রোকের আশঙ্কা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। আসুন প্রথমে জেনে নিই ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কি কি-

১) হাত-পায়ে অবশ ভাব

২) জুতোর ফিতে বাঁধতে সমস্যা

৩) মুখের অসাড়তা, কথা জড়িয়ে যাওয়া

৪) বেসামাল হাঁটা-চলা

৫) ঘাড়ে-মাথায় যন্ত্রণা, বমি, সংজ্ঞা হারানো

মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়ে আক্রান্ত অংশের কোষ নষ্ট হওয়াকে স্ট্রোক বা ব্রেন স্ট্রোক বলে আখ্যায়িত করা হয়। বর্তমান বিশ্বে স্ট্রোক মানুষের মৃত্যুর চতুর্থ কারণ হিসাবে গণ্য হয়ে থাকে।
প্রাথমিক অবস্থায় কারও স্ট্রোক দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত, তা না হলে রোগীর মস্তিষ্কের বেশি অংশ নষ্ট হয়ে জটিল আকার ধারণ করতে পারে অথবা রোগীর দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা মৃত্যু ঘটতে পারে। মস্তিষ্কের রক্তনালি বন্ধ হয়ে ইসকেমিক স্ট্রোক হতে পারে অথবা রক্তনালি ফেটে গিয়েও হিমোরজিক স্ট্রোক হতে পারে। অল্প সময়ের (পাঁচ মিনিটের কম সময়ে) জন্য অজ্ঞান হওয়া, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, কথা বলতে সমস্যা, শরীরের কোনো অংশ অবস হয়ে যাওয়া এবং পাঁচ থেকে দশ মিনিটের রোগীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসাকে মিটি স্ট্রোক বলা হয়। এ অবস্থাকে অবজ্ঞা না করে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। অধিক পরিমাণে লবন খাওয়া, চর্বি খাওয়া এবং রক্তে অতিমাত্রায় কোলেস্টেরলের উপস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিকস ও উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি করে। আমাদের দেশে স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ৬০-৭০ ভাগ রোগী অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের জটিলতা হিসেবে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে থাকে। যদিও স্ট্রোকের সঠিক কারণ নির্ণয় করা এখনো সম্ভব হয়নি। তবে বেশকিছু শারীরিক অবস্থা স্ট্রোকের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেমন- শারীরিক কর্মতৎপরতার অভাব, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপে, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিকস বিদ্যমান থাকা, বংশগতভাবে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া ইতিহাসে বিদ্যমান। অতিমাত্রায় মদ্যপান ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ হার্টের ভাল্বে সমস্যা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, ইতিপূর্বে মিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া।

প্রতিকার : শারীরিক কর্মতৎপরতা সম্পন্ন করা, ধূমপান ত্যাগ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিকস কন্ট্রোল ও অধিক পরিমাণ লবণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা।

চিকিৎসা : মিনি স্ট্রোক ছাড়া ইসকেমিক ও হিমোরজিক স্ট্রোকে রোগীদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অথবা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অতীব জরুরি। রোগী অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপে বিদ্যমান থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য চিকিৎসা প্রদান করা জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য ইনসুলিন জাতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা শ্রেয়। রোগীকে দীর্ঘমেয়াদি অথবা তা থেকে মুক্ত রাখতে প্রদাহ প্রতিরোধক চিকিৎসা, স্ট্রোকের অনেক রোগী খাদ্য গ্রহণে অসমর্থ হয়ে পড়ে, তাদের ইনজেকশন বা নাকে নল দিয়ে খাদ্য গ্রহণের ব্যবস্থা করা। তাই ব্রেন স্ট্রোক নিয়ে আরও সচেতন হতে হবে।

3
বাজারের সবজি তে অনেক সময় বিভিন্ন রাসায়নিক এবং কীটনাশক থাকে যা আমাদের জন্য খুব ক্ষতিকর। বিশেষ করে যেসব ফল বা সবজি খোসাসহ খাওয়া হয়, সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। অন্যদিকে, খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া হয় যেসব ফল (যেমন আম) এগুলোকেও ভালোভাবে ধোয়া জরুরী কারণ কাটার সময়ে ভেতরে ময়লা চলে যেতে পারে। তবে একেবারে ঘরোয়া কিছু উপাদান ব্যবহার করে ফল বা সবজি থেকে আপনি ময়লার পাশাপাশি কীটনাশকও দূর করতে পারেন। জেনে নিন এমন কিছু প্রণালী।

১. বেরি ওয়াশ

যা যা লাগবে
৪ কাপ পানি
১/২ টেবিল চামচ সাদা ভিনেগার
এই দুইটি উপকরণ একটি বাটিতে মিশিয়ে নিন। এতে স্ট্রবেরি, আঙ্গুর, জাম এ জাতীয় ফল ভিজিয়ে রাখুন। কিন্তু ৫ মিনিটের বেশি সময় ভিজিয়ে রাখবেন না। উঠিয়ে ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ফ্রিজে রাখার আগে শুকিয়ে নিন।

২. সল্ট ওয়াশ
যা যা লাগবে
বড় এক বাটি পানি
৪ টেবিল চামচ লবণ
অর্ধেকটা লেবুর রস
সব উপকরণ বাটিতে মিশিয়ে নিন। এরপর এতে সবজি ভিজিয়ে রাখুন কয়েক মিনিট। এরপর উঠিয়ে ধুয়ে নিন।

৩. ভিনেগার ওয়াশ
যা যা লাগবে
৩ কাপ পানি
১ কাপ ভিনেগার
১ টেবিল চামচ লবণ
একটি বড় বাটিতে সব উপকরণ মিশিয়ে কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রাখুন সবজি। এরপর ধুয়ে নিন, অনেক সময়ে শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, ধনেপাতায় পোকা থাকে। ভিনেগার এসব পোকা দূর করে। আর আমাশার ব্যাকটেরিয়ার মত ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংসে কাজ করে লবণ। এই দুইটি পদ্ধতি এক্ষেত্রে উপকারি। ধুয়ে নিয়ে এরপর ভালো করে শুকিয়ে ফ্রিজে রাখুন।

৪. ফল ও সবজি পরিষ্কারের স্প্রে
যা যা লাগবে
দেড় থেকে দুই কাপ পানি
২ টেবিল চামচ সাদা ভিনেগার
২ টেবিল চামচ লেবুর রস
১০ ফোঁটা গ্রেপফ্রুট এক্সট্রাক্ট ( এটা ইচ্ছে হলে দিতে পারেন)
সব উপকরণ মিশিয়ে স্প্রে বোতলে নিয়ে রাখুন। মাশরুম ছাড়া অন্যান্য সবজি ও ফলে স্প্রে করুন, কয়েক মিনিট রেখে ভালো করে ঘষে ধুয়ে ফেলুন।

4
চিকিৎসার ক্ষেত্রে যেসব ঔষধি গাছ প্রাচীন কাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে তার মধ্য পাথরকুচি অন্যতম। এটি দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু হয়। পাতা মাংসল ও মসৃণ, আকৃতি অনেকটা ডিমের মতো। পাথরকুচি পাতা মাটিতে ফেলে রাখলেই অনায়াসে চারা পাওয়া যায়।

ভেষজ চিকিৎসার মধ্যে এটি অন্যতম উপকারী। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদেন মতে, পাথরকুচি পাতা কিডনি রোগসহ বিভিন্ন রোগের বিশেষ উপকারে আসে।

১. কিডনির পাথর অপসারণ
পাথরকুচি পাতা কিডনি এবং গলগণ্ডের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে। দিনে দুবার ২ থেকে ৩টি পাতা চিবিয়ে অথবা রস করে খান।

২. পেট ফাঁপা
অনেক সময় দেখা যায় পেট ফুলে গেছে, প্রসাব আটকে আছে, আধোবায়ু, সরছে না, সেই ক্ষেত্রে একটু চিনির সাথে এক বা দুই চা-চামচ পাথর কুচির পাতার রস গরম করে সিকি কাপ পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ালে পেট ফাঁপা কমে যাবে।

৩. মেহ
সর্দিজনিত কারণে শরীরের নানান স্থানে ফোঁড়া দেখা দেয়। যাকে মেহ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে পাথরকুচির পাতার রস এক চামুচ করে সকাল-বিকাল একসপ্তাহ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৪. রক্তপিত্ত
পিত্তজনিত ব্যথায় রক্তক্ষরণ হলে দু’বেলা এক চা-চামচ পাথর কুচির পাতার রস দুদিন খাওয়ালে সেরে যাবে।

৫. মৃগী
মৃগী রোগাক্রান্ত সময়ে পাথর কুচির পাতার রস ২-১০ ফোঁটা করে মুখে দিতে হবে। একটু পেটে গেলেই রোগের উপশম হবে।

৬. সর্দি
সর্দি পুরান হয়ে গেছে, সেই ক্ষেত্রে এটি বিশেষ উপকারী। পাথরকুচি পাতা রস করে সেটাকে একটু গরম করতে হবে এবং গরম অবস্থায় তার সাথে একটু সোহাগার খৈ মেশাতে হবে। তিন চা-চামচের সাথে ২৫০ মিলিগ্রাম যেন হয়। তা থেকে দুই চা চামচ নিয়ে সকালে ও বিকালে দুবার খেলে পুরান সর্দি সেরে যাবে এবং সর্বদা কাশি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

৭. শিশুদের পেট ব্যথায়
শিশুর পেটব্যথা হলে, ৩০-৬০ ফোঁটা পাথর কুচির পাতার রস পেটে মালিশ করলে ব্যথার উপশম হয়। তবে পেট ব্যথা নিশ্চিত হতে হবে।

৮. ত্বকের যত্ন
পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। সাথে সাথেই এর মধ্যে জ্বালাপোড়া কমানোর ক্ষমতা থাকে। যারা ত্বক সম্বন্ধে সচেতন, তারা পাথরকুচি পাতা বেটে ত্বকে লাগাতে পারেন। ব্রণ ও ফুস্কুড়ি জাতীয় সমস্যাও দূর হয়ে যাবে।

৯. কাটাছেঁড়ায়
টাটকা পাতা পরিমাণ মত হালকা তাপে গরম করে কাটা বা থেতলে যাওয়া স্থানে সেক দিলে আরাম পাওয়া যায়।

১০. পাইলস
পাথরকুচি পাতার রসের সাথে গোল মরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস্ ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১১. জন্ডিস নিরাময়ে
লিভারের যেকোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী।

১২. কলেরা, ডাইরিয়া বা রক্ত আমাশয়
তিন মিলিলিটার পাথরকুচি পাতার জুসের সাথে ৩ গ্রাম জিরা এবং ৬ গ্রাম ঘি মিশিয়ে কয়েক দিন খেলে এসব রোগ থেকে উপকার পাওয়া যায়।

১৩. শরীর জ্বালাপোড়া
দু-চামচ পাথর কুচি পাতার রস, আধা কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দুবেলা খেলে উপশম হয়।

১৪. পোকা কামড়
বিষাক্ত পোকায় কামড়ালে এই পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

১৫. উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মুত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা মুক্তি দেয়।

5
পেটে মেদ বা চর্বি হলে চলা-ফেরায় যেমন কষ্ট হয়, তেমনি নষ্ট হয় সৌন্দর্যও। অনেকে আছেন খুব বেশি মোটা না কিন্তু পেটে অনেক মেদ কিংবা দেহের কিছু কিছু স্থানে মেদ জমায় খুবই অস্বস্তি বোধ করেন। কোনো ভালো পোশাক পড়লেও ভালো লাগে না। ফলে মেদ কমাতে কতই না চেষ্টা করি আমরা। জিম, যোগব্যায়াম, ডায়েটিং, ক্ষতিকারক পানীয় বাদ দেওয়াসহ সব চেষ্টাই চলে। তবে এত কষ্ট না করেই ঘরোয়া উপায়েই এই মেদ সমস্যার সমাধান সম্ভব। সেক্ষেত্রে রান্নায় ব্যবহৃত মেথি সহজেই শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে সুন্দর একটা আকার দেয়।

কিন্তু মেথিকে ঠিক কী উপায়ে ব্যবহার করলে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরে ব্যক্তিকে সুন্দর করে তুলবে সেটা জানা জরুরি। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো :

মেথি চা : চা তো প্রতিদিনই খাওয়া হয়। তবে এবার সেই চায়েই যোগ করুন কয়েকটা মেথির বীজ। হজমশক্তি তো বাড়বেই, সঙ্গে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণ হবে। তবে স্বাদ পেতে চায়ে এলাচ বা আদা দেওয়া যেতে পারে। এটা বানাতে মেথিবীজ বাড়িতেই বেঁটে নিতে হবে। এ বার পানি ফুটিয়ে তাতে সেই পেস্ট মেশাতে হবে। এবার এতে চা যোগ করে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর খালি পেটে এমন চা খেলে মেদ ঝরবে খুব সহজেই।

মেথি-পানি : পুরনো আমলের মানুষরা পেট গরম হলেই মেথির পানি খাওয়ার পরামর্শ দিতেন। পেট ঠান্ডা করার পাশাপাশি এটি কিন্তু খিদেও কমায়। খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায় বলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে এই পানীয়। এক কাপ মেথি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে তা সকালে ছেঁকে নিয়ে খেতে হবে।

অঙ্কুরিত মেথি: ভিটামিন ও নানা খনিজে পূর্ণ মেথিবীজ আরও এক উপায়ে খাওয়া যেতে পারে। যদিও তা একটু সময়সাপেক্ষ। একটা পাত্রে মেথিবীজ নিয়ে তার উপর একটা ভিজে কাপড় ঢাকা দিয়ে রাখুন। মাঝে মাঝেই কাপড়টিতে পানি দিন। দিন তিনেক পর মেথি বীজের অঙ্কুরোদ্গম হবে। এই অঙ্কুরিত মেথি খেলে তা খুব সহজেই কমিয়ে দেবে শরীরের মেদ।

মেথি গুঁড়ো : মেথিতে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় ক্যারোটিনয়েড, যা দ্রুত ওজন কমাতে সক্ষম। বাজারে মেথি গুঁড়োর উপর ভরসা না করে, বাড়িতেই শুকনো খোলায় মেথি ভেজে গুঁড়িয়ে নিন। এরপর তা গরম পানিতে মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। এই পানিতে লেবু ও মধুও মেশানো যেতে পারে। মেথিগুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন তরকারিতেও। এতে সহজেই কমবে পেটের মেদ।

6
তিতকুটে স্বাদের জন্য করলা খেতে অনেকেই পছন্দ করেন না। কিন্তু স্বাদ যেমনই হোক না কেন এই সবজিটির গুণের শেষ নেই। এ কারণে বিভিন্ন স্মুদি ও সবজির জুসের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির জন্য করলা মেশানো হয়ে থাকে। রান্না করা ছাড়াও কাঁচা করলার রস এবং চা স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  শুকনো করলার টুকরাকে সাধারণত পানিতে ভিজিয়ে রেখে তিতকুটে স্বাদের করলা চা তৈরি করা হয়। এই চা করলার পাতা, ফল এবং বীজ দিয়েও তৈরি করা যায়।

প্রাচীনকাল থেকেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করলা ব্যবহার হয়ে আসছে। করলার চাও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। করলার রস বা চা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করে করলা চা। এটি বদহজম রোধ করতেও ভূমিকা রাখে। করলার চায়ে উপস্থিত ভিটামিন সি শরীরের যেকোন ধরনের সংক্রমণ রোধ করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। করলা চায়ে উপস্থিত ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

করলার চা তৈরির পদ্ধতি :

উপকরণ: এই চা তৈরির জন্য কিছু পরিমাণ শুকনো বা তাজা করলার টুকরো, পানি এবং মিষ্টির জন্য স্বাদ মতো মধু নিন। করলা গাছের পাতাও ব্যবহার করতে পারেন। যেহেতু পাতা সবসময় পাওয়া যায় না তাই করলা ব্যবহার করাই ভাল।

প্রস্তুত প্রণালী: প্রথমে পানি ফুটিয়ে নিন। এবার তার মধ্যে শুকনো করলার টুকরো দিয়ে ১০ মিনিট মাঝারি আঁচে ফোটান । এতে করলার সব পুষ্টিগুণ পানিতে মিশে যাবে। আঁচ থেকে নামিয়ে আরও কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। এরপর কাপে চা ছেঁকে নিন এবং মিষ্টির জন্য মধু মেশান। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল করলার চা। যেহেতু এই চা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে তাই এতে চিনি না মেশানোই ভাল।

7
নানা ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে বাদাম শরীরের জন্য একটি উপকারী খাবার। বাদামে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরে শক্তির যোগান দেয়, শরীরে ক্ষতিকর টক্সিনের পরিমাণ কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বাদাম হৃদরোগের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়। এছাড়া বাদামে বিদ্যমান প্রোটিন শরীরের সঠিক বিকাশে সাহায্য করে। বাদামে রয়েছে পলিফেনোলিক নামক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এটি  হৃদরোগ, কোলন ক্যান্সার, স্ট্রোক, ভাইরাস ও ফাঙ্গাস ঘটিত রোগ প্রতিরোধ করে। বাদামে রয়েছে ভিটামিন ই ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী। বাদাম শরীরের ওজন কমাতেও সাহায্য করে।
 
তবে বাদামের অনেক উপকারী পুষ্টিগুণ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বাদাম বেশি খেলে এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বাদাম একটি আঁশ জাতীয় খাবার-তাই বাদাম বেশি খেলে পেটে গ্যাসের সমস্যা, পেট খারাপ হতে পারে। বাদাম একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এবং বাঙালি হিসাবে আমরা মাছ, মাংস ও ডালের সাথে প্রোটিন গ্রহণ করে থাকি। তাই বেশি প্রোটিন গ্রহণ করলে কিডনি রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বাদামে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম যা অনেক ওষুধের কার্যক্রমে বাধা দেয়। বাদাম খেলে অনেকের আবার এলার্জির সমস্যা হতে পারে। পরিমিত বাদাম গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। তাই বেশি করে একবারের না খেয়ে নিজের হাতের এক মুঠ পরিমাণ বিকালের নাস্তা হিসেবে বা মধ্য দুপুরে খাওয়া যেতে পারে।

8
আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালের বিচি বা বীজ খেলে কী হতে পারে? গবেষণা বলছে, কাঁঠালের বিচি খেলে শরীরের কোনও ক্ষতি তো হয়ই না, উল্টে অনেক উপকার হয়। কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে থিয়ামিন, রাইবোফ্লেবিন নামে দুটি উপাদান, যা দেহে এনার্জির ঘাটতি দূর করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখানেই শেষ নয়, এই প্রকৃতিক উপাদানে জিঙ্ক, আয়রন, ক্যালসিয়াম, কপার, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম ত্বককে সুন্দর করে তোলার পাশাপাশি একাধিক রোগকে দূরে রেখে শরীরকে সার্বিকভাবে চাঙ্গা করে তুলতেও সাহায্য করে। জেনে নিন বিস্তারিত …

কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমায় : কাঁঠালের বিচির ফাইবার শরীরে প্রবেশ করে এমন খেল দেখায় যে কোষ্ঠ্যকাটিন্যের মতো রোগের প্রকোপ কমে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে কোলোনের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

প্রোটিনের ঘাটতি মেটে : নিয়মিত মাছ-মাংস খাওয়ার সুযোগ হয় না নাকি? দেহে প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে নিয়মিত কাঁটালের বীজ খাওয়া শুরু করতে পারেন। কাঁঠালের বীজে যে পরিমাণে প্রোটিন থাকে, তা দেহের দৈনিক চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট।

সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে : বর্ষাকালে নানাবিধ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে কাঁঠালের বীজ আপনাকে দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে। এতে একাধিক অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এলিমেন্ট জীবাণুদের দূরে রাখার মধ্যে দিয়ে নানাবিধ ফুড-বন এবং ওয়াটার বন ডিজিজের প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় : পরিমাণ মতো কাঁঠালের বীজ নিয়ে প্রথমে কিছুটা সময় রোদে শুকিয়ে নিন। তারপর সেগুলি বেটে নিয়ে চটজলটি গুঁড়ো করে ফেলুন। এই গুঁড়ো পাউডারটি খেলে নিমেষে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা কমে যায়। সেই সঙ্গে কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে। এতে ডায়াটারি ফাইবার এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

স্ট্রেসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে : অফিসে কাজের চাপ এমন বেড়েছে যে মাথা থেকে ধোঁয়া বেরতে শুরু করেছে? হাতের কাছে কাঁঠালের বীজ আছে কি? যদি না থাকে, তাহলে এক্ষুণি কিনে এনে খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন নিমেষে মানসিক চাপ কমে যাবে। কাঁঠালের বীজে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় প্রোটিন এবং অন্যান্য উপকারি মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস, যা মস্তিষ্কের কেমিকেল ব্যালেন্স ঠিক রাখার মধ্যে দিয়ে স্ট্রেস কমাতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে :
কাঁঠালের বীজে ভিটামিন এ, দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি একাধিক চোখ সম্পর্কিত সমস্যাকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই বুড়ো বয়সে যদি চশমা ব্য়বহার করতে না চান, তাহলে আজ থেকেই কাঁঠালের বীজকে সঙ্গে রাখতে শুরু করুন।

ত্বকের বয়স কমে : খাতায় কলমে বয়স বাড়ালেও ত্বককে যদি আজীবন তরতাজা এবং সুন্দর রাখতে চান, তাহলে আজ থেকেই ব্যবহার শুরু করুন কাঁঠালের বীজের। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো বীজ নিয়ে প্রথমে গুঁড়ো করে নিন। তারপর সেটি অল্প পরিমাণ দুধের সঙ্গে মিশে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। এই পেস্টটি প্রতিদিন মুখে লাগালে দারুন উপকার পাওয়া যায়। আর যদি হাতের কাছে মধু থেকে থাকে, তাহলে সেটিও এই পেস্টটি বানানোর সময় কাজে লাগাতে পারেন। দেখা গেছে পেস্টটির সঙ্গে মধু যোগ করলে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য আরও বৃদ্ধি পায়।

অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমে : কাঁঠালের বীজে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, যা খুব অল্প দিনেই রক্তাল্পতার মতো সমস্যা দূর করতে দারুণভাবে সাহায্য করে থাকে। আর কাঁঠালের বীজের দামও এমন কিছু নয়।

9
খালি পেটে কলা খাবেন না- কলায় রয়েছে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। পুষ্টিকর এই ফলের রয়েছে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা। কলা হার্ট ভালো রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য, আলসারের মতো রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের উৎপাদন বাড়াতে ও অ্যানিমিয়া দূর করতে কলার জুড়ি নেই। কলায় ২৫ শতাংশ চিনি থাকে, যা শরীরে শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু এসব পুষ্টি পেতে হলে ভরা পেটে কলা খেতে হবে। পুষ্টিগুণের কারণেই অনেকে সকালে খালি পেটে কলা খেয়ে থাকেন। তাদের ধারণা, অন্য অনেক খাবারের মতো এটিও শরীরে অনেক পুষ্টি জোগাবে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, খালি পেটে কলা খাওয়া ঠিক নয়। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কলায় উচ্চমাত্রার চিনি বিদ্যমান রয়েছে যা শরীরে শক্তি জোগাতে কাজ করে। তাই সকালে খালি পেটে কলা খেলে আপনার শক্তি কয়েক ঘণ্টা পরই ফুরিয়ে যাবে। এর ফলে আপনি অলস হয়ে পড়বেন। ক্লান্ত লাগবে ও ঘুম পাবে।

কলায় অ্যাসিডিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই শুকনো কিছু খাবারের সঙ্গে কলা খাওয়া ভালো। তা না হলে শরীরে উচ্চমাত্রার ম্যাগনেশিয়ামের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। এতে হৃদরোগ হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। শুধু কলা নয়, কোনো ফলই খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়। কারণ বর্তমানে সতেজ কোনো ফল খুঁজে পাওয়া কঠিন। এছাড়া বেশির ভাগ ফলে নানা রাসায়নিক থাকে। তাই সকালে খালি পেটে কলা বা যে কোনো ফল খেলে এসব খাবারের রাসায়নিকগুলো সরাসরি পেটে প্রবেশ করে। তখন পুষ্টির বদলে এগুলো শরীরে নানা স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করে।

10
স্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশিকায় আছে, দৈনিক ৪০০ মি.গ্রাম ক্যাফেইন নেওয়া যেতে পারে। তবে চা, চকলেট ও রঙিন পানীয়তে আছে ক্যাফেইন। আর সারা দিন কফি ছাড়াও এসব খাওয়া পড়ে। তাই সব মিলিয়ে দেখা যায়, শরীরে অতিরিক্ত ক্যাফেইন চলে যাচ্ছে। তাই একটু হিসেব করে কফি খেলে প্রতিদিন কফি পান করা যাবে এবং এর উপকার পাওয়া যাবে। ক্যাফেইন শ্বাসনালী প্রসারিত করতে সাহায্য করে। তাই শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডা-কাশির সময় কফি পান উপকারী।
 
ক্যাফেইন টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, ফ্যাটি লিভারে মেদ কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০ মি.গ্রাম ক্যাফেইন শরীরে গেলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে আলঝেইমার (স্মৃতিভ্রংশ) রোগের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী ক্যাফেইন। পাশাপাশি খুবই কার্যকারী এন্টিঅক্সিডেন্ট। দিনে ৩-৪ কাপ কফি পান করলে শরীরে সেরকম কোনো গুরুতর প্রভাব পড়ে না। তবে কফির সাথে অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি বা ক্রিম খাওয়া যাবে না।
 
লেখক: ডা. সঞ্চিতা বর্মন
ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ

11
খাবারে স্বাদ আনতে লবণের বিকল্প নেই। পরিমিত লবণ গ্রহণে খাবারের স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং শরীরের কোনো ক্ষতি হওয়ার সুযোগ থাকে না। মাত্রাতিরিক্ত লবণের উপস্থিতি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কারণ আমাদের শরীরে সোডিয়াম ক্লোরাইড খুব কম পরিমাণে দরকার। তাই পুষ্টিবিদরা মনে করেন যত কম পরিমাণে লবণ গ্রহণ করা যায়, ততই শরীরের জন্য ভালো। আমাদের দেশের উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের কাঁচা লবণ কম খেতে উপদেশ দেয়া হয়। কিন্তু অনেকেই ভুল ভেবে রান্নায় লবণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন কিংবা লবণ ভেজে তারপর খান। কিন্তু লবণ ভাজলে পানি শুকিয়ে গেলেও এর সোডিয়াম ক্লোরাইডের পরিমাণ ঠিকই থাকে। তাই যতটা সম্ভব রান্নায় কম লবণ ব্যবহার করাই অধিকতর উত্তম।
 
অতিরিক্ত লবণ খাওয়া শরীরের স্বল্প মেয়াদি এবং দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব ফেলে। যেমন-
 
১. উচ্চ রক্তচাপ: লবণের অতিরিক্ত সোডিয়াম ক্লোরাইড শরীরের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এই উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্ট ফেইলিউর, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিনডি ফেইলিউরের মতো সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীকে অতিরিক্ত লবণ খেতে নিষেধ করা হয়।
 
২. পিপাসা বেড়ে যাওয়া: বেশি লবণ খেলে পিপাসা বেড়ে যায়। কারণ এটি দেহের কোষে পানির ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধা হয়। শরীরে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে যা কিডনির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
 
৩. পা ফোলাভাব: চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কখনো কখনো হাত ও পায়ে পানি জমায়। এতে হাত ও পা ফোলাভাব হয়। এটি কিডনি রোগী এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য খুব ঝুঁকির কারণ।
 
৪. অস্টিওপোরোসিস: অতিরিক্ত লবণ গ্রহণে শরীরের পানির পিপাসা তৈরি হয়। এতে অতিরিক্ত পানি গ্রহণ করতে হয় এবং প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম শরীর থেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বেড়িয়ে যায়। এতে হাড় দুর্বল এবং ভঙ্গুর হয়।
 
৫. কিডনিতে পাথর হওয়া: অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কিডনিতে পাথরের সৃষ্টি করে। তাই পরিমিত পরিমাণ লবণ গ্রহণ সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
 
লেখক: ডা. তানজিয়া নাহার তিনা

ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ

12
থানকুনি পাতা । আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। এর ল্যাটিন নাম centella aciatica. গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার আদি আমল থেকেই চলে আসছে। ছোট্ট প্রায় গোলাকৃতি পাতার মধ্যে রয়েছে ওষুধি সব গুণ। থানকুনি পাতার রস রোগ নিরাময়ে অতুলনীয়। প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বহু রোগের উপশম হয় এর ভেষজ গুণ থেকে। খাদ্য উপায়ে এর সরাসরি গ্রহণ রোগ নিরাময়ে থানকুনি যথার্থ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধূলাবেগুন, নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললে সবাই চেনে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করে, তাহলে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুন:

১. চুল পড়ার হার কমে: নানা সময়ে হওয়া বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে ২-৩ বার থানকুনি পাতা খেলে স্কাল্পের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে চুল পড়ার মাত্রা কমতে শুরু করে। চুল পড়ার হার কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। কীভাবে? পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা নিয়ে তা থেঁতো করে নিতে হবে। তারপর তার সঙ্গে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা এবং আমলা মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। সবশেষে পেস্টটা চুলে লাগিয়ে নিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। ১০ মিনিট পরে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে কম করে ২ বার এইভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

২. টক্সিক উপাদানেরা শরীর থেকে বেরিয়ে যায়:
নানাভাবে সারা দিন ধরে একাধিক ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে, রক্তে প্রবেশ করে। এইসব বিষেদের যদি সময় থাকতে থাকতে শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ! আর এই কাজটি করে থাকে থানকুনি পাতা। কীভাবে করে? এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলি বেরিয়ে যায়। ফলে একাধিক রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়।

৩. ক্ষতের চিকিত্‍সা করে: থানকুনি পাতা শরীরে উপস্থিত স্পেয়োনিনস এবং অন্যান্য উপকারি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এবার থেকে কোথাও কেটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অল্প করে থানকুনি পাতা বেঁটে লাগিয়ে দেবেন। দেখবেন নিমেষে কষ্ট কমে যাবে।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: থানকুনি পাতা হজম ক্ষমতারও উন্নতি হবে। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে টিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।

৫. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়: থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্য়াটি অ্যাসিড এবং ফাইটোকেমিকাল ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিনের ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

৬. আমাশয়ের মতো সমস্যা দূর হয়: এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে হবে। এমনটা টানা ৭ দিন যদি করতে পারেন, তাহলেই কেল্লাফতে! এই ধরনের সমস্যা কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। প্রথমে পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা বেটে নিন। তারপর সেই রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মেশান। এই মিশ্রনটি দু চামচ করে, দিনে দুবার খেলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

৭. পেটের রোগের চিকিত্‍সায় কাজে আসে: অল্প পরিমাণ আম গাছের ছালের সঙ্গে ১ টা আনারসের পাতা, হলুদের রস এবং পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা ভাল করে মিশিয়ে ভাল করে বেটে নিন। এই মিশ্রনটি নিয়মিত খেলে অল্প দিনেই যে কোনও ধরনের পেটের অসুখ সেরে যায়। সেই সঙ্গে ক্রিমির প্রকোপও কমে।

৮. কাশির প্রকোপ কমে: ২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যায়। আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে কাশির কোনও চিহ্নই থাকবে না।

৯. জ্বরের প্রকোপ কমে: সিজন চেঞ্জের সময় যারা প্রায়শই জ্বরের ধাক্কায় কাবু হয়ে পারেন, তাদের তো থানকুনি পাতা খাওয়া মাস্ট! কারণ আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে জ্বরের সময় ১ চামচ থানকুনি এবং ১ চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরা যায়। সেই সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতাও কমে।

১০. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়: অসময়ে খাওয়ার কারণে ফেঁসেছেন গ্যাস্ট্রিকের জালে? নো প্রবেলম! থানকুনি পাতা কিনে আনুন বাজার থেকে। তাহলেই দেখবেন সমস্যা একেবারে হাতের মধ্যে চলে আসবে। আসলে এক্ষেত্রে একটা ঘরোয়া চিকিত্‍সা দারুন কাজে আসে। কী সেই চিকিত্‍সা? হাফ লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি এবং অল্প পরিমাণে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটা মিশ্রন তৈরি করে ফেলুন। তারপর সেই মিশ্রন থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা এক সপ্তাহ করলেই দেখবেন উপকার মিলবে।

13
জটিল রোগ নিরাময়ে কালোমেঘ- বর্তমান সময়ের ব্যস্ততাময় জীবনে সাধারণ কিছু রোগে মানুষ হরহামেশাই আক্রান্ত হয়ে থাকে। কাজের চাপে ব্যস্ততায় অনিয়মিত খাবার গ্রহণ ও পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমানোই এর কারণ। তাছাড়া সময় স্বল্পতার খাবার হিসেবে মাত্রাতিরিক্ত জাঙ্কফুড খাওয়া হচ্ছে। এসব কিছু মিলিয়ে মানুষ জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে ফেলছে ৷ আর রোগশোক বাসা বাঁধছে শরীরে। তবে এসব রোগ বড় ধরনের সমস্যার উপসর্গ। একটু নিয়ম মেনে চলা গেলে এসব রোগ থেকে মুক্তি মিলবে। যদি হাতের কাছে থাকে কাল মেঘ তাহলেতো কথাই নেই।

প্রতিদিন কালমেঘের রস খেলে মিটতে পারে একাধিক শারীরিক সমস্যা ৷ কালোমেঘের রস যকৃত ভাল রাখে, বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস জ্বর থেকে রক্ষা করে থাকে। তাছাড়া এতে রয়েছে হজম শক্ত বাড়িয়ে তোলের উপশম। ভেষজ এই উদ্ভিদটি গ্যাস-অম্বলও দূর করে। এছাড়াও ডায়রিয়া, কলেরা, ছাড়াও যেকোনো পেটের রোগে উপশমে কালোমেঘের জুড়িমেলা ভার ৷ ক্লান্তি নিমেষে দূর করে কালমেঘ ৷ কালমেঘের দাম এমন কিছু নয় আমরা ইচ্ছা করলেই সহজেই পে

14
সাম্প্রতিক অতীত কি ঝাঁঝালো উত্তাপই না ছড়াচ্ছিল এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরে। দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। সেই দুল দল, মার্চে নিদাহাস ট্রফিতে যাদের লড়াই ছড়িয়েছিল বারুদে উত্তেজনা। ম্যাচের চেয়ে এ ম্যাচ তো বেশি কিছুই। লঙ্কানআধিপত্বে শুরু ম্যাচটা অবশ্য এক তরফাই হয়ে যাচ্ছিল। আসলে ‘এক তরফা’-ই হলো। কিন্তু শ্রীলঙ্কা নয়, ম্যাচটা এক তরফা করে জিতে নিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে উড়িয়ে এশিয়া কাপের মিশন শুরু করলো বাংলাদেশ।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। প্রথম ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে ফেলা দলটা শেষ পর্যন্ত অলআউট হওয়ার আগে স্কোর বোর্ডে যোগ করে ২৬১ রান। মুশফিকুর রহীম খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ইনিংস। জবাব দিতে নেমে টাইগার বোলারদের তোপে শুরু থেকেই দিশেহারা শ্রীলঙ্কা। মাশরাফী, মোস্তাফিজ, মিরাজ, রুবেলদের একের পর এক আঘাতে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারল না লঙ্কানরা। এক তরফা ভাবেই জয় ছিনিয়ে আনল টাইগার বোলাররা। খেলা যে শুধুই খেলা নয়, তার আরো একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল শনিবারের দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ম্যাচটা কেউ দেখে না থাকলে শুধু জয়ের ব্যবধানটা হয়তো ‘একতরফা’ ম্যাচের কথা বলবে। আসলে ম্যাচের শুরু থেকে কতো কতো গল্প এই ম্যাচটিতে।

আগের রাতে পাঁজরের পুরোনো ব্যাথাটা জেগে উঠায় যার ম্যাচ খেলাই ছিল অনিশ্চিত, সেই মুশফিকুর রহীন এদিন খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। সেটিও দলের চরম বিপর্যয়ে ব্যাট করতে নেমে। চোট পেয়ে তামিম ইকবাল শুরুতেই মাঠ ছাড়লেন। খেলা চলাকালেই হাতপাতালে ছুঁটতে হলো তাকে। ফিরলেন হাতে ব্যান্ডেজ করে। এমনকি কমপক্ষে ছয় সপ্তাহের জন্য যে তিনি ছিটকে গেছেন, সেই খবরও অজানা থাকল না কারো। কিন্তু সেই তামিমই কিনা দলের প্রয়োজনে মাঠে নেমে পড়লেন ব্যান্ডেজ হাতে। দশম ওভারে মুশফিকের সঙ্গে ৩২ রানের জুটি হলো তার। বাংলাদেশ পেল লড়াকু পুঁজি। খেলা তো সত্যিই কখনো কখনো খেলার চেয়ে বেশি।

15
Cricket / ভাঙা হাত, বুকে দেশপ্রেম
« on: September 16, 2018, 09:50:28 AM »
আঙুলের চোট পুরোপুরি সেরে ওঠার আগেই ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন লঙ্কান পেসার সুরাঙ্গা লাকমল। তার ষষ্ঠ বলটি লাফিয়ে উঠলে পুল করার চেষ্টা করেন তামিম। বল গিয়ে লাগে তামিমের বাঁ হাতের আঙুলে। এশিয়া কাপের ক্যাম্প চলাকালীন ফিল্ডিং করতে গিয়ে যে আঙুলে ব্যথা পেয়েছিলেন তামিম।

পরে ক্যাম্পে তাকে অনুশীলনের বাইরে রাখা হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে ব্যথা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠ ছেড়ে বেড়িয়ে যান তামিম। তাকে দুবাইয়ের স্থানীয় এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক্স-রেও করা হয়। হাতের কব্জিতে চিড় ধরা পড়ে। তখন মনে করা হচ্ছিল এশিয়া কাপেই আর খেলতে পারবেন না তিনি। পরে টিভিতেও দেখা যায় হাতে ব্যান্ডেজ এবং গলায় সেই হাত ঝুলিয়ে রেখেছেন তিনি। শুরুতেই ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশের ব্যাটিং হাল ধরার আগেই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ২ রান করা তামিমকে। পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন তামিম। ভাঙা হাতেই ব্যাট করেন এক হাতে। বাঁহাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে ডানহাতকে শক্তিতে রূপান্তরিত করেন তামিম। ব্যথায় ককিয়ে উঠলেও মুখ বুজে সহ্য করেন সব জ্বালা। এটাই হয়তো তামিমের দেশপ্রেম। ইনিংস শেষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা মুশফিকও কথা বলেন তামিমকে নিয়ে। জানান তিনিও মাঠে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন তামিমের এমন কাণ্ডে।

ম্যাচের ৪৭তম ওভারের পঞ্চম বলে আউট হয়ে যান মোস্তাফিজুর রহমান। দলের রান ২২৯, তখনও বাকি ১৯টি বল। হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে কোনো রকমে গ্লাভস পড়ে মাঠে নামেন তামিম। এমন পরিস্থিতিতে পেসার সুরাঙ্গা লাকমালকে আবারো প্রতিহত করেন তামিম। এক হাত দিয়ে বল মোকাবেলা করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। বাকি সময়টা দারুণ ভাবে কাজে লাগান মুশফিক, অন্য প্রান্তে তামিম তাকে সঙ্গ দেন। ৪৯.৩ ওভারে বাংলাদেশ অলআউট হয় ২৬১ রানের মাথায়। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে মুশফিক করেন ১৪৪ রান। আর তামিম অপরাজিত থাকেন ২ রানে।

Pages: [1] 2 3 ... 39