Recent Posts

Pages: [1] 2 3 ... 10
1
good post brother, we actually need to follow this to get the benefits of Ramadan for the whole year
2
class-routine(Day)-summer-2018-(update-date:-23-06-2018)
3
class-routine(Eve)-summer-2018-(update-date:-23-06-2018)
5
Business and Economics / CERTIFICATE COURSES (ADMISSIONS GOING ON)
« Last post by obayed on Today at 03:31:41 PM »
Human Resource Development Institute (HRDI)-DIU in collaboration with Australian Academy of Business Leadership (AABL), Sydney has been offering the 3-month long courses:

 
Advanced Certificate in Strategic Leadership & Managerial Communication

Certificate in Advanced Research

Advanced Certificate in Supply Chain Management

 
Admissions are going on.

Application Deadline: 25 June 2018. Class Begins: 29 June 2018. Classes will be held only on Fridays from 3:00 pm to 6:00 pm at Daffodil Tower, Sobhanbag, Dhaka.

Total Course Fee: BDT 15,000/-

Notably, DIU members will get 20% waiver from total fees in all 3-month long certificate courses offered by HRDI.

Please contact for admission and further queries.

HRDI Office

Daffodil Tower (9th floor)

4/2 Sobhanbag, Dhaka-1207

Tel: +88 48111639, 48111670, Ext. 367

Contact: 01811458845

Email: hrdi@hrdinstitute.org
6
Human Resource Development Institute (HRDI)-DIU in collaboration with Bangladesh Society for Human Resources Management (BSHRM) has been offering the a 3-month long course “Advanced Certificate in Human Resource Management (ACHRM)” since 2017. Admissions to 3rd batch are going on.

Application Deadline: 25 June 2018. Class Begins: 29 June 2018. Classes will be held only on Fridays from 3:00 pm to 6:00 pm at Daffodil Tower, Sobhanbag, Dhaka.

Total Course Fee: BDT 15,000/-

Notably, DIU & BSHRM members will get 20% waiver from total fees in all 3-month long certificate courses offered by HRDI.

Please contact for admission and further queries.

HRDI Office

Daffodil Tower (9th floor)

4/2 Sobhanbag, Dhaka-1207

Tel: +88 48111639, 48111670, Ext. 444, 555, 666

Contact: 01811458845

Email: hrdi@hrdinstitute.org
7





নারী-পুরুষ সাম্যের প্রশ্নে বারবার যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা। সমাজের এমন কোনো স্তর নেই যেখান থেকে এ ধরনের সংশয় প্রকাশ করা হয়নি। যদিও অগ্রসর মানুষ মাত্রই জানেন এটি পুরুষাধিপত্য বজায় রাখার একটি কৌশল মাত্র। বহু আগে থেকেই তারা বলছেন, সভ্যতার ইতিহাসে নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান অবদান। যারা এ সত্যই মানতে রাজি নন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ হচ্ছে বিজ্ঞানীরা বলছেন, মস্তিষ্কের সক্রিয়তার দিক থেকে নারী বরং পুরুষের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

নারী-পুরুষ সাম্যের প্রশ্নে উন্নত বিশ্বের ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করলেই বিজ্ঞানীদের এ বক্তব্যের গুরুত্বটি অনুধাবন করা সম্ভব। সর্বশেষ আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বের রাজধানী খ্যাত সিলিকন ভ্যালিও উন্মাতাল হয়ে উঠেছে এ সাম্যের প্রশ্নেই। এমনকি প্রযুক্তি বিশ্বের নেতৃত্ব দানকারী অন্যতম প্রতিষ্ঠান গুগলের এক প্রকৌশলীকেও সম্প্রতি ছাঁটাই হতে দেখা গেছে নারী-বিষয়ক পুরোনো ধ্যানধারণা পোষণের কারণে। আর ঠিক এ সময়েই গুরুত্বপূর্ণ একটি গবেষণার ফলাফল সামনে নিয়ে এসেছে জার্নাল অব আলঝেইমার’স ডিজিজ। গত ৭ আগস্ট এ-বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনটির সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে সায়েন্সডেইলি।

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার আমেন ক্লিনিকস ইনকরপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল জি আমেন এ গবেষণা পরিচালনা করেন। এতে নয়টি ক্লিনিকের কাছ থেকে পাওয়া মোট ৪৬ হাজার ৩৪ ব্যক্তির মস্তিষ্কের স্পেক্ট (সিংগেল ফোটন এমিশন কম্পিউটেড টমোগ্রাফি) ইমেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
স্পেক্ট ইমেজিং হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে তেজস্ক্রিয় রাসায়নিকের সাহায্যে শরীরের কোনো একটি অঙ্গে বা টিস্যুতে রক্ত সঞ্চালন হার ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। শরীরের কোনো একটি অঙ্গে রক্ত সঞ্চালন হারই ওই অঙ্গের সক্রিয়তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কারণ কোষের ক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পরিবহন করে রক্ত।
গবেষণাটিতে প্রতিটি মস্তিষ্কের মোট ১২৮টি অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই পুরুষের তুলনায় নারীদের মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেশি। এ বিষয়ে প্রধান গবেষক ড্যানিয়েল জি আমেন বলেন, ‘নারী ও পুরুষের মস্তিষ্কের পার্থক্য অনুধাবনে এ গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আমাদের সামনে হাজির করেছে। একই সঙ্গে এটি লৈঙ্গিক ভিন্নতার কারণে কার কতটা মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাও উন্মোচন করে।’
গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর মস্তিষ্কের বেশ কিছু অংশ পুরুষের অনুরূপ অংশের চেয়ে বেশি সক্রিয়। বিশেষত নারীর প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স বা অগ্রমস্তিষ্ক পুরুষের চেয়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেশি সক্রিয়। মস্তিষ্কের এ অংশটি মনোযোগ ও উদ্দীপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ ছাড়া মস্তিষ্কের অনুভূতি সংশ্লিষ্ট অংশ লিমবিকের সক্রিয়তাও নারীদেরই বেশি। এ কারণে পুরুষের তুলনায় নারীদের আবেগ ও উদ্বেগের মাত্রা দুইই বেশি হতে দেখা যায়। তবে মস্তিষ্কের দর্শনেন্দ্রীয় সংশ্লিষ্ট অংশের দিক থেকে পুরুষ এগিয়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে জার্নাল অব আলঝেইমার’স ডিজিজের প্রধান সম্পাদক ও টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব সায়েন্সেসের ডিন ড. জর্জ পেরি সায়েন্সডেইলিকে বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে এ গবেষণা ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের নিজেদের সঙ্গীকে অনুধাবনের ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে।

8
Faculty Forum / ভর্তার নানা স্বাদ
« Last post by khadija kochi on Today at 02:43:02 PM »


চিংড়ি মাছ ভর্তা

উপকরণ: চিংড়ি মাছ এক কাপ, হলুদ বাটা ১/৪ চা চামচ, কাঁচা মরিচ দুটি, কালিজিরা ১/৪ চা চামচ, পেঁয়াজ তিনটি ছোট আকারের, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, ধনে পাতা দুই টেবিল চামচ, সরিষার তেল এক টেবিল চামচ, শুকনা মরিচ তিনটি, রসুন এক কোয়া।
প্রণালি: চিংড়ি মাছ, হলুদ বাটা, রসুন, শুকনা মরিচ, সামান্য পেঁয়াজ কুচি প্রথমে সয়াবিন তেলে ভেজে নিতে হবে। তারপর স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিয়ে পাটায় বেটে নিতে হবে। এখন সরিষার তেল, ধনে পাতা, পেঁয়াজ কুচি ভালোভাবে মিশিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

বরবটি ভর্তা

উপকরণ: বরবটি ৬০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, রসুন বাটা ১/২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ১০টি (ঝাল বেশি খেতে চাইলে), হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, লবণ এক চা চামচ, সরিষার তেল দুই টেবিল চামচ, ধনে পাতা কুচি দুই টেবিল চামচ।
প্রণালি: বরবটি ধুয়ে কাঁচা মরিচসহ ব্লেন্ড করে নিতে হবে। একটি প্যানে তেল গরম করে নিতে হবে। গরম তেলে রসুন বাটা, হলুদ গুঁড়ো, লবণ ও ব্লেন্ড করা বরবটি পানি না শুকানো পর্যন্ত নাড়তে হবে। ঠান্ডা হলে পেঁয়াজ কুচি, সরিষার তেল ও ধনে পাতা দিয়ে মাখিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

কাঁঠালের বিচি দিয়ে লইট্টা শুঁটকি ভর্তা

উপকরণ: কাঁঠালের বিচি এক কাপ, লইট্টা শুঁটকি ১ কাপ, কাঁচা মরিচ আটটি, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, সরিষার তেল দুই টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, ধনে পাতা দুই টেবিল চামচ।
প্রণালি: প্রথমে লইট্টা শুঁটকি ধুয়ে নিতে হবে। এরপর একটা গরম তাওয়ায় কাঁচা মরিচ, কাঁঠাল বিচি ও শুঁটকি টেলে নিতে হবে। এখন পাটায় কাঁচা মরিচ, কাঁঠাল বিচি ও শুঁটকি বেটে নিতে হবে। এখন পুরো মিশ্রনটিকে নিয়ে সরিষার তেল, লবণ, ধনে পাতা ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে মাখিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
9

 
 

‘আজ আমার নিশ্বাস নেওয়ার মতো সময় নেই।’ এমন উক্তি একজন মায়ের মুখে প্রায়ই শোনা যায়। মনে হতে পারে এটা অতিরঞ্জন। কিন্তু বাস্তব জীবনে দেখা যায়, একজন মা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন। সংসারের চাকা ঠিক রাখতে তিনি সব সময় কিছু না কিছু করছেন। ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই শুরু হয় তাঁর ব্যস্ততা। ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত সেভাবেই চলে। এ-তো গেল সেই পরিবারের কথা, যার ছোট-বড় সব সদস্যই সুস্থ ও স্বাভাবিক। কিন্তু যে পরিবারে একটি শিশু থাকে যে কিনা অন্য দশটি শিশুর মতো নয়, যার কিনা রয়েছে কোনো না কোনো ধরনের ‘ডিজঅ্যাবিলিটি’, সেই পরিবারটি কিন্তু অন্য পরিবারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা আগে বলি। বিয়ের পরে আমার সংসার শুরু হলো স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদকে নিয়ে। তখনই সারা দিন ব্যস্ত থাকতাম। পরে যখন আমার প্রথম সন্তান- মেয়ের জন্ম হলো, কাজ আরও বেড়ে গেল। একই সময়ে এল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ। সুতরাং সারাক্ষণই ব্যস্ত। তবু সব মিলিয়ে ভালোই ছিলাম সেই সময়।
দ্বিতীয়বার মা হলাম ১৯৯৮ সালে। এবার হলো একটি ছেলে সন্তান। শুরুতে সবাই খুব আনন্দিত। সবার মতো আমিও। কিন্তু বছর ঘুরতেই এক অজানা ভয় আমাদের পুরো পরিবারকে ঘিরে ধরল। বুঝতে পারলাম, আমার ছেলে অন্য শিশুদের মতো নয়। সে আর সবার মতো আচরণ করে না। ক্রমে সেই আশঙ্কা সত্যি হলো। বুঝতে পারলাম, আমার ছেলে অটিস্টিক। ডায়াগনোসিসের পর সঠিক কারণ জেনে পুরো পরিবার বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। আমি যেন হঠাৎ করে বিষণ্নতায় ডুবে গেলাম। বুঝতে পারছিলাম না, কি হলো? আমি কি অপরাধ করলাম? সবাই যেন সন্তানের এই অবস্থার জন্য আমাকে দায়ী করছে।
এটা ঠিক যে, এই ব্যাপারে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হওয়া দরকার। একজন অটিস্টিক সন্তানের দায়িত্ব কেন শুধু একজন মায়ের হবে? যখন কোনো শিশু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু হিসেবে চিহ্নিত হয়; অর্থাৎ তার আচরণ ও জীবনযাত্রা অন্যদের মতো নয়, তখন সেই পরিবারের প্রতি অন্যদের আচরণ কেমন যেন বদলে যায়। শারীরিক অসুস্থতাকেও সবাই মেনে নিতে পারে। কিন্তু সমস্যাটি যদি মানসিক বা আচরণগত হয়, তবে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়। ওই শিশুটিসহ তার পরিবারকে অন্য চোখে দেখতে শুরু করে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা।
আমার জীবনে আমি দেখেছি, একজন অটিস্টিক সন্তানের মা হওয়ায় সবাই আমাকে করুণার চোখে দেখতে শুরু করল। কিন্তু কেন? যে সময়টাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুটির উন্নয়নে একে অন্যকে সাহায্য করার কথা, সেই সময়ে আমরা ওই শিশুর পরিবারকে ত্যাগ করি। এমনকি পরিহাসও করি কখনো কখনো।অনেক মা-বাবা সন্তানের অটিজমের কথা স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উচ্চপদে কর্মরত জল–এর বাবা-মা এখানে ব্যতিক্রম। নিউইয়র্কে সবাই অটিস্টিকদের বলে স্পেশাল। আর সৃষ্টিকর্তা যাকে বেশি ভালোবাসেন, তাকেই তো স্পেশাল সন্তান উপহার দেন। ছবির মডেল কাজী সারাফ জল। সঙ্গে তাঁর বাবা কবি কাজী জহিরুল ইসলাম, মা মুক্তি জহির ও ভাই অগ্নি।অনেক মা-বাবা সন্তানের অটিজমের কথা স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উচ্চপদে কর্মরত জল–এর বাবা-মা এখানে ব্যতিক্রম। নিউইয়র্কে সবাই অটিস্টিকদের বলে স্পেশাল। আর সৃষ্টিকর্তা যাকে বেশি ভালোবাসেন, তাকেই তো স্পেশাল সন্তান উপহার দেন। ছবির মডেল কাজী সারাফ জল। সঙ্গে তাঁর বাবা কবি কাজী জহিরুল ইসলাম, মা মুক্তি জহির ও ভাই অগ্নি।
প্রকৃতপক্ষে এ জন্য একটি বড় সামাজিক আন্দোলন হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য প্রত্যেক মা-বাবাকে সচেতন হতে হবে। আমার যেমন আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার আছে, তেমনি আমার অটিস্টিক সন্তানেরও আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার আছে। তার অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব প্রথমত মা-বাবার, তার সঙ্গে সঙ্গে সমাজের প্রত্যেকের।
আমার সন্তানকে নিয়ে আমি নিউইয়র্কের যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে দ্বিধাবোধ করি না। করা উচিতও নয়। যে অনুষ্ঠান সে উপভোগ করবে, সেখানে অবশ্যই তাকে নিয়ে যেতে হবে। সেই অনুষ্ঠানে অনেকেই হয়তো সেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুটির ব্যবহার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। সেই ক্ষেত্রে অভিভাবক হিসেবে আমরা তাদের জানিয়ে দিতে পারি— ‘আমার সন্তানটি অটিস্টিক বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন।’ ফলে অন্যদের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ কমে আসবে। অটিস্টিক সন্তানের মা-বাবা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব একটু বেশি থাকে। কারণ আমরাই পারি সচেতন করতে।
তবে শুধু সমাজের দোষ দিই কেন। অনেক মা-বাবাও পারেন না সন্তানের ডিজঅ্যাবিলিটি মেনে নিতে। তাদের নিজেদের জীবনও অনেক সময় সংঘাতময় হয়ে ওঠে এই কারণে। অটিস্টিক সন্তানের মা-বাবার প্রতি আমার একটাই কথা— ধৈর্য হারাবেন না।
যখন প্রথম নিউইয়র্কে আসি, অটিস্টিক সন্তানকে কোলে নিয়ে সাবওয়ে স্টেশনের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দম বেরিয়ে যেত। কারণ আমার ছেলে স্ট্রলারে উঠতে চাইত না। একদিন সাবওয়ে স্টেশনের সিঁড়িতে বসে ছেলেকে কোলে নিয়ে অনেকক্ষণ কেঁদেছি। আবার চোখের পানি মুছে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এই দেশে পড়াশোনা করেছি। আইনি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছি। প্রতিষ্ঠা করেছি আমার মতো অটিস্টিক সন্তানের মা-বাবাদের নিয়ে সংগঠন।
একটি অটিস্টিক সন্তানের সবচেয়ে বড় অবলম্বন তার মা-বাবা। দুজনের যৌথ প্রয়াসেই সে বিকশিত হতে পারে। তার বিকাশের জন্য প্রয়োজন সমাজের অন্যদের সম্মিলিত সমর্থন। যারা সদ্য জানতে পেরেছেন, আপনার সন্তানের বিকাশজনিত সমস্যা আছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই— হতাশ হবেন না। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই দিশেহারা হবেন না। অটিজম সমস্যা নিয়ে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হতে পারে, এই নিয়ে হুট করে কোনো উপসংহারে উপনীত হবেন না। অন্য সবার মতো অটিস্টিক শিশুরও সামর্থ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
সব শেষে বলব, আপনার অটিস্টিক সন্তানের সঙ্গে অন্য শিশুদের তুলনা টেনে মন খারাপ করবেন না। বরং ওর ছোট ছোট অর্জনে তৃপ্তি খুঁজুন। ওকে উৎসাহিত করুন যাতে ও সামনের দিকে এগোতে পারে।
10
• গবেষকেরা বলছেন, আম খাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর রক্তনালি শিথিল হয়ে যায়
• এটি রক্তচাপ কমায়

বাংলাদেশে আমের মৌসুম মে থেকে আগস্ট-এই তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি মানুষ গড়ে তিন কেজি করে আম খায়। পাকা-মিষ্টি আমের পুষ্টিগুণ অনেক, এটি কমবেশি সবার জানা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রথমবারের মতো জানা গেল, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের জন্য কতটা উপকারী আম। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা বলছেন, আম রক্তচাপ কমাতে ভূমিকা রাখে। মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া (পোস্ট মেনুপোসাল) ২৪ জন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী নারীকে নিয়ে করা এক গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষকেরা বলছেন, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও কার্যকর এই ফল।

আম নিয়ে এই গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিভাগের গবেষকেরা। তাঁরা দেখেছেন, আম খাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর রক্তনালি শিথিল হয়ে যায়। এটাই রক্তচাপ কমার কারণ। আমের আরও একটি উপকারের কথা বলেছেন গবেষকেরা। তা হলো, আম খাওয়ার পর অন্ত্র বেশি সক্রিয় হয়।

হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে আমের কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বে এটিই প্রথম কোনো গবেষণা। চলতি জুন মাসেই আমেরিকান সোসাইটি ফর নিউট্রিশনের বার্ষিক সম্মেলনে (নিউট্রিশন-২০১৮) গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এই গবেষণায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ম্যাঙ্গো বোর্ড ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

গবেষকেরা বলছেন, আমে কার্বলিক অ্যাসিডের মিশ্রণ থাকে। যা স্বাস্থ্য সুরক্ষার সম্ভাব্য উপকরণ। গবেষকেরা মনে করেন, আমে থাকা সক্রিয় যৌগ স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আম নিয়ে করা গবেষণার ফলাফল নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেছেন, বয়স বেশি হওয়ার কারণে যেসব নারীর মাসিক স্বাভাবিক কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তাঁদের শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে। মাসিক বন্ধ হওয়া নারীদের রক্তচাপ বেশি হওয়ার প্রবণতা থাকে।

বিভিন্ন শস্য, সবজি ও ফলের পুষ্টিগুণ নিয়ে গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাজমা শাহীন। তিনি বলেন, আমের রাসায়নিকের হরমোনজনিত প্রভাব আছে, যা গ্রন্থিবাত, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

পদ্ধতি ও ফলাফল
মাসিক বন্ধ হওয়া ২৪ জন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী নারীকে দৈনিক ৩৩০ গ্রাম মিষ্টি আম খেতে দেওয়া হতো। গবেষণার জন্য পরপর ১৪ দিন তাঁদের ওই পরিমাণ আম থেকে খাওয়ানো হয়। আম খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর এসব নারীর হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, রক্তের নমুনা ও শ্বাসপ্রশ্বাস পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, সিস্টোলিক রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। হৃৎস্পন্দনের সময় রক্তনালির দেয়ালে প্রবহমান রক্ত যে চাপ প্রয়োগ করে, সেটাই সিস্টোলিক রক্তচাপ (রক্তচাপ মাপার সময় ওপরের সংখ্যা)।

গবেষকেরা দেখেছেন, আম খাওয়ার পর পালস প্রেশার বা ধমনি স্পন্দন চাপও কমে। স্পন্দন চাপ হচ্ছে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক (রক্তচাপ মাপার সময় নিচের সংখ্যা) রক্তচাপের মধ্যকার সংখ্যার পার্থক্য। আম খেলে এই পার্থক্য কম হয়। গবেষকেরা শ্বাসপ্রশ্বাসে হাইড্রোজেন ও মিথেনের পরিমাণও মেপে দেখেন। অন্ত্রে অণুজীবের সক্রিয়তায় এসব গ্যাস তৈরি হয়। ২৪ জন নারীর মধ্যে ৬ জনের নিশ্বাসে মিথেন পাওয়া যায়। এই ছয়জনের মধ্যে তিনজনের আম খাওয়ার পর মিথেনের পরিমাণ কমে। এর অর্থ তাঁদের অন্ত্র ভালো ছিল।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বলছে, বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম আম উৎপাদনকারী দেশ। চিকিৎসকেরা বলছেন, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়া প্রয়োজন।
Pages: [1] 2 3 ... 10