Recent Posts

Pages: [1] 2 3 ... 10
1
টিউন্টারভিউ গেস্ট: হাসিন হায়দার, হেড অফ আইডিয়াস এবং প্রতিষ্ঠাতা, Leevio
টিউন্টারভিউ হোস্ট: আরিফ নিজামী
সময়: মঙ্গলবার, ২৪ অগাষ্ট ২০১১ । দুপুর ২ টা ।
স্থান: Leevio অফিস, উত্তরা , ঢাকা ।

হাসিন হায়দার, দেশের ওয়েব এপ্লিকেশন ডেভলপমেন্টে এক উজ্জল নক্ষত্র । তার অনুপ্রেরণায় পিএইচপি (PHP) কোডিংয়ের জগতে ডুব দিয়েছেন অগণিত মানুষ । দেশের প্রথম ZCE, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রোগ্রামিং বইয়ের লেখক, বাংলা দেশের সবচেয়ে বড় PHP গ্রুপ, PHPXpert এর পরিচালক, দেশের প্রথম বাংলা ইউনিকোড পার্সারের ডেভোলোপারদের অন্যতম, জনপ্রিয় ফেসবুক এপ্লিকেশন Miproapps/thruSocial এর প্রবর্তক এবং আন্তর্জাতিক মানের Startup Leevio এর এই প্রতিষ্ঠাতার কথা আজ জানবো টেকটিউনস টিউন্টারভিউ এর মাধ্যমে।

টেকটিউনস: কম্পিউটার ও কোডিং জগতে আপনার শুরুটা কিভাবে হলো ?
হাসিন হায়দার: আমি যখন রাজশাহী বিআইটিতে (বতর্মানে রুয়েট) ভর্তির কোচিং করতাম তখন সেখানে একটা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার ছিল । ক্লাসের পর প্রতিদিনই আমি সেখানে অনেক সময় ব্যয় করতাম । প্রথম প্রথম শুধু গেমিং, তারপর আঁকাআঁকি ইত্যাদি । এরপর আমার মাথায় একটা প্রশ্ন আসলো যে এই এপ্লিকেশনগুলো কিভাবে কাজ করে । আমি আমার বাবাকে বেসিক কম্পিউটার শেখার একটা বই এনে দিতে বললাম । তিনি যেহেতু কম্পিউটারের ব্যাপারে অভিজ্ঞ ছিলেন না তাই তিনি এক দোকান থেকে মাইক্রোসফট এক্সেলের একটা বই নিয়ে এলেন । এক্সেলে ফর্মুলা লেখা, ম্যাক্রো প্রোগ্রামিং আমার আবেগকে প্রজ্বলিত করল এবং আমি Foxpro এর উপর একটি বই কিনলাম, এভাবেই আমার প্রোগ্রামিং জীবনের শুরু ।

টেকটিউনস: আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড সিভিল ইন্জিনিয়ারিং । সেখান থেকে প্রোফেশনাল কোডিং জগতে চলে আসার গল্পটা শুনব ।
হাসিন হায়দার: যেহেতু আমি FoxPro ও Qbasic এ প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী ছিলাম এবং শিখছিলাম, তাই আমাদের নিউমারিক্যাল এনালাইসিস ক্লাসের সমস্যাগুলো সলভ করতে অনেক ভালো লাগত । বিআইটিতে একটি বিশাল কম্পিউটার রুম ছিল, 256 এবং 356 মেশিনে পূর্ণ একটি DOS এর জগৎ । তখন আমার এক বন্ধু বাংলা ডিকশনারী, বাংলা টেক্সট টু স্পিচ এর মত বাংলা এপ্লিকেশন তৈরীতে ভীষণ আগ্রহী ছিল । আমরা একসাথে অনেক সময় কাটিয়েছি । তখন আমি বাংলা একটা এপ্লিকেশন তৈরীর পরিকল্পনা করলাম যা দিয়ে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে সহজে বাংলা লেখা যাবে । তখন আমি এবং চারজন জুনিয়র, ইমন, সুমন, আবিদ ও সুমি মিলে বাংলা ইন্টারফেস অর্ক (Orko) তৈরী করলাম । এটা ক্যাম্পাসে ভীষণ জনপ্রিয় হল এবং ব্যবসায়িকভাবেও সফল ছিল । এটিই আমাদের বাণিজ্যিক এপ্লিকেশন তৈরীতে ক্যারিয়ার গঠনে উদ্বুদ্ধ করল ।

টেকটিউনস: পেজফ্লেক্স আর সামহোয়্যার ইনে তো একটা ব্যস্ত সময় পার করেছেন, ওটা নিয়ে কিছু বলুন ।
হাসিন হায়দার: সামহোয়্যার ইনে আমি টিম স্পিরিটের ব্যাপারে অনেক কিছু শিখেছি । সামহোয়্যার ইনের CEO অরিল্ড ক্লকারহগ সেই সময় আমার মেন্টর ছিলেন । তিনি আমাকে শিখিয়েছেন সাফল্য এমন কিছু যা সবার সাথে মিলে উৎযাপন করতে হয় এবং রঙ্গীন মূহুর্ত (colorful moments) বলতে আসলে কি বোঝায় । সামহোয়্যার ইনে আমি বেশ কিছু চমৎকার ডেভেলপার সাথে পরিচয় হয়েছে । আমার সময় সামহোয়্যার ইনে দেশের সেরা কিছু ডেভলপাররা কাজ করতেন । আমরা একসাথে অনেক কিছু শিখেছি । পেজফ্লেক্স এর ব্যাপারটাও অনেকা একই রকম । শিপলু বাহ, ওমর আল জাবির মিশো এবং অন্যান্য সহকর্মীরা সত্যি খুব উৎসাহ প্রদায়ক ছিলেন । এবং আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আমি পেজফ্লেক্সে থাকাকালীন শিখেছি, তা হলো এপ্লিকেশনের ভার্সন কন্ট্রোল টুলের ব্যবহার এবং স্কেলযোগ্য বৃহৎ আকারের এপ্লিকেশন তৈরী ।

টেকটিউনস: আপনার লেখা বেশ কিছু বইও বাজার মাতিয়েছে একসময় ।
হাসিন হায়দার: জ্বী, আমি এই পর্যন্ত চারটি বই লিখেছি ।

টেকটিউনস: আপনি তো বাংলাদেশের প্রথম ZCE (Zend Certified Engineer ), আপনার ZCE হওয়ার গল্পটা শুনতে চাই।
হাসিন হায়দার: আমি যখন ZCE হওয়ার পরিক্লপনা করছিলাম তখন এই বিষয়ে রিসোর্স খুজে পাওয়া অনেক কষ্টের ছিল । এবং মানুষজন এমনভাবে তাকাতো যেন আমি ভীনগ্রহের কোন এলিয়েন ! অনেক খোজাখোজির পর নেট থেকে এই বিষয়ের কিছু বই পেলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম পরীক্ষাটা দেয়ার । তিন চার মাসের বেতনের টাকা জমিয়ে পরীক্ষার ফি জোগাড় করলাম । তখন আমি একটা চাকরি করছিলাম এবং ওটাই আমার একমাত্র আয়ের উৎস ছিল । উপার্জনটা কষ্টের ছিল এবং ফেল করার ভার বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না । তাই আমি অনেক desperate ছিলাম । আর কোন কিছুতে প্রথম হওয়ার আনন্দের ব্যাপারটাও মাথায় ছিল । দেশে তখন কেউ ZCE ছিল না এবং এটা আমার কাজে ব্যবহৃত টুল PHP এর সাথেও সামন্জস্যপূর্ণ ছিল । তাই আমি ZCE পরীক্ষায় অংশ নিলাম ।

টেকটিউনস: TRIPART, SOMEWHEREIN, সহ আপনার কাজ করা বেশী ভাগ প্রতিষ্ঠানই সোসিয়াল নেটওয়ার্কিং নিয়ে এটা কি কাকতালীয় ?
হাসিন হায়দার: না, আমি দীর্ঘদিন ধরেই সোসিয়্যাল এপ্লিকেশন ডেভলপমেন্টের কাজ করছিলাম এবং এই বিষয়ে কাজ করছে এমন কোম্পানি ও ডেভলপারদের সাথে কাজ করতে আমি স্বাছ্যন্দ বোধ করি । কারণ এটাতে আমার ও অন্যদের জন্য কমিউকেশনে সহজ এবং আমরা একই অবস্থানে থাকতে পারি।

টেকটিউনস: চাকরী ছেড়ে entrepreneurship এ চলে আসা কেন ?
হাসিন হায়দার: সত্যি বলতে কি আমার কিছু বেশ কিছু অদ্ভুত আইডিয়া ছিল যেগুলোতে হয়ত আমার চাকরীদানকারী কোম্পানি ফান্ডিং করতে আগ্রহী হতো না। তাই আমাকে নিজেকেই ওগুলো বাস্তবায়নে উদ্দোগী হতে হতো । এটাই আমার Entrepreneurship Spirit ছিল এবং এর কারণেই আমরা Leevio শুরু করি।

টেকটিউনস: আপনি পাচঁ সন্তানের পরিবারের একমাত্র ছেলে, আপনাকে নিয়ে নিশ্চয়ই সবার বিরাট প্রত্যাশা । এগুলো ক্যারিয়ারকে কিভাবে প্রভাবিত করেছে ?
হাসিন হায়দার: আমি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে যেখানে আমার বাবা খুবই কষ্টে উপার্জন করতেন । তাই আমি অর্থে মর্ম জানতাম এবং অর্থ উপার্জনে কত কষ্ট করতে হয় তাও জানতাম । মাত্র একজন পুত্র সন্তানের আশায় আমাদের পরিবারে পর পর চারজন কন্যা সন্তান হয়ে ছিল, তাই আমার উপর দায়িত্বটাও বেশী ছিল । এই জিনিষগুলো আমাকে আমার সাফল্যের ব্যাপারে ফোকাসড হতে সাহায্য করে । আমাকে এটা করতেই হতো, তাছাড়া অন্যকোন পথ ছিল না (হাসি) । এবং আপনি যখন কোন কিছু নিয়ে থাকেন তখন আপনার জন্য চ্যালেন্জ নেয়া সহজ হয়ে যায় ।

টেকটিউনস: আমরা যদি গ্লোবালী দেখি তবে আমাদের সামনে তিনজন সেরা Entreprenuer আছে, বিল গেটস, স্টিভ জবস আর হালের মার্ক জাকারবার্গ । আপনার পছন্দের কে ? আপনার Entrepreneurship দর্শনটা কি ?
হাসিন হায়দার: বিল গেটস এবং স্টিভ জবস । আমার জীবনের বড় একটা সময় আমি ভিজুয়্যাল বেসিকে কাজ করেছি , যা মাইক্রোসফটের একটা চমৎকার প্রোগ্রাম। তারপর আমি পথ পরিবর্তন করে LAMP এবং তারপর Mac এ এপ্লিকেশন ডেভলপিং শুরু করি। স্টিভ জবস ও তার চমৎকার গেজেটগুলো আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছে।

টেকটিউনস: Leevio নামটার ইতিহাস কি?
হাসিন হায়দার: বিভিন্ন নেম জেনারেটরে আমরা ভালো কিছু নাম খুজছিলাম, এই নাম ওভাবেই পাওয়া । আমরা আরো তিনটা নাম বাছাই করে ভোটাভোটি করলাম । Leevio বন্ধুদের কাছ থেকে সরব্বোচ্চ নম্বর পেলো এবং আমরা সেইটাই গ্রহণ করলাম । Leevio এর কোন অর্থ নেই, এটা আরেকটা ভালো দিক । তাছাড়া এটা Life এর মতো শোনায়।

টেকটিউনস: Leevio এর Miproapps হঠাৎ i2We এর ThruSocial হয়ে গেল কিভাবে ?
হাসিন হায়দার: আমরা Miproapps এর ৮০% শেয়ার i2we এর কাছে বিক্রি করে দেই । তারা বুঝতে পারলো এর উপর ভিত্তি করেই সোসিয়্যাল ডেভলপমেন্টের নতুন সূচনা হতে পারে । তাই তারা এর নাম পরিবর্তন করে thrusocial দেয় এবং এই এপটিই পুরো কোম্পানির মূল আর্কষন হয়ে দাড়ায়।

টেকটিউনস: Leevio এর ব্যবসায়িক সাফল্য কিভাবে মূল্যায়ন করবেন ? এর মূল সোর্স কোনটি ?
হাসিন হায়দার: প্রথম দিকে যখন আমরা MiproApps তৈরী করছিলাম তখন আমরা ক্লায়েন্টদের কাজ ও করতাম । যে অর্থ আমরা উপর্জন করছিলাম তা ইন হাউজ ডেভলপমেন্টের কাজে লাগত । এখনও আমরা উপার্জিত আয়ের বড় একটা অংশ রিসার্চ ও ডেভলপমেন্ট ও ইন হাউজ ডেভলপমেন্টে খরচ করে থাকি।

টেকটিউনস: অনেকের মতে এখন আমরা internationally স্টার্টআপের বাবলের (startup bubble) মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, আপনার মতামত কি ?
হাসিন হায়দার: খারাপ না, Entrepreneurship স্পিরিট খুবই ভালো । তবে একটা কথা, আপনাকে আগে একজন ভালো টিম প্লেয়ার হতে হবে নিজের টিম পরিচালনা করতে । তাই আপনি যদি দুই তিন বছর কোন ভালো টিমের সাথে কোন কোম্পানিতে চাকরী করতে পারেন তবে তা নিজের স্টার্টআপ চালু করতে বেশ সহায়ক হবে।

টেকটিউনস: আপনকে inspire করে বা আপনার ক্যারিয়ারে অবদান আছে এমন কিছু ব্যক্তির নাম আমাদের যদি জানাতেন ।
হাসিন হায়দার: আমি এই বিষয় নিয়ে একটি পোষ্ট লিখেছি । সেটা দেখতে পারেন । ( http://hasin.wordpress.com/2009/01/19/hats-off-to-you-who-are-behind-the-scene/ )

টেকটিউনস: যারা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের এই ক্ষেত্রে আসার আগে কি কি প্রস্তুতি নেয়ার পরার্মশ দিবেন ?
হাসিন হায়দার: এটার উত্তর আগেই দিয়েছি, প্রথমে ভালো টিম প্লেয়ার হতে হবে।

টেকটিউনস: ক্যারিয়র শেষে নিজেকে কোথায় দেখতে চান ? কোন ব্যক্তিগত লক্ষ্য ?
হাসিন হায়দার: আমি শুধু নিজের মন যা চায় তাই করে বেড়ানো মত সময় চাই । যেমন ১০দিনের মাছ শিকার করা, একটি বই লেখা বা পাহাড়ের চূড়ার বসবাস করা। তেমন বড় কিছু না :-)।

টেকটিউনস: আপনার পরিবারের সদস্য নিয়ে কিছু বলুন।
হাসিন হায়দার: আমি আমার বাবা মাকে নিয়ে গর্বিত। আমার মা আমার পাচঁ বছর বয়স থেকে প্যারালাইজড। তবুও তিনি আমার বাবার সাথে মিলে সকল ঝক্কি ঝামেলা সহ্য করে গেছেন। আমাদের পড়ালেখা খরচ ও খাবার জোগাড় করার উদ্দ্যেশে টিউশিনির মত বাড়তি কাজও করেছেন। আমার ইচ্ছে করে আমি যদি তাদের মত হতে পারতাম। আমি আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ভীষণ ভালোবাসি। তারা আমার অনুপ্রেরণার উৎস। আমার বোনরা, যদিও আমাদের মাঝে দারুন ঝগড়া হতো, তবুও আমরা একে অপরকে খুব ভালোবাসি।

টেকটিউনস: আপনার দুই সন্তানদেরও কী প্রোগ্রামার বানানোর ইচ্ছা না অন্য কোন পরিকল্পনা আছে?
হাসিন হায়দার: না আমি একজন লিবারেল মানুষ । আফিফ এবং ইভানকে তাদের নিজের জীবন গড়তে দিব । আমি তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য ও নিদের্শনা দিব কিন্তু কখনও ক্যারিয়ারের ব্যাপারে চাপ দিব না।

টেকটিউনস: Titanium প্লাটফরমে আইফোন app বানানো নিয়ে আপনারা বেশ কিছু কাজ করেছেন। এটা সম্বন্ধে কিছু বলুন।
হাসিন হায়দার: ১৭ তারিখে JSCON2011 তে আসুন এবং নিজেই দেখে নিন :)

টেকটিউনস: Leevio এর সুদূর প্রসারি কোন চিন্তা বা ভবিষ্যতে কি কি প্রোডাক্ট আসতে পারে ?
হাসিন হায়দার: সিক্রেট 🙂 ।

টেকটিউনস: Leevio থেকে বাংলা লেখার টুল স্লেট বেরিয়েছে । দেশের জন্য আরো কোন কিছু করার পরিকল্পনা কী Leevio এর আছে?
হাসিন হায়দার: আমি বাংলা এপ্লিকেশন তৈরীতে আগ্রহী । দেখা যাক নতুন আর কি আইডিয়া আমার মাথায় আসে, আমরা সেগুলো নিয়ে অবশ্যই কাজ করব যদি না এটা আমার স্কিলের বাইরের কিছু হয়।

টেকটিউনস: PhpXpert গ্রুপ কিভাবে শুরু । এর প্রোগ্রামগুলোর পিছনে Intention কি ?
হাসিন হায়দার: সবাইকে সচেতন করা এবং এই অসাধারণ ভাষাটাকে সবার কাছে পৌছে দেয়া । আরেকটা বড় কারণ যার কারণে আমরা ওয়ার্কশপ, সেমিনার আয়োজন করি হচ্ছে একটা কমিউনিটি গড়ে তোলা এবং দিক নির্দেশনা প্রদান করা ।

টেকটিউনস: টেকটিউনস কেমন লাগে? টেকটিউনস সম্বন্ধে আপনার মতামত ও পরামর্শ জানতে চাচ্ছি।
হাসিন হায়দার: আমি টেকটিউনস অনেক পছন্দ করি । টেকটিউনসের নির্মাতা, পরিচালক, CEO & CTO - মেহেদী হাসান আরিফ একজন চমৎকার মানুষ এবং আমরা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরকে চিনি। আপনার মত এবং অন্যান্যরা টেকটিউনসকে পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবন্ত রাখছেন। শুধু একটা জিনিষ আমার অপছন্দ যে এখানে অনেক কপিরাইটেড ম্যাটেরিয়াল শেয়ার করা হয় । আমি ব্যাক্তিগতভাবে পাইরেসী পছন্দ করি না এবং একে এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করি । আমাদের "পাইরেসীকে না বলুন" - এ ধরণের সচেতনতা তৈরী করা উচিত । আপনার সময়ে জন্য ধন্যবাদ , JS Conference এ দেখা হবে।

https://www.techtunes.com.bd/featured/tune-id/86967
2
Person / সাক্ষাতকারঃ অমি আজাদ
« Last post by mushfiq.swe on Today at 12:33:38 AM »
টিউন্টারভিউ গেস্ট: অমি আজাদ, ডেভেলপার ইভানজেলিস্ট, মাইক্রোসফট বাংলাদেশ
টিউন্টারভিউ হোস্ট: আরিফ নিজামী
সময়: ১৮ সেপ্টেম্বার, ২০১১ । রবিবার । দুপুর ২টা ।
স্থান: মাইক্রোসফট বাংলাদেশ অফিস । গুলশান, ঢাকা ।
ব্যাপ্তি: প্রায় ৫৭ মিনিট ।

অমি আজাদ । বাংলা ভাষাকে ই-জগতে প্রতিষ্ঠিত করার পিছনের গুটিকয়েক কারিগরের একজন । তার নামের সাথে আছে দেশের প্রথম Microsoft Most Valuable Professional (MVP) পুরস্কার অর্জনের গৌরব । বর্তমানে মাইক্রোসফটের ডেভলপার ইভানজেলিস্ট পদে থাকা অমি আজাদের শুরু থেকে সব গল্প জানব আজ ।

টেকটিউনস: শুভ অপরাহ্ন । প্রথমেই আপনার নিজের সম্বন্ধে কিছু শুনব ।
অমি আজাদ: আমার জন্ম দিনাজপুরে। অনেকে মনে করে গ্রামে জন্ম আমার, আসলে ওটা একটা ভালো শহর। বাংলাদেশের আর দশটা শহর যেমন থাকে তেমনই শহর। আমাদের অপার্চুনিটি বলতে ঢাকার মতন তেমন কিছু ছিল না; এটা উপলব্ধি হলো যখন ঢাকায় আসলাম, মনে হলো এক বিশাল সমুদ্রে এসে পড়লাম। ছেলেমেয়েদের মধ্যে যে স্মার্টনেস যে নলেজ, তা আমাদের মধ্যে ছিল না। তারপরেও যেটা স্বীকার করবো যে ফ্যামিলি থেকে আমরা হিউজ সাপোর্ট পেতাম। উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার জন্ম; পরিবারের পক্ষ থেকে কখনই কোন কমপ্লেইন ছিল না, যে এটা করছ কেন ওটা করছ কেন। শুধু একবার একটাই কমপ্লেইন হয়েছিল, আমি বলেছিলাম যে চারুকলায় পড়ালেখা করব; আব্বা আমাকে মেরে ফেলার জন্য বন্দুক বের করেছিলেন 🙂
পরিবার থেকে ভীষণ সাপোর্ট পেয়েছি আমি; একটু বলি, ১৯৯৪ সালে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় ডায়াল করতাম ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য, সেসময় মিনিটে বিল উঠত ৪০ টাকা। এই STD কল করে ইন্টারনেট ব্যবহার করতাম প্রতিদিন আধা ঘন্টা ২০ মিনিটের মত; মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা ফোনের বিল আসতো এবং আব্বা এই ফোনের বিলটাও বেয়ার করতেন কিন্তু কিছু না বলে। এমন না যে আব্বার ঘুষের টাকা ছিল, তিনি এই সাপোর্টটা দিতেন যে ছেলে কিছু করতে চায়। আমার মনে হয় না এখনকার বাবারা এরকম সাপোর্টট দিবে! শুধু বাবা না, আমি প্রচন্ড সাপোর্ট পেয়েছি বাবা, মা, ভাই, বৌ সবার কাছ থেকে। ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডটা এরকমই।
আমরা দুই ভাই, দিনাজপুরে ISP করার মধ্যে দিয়ে আইটি ফিল্ডে এন্ট্রি। অনেকেই হয়ত নাম জানে- দিনাজপুর অনলাইন। দিনাজপুর অনলাইনে কাজ করার পাশাপাশি বাংলা নিয়ে কাজ করার একটা প্যাশন ছিলো। তখন একুশে নামের একটা প্রজেক্টেও কাজ করতাম আর এরই মধ্য দিয়ে তখন পরিচয় হয় ডঃ রবিন আপটন, হাসিন হায়দারের মতন মানুষের সাথে। হাসিন আমাকে উৎসাহ দেয় যে বাংলা নিয়ে কাজটা আমি প্রফেশন হিসেবে নিচ্ছিনা কেন এবং সিসটেক ডিজিটালের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। আমি দিনাজপুর অনলাইন ছেড়ে ঢাকায় চলে আসি। ইন্টেলের নববাংলা নামের একটা প্রজেক্ট ছিল সিসটেক ডিজিটালের সাথে, সেখানে কাজ শুরু করলাম, বাংলা নিয়ে কিছু রিসার্চের কাজ করছিলাম তখন আর এর মধ্য দিয়ে আমার ক্যারিয়ার শুরু।
তারপর অলোম্যাচ নামের ফ্রান্সের একটা কোম্পানির অফশোর অফিস চালাতাম। চার-পাঁচ জন ডেভলপার নিয়ে, খুব ভালো একটা টিম ছিল। আমার কপাল ভালো যে সবসময় সব টিমই ফ্র্রেন্ডলি ছিল আমার সাথে। আমাদের Systech এ ম্যানেজার ছিলেন রাশেদুল হাসান, ফ্যান্টাস্টিক গাই। অলোম্যাচ থেকে চলে গেলাম দাউদ আইটিতে। ওখানে আমরা ডেনমার্কের এডমিরাল আইটির প্রজেক্টে কাজ করতাম। তারপর চলে গেলাম সিদ্দিকি টেলিমার্কেটিংএ সেখানে ইনফ্রাটেল-এর কাজ করতাম।
এর মাঝখানে কনসাল্টেন্ট হিসেবে World Bank, USAID, CIDA, UNDP এর সাথে কাজ করা হয়েছে। ন্যাশনাল আইডির যে প্রোজেক্ট ছিল, ওটাতেও সম্পৃক্ত থাকার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। গভর্নমেন্টকে কাছ থেকে জানার ভালো সুযোগ হয়েছে। মুনীর হাসান ভাইয়ের কথা ডেফিনেটলী বলব। মুনীর হাসান ভাই গভর্নমেন্টের সাথে কাজ করার একটা ভালো লিংক করে দিয়েছিলেন। এভাবেই ক্যারিয়ার চলতে চলতে আজ মাইক্রোসফটের ডেভলপার ইভানজেলিস্ট।

টেকটিউনস: সামাজিক বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও আইটি সেক্টরের ক্যারিয়ারে কিভাবে এলেন ?
অমি আজাদ: জানিনা, আমার মনেহয় প্যাশনেট হলে সবকিছুই করা সম্ভব। আমার মামার একটা কম্পিউটার ছিল ’৯২-তে। উনি কম্পিউটার সায়েন্সে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং করেন সিংগাপুর থেকে। উনি সিংগাপুরেই সেটেল ছিলেন, কিন্তু একটা পিসি কিনে রেখে গিয়েছিলেন দিনাজপুরে। ওটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করতাম। তখন গেম খেলতাম, এটা ওটা করতাম, বাংলায় একটা বই পেয়েছিলাম কিউবেসিক প্রোগ্রামিং এর, সেটা দেখে টুকটাক DOS এ ক্যালকুলেটর বানানো জাতীয় কাজ করতাম। তারপর FOXPRO, FORTAN (খুবই ক্রিটিকাল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ) নিয়ে নাড়াচাড়া করতাম। সেগুলো নিয়ে পড়ালেখা শুরু করে দেখলাম এটা এমন একটা মেশিন একে আমি যা বলব সেটাই করবে। আগ্রহটা কিন্তু ওখান থেকেই শুরু। আমি কিন্তু খুব critical দিকে যেতাম না। আমি এটাকে যতটুকু ফান হিসেবে নেয়া যায় ততটুকুই করতাম, এক্সপ্লোর করতাম।
এপ্লিকেশনেরতো কোন লিমিট নাই। ওয়েবের যে ব্যাপারটা, ওয়েবের মধ্যেই অনেক কিছু করা যায়। এখন হ্যান্ডহোল্ড ডিভাইসও চলে এসেছে । এগুলো লিমিট ছাড়া একটা জগত, ঢুকতে ঢুকতে ঢুকেই গেলাম। আর আমি ছাত্র হিসেবে খুব ভালো ছিলাম তাও না। আমি বাধ্য হয়েই শেষে সমাজ বিজ্ঞানে ভর্তি হয়েছিলাম। সারাক্ষণই কম্পিউটার নিয়ে থাকতাম, পড়ালেখা করব কখন? 🙂 এই জিনিসটা একটা খারাপ দিক ছিল। আমি পাঠকদের বলব দুটোই একসাথে কন্টিনিউ করতে হবে। পড়ালেখাটা খুবই কাজের। ওটাও সিরিয়াসলী নিতে হবে।

টেকটিউনস: বাংলা কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করে গেছেন বেশ বড় একটা সময় । এর পিছনে অনুপ্রেরণা কি ছিল ?
অমি আজাদ: বিষয়টা হচ্ছে যে ২০০০ সালের দিকে, সবাই হতে লেখালেখি করত, আমি চিন্তা করেছিলাম যে হাতে লেখালেখি করব না। তখনও চিঠির প্রচলন, ইমেইল তেমন একটা নেই। প্রশিকা, বিজয়, লেখনী সহ আরো দুই একটা টুল ছিলো বাংলা লেখার জন্য। এখন যেমন সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে লেখতে পারে, তখন এই ফিলটা ছিল না। ফন্ট চেঞ্জ করতে হয়, সার্চ করা যায় না, বিভিন্ন ব্যারিয়ার। তাছাড়া অনেক টাকা দিয়ে সফটওয়্যার কিনতে হত। Windows এর ভার্সন বদলালে বা অফিসের ভার্সন চেঞ্জ হলে সফটওয়্যার কোম্পানিকে টাকা দিয়ে আবার ঠিক করাতে হত। ২০০০ বা ২০০১ সালের দিকে ঘাটাঘাটি করছিলাম ফ্রি সাল্যুশন কি কি আছে। অলট্রিুইস্ট ইন্টারন্যাশনাল নামের একটা প্রতিষ্ঠানের প্রোজেক্ট ছিল একুশে; ডঃ রবিন আপটন সেটা চালাতেন। একুশে একটা ম্যাক্রো এপ্লিকেশন যেটা অফিস এর সাথে কাজ করবে এবং এভেইলেবেল যে ফন্ট আছে তা দিয়েই কাজ করবে। যেমন প্রশিকার যে ফন্ট আছে ওটা দিয়ে বিজয়ে লেখা যায় না, কিন্তু একুশে সবগুলোতেই লেখা যায়। এভাবে শুরু তারপর আমি কিছু এক্সটেন্ডেড করেছিলাম এপ্লিকেশনটায়, যেমন প্রশিকায় লেখা ডকুমেন্ট বিজয়ে কনভার্ট করা, বিজয়ে লেখা ডকুমেন্ট প্রশিকায় কনভার্ট করা, বিজয়েরই আবার চার-পাচঁটা ভার্সন আছে - এক ভার্সন থেকে অন্যটায় কনভার্সন, এই কাজগুলোতে আমার ইনপুট আছে। এই কাজ করতে করতে ২০০১ এর শেষের দিকে মনে হলো দেখি উইন্ডোজের বা ইউনিকোডের অবস্থাটা কেমন।
ওই সময় পরিচয় হলো পল নেলসনের সাথে, তিনি ওই সময় মাইক্রোসফটের টাইপোগ্রাফিক ডিপার্টমেন্টের হেড ছিলেন। ওরা ওই সময় বাংলা নিয়ে একটা ঝামেলায় ছিলেন এবং কনট্রিবিউটর খুঁজছিলেন। তখন বাংলা, হিন্দি সহ Indic যে ভাষাগুলো আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করছিলেন প্রফেসর যোশী । উনি ও উনার মেয়ে অপূর্বা এক সাথে কাজ করতেন। উনারা কোন কারণে প্রজেক্ট ছেড়ে ব্যাক করেন ইন্ডিয়াতে , এই আনফিনিসড প্রোজেক্ট টা R&D করতে আমি কাজ শুরু করলাম মাইক্রোসফটের সাথে। শুরুতে Non Discloser Agreement সাইন করতে হলো এবং আমার কিছু সোর্সকোডে কন্ট্রিবিউট করার সুযোগ হয়েছিলো উইন্ডোজে usp10.dll নামের একটা ফাইলের।
এই প্রথম আমার সুযোগ হয় মাইক্রোসফটের কোন সোর্স কোড দেখার। সবচেয়ে ভালো লাগে যে প্রতিটা লাইনে ডেসক্রিপশন আছে, কোন লাইন কি কাজ করছে। সাধারণত যেটা আমাদের এনভার্নমেন্টে প্রোগ্রামারদের কমেন্ট লিখতে দেখা যায়না, ফলে যে কাজ করেছে, সে ছেড়ে গেলে অন্যরা চাপে পড়ে যায় এবং কূল কিনারা পায়না। আমি যে সোর্সে অনেক মডিফিকেশন করেছি তা না, অল্প কিছু করেছি। য-ফলা নিয়ে একটা ঝামেলা ছিল ওটা ঠিক করলাম। পরেতো ‘ৎ’ চলে আসলো। ৎ তে আমার একটা ইনপুট ছিল, চন্দ্রঁবিন্দুর পজিশন নিয়ে ঝামেলা ছিল, সেটা ঠিক করেছিলাম। অফিস ২০০০ ইউজ করে তারা এই সমস্যাগুলো এখনো দেখা যাবে যেগুলি পরে ঠিক করে ফেলা হয়েছে। Virinda ফন্টটাতে সরাসরি আমার অনেক ইনপুট আছে, হিন্টিং - টেস্টিং এর বহু কাজ ছিল । এভাবে মাইক্রোফটের সাথে ইনভলবমন্ট ২০০১ এর মাঝামাঝি থেকে।
তারপর উইন্ডোজ এক্সপি সাভির্স প্যাক টু আসলো, বাংলা সাপোর্ট অনেক ভালো হলো । এর মধ্যে উইনিকোডের সাথে অনেক ফাইট চলতে লাগল, ওই সময় খুব ভালো সাপোর্ট দিয়েছিল Microsoft থেকে পিটার কনস্টেবল এবং ভারতের হায়দ্রাবার ইউনিভার্সিটির ডঃ গৌতম সেনগুপ্ত। আমরা ভীষন ফাইট করে ‘ৎ’ পেলাম। অনেকে অনেক কিছু বলে, তবে সত্য কথা বলতে বাংলাদেশ থেকে কেউ তেমন কিছুই করেনি, একটা মেইলও করেনি কেউ। আমি ওই মেইল লিস্টে ছিলাম, কখনও দেখিনাই বাংলাদেশ থেকে একটা মেইল গেল। আমরা য-ফলার জন্যও কাজ করেছিলাম, পরে আর সময় দিতে পারিনি এবং এখনো কোন সমাধান হয়নি। এভাবে বাংলা কম্পিউটিং এর সাথে আমার সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরে যেতে থাকে। আর কাজগুলি যে আমি টাকার জন্য করেছি তা না। একটা ডেডিকেশন কাজ করতো, যে আজকে এগুলি ঠিক হয়ে গেলে সমস্থ বাংলা ভাষাভাষীরা এটা ব্যবহার করতে পারবে। একই সাথে লিনাক্সের জন্যও কন্ট্রিবিউট করেছিলাম তখন।
এখনো মাইক্রোসফটের সাথে বাংলা নিয়ে কাজ করা হয়। যেমন ওরা চিন্তা করছে উইন্ডোজ এইটে একটা ট্রানসিলারেট (যেটাকে পাবলিক ফোনেটিক বলে) লেআউট থাকবে । এটা নিয়ে কিছু ইনপুট দিয়েছি, আমি জানিনা শেষ পর্যন্ত প্রোডাক্ট টিম সেটা রাখবে কি-না।
কাজ করতে করতে একদিন ওরা বলল তুমিতো অনেকদিন ধরে কাজ করছ তোমাকে একটা রিকগনিশন দেয়া দরকার। তখন ২০০৪ বা ৫-এর দিকে ওরা আমাকে MVP করে।

টেকটিউনস: আপনি কি বাংলাদেশে প্রথম MVP নাকি জাবির আল মিশো ভাই ?
অমি আজাদ: একই বছর আমি সম্ভবত ২য় কোয়ার্টারে আর মিশো ৩য় কোয়ার্টারে ।

টেকটিউনস: MVP পুরস্কার পাওয়াটা কেমন অনুভূতির ছিল ?
অমি আজাদ: Awesome! বাংলাদেশে প্রথম, আর তখন আমি ঢাকাতেও থাকি না। অদ্ভুত এক অনুভূতি! মাইক্রোসফটের একটা সার্টিফিকেট।

টেকটিউনস: আপনি যে শ্রম দিয়েছেন তার যথাযথ স্বীকৃতি কি পেয়েছেন ?
অমি আজাদ: স্বীকৃতির জন্য কিছু করিনি। হ্যাঁ at the end of the day আমাকে জীবিকা আয় করতে হবে। স্বীকৃতির জন্য বা পয়সার জন্য কাজ আমি করিনি। এখন বাংলার জন্য যারা কাজ করছে যেমন মেহেদী, হাসিন, সিয়াম, রিফাত এরা কেউ পয়সার জন্য কাজ করছে না। আবার যখন কমার্শিয়ার সাপোর্ট লাগে তখন এদের ডাক পড়ে, এটাই ভালোলাগা বা সফলতা। যেমন সিয়ামের একটা উদাহরণ দেই, রবির যখন কমার্শিয়াল ফন্টের দরকার হলো, বা নিবার্চন কমিশনের ফন্টের দরকার হলো তখন ওকে ডেকেছে, সে পয়সাও পেয়েছে। এখন বাংলা নিয়ে কিছু হলে সচিবালয় থেকে বা মিনিষ্ট্রি থেকে আমাদেরকেই ডাকে, এটাই সফলতা। তবে গভর্নমেন্ট থেকে যদি আরো ভালো সাপোর্ট পেতাম তাহলে ভালো হত। ওনাদের এটেনশন আমাদের এক্সপেক্টেড লেভেলের না।

টেকটিউনস: এক সময় আপনার উপর মাইক্রোসফটের ফন্ট নিজের বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ করা হলো – আপনার বক্তব্য কি ?
অমি আজাদ: (হাসি) মাইক্রোসফটের ফন্ট আমি চালালে কি আমি আজকে মাইক্রোসফটে কাজ করি! কনট্রোভার্সি থাকবেই। অনেকেই আপসেট হয়ে যায় যে বাংলার জন্য কাজ করতে গেলাম কিন্তু এটা কি হলো। এটা আমি আসলে পারসোনালী নেই না। প্রফেশনালী কাজ করতে গেলে কমিউনিটি ডেভলপ করতে গেলে অনেক বেরিয়ার আসে, সেটা ইগনোর করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

টেকটিউনস: দেশের কিছু ব্যবহারকারী বাদ দিলে প্রায় সব পিসিই পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করে, এই ব্যাপারে মাইক্রোসফট বাংলাদেশের অবস্থান কি ?
অমি আজাদ: সবকিছুই পাইরেটেড তা নয়। সচেতনতার অভাব আছে। সাড়ে তিন হাজার টাকায় কিন্তু উইন্ডোজ পাওয়া যায় সাথে একটা এন্টিভাইরাস ফ্রি। বাজারে একটা এন্টি ভাইরাস ৯০০ টাকা। তাহলে দাম হয়ে গেল ২৫০০ টাকা। ২৫০০ টাকায় একটা ওএস হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত: আমাদের এখানে একটা মিস লিডিং কথা আছে, আমরা ২০১৩ পযর্ন্ত পাইরেটেড সফটওয়্যর ইউজ করলে কেউ কিছু বলবে না। আমি যতদূর জানি এটা যে দেশে কপিরাইট আইন নেই সেদেশে প্রযোজ্য, থার্ড ওয়ার্ল্ড, ফোর্থওয়ার্ল্ড বলে কোন লাভ নাই। গরীব দেশ ভাঙ্গায় আর কত? মানুষ ওপেন সোর্স ইউজ করুক, আমার কোন সমস্যা নেই, তবে পাইরেসী যেন না হয়।
শুধু মাইক্রোসফট না। সরকার কর্পোরেটসদের সাথে কাজ করে দাম অনেক কমিয়ে আনতে পারে। সব দেশের জন্য সব কোম্পানীর আলাদা দাম নির্ধারণ করা আছে, বাংলাদেশের নাই। বিল গেটসকে চিঠি দিয়ে কি লাভ, কথা বলতে হবে হাতের কাছে যাদের পাওয়া যায় তাদের সাথে। যেগুলো আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করি এমন কোম্পানির কাছে প্রস্তাব দিলে যখন বাল্ক সেল হবে তখন দাম কমেই যাবে। এটা মাইক্রোসফট হোক বা ওরাকল আর এডোবি হোক।

টেকটিউনস: মাইক্রোসফটের MSDNAA ও Student Partner প্রোগ্রামতো ভালই এগোচ্ছে, এর মূল লক্ষ্যটা কি ?
অমি আজাদ: MSDNAA এর কিছু গোল আছে। আমাদের প্লাটফরমে যা যা আছে তা দিয়ে আমরা স্টুডেন্টদের সাপোর্ট দেই। শেয়ারপয়েন্ট কি জিনিস অনেকেই জানে না। সকালে অফিসে একটা ফোন এসেছিল শেয়ারপয়েন্ট সার্ভার মেইনটেইন করতে হবে, সাড়ে তিন লাখ টাকার বেতন দেবে, দুইজন ছেলে দরকার। আমি জানি সারা বাংলাদেশ খুঁজলেও দু’জন পাওয়া যাবেনা। জিপিতে আধা ডজন ছেলে এসেছে ইন্ডিয়া থেকে শেয়ারপয়েন্ট কাজ করতে, আমাদের দেশে লোক নাই। আমরা এই সুযোগগুলি দেই যাতে স্টুডেন্টরা একটু এক্সপ্লোর করে ক্যারিয়ারে কি নিয়ে এগোলে বেশী লাভ, সেটা বুঝতে পারে।
এক ইউনিভারর্সিটির দুজন টিচারকে একদিন জিজ্ঞাস করেছিলাম, ডায়নামিক্স কি, উনারা উত্তর দিতে পারেননি। দোষ উনাদের না, এক বড় প্রতিষ্ঠানের এক টিচারের সাথে কাজ করেছিলাম, যে কিভাবে MSDNAA নিয়ে কাজ করা যায়। কিছুদিন পর উনি মেইল দিলেন যে উনি আমেরিকায় চলে গিয়েছেন স্কলারশীপ নিয়ে এবং অমুকের সাথে কথা বলতে বললেন। অমুকের সাথে কয়েকদিন কথা বললাম, কিছুদিন পর উনিও বলেন যে আমিতো স্কলারশীপ নিয়ে চলে যাচ্ছি দেখি আপনাকে কারো সাথে ট্যাগ করে দেয়া যায় কিনা। আমি জানিনা ওরা আর দেশে ফিরে আসবে কিনা, সবাইতো আর জাফর ইকবাল না। আর এখনকার স্টুডেন্ট টিচার সবারই এক সমস্যা। কেউ কিছু এক্সপ্লোর করেনা, টিচারের ধান্দা স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে যাবে, আর স্টুডেন্টদের ধান্দা কোনোমতে পাশ করলেই হবে। এর বাহিরে যে ইন্ডাস্ট্রি আছে, ক্যারিয়ার আছে কিচ্ছু বুঝতে যায়না!
MSDNAA করার ফলে যেই জিনিসগুলো পাও, এটলিস্ট নামটা জানো। সাড়ে তিন লাখ টাকা স্যালারি ইজ এ লট অফ মানি। কিন্তু আমাদের এখানে এমন ছেলেপেলে নাই। ৯০% ইন্ডাস্ট্রিতে আমাদের প্রোডাক্টগুলো ব্যবহার করে। এই মার্কেটটা ধরলেতো আর ক্যরিয়ার নিয়ে টেনশন করতে হয়না।
বাংলাদেশ নামে ছোট দেশ কিন্তু এখানে ৮২টা ভার্সিটি আছে, সব জায়গায় পৌছানো মাইক্রোসফটের পক্ষে সম্ভব না, এজন্য MSP নেয়া হয়। MSP দের একটা ভিজিবিলিটি আসে, অফিস ৩৬৫ এর মতন অনেক ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড জিনিসপত্র ব্যবহারের সুযোগ পায়, সার্টিফিকেশন করার সুযোগ পায়।

টেকটিউনস: GNU এর জনক Richard Stallman এর এক লেখায় পড়েছিলাম মাইক্রোসফট যে ফ্রি সফটওয়্যার দেয় এটা ঠিক তেমন যে সিগারেট কোম্পানি কলেজ ছাত্রদের ফ্রি সিগারেট দেয় । আপনার মত জানতে চাচ্ছি।
অমি আজাদ: ব্যাক্তিগতভাবে বললে ভদ্রলোক অনেক ইমোশনাল কথাবার্তা বলেন। ওনার অনেক ফলোয়ার আছে আমি জানি। একবার শুনলাম উনি ল্যানকার্ড ইউজ করা বন্ধ করে দিয়েছেন ওটাতে একটা কপিরাইট করা ফামর্ওয়্যার ছিল বলে। উনি কি সাধু দরবেশ টাইপের লোক নাকি! উনাকে মানুষ খাবার দিয়ে যায়, যা খেয়ে উনি চলেন? উনার ইনকাম সোর্স কি আমি জানি না। At the end of the day you have to make money. তুমি যাই কর না কেন, তোমাকে টাকা রোজগার করতে হবে এই পৃথিবীতে বাঁচতে হলে, তুমি যদি সুন্দরবনে যেয়ে থাকো তাহলে অন্য কথা। বা আমি সাধু-দরবেশ আমার সামনে সবাই ভোগ প্রসাদ রেখে যাবে সেটা খেয়ে, মানব কল্যাণ করব। একটু আগে আমি যে কথাটা বললাম ফ্রি সফটওয়্যার যদি আমি না দেই, তুমি শেয়ারপয়েন্ট কি জানলে না, সাড়ে তিন লাখ টাকার জবটাও পেলে না, লাভ কি আমার হলো না লসটা তোমার হলো? আমি জানি উনি অনেক সম্মানী ব্যক্তি এবং আমি উনার এগেইনস্টে কিছু বলছি না। উনার ওই সময় যা ঠিক মনে হয়েছে তিনি বলেছেন। কিন্তু এখন আমি সাত লাখ টাকা মাসে খরচ করতে রাজি হয়ে দু’টা ছেলে খুঁজছি, আমি পাচ্ছি না। এখন উনি এটার জবাব কি দিবেন?

টেকটিউনস: বাংলাদেশে Imagine Cup এর কাযর্ক্রম সম্পর্কে জানান ।
অমি আজাদ: Imagine Cup বাংলাদেশে হিউজ সাকসেস। দেশের ছেলেপেলের মধ্যে যে আগ্রহ যে স্পৃহা আমরা দেখলাম তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। ব্যাক্তিগতভাবে বলছি, এটা আমি কখনই ভাবিনি যে ১০টা ভার্সিটি নক করব আর ৯০০০ স্টুডেন্ট রেজিস্ট্রেশন করবে। আমরা আশা করছি যে, ২০১২’র ইমাজিন কাপ আরও ভালো হবে। কারণ এখন সবাই জেনে গেছে ইমেজিন কাপ কি। স্টুডেন্টপার্টনাররাও কাজ করছে, ফলে ছেলেপেলেরা মোটামুটি জানে।
এবার আমরা বড় কিছু করব। গতবার যেটা হয়েছে, পার্টিসিপেন্টরা সফটওয়্যার বানিয়েছে জাজরা দেখে রেজাল্ট দিয়েছে। এবার একটু চেঞ্জ হবে। এবার আমরা প্রথম ১০টার মত প্রজেক্ট বেছে নিয়ে একটা ভেন্যুতে শোকেস করব তিন চার দিনের জন্য। NSU বা ঢাকা ভার্সিটিতে হতে পারে, যেখানে স্টুডেন্টদের গেদারিং আছে। ইমেজিন কাপ নিউইয়র্ক ফাইনাল থেকে আমার যেটা লার্নিং, যখন ইন্টারভিউ করা হয় তখন টিমের ছেলেপেলে ঘাবড়ে যায়। Practice makes a man perfect, যখন বলতে বলতে মুখে ফেনা উঠে যাবে তখন ওদের এই প্রেকটিসটা হয়ে যাবে । ওরা চ্যাম্পিয়ন না হোক কিন্তু এই প্রেকটিসটা আজ হোক কাল হোক ইন্টারভিউ বোর্ডে গেলেও কাজে লাগবে। নভেম্বারে একটা প্রেস কনফারেন্স করব প্লাস প্রিভিয়াসলী যারা লোকালী ইন্টারন্যাশনালী পার্টিসিপেট করেছে তাদের নিয়ে মিট দা প্রেস করব । তারপর যথারীতি বুটক্যাম্প চলবে।

টেকটিউনস: ২০১২ এর ইমেজিন কাপের জন্য আগ্রহীরা কিভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে ?
অমি আজাদ: ইমেজিন কাপের একটা গ্লোবাল সাইট আছে ওটাতে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে । ফলে ওরা টাইম টু টাইম আপডেট পাবে। এবারো MDG এর চ্যালেজ্ঞগুলো থাকছে, ওগুলো নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। এই কাজগুলো এখন থেকেই করতে হবে যদি কম্পিট করার ইচ্ছা থাকে।

টেকটিউনস: ২০১১ সালে টিম ড়্যাপচারের পপুলার ক্যাটাগরী জয়টা কিভাবে মূল্যায়ন করবেন ?
অমি আজাদ: টিম ড়্যাপচার একটা দুর্দান্ত টিম। ওদের উদ্দ্যম, ওদের ক্রিয়েটিভিটি এবং ওদের মেন্টর নিয়াজ মোর্শেদের যা গাইডিং, সব অসাধারণ। আমি জানিনা অন্যান্য টিম এটা পেয়েছিল কিনা । অন্যান্য টিমের টিচাররা ওদের মেন্টর ছিল, কিন্তু ওরা হয়ত ওই গাইডেন্স পায়নি। যেরকম একটা টিম উইন্ডোজ ফর্মস দিয়ে খুব ক্রিটিকাল সব কাজ করেছিলো কিন্তু ওই টিম এটাই জানতো না যে WPF নামে একটা জিনিস আছে বা সিলভার লাইট বলে এটা জিনিস আছে । যেটা ওদের ছয় মাসের কাজ কমিয়ে দিত। টিম ড়্যাপচারের জুঁটিটা সুন্দর হয়েছিলো।

টেকটিউনস: আপনি দেশের আইসিটি ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি কী জরুরি করা বলে মনে করেন।
অমি আজাদ: আমার মনে হয় বাংলাদেশে সব কিছুই আছে। শুধু যেটা নেই সেটা হলো আওয়ার্নেস । যেমন গার্মেন্ট সেক্টর, এরা এটা জানেনা যে কিভাবে আইটিকে কাজে লাগিয়ে পরিধি আরো বড় করা যায়। আর সফটওয়্যার ডেভলপামেন্ট যে কোম্পানি আছে, তাদের এই আওয়ার্নেস নাই যে এরা গার্মেন্টস সেক্টরকে কিভাবে ইমপ্রুভ করতে পারে সেই বিষয়ে এডুকেটেড করা। ইন্ডিয়াতে কিন্তু খুব বড় মার্কেট, আগে কিন্তু ছিল না। একদম রুট লেভেলে কথা বলি, আগে কিন্তু মানুষ গাছর নিচে ঘুমাতো, ঘর ছিল না। যে ঘর আবিস্কার করেছে সে কিন্তু যে গাছের নিচে ঘুমায় তার কছে আইডিয়াটা সেল করেছে। বিষয়টা এরকম। মার্কেটটা তৈরী থাকেনা, প্রয়োজনটাকে দেখাতে হয় আঙ্গুল দিয়ে যে এটা তোমার প্রয়োজন। আমাদের আইটি সেক্টরে বেটার মার্কেটিং লোক দরকার, যে প্রয়োজনাকে ফিল করাতে পারবে।


টেকটিউনস: রাজধানীর মানুষ এখন ওয়াই ম্যাক্স ব্যবহার করছে কিন্তু পুরো দেশের মানুষ এর সুফল ভোগ করবে?/দেশের ওয়াই ম্যাক্স নিয়ে কিছু বলুন।
অমি আজাদ: এগুলোর খুবই বাজে অবস্থা । এই যে আমাদের ওয়াইমেক্স বা গোটা টেলিকম ইন্ডাস্ট্রি, এদের আসলে কে কন্ট্রোল করে? কিছুদিন আগে ব্যবহারকারীরা দেখি খুবই আপসেট কারণ ওরা Fair use policy এপ্লাই করেছে। এপ্লাই করার ফলে ৩৫ জিবির বেশী ডাউনলোড হলে স্পিড কমিয়ে দেয়। সে স্পিড আবার সহজে বাড়ে না, বিলিং সাইকেল চলে গেলেও না। ফোন করে চিল্লিচিল্লি করে বাড়াতে হয়। এই FUPতো একটা পলিসি এটা কে এপ্রুভ করল? BTRC এপ্রুভ করেছে? ওরা কি একবার কি জিজ্ঞাস করেছিল কেন এই পলিসি? ব্লগে দেখি এদের বিরুদ্ধে লেখা ভরা। BTRC কি একবার বলেছে যে এত kbps এর নিচে স্পিড দেয়া যাবে না। ওরা বলে upto one mbps, তাহলে down to কত? একটা ইউজার মিনিমাম কত পাবে?

টেকটিউনস: প্বার্শবর্তী দেশ ভারতে 3G সেবা খুব ভাল মত চলছে আমাদের দেশে 3G চালু হলে তার সুফল মানুষ কতটুকু পাবে?
অমি আজাদ: আমি মন থেকে চাই 3G আসুক, কারণ বাংলাদেশে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ডিস্টেন্স অনেক বেশী। একটাই সুবিধা 3G বা ওয়াইমেক্স এর সেটা হলো দুরদুরান্তে high speed ইন্টারনেট দিতে পারব তার পাশাপাশি অন্য অনেক সার্ভিস ও চলে যাবে।


টেকটিউনস: আপনার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে পরিকল্পনা কি কি আছে ? Entrepreneurship এ যাবার কোন পরিকল্পনা আছে ?
অমি আজাদ: আমার ক্যারিয়ারতো কমিউনিটি নিয়ে। আপাতত ইন্ট্রারপেনারশীপে যাওয়ার কোন ইচ্ছা নেই। মাইক্রোসফটের হয়ে আমি অনেকগুলো কাজ শুরু করেছি এবং অনেকগুলো চিন্তাধারা কে কাজে লাগাচ্ছি। যেমন আমি আসার আগে ইমেজিন কাপ বাংলাদেশে ছিলই না, তারপর MSDNAA, স্টুডেন্ট পার্টনারশীপ। এগুলো নিয়ে আমার লংটার্ম ভিশন আছে । আরেকটা নতুন প্রোগ্রাম আনছি ফ্যাকাল্টি কানেকশনস। এগুলো নিয়ে আমার ভিশন যেগুলো আছে ওগুলো ছেড়ে আমি কালই ইন্ট্রারপেনারশীপে যেতে পারবো না। তবে কেউ যদি করতে চায় তাহলে আমি সব ধরণের সাপোর্ট দিতে রাজি আছি। মাইক্রোসফটের বিভিন্ন প্রোগ্রাম আছে বা বুদ্ধি দিয়ে জ্ঞান দিয়ে হোক হেল্প করতে রাজি আছি। কিন্তু এই মুহূর্তে আগামী এক দুই বছর এরকম কিছু চিন্তা করছি না। তবে লংটার্মে হয়ত মুভ করতে হবে, we all have to move on ।

টেকটিউনস: আপনার পরিবার সমন্ধে কিছু বলুন।
অমি আজাদ: আমার পরিবার খুব ছোট । আমি, আমার বউ আর আমার বাচ্চা। ছেলের বয়স ছয় বছরও কেজিতে পড়ে মাইলস্টোন স্কুলে। আমার বউ হাউজ ওয়াইফ, আগে টিচার ছিল মাইলস্টোন স্কুলেই। ও বাসায় থাকতে বা ঘর গোছাতেই বেশী পছন্দ করে। আমার মায়ের সাথে খুব ক্লোজ রিলেশন ছিল, আম্মা আমাদের খুব ভালোভাবে গড়ে তুলেছেন, যার কারণে এই পূর্যন্ত আসতে পারা এবং এগিয়ে যাওয়া। আমি চাই না আমার ছেলের সাথে মা’র কোন গ্যাপ থাকুক। তাই আমিও এনকারেজ করি না বাইরে জব করুক। তবে everyone has their freedom.

টেকটিউনস: টেকটিউনস কেমন লাগে ?
অমি আজাদ: টেকটিউনসের ইনফো খুবই সুন্দর । সাইটা যদি আমি এক কথায় বলি খুবই প্রোফেশনাল । CNet এর কোন বাংলা ভার্সন যদি চিন্তা করতাম তাহলে এর থেকে ভালো কিছু হতে পারত না। কিন্তু একটা জিনিস খারাপ, পাইরেসী। টেকটিউনসে সফটওয়্যার বা মুভি পাইরেসীগুলো ঠিক না। এটা যদি বন্ধ করে দেয় তাহলে কিছু ভিজিটর কমে যাবে, কিন্তু awareness টা শুরু করতে হবে। পাইরেসী নিয়ে আমাদের অনেক সমস্যা। টেকটিউনস আশা করি একটা রেভুলুশন শুরু করতে পারে। কারো ব্লগ পোষ্ট মুছে দেয়ার দরকার নাই, কিন্তু সচেতনতাটা আরম্ভ করতে হবে।

টেকটিউনস: প্রযুক্তির ক্ষেত্রে টেকটিউনসের আর কী কী করা উচিত বল আপনি মনে করেন।
অমি আজাদ: টেকটিউনস থেকে আশা করি, যে বেশ কিছু অপার্চুনিটিস আমাদের সামনে আছে। যেমন Javascript conference হয়ে গেল, phpXpert সেমিনার আছে, dotNET ওপেন ডে হলো, সামনে ইমেজিন কাপ আছে । টেকটিউনস আমাদের সাথে কাজ করতে পারে, শুধু মাইক্রোসফট না, সবার সাথে। যাতে অনলাইন সেক্টরে জিনিসগুলো ফোকাস পায়। যেমন ইভেন্টগুলো প্রোফেশনাল ডকুমেন্ট থাকে না, কেউ একজন দায়সারা কিছু লিখলো, কিন্তু প্রোফেশনাল ডকুমেন্ট দরকার আছে । ইভেন্টগুলোতে ৯০% ই একই অডিএন্স আসে, প্রোফেশনাল ডকুমেন্টেশন থাকলে নতুনরা জানতে পারত।

টেকটিউনস: টেকটিউনসের পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
অমি আজাদ: টেকটিউনসকেও অনেক ধন্যবাদ।

https://www.techtunes.com.bd/featured/tune-id/94298
3
টিউন্টারভিউ গেস্ট: মাহমুদুল হাসান সোহাগ, উদ্দ্যোগতা, পাইল্যাবস, অন্যরকম গ্রুপ
টিউন্টারভিউ হোস্ট: আরিফ নিজামী
সময়: ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ । রবিবার । সন্ধ্যা ৬টা ।
স্থান: কাওরান বাজার, অন্যরকম গ্রুপ অফিস । ঢাকা ।
ব্যাপ্তি: প্রায় ৫৮ মিনিট ।

চাকচিক্যের এই যুগে একটু অন্যরকম একজন তরুণ মাহমুদুল হাসান সোহাগ। দেশের চিরচেনা ব্যবসা জগতকে বদলে দিতেই যিনি গড়ে তুলেছেন বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। ব্যবসায়ী নয়, সত্যিকারের উদ্দ্যোগতা হতেই আগ্রহ তার। আজ শুনবো  EVM - Electronic Voting Machine নিমার্তা প্রতিষ্ঠান পাইল্যাবস সহ আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হাসান সোহাগের।

টেকটিউনস: প্রথমেই নিজের ও আপনার পরিবার সম্বন্ধে কিছু বলুন।
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: আমি মাহমুদুল হাসান সোহাগ। নিজের কথা বললে, আমি স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি এমন একটা মানুষ। আমার শিক্ষাজীবন শুরু জামালপুর জেলার সরিষাবাড়িতে। সেখানে প্রথমে নাসিরউদ্দিন কিন্ডারগার্ডেন তারপর রিয়াজউদ্দিন তালুকদার উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ি এসএসসি পূর্যন্ত। এর আগে হাইস্কুলে, ক্লাস ফাইভ , ক্লাস এইটের বৃত্তি মোটামুটি সব জায়গাতেই ফাস্ট হয়েছিলাম। এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম হই। এরপর ভর্তি হই ঢাকা কলেজে। সেখানে এইচএসসিতে চতুর্থ হই। তারপর বুয়েটের ইলেকট্রিকাল ডিপার্টমেন্ট। ওখানেও রেজাল্ট ভাল ছিল, টিচার হবার কাছাকাছি ছিল। পাস করার আগে থেকেই বুয়েটের আইআইসিটিতে (IICT) রিসার্চ এসিস্টটেন্ট হিসেবে ছিলাম। পাস করার পর রিসার্চ ইন্জিনিয়ার হিসেবে কিছুদিন জব করেছিলাম। সেটাই ছিল আমার প্রথম এবং শেষ চাকরী। আমার লক্ষ্যই ছিল উদ্দ্যোগতা হবার।
আমার বাবা হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। মা চাকরী করতেন পোষ্ট অফিসে। এখন উনারা সরিষাবাড়িতেই আছেন। আমরা তিন ভাইবোন। আমি সবার ছোট। বড় দুই বোনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট আপু বগুড়ায় থাকেন। যেহেতু বিয়ে করিনি তাই এখন আমি বড় আপুর সাথেই থাকি 🙂 ।

টেকটিউনস: বুয়েট বা প্রকৌশল বিদ্যা বেছে নেবার কারণ কি ছিল ?
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: আমার আম্মার ইচ্ছা ছিল আমি ডাক্তার হই। কিন্তু জীববিজ্ঞানের সাথে কখনও কমফোর্টেবল ছিলাম না। আমি কোন জিনিষ সহজে বুঝতে পারি, কিন্তু মুখস্ত করা আমার জন্য অনেক কষ্টের একটা ব্যাপার। যে কারণ প্রথমে এসএসসিতে জীববিজ্ঞান নিলেও পরে বাদ দিয়ে দেই। বাসায় অনেক বোঝাতে হয়েছে যে জীববিজ্ঞান আমার বিষয় না।
যেহেতু গাণিতিক বিষয়ের উপর একটু বেশী আর্কষণ ছিল তাই ইন্জিনিয়রিংয়ে আসা। তাছাড়া দেশের সেরা ছাত্ররা যেহেতু বুয়েটকে টার্গেট করে, ওটাও অনুপ্রেরণা থাকতে পারে।


টেকটিউনস: ট্রেডিশনাল জব মার্কেট ছেড়ে ইন্ট্রেপ্রেনিয়রশীপে আশার কারণ কি ?
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: ছোটবেলা থেকেই যেটা ট্রেডিশনাল ওটা করতে চাইতাম না। সবসময়ই মনে হতো আমি অন্যরকম কিছু করতে চাই। আমি যে গ্রুপ অফ কম্পানিজ চালাই "অন্যরকম গ্রুপ"। এই নামটা মনে হয় সে জায়গা থেকেই এসেছে। ওই আলাদা কিছু করার ইচ্ছাটা ছিল। বাংলাদেশেতো সবাই পাশ করেই চাকুরীতে ঢুকে যায়। সেখানে আমার আলাদা কিছু করার ইচ্ছা ছিল।
দ্বিতীয়ত, নিজে কিছু করলে আমি যেটা চিন্তা করি সেটা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা থাকে। নিজের মধ্যে যেটা সৃষ্টিকর্তা দিয়েছেন তা পুরোটা এক্সপ্লোরের সুযোগ থাকে। চাকরীতে গেলে সীমাবদ্ধতা চলে আসে। যেমন এখন আমার কোন ছুটি নেই। প্রতিদিন প্রায় সকাল ৯টায় বাসা থেকে বের হই। রাত ১২টায় বাসায় ফিরি। কোন ছুটি বা বিশ্রাম ছাড়াই এটা আমি করছি। চাকরী করলে যেটা মনে হয় না সম্ভব ছিল।


টেকটিউনস: আপনার এই উদ্দ্যোগগুলোর পিছনে অনুপ্রেরণা কি ?
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: আমি অনেকবার নিজেকে জিজ্ঞেস করে দেখেছি আমার অনুপ্রেরণা টাকা কি না। অনেক কিছু বিচার বিশ্লেষন করে নিজের কাছে এই সেটিসফেকশনটা পেয়েছি যে আমার অনুপ্রেরণা টাকা না। আমার হাতে এই মূহুর্তে সহজে টাকা বানানোর অনেক উপায় আছে। আমার অনুপ্রেরণা টাকা হতো তাহলে আমি হয়ত সেসব কাজই করতাম। কিন্তু না, আমার কাছে উদ্দ্যোগক্তা আর ব্যবসায়ী হওয়া এক বিষয় নয়। ব্যবসায়ী বলতে বণিকশ্রেণি বোঝায় যারা একটা পণ্য কিনবে আর অন্যজনের কাছে বিক্রি করে মাঝে কিছু লাভ করবে। আমি সেটা করতে চাই না। আমি চেয়েছি মানুষের কর্মসংস্থান হবে, দেশে যা পরিবর্তন দরকার তার জন্য চেষ্টা করে যাব।
বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় নানান সমস্যা। কেউ চাইলে সেগুলো এড়িয়ে যেতেই পারে। যেমন কোন মেয়েকে কেউ উক্তত্য করল, তার প্রতিবাদ করায় তার বাবাকেই হয়ত জীবন দিতে হলো। একজনের জমি অন্যজন দখল করে বসল, ইত্যাদি। এইসব জিনিষ আমাকে অনুপ্রানিত করে কিছু করার জন্য।


টেকটিউনস: আপনার ইন্ট্রেপ্রেনিয়রশীপের শুরু কিভাবে হয় ?
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: আপনার ইন্ট্রেপ্রেনিয়রশীপের শুরু বুয়েটে ভর্তি হবার পরই। শুরুতেই একটা এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন চালাতাম। ওখানেও ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশে যেখানে নোটস, সাজেশন ভিত্তিক পড়ালেখা হয়, পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়াই বড় করে দেখা হয় সেখানে ভিন্ন কিছু করতে চেয়েছি। আমি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বড় সমালোচক। আমার মনে হয়, যেভাবে শিক্ষাব্যবস্থা চলছে তার থেকে কোন শিক্ষাব্যবস্থা না থাকলেই বোধ হয় ভালো হত। যদি সবাইকে ছাড় দাওয়া হতো যে যার যা ইচ্ছা পড়ো তাহলে মানুষ আরো যোগ্য হয়ে উঠত। এই শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের যোগ্যতাকে নষ্ট করছে। সে জন্য একটা ভেন্চার করেছিলাম যে সবাই যা পড়বে বুঝে পড়বে। এখনও চলছে।
আমাদের টেকনোলজি রিলেটেড ভেন্চারগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম সফটওয়্যার নিয়ে কাজ শুরু করি ফাস্ট ইয়ার সেকেন্ড টার্ম থেকেই। সাথে আমার বন্ধু মাসুম হাবিব ছিল, ও এখন পিএইচডি করছে। আমরা আউটসোর্সিং করতাম । দেশের মধ্যে একাউন্টিং সফটওয়্যারের কাজ করি। চর্তুথ বর্ষে এসে নতুন একটা জিনিষ শিখলাম, তা হলো মাইক্রোকন্ট্রলার। ওটা তখন বুয়েটে পড়ানো হত না। আমরা নিজের ইচ্ছাতেই তা শিখি। তখন পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখে একটা কাজও পেয়ে গেলাম। তখন পাইল্যাবস নাম দিয়ে শুরু করি। ওখান থেকেই শুরু। তারপর একজনের কাজ করার পর তার সূত্রে আরেকজনের কাজ। তার থেকে আরেকজনের । এভাবেই কাজ করা হয় তখন।
ইন্ট্রেপ্রেনিয়রশীপের আরেকটা বড় পার্ট হচ্ছে সোসিয়্যাল ইন্ট্রেপ্রেনিয়রশীপ। আমি বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির একাডেমিক কাউন্সিলর। গণিত অলিম্পিয়াডের প্রায় শুরু থেকেই এর সঙ্গে আছি। জাফর ইকবাল স্যার, কায়কোবাদ স্যার, মুনির হাসান ভাই আমরা অলমোস্ট শুরু থেকেই ছিলাম। এখনও আছি । আমাদের গণিত অলিম্পিয়াডে কিন্তু সবাই ভলেন্টিয়ার। জাফর ইকবাল স্যার থেকে শুরু করে যে ছেলেটা রুমে রুমে গিয়ে নাস্তা দিয়ে আসত সেও ভলেন্টিয়ার। এটা ইন্ট্রেপ্রেনিয়রশীপের একটা বড় জায়গা যে ওখানে আমরা সংগঠিত করার চেষ্টা করেছি পুরো অনুষ্ঠানটাকে। এখন বাংলাদেশের বেশীর ভাগ মানুষ গণিত অলিম্পিয়াডকে জানে, চিনে।
এছাড়া KIDS বা Knowledge and Information Diversification Society নামে একটা প্রজেক্ট চালাতাম। ওটার বর্তমান নাম অন্যরকম পাঠশালা। থার্ড ইয়ারের দিকে স্যারকে বলে একটা রুম নিয়ে আমরা যে যেটা পারি ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ সেটা ভিডিও রেকর্ড করতাম। সেটা রেকর্ড করে সিডিতে রাইট করে ছড়িয়ে দিতাম। ওটা ওপেন সোর্স ছিল। আমরা বিক্রি করতাম না, কিন্তু একটা শর্ত ছিল যে একটা নেবে সে আরো দুটা অন্যকে দিবে। তখন দেশের নেট স্পিড ভাল ছিল না তাই ইউটিউবে আপলোড করা হয় নি। পরে দেখলাম সালমান একাডেমীও প্রায় একই ধরণের কাজ করছে। আমরা এটা তারও অনেক আগে করেছিলাম।

টেকটিউনস: আমাদের দেশে সফটওয়্যার স্টার্টআপ দেখা গেলেও হার্ডওয়্যার স্টার্টআপ প্রায় দেখাই যায় না; এর কারণ কি ?
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: সফটওয়্যার স্টার্টআপ করা সহজ । অফিস দরকার নাই শুধু কম্পিউটার আর নিজ মেধা থাকলেই কাজ শুরু করা যায়। কিন্তু হার্ডওয়্যার স্টার্টআপের জন্য ল্যাবতো দিতেই হবে। অনেক যন্ত্রপাতি কিনতেই হবে । প্রতিটি প্রডাক্ট বানাতে কম্পনেন্ট কিনতে হবে। সফটওয়্যারর ক্ষেত্রে সুবিধা হচ্ছে একটা প্রডাক্ট বানিয়ে ফেললে ১ কোটি কপি বিক্রি করতেও বাড়তি কিছু লাগবে না। শুধু কপি করলেই চলবে। কিন্তু হার্ডওয়্যার প্রডাক্টের জন্য পরবর্তি প্রতিটি প্রডাক্টের জন্য আবার র'ম্যাটেরিয়ালস কিনতে লাগবে।
বাইরের দেশে হলেও আমাদের দেশে এর জন্য হয় না যে বাইরে অনেক ভেন্চার ক্যাপিটাল আছে। আমাদের দেশে কিছু থাকলেও তাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেক। যাদের দরকার সাধারণত তারা পায় না। ব্যাংকগুলোও ইন্টেলেকটুয়াল প্রপারটিকে ভ্যালু দেয় না, তারা বলে ফিজিক্যাল কি আছে।
এছাড়া হার্ডওয়্যার বিক্রি করাও কঠিন। সফটওয়্যার যেমন ইন্টারনেটে বাইরে পাঠানো যায়, হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মার্কেটে কোন ইলেক্ট্রিকাল প্রডাক্ট তৈরী করে বিক্রি করার যে মার্কেটিং খরচ তা যোগান দেয়া অনেক কষ্টকর।
এছাড়া আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা যে এটা আমাদের ধৈর্যহীন করে দেয়। আমরা কোন কিছু একটা করেই দ্রুত টাকা আয় করতে চাই। কোন কিছুর পিছে লেগে থাকা আমাদের দ্বারা হয় না।

টেকটিউনস: বর্তমানে অন্যরকম গ্রুপে আপনাদের প্রডাক্টগুলো কি কি ?
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: অন্যরকম গ্রুপের প্রথম ভেন্চার হচ্ছে পাইল্যাবস বাংলাদেশ লিমিটেড। এটা এমবেডেড সিস্টেম নিয়ে কাজ করে। এখানে দুটা গ্রুপ কাজ করে, একটা মাইক্রোকন্ট্রোলার নিয়ে আরেকটা এফপিজিএ নিয়ে । এফপিজিএ মাইক্রোকন্ট্রোলার থেকেও আপডেটেড একটা টুল। আর প্রডাক্টের মধ্যে আছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন, যেটা আমরা স্টুডেন্ট অবস্থায় তৈরী করি। পাইল্যাবস ফর্ম করার পর বুয়েটের সাথে একটা চুক্তি হয়। সেই অনুযায়ী আমরা যৌথভাবে এটা করছি। এর বাইরে সোলার চার্জ কন্ট্রলার, সোলার ইনভার্টার, ভেহিকাল ট্রেকিং সিস্টেম, ইনডাস্ট্রি অটোমেশনের কাজ অনেক হয়েছে। এছাড়াও আরো অনেক প্রডাক্ট আছে।
অন্যরকম সফটওয়্যার থেকে বাংলাদেশ সংসদের কাজ, প্রথম আলো, অফিসার্স ক্লাবের কাজ করা হয়েছে। দেশের বাইরেও সফটওয়্যার রপ্তানির কাজ করি। শেয়ার মার্কেটে আমাদের কিছু ইউনিক প্রডাক্ট আছে। এছাড়া ইনভেন্ট্রি, এইচার, অনলাইনবেসড স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের কাজ করেছি। শ্রীমঙ্গল, নারায়ণগন্জ সিটি কর্পোরেশনে আমাদের সফটওয়্যার ইউজ হচ্ছে।
তারপর আমাদের আরেকটা কম্পানি হচ্ছে অন্যরকম ওয়েব সার্ভিসেস। এর প্রথম প্রডাক্ট ছিল ক্রিকপল, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় প্রথম আলোর আয়োজন ছিল। কিউবি ও টেলিটক স্পন্সর করেছিল। সাইটটা মাত্র ৪০দিন চলেছিল। এরই মাঝে প্রায় ৮০ হাজার ইউনিক ভিজিটর ছিল এবং ৩০ হাজার ইউজার ছিল। শুধু বাংলাদেশে ৪০দিন চলা সাইটের জন্য মনে হয় সেটা একটা রেকর্ড। বর্তমানে রকমারি ডট কম মার্কেটে এসেছে। এটা অনলাইনে বই কেনার জন্য। মাত্র ত্রিশ টাকা ডেলিভারি চার্জে দেশের যেকোন স্থানে যেকোন পরিমান বই পৌছে দেয়া হয়। মানুষ বই হাতে নিয়ে তারপর পে করে। বর্তমানে দেশের প্রায় সব প্রকাশকের সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে।
এরপর শীঘ্রই আসবে ক্যারিয়ার ক্লাব ডট কম ডট বিডি। এই সাইটটার আকার লিংকইডইনের প্রায় সমান বা কিছুক্ষেত্রে তার বেশী হবে । এটা খুব বড় একটা কাজ হবে। আমাদের অন্যরকম প্রকাশনী নামে প্রকাশনী সংস্থা একটা আছে। ধানমন্ডির ওয়েস্টার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলকে কিছু দিন আগে আমরা টেকওভার করেছি। ওখানে আমরা অন্যধরণের কিছু করব বাচ্চাদের ক্রিয়েটিভ করে তোলার জন্য।
এর বাইরে ইনট্রেক্ট নামে একটা কোম্পানি আছে যেটা অন্যরকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান নয়। কিন্তু আমি নিজে জড়িত। আমরা স্পেশাল ইফেক্ট ও এনিমেশনের কাজগুলো করে থাকি। গ্রামীনফোন, এয়ারটেল, ওলোও এর কাজ করেছি। একটা ট্রাভেল শো করছি, Badventure (ব্যাডভেন্চার)। ইমিতিয়াজ রবি ও রস+আলোর বি.স. সিমু নাসের হোস্ট করেছেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজ হয়েছে।
এছাড়াও আরো কিছু কোম্পানি ও সোসিয়্যাল ভেন্চার আছে।


টেকটিউনস: ইভিএম তৈরীর সাথে কিভাবে জড়ালেন ?
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: আমি, মাসুম আর মিকাইল, তিন বন্ধু ইলেক্ট্রিকালে ছিলাম। আমাদেরতো একাডেমিক অনেক প্রজেক্ট বা থিসিস থাকে। কিন্তু আমাদের ইচ্ছা ছিল বাড়তি কিছু করব। বুয়েটের লুৎফুর কবির স্যারের সাথে দেখা করলাম। এক সময় আইডিয়া আসল ভোটিং মেশিন বানাবো। তখন ভারতে ইভিএম শুরু হয়েছিল। আমাদের লক্ষ্য ছিল যদি বাংলাদেশে কখনও ইভিএমে নির্বাচন হয় তবে আমাদেরটা দিয়েই হবে। বুয়েটের আইআইসিটি আমাদের ল্যাব ফ্যাসিলিটি দেয়, ব্যাকআপটা দেয়।
২০০৭-এ এসে সংবাদ সম্মেলন করে এটা সামনে আনা হয়। তারপর অফিসার্স ক্লাব অফ ঢাকা এতে আগ্রহ দেখায়। তাদের ২০০৭ এর নিবার্চন আমাদের ইভিএম দিয়েই হয়। ২০০৯ সালে পাইল্যাবসের সাথে বুয়েটের চুক্তি হয়। একসাথে এটা নিয়ে কাজ করার জন্য। তারপর নির্বাচন কমিশন এটাতে আগ্রহ দেখায়। আমরা তখন তাদের পরামর্শ মত এটা প্রেজেন্ট করলাম। প্রথম পাইলট প্রজেক্ট হয় চট্টগ্রামের জামালখান ওয়ার্ডে। ওটা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক ভালো হয়েছিল। এরপর নারায়নগন্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হলো, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হলো।
তবে এখন পর্যন্ত আমারা ১০০% সন্তুষ্ট কারণ আমাদের যে লক্ষ্য ছিল হলে আমাদের মেশিনে হবে বিদেশী মেশিনে নয়। সেই জায়গায় আমরা পৌছাতে পেরেছি।


টেকটিউনস: ইভিএমের বিস্তারিত আমাদের পাঠকদের একটু জানান।
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: ই-ভোটিং আর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন কিন্তু আলাদা। উন্নত দেশগুলোতে যেটা চালু করার চেষ্টা করা হয়েছিল সেটা ই-ভোটিং, যা নিয়ে যথেষ্ঠ সমালোচনা আছে। এটার কনসেপ্ট হচ্ছে মানুষজন ফোন, SMS বা ইন্টারনেট দিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভোট দিবে সেটা এক জায়গায় এসে জমা হবে। এটার বড় সমালোচনা যেটা, যখনই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কিছু হয় তখনই হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা থাকে সেটা যত ভালো নিরাপত্তা বিশিষ্টই হোক।
আমাদের আইডিয়াটা ছিল আমরা ওটাতে যাব না। আমাদেরটা হবে স্ট্যান্ড-এলোন (standalone) ডিভাইস। মেশিনটা হবে এককভাবেই। ওটা পৃথিবীর কিছুর সাথেই যুক্ত থাকবে না, যুক্ত করার কোন সুযোগও থাকবে না। সেইভাবেই আমরা তৈরী করি। পরে জানলাম ইন্ডিয়ানরাও একই আইডিয়া এগুচ্ছে। তারা প্রায় ১৯৮৫ থেকে অল্প কিছু স্থানে ইভিএম ব্যবহার শুরু করে এবং ধীরে ধীরে পুরো ভারতে তা ছড়িয়ে দেয়।
আমদেরটা খুব সিম্পল, কোন জটিলা নেই এবং বিশ্বাসযোগ্যতার দিক থেকে অনেক ভালো । পরে পত্রিকায় দেখেছি অনেকেই অভিযোগ করেছে ডাটা যখন সার্ভারে আসবে তখন হ্যাক হবে। আসলে আমাদের কোন সার্ভারই নেই, হ্যাক হবারতো প্রশ্নই নেই । কেউ যে ডাটা চেন্জ করবে তার জন্যতো ডিভাইসটা এক্সেস করতে হবে । কিন্তু আমাদের এই মেশিনে এক্সেস করার কোন উপায়ই নাই । কম্পিউটার বা কিছুর সাথে যুক্ত করার অপশনই নাই । ভোট ওটাতেই দেয়া হয় এবং তখনই বাটন চেপে চেপে রেজাল্ট শো করবে । সেই রেজাল্ট হাতে লেখে ম্যানুয়ালী কাউন্ট করা হয় । কাজেই এটা নিয়ে বিতর্ক করার কছু নেই ।

টেকটিউনস: ইভিএমে আর কি কি উন্নয়নের সুযোগ আছে বা ভবিষ্যতে আর কি কি প্রযুক্তি আসতে পারে ?
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: আমাদের শুরুর ইভিএমটা ছিল ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ। এখন আবার অনেকেই বলছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকলে ভাল হয়। কিন্তু আমরা জানি ফিঙ্গারপ্রিন্টে প্রবলেম আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ভোটের গোপনীয়তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কোনভাবে যদি ট্রেক করা যায় কে কাকে ভোট দিল তাহলে সেই ব্যবস্থা গ্রহনযোগ্য হবে না। যদি মেশিন দিয়ে আমাকে সনাক্ত করা হয় আমি জাল ভোটার কিনা তাহলে কিন্তু প্রোগ্রামারের পক্ষে বের করে ফেলা সম্ভব যে কে কাকে ভোট দিল। যদি এটা কোনভাবেও ওভারকাম করা যায় তাহলেও আরো সমস্যা আছে। যেসব অফিসে আমরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন দিয়েছি সেখানে দেখা যায় কিছুক্ষণ পর একই লোকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট আর ম্যাচ হয় না। অনেক সময় হাতের চামড়া উঠে বা ইনজুরড হয়। আমাদের দেশে শ্রমজীবি মানুষের সংখ্যা বেশী। ফলে দেখা যাবে ভোটের দিন অনেকেই ভোট দিতে পারবে না। তাই ফিঙ্গারপ্রিন্ট যোগ করা ঠিক হবে না।
তবে একটা প্রিন্টারযোগ করলে এটা প্রশ্নের উর্ব্ধে চলে যাবে। যেভোট দিবে সে প্রিন্টও দেখে নিতে পারবে কাকে ভোট দিল, যাওয়ার সময় সেটা একটা বাক্সে ফেলে যাবে। আবার ম্যানুয়ালী দরকার হলে দুটো থেকে ক্রসচেকও করা যাবে। এটাতে কিছু সমস্যা আছে। পুরো ইভিএমের জন্য যেটুকু পাওয়ার লাগবে, প্রিন্টারের জন্য তার চেয়েও বেশী পাওয়ার লাগবে। বাংলাদেশে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ নেই, তাই বিদ্যুৎ দিয়ে করা সম্ভব না। আবার ব্যাটারী দিয়ে করলেও অনেক বড় ব্যাটারী লাগবে যার ম্যানেজমেন্ট কষ্টকর। তাছাড়া ব্যাটারী খরচ, প্রিন্টারের খরচ মিলে মোট খরচ অনেক বেড়ে যাবে। পৃথিবীতে এমন কোন প্রিন্টার নাই যেটা জ্যাম হয় না। কেউ ভোট দিতে যেয়ে ভোট প্রিন্ট নেবার সময় যদি আটকে যায় তাহলে আবার সেই ব্যাক্তির ভোটের গোপনীয়তা নষ্ট হবে। এটা নিয়ে কাজ চলছে, এই সমস্যাগুলো মোকাবেলা করার। নির্বাচন কমিশন যদি অনুমতি দেয় তাহলে এটা যোগ হতেও পারে ভবিষ্যতে।


টেকটিউনস: আপনার এই পর্যন্ত আসার পিছনে কোন জিনিষের অবদান বেশী বলে মনে করেন ?
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মোটিভেশন আর পজিটিভ মেন্টালিটি। মোটিভেশনের পিছনে থাকে তীব্র ফিলিংস। এর বাইরে অনেক জায়গায় অনেক মানুষের হেল্প পেয়েছি। সেগুলো না হলে হয়ত এতদূর আসা হতো না। এছাড়া পরিশ্রম একটা বড় বিষয়। মেধা যতই থাকুক পরিশ্রম না করলে সফলতা পাওয়া যাবে না। ফাইনেন্সিয়াল দিকটা এমন ছিল যে একটা কাজের টাকা দিয়ে আরেকটা কাজ করেছি। তাই হয়ে গেছে। সবসময় সবকিছু পজিটিভলি নিয়েছি। দুটা জিনিষ বলতে আমি খুব লজ্জা পাই। এক. আমি হেরে গেছি এটা বলতে। আমি হেরে গেছি এটা কখনও স্বীকার করি। হয়ত সফল হয়নি কিন্তু শেখাতো অনেক কিছু গেছে। দ্বিতীয়ত আমি ক্লান্ত এটা বলতে আমি খুব লজ্জা পাই। যেমন গত মাসেই (জানুয়ারী) এমন তিনদিন গেছে যে আমরা সারারাত জেগে কাজ করেছি। এই মাসেও (ফেব্রুয়ারী) এমন আরো রাত জেগে কাজ করতে হবে।


টেকটিউনস: ভবিষ্যতে আর কি কি করার ইচ্ছা আছে ?
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: শিক্ষা নিয়ে কাজ করার আমাদের বিশাল পরিকল্পনা আছে। আমরা চাই আমাদের ছেলেদের গবেষণা ও দেশে কাজ করার জন্য প্লাটফরম করে দিতে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। বিদেশে যারা আছে তারা যাতে দেশে ফিরে আসতে মোটিভেটেড হয় সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। ঢাকা ভার্সিটির যে অ্যরকম বায়োইনফরমেটিকস ল্যাবটা আছে তা আমাদের অন্যরকম গ্রুপ থেকে ডোনেট করা।


টেকটিউনস: আপনিতো গানের সাথেও জড়িত আছেন।
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: গান গাইতাম কিছুটা ছোটবেলায়। জাতীয় পর্যায়েও অনেক সার্টিফিকেট আছে আমার। ক্লাস সেভেনে গলায় একটু সমস্যা সমস্যা হবার পর আর সেভাবে গাওয়াও হয়নি। এছাড়াও বেশ এক্সট্রা কারিকুলাম করেছি। তেলাওয়াত, বির্তক, বক্তৃতা ইত্যাদি করেছি।

টেকটিউনস: আপনাদের একটা কোচিং সেন্টারও আছে উদ্ভাস নামে...
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: উদ্ভাস আমার অনেক ফিলিংসের একটা জায়গা। আমি ওটাকে কোচিং সেন্টার বলব না। এটার পিছনে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সেকরিফাইস ও ডেডিকেশন গেছে। এটা জেদ ছিল শিক্ষাব্যবস্থায় উন্নয়ন আনতে। কোচিং বলতে আমরা বুঝি সামনে একটা ইমিডিয়েট লক্ষ্য থাকবে তা পূরণে সে যে কোন পন্থা অবলম্বন করবে। আর টিচিং হচ্ছে এবিলিটি গ্রো করা।
শুরু থেকেই আমরা চেয়েছি অন্যকিছু করতে আমরা নোট দেইনি, সাজেশন দেইনি। তাই শুরুতে আমাদের ছাত্রসংখ্যা কম ছিল। আমাদের কাছে কনসেপ্টই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। কনসেপ্ট যার ভালো আলটিমেটলি সে পরীক্ষাতেও ভালো করবে, যোগ্য মানুষ হবে । পাঁচ ছয় বছর এর জন্য আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এক সময় আমাদের চার পাঁচজন ছাত্র ছিল। পরে যখন আমরা বুঝাতে পেরেছি যে আমরা বুঝিয়ে পরাতে চাই, মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে চাই তখন সবাই আসতে আসতে এসেছে । এখন প্রায় আমাদের দশ হাজার ছাত্র-ছাত্রী।

টেকটিউনস: আমরা প্রায় শেষে দিকে এসে পড়েছি । টেকটিউনস কি ভিজিট করেন ?
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: আমি টেকটিউনসের অনেক বড় ফ্যান। শুরুতে আমি টেকটিউনস নিয়মিত ভিজিট করতাম। আমিও বোধ হয় টেকটিউনসে দুই এক বার লিখেছিলাম (টেকটিউনস টিউনার পাতার লিংক) । তখন অনেকেই অনেক ভালো লিখত। এখন ব্যস্ততার জন্য মাঝে মাঝে ভিজিট করি। মাঝে প্রচুর ইউজারের জন্য সাইট স্লো হয়ে যায় সম্ভবত তখন একটা গ্যাপ পড়ে যায়।


টেকটিউনস: আপনার উদ্দ্যোগগুলোর জন্য আমাদের শুভ কামনা। টেকটিউনসকে সময় দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
মাহমুদুল হাসান সোহাগ: আপনাকে এবং টেকটিউনস পাঠকদেরও ধন্যবাদ।

https://www.techtunes.com.bd/featured/tune-id/117714
4
টিউন্টারভিউ গেস্ট: শামীম আহসান, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, এখনই ডট কম এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, বেসিস
টিউন্টারভিউ হোস্ট: আরিফ নিজামী
সময়: ১৯ জুলাই, ২০১২ । বৃহস্পতিবার । দুপুর সাড়ে তিনটা ।
স্থান: এখনই ডট কম অফিস, গুলশান - ১ । ঢাকা ।
ব্যাপ্তি: প্রায় ৪৮ মিনিট ।

দেশে ডেইলি ডিল সবার মধ্যে জনপ্রিয় করার মাঝে যে সাইটটির অবদান কেউই অস্বীকার করতে পারবে না সেটি হলো এখনই ডট কম www.akhoni.com। অবশ্য আজকের টিউন্টারভিউ গেস্ট শামীম আহসান-এর পরিচিতি শুধু এখনই ডট কমের http://www.akhoni.com প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবেই নয়, তার বড় এক পরিচয় প্রযুক্তি সংগঠক হিসেবে । বেসিসের (BASIS) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনরত এই উদ্দ্যোক্তার কথা শুনব আজ ।


টেকটিউনস: প্রথমেই আপনার নিজের সম্পর্কে আমাদের পাঠকদের কিছু বলুন ।
শামীম আহসান: আমার স্কুল ছিল গভর্ণমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল এবং কলেজ ছিল নটরডেম । গ্র্যাজুয়েশন করি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট্রাল ওকলোহোমা (University of Central Oklahoma) থেকে । আমার বাবা ব্যবসায়ী ছিলেন, এখন রিটায়ার্ড করেছেন । আমরা দুই ভাই এক বোন । আমার ভাইও ব্যবসা করছেন । আমার বোন CEMEX এর এশিয়ার ডিরেক্টর । আমার স্ত্রী সৈয়দা কামরুন আহমেদ, সাউথইষ্ট ইউনিভার্সিটিতে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম পড়ান ।
আমি একজন উদ্দোক্তা । সেই সাথে বেসিসের বর্তমান কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছি । ২০০৮-০৯ সালে বেসিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম । বর্তমানে এফবিসিসিআইয়ের ডিজিটাইজেশন কমিটির কো-চেয়ারম্যান । এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সেও আছি ।

টেকটিউনস: আপনার প্রযুক্তি উদ্দ্যোক্তা হবার গল্পটা শুনতে চাই ।
শামীম আহসানঃ ১৯৯৭-৯৮ এর দিকে আমার বাবা আমাকে এনকারেজ করে যে দেশের গার্মেন্টস সেক্টরের মতো করে প্রযুক্তিখাতও ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে । তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম যে প্রযুক্তি উদ্দ্যোক্তা হবো এবং এই বিষয়ে আগে উন্নত বিশ্বের কোন দেশ থেকে উচ্চশিক্ষা নেবো ।
তখন আমি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট্রাল ওকলোহোমা থেকে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে গ্র্যাজুয়েশন করি । তারপর ওখানে AT&T এবং সুপ্রীম কোর্ট অফ সেন্ট্রাল ওকলোহোমা এর আইটি ডিপার্মেন্টে কাজ করি । সেসব কোম্পানি কিভাবে কাজ করে তার অভিজ্ঞতা অর্জন করি । কয়েকবছর পর দেশে চলে আসি ।
আমার প্রথম কোম্পানি ছিল ই-জেনারেশন eGeneration। তারপর বেন্চমার্ক ই-জেনারেশন Benchmark-eGeneration নামে কোম্পানি করেছি । এটা মূলত আউটসোর্সিং ও লোকাল কনটেন্ট নিয়ে কাজ করে ।

টেকটিউনস: এখনি ডট কমের http://www.akhoni.com শুরু হয় কিভাবে ?
শামীম আহসান: অক্টোবার ২০১০ থেকে আমরা এখনি ডট কমের http://www.akhoni.com প্রাথমিক কাজ শুরু করি । এখনি ডট কমে http://www.akhoni.com আমার আরেকজন পার্টনার আছে । উনি ইমরান খান । উনি বিশ্ববিখ্যাত ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি জে.পি মরগানের সবচেয়ে কম বয়সী ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন । তিনি কোম্পানির হেড অফ ইন্টারনেট ইনভেস্টমেন্ট-ও ছিলেন। সে হিসেবে তিনি গুগলকে স্টক মার্কেটে নিয়ে এসেছিল । এরপর তিনি ক্রেডিট সুইস ব্যাংকে যোগ দেন এবং সম্প্রতি গ্রুপঅনের http://www.groupon.com/ আইপিও ছাড়ার বিষয়ে কাজ করেছেন।
অক্টোবার ২০১০-তে আমার সাথে উনার দেখা হয় । উনিও দেশের জন্য কিছু করতে চাচ্ছিলেন । আমিও দেশের বেশ কিছুবছর ধরে আইটিখাতের সাথে জড়িত ছিলাম । তখন আমরা সিদ্বান্ত নিলাম যে একসাথে কিছু একটা করব । যেহেতু দেশের মানুষের বিনোদনের সুবিধা কম এবং ট্রাফিক এই দেশে বড় একটা সমস্যা তাই আমরা এমন এটা পোর্টাল বানাব যেখানে মানুষ শপিং করতে পারবে, ডিসকাউন্টে ভিন্ন রেস্টুরেন্টের সুবিধা পাবে ইত্যাদি । আমরা দুই ঘন্টার একটা ডিনারে গেলাম । এই স্বীদ্বান্তগুলো তখনই নিলাম । তারপর আমি দেশে চলে আসলাম । তিনমাসের রিসার্চ করলাম, বিজনেস প্লান তৈরী করলাম । আমাদের পরিকল্পনা ছিল যে দুইবছরও যদি রেভিনিউ না আসে তাহলেও যাতে কোম্পানি টিকে থাকে থাকে এমন একটা বিজনেস প্ল্যান করলাম । কিন্তু সৌভাগ্যবশত যেদিন আমরা সাইট লঞ্চ করি সেদিন থেকেই গ্রাহক আমাদের প্রোডাক্ট কেনা শুরু করে এবং রেভিনিউ আসতে থাকে ।
২০১১ সালের জানুয়ারী ১ তারিখে আমরা কোম্পানির কার্যক্রম শুরু করলাম । মে ১৯ তারিখে আমরা আমাদের ব্র্যান্ডটা এবং ওয়েবসাইটটা চালু করলাম । জুনের ১ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিয়ার রহমান রূপসী বাংলা হোটেলে আমাদের ওয়েবসাইটটা অফিসিয়ালী লঞ্চ করলেন ।

টেকটিউনস: এখনি ডট কমের http://www.akhoni.com নামকরণের কারণ কি ছিল ?
শামীম আহসান: এখনি ডট কমের http://www.akhoni.com নামকরণর পিছনে দুটি কারণ ছিল । এক. যার যখন যে সার্ভিস দরকার তা তারা এখনই পেতে পারে । কোন অপেক্ষা করতে হবে না । যার যখন ইচ্ছা সে তখনই কোন সেবা বা পণ্য কিনতে পারে । দুই. দেশের মানুষ ডিজিটাল বাংলাদেশ চায় কিন্তু তার জন্য ২০২১ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় না । সেই সেবাগুলো তারা এখনই পেতে চায় । আমাদেরও লক্ষ্য তাদের সেবাগুলো প্রদান করা।

টেকটিউনস: এখনি ডট কমের http://www.akhoni.com বর্তমান পরিস্থিতি কেমন ?
শামীম আহসান: আমাদের কোম্পানির মোটামুটি এক বছর হলো । এর মধ্যেই আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেজে ১ লাখ ১০ হাজারের উপর ফ্যান আছে । এছাড়াও আমাদের ওয়েবসাইটে রেজিস্টার্ড ইউজারর সংখ্যাও বেশ বড় । এলেক্সা র‌্যাংকিয়ে আমরা দেশের ডিল সাইটগুলোর মাঝে এক নম্বরে আছি । আমাদের এখানে ইলেকট্রনিকস প্রোডাক্ট আছে, ফ্যাশন রিলেটেড প্রডাক্ট আছে । এছাড়া বিভিন্ন হোটেলের বেস্ট ডিসকাউন্টগুলো এখনিতে http://www.akhoni.com পাওয়া যায় ।
প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহকরা আমাদের ওয়েবসাইটে আসছে, কেনাকাটা করছে । ক্রেডিট দিয়ে পারচেজ হচ্ছে, বিকাশের মাধ্যমে হচ্ছে । সারা বাংলাদেশে ৬৪ জেলায় আমাদের ডেলিভারি সিস্টেম আছে । বিদেশ থেকেও গ্রাহকরা পণ্য কিনে তাদের পরিচিত উপহার দিচ্ছে । সামনেই আমরা ত্রিশটা দেশে পণ্য ডেলিভারী শুরু করব । এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন চলছে এবং বইও পাওয়া যাচ্ছে । সামনে আরো বেশী সংখ্যক বই পাওয়া যাবে ।
http://akhoni.com/dhaka/humayun-ahmed-books-402

টেকটিউনস: এখনি ডট কমে http://www.akhoni.com প্রোডাক্টগুলোর মান কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় ?
শামীম আহসান: আমরা নিজেরা কোন পণ্য উৎপাদন করি না । কোন না কোন মার্চেন্টের পণ্য বা সেবা গ্রাহকদের কাছে পৌছে দেই । আমাদের একটা কোয়ালিটি এশিউরেনস টিম আছে । যারা প্রোডাক্টের মান নিয়ে কাজ করে । আমরা খুব সর্তকভাবে মার্চেন্ট বাছাই করি তারপরও যদি কেউ পণ্য নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকে তাহলে মূল্য ফেরতের সুযোগ আছে । কাস্টমারকে খুশি করার জন্য আমরা সবসময় সচেষ্ট থাকি।

টেকটিউনস: যারা উদ্দোক্তা হতে চান তাদের জন্য আপনি কি কি পরামর্শ দিবেন ?
শামীম আহসান: আমি বলব যে কোন বিষয়ে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে তাকে সেই বিষয়ে অনেক জ্ঞান অর্জন করা উচিত । সে বিষয়ে যারা ব্যবসায় সেরা অবস্থানে আছে তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করা উচিত । যারা কোন ক্ষেত্রে সফল থাকে তারা কিন্তু অন্যদের সাহায্য করতে দ্বিধা করে না । নিজ ক্ষেত্রের এমন মানুষগুলোকে খুজে বের করে তাদের সাথে নিজ উদ্দ্যোগে যোগাযোগ করতে হবে, সাহায্য চাইতে হবে । তাছাড়া নিজ ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের নিজ কোম্পানির উপদেষ্টা করা যেতে পারে । ইউনিভার্সিটির শিক্ষকরা কিন্তু টাকা বা অন্য কিছুর লোভে কাজ করবেন না । তারা আসবেন আপনাকেই সাহায্য করতে । যেমন আমার শিক্ষক ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের ডিন প্রফেসর সোহোটরা আমার কোম্পানিগুলোর ব্যাপারে আমাকে বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেন । সেইসাথে বেসিসের প্রাক্তন প্রেসিডেন্টরা বা আইটিাতর উদ্দোক্তরা তারও কিন্তু অনেক সাহায্য করে ।
তারপর, খুব ভালো একটা টিম গঠন করতে হবে । পৃথিবীর বড় বড় সফল যত কোম্পানি বলেন গুগল, ফেসবুক বা মাইক্রোসফট ওগুলো কিন্তু কেউ একা তৈরী নাই । সবগুলোর পিছনেই কমপক্ষে দুজন বা তারও বেশীজনের টিম ছিল । আমার বন্ধু যাদের সথে আমার কাজ করতে সুবিধা হয় এমন টিমমেট থেকে যারা বিভিন্নক্ষেত্রে ভালো তাদের নিয়ে কাজ করতে হবে ।
তারপর অনেক রিসার্চ করতে হবে এবং খুব ভালো একটা বিজনেস প্ল্যান তৈরী করতে হবে । বিজনেস প্ল্যান তৈরীতেই ৫-৬ মাস সময় দিলে কিন্তু বাকি কাজ অনেক সহজ হয়ে যায় । সেই সাথে ফাইনেন্সিয়াল প্ল্যান করা দরকার । আমরা অনেক সময় ফাইনেন্সিয়াল প্ল্যানই তৈরী করি না বা করলেও লাভকে অনেক বেশী আর খরচকে অনেক কম ধরি । এই জায়গাগুলোয় অনেক কাজ করতে হবে ।

টেকটিউনস: আপনি একজন উদ্দ্যোক্তা, আপনার মতে দেশের সরকার কতটুকু প্রযুক্তি বা ব্যবসাবান্ধব ?
শামীম আহসান: সরকারের টপলেভেলের ইচ্ছা আছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী বা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তারা কিন্তু আইটি নিয়ে ভাবেন । আমাদের সমস্যা হচ্ছে উপরের লেভেলে অনেক সময়ই অনেক ভালো কিছু পরিকল্পনা থাকে কিন্তু তা পরে নিচের দিকে এসে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে যায় । আমাদেরও শুধু সরকারের উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত না । সরকারের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। বেসিসের মতো সংগঠন বা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত।

টেকটিউনস: এখনি ডট কমের http://www.akhoni.com এই পর্যন্ত চলার পথে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন বা হচ্ছেন ?
শামীম আহসান: আমরা যেহেতু দেশের প্রথম ডিল সাইট তাই আমরা অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি । আমাদের পরে যারা আসছে বা আসবে তাদের কিন্তু সরকম অনেক সমস্যারই আর মুখোমুখি হতে হবে না । আমাদের বড় সমস্যা ছিল ক্রেডিটকার্ডে লেনদেন । আমরা দেশে প্রথম "পেমেন্ট অন ডেলিভারি" চালু করি । এখনও ক্রেডিটকার্ডের ট্রান্সজেকশন ফি অনেক উচ্চ । তারপর প্রথমদিকে ভ্যাট অনেক বেশী ছিল । আমরা সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তা কমিয়ে আনি । কিন্তু ই-কর্মাসের প্রসারের স্বার্থে এটা শূন্য শতাংশ করে দেয়া উচিত । আমাদের ক্রেডিট কার্ডগুলোয় ইন্টারনেট ব্যাংকিং ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকে সেটা আবার ফোন করে অন করতে হয় । এটা একটা সমস্যা । গ্রাহক মনে করে এটা বুঝি সাইটের সমস্যা । অনেকেরই আবার বিশ্বাসযোগ্য নিয়ে কনফিউশনে ভোগে । আমরা কিন্তু ক্রেডিট কার্ডের কোন ডেটা স্টোর রাখি না । ট্রানজেকশন হয় সব ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে । ইন্টারনেট একটা বড় বাধা । এখনো ইন্টারনেট অনেক কম মানুষ ব্যবহার করে । ইন্টারনেটের মূল্য কমানো উচিত ।

টেকটিউনস: আপনি সদ্য বেসিস (BASIS) নিবার্চনে জোষ্ঠ্য সহ-সভাপতি নিবার্চিত হয়েছেন, সে জন্য অসংখ্য শুভেচ্ছা । বেসিসের মাধ্যমে আপনাদের কি কি করার পরিকল্পনা আছে?
শামীম আহসান: ধন্যবাদ । আপনারা জানেন পেপাল নিয়ে বেসিস কাজ করছে । ইতিমধ্যে বেসিসের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফাহিম মাশরুর যুক্তরাষ্ট্রে পেপাল অফিসে গিয়ে আলোচনা করেছেন । পেপালের কমর্কতারাও বাংলাদেশ সফর করে গেছেন । পলিসি গত সব সমস্যা সমাধান করা হয়েছে ।
আমরা চাই আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা এই সুবিধাটা পাক । তারা আরো ভালোভাবে আরো সুযোগ সুবিধা নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করুক । যারা আইটি উদ্দোক্তা আছেন তাদের জন্য আমরা যাতে ইনকিউবেটর তৈরী করতে পারি, সাপোর্ট হাব করতে পারি, যে কোনভাবে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করতে পারি সেই পরিকল্পনা আছে । বেসিস (BASIS) ইনস্টিটিউটকে অনেক দূর নিয়ে যাবার ইচ্ছে আছে । যাতে আমরা "ইন্ডাস্ট্রি রেডি" জনশক্তি তৈরী করতে পারি । তাছাড়া আইটি উদ্দোক্তাদের ফাইনেন্সিংয়ে সাহায্য করতে চাই । এছাড়া সরকারকে বিভিন্ন পলিসি তৈরীতে সহযোগিতাও করতে চাই ।

টেকটিউনস: আপনি অনেক সংগঠনের সাথে জড়িত, দুটি কোম্পানি চালাচ্ছেন । এত কিছু কিভাবে ম্যানেজ করেন ? নতুনদের কি পরামর্শ দিবেন ?
শামীম আহসান: এই যেমন মাহাথির মোহাম্মাদ, নেলসন মেন্ডেলা, বারাক ওবামা বা পৃথিবীতে যারাই অনেক সফল হয়েছেন সবারই কিন্তু দিনে ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭দিনই । তাহলে তারা কিভাবে এত সফল ? কারণ তারা প্রাইওরিটি জানে, তাদের নির্দিষ্ট বিষয়ে ফোকাস ছিল । আমাদেরও বিভিন্ন বিষয় থেকে একটা প্রাইওরিটি বিষয়ে ফোকাস করতে হবে । একটা বিষয়কে ফোকাস করে পরিকল্পনা করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হবে ।

টেকটিউনস: আজ থেকে ১০ বছর পর আপনি নিজের ক্যারিয়ার ও দেশের আইটিখাতকে কোথায় দেখতে চান ?
শামীম আহসান: ১০ বছর পর আমি বাংলাদেশকে বিশ্বের সেরা দশটি আইটিসমৃদ্ধ দেশের মাঝে দেখতে চাই। যাতে বাংলাদেশ একটি আইটি সুপার পাওয়ার হয় । দেশে সব সেবা যাতে প্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া যায় । আর নিজে যেমন এই প্রযুক্তি বিপ্লবে একজন আইটি কর্মী হিসেবে কাজ করে যেতে পারি। যেন দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি।

টেকটিউনস: টেকটিউনস সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি ?
শামীম আহসান: আমি মনে করি টেকটিউনস http://www.techtunes.com.bd একটা অসাধারণ ও ইন্টারেসটিং সোসিয়াল প্লাটফরম । টেকটিউনস যেভাবে সবার কাছে পৌছে গিয়েছে তা চমৎকার । টেকটিউনসের যারা পাঠক তাদের আমি রেসপেক্ট করি কারণ তারা আইটিকে ভালোবাসে, এইখাতে অবদান রাখতে চায় । যারা টেকটিউনসে নিয়মিত পড়ছে লিখছে তারাই কিন্তু আমাদের ভবিষ্যত । তাদের সাথে আমরা একসাথে কাজ করতে চাই যাতে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি । টেকটিউনসের সাথে যারা জড়িত আছেন সবাইকে শুভেচ্ছা ।

টেকটিউনস: আমাদের সময় দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।
শামীম আহসান: টেকটিউনসকেও ধন্যবাদ।

https://www.techtunes.com.bd/featured/tune-id/141800
5
টিউন্টারভিউ গেস্ট: ফাহিম মাশরুর, প্রতিষ্ঠাতা, বিডিজবস ডট কম এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট, বেসিস
টিউন্টারভিউ হোস্ট: আরিফ নিজামী
সার্বিক সহযোগীতা: রফিকুন্নবী রুম্মান Technical Engineer, বিডিজবস
সময়: ২৭ নভেম্বার, ২০১২। বেলা ২টা।
স্থান: কাওরান বাজার, বিডিজবস ডট কম অফিস। ঢাকা।
ব্যাপ্তি: প্রায় ৪৫ মিনিট।

তিনি দেশের প্রথম দিককার ইন্টারনেট উদ্যোগতা। নিজ প্রতিস্থানেতো বটেই চাকরির সুযোগ করে দিয়েছেন আরও হাজারো প্রতিষ্ঠানে। কারন তার প্রতিষ্ঠানের কাজই মানুষকে চাকরি দেয়া। বিডিজবসের http://www.bdjobs.com প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর, তার আরেক বড় পরিচয় তিনি Bangladesh Association of Software and Information Services (BASIS) বেসিসের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট।

টিউন্টারভিউ গেস্ট: ফাহিম মাশরুর, প্রতিষ্ঠাতা, বিডিজবস ডট কম এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট, বেসিস
টিউন্টারভিউ হোস্ট: আরিফ নিজামী
সার্বিক সহযোগীতা: রফিকুন্নবী রুম্মান Technical Engineer, বিডিজবস
সময়: ২৭ নভেম্বার, ২০১২। বেলা ২টা।
স্থান: কাওরান বাজার, বিডিজবস ডট কম অফিস। ঢাকা।
ব্যাপ্তি: প্রায় ৪৫ মিনিট।

তিনি দেশের প্রথম দিককার ইন্টারনেট উদ্যোগতা। নিজ প্রতিস্থানেতো বটেই চাকরির সুযোগ করে দিয়েছেন আরও হাজারো প্রতিষ্ঠানে। কারন তার প্রতিষ্ঠানের কাজই মানুষকে চাকরি দেয়া। বিডিজবসের http://www.bdjobs.com প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর, তার আরেক বড় পরিচয় তিনি Bangladesh Association of Software and Information Services (BASIS) বেসিসের বর্তমান প্রেসিডেন্ট।

টিউন্টারভিউ গেস্ট: ফাহিম মাশরুর, প্রতিষ্ঠাতা, বিডিজবস ডট কম এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট, বেসিস
টিউন্টারভিউ হোস্ট: আরিফ নিজামী
সার্বিক সহযোগীতা: রফিকুন্নবী রুম্মান Technical Engineer, বিডিজবস
সময়: ২৭ নভেম্বার, ২০১২। বেলা ২টা।
স্থান: কাওরান বাজার, বিডিজবস ডট কম অফিস। ঢাকা।
ব্যাপ্তি: প্রায় ৪৫ মিনিট।

তিনি দেশের প্রথম দিককার ইন্টারনেট উদ্যোগতা। নিজ প্রতিস্থানেতো বটেই চাকরির সুযোগ করে দিয়েছেন আরও হাজারো প্রতিষ্ঠানে। কারন তার প্রতিষ্ঠানের কাজই মানুষকে চাকরি দেয়া। বিডিজবসের http://www.bdjobs.com প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর, তার আরেক বড় পরিচয় তিনি Bangladesh Association of Software and Information Services (BASIS) বেসিসের বর্তমান প্রেসিডেন্ট।

টেকটিউনসঃ ভাইয়া আপনার শুরুর গল্পটা শুনতে চাই।

ফাহিম মাশরুরঃ  আমার জন্ম ঢাকাতেই। ঢাকাতেই বড় হই। স্কুল ছিল মতিঝিল আইডিয়াল, কলেজ নটরডেম। তারপর আমি ঢাকা ভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে অনার্স মাস্টার্স করি এবং আইবিএ থেকে এমবিএ করি। তারপর এক দেড় বছর চাকরি করি। প্রথম থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল ভিন্ন কিছু করার। প্রচলিত কিছু আমায়ে টানত না। তখন সারা বিশ্বেই ইন্টারনেট এর একটা জাগরন চলছিল। বাংলাদেশে তখন ইন্টারনেট শুধু তরুণরাই বেশি ব্যবহার করত। আমরা তিন-চার জন বন্ধু মিলে ঠিক করলাম তরুণদের জন্য কিছু করার। তখন আমরা বিডিজবস http://www.bdjobs.com চালু করলাম।

প্রথমে আমাদের ইনভেস্টমেন্ট তেমন বেশি ছিলনা এবং আমরা জানতাম যে এই কাজে অনেক সময় লাগবে। তাই আমরা ইনভেস্টমেন্ট ও সব একবারে না করে আস্তে আস্তে করি।
প্রথমে আমরা বিভিন্ন পেপার পত্রিকা থেকে সংগ্রহ করে সাইটে দিতাম। পরে যখন সাইট অনেক জনপ্রিয় হয়ে যায় তখন আমরা কর্পোরেগুলোর কাছে গেলাম। আমাদের পরিকল্পনাই ছিল ক্লাইন্টকে সব চেয়ে ভাল সার্ভিস দেব। এখনও ক্লাইন্ট আমাদের ভরসা করে। জব সাইট গুলোর মাঝে আমরাই এক নম্বর এ আছি। আমরা যখন শুরু করি তখন ইন্টারনেট ইউজার মাত্র কয়েক লাখ ছিল। এখনতো কয়েক কোটি, মার্কেট এখন অনেক বড়। তাই এখন অনেক সুযোগ।

টেকটিউনসঃ আপনার পরিবারের কি কোন প্রেসার ছিল বা আপনার নিজের কি কখন মনে হয়েছে এটা ভুল সিধান্ত ছিল?

ফাহিম মাশরুরঃ আমি অনেক ভাগ্যবান যে আমার পরিবার কখনোই আমার ক্যারিয়ার নিয়ে ইনফ্লুয়েন্স করার চেষ্টা করে নাই। আসলে পৃথিবীর সব জায়গায়ই উদ্যোগতা হওয়া একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয়। অনিশ্চয়তা সব সময়ই থাকে। এন্টারপ্রেনারশিপ আসলে একটা এক্সপিরেন্স বা চ্যালেঞ্জ।

এটা মানুষের উপর নির্ভর করে। অনেকেই নিরাপদ ঝামেলা মুক্ত জীবন চায়। ৯টা – ৫টার জীবনেই খুশি থাকে। অনেকে আবার ক্রিয়েটিভ কিছু করতে চায়, চ্যালেঞ্জ নিতে চায়। আমি মনে করি আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি - এমন একটা মানুষ। আমি যদি সফল নাও হতাম তাও আমি ভাবতাম আমি ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি।


টেকটিউনসঃ আজকেরডিল http://www.ajkerdeal.com শুরু করার প্লান কিভাবে করলেন?

ফাহিম মাশরুরঃ যেহেতু আমরা একটা ইন্টারনেটবেইসড কোম্পানি, আমরা জানতাম এখন নতুন কিছু করার সুযোগ আছে। ক্রেডিট-কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করা যায়, ই-কমার্স-এর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই আমরা মনে করেছি আমাদের ই-কমার্সে আসা উচিৎ। বিডিজবসের একটা ব্র্যান্ড আছে, পরিচিতি আছে। সেটা কাজে লাগানো যায়। সেখান থেকেই আজকের ডিল http://www.techtunes.com.bd/tuner/ajkerdeal শুরু।
এখন অনেক কোম্পানি এসেছে, বিদেশি বিনিয়োগও আসছে। আমরা মনে করি সামনে এক্ষেত্রে অনেক সুযোগ আছে। আগামি কয়েক বছরে আজকেরডিল http://www.ajkerdeal.com আরও বড় হবে।

টেকটিউনসঃ অনেকেই জবসাইটগুলোর উপর ইমেইল এড্রেস সেল করার অভিযোগ করে। তাছাড়া এখন ই-কমার্স আসার পর নিরাপত্তা আরেকটা চিন্তার বিষয় হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে আপনার মত?

ফাহিম মাশরুরঃ  ইমেইল এড্রেস সেল করার কোন অপশন আমাদের এখানে নাই, আমরা শুধু নিজেররাই আমাদের ডাটাবেস ব্যাবহার করি। আর পৃথিবীর সব জায়গায়ই ক্রেডিটকার্ড জালিয়াতির ঘটনা আছে। কিন্তু আমাদের এখানে transaction গুলো হয় গেটওয়ের মাধমে। ই-কমার্স কোম্পানি গুলো কিন্তু সরাসরি কার্ডের ডাটা নিয়ে কাজ করে না, ব্রাক ব্যাংক বা ডাচ বাংলা ব্যাংকের গেটওয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়। ক্রেডিটকার্ড নিয়ে অন্যজন ব্যবহার করতে পারে বা অন্য কোনভাবে জালিয়াতি করতে পারে। এর জন্য আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। উন্নত বিশ্বে ক্রেডিটকার্ড ইনসিওরেন্সের মত জিনিস আছে। বাংলাদেশেও এরকম জিনিষ আনা উচিৎ। যেকোনো জিনিষ শুরু করলে রিস্ক আসবেই, সেগুলা মাথায় রেখেই কাজ করতে হবে।

টেকটিউনসঃ আপনার এখন আরেক পরিচয় আপনি বেসিস সভাপতি। বেসিস থেকে কি কি করার পরিকল্পনা আছে?

ফাহিম মাশরুরঃ  আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর দক্ষ লোক দরকার। কিছুদিন আগে বেসিস ইন্সিটিউট অফ টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট BASIS Institute of Technology Management (BITM) চালু হয়েছে। আমরা তরুণদের ট্রেনিং দিয়ে যোগ্য করে তুলতে চাই। আমরা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে কাজ করছি, আক্সেস টু ইনফর্মেশন, আইসিটি মন্ত্রনালয়ের সাথে কাজ করছি।

সকল উপজেলার ওয়েবসাইটের জন্য একটা ফ্রেমওয়ার্ক, National Portal Framework, বানানোর কাজ করছি। ই-কমার্স, পেপাল সংক্রান্ত যা যা সমস্যা আছে তা নিয়ে কাজ করছি। বাংলাদেশ ব্যাংক এর সাথে পলিসি নিয়ে কাজ করছি। ই-কমার্স এর লেনদেন সহজ করতে কাজ করছি। সাইবার ক্রাইম, সিকিউরিটি ইত্যাদি বিষয়ে কাজ চলছে।


টেকটিউনসঃ দেশের ফ্রীলান্সারদের জন্য কি কি করার আছে বেসিসের?

ফাহিম মাশরুরঃ  আমি মনে করি বাংলাদেশে ফ্রীলান্সারদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার পিছনে বেসিসের বড় পাওয়া। বেসিসই প্রথম ফ্রীলান্সারদের জন্য পুরস্কার চালু করে। তারা কিন্তু সমাজে এখন সেলেব্রিটি। এছাড়া আমরা পেপালের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে মিলে কাজ করা হয়েছে। আমরা আরও চেষ্টা করছি যেন ফ্রীল্যাংসার সারা জীবন না থাকে, নিজের প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারে, উদ্যোগতা হতে পারে।


টেকটিউনসঃ আমাদের দেশে প্যাপাল চালু হবে বেশ কয়েক বছর ধরেই শোনা যাচ্ছে কিন্তু এখনও চালু হচ্ছে না কেন?

ফাহিম মাশরুরঃ আমদের পক্ষ থেকে সবকিছুই ঠিক করা হয়েছে বাংলাদেশব্যাংক থেকেও সকল কিছু সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু প্যাপালের বেশ কিছু পলিসি গত কারণে এখনও চালু হচ্ছে না। বাংলাদেশের পেক্ষাপট প্যাপালের বেশ কিছু পলিসি এখনও চুরান্ত করা প্রয়োজন।

টেকটিউনসঃ আমাদের ফ্রী-লান্সাররা SEO ধরনের কাজগুলো করে। বিগডাটা নিয়ে বা এই রকম বড় বড় কাজ গুলো কম হচ্ছে।

ফাহিম মাশরুরঃ হচ্ছে , যেমন আমাদের ভিওআইপি নিয়ে ভাল ভাল কিছু প্রোডাক্ট আছে। আমরা বেসিস থেকে গত দেড় বছরে আইফোন, android এর উপর ওয়ার্কশপ করেছি, ক্লাউডের উপর সেশন নিয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের লোকদের প্রশিক্ষিত করছি। এই কাজটা আমাদের সবাইকে মিলেই করতে হবে।

টেকটিউনসঃ যারা উদ্যোগতা হতে চায় তাদের কি কি পরামর্শ দিবেন?

ফাহিম মাশরুরঃ  প্রথমেই ধৈর্য থাকতে হবে। আমাদের তরুন প্রজন্ম অনেক দ্রুত ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। তারপর কোয়ালিটির ব্যাপারে অনেক সচেতন হতে হবে। সততা আর আগ্রহ থাকতে হবে। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে সাফল্যর কোন শর্টকাট নাই।
আমরা দেখি অনেকেই এখন বিদেশের কোন আইডিয়া কপি করার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে ইনভেশন অনেক বড় ব্যাপার। বাইরের কোন আইডিয়াকে মাথায় রেখে দেশের প্রেক্ষিতে ডিজাইন করা যেতে পারে। অন্ধভাবে ফলো না করে বাংলাদেশের কন্টেন্ট মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

টেকটিউনসঃ বর্তমানে জাতিসংঘের মাধমে ইন্টারনেটের উপর নিয়ন্ত্রনের একটা প্রস্তাব আছে। এটা নিয়ে আপনার ভাবনা কি?

ফাহিম মাশরুরঃ আমাদের একটা জিনিষ বুঝতে হবে ইন্টারনেট এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে গেছে। দেশে ইউটিউব বন্ধ কিন্তু লোকজন যেভাবেই হোক ইউটিউব কিন্তু ব্যাবহার করছে। হয়ত পুরো ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতে হবে না হয় পুরো খুলে দিতে হবে। ইন্টারনেট পৃথিবীতে এখন বায়ু , আলোর মত জরুরি হয়ে গেছে। এখন আর এটা বন্ধ করে রাখার উপায় নাই। জাতিসংঘের বিষয়টা আমি ভাল করে জানিনা। তবে ইন্টারনেট আবদ্ধ করে রাখার বিষয় ধোপে টিকবেনা।

টেকটিউনসঃ টেকটিউনস সম্পর্কে আপনার মতামত কি?

ফাহিম মাশরুরঃ টেকটিউনস এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সৌশল প্লাটফরম। আমাদের তরুণরা একে দারুনভাবে ব্যবহার করে। টেকটিউনস আমার খুব ভালো লাগে। তবে অনেক সময় টেক না এমন লেখাও আসে, এটা না হলে ভাল হয়। আমার শুভকামনা টেকটিউনসের জন্য।

https://www.techtunes.com.bd/featured/tune-id/182171
6
আমাদের দেশে অনেকেই দুই-একটি টেকনোলজি বিষয়ক ব্লগটিউন লিখেই টেকি হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। আবার অনেকে CSE তে অনার্স মাষ্টার্স করে সারা জীবন প্রযুক্তি নিয়ে পড়ে থাকলেও সেই স্থানে পৌছাতে পারে না।

এই টিউনে বাংলাদেশের সেরা ১০জন টেক-প্রফেশনালদের নিয়ে আলোচনা করা হবে। বলাবাহুল্য সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু করে দেখিয়েছেন। এরা সবাই ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ। মনে হতে পারে এই লিস্টটি ঠিক হয়নি, একটু অগোছালো হয়ে গেছে। আসলে এতজন শ্রেষ্ট টেকি আছে যে বাছাই করা যে কত কষ্ট তা নিজে বাছাই শুরু না করলে বোঝা যাবে না। চেষ্টা করা হয়েছে এতে সবক্ষেত্রের একটি ব্যালেন্স রাখতে।

এই টিউনটি লেখার পিছের অন্যতম কারণ, বাংলাদেশের টেক জগতে এক বিরাট অস্থিরতা বিরাজ করছে। কেউ ব্লগিং, কেউ ফ্রিল্যান্সিং, কেউ কোডিং, কেউবা শুধু PTC নিয়েই পড়ে আছে। এই টিউন দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে কিছু মানুষকে বিরাট এই প্রজন্মের আইডল বা আনুসরণীয় পাত্র হিসেবে দাড় করানো। হতে পারে তাদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেকেই খুজে পাবে আলোর দিশা। লিস্টে নামগুলো সাজানো হয়েছে নামর প্রথম বাংলা বর্ণের ক্রম অনুসারে।


অমি আজাদ - Developer Evangelist, মাইক্রোসফট বাংলাদেশ
“অমি আজাদ” টেকি দুনিয়ার অতি পরিচিত একটি নাম। একবিংশ শতাব্দীর শুরু দিকে একুশে থেকে একটি বাংলা ফন্ট মুক্তি দেয়ার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। তার ক্যারিয়ারের লিস্টটি একটু বেশীই লম্বা। সাংবাদিক, ফ্রিল্যান্সার, ওয়েব ডিজাইনারসহ নানান কাজের অভিজ্ঞতা আছে তার ঝুলিতে। মাইক্রোসফট তার অবদানের জন্য একাধিকবার MVP (Most Valuable Professional) পুরস্কারে ভূষিত করেছে। বর্তমানে মাইক্রোসফটের Developer Evangelist (Evangelist= প্রচারক) রূপে কাজ করে যাচ্ছেন।

রাগিব হাসান - Assistant Research Scientist, Johns Hopkins University
রাগিব হাসান কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। রাগিব হাসান বাংলাদেশের অনেক ছাত্রের স্বপ্ন পূরণ করে দেখিয়েছেন। এই বুয়েট এলামনাই নিজের ইন্টার্ণশীপ সম্পন্ন করেছেন টেকি জায়ান্ট গুগলে ! গুগলে অবস্থানকালের তার অভিজ্ঞতাগুলো ব্লগে লিখে তিনি অনেকেরই কল্পনার সীমা বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বাংলা উইকিপিডিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

জাওয়েদ করিম - সহপ্রতিষ্ঠাতা, ইউটিউব
কল্পনা করা যায় বাংলাদেশের বংশউদ্ভুদ্ব কেউ ইউটিউবের পরিকল্পনা ও তৈরীকারী হতে পারেন ? সেই কল্পনাতীত কাজই বহু বছর আগে সত্যি করে ফেলেছেন জাওয়েদ করিম। ৩১ বছর বয়সী এই প্রোগ্রামার Paypal এর শুরু দিককার ইন্জিনিয়ার ছিলেন। Paypal র মূল কাঠামোর অনেক কিছুই তার ডিজাইন করা। বর্তমানে তিনি নতুন ভেন্চার Youniversity Ventures নিয়ে ব্যস্ত আছেন।

জাকারিয়া চৌধুরী - ফ্রিল্যান্সার
বলতে গেলে দেশে অনেক বড় বড় ফ্রিল্যান্সার এবং অনেক প্রতিষ্ঠিত ফ্রিল্যান্সিং টিম আছে। এদের মধ্য থেকে বেছে জাকারিয়া চৌধুরীকে লিস্টে রাখার অন্যতম কারণ, তিনি শুধু নিজে ফ্রিল্যান্সিংই করেননি, নিজের অভিজ্ঞতা ব্লগের দ্বারা সবার সাথে শেয়ার করে গেছেন প্রথম থেকেই। সম্প্রতি তিনি লাভ করেছেন বেসিসের বিশেষ ফ্রিল্যান্সার পুরস্কার। তিনি নিয়মিত মাসিক কম্পিউটার জগত পত্রিকায় লেখা লেখি করেন।

সালমান খান - প্রতিষ্ঠাতা, খান একাডেমী
এক বাংলাদেশী ইউটিউব তৈরী করেছেন তখন আরেকজন ইউটিউবকে পরিণত করেছেন শিক্ষার মাধ্যমে। কোন লাভের চিন্তা ছাড়াই সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের গণিত, বিজ্ঞানসহ নানান বিষয়ের জটিল সব তত্ত্ব অতি সাধারণ ভাষায় ভিডিও টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে প্রকাশ করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন সারা বিশ্বে। স্বয়ং বিল গেটস ও তার পুত্রও আছেন তার ছাত্রদের তালিকায়। জিতেছেন গুগলের ২০ লাখ ডলার পুরস্কারও, যার পুরোটাই কাজে লাগাবেন তার তৈরী খান একাডেমীতে।

হাসিন হায়দার - উদ্দ্যোগক্তা, Leevio

পিএইচপি ডেভেলপারদের গুরু হাসিন হায়দার সিভিল ইন্জিনিয়ার হলেও পিএইচপি প্রোগ্রামিংকেই নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়েছেন। তিনি একজন সফল উদ্দ্যগতাও (Entrepreneur) বটে। তার প্রতিষ্ঠানের তৈরী করা ফেসবুক পেজ ডিজাইনিং এপ্লিকেশন Miproapps আন্তজার্তিক বাজারে বেশ সাড়া ফেলেছে।

শাহরিয়ার মন্জুর - চেয়ারম্যান, সিএসসি ডিপার্টমেন্ট, সাউথ ইষ্ট ইউনিভার্সিটি

৩৫ বছর বয়সী এই প্রোগ্রামিং প্রেমী আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাম উজ্জল করেছেন। তিনি ACM-ICPC এর মত বড় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার প্রবলেম সেটার(প্রশ্ন তৈরীকারী) ও বিচারকের দায়িত্ব সম্পন্ন করে থাকেন। এই বয়সেই তিনি সাউথ ইষ্ট ইউনিভার্সিটি সিএসসি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠ হয়েছেন। ইন্টারনেট জগতে কিছুটা অপরিচিত থাকলেও আন্তজার্তিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বেশ নামডাক তার।

মুনির হাসান - BDOSN
গণিত অলিম্পিয়াডের জন্য বিশেষভাবে পরিচত হলেও দেশের প্রযুক্তিখাতে তার অবদান অস্বীকার করার মত নয়। বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই বাংলাদেশ ওপেনসোর্স নেটওয়ার্কের গড়ার মাধ্যমে দেশে মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলনকে নতুন প্রাণ শক্তি প্রদান করেন। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ওপেনসোর্স নেটওয়ার্ক খোলা, সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে মুক্ত সফটওয়্যারের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন বড়-ছোট শহরের তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের উপর সেমিনার আয়োজন করে থাকেন।

মেহেদী হাসান খান - প্রতিষ্ঠাতা, অমিক্রন ল্যাব
এই টিউনটি হয়তবা লেখা হতো না যদি না একজন স্বপ্নবাজ বাংলা লেখার মুক্ত পদ্ধতির কথা ভাবতেন। মেহেদী হাসান খানই জনপ্রিয় ইউনিকোডভিত্তিক বাংলা লেখার টুল অভ্রুর পেছনের মানুষ। মেডিকেল স্টুডেন্ট এই ডেভেলপার একটু আড়ালে থাকতেই পছন্দ করেন।

মেহেদী হাসান আরিফ - প্রতিষ্ঠাতা, টেকটিউনস
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিন্তু টেকটিউনসের নাম শোনে নাই এমন কেউ পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের  আন্ডারগ্রেজুয়েট পর্যায়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি এমন একটি প্লাটফরম দাড় করিয়ে দিয়েছেন যা এখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা সৌশল নেটওয়ার্ক। যা তাকে স্মরণীয় করে রাখবে দীর্ঘ দিন। এখন তিনি Entrepreneurship ও হাইব্রিড এপ্লিকেশন ডেভলপমেন্টের দিকে ঝুকে পড়েছেন।

মজার ব্যাপার হচ্ছে এদের বেশীরই ভাগই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করেননি। নিজের ইচ্ছা থাকলে আর পর্যাপ্ত পরিশ্রম দিলে কোন কিছুই যে অসাধ্য নয় তার প্রমাণ এই ১০জন। তাই তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, চেষ্টা ছেড়োনা, অযথা জিনিস নিয়ে সময় নষ্ট করো না, পরিশ্রম কর। সফলতা আসবেই।

ক্ষমা প্রার্থণা: প্রথমেই বলা হয়েছে ১০জন বাছাই করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। চেষ্টা করা হয়েছে প্রযুক্তির সব ক্ষেত্রই আয়ত্তে আনতে। বিশেষ কেউ ভূলক্রমে বাদ পড়ে গেলে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
এই লেখাটির সকল ক্রেডিট ব্লগদেশ.com এর। লেখাটি http://blogdesh.com/special/845 থেকে নেয়া।

https://www.techtunes.com.bd/featured/tune-id/64143
কয়েক জনের সাক্ষাতকার ঃ https://www.techtunes.com.bd/featured/category/tuneterview
7
টেকটিউনস এখন টেকটিউনস এখন World Class - State-of-the-art, High-Available মাইক্রো সার্ভিস Based, Multi Cloud Strategy Powered, সুপারলেটিভ Container Based Kubernetes (K8S), Docker ও CoreOS Cluster আর্কিটেকচার এ Migrate হয়েছে।

বাংলাদেশে এই প্রথম কোন কোম্পানি সম্পূর্ণ মাইক্রো সার্ভিস Based, Multi Cloud Strategy Powered, সুপারলেটিভ Container Based Kubernetes (K8S), Docker ও CoreOS Cluster আর্কিটেকচার এ নিজস্ব ওয়েব সার্ভিস তৈরি করলো।

এর ফলে টেকটিউনস এর ওয়েব সার্ভিস গুলো আর গতানুগতিক কোন ডেডিকেটেড হোস্টিং বা সার্ভারে রান করবে না বরং টেকটিউনসের Container Based Cluster আর্কিটেকচার নির্মাণের ফলে টেকটিউনস এখন থেকে High Available ও Fault Tolerance ভাবে টেকটিউনসের সকল সার্ভিস রান করবে।

টেকটিউনস এর এই নতুন Infrastructure এর ফলে টেকটিউনস এখন খুব সহজে Horizontally Scale হতে পারবে। যার ফলে টেকটিউনস মিলিয়ন থেকে বিলিয়ন ট্রিলিয়ন এমনকি জিলিয়ন ট্রাফিক Scaling করতে পারবে অনায়েসে।

সুপার আল্ট্রা ট্রাফিক ধারন ক্ষমতা নিয়ে এল টেকটিউনস এই নতুন Infrastructure টেকটিউনস এর এই নতুন আর্কিটেকচার ও Infrastructure এর ফলে টেকটিউনস এখন থেকে গুগল, টুইটার ও বিশ্বের মানের ওয়েব সার্ভিস মত আন-লিমিটেড ট্রাফিক সার্ভ করতে পারবে।


টেকটিউনসের এই নতুন আর্কিটেকচার এর ফলে ইউজাররা যে সুবিধা পাবে তা হল টেকটিউনসের এর High Availability ও Scalibility . টেকটিউনসের এই নতুন আর্কিটেকচার যেহেতু নতুন তাই এর বেশ কিছু সংশোধনের বিষয় থাকতে পারে যা ক্রমান্বয়ে সংশোধন করা হবে।

নতুন AD Panel সংযুক্ত হয়েছে Techtunes - tAds এর জন্য আর টেকটিউনসের এডভার্টাইজারদের জন্য সুবিধা হচ্ছে টেকটিউনসে এর নতুন আর্কিটেকচার যুক্ত হয়েছে এডভার্টাইজারদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ও ফাস্টার Techtunes - tAds AD Panel. টেকটিউনসে নতুন Cluster এ Techtunes - tAds - AD Panel লগইন করে এড সার্ভ করা যাবে অনায়েসে।

টেকটিউনসে যোগ হয়েছে ভিডিও টিউন করার ফিচার vUne (ভিউন) এবং অডিও টিউন করার ফিচার aUne (এউন)
সেই সাথে ইতোমধ্যেই টেকটিউনসে যোগ হয়েছে ভিডিও টিউন করার ফিচার vUne (ভিউন) এবং অডিও টিউন করার ফিচার aUne (এউন)। যার মাধ্যমে সরাসরি টেকটিউনসে আপলোড করেই ভিডিও টিউন ও অডিও টিউন করা যায়।

সৌশল নেটওয়ার্কিং সব আধুনিক ফিচার নিয়ে এল টেকটিউনস ইতোমধ্যেই টেকটিউনসে আরও যোগ হয়েছে সৌশল নেটওয়ার্কিং এর দারুণ সব ফিচার টিউনারদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো ও একসেপ্ট ফিচার, টিউনার ফলো করার ফিচার, সেন্ট্রাল নোটিফিকেশন ফিচার, টিউন কভার পিকচার যোগ করার সুবিধা, টিউন প্রোফাইল পিকচার যোগ করার সুবিধা, টিউনারের নিজস্ব ডেডিকেশন পাতা টিউনার হাব, টিউনার প্রাইভেট ম্যাসেজ পাঠানোর সুবিধা সহ আর অনেক সৌশল নেটওয়ার্কিং ফিচার

টেকটিউনসের এই নতুন আর্কিটেকচার এর ফলে এখন টেকটিউনস বিশ্বে মানের ওয়েব সার্ভিস এ আর এক ধাপ এগিয়ে গেল। সাথে থাকুন টেকটিউনসের করুন সুপার টিউনিং।

https://www.techtunes.com.bd/techtunes/tune-id/523132
8
টেকটিউনস – বিশ্বের #১ নম্বর বাংলা সৌশ‌্ল‌্ নেটওয়ার্ক! দেশের সর্ববৃহৎ, সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ৪ কোটিরও অধিক এক সুবিশাল কমিউনিটি! কৃতজ্ঞ হলে আপনার প্রাণ প্রিয় টেকটিউনসকে প্রমোট করুন, সাপোর্ট করুন

- হাসান যোবায়ের

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চার পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভিজিট হওয়া, জনপ্রিয়, সুবিশাল ও উন্মুক্ত এক বাংলা সৌশ‌্ল‌্ নেটওয়ার্ক টেকটিউনস - Techtunes।

টেকটিউনস http://www.techtunes.com.bd বাংলা দেশের ইন্টারনেট ইন্ড্রাস্ট্রিতে নিয়ে এসেছে এক যুগান্তকারি পরিবর্তন। অসংখ্য আইটি পেশাজীবি, ফ্রিল্যান্সার, কর্পোরেট ইউজার, নবীণ কম্পিউটার ব্যবহারকারি, সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে এডভান্স ইউজারদের বিশাল এক মিলন মেলা টেকটিউনস।

বিশ্বের প্রায় ২২০ দেশে প্রায় ৪ কোটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রেমী সরাসরি যুক্ত টেকটিউনসের সাথে। শুধু বাংলা ভাষা ভাষীই নয় টেকটিউনস ট্রান্সটেল করে বিশ্বের বহু ভিন ভাষীও টেকটিউনস ব্যবহার করে নিয়মিত। দেশের লক্ষ লক্ষ আইটি পেশাজীবি, ফ্রিল্যান্সার, ডিজাইনার, কোডার, ডেভলোপার, প্রকৌশলী এর হাতে খড়ি হয় টেকটিউনস থেকে-ই। টেকটিউনস বাংলাদেশের প্রকৃত ডিজিটাল বিপ্লব এর পথিকৃত। বাংলা ভাষার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চার বিশ্বের সবচেয়ে একটিভ ও বিস্বস্ত কমিউনিটি এর নাম টেকটিউনস।

প্রতিনিয়ত অগিণত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রমীরা জড়ো হয় টেকটিউনসের এই প্রযুক্তির শহরে। বর্তমানে ৪ কোটির অধিক প্রযুক্তি প্রেমী নিবিড় ভাবে জড়িত টেকটিউনসের এই প্রযুক্তির বলয়ে। সে অনুযায়ী টেকটিউনস http://www.techtunes.com.bd বিশ্বের #১ নম্বর বাংলা সৌশ‌্ল‌্ নেটওয়ার্ক।

টেকটিউনস - Techtunes কমিউনিটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানও প্রযুক্তির বাংলা কমিউনিটি। টেকটিউনস সৃষ্টি করেছে সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে প্রযুক্তির এক উন্মুক্ত দ্বার। প্রায় ৭ বছরের বেশি সময় ধরে টেকটিউনস হয়েছে প্রযুক্তিপ্রেমী মানুষের এক অনন্য ঠিকানা। টেকটিউনস বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চায় বিশ্বে এক নিরব বিপ্লব তৈরি করছে। টেকটিউনস থেকে প্রতিনিয়ত জন্ম হচ্ছে লাখো ফ্রিল্যান্সার, আইসিটি পেশাজীবি, আইটি অভিজ্ঞ এবং Greeks & Nerds. টেকটিউনসের কমিউনিটি আজ শুধু বিশ্বের সর্ববৃহৎ বাংলা সৌশল নেটওয়ার্কই নয় বরং বিশ্বে বাংলাভাষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেধাবীদের এক আর্কাইভ।

টেকটিউনসের এই সুবৃহৎ কমিউনিটিতে বর্তমানে নিবন্ধিত টিউজার সংখ্যা প্রায় ২ লাখের বেশি। এছাড়াও টেকটিউনস এর প্রতি মাসের ইউনিক ভিসিটর প্রায়  ৯ লাখেরও অধিক এবং মাসে পেইজভিউ ৯০ লক্ষ+।  শুধু বাংলা ভাষা ভাষীই নয় টেকটিউনস ট্রান্সটেল করে বিশ্বের বহু ভিন ভাষীও টেকটিউনস ব্যবহার করে নিয়মিত। বিশ্বের প্রায় ২২০ দেশে প্রায় ৩ কোটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রেমী সরাসরি যুক্ত টেকটিউনসের সাথে। টেকটিউনসে যদি একটি পৃথিবীর সাথে তুলনা করা হয় তবে এর বাসিন্দা প্রায় ৪ কোটি+

আমরা নিশ্চয়ই চাই আমাদের সবার প্রানের প্রিয় এই টেকটিউনসকে অন্তত বাংলাদেশের মধ্যে ১ নাম্বারে? আর এর জন্য অবশ্যই আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। তার জন্য বেশি কিছু করতে হবে না। শুধু মাত্র আপনার কিছু সময় ব্যয় করে টেকটিউনসে সাপোর্ট করুন, প্রোমট করুন।

টেকটিউনসের প্রতি আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন ৫ মিনিট সময় ব্যয় করে...
https://www.techtunes.com.bd/featured/tune-id/24678
9
বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রী না হয়েও ... এত্তকিছু?!!!  :o
10
Georgia State University, a leader in the use of data analytics to improve graduation rates, used to focus on having as many students as possible come in knowing what they wanted to major in.

Studies have shown, though, that students who make that decision during their first year are more successful than those who come in with their minds already set, said Timothy Renick, vice president for enrollment management and student success at Georgia State, which offers both two- and four-year degrees.
Although it isn’t one of the 30 colleges participating in the inaugural project, Arapahoe Commu -nity College is creating pathways based largely on the principles the community-colleges association is promoting.

Some faculty members have reacted with alarm to the possibility that their own courses would be cut and that the pathways might give short shrift to the liberal arts. Lisa Matye Edwards, vice president for student affairs, described a typical reaction: “You’re blowing the liberal arts, Lisa — you’re not letting them wan-der and choose the way I could when I was in college back in the day.”

https://www.chronicle.com/article/Can-Guided-Pathways-Keep/239886
https://twitter.com/chronicle/status/856866387314257921
Pages: [1] 2 3 ... 10