Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Shamim Ansary

Pages: [1] 2 3 ... 89
1
বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি কতটুকু?

ড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু

দেশের মানুষকে প্রতিবছর ভাগ্যদেবীর যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত হতে হয়, বন্যা তার অন্যতম। বিগত বছরগুলোর মতো চলতি বছরও দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চলসহ ২১টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকারে দেখা দিয়েছে। পানির ঢল, ব্যাপক নদীভাঙন আর প্রবল বন্যায় গৃহহীন, সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। বন্যার কারণে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে রাস্তায়, স্কুল-কলেজে নির্ঘুম ও দুশ্চিন্তাযুক্ত মনে রাত পার করছে অসহায় ওই মানুষগুলো। প্রতি মুহূর্তে তারা ভোগ করছে নিদারুণ ও অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট আর যন্ত্রণা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর বন্যা বিপর্যয়ে এ পর্যন্ত ১১৭ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে, দেশের ২১ জেলায় ৩২ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে অবশ্য বন্যার ভয়াবহতার মাত্রা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বন্যাকবলিত এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ওই বিপুল জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ, সাহায্য-সহযোগিতা ইত্যাদি সঠিকভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না? পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বন্যার্ত মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে বটে; কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় সামান্য। বন্যাকবলিত জেলাগুলোর শহর ও উপজেলা পর্যায়ে বা যাতায়াত করা সহজ—এমন এলাকাগুলোতে কিছু ত্রাণ তত্পরতা থাকলেও বন্যাকবলিত অনেক জেলায়, বিশেষ করে যেসব জেলায় দুর্গম চরাঞ্চল রয়েছে, সেখানে ত্রাণ নিয়ে তেমন কেউ যাচ্ছে না বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে এমন অনেক চর রয়েছে, যেখানকার লোকজন স্বাভাবিক শুষ্ক মৌসুমেই অভাব-অনটনের মধ্যে থাকে।

তারা এখন কতটা ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে পড়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই যে বন্যার গত পাঁচ দিনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ত্রাণ যায়নি এমন খবরও পাওয়া গেছে। আর বন্যাকবলিত এসব জেলার অনেক মানুষই যে এখন ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত সে কথা বলাই বাহুল্য। এবারের ভয়াবহ বন্যায় জনজীবন যেভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, যত টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে, তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটেনি বলে জানা যায়। বন্যার প্রভাবে কিছু কিছু এলাকার চিত্র এমন দাঁড়িয়েছে যে যেসব জায়গায় এই কিছুদিন আগেও যেখানে লোকালয় ছিল; কিন্তু বন্যার কারণে আজ সেখানে লোকালয় বলে কিছু নেই। বন্যায় বসতবাড়ি ডুবে যাওয়ার কারণে অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বাঁধ বা উঁচু স্থানে।

এবারের বন্যায় বন্যাকবলিত জেলাগুলোর বেশির ভাগ স্থানের নলকূপ ডুবে যাওয়ায় খাবার পানির তীব্র সংকটও দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত নানা রোগ-ব্যাধি। এটা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয় যে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বন্যা ও বন্যাপরবর্তী সময় নানা ধরনের রোগ-বালাই দেখা যায়। এর মধ্যে পানিবাহিত রোগের প্রভাবই বেশি দেখা যায়। বন্যার সময় ময়লা-আবর্জনা, মানুষ ও পশু-পাখির মলমূত্র এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা একত্র হয়ে এসব উৎস থেকে জীবাণু বন্যার পানিতে মিশে যায় এবং তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে বন্যায় সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার বেড়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত মানুষ যেন পানিবাহিত রোগ থেকে সহজেই রক্ষা পেতে পারে সে জন্য সরকারি-বেসকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে অবশ্যই সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে। আর এসব মানুষ যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কাজেই নিরাপদ পানি ব্যবহার করে তা জানাতে হবে। এর পাশাপাশি এও জানাতে হবে যে তারা যেন বন্যার পানি বা বন্যায় তলিয়ে যাওয়া নলকূপ, কুয়া বা অন্য কোনো উেসর পানি জীবাণু দ্বারা দূষিত থাকায় কোনো অবস্থায়ই এসব পানি দিয়ে হাত-মুখ না ধোয়, কুলি না করে বা পান করা থেকে বিরত থাকে। বন্যার পানিতে গোসল করা, কাপড়চোপড় ধোয়া, থালাবাসন পরিষ্কার করা থেকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। বন্যার পানি ফুটিয়ে পান করার ব্যাপারেও বন্যায় আক্রান্তদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। তবে পানিফোটানোর জন্য জ্বালানির সংকট থাকলে বা ফোটানো সম্ভব না হলে ক্লোরিনের মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

চলতি বছর দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলসহ ২১টি জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে এক প্রকার বাধ্য হয়েছে। দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলের পানি কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিবছর দেশে বন্যা হলেও বন্যা মোকাবেলায় সরকারসহ জনগণের পক্ষ থেকে কেন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকে না? কেন বন্যা প্রতিরোধ করার জন্য উপযুক্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না? এ ক্ষেত্রে সমস্যা কী কী কিংবা সমস্যা কোথায়? আবার সরকার, বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠনসহ সবার পক্ষ থেকে বন্যা মোকাবেলায় চলতি বছর বন্যাকবলিত মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য তেমন কী করা হয়েছে? সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবছরই বন্যার সময় বলতে শোনা যায় যে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে; বন্যায় আক্রান্ত এলাকায় ত্রাণের অভাব নেই ইত্যাদি। এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রতিবছর দেশের বন্যাকবলিত জেলায় যে পরিমাণ আশ্রয়কেন্দ্র থাকা প্রয়োজন, সেই তুলনায় আশ্রয়কেন্দ্র নেই। ফলে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে স্থান পাওয়া মানুষের সংখ্যা নগণ্য। অসংখ্য মানুষ তখন এক প্রকার বাধ্য হয়েই খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করে, যা মানবিকতা বিপর্যয়ের ভয়াবহ রূপ। এসব মানুষের জন্য শুধু চালই যথেষ্ট নয়। বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশুখাদ্য, ওরস্যালাইনসহ জরুরি ওষুধ-পথ্যেরও প্রয়োজন এসব মানুষের। পাশাপাশি সরকারি ত্রাণসামগ্রী সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করাও জরুরি। বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বন্যাত্রাণের যে সংস্কৃতি কিছুকাল আগেও ছিল। বন্যাদুর্গত মানুষগুলোর প্রতি সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া আমার, আপনারসহ সবার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। কারণ ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’। তবে এ কথা সবারই স্মরণ রাখা প্রয়োজন, বন্যাকবলিত হওয়ার পর বন্যার্তদের সাহায্য-সহযোগিতা করার চেয়ে বন্যা যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা করা উত্তম। কারণ ‘Prevention is better than cure’। আগামী দিনগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে যেন বন্যায় আক্রান্ত জেলাগুলোর বিভিন্ন জায়গা চিহ্নিত করে সঠিক উপায়ে বাঁধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়, নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোয় জিও টিউব (বালুর বড় বড় বস্তা) ফেলার ব্যবস্থা করা, নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করাসহ এমন সব কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় যেন সহজেই বন্যা মোকাবেলা করা যায়। আর এসব কিছু সম্ভব হলে অর্থাৎ বন্যা মোকাবেলা করার সব প্রস্তুতি পর্যাপ্ত হলে এবং শেষ পর্যন্ত এর সঠিক বাস্তবায়ন ঘটলে নিশ্চয় দেশের জনগণকে তখন আর বন্যার ফলে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে না।

লেখক : ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক

Source: http://www.kalerkantho.com/print-edition/sub-editorial/2017/08/22/534572

2
Hadith / JIBONJAPONEY RASULULLAH SAW ER BANI 2017
« on: August 03, 2017, 10:02:11 AM »
রসুল স. বলেছেন, হে  আল্লাহ! আপনি সেই ব্যক্তিকে সজীব ও আলোকোজ্জ্বল করে রাখুন (এই পৃথিবী এবং পরবর্তী পৃথিবীতে), যে আমার কথা শুনে তা স্মৃতিতে ধরে রাখলো; তারপর পূর্ণ হেফাজত করে এমন লোকের কাছে পৌঁছে দিলো, যে তা শোনেনি। তিরমিজী

Please download PDF version of the book
http://gg.gg/RASULULLAH_SAW_ER_BANI
JIBONJAPONEY RASULULLAH SAW ER BANI 2017
সংকলন ও সম্পাদনা: আবু সুফিয়ান

QR Code of the book:
RASULULLAH_SAW_ER_BANI
upload image free google

4
Person / Be the Change maker -- Mark Elliot Zuckerberg
« on: June 04, 2017, 12:48:26 PM »
-------------------------------------------------------------------------------------------------------
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান ছিল গত ২৫ মে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় কিংবা বর্ষাতি গায়ে দাঁড়িয়ে হার্ভার্ডের বিদায়ী শিক্ষার্থীরা শুনেছেন অনবদ্য এক বক্তৃতা। বক্তার নাম—মার্ক জাকারবার্গ। হ্যাঁ, সেই মার্ক জাকারবার্গ, যিনি হার্ভার্ড থেকে স্নাতক সম্পন্ন করতে পারেননি। নাম লিখিয়েছেন ‘ড্রপ আউট’-এর খাতায়। আজ তিনিই বিশ্বের সবচেয়ে ধনীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
------------------------------------------------------------------------------------------------------

আজ তোমাদের সঙ্গে থাকতে পেরে ভীষণ সম্মানিত বোধ করছি। কারণটা অকপটেই বলি, তোমরা যা অর্জন করেছ, আমি তা পারিনি। আজ যদি বক্তৃতাটা শেষ করতে পারি, সম্ভবত এই প্রথম হার্ভার্ডে কোনো কিছুর শেষ দেখা হবে (হাসি)।

২০১৭ সালের স্নাতক, অভিনন্দন!
আজ সমাবর্তন বক্তা হিসেবে আমি বেমানান—এ জন্য নয় যে আমি ড্রপ আউট হয়েছিলাম। কারণ, তোমরা আর আমি প্রায় একই প্রজন্মের প্রতিনিধি। এক দশকেরও কম সময়ের ব্যবধানে আমরা এই প্রাঙ্গণে হেঁটেছি। একই লেকচার পড়েছি। আমাদের প্রজন্ম আর আমাদের পৃথিবী থেকে আমি যা শিখেছি, সেটাই আজ বলব।
গত কয়েক দিনে পুরোনো দিনের কিছু চমৎকার স্মৃতি মনে পড়ে গেল।
তুমি হার্ভার্ডে ভর্তির সুযোগ পেয়েছ—এ খবরটা যখন জানলে, ঠিক সে মুহূর্তটা কার কার মনে আছে? আমার মনে আছে। আমি ‘সিভিলাইজেশন’ নামে একটা ভিডিও গেম খেলছিলাম। সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নেমেছিলাম বাবাকে খবরটা দেওয়ার জন্য। সত্যি বলছি, সেদিনই মা-বাবা আমাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি গর্বিত হয়েছিলেন। যদিও দর্শকসারিতে বসা আমার মা দুদিকে মাথা নাড়ছেন...(হাসি)!
হার্ভার্ডে প্রথম লেকচার—কার কার মনে আছে? আমার ছিল ‘কম্পিউটার সায়েন্স ওয়ান টু ওয়ান’। হ্যারি লুইসের সেই অভাবনীয় ক্লাস! আমি ক্লাসে এসেছিলাম দেরি করে। তাড়াহুড়ায় উল্টো টিশার্ট পরে চলে এসেছিলাম। কেন কেউ আমার সঙ্গে কথা বলছে না, ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। তবে হ্যাঁ, একজন কথা বলেছিল—কে এক্স জিন। সেদিন ক্লাসে আমরা একসঙ্গে ‘প্রবলেম সেট’ সমাধান করেছি। কে এক্স জিন এখন ফেসবুকের বড় একটা অংশের দেখভাল করে। অতএব ২০১৭ সালের স্নাতকেরা বুঝতেই পারছ, কেন মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা উচিত!
হার্ভার্ডে আমার সবচেয়ে মধুর স্মৃতি হলো প্রিসিলার সঙ্গে দেখা হওয়ার মুহূর্তটি। ফেসম্যাশ নামের প্র্যাংক ওয়েবসাইট তখন মাত্রই চালু করেছি। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভাগ জানাল, তারা আমার সঙ্গে ‘দেখা করতে’ চায়। সবাই ধরেই নিল, আমাকে নিশ্চিত বের করে দেওয়া হবে। এমনকি আমার ব্যাগ-পত্র গোছানোতে সাহায্য করতে মা-বাবা চলে এলেন। বন্ধুরা আমার জন্য একটা বিদায়ী অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে ফেলল। আর দেখ, কী ভাগ্য—সেই অনুষ্ঠানেই এক বন্ধুর সঙ্গে হাজির হলো প্রিসিলা! পোফহো বেলটাওয়ারের প্রসাধনকক্ষের সামনে আমাদের দুজনের দেখা। সেদিন প্রিসিলাকে আমি যা বলেছিলাম, সেটা নিশ্চয়ই অবিস্মরণীয় প্রেমের বাণীগুলোর মধ্যে স্থান পেতে পারে। আমি বলেছিলাম, ‘আগামী তিন দিনের মধ্যে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হবে। অতএব, তোমার আর আমার খুব শিগগিরই একসঙ্গে বসা দরকার!’
আজ তোমরা যারা স্নাতক ডিগ্রি নিচ্ছ, এই বুদ্ধিটা তোমরাও কাজে লাগাতে পারো। প্রিয়জনকে বল, ‘আজই আমাকে বের করে দেবে; অতএব...(হাসি)।
শেষ পর্যন্ত হার্ভার্ড থেকে আমাকে বের করে দেওয়া হয়নি, আমি নিজেই বেরিয়ে গিয়েছিলাম। তত দিনে প্রিসিলা আর আমি একসঙ্গে সময় কাটাতে শুরু করেছি। ফেসবুক নিয়ে যে সিনেমাটি তৈরি হয়েছে, সেটি দেখলে মনে হয় ফেসবুক গড়ে ওঠার পেছনে ফেসম্যাশের একটা বড় অবদান ছিল। সত্যি বলতে কি, অবদানটা ততটা গুরুত্বপূর্ণও নয়। তবে হ্যাঁ, ফেসম্যাশ না থাকলে হয়তো প্রিসিলার সঙ্গে আমার দেখা হতো না। সে আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। সেই বিবেচনায় ক্যাম্পাসে থাকাকালীন ফেসম্যাশ আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার।
এই ক্যাম্পাসেই আমরা সারা জীবনের জন্য কিছু বন্ধু পেয়েছি। কেউ কেউ পেয়েছি জীবনসঙ্গীও। তাই এ জায়গাটার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ধন্যবাদ হার্ভার্ড।
আজ আমি জীবনের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলতে চাই। গৎবাঁধা সমাবর্তন বক্তৃতার মতো আমি বলব না, তোমার জীবনের লক্ষ্যটা খোঁজো। আমরা একুশ শতকের তরুণ। জীবনের লক্ষ্য খোঁজার কাজটি আমাদের সহজাতভাবেই করার কথা। আমি বরং বলব, শুধু তোমার জীবনের লক্ষ্য খোঁজাই যথেষ্ট নয়। আমাদের প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ হলো—এমন এক পৃথিবী তৈরি করা, যেখানে সবাই নিজের জীবনের লক্ষ্য নিয়ে ভাবে। জন এফ কেনেডির একটা গল্প আমার খুব প্রিয়। তিনি একবার নাসা স্পেস সেন্টারে গিয়েছিলেন। সেখানে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ঝাড়ু দিতে দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কী করছ?’ লোকটা জবাব দিলেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি একজন মানুষকে চাঁদে যেতে সাহায্য করছি।’
তোমার লক্ষ্যটা হয়তো আমার গণ্ডির চেয়েও বড়, তুমি হয়তো তোমার চেয়েও বড় একটা কিছুর অংশ। লক্ষ্যই মানুষকে সত্যিকার সুখের সন্ধান দেয়।
তোমরা এমন এক সময়ে স্নাতক সম্পন্ন করছ, যখন লক্ষ্য ব্যাপারটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মা-বাবা যখন স্নাতক করেছেন; তখন কর্মস্থল, গির্জা কিংবা সমাজ তাঁদের লক্ষ্য ঠিক করে দিত। কিন্তু এখন প্রযুক্তি মানুষের অনেক কাজের জায়গা দখল করে নিয়েছে। সমাজের ভূমিকা কমে যাচ্ছে। এমন অনেকেই আছেন, যাঁদের সঙ্গে তাঁদের সম্প্রদায়ের যোগাযোগ কম। তাঁরা হতাশ এবং এই শূন্যতা পূরণের চেষ্টায় ব্যস্ত।
আমি অনেক জায়গায় ঘুরেছি। কিশোর অপরাধী আর মাদকাসক্ত মানুষের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা আমাকে বলেছে, স্কুলের সময়টুকুর পর একটা কিছু করার থাকলে হয়তো তাঁদের জীবনটা আজ এমন হতো না। আমি কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা জানেন—তাঁদের প্রয়োজন ফুরিয়ে আসছে; তাঁরা তাঁদের অবস্থান খুঁজছেন।
শুধু নতুন নতুন কাজের সুযোগই নয়, মানুষের সামনে নতুন নতুন লক্ষ্য দাঁড় করাতে হবে। একটা অগ্রসরমাণ সমাজ পেতে হলে আমাদের প্রজন্মের সামনে এটাই চ্যালেঞ্জ।
কার্কল্যান্ড হাউজের ছোট্ট ঘরটিতে যেদিন ফেসবুকের যাত্রা শুরু হলো, সেই রাতের কথা আমার মনে পড়ে। হার্ভার্ডের বাসিন্দাদের একসঙ্গে সংযুক্ত করতে পেরে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত ছিলাম। বন্ধু কে এক্সকে বলছিলাম, দেখো—একদিন কেউ একজন সারা পৃথিবীর মানুষকে সংযুক্ত করবে। ব্যাপারটা হলো, আমাদের মাথায় কখনো আসেনি যে এই কেউ একজনটা তো আমিও হতে পারি। আমরা ছিলাম কলেজপড়ুয়া বাচ্চা ছেলে। এত বিশাল কিছু সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না। বরং আমাদের চারপাশে বড় বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ছিল। আমার স্রেফ মনে হয়েছিল, একদিন কেউ না কেউ করবে। কিন্তু একটি বিষয় আমি নিশ্চিতভাবে জানতাম, প্রতিটি মানুষ অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত হতে চায়। অতএব, দিনের পর দিন আমরা শুধু কাজ করে গেছি।
জানি তোমাদের অনেকেরই এমন কিছু গল্প আছে। তোমরা জানো, পৃথিবীতে একটা পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। তোমরা জানো, কেউ না কেউ সেই পরিবর্তনটা আনবে। সেই একজনটা কেন তুমি নও? (সংক্ষেপিত)
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মো. সাইফুল্লাহ
সূত্র: নিউজ ডট হার্ভার্ড ডট এডু


Source: goo.gl/PP8zlF

9
Mr. Nizhum Rahman, Lecturer, Department of General Education Development of Daffodil International University received Prime Minister Gold Medal Award 2013-2014 for his outstanding performance in B.Sc. results in 2013. Prime Minister Sheikh Hasina handed over the Gold Medal and Certificate in a program held on March 22, 2017 at Gano Bhabon as the chief guest. Education Minister Nurul Islam Nahid MP, was also present in the program. Professor Abdul Mannan, Chairman, University Grants Commission of Bangladesh presided over the program.

University Grants Commission of Bangladesh has awarded Prime Minister Gold Medal Award 2013-2014 among 233 students who are top in their faculty among 34 universities. Finally, 56 students who are top in their universities got a chance to receive their medal from Prime Minister of Bangladesh.

13
Smartphone Application / Daffodil Guest Room Booking App
« on: March 30, 2017, 02:33:02 PM »
We have developed Daffodil Guest Room Booking apps and it has been added in to the daffodil.family website download page.

download link for Daffodil Family members :
http://daffodil.family/download/apps/app-release.apk

14
Smartphone Application / DIU Smart Student Mobile App (iOS & Android)
« on: March 30, 2017, 02:16:05 PM »
Dear Student,
You will be happy to know that Mobile App (iOS & Android) for the student's of Daffodil International University (DIU) have added all features needed for students. It is mentioned that five students from Department of Computer Science and Engineering (CSE) of DIU named Ferdousur Rahman Sarker, Shafayat Hossain, Israfil Mahmud Raju, Md. Mahedi and Md. Siddiqur Rahman developed these Apps. Students and guardians will get all sorts of information like result, Payment, Notice, Class Routine, News feed and Exam schedule through these Apps. DIU Smart Students App can be downloaded from Google Play Store and App Store.

Link is given below
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.daffodilvarsity.diu&hl=en


15
বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশেরও বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হয়, তন্মধ্যে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যকার একটি বড় অংশের উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসার বিষয়টি অন্যতম। শিল্প ও কৃষি খাতের ব্যাপক উন্নয়ন, রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া, তথ্য-প্রযুক্তি খাতের দ্রুত বিকাশ সাধন প্রভৃতি ক্ষেত্রে শিক্ষিত তরুণদের অবদান ও অংশগ্রহণ শুধু ব্যাপক ও বিস্তৃতই নয়—তাদের এই অংশগ্রহণ অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন গুণগত মাত্রা সৃষ্টিতেও সক্ষম হয়েছে। শিল্প, ব্যবসায় তথা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের বাইরে শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য সৃজনশীল বুদ্ধিবৃত্তিক কাজেও তাদের অবদান গর্ব করার মতো। খেলাধুলা বিশেষত ক্রিকেটে তাদের উদীয়মান উত্থান সবার চোখ জুড়িয়ে দিয়েছে।

এই যে উজ্জ্বল তারুণ্য, এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের দিনগুলোতে বর্ধিত সমৃদ্ধি অর্জনেরই ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু পাশাপাশি আবার এটিও সত্য যে উল্লিখিত এই তরুণদের একটি বড় অংশই তথ্য-প্রযুক্তি সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজস্ব মেধা ও যোগ্যতার চরম অপচয়কারী হয়ে উঠছে। অথচ আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিকভাবেই লাভবান হয়নি, রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জানা যায়, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে সরকারের কোনো কোনো দপ্তরের কাজকর্মে দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানি অনেকটা কমে গেছে। এতদসত্ত্বেও তথ্য-প্রযুক্তি সুবিধার অপব্যবহারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের তরুণ সমাজের একটি অংশের মেধা, প্রতিভা ও সম্ভাবনা কিভাবে ক্রমান্বয়ে চরম অপচয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে, তা নিয়ে এখানে খানিকটা আলোকপাত করার চেষ্টা করা হলো।

তথ্য-প্রযুক্তি খাতের একটি নতুন অধ্যায় হচ্ছে ফেসবুক। একে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও বলা হয়। কিন্তু এই ফেসবুক-সমাজের তরুণ সদস্যরা বৃহত্তর বাস্তব সমাজ থেকে ক্রমেই অনেকটা স্বতন্ত্র ও আলাদা হয়ে পড়ছে। ফেসবুকে নিরন্তর সময় কাটিয়ে এরা পড়াশোনা, খেলাধুলা, নাটক, চলচ্চিত্র, সংগীত, সামাজিকতা সব কিছু থেকেই নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। এমনকি দৈনন্দিন অত্যাবশ্যকীয় কাজকর্মের ক্ষেত্রেও এরা পিছিয়ে পড়ছে। সকালের ক্লাসে উপস্থিত হওয়া বা আদৌ ক্লাসে না আসা, সময়মতো বাড়ির কাজ (অ্যাসাইনমেন্ট) জমা দিতে না পারা, ঘুমজড়ানো চোখে ক্লাসে মনোযোগ দিতে না পারা ইত্যাদি ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসবের পেছনে রয়েছে ফেসবুক। সারা রাত ফেসবুকে কাটালে পরের দিন উল্লিখিত ঘটনাগুলো ঘটতে বাধ্য এবং সেগুলোই এখন ঘটে চলেছে বাংলাদেশের শহুরে সমাজের এমনকি বহু ক্ষেত্রে মফস্বলের তরুণ-যুবকদের ক্ষেত্রেও।

জানা গেছে, এই তরুণদের একটি বড় অংশই তথ্য-প্রযুক্তি সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের শুধু অলস, কর্মবিমুখ, সময় অপচয়কারী ও আড়ষ্টতাপূর্ণ স্বপ্নহীন প্রজন্মের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে না, এ প্রক্রিয়ায় চিন্তার বন্ধ্যত্বে পড়ে কখনো কখনো এদের মধ্যকার একটি বড় অংশ মাদক সেবন ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ‘ঘুমহীনতার কারণ অনুসন্ধান’ বিষয়ক এক গবেষণায় সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক হাজার ৮০০ তরুণের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, তাদের প্রত্যেকেরই ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত যুক্তিসংগতভাবেই একটি অভিযোগ চলে আসছে যে খেলার মাঠ বা খোলা জায়গার অভাবে শহরের শিশু-কিশোরদের যথাযথ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটছে না। অভিযোগটি শুধু যথার্থই নয়—গুরুতরও। কিন্তু তার সঙ্গে নতুন যে অনুষঙ্গ যুক্ত হয়েছে, তা আরো ভয়ংকর! শহরের বেশির ভাগ (এমনকি গ্রাম বা মফস্বলেরও একটি বড় অংশ) শিশু-কিশোর এখন ফেসবুক বা মোবাইলের মধ্যে নিজেদের আটকে রেখে ঘর থেকেই বের হয় না বা হতে চায় না। ফলে তাদের জন্য খেলার মাঠ থাকা বা না থাকা দুটিই এখন অপ্রাসঙ্গিক। এ অবস্থায় এ শিশু-কিশোররা শারীরিক ও মানসিক উভয় ক্ষেত্রেই চরম বৈকল্যের শিকার হয়ে পড়ছে।

মাদকাসক্তি, খুনখারাবি, পর্নোগ্রাফি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারেও মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ফেসবুক ইত্যাদির গুরুতর রকমের ভূমিকা রয়েছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির কল্যাণে দেশের তরুণদের একটি অংশ এখন নানা আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে। দেশে জঙ্গিবাদ বিস্তারের পেছনেও তথ্য-প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে অপরাধসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডগুলো ক্রমেই একধরনের আন্তর্জাতিক চরিত্র ও মাত্রা পেয়ে যাচ্ছে। সমাজে মিথ্যাচারিতা, প্রতারণা ও ধূর্ততার প্রসারেও তথ্য-প্রযুক্তি এখন একধরনের আগ্রাসী ভূমিকা রাখছে। নিরুপায় হয়ে ফেসবুকভিত্তিক সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্প্রতি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে না ওঠার পেছনে ফেসবুকে মাত্রাতিরিক্ত সময় কাটানো যে একটি বড় কারণ, তা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়। অথচ তথ্য-প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারত তাদের অধিকতর পাঠমুখী হয়ে ওঠার অন্যতম সহায়ক হাতিয়ার। তথ্য-প্রযুক্তির নানা মাধ্যম হতে পারত অধিকতর তথ্য, জ্ঞান ও ধারণা দিয়ে নিজেদের অধিকতর  সমৃদ্ধরূপে গড়ে তোলার একটি চমৎকার লাগসই উপায়। কিন্তু সেসব তো হচ্ছেই না, উল্টো তথ্য-প্রযুক্তি সুবিধার সুযোগ ও সহজলভ্যতার অপব্যবহার ঘটিয়ে নিজেদের তারা স্বপ্নবিমুখ অন্ধকারের গহ্বরে সঁপে দিচ্ছে।

তথ্য-প্রযুক্তির প্রান্তিক পর্যায়ের অপব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি কুফল নিয়ে উপস্থাপিত আলোচনাকে কারো কারো কাছে নেতিবাচক বলেও মনে হতে পারে। আমাদের বহু তরুণ যে দেশ-বিদেশের নানা ক্ষেত্রে বিশ্বমানের সাফল্য ও দক্ষতা দেখাতে সক্ষম হচ্ছে, সেসবকে উদ্ধৃত করে কেউ কেউ ওপরের আলোচনাকে অযথার্থ বলে আখ্যায়িত করতেও প্রয়াসী হতে পারে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তরুণদের উল্লিখিত নানা সাফল্যের কথা মনে রেখেও বলা প্রয়োজন যে আমাদের উদীয়মান তরুণ সমাজের বিশাল আকৃতির তুলনায় উল্লিখিত সাফল্যের হার মোটেও পর্যাপ্ত নয়।

এ অবস্থায় তাহলে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের উপায় কী? অথবা সে উপায় আদৌ আছে কি না? অবশ্যই আছে। একচেটিয়া মুনাফালোভী গোষ্ঠীর বলয় থেকে বেরিয়ে এসে তথ্য-প্রযুক্তিসংক্রান্ত রাষ্ট্রের নীতি কাঠামোকে ঢেলে সাজাতে পারলে এ সমস্যা অনেকাংশেই কমে আসতে বাধ্য। মোবাইল অপারেটররা সারা রাত ধরে হ্রাসকৃত বা নামমাত্র মূল্যে সেবা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণদের উৎসাহিত ও আকৃষ্ট করছেন। আর রাজস্ব লাভের অজুহাত দেখিয়ে সরকারও তা হৃষ্টচিত্তে মেনে নিচ্ছে। আর এই সুবাদে দেশব্যাপী গড়ে উঠেছে অন্ধকারাচ্ছন্ন এক নৈশসমাজ, যা শেষ পর্যন্ত এ বৃহত্তর সমাজকে কোথায় নিয়ে ঠেকাবে আমরা কেউই জানি না।

কিছুদিন আগে ফোনের সিমকার্ড নিয়ন্ত্রণের একটি সীমিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সিম নিবন্ধন বাধ্যতামূলককরণের মধ্য দিয়ে। কিন্তু নিয়ম-নীতির নানা ফাঁকফোকর গলিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীরা কিংবা খুনি মাস্তান বা ছিনতাইকারী সবার হাতেই এখন আবার আগের মতোই সিমকার্ডের যথেচ্ছ বিচরণ। আর অপ্রাপ্তবয়স্ক বহু তরুণের কাছে নিত্য-নিয়ত সিমকার্ড বদলানো এখন সিগারেটের শলাকা পরিবর্তনের মতোই সহজ ব্যাপার।

তথ্য-প্রযুক্তির গতিশীল ও যুক্তিসংগত বিকাশ ও ব্যবহারকে আমাদের অবশ্যই উৎসাহিত ও সহায়তা করতে হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সে উৎসাহ যেন কোনোভাবেই আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজকে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে ফেলে না দেয়। এক দশক ধরে গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পেছনে আমাদের তরুণ উদ্যোক্তা ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতের যে অনন্য ভূমিকা রয়েছে, তথ্য-প্রযুক্তির প্রান্তিক পর্যায়ের অপব্যবহারের কারণে সে তরুণদেরই একটি বড় অংশ ক্রমান্বয়ে বিপথগামী ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে—সেটা কিছুতেই এবং কারোরই কাম্য হতে পারে না। আমরা আমাদের তারুণ্যের মেধা ও শক্তির বিকাশকে উৎসাহিত করি। কিন্তু একই সঙ্গে উদ্বিগ্ন বোধ করি তথ্য-প্রযুক্তির প্রান্তিক আঁধারে নিমগ্ন তাদের অবক্ষয়েরও।


লেখক : প্রকল্প পরিচালক. ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার (আইআইসি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি


http://www.ekalerkantho.com/home/displaypage/news_2017-03-22_14_18_b
http://www.kalerkantho.com/print-edition/sub-editorial/2017/03/22/477415

Pages: [1] 2 3 ... 89