Daffodil International University

Help & Support => Common Forum/Request/Suggestions => Topic started by: subrata.ns on April 11, 2017, 05:34:14 PM

Title: ঘুমঃ মানসিক রোগের কিছু উদাহরণ (পর্ব ১)
Post by: subrata.ns on April 11, 2017, 05:34:14 PM
মানুষ ঘুমায় শরীরের ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করবার জন্য। এছাড়াও নতুন দিন শুরু করবার জন্য ঘুমের বিকল্প আর কোন কিছু নেই। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর একজন ব্যক্তি যদি বিছানায় ঘুমুতে যায়, তাহলে এর চাইতে আরামের আর কোন কিছুই হতে পারে না। ঘুমের নানা ধরণের স্তর রয়েছে। যেমন, নন-র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ কিংবা র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ। কিন্তু যখন সাধারণ নিদ্রার চাইতে আমাদের ঘুমটা একটু অন্যরকম হয় কিংবা ঘুম হয়ই না, তখন কেমন হবে? আসুন আজ জেনে নেই কিছু অদ্ভূত ধরণের ঘুমের উদাহরণঃ

১) স্লিপিং বিউটি সিনড্রোমঃ
রুপকথার সেই রাজকন্যার ঘুমের কথা জানা আছে না আপনাদের? যে কিনা অপেক্ষা করত এক রাজপুত্রের জীয়ন কাঠির অপেক্ষায়, যার স্পর্শে তার ঘুম ভেঙ্গে যাবে? কিন্তু স্লিপিং বিউটি সিনড্রোম নামক এই ঘুমের কোন শুভ সমাপ্তি নেই। ক্লেইন-লেভিন সিন্ড্রোম নামের এই রোগ সম্পর্কিত হচ্ছে প্রয়োজনের চাইতে বেশি ঘুমের, নানা ধরণের অদ্ভূত আচরণ ও এক ধরণের আশঙ্কার। সাধারণত টিনেজারদের মাঝে এই রোগটি দেখা যায়। শতকরা হারের সংখ্যাটিও নেহাত কম নয়। একেবারে ৭০ শতাংশ!
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের একটি গবেষণায় দেখা যায় যে যারা এই সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাদের শারীরিক কোন অবনতি দেখা যায় না। তারা দিন রাত কেবল ঘুমিয়ে থাকেন। দিনের একটি বেশিরভাগ অংশ তাদের কাটে ঘুমিয়ে। যখন তারা ঘুম থেকে উঠে যান, তখন তাদের মনে হয় অবসন্ন, একধরণের গোলক ধাঁধাঁয় আটকে পড়া মানুষ এবং কি করবে তা বুঝতে না পেরে তালগোল হারিয়ে ফেলা। এমনকি দেখা যায় এই রোগের রোগীরা অস্বাভাবিক যৌন তাড়নায়ও ভুগে থাকেন।
এই রোগের কারণ কি, এটি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো সম্পূর্ণ তথ্য জানতে পারেন নি। কেউ কেউ বলেন আমাদের মস্তিষ্কের যে হাইপোথ্যালামাস রয়েছে, তার সাথে এই রোগের সম্পর্ক রয়েছে। সবচেয়ে অস্বস্তির ব্যাপার হচ্ছে এই রোগের কোন চিকিৎসা এখনো আবিষ্কৃত হয় নি।
২) নাইটমেয়ার ডিজঅর্ডারঃ
আপনি স্কুলে যাচ্ছেন, অফিসে যাচ্ছেন কিংবা স্বাভাবিক কাজ কর্ম করছেন। আপনার মনে সবসময় একটি আতংক হানা দিতে থাকে। আর এটি হচ্ছে কেউ একজন আপনাকে ছায়া শ্বাপদের মত অনুসরণ করে চলেছে। আপনার প্রতিটি পদক্ষেপের তালে তালে ছায়াটি আপনাকে লক্ষ্য করছে। কেমন লাগবে ঘটনাটি?
যখন রাতের বেলার আতংকটি আপনাকে দিনেও তাড়া করে ফিরতে থাকবে, তাহলে বুঝতে হবে এটি নাইটমেয়ার ডিজঅর্ডার। বিজ্ঞানীরা বলেন এই রোগের তিনটি স্তর রয়েছে। প্রথম স্তরে রাতে ভালো ঘুম হবে না, দ্বিতীয় স্তরে আপনি অহেতুক ঘামতে থাকবেন এবং সবচেয়ে ভয়ের স্তর হচ্ছে তৃতীয় স্তর। এই স্তরে আপনার মনে হবে কেউ একজন আপনাকে হত্যা করবার জন্য হাতে একটি কুঠার নিয়ে ঘুরছে।
ক্লান্তি ও ঘুম না হওয়া এই রোগের প্রধান চাবিকাঠি। আমেরিকান স্লিপ এসোসিয়েশনের মতে, বিভিন্ন কেসে দেখা যায় কাউন্সেলিং কিংবা সিডেটিভ ড্রাগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এক্ষেত্রে। তবে হাতে কুঠারসহ খুনীকে যদি আপনি চিরতরে জীবন থেকে দূর করতে চান, তাহলে একটি পরিপূর্ণ গোসল ও সময়মত ঘুমুতে যাবার বিকল্প আর কোন কিছুই নেই।