Daffodil International University

Bangladesh => Heritage/Culture => Topic started by: 710001113 on April 01, 2018, 01:03:55 AM

Title: মসজিদের শহর খলিফাতাবাদ - বর্তমান বাগেরহাট.
Post by: 710001113 on April 01, 2018, 01:03:55 AM
Sakhawat Mohammad Bhuiyan
বিশ্ব বিখ্যাত Forbes ম্যাগাজিন পৃথিবীর ১৫ টি হারিয়ে যাওয়া বা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া শহরের তালিকা তৈরি করে। এই ১৫ টি হারানো শহরের মধ্যে একটি হচ্ছে খলিফাতাবাদ যেটি বর্তমানে বাগেরহাট নামে পরিচিত। UNESCO একে world heritage হিসেবে ঘোষণা করে এই বলে যে, "an outstanding example of an architectural ensemble which illustrates a significant stage in human history"। এটি mosque city বলেও পরিচিত, কারণ খুব কাছাকাছি দূরত্বে এখানে ৫০ এরও অধিক ইসলামি স্থাপনা ছিলো যেগুলো মোগল পূর্ব সুলতানি আমলে কমপক্ষে ৫৫০ বছর আগে স্থাপন করেন বাংলার সুলতান নাসিরুদ্দিন শাহের স্থানীয় শাসক উজবেক বংশোদ্ভূত সুফি খান জাহান আলী। এর সব স্থাপনার মাঝে সবচাইতে বিখ্যাত হচ্ছে ষাট গম্বুজ মসজিদ। UNESCO এর পরিচয় দেয় এই ভাবে, "the most impressive Muslim monuments in the whole of the Indian subcontinent"। অর্থাৎ UNESCO এর মতে, ভারত পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সকল মুসলিম স্থাপনার মধ্যে সবচাইতে ইম্প্রেসিভ স্থাপনা হচ্ছে ষাট গম্বুজ মসজিদ। ষাট গম্বুজ বলে পরিচিতি লাভ করলেও আসলে মসজিদটিতে আছে ৬০ টি পিলারের উপর ৭৭ গম্বুজ। লজ্জা বোধ হচ্ছে যে এর সম্বন্ধে আমার এতো কিছু জানা ছিল না। আরো লজ্জা এই জন্য যে সুলতানি আমলের এই মসজিদের শহরে প্রথমবারের মতো গেলাম বুড়ো বয়সে এসে। মোট দশটি world heritage স্থাপনা দেখে এলাম আম্মাকে সাথে নিয়ে। দেখার সাথে সাথে শ্রদ্ধা ভরে দু চার রাকাত নফল নামাজও পড়ে এলাম প্রায় সব গুলো মসজিদে। সাড়ে পাঁচ শত বছরের পুরানো মসজিদে নামাজ পড়ার অনুভুতি মানতেই হবে গায়ে কাঁটা দেয়া রোমাঞ্চকর। সকালে গিয়ে প্রথমে জিয়ারত করি সুফি খান জাহান আলীর সমাধি, নামাজ পড়ি উনার সমাধির পাশের এক গম্বুজ মসজিদে। তারপর একে একে নয় গম্বুজ মসজিদ, জিন্দাপীর মসজিদ, রনবিজয়পুর মসজিদ, চুনাখোলা মসজিদ, বিবি বেগানি মসজিদ, দশ গম্বুজ মসজিদ, সিঙ্গাইর মসজিদ, ও সবশেষে ষাট গম্বুজ মসজিদ। এর প্রায় সব গুলোই UNESCO world heritage site এর অন্তর্ভুক্ত। সুফি খান জাহান আলী যে কেবল মসজিদ স্থাপন করেছেন অনেক গুলো তা কিন্তু না। এলাকাবাসীদের সুপেয় পানি সংস্থানের জন্য অনেক দীঘিও তৈরি করেন। দুটো দীঘি দেখেছি। একটি খান জাহান আলীর সমাধির দক্ষিণে অবস্থিত যা ঠাকুর দীঘি বা খাঞ্জালি দীঘি নামে পরিচিত। আরেকটি ষাট গম্বুজ মসজিদের পশ্চিমে অবস্থিত যা ঘোড়া দীঘি নামে পরিচিত। চোখ জুড়ানো বিশাল দীঘি - শান্ত ও সৌম্য। ঠাকুর দীঘিতে কুমির আছে বিধায় নামার সাহস করিনি। কিন্তু ঘোড়া দীঘিতে নেমে দীর্ঘ সময় শীতল পানিতে শরীর ডুবিয়ে পুষিয়ে নিয়েছি। এক দমে সাত ডুব দিয়েছি মোট তিন বার। সাঁতার জানিনা তো। তাই আম্মা সতর্ক দৃষ্টি রেখে বসে ছিলেন দীঘির পাকা ঘাটে। সুবহানআল্লাহ সুবহানআল্লাহ! এবং আম্মা সহ মসজিদের শহর বাগেরহাট সফরের জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া - আলহামদুলিল্লাহ।