Daffodil International University

Faculties and Departments => Faculty Sections => Topic started by: Mousumi Rahaman on September 13, 2018, 02:21:17 PM

Title: রক্তশূন্যতা রোধ করতে
Post by: Mousumi Rahaman on September 13, 2018, 02:21:17 PM
রক্তশূন্যতা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিষয়। রক্তশূন্যতা অন্য রোগের সঙ্গে একটি উপসর্গ হতে পারে। কখনোবা নিজেই একটি রোগ হতে পারে। রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কোনো কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে গেলে তাকে বলা হয় অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা। হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করা। হিমোগ্লোবিন রক্তের লোহিত কণিকায় থাকে।
এ বিষয়ে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন মৃধা বলেন, ‘আমাদের দেশের শিশুরা সাধারণত আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতায় বেশি ভোগে। শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তা সাধারণত হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। তাই শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রক্তস্বল্পতা একটি বড় প্রভাব ফেলে। নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা দিলেও এটি সব বয়সী মানুষেরই হতে পারে।’
স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১৪ থেকে ১৮ গ্রাম বা ডিএল (ডেসিলিটার) থাকে। নারীদের ১২ থেকে ১৬ গ্রাম বা ডিএল। শিশুর বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী স্বাভাবিক মানের নিচে থাকে, তবে সে রক্তস্বল্পতায় ভুগছে বলা হয়। এক বছর বয়স থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত সাধারণভাবে শিশুর হিমোগ্লোবিন ১১ গ্রাম বা ডেসিলিটারের নিচে থাকা রক্তস্বল্পতার নির্দেশ করে।

কেন হয় রক্তস্বল্পতা?
রক্তস্বল্পতা রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। নানা কারণে রক্তস্বল্পতা হতে পারে। রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হলো আয়রন। কোনো কারণে শরীরে আয়রনের উপস্থিতি কমে গেলে রক্তস্বল্পতা হয়। একে বলে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা। এ ছাড়া ভিটামিন বি ও ফলিক অ্যাসিডের অভাব, দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ কিছু রোগ যেমন: দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যা, যক্ষ্মা, রক্তের ক্যানসার, থ্যালাসেমিয়া, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, রক্ত উৎপাদনকারীর মজ্জার সমস্যা, রক্তের লোহিত কণিকা নিজে নিজে ভেঙে যাওয়া, রক্তক্ষরণ ইত্যাদি কারণে রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকে।
নানা রকম রক্তস্বল্পতার ভেতর আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার হারই সবচেয়ে বেশি। নারীদের মধ্যে এর হার পুরুষের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশে নারীদের গর্ভাবস্থায় আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এই রক্তস্বল্পতার কারণে বেড়ে যায় মাতৃমৃত্যুর হার। শিশুদের মধ্যেও এর হার যথেষ্ট বেশি।

আয়রনের ঘাটতি কীভাবে হয়?
আয়রনের ঘাটতি হওয়ার প্রধান কারণ অপুষ্টি। খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন না থাকলে আয়রনের অভাব দেখা দেয়। গর্ভাবস্থায় এবং শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় বাড়তি আয়রনের প্রয়োজন। কিন্তু দেখা যায় সেই অনুযায়ী গর্ভবতী মায়েদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হয় না। কিছু পরিবার বা এলাকায় গর্ভবতী মায়েদের কম খেতে দেওয়া হয়। যেসব নারী অতিরিক্ত ঋতুস্রাবজনিত সমস্যায় ভোগেন, তাঁদেরও আয়রনজনিত রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। পেপটিক আলসার, কৃমি, পাইলস, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ওষুধ সেবন ইত্যাদি কারণেও দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষরণ হলে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
যারা বেশি বেশি বা অপ্রয়োজনীয় গ্যাসট্রিকের ওষুধ খায় অর্থাৎ গ্যাসট্রিকের সমস্যা হলেও খায়, না হলেও খায়, তাদের রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। কারণ, আয়রন শোষণ করতে গেলে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড লাগবে কিন্তু গ্যাসট্রিকের ওষুধগুলো কারণে এই অ্যাসিড কমে গেলে আয়রন কিন্তু পর্যাপ্ত শোষণ হবে না।

উপসর্গ
* শরীর ও চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।
* বুক ধড়ফড় করা।
* দুর্বলতা ও সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া এবং ব্যায়ামের পর শ্বাসকষ্ট হওয়া।
* কানে ঝিঁঝিঁ শব্দ শোনা।
* খাবারে অরুচি ও ক্ষুধামান্দ্য।
* নখ ভঙ্গুর হওয়া বা নখের আকৃতি চামচের মতো হওয়া।
* কাজকর্ম-পড়ালেখায় অমনোযোগী হওয়া।

চিকিৎসা
যেকোনো ধরনের রক্তস্বল্পতায় চিকিৎসা দেওয়া হয় রক্তস্বল্পতার পেছনের কারণটিকে বিবেচনা করে।
আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতায় কী কারণে আয়রনের ঘাটতি হলো, তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। অপুষ্টিজনিত কারণে হলে আয়রন দেওয়াটাই মূল চিকিৎসা। সঙ্গে আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কচুশাক, ডাঁটাশাক, পালংশাক, শিম ও শিমের বিচি, কাঁচা কলা, সামুদ্রিক মাছ, কলিজা, গিলা, গরু-খাসির মাংসে প্রচুর আয়রন থাকে। আয়রন সাপ্লিমেন্ট দুই ভাবে দেওয়া হয়। মুখে খাওয়ার জন্য ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল আকারে, শিরায় ইনজেকশন হিসেবে। কোন উপায়ে রোগী এটা নেবে, তা রোগীর অবস্থা বুঝে চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন। পেপটিক আলসার, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, পাইলস থাকলে তার চিকিৎসা করতে হবে। নিয়মিত কৃমির ওষুধ খেতে হবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য একটা বড় হুমকি হলো এই আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা। অথচ এর সমাধান খুব সহজ। শুধু দরকার একটু সচেতনতা।

লেখক: চিকিৎসক
Title: Re: রক্তশূন্যতা রোধ করতে
Post by: Ms Jebun Naher Sikta on September 13, 2018, 06:13:57 PM
thanks for sharing...
Title: Re: রক্তশূন্যতা রোধ করতে
Post by: Mizanur Rahman (GED) on October 10, 2018, 05:32:22 PM
 :)