Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - monirulenam

Pages: [1] 2 3 ... 19
1
শ্বে মানুষের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হার্ট অ্যাটাক। বলা হয় বিশ্বে এক তৃতীয়াংশ মৃত্যুর জন্যে দায়ী হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ।

বাংলাদেশেও হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ আজকাল খুব সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রায়শই হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক উপসর্গগুলো আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়।

অথচ চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রাথমিক উপসর্গগুলো দেখে সাবধানতা অবলম্বন করতে পারলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের এক গবেষণা বলছে, হৃদরোগের প্রাথমিক উপসর্গ খেয়াল না করলে তার ফলে কেবল মৃত্যু নয়, বেঁচে থাকলেও অনেক জটিলতা নিয়ে বাঁচতে হয়।

প্রাথমিক উপসর্গ:
* বুকে ব্যথা - চাপ চাপ ব্যথা, বুকের এক পাশে বা পুরো বুক জুড়ে ভারী ব্যথা

* শরীরের অন্য অংশে ব্যথা---মনে হতে পারে ব্যথা শরীরে এক অংশ থেকে অন্য অংশে চলে যাচ্ছে, যেমন হতে পারে বুক থেকে হাতে ব্যথা হতে পারে। সাধারণত বাম হাতে ব্যথা হয়, কিন্তু দুই হাতেই ব্যথা হতে পারে।

* মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম করা

* ঘাম হওয়া

* নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা

* বমি ভাব হওয়া

* বুক ধড়ফড় করা বা বিনা কারণে অস্থির লাগা

* সর্দি বা কাশি হওয়া

বেশিরভাগ সময় বুকে ব্যথা খুবই তীব্র হয়, ফলে শরীরের অন্য অংশে ব্যথা অনেকে টের পান না।

আরো পড়ুন:

বসের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক বাড়াতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি

ওবায়দুল কাদের ‘সম্পূর্ণভাবে চেতনা ফিরে পেয়েছেন’

মোটা হলেই কি হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে?

দেখুন: আপনি কত দিন বাঁচবেন

হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে
আবার কারো ক্ষেত্রে হয়ত বুকে ব্যথা অনুভব করেননি, বিশেষ করে নারী, বয়স্ক মানুষ এবং যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা, বুকে ব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে যাবার মত ঘটনা সাধারণ হার্ট অ্যাটাকের এক মাস আগে হয়।

কেন হয় হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক?
আমাদের হৃদপিণ্ডে যে রক্ত প্রবাহিত হয়, তা হৃদযন্ত্রে আসে ধমনী দিয়ে। সেটি যখন সরু হয়ে যায়, তখন নালীর ভেতরে রক্ত জমাট বেধে যেতে পারে।

ফলে নালীর ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এতে হৃদযন্ত্রের পেশীগুলো দুর্বল হয়ে যায়, ফলে আর সে অক্সিজেন প্রবাহিত করতে পারে না।

হৃদপিণ্ডের ভেতর দিয়ে অক্সিজেন প্রবাহিত না হতে পারলেই হার্ট অ্যাটাক হয়।

হার্ট অ্যাটাক হলে কী করণীয়?
হার্ট অ্যাটাক হবার পর দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, চিকিৎসা পেতে এক ঘণ্টা দেরির জন্য মৃত্যুর হার বেড়ে যায় ১০ শতাংশ।

* তাৎক্ষণিক-ভাবে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে

* হার্ট অ্যাটাকের পরপরই রোগীকে শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন এবং গায়ের জামা-কাপড় ঢিলেঢালা করে দিন

* হার্ট অ্যাটাকের পর যদি আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তার কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর চেষ্টা করুন

* হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীর যদি বমি আসে তাহলে তাকে একদিকে কাত করে দিন। যাতে সে সহজেই বমি করতে পারে। এতে ফুসফুসের মতো অঙ্গে বমি ঢুকে পড়া থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তি রক্ষা পাবেন।

কিভাবে ঠেকানো যাবে হার্ট অ্যাটাক?
* খাবার ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে, নিয়মিত হাঁটা-চলা ও ব্যায়াম করতে হবে, সক্রিয় থাকতে হবে

* ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

* নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখতে হবে

* ধূমপান বন্ধ করতে হবে

* মাঝে মাঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

BBC NEWS  / Bangla      4 march 2019

2
"আপনার কবিতা পত্রিকার প্রথম পাতায় ছাপানোর জন্য কী কোন নির্দেশ আছে?"

নয় বছরের শাসনামলে সেনাশাসক জেনারেল এরশাদকে কোন সংবাদ সম্মেলনে এরকম বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখি সম্ভবত আর হতে হয়নি।

১৯৮৩ সালের অক্টোবর মাস। জেনারেল এরশাদ তখন বাংলাদেশের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। মাত্র তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন।

সংসদ ভবনে তখন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দফতর (সিএমএলএ)। সেখানে রীতি অনুযায়ী এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। জেনারেল এরশাদ কথা বলবেন তার যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে।

জাহাঙ্গীর হোসেন তখন সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস এর কূটনৈতিক সংবাদদাতা। এখন তিনি ঢাকায় অবসর জীবনযাপন করছেন। বিবিসি বাংলার সঙ্গে টেলিফোনে তিনি বর্ণনা করছিলেন ৩৬ বছর আগের সেই সংবাদ সম্মেলনটির কথা।

"সংবাদ সম্মেলনটি হচ্ছিল পার্লামেন্ট ভবনের দোতলায় এক নম্বর কমিটি রুমে। জেনারেল এরশাদকে প্রচুর রাজনৈতিক প্রশ্ন করা হচ্ছিল, কারণ তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে ডেকেছিলেন। কিন্তু কোন দল তার ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না। কেউ তার সঙ্গে কথা বলতে আসছিল না। বিরক্ত হয়ে জেনারেল এরশাদ বলেছিলেন, আমি কি রেড লাইট এলাকায় থাকি যে আমার সঙ্গে কেউ কথা বলবে না?"

সংবাদ সম্মেলনের এই পর্যায়ে জাহাঙ্গীর হোসেন উঠে দাঁড়িয়ে জেনারেল এরশাদকে বললেন, "মে আই আস্ক ইউ এ নন-পলিটিক্যাল কোয়েশ্চেন"- অর্থাৎ আমি কি আপনাকে একটি অরাজনৈতিক প্রশ্ন করতে পারি?

জেনারেল এরশাদ বেশ খুশি হয়ে গেলেন। কিন্তু জাহাঙ্গীর হোসেন যে প্রশ্নটি তাকে ছুঁড়ে দিলেন, সেটির জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। একজন প্রবল ক্ষমতাধর সামরিক শাসক আর এক সাংবাদিকের মধ্যে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় প্রবাদতুল্য হয়ে আছে।

ইংরেজীতে তিনি যে প্রশ্নটি ছুঁড়ে দিয়েছিলেন তার বাংলা তর্জমা এরকম:

"আপনি ক্ষমতায় আসার আগে কেউ জানতো না আপনি একজন কবি। এখন সব পত্রিকার প্রথম পাতায় আপনার কবিতা ছাপা হয়। পত্রিকার প্রথম পাতা তো খবরের জন্য, কবিতার জন্য নয়। বাংলাদেশের প্রধানতম কবি শামসুর রাহমানেরও তো এই ভাগ্য হয়নি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে আপনার কবিতা প্রথম পাতায় ছাপানোর জন্য কী কোন নির্দেশ জারি করা হয়েছে?"

ছবির কপিরাইটJEHANGIR HOSSAIN
Image caption
জাহাঙ্গীর হোসেন: বিব্রতকর প্রশ্ন করায় এরশাদের রোষের শিকার হয়েছিলেন
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সবাই হতচকিত। জেনারেল এরশাদের পাশে বসা তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ আর এস দোহা বললেন, 'শামসুর রাহমান ইজ নট দ্য সিএমএলএ (শামসুর রাহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নন)।

জেনারেল এরশাদ অবশ্য তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে থামিয়ে দিলেন। তিনি প্রশ্নকারী সাংবাদিককে বললেন, আমি দেশের জন্য এত করি, এটুকু কি আপনি দেবেন না আমাকে?

"তখন আমি বললাম, ওয়েল জেনারেল, আস্কিং কোয়েশ্চেন ইজ মাই প্রিরোগেটিভ, আনসারিং ইজ ইয়োর্স। ইউ হ্যাভ নট আনসার্ড মাই কোয়েশ্চেন। মাই কোয়েশ্চেন ইজ....(প্রশ্ন করার অধিকার আমার, উত্তর দেয়ার অধিকার আপনার। কিন্তু আপনি আমার প্রশ্নের উত্তর দেননি। আমার প্রশ্নটি হচ্ছে..)

জাহাঙ্গীর হোসেন এরপর তার প্রশ্নটি আবার করলেন।

এবার জেনারেল এরশাদ বললেন, "আপনি যদি চান, আর ছাপা হবে না।"

এরপর পত্রিকার প্রথম পাতায় জেনারেল এরশাদের কবিতা ছাপা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার কবিতা প্রথম পাতা থেকে চলে গিয়েছিল ভেতরের পাতায়। তবে এর পরিণাম ভোগ করতে হয়েছিল জাহাঙ্গীর হোসেনকে।

"এ ঘটনার পর আমাকে বদলি করে দেয়া হয় চট্টগ্রামে। আমি যেতে চাইনি। আমার ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু আমাকে ব্যুরো এডিটর করে পাঠিয়ে দেয়া হলো। আমি দুবছর ছিলাম। দুবছর পর আমি পদত্যাগ করে সেখান থেকে চলে আসি।"

ছবির কপিরাইটBETTMANN
Image caption
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরে এরশাদ এই সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন
সামরিক শাসক যখন কবি
এটি ছিল এমন এক সময়, যখন কবিতাকে ঘিরেই চলছিল বাংলাদেশে রাজনীতির লড়াই।

একদিকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা সেনাশাসক জেনারেল এরশাদ, যিনি কবিখ্যাতি পাওয়ার জন্য আকুল। অন্যদিকে বিদ্রোহী একদল তরুণ কবি, যারা কবিতাকে পরিণত করেছেন তাদের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রধান অস্ত্রে।

প্রতিটি পত্রিকার প্রথম পাতায় তখন হঠাৎ হঠাৎ ছাপা হচ্ছে জেনারেল এরশাদের কবিতা। ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যে বেরিয়ে গেছে তার প্রথম কবিতাগ্রন্থ, 'কনক প্রদীপ জ্বালো।' বঙ্গভবনে নিয়মিত বসছে কবিতার আসর। ঢাকার সেসময়কার প্রথম সারির নামকরা কিছু কবি তাকে ঘিরে থাকেন এসব অনুষ্ঠানে।

কবি এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আমলা মোফাজ্জল করিম তখন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। ক্ষমতা গ্রহণের আগে পর্যন্ত এরশাদের কবিতানুরাগের কথা তিনি শোনেননি, স্বীকার করলেন তিনি।

মোফাজ্জল করিম ছিলেন এরশাদকে ঘিরে থাকা কবিগোষ্ঠীর সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ। এর কিছুটা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে, কিছুটা তার কবিতা চর্চার সুবাদে। একারণে এরশাদের বঙ্গভবনের কবিসভায় তিনিও আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন।

"কবিতার প্রতি তার অনুরাগের কথা আমরা প্রথম জানতে পারি ক্ষমতা নেয়ার মাসখানেক পরে এক অনুষ্ঠানে", স্মৃতি হাতড়ে জানালেন তিনি।

"সেই অনুষ্ঠানে তিনি এসেছিলেন সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে বক্তৃতা দিতে। শিল্পকলা একাডেমীর মিলনায়তনে এটা হয়েছিল। উনি বক্তৃতা করলেন। আমরা সবাই সামনে বসে শুনছি। তারপর বক্তৃতার শেষে তিনি হঠাৎ করে বললেন, কাল রাতে আমি একটি কবিতা লিখেছি।"

"এরপর কবিতাটি তিনি পড়ে শোনালেন। সেই প্রথম আমরা তার কবিতা শুনলাম।"

ছবির কপিরাইটAFP
Image caption
এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের একেবারে সামনের কাতারে ছিলেন কবি-লেখক-শিল্পীরা
সরকারি ট্রাস্ট থেকে তখন প্রকাশিত হতো দৈনিক বাংলা এবং সাপ্তাহিক বিচিত্রা। দৈনিক বাংলার সম্পাদক তখন শামসুর রাহমান। দুটি কাগজেই নিয়মিত ছাপা হতে লাগলো জেনারেল এরশাদের কবিতা।

বঙ্গভবনে তখন যে কবিতার আসর বসতো তাতে একদিন যোগ দিলেন মোফাজ্জল করিম।

"আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল আমার এক কবিবন্ধু এবং সহকর্মী মনজুরে মাওলা। আমি অনেক অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা করে সেখানে গিয়েছিলাম। প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ বা অনুরোধ, এখানে না গেলে আবার কি না কি হয়, তাই গেলাম, কবিতাও পাঠ করেছিলাম। তো সেখানে আমি লক্ষ্য করেছিলাম, অনেক খ্যাতনামা কবি সেখানে ছিলেন।"

সেই কবিকুলের মধ্যে প্রধান দুই ব্যক্তি ছিলেন কবি ফজল শাহাবুদ্দীন এবং কবি ইমরান নুর, (এটি তার ছদ্মনাম, তার আসল নাম মনজুরুল করিম, সরকারের ডাকসাইটে আমলা ছিলেন)।

মোফাজ্জল করিম মনে করতে পারেন এরা দুজন বিভিন্নভাবে এরশাদ সাহেবের নৈকট্য লাভ করেছিলেন।

তখন কবিদের দুটি সংগঠন ছিল। একটির নাম কবিকন্ঠ। এর নেতৃত্বে ছিলেন ফজল শাহাবুদ্দীন। তার সঙ্গে ছিলেন আল মাহমুদ, সৈয়দ আলী আহসানের মতো কবিরা। এরশাদ ছিলেন এই সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। কবিকন্ঠ বেশ সক্রিয় ছিল। তারা জেনারেল এরশাদকে বলে ধানমন্ডিতে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি এই সংগঠনের নামে বরাদ্দ নেন। সেখানে প্রতি মাসে কবিতার আসর বসতো। সেখানে এরশাদ থাকতেন প্রধান অতিথি। তিনি নিজে কবিতাও পড়তেন।

শামসুর রাহমান এবং আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ মিলে কবিদের আরেকটি সংগঠন গড়ে তোলেন। সেটার নাম ছিল পদাবলী। তাদের ঘিরে জড়ো হন আরেকদল কবি।

বাংলাদেশের কবিদের জন্য এটি ছিল এক অভূতপূর্ব সময়। দেশের রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ ব্যক্তি কবিতার অনুরাগী, কবিযশপ্রার্থী। কাজেই কবিদের মধ্যে শুরু হলো একধরণের প্রতিযোগিতা, কিভাবে কবিতার মাধ্যমে তার নৈকট্য এবং আশীর্বাদ পাওয়া যায়।

দেশে সংবাদপত্রগুলোর ওপর তখন জারি রয়েছে কঠোর সেন্সরশীপ। কিন্তু তার মধ্যে নানা কথা, নানা গুজব ভেসে বেড়ায়।

একটি গুজব ছিল, জেনারেল এরশাদের নামে ছাপা হওয়া এসব কবিতা আসলে লিখে দেন নামকরা কজন কবি।

মোফাজ্জল করিম স্বীকার করলেন, এরকম কথা তাদের কানেও এসেছিল তখন। তখন বাংলাদেশের বেশ নামকরা কজন কবির নামই তারা শুনেছিলেন, যারা একাজ করতেন।

"আমরা শুনতাম, কিন্তু এর বেশি আমরা জানতাম না আর কিছু। তবে আমি এটা বিচার করতে যাইনি। এসব কবিতা এরশাদ সাহেবের নামে ছাপা হচ্ছে, আমি সেভাবেই দেখেছি। কে লিখে দিচ্ছে, কেন লিখে দিচ্ছে, সেটা নিয়ে আমি মাথা ঘামাইনি।"

ছবির কপিরাইটMOHAMMAD RAFIQ
Image caption
মোহাম্মদ রফিক: কবিতা লিখে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এরশাদের সামরিক শাসনের।
নিষিদ্ধ কবিতা
পত্রিকার প্রথম পাতায় সামরিক শাসকের কবিতা নিয়ে যখন এত আলোচনা, তখন বাংলাদেশে গোপনে হটকেকের মতো বিক্রি হচ্ছে এক নিষিদ্ধ কবিতা।

"খোলা কবিতা" নামে সেই কবিতা কেউ প্রকাশ করতে সাহসই করছিল না। কবির নাম মোহাম্মদ রফিক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্যের শিক্ষক।

নিষিদ্ধ কবিতাটির কয়েকটি পংক্তি এরকম:

"সব শালা কবি হবে, পিঁপড়ে গোঁ ধরেছে উড়বেই, দাঁতাল শুয়োর এসে রাজাসনে বসবেই।"

পুরো কবিতাটি ছিল অনেক দীর্ঘ, প্রায় ১৬ পৃষ্ঠা। এটি গোপনে ছাপানো হয় এক ছাপাখানায়। নিউজপ্রিন্টে এক ফর্মায় ছাপানো সেই কবিতা গোপনে বিলি করেন মোহাম্মদ রফিকের ছাত্র-ছাত্রীরা। হাতে হাতে সেই কবিতা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

কিভাবে রচিত হয়েছিল সেই কবিতা, সেই কাহিনী শোনালেন মোহাম্মদ রফিক, যিনি এখন ঢাকায় অবসর জীবনযাপন করছেন।

"কবিতাটি আমি লিখেছিলাম জুন মাসের এক রাতে, এক বসাতেই। আমার মনে একটা প্রচন্ড ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, মনে হচ্ছিল একজন ভুঁইফোড় জেনারেল এসে আমাদের কবিতার অপমান করছে।"

তার মানে তার এই কবিতার লক্ষ্য তাহলে ছিলেন জেনারেল এরশাদই?

ছবির কপিরাইটMOHMMAD RAFIQ
Image caption
মোহাম্মদ রফিকের সেই আলোচিত কবিতা
"এটা শুধু এরশাদকে নিয়ে লেখা কবিতা নয়। এরশাদের মার্শাল ল জারি আমার কাছে একটা ঘটনা। কিন্তু একজন লোক, যে কোনদিন লেখালেখির মধ্যে ছিল না, ভূঁইফোড় - সে আজ সামরিক শাসন জারির বদৌলতে কবিখ্যাতি অর্জন করবে, এটা তো মেনে নেয়া যায় না।"

মোহাম্মদ রফিক ছিলেন ষাটের দশকে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। এজন্যে জেলও খেটেছেন। জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের মধ্যে তিনি পাকিস্তানি আমলের সামরিক শাসনের ছায়া দেখতে পেয়েছিলেন। তার কবিতায় তিনি এর প্রতিবাদ জানালেন।

নিষিদ্ধ খোলা কবিতা তখন নানা ভাবে কপি হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। টনক নড়লো নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর। একদিন মোহাম্মদ রফিকের ডাক পড়লো সাভারে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের দফতরে।

"সেখানে তিনজন সেনা কর্মকর্তার মুখোমুখি আমি। তাদের প্রথম প্রশ্ন, এটা কি আপনার লেখা। আমি বললাম হ্যাঁ, আমার লেখা। আমি তাদের বললাম, আমি আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেব, কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর দেব না। সেটা হচ্ছে, এটি কে ছেপে দিয়েছে। কারণ আমি তাকে বিপদে ফেলতে চাই না।"

এর কিছুদিন পর মোহাম্মদ রফিকের নামে হুলিয়া জারি হয়। তাকে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকতে হয়।

কবিদের বিদ্রোহ
এরশাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তখন চলছে নানা জোয়ার-ভাটা। আন্দোলন কখনো তীব্র রূপ নিচ্ছে, আবার কখনো ঝিমিয়ে পড়ছে।

১৯৮৭ সাল। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বড় দলগুলোর মধ্যে যখন চলছে নানা টানাপোড়েন, তখন তরুণ কবিরা এক বিরাট কাণ্ড করে ফেললেন। ঢাকায় তারা এক বিরাট কবিতা উৎসবের আয়োজন করলেন, যার নাম দেয়া হলো 'জাতীয় কবিতা উৎসব।'

এই বিদ্রোহী কবিদের নেতৃত্বে আছেন শামসুর রাহমান। তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মূল সংগঠকের দায়িত্বে সেই রাগী বিদ্রোহী কবি মোহাম্মদ রফিক।

কিভাবে এই কবিতা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল, সেটি বলতে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন তিনি।

ছবির কপিরাইটSUMONA HASAN
Image caption
পটুয়া কামরুল হাসানের সেই বিখ্যাত স্কেচ: 'দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে'
"তখন অনেক তরুণ কবির সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল। বিশেষ করে রুদ্র, কামাল, এরা অনেকে আমার কাছাকাছি ছিল। আমরা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বা আশে-পাশে আড্ডা দেই। আমাদের মধ্যে তখন আলাপ চলছিল, এরকম কিছু করা যায় কীনা। সেখান থেকেই এর শুরু। তরুণ কবিরাই এর উদ্যোগ নেন। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেন রফিক আজাদ।"

১৯৮৭ সালের ফেব্রুয়ারী ১ এবং ২ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় টিএসসির মোড়ে প্রথম জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু হলো। সারা বাংলাদেশের কবিরা জড়ো হলেন সেখানে।

এই উৎসব কার্যত পরিণত হলো এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের এক বিরাট মঞ্চে। প্রথম উৎসবের শ্লোগানটাই ছিল, "শৃঙ্খল মুক্তির জন্য কবিতা।" উৎসবে যত কবিতা পড়া হতো, তাতে রাজনৈতিক কবিতার সংখ্যাই বেশি।

একদিকে সরকার বিরোধী কবিরা যখন রাজপথ গরম করছেন, তখন বঙ্গভবন-কেন্দ্রিক কবিরাও এশিয় কবিতা উৎসব নামে আরেকটি উৎসব করছেন সরকারী আনুকুল্যে। এরশাদ তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তাতে বিভিন্ন দেশের নামকরা কবিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হলো। ১৯৮৯ সালে তাদের একটি উৎসবে যোগ দিতে এসেছিলেন ইংল্যান্ডের সেসময়ের সবচেয়ে খ্যাতিমান কবি টেড হিউজ।

কিন্তু বিদ্রোহী কবিরা যেভাবে সরকার বিরোধী আন্দোলনে উত্তাপ ছড়িয়ে যাচ্ছিলেন, তা জেনারেল এরশাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ালো।

১৯৮৮ সালে দ্বিতীয় বারের মতো ঢাকায় জাতীয় কবিতা উৎসবে ঘটলো এক অভাবিত ঘটনা। সেবারের উৎসবের শ্লোগান 'স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কবিতা।" উৎসব মঞ্চে অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের একজন নামকরা শিল্পী, কামরুল হাসান। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি সেখানেই ঢলে পড়েছিলেন। তবে মৃত্যুর আগের মুহূর্তে তিনি এঁকেছিলেন একটি স্কেচ, যার নীচে তিনি লিখেছিলেন, 'দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে।'

উৎসবের কর্মীরা রাতারাতি সেই স্কেচ দিয়ে পোস্টার ছাপিয়ে ফেলেন, কিন্তু বিলি করার আগেই পুলিশ হানা দিয়ে জব্দ করে অনেক পোস্টার। একজন শিল্পীর আঁকা একটি স্কেচ যেন একজন সেনাশাসকের ক্ষমতার জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

একটি গণঅভ্যুত্থান
১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে এক ব্যাপক ছাত্র-গণ অভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটে এরশাদের। পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি।

ছবির কপিরাইটSTR
Image caption
ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর এরশাদের কাব্যচর্চায় ভাটা পড়ে
কিন্তু তারপর যেভাবে একদিন ধুমকেতুর মতো বাংলাদেশের কাব্যজগতে তার আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল, সেভাবেই হঠাৎ করে তার কবিতা যেন হারিয়ে যায়। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির কারণে তাকে কারাবাসে যেতে হয়। তবে সেখানে অখন্ড অবসর সত্ত্বেও তিনি কবিতার চর্চা করেছেন এমন খবর পাওয়া যায়নি। আর পত্রিকার প্রথম পাতা শুধু নয়, ভেতরের পাতাতেও তার কোন কবিতা আর ছাপা হতে দেখা যায়নি।

কিন্তু যেসব কবিতা হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের নামে প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে তার কাব্য প্রতিভা সম্পর্কে কী ধারণা পাওয়া যায়?

মোফাজ্জল করিম বলছেন, এরশাদের মধ্যে একটা কবি মন ছিল বলেই তাঁর মনে হয়েছে।

"আমার একটা জিনিস মনে হয়, তার একটা কাব্যপ্রীতি ছিল। কবিতা তিনি ভালোবাসতেন, কবিদের সাহচর্য পছন্দ করতেন। এ কারণেই তিনি কবিতা পাঠের আসর করতেন, কবিদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। কবিদের জন্য তার একটা সফট কর্ণার ছিল। কেউ কেউ তার কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধেও নিয়েছেন এটাকে কাজে লাগিয়ে, শোনা যায়।"

মোহাম্মদ রফিক অবশ্য জেনারেল এরশাদকে এখনো কবি স্বীকৃতি দিতে রাজী নন।

"সে তো কবি নয়। বাঙ্গালির সবচেয়ে বড় গর্বের জায়গা হচ্ছে কবিতা। কারণ কবিতা চিরকাল বাঙ্গালিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। কিন্তু এই কবিতাকে আসলে এরশাদ ধ্বংস করতে চেয়েছে।"

"আমার দেশের একটা চরিত্র আছে। যখন সে জাগে, তখন সে গান শোনে আর কবিতা পড়ে। আর যখন তার অবক্ষয় শুরু হয়, তখন সে কবিতা থেকেও দূরে সরে যায়।"

মোহাম্মদ রফিক মনে করেন, প্রবল পরাক্রমশালী সেনাশাসক জেনারেল এরশাদকে যে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল, তার পেছনে কবিতা এক বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

মোয়াজ্জেম হোসেন
বিবিসি বাংলা, লন্ডন
১৪ জুলাই ২০১৯

3
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর সরকারিভাবে কয়েক হাজার কর্মী কাজ করতে দক্ষিণ কোরিয়ায় যান।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়, যার খরচও হয় অত্যন্ত কম, এক লাখ টাকার মধ্যে। অথচ সেখানে চাকরির বেতন হয় আশি হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত।

ফলে এই চাকরির প্রতি আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের অনেক তরুণের।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়োন বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছেন। বাংলাদেশে সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সংস্কৃতি নিয়ে কয়েকটি চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অভিবাসনের বিষয়টি আলোচনা হবে কিনা এবিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজের ক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থা কি? নতুন কোন সম্ভাবনা কি তৈরি হচ্ছে?

বিবিসি বাংলা

4
সুস্থ থাকার জন্য পানি পানের বিকল্প নেই। পানি আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষভাবে কাজ করে। শরীরের প্রতিটি কোষ, অঙ্গ ও টিস্যু পানির ছাড়া সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।


পানি শরীরে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্যে করে। পানি ত্বক ভালো রাখে, হজমে সাহায্য করে, শরীরে তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই শরীরে পানির ঘাটতি হলে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়। তবে আমার অনেকেই জানি না প্রতিদিন কত লিটার পানি পান করা জরুরি।

প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করলে আপনি সুস্থ থাকবেন। পানি পান করা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি।

আসুন জেনে নেই যেসব রোগ থেকে মুক্তি দেবে পানি।

১. শরীরে পানির ঘাটতি হলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন ও রক্ত প্রবাহ কমে যায়। তাই মাথাব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

২. মানুষের মস্তিষ্ক ৯০ ভাগ পানি দিয়ে তৈরি। তাই পানিশূন্যতা স্মৃতি, মেজাজ ও সীদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে।

৩. অনেকের মুখে দুর্গন্ধ হয়। এটা খুবই অস্বস্তিকর। পানির ঘাটতি হলে শরীর লালা কম উৎপাদন করে ও মুখে ব্যাক্টেরিয়া বেশি তৈরি হয়। তাই মুখে দুর্গন্ধ হয়। তাই বেশি করে পানি পান করুন।

৪. পানিশূন্যতা হলে কোষ্ঠকাঠিন্য, বুক জ্বালাপোড়া ও হজমের সমস্যা হয়ে থাকে। এসব সমস্যা হলে পানি পান করুন।

৫. প্রস্রাবের নিয়মিত হ্ওয়ার জন্য পানি পানের বিকল্প নেই। প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হলে প্রচুর পানি পান করুন।

শরীরে পানিশূন্যতা হলে কী করবেন?

১. প্রতিদিনে দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করুন।

২. সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে পানি পান করুন।

৩. বাইরে বের হলে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন।

৪. তরমুজ, শসা, টমেটো, বাধাকপি খেতে পারেন।


যুগান্তর ডেস্ক   
 ১৯ জুলাই ২০১৯, ১২:২৭ | অনলাইন সংস্করণ




7
স্বাধীনতার ৪৭ বছর বিগত হলেও বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমলের লর্ড ক্যানিংয়ের শিক্ষানীতি এখনো চলমান। বাংলাদেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি কখনো কখনো স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর পরীক্ষাতেও কৃতকার্য হওয়ার বা পাসের সর্বনিম্ন নম্বর ৩৩। কিন্তু কেন? কেন ৪০ বা ৫০ কিংবা অন্য কোনো সংখ্যা হলো না? এর পেছনে কি কোনো ইতিহাস আছে?

hsc exam bd

এর পেছনে মজার একটি গল্প আছে। যে দেশে শত শত শিক্ষার্থী প্রায় শতভাগ নম্বর পায়, হাজার হাজার শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড তুলে নেয় সেখানে ৩৩ নম্বর পাসের শর্ত। বুয়েট, মেডিকেলের মেধাবীদের কথা না হয় নাই বললাম।

১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে বিট্রিশরা উপমহাদেশের শাসনক্ষমতা দখল করে। এর ১০০ বছর পর বিট্রিশ ভারতের জনগণ স্বাধীনতা ফিরে পেতে প্রথমবারের মতো সফল আন্দোলন করে ১৮৫৭ সালে, যা সিপাহী বিদ্রোহ নামে পরিচিত। ইংরেজরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে ১০০ বছর সফল শাসন চালালেও সিপাহী বিদ্রোহের ফলে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে। ফলে শাসনক্ষমতা রানীর হাতে চলে যায়। রাজত্বকাল ও শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে বিট্রিশ সরকার উপমহাদেশের সমাজ ব্যবস্থার নানা সংস্কারের পরিকল্পনা করেন।

১৮৫৮ সালে উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো মেট্রিকুলেশন পরীক্ষা চালু হয়। কিন্তু পাস নম্বর কত হবে তা নির্ধারণ নিয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায় এবং ব্রিটেনে কনসালটেশনের জন্য চিঠি লেখেন।

তখন ব্রিটেনে স্থানীয় ছাত্রদের জন্য পাসের নম্বর ছিল ৬৫। সে সময় ইংরেজ সমাজে একটা প্রচলিত ধারণা ছিল 'The people of subcontinent are half as intellectual and efficient as compared to the British' অর্থাৎ বুদ্ধি ও দক্ষতায় উপমহাদেশের মানুষকে ইংরেজদের তুলনায় অর্ধেক মনে করা হতো।

একই ধারাবাহিকতায় মেট্রিকুলেশনের পাস নম্বর ৬৫ এর অর্ধেক ৩২.৫ নির্ধারণ করা হয়। ১৮৫৮ সাল থেকে ১৮৬১ সাল পর্যন্ত পাস নম্বর ৩২.৫ ই ছিল। ১৮৬২ সালে তা গণনার সুবিধার্থে বৃদ্ধি করে ৩৩ করা হয়। সেই থেকে এই ৩৩ নম্বরই চলছে। ফেডারেল পাকিস্তানেও ছিল। বাংলাদেশেও আছে। যেখানে পাসের দেশ ভারতে IIT বিষয়ভেদে পাস নম্বর ৪১ থেকে শুরু করে ৯০ পর্যন্তও হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে MIT -তে বিষয় ভেদে ৩৬ থেকে ৪৫ এমনকি বাংলাদেশেও CA কিংবা CMA -তে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

লক্ষ্যণীয় এবং আজব ব্যাপার হচ্ছে প্রায় দুই শতাব্দী পরেও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ৩৩ নম্বরে উত্তীর্ণ হওয়ার ধারাবাহিক ইতিহাস বদলায়নি। এজন্য শিক্ষার মান স্বভাবতই নিন্ম।

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার গণ্ডিতে লাখ লাখ বেকার তৈরি না করে উচ্চশিক্ষার হার কমিয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এতে যেমন বেকারত্ব দূর হবে তেমনি উচ্চশিক্ষা দেশের কল্যাণ বয়ে আনবে।
Collected from online

9
চকবাজার ও বনানীর ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনা, রানা প্লাজার ভবনধস, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাগুলোতে ভূমিধসসহ সিডরের মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে প্রচুর প্রাণহানি ও অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অথচ অধিকাংশ মানুষ জানে না আগুন লাগলে কী করণীয়, ধোঁয়ায় আটকা পড়লে কী করতে হয়, বন্যায় কিংবা ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে কী করা উচিত। এসব দুর্যোগের শিকার যাঁরা হয়েছেন এবং স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যাঁরা কাজ করেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা–বিষয়ক প্রশিক্ষণ যদি তাঁদের থাকত তাহলে প্রাণহানি–দুর্ঘটনা অনেক কম হতো।

এমন ভাবনা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা–বিষয়ক সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ’–এর জন্ম। সংগঠনটি ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত নিরাপত্তা’ শিরোনামে তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু করে ২০১১ সালে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে এই কর্মশালার মাধ্যমে হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে শুরু
ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানার পর আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সেবাদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন শাহীন রেজা। তখনই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা বিভাগ হিসেবে পড়ানো হলেও খুব সীমিত শিক্ষার্থী এসব জায়গায় পড়ার সুযোগ পান। তাহলে দেশের বিশাল একটি অংশ কি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জানার বা প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবে না? এমন ভাবনা থেকেই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে তিনি এই সংগঠনের নির্বাহী উপদেষ্টা।

 ‘পত্রিকা পড়ে জেনেছিলাম, এ দেশে মাত্র ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই ৭০ হাজার ভবন ধসে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এত বড় দুর্যোগে কে কার পাশে এসে দাঁড়াবে? কীভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে? এই ভাবনা থেকে আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম শুরু করি।’ বলছিলেন শাহীন রেজা। ২০১০ সালের ৭ নভেম্বর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাত্র এক দিনের জন্য তাঁদের প্রথম কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। ৬০ আসনক্ষমতার মিলনায়তনে ৭৫ আগ্রহী ব্যক্তি অংশ নেন। সংগঠনটিকে এগিয়ে নেওয়ার উৎসাহ পান কর্মীরা।

Eprothom Alo২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। প্রথম দফায় কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী। কর্মশালার মেয়াদ তিন মাস। তিন ঘণ্টা করে মোট ১২টি ক্লাস। ফেসবুকের নিজেদের পেজের মাধ্যমে, রাস্তায় পোস্টার লাগিয়ে, লিফলেট বিতরণ করে দিনক্ষণ জানানো হয়। নিবন্ধনের সুযোগ থাকে কর্মশালার আগের দিন পর্যন্ত। প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং সনদ প্রদান করা হয়। মিলনায়তন ভাড়া ও প্রশিক্ষকদের সম্মানী দেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্য যেকোনো ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া হয় ২ হাজার টাকা।

যে প্রশিক্ষণ সবার জন্য

ক্লাসের মধ্য দিয়ে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষা বিষয়ে মৌলিক ও প্রায়োগিক ধারণা দেওয়া হয়। বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়। যেমন দুর্যোগে কীভাবে আত্মরক্ষা করতে হয়, অন্যদের সহযোগিতা বা উদ্ধার করতে হয়, দুর্যোগ–পরবর্তী কাজ কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা কীভাবে দিতে হয় ইত্যাদি। কর্মশালায় অংশ নিতে পারেন যেকোনো পেশার, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মানুষ। কোর্সে অংশ নেওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা—লিখতে ও পড়তে জানতে হবে।

শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১০টি কর্মশালা সংগঠনটি পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে যেমন বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী, এনজিওকর্মী, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আছেন, তেমনি আছেন বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকসহ নানা ধরনের মানুষ। প্রশিক্ষক হিসেবে এখানে আমন্ত্রণ জানানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক, ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক নানা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশিক্ষকসহ বিশেষজ্ঞদের। এ ছাড়া ‘এনভায়রনমেন্টাল ডিজাস্টার অ্যান্ড পসিবল মিটিগেশন অ্যান্ড অ্যাডাপটেশন মেজারস’ শিরোনামে বেশ কিছু এক দিনের কর্মশালা আয়োজন করেছে এই সংগঠন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১ হাজার ২০০ ছাত্রছাত্রীকে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকেরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। প্রশিক্ষিত কর্মীরা তাঁদের নিজ নিজ জায়গায় থেকে সচেতনতা তৈরির কাজ করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবির শুরু থেকে ৯টি কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থী সমাজের বিপদগ্রস্ত মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রশিক্ষিত করতে চান, এটা একটা দারুণ ব্যাপার। এই কর্মশালা সত্যিই কাজের। সমাজের সব মানুষের এই হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এমন কাজে অংশ নেওয়া উচিত।’

বিজিএমইএর (বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং ও এক্সপোর্টিং অ্যাসোসিয়েশন) সহকারী সচিব শেখ মোহাম্মদ সাঈদ এবং তাঁর ছেলে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত শেখ মো. সাদিকুল ইসলাম—দুজনই ছিলেন এই কর্মশালার শিক্ষার্থী। বাবা বলেন, ‘আশুলিয়ার বয়লার বিস্ফোরণের সময় ও কাফরুলের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগলে সাহায্যের জন্য ছুটে গেছি। এই কর্মশালা থেকে পাওয়া অনেক কৌশল প্রয়োগ করতে পেরেছি। প্রত্যেক শিক্ষার্থী এই কর্মশালা থেকে উপকৃত হয়েছেন, তাই সবার এই প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরি।’ ছেলে সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরাসরি উদ্ধারকাজে অংশ নিতে না পারলেও আমি সবাইকে সচেতন করতে চেষ্টা করি।’

               


সংগৃহীত

10
গাজীপুরে অপহরণে জড়িত পুলিশের দুই কর্মকর্তা গ্রেফতারের ঘটনায় কড়া বার্তা পেলেন জেলা পুলিশের কর্মকর্তা এবং সদস্যরা। অপরাধ করলে কেউ পাড় পাবো না এমন ধারণা এখন অনেক পুলিশ সদস্যরই।

গতকাল শুক্রবার (৮ফেব্রুয়ারী) অপহরণের সাথে জড়িত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সন্মেলনের পর থেকেই বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে প্রশাসনসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে। ঘটনার পর থেকে জেলার সর্বত্র আলোচনার মূল বিষয় ছিল অপরাধে জড়িত দুই পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেফতারের বিষয়টি।

বিগত কয়েকবছরে জেলার সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের ভাবমূর্তি যেভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে তাতে সমাজের ভাল মানুষের কাছেও পুলিশ ছিল আতংকের নাম। তবে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার গাজীপুরে যোগদানের পর থেকেই সে জায়গা থেকে কিছুটা স্বস্তিতে জেলার সাধারণ মানুষ। বৃস্পতিবারের ঘটনায় গাজীপুরে সাধারণ মানুষের আস্তার জায়গাটি আরো শক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণরা।

জেলার বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষের সাথে আলাপ কালে তারা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, পুলিশের এ দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের ফলে তাদের মাঝে একটা বিশ্বাস জন্ম নিয়েছে যে অপরাধ করলে যেখানে পুলিশ সদস্য ছাড়া পাচ্ছে না সেখানে সাধারণ অপরাধীরাতো কোন ভাবেই পাড় পাবার সুযোগ নেই। তাদের মতে এর প্রভাব পড়বে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। যে ধরণের পরিবেশ জেলার মানুষের কাছে এখন প্রথম দাবি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিকক্ষ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, যেকোন পেশায় কোন কর্মকর্তা অপরাধ করলে ঊর্দ্ধতন কতৃপক্ষ যদি তা চেপে যান অথবা শাস্তি বিহীন আর্থিক সুবিধা নিয়ে ছাড় দিয়ে দেন তাহলে পরবর্তীতে তা অন্যান্য কর্মকর্তার উপর প্রভাব বিস্তার করে। এবং অপরাধে জড়িত হতে উৎসাহ যোগায়। তার মতে, পুলিশের কোন সদস্য অপরাধে জড়িত হয়ে পাড় পেয়ে গেলে তা সৎ এবং নিষ্ঠাবান অফিসারদের কাজের আগ্রহ নষ্ট করে দেয়। যা আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিততে প্রভাব সৃষ্টি করে।  তার মতে অপরাধে জড়িত এ দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার তা জেলার পুলিশ প্রশাসনে থাকা দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের লাগাম টেনে ধরতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে তার বিশ্বাস।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষকের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে জেলা পুলিশের পাশাপাশী জেলা গণমাধ্যমের কর্মীদের আরো বেশ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করা দরকার। কারণ সঠিক এবং অনুসন্ধানী সংবাদ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সমাজে গঠনে বিশেষ ভুমিকা পালন করে।

গত বছরের ২৮ অগাস্ট একই স্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পুলিশ সুপার বলেছিলেন, পুলিশের কোনো সদস্য অন্যায় করলে বা জনগণকে হয়রানি করলে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ওই পুলিশের পোশাক খুলে নেওয়া হবে। তার হুশিয়ারী যে কোন সাধারণ বার্তা ছিল না তা প্রমাণ পেলেন জেলার প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষ।

১৬৫দিন আগে গা  থেকে  পোশাক  খুলে  নেয়ার বিষয়ে সংবাদ সন্মেলনে যে বার্তা দিয়েছিলেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার তার বাস্তব প্রয়োগ লক্ষ্য করা গেল গতকালের ঘটনায়।

পুলিশ সুপার দায়িত্ব নিয়ে কাজ না করলে হয়তো অপহরণের সাথে জড়িত পুলিশের এ ঘটনাটি কোনভাবেই আলোচনায় আসতো না। হয়তো অন্যভাবে বিষয়টি নিস্পত্তি হয়ে যেত। যা হয়তো ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ার আগেই অন্ধকারে বন্ধী হয়ে যেত। গাজীপুরে বিগতদিনে এ ধরণের ঘটনার শিকার অনেকেই এমনটা ভাবছেন। তাদের মতে, বর্তমানে পুলিশ সুপার অপরাধে জড়িতদের বিষয়ে জিরো ট্রলারেন্স নীতি গ্রহন করেছেন তা এখন স্পষ্ট।

গতকাল সাংবাদিক সন্মেলনে শামসুন্নাহার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, সব ঘটনা হয়তো আমার কাছে জানা না হতে পারে। আপনারা আমাকে তথ্য দিন ব্যবস্থা গ্রহণ না করতে পারলে বলবেন। মহান আল্লাহকে স্বাক্ষী মেনে তিনি অপরাধের বিষয়ে তার অবস্থান নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল ৫টা ২০মিনিটে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকায় শিলা-বৃষ্টি ফিলিং স্টেশনে গাড়িতে গ্যাস নেয়ার সময় সেখানে দুটি গাড়ি নিয়ে সেখানে হাজির হন এএসআই মামুন ও মুসরাফিকুর। সেসময় ভুক্তভোগীদের অভিযুক্তরা জোড় করে তাদের গাড়িতে তুলে নেন। বিষয়টি ভোক্তভোগীদের স্বজনরা পুলিশ সুপারকে জানালে অপহরণের শিকার যুবকদের উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে দ্রুত কাজ শুরু করে জেলা পুলিশ। এবং তাদের উদ্ধারে সক্ষম হন।  সেইসাথে অভিযুক্ত দুই এএসআই কে গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হচ্ছে।


পলাশ মল্লিক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর

12
Islam / আখেরি চাহর সোম্বা
« on: November 07, 2018, 04:56:26 PM »
 
 

হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারকে ‘আখেরি চাহর সোম্বা’ বলা হয়। সে হিসেবে আজ সফর মাসের শেষ বুধবার দেশব্যাপী ‘আখেরি চাহর সোম্বা পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।


 ৬৩২ হিজরি বর্ষের সফর মাসের শেষ বুধবার মোতাবেক ২৭ সফর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠিন অসুস্থতা থেকে সুস্থতা লাভ করেছিলেন। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুস্থতা লাভের দিন হিসেবে মুসলিম উম্মাহর কাছে এ দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয়।

আখেরি চাহর সোম্বা কী?
সফর মাসের শেষ বুধবারকে আখেরি চাহর সোম্বা বলা হয়। মুসলিম উম্মাহ এ দিনটিকে খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করে। কিন্তু অনেকেই জানে না যে, আখেরি চাহর সোম্বা কী? আখেরি চাহর সোম্বা সম্পর্কে ইসলামের দিক-নির্দেশনাই বা কী?

আখেরি চাহর সোম্বা হলো- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফর মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে যান। সফর মাসের শেষ বুধবার তিনি অনেকটাই সুস্থতা লাভ করেন। এ খুশিতে অনেক সাহাবি বিভিন্নভাবে দান-সাদকা করেছেন। এ দান-সাদকা নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ।

পরবর্তীতে সাহাবায়ে কেরাম এ দিনটি খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করেছেন বা প্রতি বছর এ দিনে দান-সাদকা করেছেন এ সম্পর্কে কোনো হাদিসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

যেহেতু সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের যুগে আনুষ্ঠানিক কোনো উদযাপন ছিল না, তাই আখেরি চাহর সোম্বা নিয়ে ‘রুসুম-রেওয়াজ বা ঘটা করে তা পালনে বিশেষ কোনো ফজিলত বা যৌক্তিকতা নেই।


 

সফর মাস সম্পর্কে হাদিসের একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। কেউ এটিকে জাল বলেছেন। আবার কেউ কেউ এটিকে সহিহ হাদিস বলেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে সফর মাস শেষ হওয়ার সুসংবাদ দেবে, আমি তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেব।’

উল্লেখিত হাদিসটি সম্পর্কে ইসলামি চিন্তাবিদদের দু’টি মতামত পাওয়া যায়। আর তাহলো-

প্রথম মত
হাদিস বিশারদের মতে, এটি সম্পূর্ণ জাল, মিথ্যা। যা আসলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস নয়, রবং যারা এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাদের কেউই হাদিস সংরক্ষণকারীদের অন্তর্ভূক্ত নয়।

দ্বিতীয় মত
হাদিসটি সহিহ, তবে এ হাদিসের পেছনে প্রেক্ষাপট কী তা জানতে হবে। মূলত হাদিসটি একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে এ সংবাদ দেয়ার কথা বলেছেন। ঘটনাটি হলো-

একবার হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলামের দাওয়াত নিয়ে দূরের এক জনপদে যান। সেখান দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। তাঁর কোনো খবর না পাওয়ায় প্রিয়নবি চিন্তিত হয়ে পড়েন।

হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু কাছ থেকে একদিন একটি চিঠি এলো, তাতে লেখা ছিল- ‘হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি সফর মাস শেষে মদিনায় ফিরব। কিন্তু তখনো সফর মাস অনেক দূরে।

সে সময়টিতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকাকালীন সময়ে দ্রুত সফর মাস শেষ হওয়ার কথাগুলো বলেছিলেন। আর এ হাদিসটি সে সময়ের।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল ছিল প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখা। যাকে আইয়ামে বিজের রোজা বলা হয়ে থাকে।

সুতরাং আইয়ামে বিজের রোজা রাখলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। সুতরাং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল আইয়ামে বিজের রোজা রাখা অনেক সাওয়াবের কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ আমল।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুন্নাতের নেক আমলগুলো যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন-যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Collected from online news page

13
প্রথমেই বলি, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি ছাড়া জীবন অচল। এটা লাগবেই। বরং দিন দিন আরও বেশি দরকার হবে। আমাদের মতো গরমের দেশে তো বটেই, এখন শীতের দেশেও গরম বাড়ছে। আর সেই সঙ্গে বাড়ছে এসির প্রয়োজন।

আমাদের দেশের কাছাকাছি দেশ সিঙ্গাপুর। কোনো উদাহরণ দিতে হলে আমরা সিঙ্গাপুরের কথা গর্বের সঙ্গে বলি। সেই সিঙ্গাপুরের দ্রুত উন্নয়নের পেছনে অন্য অনেক কিছুর মধ্যে কিন্তু এসির বিরাট ভূমিকা ছিল। সে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান এসিকে ইতিহাসের যুগান্তকারী আবিষ্কার বলে অভিহিত করে গেছেন। এসি কাজের কক্ষে গরম কমায়, উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। কিন্তু সমস্যা অন্যখানে। এসি চালাতে বিদ্যুৎ লাগে। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে লাগে জ্বালানি। এটা পুড়ে বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছড়ায়। এসির ভেতরে ব্যবহৃত কুলিং এজেন্টও (শীতলীকরণ তরল) বাতাসে কার্বন ছড়ায়। ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ে।

এ জন্যই পরিবেশবিদেরা অন্য অনেক কিছুর পাশাপাশি এসিকে বিশ্ব উষ্ণায়নের একটি বড় কারণ বলে চিহ্নিত করেন। তাঁরা এসির ঘোর বিরোধী। কিন্তু কঠিন সত্যটা হলো ১৯০২ সালে এসি আবিষ্কারের পর থেকে প্রায় ১০০ বছরে বিশ্বে যত এসি বসানো হয়েছে, তার সমান সংখ্যার এসি আগামী ১০ বছরে যোগ হবে। তার মানে আমরা একটা গোলকধাঁধায় পড়ে গেছি। যত দিন যাবে, গরম তত বাড়বে, তত বেশি এসি লাগবে। তখন বাতাসে আরও বেশি হারে কার্বন ছড়াবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আরও বাড়বে। আরও বেশি এসি বাজারে আসতে থাকবে। এর শেষ কোথায়? তাহলে তো পৃথিবী অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। কী করা যায়? এক হিসাবে জানা গেছে, এসির আবহাওয়া দূষণকারী রেফ্রিজারেন্ট বদলিয়ে দূষণমুক্ত রেফ্রিজারেন্টের নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০৫০ সালের মধ্যে বাতাসে মোট ৯ হাজার কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড কমানো যাবে। আর যন্ত্রের দক্ষতা বাড়িয়ে আরও ৯ হাজার কোটি টন কমানো যাবে। বর্তমানে বায়ুমণ্ডলে বছরে কার্বন ছড়ায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টন। এসিতে হাইড্রোফ্লুওরোকার্বন নামের একধরনের যে রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হয়, সেটা বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে এক হাজার গুণের চেয়ে বেশি ক্ষতি করে।

সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্ট পত্রিকায় (আগস্ট ২৫, ২০১৮) এ বিষয়ে বিস্তৃত লেখা বেরিয়েছে। সেখানে অন্য ধরনের দূষণের সঙ্গে তুলনা করে দেখানো হয়েছে এসির দূষণ কত ভয়াবহ। যেমন, বিশ্বের অর্ধেক মানুষ যদি মাংস খাওয়া বাদ দেয় তাহলে ৬ হাজার ৬০০ কোটি টন কার্বন বায়ুমণ্ডলে কম ছড়াবে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের উজাড় করা বনভূমির দুই-তৃতীয়াংশ পুনরুদ্ধার করতে পারলে ৬ হাজার ১০০ কোটি টন কার্বন নিঃসরণ কমবে। বিশ্বব্যাপী সাইকেলে চলাচল এক-তৃতীয়াংশ বাড়াতে পারলে ২৩০ কোটি টন কার্বন কমবে। আর সে তুলনায় শুধু এসিতেই কমানো যেতে পারে ১৮ হাজার কোটি টন কার্বন নিঃসরণ!

তাহলে বুঝুন, এসির দূষণ কমাতে না পারলে কি ভয়ংকর পরিণতি হবে।

তার মানে এই না যে এসির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তাহলে তো উন্নয়নের ক্ষতি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো থেকে শুরু করে বনায়ন—এগুলোই আসল লক্ষ্য। কিন্তু সেই সঙ্গে শুধু এসির কাজের দক্ষতা বাড়ানো, নষ্ট এসিগুলো বাদ দেওয়া, পরিবেশসম্মত কুলিং রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা এবং বাসা-অফিসের ডিজাইন এমনভাবে করা যেন কম বিদ্যুৎ-বাতি ব্যবহার করতে হয়, প্রচুর আলো-বাতাস খেলে, যেন এসির ব্যবহার খুব কম লাগে। তাহলে অনেক কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব।

মস্কোর আন্তর্জাতিক মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট ইনস্টিটিউটে ১৯৮৩ সালে অর্থনীতি-দর্শনে এক বছরের একটি কোর্স করেছিলাম। তখন অধ্যাপক সভেৎলানা একদিন বললেন, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা মাত্র ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বা কমলে সব প্রাণী ধ্বংস হয়ে যাবে। তখন এর তাৎপর্য বুঝিনি। আমরা বুঝতে পারিনি যে মাত্র ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার হেরফেরে এমন কী ভয়ংকর পরিণতি হতে পারে। এখন আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আমেরিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল টাইফুন-টর্নেডোয় প্রায়ই বিধ্বস্ত হচ্ছে, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস হচ্ছে। গরমকালে প্রচণ্ড গরম আর শীতে হাড় কাঁপানো শীত। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সাফ এমনকি এভারেস্টচূড়ার বরফও গলতে শুরু করেছে। সবার টনক নড়ছে।

১৮৬০ সালে শিল্পবিপ্লবের সময় থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। তখন ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আইপিসিসি (ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ) গত ৮ অক্টোবর ২০১৮ এই তথ্য জানিয়েছে।

জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিল্পবিপ্লবের সময়ের তুলনায় ২০৫০ সালে ২ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা বাড়তে দেওয়া যাবে না। যদি আমরা এটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রক্রিয়া রোধ করে গড় তাপমাত্রা নামিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে উঠবে (ইররিভার্সেবল)। পৃথিবী ধ্বংসের দিকে চলে যাবে। কিন্তু অতি সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে ২ ডিগ্রিতে কাজ হবে না। দেড় ডিগ্রির মধ্যে গড় উষ্ণায়ন বৃদ্ধি সীমিত রাখতে হবে। আমরা পারব কি?

এর উত্তর একটাই। পারব এবং পারতে হবেই। তবে কাজটা কঠিন। যদি আমরা সব দেশে বিশ্বের সেরা জলবায়ু-সুরক্ষা পদ্ধতি অনুশীলন করি, তেল-কয়লা পোড়ানো সীমিত করি, পরিবেশসম্মত বিকল্প শক্তির ব্যবহার বাড়াই, তাহলে হয়তো আমাদের এই পৃথিবী বসবাসযোগ্য করে রাখতে পারব। অবশ্য কাজটি করতে হলে আগামী ২৫ বছরে তেল-কয়লাওয়ালারা ৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ মাটির নিচে এখনো যেটুকু তেল-কয়লা রয়েছে, সেগুলো মাটির নিচেই রেখে দিতে হবে।

এরপরও যে বিপর্যয় একেবারে থাকবে না, তা বলা যাবে না। কারণ ইতিমধ্যে মানুষের নির্বিচার কাজের জন্য বায়ুমণ্ডলে যে পরিমাণ ক্লোরোফ্লোরো-কার্বন গ্যাস জমেছে, তার পরিণতি আরও কয়েক দশক আমাদের ভোগ করতে হবে। কিন্তু একটা সান্ত্বনা থাকবে। হয়তো পৃথিবী ধ্বংসের হুমকি কমে যাবে।

আজকের বিশ্বে, সব দেশে, সব মানুষের এক নম্বর দায়িত্ব হলো বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণ কমানো। এর চেয়ে বড় কাজ আর নেই।

আব্দুল কাইয়ুম প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক

14
প্রাকৃতিক মিষ্টি বা ন্যাচারাল সুইটেনার হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টিকারী স্টেভিয়া গাছের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে দেশে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসা চিনির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মিস্টি’র আধার এই গাছটির রয়েছে বহুবিধ গুণ।

এদেশে এই গাছের অপার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে কৃষিবিদ ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্যারাগুয়ের আদী বাসিন্দা চিকন পাতার হালকা কচি ডালে সজ্জিত স্টেভিয়ায় রয়েছে স্টিভিডিন নামের এক ধরণের অ্যালকোহল। যা থেকে স্টেভিয়া সুগার বা চিনি তৈরি করা হয়। এর মিষ্টতা অন্যান্য চিনির চেয়ে ৩০০ গুণ বেশি। স্টেভিয়া সুগারের সুক্ষ্ন অংশ ব্যবহারে তৈরি হতে পারে যে কোনো ধরনের মিষ্টান্ন। মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরিতে যেখানে অন্য চিনি ১ কেজি লাগে সেখানে ৩.৩ গ্রাম স্টেভিয়া সুগার ব্যবহারই যথেষ্ট। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে একজন আইসক্রিম উৎপাদনকারির ১০ কেজি চিনি’র স্থলে লাগবে মাত্র ১০ গ্রাম স্টেভিয়ার শুকনো প্রক্রিয়াজাত করা সাদা পাতা। আইসক্রিম তৈরি করতে যেখানে ৬৫০ টাকার চিনি লাগতো সেখানে এই পাতা ব্যবহারে লাগবে মাত্র ০৬ টাকা। বর্তমানে এই দেশে আমদানীকরা স্টেভিয়ার পাতা ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
প্যারাগুয়েতে জন্ম নেয়া এই গাছ দক্ষিণ আমেরিকার সব দেশেই পাওয়া যায়। তবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, ভেনেজুয়েলায় এর ব্যাপক চাষ করা হয়। এশিয়ার জাপান ও চীনে হচ্ছে স্টেভিয়া উদ্ভিদের বাণিজ্যিক চাষাবাদ। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৎকালীন পরিচালক মফিজুর রহমান ব্রাজিল থেকে এনে এদেশে স্টেভিয়ার বাণিজ্যিক চাষের চেষ্টা চালান। ১৯৯৮ সালে গবেষণার জন্য নিয়ে আসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সেসময়ের সভাপতি প্রফেসর একেএম রফিউল ইসলাম। সেখানকার বোটানিক্যাল গার্ডেনে স্টেভিয়া গাছের পরীক্ষামূলক চাষাবাদ করা হয়। এরপর বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক, কৃষিবিদগ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও অসাধারণ এই গাছের ব্যাপক গবেষণা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে ব্র্যাক এ গাছ থেকে চিনি তৈরী করে বাজারজাত করেছে। ইতোমধ্যে অনেকে শখের বশে বাড়ির টবে ও ছাদে এর চাষাবাদ করছেন। এছাড়া বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ গাছের চারা কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন এবং গুণমান ভাল হওয়ায় আমাদের দেশ ছাড়াও বিশ্ব বাজারে রয়েছে এ চিনির ব্যাপক চাহিদা। চীন বিশ্ববাজারের জন্য স্টেভিয়া চিনির রপ্তানী মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রতি কেজি ১৫০ ডলার অর্থাৎ ১২০০০ টাকা। জাপানীরা স্টেভিয়ার সবুজ পাউডার, স্টেভিয়া থেকে আহোরিত স্টেভিসাইড এর সাদা পাউডার এবং সিরাপ আকারে ব্যবহার করে আসছে। স্টেভিয়ার পাতা চিনির চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ গুণ এবং পাতার স্টেভিয়াসাইড চিনির চেয়ে ৩০০ গুণ বেশি মিষ্টি। চিনির খরচ কমানো ছাড়াও এই গাছ অগ্নাশয়ে ইসুলিনের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা, শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, দাঁতের ক্ষয় রোধ, ত্বকের কোমলতা ও লাবন্য বাড়ানোসহ নানাভাবে উপকার করে।
Collected from Face book page   

15
Common Forum / Re: আদালতে যাওয়ার আগে
« on: October 31, 2018, 06:28:14 PM »
Nice post

Pages: [1] 2 3 ... 19