Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Rubaiya Hafiz

Pages: [1] 2 3 ... 6
1
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানীরা কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন। তবু ওই সব প্রশ্নের সমাধানে তাঁরা একবিন্দু্‌ও এগোতে পারেননি। এমন একটি প্রশ্ন, পৃথিবীই কি একমাত্র প্রাণের উৎস?

তবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) বিজ্ঞানীরা এবার এমন তিনটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যা তাঁদের ওই প্রশ্নের সমাধানে সহায়তা করতে পারে। এই মহাজগতে পৃথিবী ছাড়া আর কোনো গ্রহে প্রাণের স্পন্দন আছে কি না, সেই রহস্যের ওপর আলো ফেলতে পারে ওই তিন গ্রহ।
নাসার খুঁজে পাওয়া এই তিনটি নতুন গ্রহের মধ্যে একটি নতুন ধরনের বিশ্ব ব্যবস্থা আছে, যেটা আমাদের সৌরজগতে আগে কখনো দেখা যায়নি।
গবেষকেরা বলছেন, এই রহস্যময় গ্রহগুলো হতে পারে ‘হারিয়ে যাওয়া সেই সূত্র’ যেটা ‘এলিয়েন (ভিনগ্রহবাসী)’ খুঁজে পেতে বিজ্ঞানীদের জন্য বিশাল এক উপহার হতে পারে।

নতুন এই তিন গ্রহ একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করছে। নক্ষত্রটি আমাদের সূর্য থেকে মাত্র ৭৩ আলোকবর্ষ দূরে। এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া এই ধরনের গ্রহগুলোর মধ্যে এরাই সবচেয়ে কাছে ও ছোট।

গবেষকেরা এই গ্রহগুলো আবিষ্কার করেছেন নাসার এক্সোপ্লানেট সার্ভে স্যাটেলাইট (টিইএসএস) প্রকল্পের মাধ্যমে। এই প্রকল্প ২০১৮ সালে মহাকাশে পাঠানো হয়। এর উদ্দেশ্য এমন সব নক্ষত্র ও গ্রহ খুঁজে বের করা, যেখানে জীবনের বিবর্তন হয়েছে।

নতুন তিন গ্রহের মধ্যে একটি পাথুরে গ্রহ আছে, যা আমাদের পৃথিবী থেকে কিছুটা বড়। বাকি দুটো গ্রহ গ্যাসের তৈরি, যারা আরেকটু বড়। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রহগুলোকে করেছে ‘হারিয়ে যাওয়া সূত্র’। কারণ পাথুরে গ্রহটি অনেকটা পৃথিবী বা মঙ্গলের মতো দেখতে। গ্যাসীয় গ্রহগুলো দেখতে বৃহস্পতি বা শনির মতো।

গ্রহগুলোর অনুসন্ধানী দলের প্রধান ম্যাক্সিমিলিয়ান গুন্থার বলেন, গ্যাস আর পাথুরে গ্রহ কীভাবে এই জায়গাতে সৃষ্টি হয়েছে তা বুঝতে এই নতুন গ্রহগুলো সাহায্য করতে পারে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীর মতো দেখতে ওই গ্রহে এমন তাপমাত্রা থাকতে পারে, যা প্রাণের বিকাশে সহায়তা করতে পারে। তবে এর বায়ুমণ্ডল খুব হালকা বলে ধারণা করা হচ্ছে, একই সঙ্গে এর ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেশ উষ্ম।

2
নো আক্রমণের পদ্ধতিতে কিছুটা বদল এনে নতুন করে আবার হামলা চালাচ্ছে সাইবার দুর্বৃত্তরা। আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকদের লক্ষ্য করে সবচেয়ে বেশি ‘ফিশিং’ হামলা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। তাঁদের মতে, ফিশিং আক্রমণ মূলত প্রলুব্ধ করে কোনো লিংকে ক্লিক করানোর মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া।

ফিশিং মেইল হচ্ছে টোপ দেওয়া বা ফাঁদে ফেলার জন্য পাঠানো মেইল, যাতে কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার ঢোকানোর লিংক যুক্ত থাকে। এ ধরনের আক্রমণ চালাতে সাইবার দুর্বৃত্তরা সহজে ধরা না যায়—এমন ভুয়া ইউআরএল বা লিংক তৈরি করে। এতে গ্রাহকের জন্য নানা প্রলোভন দেখানো হয়।

ক্লাউড ডেলিভারি নেটওয়ার্ক সেবাদাতা আকামাই টেকনোলজিস দ্য স্টেট অব দ্য ইন্টারনেট নামে নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোয় যেসব আক্রমণ হয়, তার ৫০ শতাংশ আক্রমণই ফিশিং। প্রলুব্ধ করা মেইলের সঙ্গে ফিশিং ডোমেইন যুক্ত করা থাকে।

আইএএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিশিং মেইলে এমনভাবে টোপ দেওয়া হয়, যাতে মেইল প্রাপক তা লোভের বশে খুলে বসেন এবং তাতে থাকা লিংকে ক্লিক করে সাড়া দেন। এ ধরনের মেইলের প্রেরক এমন কৌশলে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখেন, যাতে এ ধরনের মেইল দেখতে প্রকৃত মেইলের মতো মনে হয়। অনেক সময় সরকারি মেইল, সরবরাহকারী, গ্রাহক বা ব্যবসায়িক মেইলের ছদ্মবেশে এ ধরনের মেইল আসে। এ ধরনের মেইলে থাকা পিডিএফ, ওয়ার্ডের মতো অ্যাটাচমেন্টে ক্লিক করলে কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকে পড়ে। লিংকে ক্লিক করলে যে সাইট দেখায়, তা প্রকৃত সাইটের মতোই। এখান থেকে স্পর্শকাতর তথ্য, যেমন: পাসওয়ার্ড, ব্যাংকিং তথ্য প্রভৃতি হাতিয়ে নিতে পারে দুর্বৃত্তরা।

আকামাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৪ মে পর্যন্ত দুই লাখের বেশি ফিশিং ডোমেইনের খোঁজ পাওয়া গেছে। এসব ডোমেইনের মধ্যে ৬৬ শতাংশ সরাসরি গ্রাহককে টার্গেট করে।

আকামাইয়ের তথ্যমতে, গত ১৮ মাসে আর্থিক সেবা খাতে তথ্য চুরি করতে ৩৫০ কোটিবার ফিশিং আক্রমণের প্রচেষ্টার বিষয়টি দেখতে পেয়েছে তারা।

বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টে একই তথ্য দেওয়ার কারণে একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারলে সুবিধা পায় সাইবার দুর্বৃত্তরা। তারা তখন এসব স্পর্শকাতর তথ্য ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

আকামাইয়ের নিরাপত্তা গবেষক মার্টিন ম্যাকেই বলেন, গত বছর থেকেই বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার হার বাড়তে দেখা গেছে। ফিশিংয়ের মাধ্যমে চুরি করা তথ্য বিক্রি করে বা সরাসরি গ্রাহকের তথ্য বিক্রি করে অর্থ আয়ের চেষ্টা করে সাইবার দুর্বৃত্তরা। এখন আর্থিক সেবা খাত ও গ্রাহকদের লক্ষ্য করে এ ব্যবসা বাড়াচ্ছে তারা

3
বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক বারবার বলেছেন, গাড়ির ড্যাশবোর্ডের ডিসপ্লেতে শুধু তথ্যই দেখাবে না, বিনোদনও দেবে। সেটি কেমন, সেটাই এবার খোলাসা করলেন—নেটফ্লিক্স ও ইউটিউবে ভিডিও দেখা যাবে। চালকেরা যে গাড়িতে ‘ফলআউট শেলটার’-এর মতো বেশ কিছু গেম খেলতে পারবেন, তা এরই মধ্যে দেখিয়েছে টেসলা। নতুন ঘোষণা হলো, গেমের তালিকায় এবার যোগ হয়েছে দাবা। তবে গেম হোক আর নেটফ্লিক্স, গাড়ি কেবল পার্ক করা অবস্থাতেই খেলা কিংবা দেখা যাবে। মজার ব্যাপার হলো, গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল দিয়েই গেম নিয়ন্ত্রণ যাবে।

ইলন মাস্ক অবশ্য বলতে ভোলেননি, আইনপ্রণেতারা অনুমোদন দিলে চালকবিহীন গাড়িতে আরোহীরা গাড়ি চলার সময়েও ভিডিও দেখতে পারবেন। তবে কবে নাগাদ সুবিধাগুলো চালু হবে, মাস তা জানাননি। সে যা-ই হোক, যানজটে বসে থেকে নতুন সুবিধাগুলো বেশ কাজে দেবে বলেই মনে হচ্ছে।

4
ফোনে চার্জ দিতে কোনো তার বা স্মার্টফোনের পোর্ট ব্যবহার করা লাগবে না। তারহীন সুবিধা থাকায় পাওয়ার ব্যাংকের ওপর ফোনটি রেখে দিলেই চার্জ হয়ে যায়। এমন সুবিধা রয়েছে এনারজাইজারের পাওয়ার ব্যাংকে। দেশের বাজারে ওয়াই–ফাই সুবিধার এনারজাইজারের পাওয়ার ব্যাংক আনছে টেক রিপাবলিক লিমিটেড। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান এনারজাইজারের দেশি পরিবেশক হিসেবে কাজ করছে টেক রিপাবলিক।

টেক রিপাবলিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচ এম ফয়েজ মোরশেদ বলেন, গত মাসে তাইওয়ান সফরের সময় এনারজাইজার বাংলাদেশের বাজারে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে। তাদের পাওয়ার ব্যাংক দেশে আসতে যাচ্ছে আগস্ট মাস থেকে। এনারজাইজারের ম্যাক্স, হাইটেক ও আল্টিমেট সিরিজের পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যাবে। ওয়াই–ফাই সুবিধা ছাড়াও এ পাওয়ার ব্যাংকে থাকবে ইউএসবি, টাইপ সি ও মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট। ফলে যেকোনো মডেল ও ব্র্যান্ডের ফোন চার্জ দেওয়া যাবে স্বাচ্ছন্দ্যে।

5
র বিভিন্ন দেশে চমৎকার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ভ্রমণবিষয়ক অ্যাপ ‘শেয়ার ট্রিপ’। বিমানের টিকিট বুকিং থেকে শুরু করে হোটেল বুকিং, আনুমানিক খরচের তালিকা তৈরি, যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত পরিবহনের ব্যবস্থা করাসহ সবকিছু করে দেবে শেয়ার ট্রিপ। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যাপটি উদ্বোধন করা হয়।

দেশের তরুণের তৈরি ‘শেয়ার ট্রিপ’ অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। লোকাল ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের মাধ্যমে অ্যাপটি ব্যবহার করা যাবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শেয়ার ট্রিপ অ্যাপে গেমিফিকেশন যুক্ত হয়েছে। ব্যবহারকারীরা স্পিন টু উইন খেলে জিতে নিতে পারেন ট্রিপ কয়েন, যা ট্রাভেল রিওয়ার্ড পয়েন্ট হিসেবে কাজে লাগানো যাবে। এ কয়েন তাঁরা ফ্লাইট, হোটেল, হলিডে বুকিংসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন।

শেয়ার ট্রিপের প্রধান নির্বাহী কাশেফ রহমান বলেন, শেয়ার ট্রিপ ভ্রমণবিষয়ক সহজ অ্যাপ। বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষের এটি কাজে লাগবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের স্টার্টআপ বাংলাদেশের ইনভেস্টমেন্ট পরামর্শক টিনা জাবীন, শেয়ার ট্রিপের পরিচালক তানভীর আলী প্রমুখ।

6
দিনে পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে যেসব শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, তাঁদের স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত সময় ধরে মোবাইল ফোনের ব্যবহারে অন্যান্য বাজে অভ্যাস তৈরি হয়, যাতে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। কলম্বিয়ার গবেষকেরা সম্প্রতি এ গবেষণা করেছেন।

কলম্বিয়ার ১৯ থেকে ২০ বছর বয়সী ৭০০ তরুণী ও ৩৬০ জন কিশোর শিক্ষার্থীর ওপর গবেষণাটি চালান সিমন বলিভার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা।
গবেষণা প্রবন্ধের শীর্ষ লেখক মিরারি ম্যান্তিলা-মোরন বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য এটা জানা ও সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে মোবাইল ডিভাইসের আকর্ষণীয় উপযোগী ফিচার থাকলেও এটা অবশ্যই উন্নত অভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর আচরণের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে।

গবেষকেরা বলছেন, দিনে পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে স্থূলতার ঝুঁকি ৪৩ শতাংশ বাড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিনিযুক্ত পানীয়, ফাস্ট ফুড, মিষ্টি, বারবার নাশতা খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এ ছাড়া তাঁদের শারীরিক সক্রিয়তা অনেক কমে যায়। গবেষকেরা বলছেন, যাঁদের ওজন বেশি থাকে, তাঁদের ২৬ শতাংশ এবং আগে মেদযুক্ত ছিল—এমন ব্যক্তিদের ৪ দশমিক ৩ শতাংশ পাঁচ ঘণ্টার বেশি স্মার্টফোন যুক্ত থাকেন।

গবেষকেরা বলছেন, অতিরিক্ত সময় মোবাইল ফোনের ব্যবহারে তরুণদের মধ্যে যে শারীরিক সক্রিয়তা কমে, তাতে অকালমৃত্যু, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও নানা ধরনের ক্যানসার হতে পারে।

সুস্থ থাকতে ফোনের ব্যবহার কমিয়ে আরও বেশি ব্যায়াম ও শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানোর নানা কাজে যুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


7
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, আগামী চার বছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে পাঁচ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গত ১০ বছরে ১০ লাখ তরুণ–তরুণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে আরও ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেক মাহিন্দ্রার উদ্যোগে আয়োজিত ‘ব্যাংকিং নেক্সট ডিজিটাল লিডারশিপ’ শীর্ষক সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার বিশ্বদীপ দেব। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, মাহিন্দ্রা বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স সুজিত বকশি প্রমুখ।

পলক বলেন, শ্রমভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশ এখন প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির জাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সরকার বাংলাদেশে আইসিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে।
পলক বলেন, ‘টেক মাহিন্দ্রার মতো বিনিয়োগকারীদের আমরা সব সময়ই স্বাগত জানাই। বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মুনাফার ওপর কর মওকুফ, ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কর রেয়াত, ১০ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানিতে ক্যাশ ইনসেনটিভ সুবিধা রয়েছে।’

8
তরুণদের মধ্যে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারে আসক্তি প্রতিরোধে বিশেষ আইনের খসড়া তৈরি করছে ইতালি। দেশটির ক্ষমতাসীন ফাইভ স্টার মুভমেন্টের (এম৫এস) দল ডিজিটাল আসক্তি প্রতিরোধ ও চিকিৎসার প্রয়োজনে নতুন এ বিল আনছে। এ বিলের মাধ্যমে ‘নো মোবাইল ফোন ফোবিয়া’ বা নোমোফোবিয়া মোকাবিলা করা যাবে।

নোমোফোবিয়া হচ্ছে মোবাইল থেকে দূরে থাকায় আশঙ্কা। মোবাইল ফোন সব সময় ঠিক জায়গায় আছে কি না, তা নিয়ে মন সব সময় সতর্ক থাকে। মোবাইল হারানো বা মোবাইল থেকে দূরে থাকার ভয় থেকে মনের মধ্যে জন্ম নেয় এক সমস্যা। মোবাইল ফোনের বিভিন্ন অ্যাপ বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট না জানার আশঙ্কা তৈরি হয়। গবেষকেরা মোবাইল ফোনের সঙ্গে যোগাযোগ হারানোর এই ভয়জনিত সমস্যার নাম দিয়েছেন ‘নোমোফোবিয়া’, যার পুরো নাম ‘নো মোবাইল ফোন ফোবিয়া’। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ৫৩ শতাংশ এবং ২৯ শতাংশ ভারতীয় তরুণেরা এ রোগের শিকার।
ইতালির ওই খসড়া আইনে সন্তানের মা-বাবা ও অভিভাবকের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে তারা শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টি ধরতে পারেন। এ ছাড়া এই আইনে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে জানানোর পরিকল্পনার কথা রয়েছে।

নোমোফোবিয়া সাধারণত তরুণদের ক্ষেত্রে বেশি ঘটে। তাঁদের রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না।

ইতালিতে ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী অর্ধেকের বেশি তরুণ দিনে ৭৫ বারের বেশি মোবাইল ফোন দেখেন। দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব টেকনোলজিক্যাল ডিপেনডেন্সের করা এক গবেষণার বরাতে গণমাধ্যমে গতকাল সোমবার এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

৬১ শতাংশ ইতালিয়ান নাগরিক বিছানায় শোয়ার সময় ট্যাবলেট বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ৮১ শতাংশ।

ফাইভ স্টার মুভমেন্ট তাদের খসড়ায় বলেছে, মোবাইল ফোনের আসক্তিকে জুয়ার আসক্তির সঙ্গে তুলনা করা যায়। এতে ডোপামিনের উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

ডোপামিন একটি হরমোন। দেহের ওজন নির্দিষ্ট মাত্রায় বজায় রাখার জন্য হরমোনটির গুরুত্ব রয়েছে। ডোপামিনকে কর্ম ত্বরান্বিতকরণ হরমোনও বলা হয়।

9
Personal Management Skills / কী শেখা চলছে এখন
« on: August 01, 2019, 02:07:44 PM »
আপনি কি প্রযুক্তি খাতে চাকরি খুঁজছেন? বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে দক্ষ ব্যক্তিদের চাহিদা বাড়ছে। দেশের মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর বাইরে ফ্রিল্যান্সিং বা নিজে উদ্যোক্তা হয়েও কাজের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ। আগ্রহী ব্যক্তিরা তাঁর পছন্দের ও কাজের বিষয়গুলো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে যুগের সঙ্গে প্রস্তুত করে নিতে পারেন। এ ধরনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের বেতন ও আয় অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর মধ্যে ক্রিয়েটিভ আইটি, বেসিসের বিআইটিএম, কোডার্স ট্রাস্ট বাংলাদেশ, শিখবে সবাই, ইশিখনের মতো অনেক প্রতিষ্ঠান নানা বিষয়ে সরাসরি ও অনলাইনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

বিভিন্ন মেয়াদে এসব প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই ভালো কাজ পেয়েছেন। তাই তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণদাতা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে এখন সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ের মধ্যে রয়েছে গ্রাফিকস ও ওয়েব ডিজাইন। এরপর রয়েছে অ্যাপ্লিকেশন ডিজাইন, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট। এরপর যুগের সঙ্গে চাহিদাসম্পন্ন অনেক বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়ছে।
বেসিস সূত্রে জানা গেছে, আগে অনলাইন মার্কেট প্লেসগুলোতে বাংলাদেশ থেকে কম রেটে ডেটা এন্ট্রির মতো ছোটখাটো কাজ করা হতো, এখন সেখানে গ্রাফিকস ও ওয়েব ডিজাইনের মতো বড় বড় কাজ হচ্ছে। বেড়েছে দেশের তরুণদের আয়। আগে ঘণ্টায় গড়ে ৮–১০ ডলার আয় করলেও এখন তা ১৫ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি আয় করছেন গ্রাফিকস ও ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। বাংলাদেশে এখন প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে তাই এ দুটি বিষয়ে আগ্রহ বেশি দেখা যায়।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ আইটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির হোসেন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের দক্ষতা এখন স্থানীয় প্রয়োজনের পাশাপাশি বৈশ্বিক বিবেচনায় নির্ধারিত হচ্ছে। কারণ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশের বাইরে অনেক প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতার জন্য কাজ করছেন। প্রশিক্ষণ নেওয়ার ফলে চাকরির ওপর নির্ভরশীলতা কমছে। নিজে উদ্যোক্তা হচ্ছেন অনেকেই। তবে এখনকার সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন প্রশিক্ষণ হচ্ছে গ্রাফিক ডিজাইন। কারণ, অন্যান্য প্রশিক্ষণ নিতে গেলে কিছুটা তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান দরকার হয়। কিন্তু বিভিন্ন খাতের আগ্রহী কম আইটি জ্ঞান নিয়ে গ্রাফিক ডিজাইন শিখে ভালো করতে পারছেন। এর পাশাপাশি নারীরা বাসায় বসে কাজের সুযোগ হিসেবে গ্রাফিক ডিজাইনকে প্রাধান্য দেন। অল্প সময়ে বিষয়টি শিখে চর্চা করলে ভালো করা যায় বলে অনেকেই গ্রাফিক ডিজাইনকে প্রাধান্য দেন। গত বছরেই তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ হাজার ব্যক্তি গ্রাফিক ডিজাইনে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এরপর রয়েছে ওয়েব ও সফটওয়্যার–বিষয়ক প্রশিক্ষণে আগ্রহ। তবে ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা অ্যানালাইসিস, ডিজিটাল মার্কেটিং ও রোবটিকসের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণে আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। বেসিসের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বেসিস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিআইটিএম) প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তরুণ ও যুবকদের। বিআইটিএমের ব্যবস্থাপক তালুকদার মোহাম্মদ সাব্বির বলেন, ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইআইপি)’ অধীনে ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিকস অ্যান্ড ওয়েব ইউআই ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট-পিএইচপি, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট-ডটনেট, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও), মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট (অ্যান্ড্রয়েড), সার্ভার অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট, আইটি সাপোর্ট-টেকনিক্যাল, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, কাস্টমার সাপোর্ট সার্ভিস, আইটি সেলস ম্যানেজমেন্ট প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিকস অ্যান্ড ওয়েব ইউআই ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট-পিএইচপি, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট-ডটনেট প্রভৃতি বিষয়ে।

কোডার্স ট্রাস্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর আতাউল গণি ওসমানী বলেন, গ্রাফিকস, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মতো বিষয়গুলোর চাহিদা এখন বেশি।

দেশি সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রাইডসিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মনোয়ারুল ইকবাল বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনার, এআই ও বিগ ডেটা বিশ্লেষক, ডটনেট ডেভেলপার, সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স, টেকনিক্যাল কনটেন্ট রাইটারের মতো বিভিন্ন পদের কর্মী নিয়োগ দেবে। তাঁর প্রতিষ্ঠানের মতো দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা রয়েছে। এখনকার যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা অ্যানালাইসিসের মতো বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে তাই গুরুত্ব দিতে হবে।

পেশাজীবীদের জন্য বিশেষায়িত ওয়েবসাইট লিংকডইন ‘দ্য মোস্ট ডিমান্ড হার্ড অ্যান্ড সফট স্কিলস অব ২০১৯’ শীর্ষক তালিকা অনুযায়ী, এ বছর বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ক্লাউড কম্পিউটিং–বিষয়ক দক্ষ ব্যক্তিদের। এ ছাড়া আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স, ইউএক্স ডিজাইন, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, সায়েন্টিফিক ডেভেলপমেন্ট, গেম ডেভেলপমেন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফটওয়্যার টেস্টিং, ডেটা সায়েন্স, কম্পিউটার গ্রাফিকস ও অ্যানিমেশন বিষয়ে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা রয়েছে। এসব খাতে প্রশিক্ষণের জন্য চাহিদাও বাড়ছে।

এর আগে মানবসম্পদ নিয়ে কাজ করা বিটিআই এক্সিকিউটিভ সার্চ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালে চাহিদাসম্পন্ন চাকরি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, চলতি বছর তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রধান সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা বা চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার (সিআইএসও) পদটিতে চাহিদা বেশি। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ৩০ লাখ সাইবার নিরাপত্তা খাতের পেশাদার ব্যক্তির ঘাটতি রয়েছে। এর অধিকাংশই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের। এ অঞ্চলে ২০ লাখ সাইবার নিরাপত্তা পেশাদার ব্যক্তির ঘাটতি আছে।

অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম কোরসেরা তাদের বৈশ্বিক স্কিল বেঞ্চমার্কিং বা দক্ষতা নির্ণায়ক প্রতিবেদন বৈশ্বিক দক্ষতা সূচক বা ‘গ্লোবাল স্কিলস ইনডেক্স ২০১৯’ (জিএসআই) প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বিশ্বের ৬০টি দেশ ও ডেটা সায়েন্স, প্রযুক্তি ও ব্যবসা শিল্পের ১০টি খাতের বিশ্লেষণ ওই প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে। প্রতিবেদনে প্রযুক্তিগত দক্ষতার দিক থেকে অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ক্ষেত্রে ভালো করছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া গণিত, পরিসংখ্যান, মেশিন লার্নিংয়ের বিষয়গুলোতেও দক্ষতা ঊর্ধ্বমুখী। ব্যবসাক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যান্সে কিছুটা ভালো করলেও কমিউনিকেশন, ম্যানেজমেন্ট ও সেলসের ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রযুক্তি খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকলেও রয়েছে দক্ষতার অভাব এবং প্রযুক্তি–বিষয়ক পড়ালেখায় কিছুটা ভীতি। এসব কারণে তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগেও দেশের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির যথার্থ সুবিধা ভোগ করার দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি বিষয়ে আরও আগ্রহী ও দক্ষ করে তুলতে প্রয়োজন দক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়া।

চাহিদাসম্পন্ন প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণগুলো—
কম্পিউটার গ্রাফিকস, বিগ ডেটা/ডেটা সায়েন্স, সফটওয়্যার টেস্টিং, অ্যানিমেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, সাইবার সিকিউরিটি, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট।

10
যাঁরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গঠনের চিন্তা করছেন, তাঁদের গতানুগতিক ধারার বাইরে যেতে হবে। একসময় শুধু কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি হলেই চাকরি পাওয়া যেত। এ ছাড়া কাজ করতে করতে অনেক বিষয় শিখে নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন ক্যারিয়ারে উন্নতি করতে হলে নতুন প্রযুক্তি দক্ষতাগুলো আগে থেকেই আয়ত্ত করতে হবে। বর্তমান দক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি দক্ষতাগুলো না আয়ত্তে আনতে পারলে প্রতিষ্ঠানে নতুন দায়িত্ব ও উন্নতি করা সম্ভব নয়। এ কারণে নতুন দক্ষতাগুলো শিখতে সময় বের করতে হবে। নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য অবশ্য চাকরি ছেড়ে আবার ক্লাসরুমে ফেরত যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না এখন। চাইলে অনলাইনেই বিভিন্ন কোর্স করে নিজের দক্ষতাগুলোকে বাড়িয়ে নেওয়া যায়। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলোয় কয়েকটি কোর্সের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। কোরসেরাতে থাকা জনপ্রিয় ১০টি প্রযুক্তিবিষয়ক কোর্সের তালিকা দেখে নিন:

১. স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেশিন লার্নিং
২. মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামিং ফর এভরিবডি (গেটিং স্টার্টড উইথ পাইথন)
৩. ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর লার্নিং হাউ টু লার্ন
৪. জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের আর প্রোগ্রামিং
৫. প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালগরিদমস, পার্ট–১
৬. ডিপলার্নিং ডটএইয়ের নিউরাল নেটওয়ার্কস অ্যান্ড ডিপ লার্নিং
৭. মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইথন ডেটা স্ট্রাকচারস
৮. জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্য ডেটা সায়েন্টিস্ট টুলবক্স
৯. মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনট্রোডাকশান টু ডেটা সায়েন্স ইন পাইথন
১০. সেন্ট্রালসুপলেকের বিল্ড ইয়োর ফার্স্ট অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ (প্রজেক্ট-সেন্ট্রার্ড কোর্স)
কোনো নির্দিষ্ট কোর্সের জন্য আবেদন করার আগে অবশ্যই এর কনটেন্টগুলো দেখে নিতে হবে। এসব কনটেন্ট নিজের ক্যারিয়ারের জন্য উপযোগী কি না, তা বুঝে তবে কোর্সগুলো করলে সুফল পাওয়া যাবে।

11
তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছেলে রিফাত এম হক। বাবা খোন্দকার মোজাম্মেল হক ‘গেদুচাচার খোলা চিঠি’খ্যাত কলামিস্ট ও একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক। মা ফারজানা নূর গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই রিফাত একটু আলাদা রকমের। যেকোনো কিছু জানার জন্য লেগে থাকতেন।

রিফাত এম হক ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতে করতে হয়েছেন উদ্যোক্তা। দিনরাত খেটেখুটে তৈরি করেছেন শিখবে সবাই এবং ইন্সট্রাক্টরি নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। রিফাত এখন একজন সফল শিক্ষক, উদ্যোক্তা, ইউআই-ইউএক্স ডিজাইনার এবং ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ফাইভারে ‘ওয়েব এবং মোবাইল ডিজাইন’ ক্যাটাগরিতে একমাত্র বাংলাদেশি শীর্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন।

শুরু যেভাব
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলের ছাত্র ছিলেন রিফাত। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় তখন ভাবতেন স্নাতক হলেই বুঝি মোটা অঙ্কের চাকরি পাওয়া যাবে। ২০১২ সালে স্নাতক হওয়ার পর প্রায় ৩৬১টি চাকরির সাক্ষাৎকার দেন রিফাত। কোনো জায়গায় কাজের ওপর বেতন আবার কোনো জাগায় একদমই কম বেতন, কোথাও আবার প্রকৌশলবিদ্যা পড়ে বিক্রয়ের কাজ—অনেক জায়গায় তো চাকরিই হয়নি রিফাতের।
প্রায় এক বছর ধরে চাকরির বাজারটা বোঝার চেষ্টা করেন রিফাত। সবশেষে ৫ হাজার টাকা বেতনে রিফাতের কর্মজীবন শুরু হয়। সে সময় রিফাতের পাশে ছিলেন স্ত্রী জেসমিন। তাঁদের এখন একটি মেয়েও আছে, নাম ফালাক। যেহেতু রিফাতের পড়াশোনার সঙ্গে চাকরির ক্ষেত্রের কোনো মিল ছিল না, তাই দেড় বছরের মধ্যে একে একে তিনটা চাকরি ছেড়ে দেন।

চাকরি ছাড়ার পর ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা বেশি করে করেন রিফাত। এমনও সময় ছিল তখন, যখন বড় বড় দোকানে, রেস্তোরাঁয় বা করপোরেট অফিসে গিয়ে রিফাত বলতেন, কারও ওয়েবসাইট ডিজাইন করে দিতে হবে নাকি। অনেকে বলতেন লাগবে, আবার অনেকে বলতেন এসব ভুয়া জিনিস নিয়ে আসবেন না। কোম্পানির ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য ওয়েবসাইট কতটা জরুরি, তা বোঝানোর চেষ্টা করতেন রিফাত। কখনো বাসে, কখনো হেঁটে মহাখালী থেকে পল্টনের বাসার দিকে ক্লান্ত হয়ে ফিরতে হতো রিফাতকে। নিজের কাজগুলোকে কীভাবে সবার সঙ্গে শেয়ার করবেন, সেই সুযোগ খুঁজতেন সব সময়।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে হাতেখড়ি

‘সুযোগটা আসে ২০১৫ সালে ডেনমার্কভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানে মেন্টর হওয়ার মাধ্যমে। সেখানে থাকার সময় ৩ হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রীকে ওয়েব এবং গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ শিখাই।’ বললেন রিফাত। ২০১৭ সালে রিফাত নিজেও ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন।

প্রতিদিন রাত জেগে বিভিন্ন দেশের কাজদাতাদের সঙ্গে কাজ করতে হতো রিফাতকে। ৫ ডলার পারিশ্রমিক দিয়ে শুরু, এরপর সর্বোচ্চ ৩৫০০ ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিকে কাজ করেন রিফাত। বর্তমানে ফাইভারে টপরেটেড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন রিফাত।

শিখবে সবাই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা

ফ্রিল্যান্সিং করে যে কেউ স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেই লক্ষ্যে ঠিক তখন থেকেই বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের জন্য ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখেন রিফাত। তাঁরা ১১ জন। একই দিনে ১১ জন মিলে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরির লক্ষ্যে ২০১৭ সালের মে মাসে যাত্রা শুরু করে তাঁদের প্রথম স্টার্টআপ ‘শিখবে সবাই’। রিফাত বলেন, ‘শিখবে সবাইয়ের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, দেশে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ আমাদের কোর্স অনলাইনে এবং সরাসরি ক্লাসের মাধ্যমে করতে পারবেন।’

প্রথম দিকে রিফাতদের কোনো অফিস ছিল না। ১১ জন যে বেতন পেয়েছিলেন চাকরির শেষ মাসে, তার পুরোটাই বিনিয়োগ করেন নতুন উদ্যোগে সবাই। রিফাত বলেন, ‘প্রথম মাসেই অনলাইন ক্লাসে ভর্তি হন ১৬৯ জন শিক্ষার্থী। সেই সঙ্গে পেয়ে যাই এলআইসিটি ও এলইডিপির মতো সরকারি প্রকল্প। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে বনানী ৭ নম্বর সড়কে ৪ হাজার বর্গফুটের অফিস নিই আমরা। মিরপুরে আরও একটি স্মার্ট ক্যাম্পাস রয়েছে।
শিখবে সবাইয়ের বয়স ২ বছর ৩ মাস। আর এরই মধ্যে ৪ হাজারের অধিক ছাত্রছাত্রী রয়েছে রিফাতের প্রতিষ্ঠানে। যাঁদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স সম্পন্ন করে আজকে নিজ নিজ স্থানে প্রতিষ্ঠিত। শুরু করেছিলেন ১১ জন নিয়ে আর এখন শিখবে সবাই পরিবারে ৩০ জনের মতো সদস্য।

এরই মধ্যে বিগত মে মাসে রিফাত শুরু করেছেন শিক্ষকদের জন্য প্রথম ‘অনলাইন টিচিং মার্কেটপ্লেস’, যার নাম হচ্ছে ‘ইন্সট্রাক্টরি’। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে শিক্ষকেরা খুব সহজেই তাঁদের কোর্স আদান-প্রদান করে আয় করতে পারবেন। শিক্ষার্থীরা তাঁদের পছন্দের কোর্সটি যেকোনো সময় যেকোনো জায়গা থেকে শিখতে পারবেন।

রিফাতের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শিখবে সবাই ও ইন্সট্রাক্টরির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। রিফাত মনে করেন, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাইলে প্রতিনিয়ত শিখতে হবে, নিজের মেধাকে আরেকজনের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে।

12
অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের (ওআইআই) তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে অনলাইন শ্রমের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে। দেশের প্রায় সাড়ে ছয় লাখ নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সারের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার নিয়মিত কাজ করছেন। জ্ঞানভিত্তিক আউটসোর্সিংয়ের কাজে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ ২০১৭ সাল থেকে ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রজেক্ট’ (এলইডিপি) নামে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। এই প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক তরুণ নিজ উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সার বা মুক্ত পেশাজীবী হিসেবে কাজ করছেন। এ ক্ষেত্রে সফল পাঁচজন তরুণের গল্প থাকছে।

অনেকে অনেক কথা বলেছে কিন্তু হাল ছাড়িনি
হাফসা আনোয়ার, ঢাকা
হাফসা আনোয়ার থাকেন উত্তরায়। ২০১৭ সালে ফেসবুক থেকে জেনে আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষায় পাস করার পর সাক্ষাৎকার নিয়ে তাঁকে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হয় ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে। তখন ইডেন মহিলা কলেজে গণিত বিভাগে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
হাফসার প্রশিক্ষণটি ছিল ওয়েব ডেভেলপমেন্টের ওপর। ৫০টি ক্লাস করেছিলেন তিনি। প্রশিক্ষণের পর মেন্টরিং সেন্টারে আরও ১০টা ক্লাস হয়েছে হাফসা আনোয়ারের। এমসিসি লিমিটেডের দেওয়া প্রশিক্ষণ থেকে ওয়েবসাইট ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে শেখেন।
অনলাইন আউটসোর্সিংয়ের কাজের জায়গা ফাইভারে অ্যাকাউন্ট খোলেন প্রশিক্ষণের পর। এর এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫ ডলারের একটা কাজ পান তিনি। এখন প্রতি মাসেই ৬–৭টা কাজ করেন। কিছু নির্দিষ্ট কাজদাতা আছে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে। এ পর্যন্ত ১২ হাজার ডলার আয় করেছেন তিনি। হাফসা এখন কাজ করছেন ফাইভার ও আপওয়ার্কে।
হাফসা বলেন, ‘আমি পেওনিওরের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যাংক থেকে টাকা তুলি। শুরুতে ইংরেজি নিয়ে অসুবিধা হয়েছিল। কিন্তু চর্চা করেছি, আমার ক্লাসের এক বন্ধু আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। জীবনে কিছু পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তনটা আর্থিক থেকে মানসিক বেশি। এখন সবকিছু সহজ মনে হয়। আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা বলেছিল এইগুলো হবে না, সময় নষ্ট—এখন তাঁদের ধারণা বদলেছে।’

পাঁচজনের একটি দল করে কাজ করছি
মিরাজুল ইসলাম, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের মিরাজুল ইসলাম যখন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, তখন লার্নিং অ্যান্ড আর্নিংয়ের প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। এখন শেষ সেমিস্টারে পড়ছেন। আগে থেকে কম্পিউটারের প্রতি ভালোবাসা ছিল, চেষ্টাও করেছিলেন কিছু করার, কিন্তু পারেননি।
২০১৭ সালে প্রশিক্ষণ নেন। ওয়েব ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট শেখেন। প্রশিক্ষণ দেয় ডিজিকন টেকনোলজিস লিমিটেড। ফ্রিল্যান্সার ডটকমে ২৫–৩০টা কাজ বিড করার পর প্রথম কাজ পান মিরাজুল, সেটা ৩০ ডলারের। এরপর আমেরিকার একজন ক্লায়েন্ট ওই দেশের ওয়েবসাইটের একটা কাজ দেয়। শুরু হয় মিরাজুলের পথচলা। প্রশিক্ষণের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ডলার আয় করেছেন তিনি।
মিরাজুল বলেন, ‘আমার সরাসরি কাজদাতা বেশি। তবে এর বাইরে ফ্রিল্যান্সার ডটকমে কাজ করি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের কাজ আমরা বাংলাদেশে বসে করে দিই। বর্তমানে আমি ৫ জনের একটা দল তৈরি করেছি। ছোট একটা অফিসের মতো নিয়েছি, ১০ হাজার টাকা ভাড়া দিচ্ছি প্রতি মাসে। এই ৫ জনের মধ্যে ২
জনকে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করে নিচ্ছি।’
মিরাজুল নিজেই নিজের খরচ চালান। বাসার খরচও দেন। বললেন, ‘ভবিষ্যতে বড় একটা অফিস নেব, যেন অন্তত ২০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়।’

৩০০ জনকে শিখিয়েছি
সুবীর নকরেক, ময়মনসিংহ
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ছেলে সুবীর নকরেক। ময়মনসিংহে একটি ফ্রিল্যান্সার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করেছেন। নাম নকরেক আইটি ইনস্টিটিউট। সুবীরের বড় ভাই ও এক কাকা এলইডিপির প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তাঁদের কাছে শুনেই ঢাকাতে প্রশিক্ষণ নিতে আসেন। প্রথম থেকেই তিনি ঠিক করেছিলেন, ২০০ ঘণ্টার গ্রাফিক ডিজাইন কোর্স শেষ করবেন। ঢাকায় আসার পরপরই একটা ভালো চাকরির সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু সেটা করেননি সুবীর। তখন তিনি কিছুই করতেন না।
প্রশিক্ষণটা হয়েছিল মিরপুর বাঙলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে, ২০১৭ সালে। এর আগেই ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে অনলাইনে জেনেছিলেন। সুবীর বলেন, ‘আমি করপোরেট ব্র্যান্ডিং, ডিজাইন, লোগো, ফ্লায়ার তৈরি, ব্রশিওর, আইডি কার্ড তৈরি ইত্যাদি শিখেছি।’
সুবীরের প্রথম কাজ ছিল একটা ফ্ল্যায়ারের নকশা। এর জন্য পেয়েছিলেন ৭৫ ডলার। তখন থেকে এখন পর্যন্ত দেড় বছরে তাঁর আয় প্রায় ১১ হাজার ডলার। এখন কাজ করেন আপওয়ার্কে।
সুবীর বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠান নকরেক আইটি থেকে আমি প্রশিক্ষণ দিই। এখন পর্যন্ত ৩০০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এর মধ্যে আমাদের গারো সম্প্রদায়ের প্রায় ১৫০ জন তরুণ রয়েছেন। আমি স্কাইপের মাধ্যমে প্রবাসীদেরকেও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।’
ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করে সুবীর এখন একজন উদ্যোক্তা। এলইডিপির প্রশিক্ষণ মডিউল ধরেই ময়মনসিংহে খুলেছেন তাঁর প্রতিষ্ঠান।

মো. আশিক মিয়া
আমার পরিবার আমাকে নিয়ে গর্ব করে
নেত্রকোনায় নিজেদের বাড়িতেই থাকেন আশিক মিয়া। নিজের কলেজে একটি ব্যানারে দেখে জানতে পারেন প্রশিক্ষণের ব্যাপারে। সেখানে দেখে আগ্রহী হয়েছেন আশিক। নেত্রকোনার চন্দ্রনাথ কলেজে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ডিজিটাল বিপণন বিষয়ে।
আশিক বলেন, ‘শুরুর দিকে দুই মাস ধরে কাজদাতাদের রিকোয়েস্ট পাঠাতে হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রথম সাড়া দেন। তাঁর একটা এসইওয়ের (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) কাজ ছিল। সেখান থেকেই শুরু।’
২০১৭ সালের শেষ থেকে কাজ শুরু করেন আশিক। এখন পর্যন্ত মোট আয় করেছেন ১২ হাজার ডলার। এ জন্য আশিককে ২০০–এর বেশি কাজ করতে হয়েছে।
বর্তমানে তিনি ফাইবারে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, নেদারল্যান্ডস, আইসল্যান্ড, সৌদি আরব ইত্যাদি দেশ থেকে কাজ পান। আশিক বলেন, ‘শুরুর দিকে কাজের জন্য ল্যাপটপ ছিল না। পরে নিজে উপার্জন করে তিনটা ল্যাপটপ কিনেছি। ছোট ভাইবোনদের কাজ শেখাচ্ছি। পরিবারের সবাই এখন আমাকে নিয়ে গর্ব করে।’
মো. আশিক মিয়া ভবিষ্যতে নিজের কাজের পরিসর আরও বাড়াতে চান।

স্টার্টআপ খুলতে চাই
সোমা সরকার, টাঙ্গাইল
সোমা সরকার, থাকেন টাঙ্গাইলের সাবালিয়ায়। বন্ধুর কাছ থেকে এই প্রশিক্ষণের ব্যাপারে জেনেছেন। টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তখন টাঙ্গাইলে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গ্রাফিক ডিজাইন কোর্সে প্রশিক্ষণ নেন সোমা।
২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে আপওয়ার্কে অ্যাকাউন্ট খোলেন সোমা। তিনি বলেন, ‘যাঁরা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তাঁরা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে কাজ খুঁজতে হবে, আবেদন করতে হবে। এসব জানার পর আমি বিড করা শুরু করি। প্রায় এক মাস পরে আমি প্রথম কাজ পাই। সেটা ছিল একটা লোগো ডিজাইনের কাজ।’ এখন পর্যন্ত তাঁর আয় ১০ হাজার ডলারের বেশি। প্রায় ৩২৩টি অর্ডার সম্পন্ন করেছেন। প্রতি মাসে গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকার মতো আয় হয় সোমার।
সোমা বললেন, ‘আমার যখন পরীক্ষা শেষ হলো, আমাকে সবাই বলছিল চাকরি নিয়ে ভাবার কথা। আমি কী করব ভাবছি। আমি কী চাকরি পাব। এ রকম সময়ে এই প্রশিক্ষণে যুক্ত হই, তারপর কাজ পাওয়া, আর এখন তো পুরো দমে কাজ করে যাচ্ছি। নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি, এটা সবচেয়ে আনন্দের। ভবিষ্যতে ইচ্ছা আছে একটা স্টার্টআপ উদ্যোগ চালু
করার।’

13
জীবনের লক্ষ্য অর্জনে অনেক বড় স্বপ্ন দেখতে হবে—এমন পরামর্শ প্রায়ই শুনবেন। তবে এই বড় স্বপ্ন দেখার শুরুটা কিন্তু হতে পারে ছোটখাটো কোনো কাজ বা চাকরির মাধ্যমে। এখনকার যুগের অনেক কোটিপতির শুরুটাও কিন্তু এভাবেই হয়েছিল। অনেকেই শুরু করেছিলেন সামান্য বেতনের কাজ। কেউ কেউ বেতন ছাড়াই কাজ করে তা শিখেছেন ভালোমতো। কয়েকজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তার প্রথম চাকরির তথ্যটি জেনে নিন:
জেফ বেজোস
বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস প্রথমে ম্যাকডোনাল্ডে বার্গার তৈরির রান্নাঘরে কাজ করেছিলেন। তাঁর ওই সময় ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল মাত্র ২.৬৯ মার্কিন ডলার। তরুণ বয়সে ম্যাকডোনাল্ডে কাজের ওই অভিজ্ঞতা তাঁকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
মাইকেল ডেল
বিশ্বের অন্যতম কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডেলের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল। ১২ বছর বয়সেই তিনি কাজ শুরু করেছিলেন এক চীনা রেস্তোরাঁয়। তিনি সেখানে থালাবাসন ধোয়ার কাজ করতেন।রিচার্ড ব্র্যানসন
ভার্জিন গ্রুপ অব কোম্পানিজের মালিক রিচার্ড ব্র্যানসন মাত্র ১৬ বছর বয়সেই একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন। ওই ম্যাগাজিনের নাম ছিল ‘স্টুডেন্ট ম্যাগাজিন’। মাত্র ১০০ পাউন্ড মূলধন নিয়ে ১৯৬৬ সালে তিনি উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করে দেন।
ইভান স্পিগেল
স্ন্যাপচ্যাটের উদ্যোক্তা হিসেবে ইভান স্পিগেলকে চেনেন সবাই। তাঁকে বিনা বেতনেই বেভারেজ ব্র্যান্ড রেড বুলে কাজ করতে হয়। তিনি বিনা বেতনের ইন্টার্ন হিসেবে রেড বুলে কাজ শুরু করেছিলেন।
ট্রাভিস কালানিক
উবারের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাভিস কালানিকের শুরুটা ছিল আরও কষ্টের। উবার প্রতিষ্ঠার বহু আগে তিনি সেলসম্যান বা বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে পণ্য বিক্রি করতে হতো তাঁকে।
এলন মাস্ক
টেসলার প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্কের শুরুটাও কিন্তু ছোটোখাটো কাজ দিয়েই। তিনি ১২ বছর বয়স থেকেই ভিডিও গেমের কোড বিক্রি শুরু করেন। ওই ভিডিও গেমের নাম ছিল ব্লাসটার্ড।
জ্যাক ডরসি
টুইটারের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি হ্যাকার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, একটি ডিসপ্যাচ কোম্পানির সার্ভার হ্যাক করে তিনি পেশাদার সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
ল্যারি অ্যালিসন
ওরাকল সফটওয়্যারের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি অ্যালিসন কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে তাঁর প্রথম কাজ শুরু করেন। তিনি আমঢাল করপোরেশন ও অ্যামেক্স করপোরেশনের ডেটাবেইস তৈরির কাজ করেন।
কেভিন সিসট্রোম
ইনস্টাগ্রাম তৈরির আগে এবং প্রযুক্তি দুনিয়ায় কাজ শুরুর আগে তিনি একটি রেকর্ড স্টোরে ক্লার্কের পোস্টে চাকরি করেছেন। পরে তিনি নিজে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হয়ে ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সেবা চালু করেন।
এরিক স্মিড
গুগলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠিত করার আগে জিলগ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছিলেন এরিক স্মিড। নিনটেনডো ও সেগার কনসোলের জন্য চিপ তৈরি করতো জিলগ। সেখানেই চিপনির্মাতা হিসেবে চাকরি শুরু করেন স্মিড।


14

ফেসবুক মন পড়ার যন্ত্র তৈরি করতে পারে।
ফেসবুক মন পড়ার যন্ত্র তৈরি করতে পারে।
মনে মনে যা ভাবছেন, তা পড়ে ফেলছে যন্ত্র। এমন যন্ত্রের কথা হয়তো গল্পে পড়েছেন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির চলচ্চিত্রে দেখেছেন। কিন্তু বাস্তবেও এমন ধরনের যন্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন গবেষকেরা।

ফেসবুকের গবেষকেরা ভবিষ্যতে এমন যন্ত্র তৈরির কথা ভাবছেন, যা মস্তিষ্ক ব্যবহার করে কোনো শব্দ টাইপ করা এবং তা বার্তা আকারে পাঠাতে পারবে। গতকাল মঙ্গলবার নতুন এক গবেষণার আশানুরূপ ফলাফল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ফেসবুকের কর্মকর্তারা।
এ গবেষণা সফল হলে ফেসবুকের পক্ষ থেকে অগমেন্টেড রিয়্যালিটি (এআর) গ্লাসসহ নানা পরিধানযোগ্য প্রযুক্তিপণ্য তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে স্মার্টফোন ব্যবহার না করেও পরস্পরের সঙ্গে বাস্তবে যোগাযোগ করা যাবে।

ফেসবুকের এক ব্লগ পোস্টে বলা হয়, পরস্পরের সঙ্গে সহজে যোগাযোগে ক্ষেত্রে এআরের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এতে মানুষকে আর ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। এ ছাড়া ল্যাপটপের দিকেও ঝুঁকে থাকতে হবে না। মানুষের চোখে চোখ রেখে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান–প্রদান করতে পারবে।

ফেসবুকের পক্ষ থেকে ২০১৭ সালে তাদের গবেষণা ল্যাব বিল্ডিং ৮–এর ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে কম্পিউটার ব্রেইন ইন্টারফেস নিয়ে কাজ চলছে। ওই সময়ে ফেসবুকের কম্পিউটার ব্রেইন ইন্টারফেস প্রকল্পপ্রধান রেজিনা ডুগান বলেছিলেন, ফেসবুক একধরনের ‘সাইলেন্ট স্পিস সিস্টেম’ তৈরি করতে যাচ্ছে, যা মস্তিষ্ক থেকে সরাসরি মিনিটে ১০০ শব্দ টাইপ করতে পারবে। এটি একজন ফোনে যত শব্দ টাইপ করতে পারেন, তার চেয়ে দ্রুত কাজ করতে সক্ষম হবে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা পৃথক গবেষণায় প্যারালাইজড রোগীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে সফল হয়েছেন। তবে তাঁদের গবেষণার ক্ষেত্রে রোগীর মস্তিষ্কে আলাদা করে ইলেকট্রোড বসানো লাগে। তবে ফেসবুকের গবেষকেরা বলছেন, তাঁদের গবেষণায় মাথায় যন্ত্র পরলেই যোগাযোগ করা যাবে।

ফেসবুকের পক্ষ থেকে এ ধরনের কাল্পনিক প্রকল্পগুলো নিয়ে সব সময় মুখ বন্ধ রাখা হয়। এরই মধ্যে ফেসবুক তাদের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছে।

ফেসবুক তাদের গবেষণার ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে।

তাদের গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের গবেষণা আরও সামনে এগিয়ে নিতে হবে। এ ধরনের যন্ত্রের উন্নয়ন হতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

এলন মাস্কের কোম্পানি নিউরালিংক সম্প্রতি মস্তিষ্কের সঙ্গে কম্পিউটার যুক্ত করার একটি নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে।

15
হেপাটাইটিস নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা রকম আতঙ্ক আর বিভ্রান্তি। অনেকে নিজের অজান্তেই রক্তে এ রোগের জীবাণু বহন করে চলেছেন। আবার অনেকে এ সম্পর্কে হয়তো জানতে পারেন লিভার সিরোসিস হওয়ার পর।

হেপাটাইটিস ভাইরাস পাঁচ রকমের। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ ও জটিলতা তৈরি করে কেবল হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস। বিশ্বে হেপাটাইটিস বি অথবা সি আক্রান্ত প্রায় ৯০ শতাংশ লোকই জানে না যে তারা এ ভাইরাস বহন করে চলেছে। ফলে না জেনেই তারা ভাইরাসটি ছড়াতে থাকে। বাংলাদেশেও প্রায় এক কোটি মানুষ বি অথবা সি ভাইরাসে আক্রান্ত।হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ

রোগের বিস্তার না ঘটা পর্যন্ত বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ স্পষ্ট হয় না। হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে শরীর দুর্বলতা, বমিবমিভাব, পেটব্যথা, শরীর হলুদ বর্ণ ধারণ করা এবং হলুদ প্রস্রাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে রোগের বিস্তার ঘটলে পেটে পানি আসা, রক্ত পায়খানা ও রক্তবমি হতে পারে। এমনকি রোগী চেতনাও হারাতে পারে।

যেভাবে ছড়ায়

হেপাটাইটিস এ এবং ই ভাইরাস খাদ্য ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। এগুলোর সংক্রমণে যে জন্ডিস হয়, তা সাধারণত সম্পূর্ণভাবে সেরে যায়। কিন্তু হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস অনিরাপদ যৌনসংসর্গ, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ, ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ, একাধিক ব্যক্তির একই ব্লেড-কাঁচি ব্যবহার, অনিরাপদ দাঁতের চিকিৎসা বা বিভিন্ন অনিরাপদ অস্ত্রোপচার এবং সন্তান জন্মদানের সময় আক্রান্ত মা থেকে শিশুতে সংক্রমণ হতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তের নানা ধরনের অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগ শনাক্ত করা যায়।

চিকিৎসা

এ এবং ই ভাইরাস সংক্রমণজনিত হেপাটাইটিস বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আপনা–আপনি ভালো হয়ে যায়। অল্প কিছু ক্ষেত্রে শুধু বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। বি ভাইরাস নির্মূল করা না গেলেও চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। সি ভাইরাসও চিকিৎসার মাধ্যমে নির্মূল করা যায়। অনেকের ধারণা, হেপাটাইটিস বি বা সি সংক্রমণ হলে আর কোনো আশা নেই, লিভার বা যকৃত নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু বর্তমানে এ দুটো ভাইরাস নির্মূলের জন্য আধুনিক অ্যান্টি–ভাইরাল থেরাপি রয়েছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসকের পরামর্শে, প্রয়োজনে জীবনব্যাপী গ্রহণ করে যেতে হবে।

এ ছাড়া হেপাটাইটিস এ ও বি–এর প্রতিষেধক টিকা আছে, যার মাধ্যমে এসব ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব।

সঠিক সময়ে প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা না করালে হেপাটাইটিস থেকে যকৃত অকার্যকর হয়ে পড়া বা লিভার ফেইলিউর, লিভার সিরোসিস বা ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। কাজেই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জেনে নিন আপনি হেপাটাইটিসে আক্রান্ত কি না।

সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

প্রশ্ন: বয়স ১৬। হেলে কাজ করতে গেলে বুকের বাঁ পাশে ব্যথা অনুভব হয়। করণীয় কী?

উত্তর: এটি সম্ভবত পেশি বা মাসলের ব্যথা। এ নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। তবে ব্যথা অতিরিক্ত মনে হলে মেডিসিন বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া দরকার।

Pages: [1] 2 3 ... 6