Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - smsirajul

Pages: [1] 2 3 4
1
নিম একটি ওষধিগুণ সম্পন্ন, চির হরিত, বহু বর্ষজীবি বৃক্ষ। নিম গাছের ডাল, পাতা— সবই কাজে লাগে। যেমন, নিমের কাঠ খুব শক্ত। নিম কাঠে উইপোকা বাসা বাঁধে না। ফলে নিম কাঠে কখনও ঘুণ ধরে না। শুধু উইপোকাই নয়, নিম গাছে কোনও পোকাই বাসা বাঁধে না। তাই নিম কাঠ দিয়ে আসবাবপত্রও তৈরি করা হয়। আসুন এ বার নিমের ১০টি আশ্চর্য ওষধিগুণ ও কার্যকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক...

১) নিম তেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই এবং ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা আমাদের ত্বক এবং চুলের জন্য খুবই উপকারী।

২) নিমপাতা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক (ফাঙ্গাস) বিরোধী। তাই ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের আক্রমণের হাত থেকে ত্বককে সুরক্ষিত করতে নিমপাতা খুবই কার্যকরী! ব্রণর সমস্যা থেকে দ্রুত নিস্তার পেতে নিমপাতা বেটে লাগাতে পারেন।

৩) ত্বকের উজ্জলতা বাড়াতে নিয়মিত নিমপাতার সঙ্গে কাঁচা হলুদ ভাল করে বেটে মেখে দেখুন। খেয়াল রাখতে হবে, মিশ্রণে নিমপাতার চেয়ে হলুদের পরিমাণ যেন কম হবে। তবে হলুদ ব্যবহার করার পর কয়েক ঘণ্টা রোদ এড়িয়ে চলাই ভাল।

৪) দাঁতের জন্য নিমের ডাল খুবই উপকারী। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে আর দাঁতের ফাঁকে জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধ করতে নিম বেশ কার্যকরী।

৫) কেটে-ছড়ে গেলে বা পুড়ে গেলে ক্ষত স্থানে নিম পাতার রস ভেষজ ওষুধের মতো কাজ করে।

৬) নিম পাতা রোদে শুকিয়ে ভাল করে গুঁড়ো করে রেখে দিতে পারলে পরবর্তীকালে তা ফেস প্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭) মাথার ত্বকের চুলকানির সমস্যায় নিমপাতার রস খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। নিমপাতার রস মাথায় নিয়মিত লাগাতে পারলে এই চুলকানির সমস্যা কমে যায়। তাছাড়া নিমপাতার রসে চুলের গোড়া শক্ত হয়, চুলের শুষ্কতা বা রুক্ষ ভাব কমে যায় এবং নতুন চুল গজাতে শুরু করে।

৮) শুধুমাত্র চুলের নয় ত্বকের যে কোনও চুলকানির সমস্যায় নিমপাতা বেটে লাগাতে পারলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।

৯) গায়ের দুর্গন্ধ বা ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে নিমপাতার রস খুবই কার্যকরী একটি উপাদান।

১০) নিয়মিত সামান্য পরিমাণে নিমপাতা খেতে পারলে কোষ্ঠকাঠিন্য-সহ নানা লিভারের সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই সঙ্গে রক্ত পরিশুদ্ধ করতে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত, ক্ষতিকর উপাদান বের করে শরীর সুস্থ-সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে নিমপাতার রস খুবই কার্যকরী।

2
একটু একটু করে ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে। বিকেলের পর থেকেই বেশ আরামদায়ক আবহাওয়ায় মন ফুরফুরে হয়ে যায়। ক্লান্তি কেটে গিয়ে অফিসের পর বাড়ি ফিরে একটু চায়ের আড্ডা হবে না, তা-ও কি হয় নাকি! বাড়িতে চা-কফির আড্ডাতে সঙ্গে মুখরোচক মুচমুচে কিছু একটা না থাকলে কি চলে! শীতে তো সবজির অভাব নেই। যে কোনও একটা পছন্দসই সবজি বেছে নিয়ে সেটা দিয়ে মুচমুচে কিছু একটা বানিয়ে ফেললেই হল।

এখন বাজারে ফুলকপির দেখা মিলতে শুরু করেছে। ফুলকপি ভালবাসেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছেন বোধহয়। আজ সন্ধের চায়ের আড্ডায় বানিয়ে ফেলুন মুচমুচে মুখরোচক ফুলকপির পকোড়া। এই পদটি বানানো খুবই সহজ আর খেতেও মজাদার। চলুন, জেনে নেওয়া যাক মুখরোচক রেসিপিটি।

২টো মাঝারি মাপের ফুলকপি, ২ কাপ ময়দা ও কর্নফ্লাওয়ার, আধা চামচ কালিজিরা, ধনেপাতা কুচি আধা কাপ, আধা কাপ কাঁচা লঙ্কা কুচি, ১ চামচ চিনি, স্বাদমতো নুন, ১ চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো, ১ চামচ সয়াসস, ২ কাপ সাদা তেল আর ৩টে ডিম।

ফুলকপির পকোড়া বানানোর পদ্ধতি:—

প্রথমে ছোট ছোট করে ফুলকপি কেটে নিন। এ বার তাতে সামান্য নুন দিয়ে ফুলকপি একটু ভাপিয়ে নিন।

তেল ছাড়া সব উপকরণ নিয়ে তাতে জল দিয়ে গোলা তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন গোলা যেন খুব পাতলা বা খুব ঘন না হয়ে যায়।

এ বার গোলায় ভাল করে ডুবিয়ে ডুবো তেলে ভাজুন। গরম গরম পরিবেশন করুন।

ফুলকপির সবটা ফুল ভাজা হয়ে গেলে টমেটো সস, ধনেপাতা বা পুদিনার চাটনি দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন মুচমুচে মুখরোচক ফুলকপির পকোড়া। আড্ডার আসর জমে যাবে।

3
সুন্দর মেদহীন শরীর পেতে কে না চায়? তবে বর্তমানে ব্যাস্ততায় ফাস্ট ফুড বা বাইরের খাবারের উপর ভরসা করে যাঁদের দিনের বেশির ভাগ সময় কাটাতে হয়, তাঁদের কাছে সুন্দর মেদহীন শরীর পাওয়াটা একটা স্বপ্নের মতো বিষয়। দৈনন্দিনের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অল্প বয়সেই স্থুলতার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই।

ভুঁড়ি বা স্থুল, মেদবহুল শরীর স্বাস্থ্যের পক্ষেও অত্যন্ত ক্ষতিকর। শরীরের অতিরিক্ত মেদ বা ওজনের ফলে ডায়েবিটিস, রক্তচাপ, কোমর বা হাঁটুর ব্যথার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। এ ছাড়াও সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, অনিদ্রা, শ্বাসকষ্টের মতো একাধিক শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে আমরা কত কিছুই না করি! তবে সহজে চটজলদি ওজন কমাতে ডায়েটে রাখুন পাঁচ রকমের বাদাম। জেনে নিন কোন কোন বাদাম সহজে ওজন কমাতে সাহায্য করবে.

১) খিদে পেলে একমুঠো চিনেবাদাম খেয়ে নিতে পারেন। এতে শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পাবে, খিদেও কমবে।
২) কাজু বাদামে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কম থাকলেও এতে কপার, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই ওজন কমাতে পাতে রাখুন কাজু।
৩) আমন্ডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট যা আপনার খাওয়ার ইচ্ছা বা খিদের বোধ কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। তাই ওজন কমাতে পাতে রাখুন আমন্ড। উপকার পাবেন।
৪) প্রতিদিন সকালে একমুঠো আখরোট নিয়মিত খেতে পারলে ভাল থাকবে স্বাস্থ্য, সেই সঙ্গে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমবে অনেকটাই। খিদেও কমবে। তাই ওজন কমাতে পাতে রাখুন আখরোট।
৫) অন্য বাদামের সঙ্গে খানিকটা পেস্তা মিশিয়ে নিয়ে বা শুধু পেস্তাও নিয়মিত খেয়ে দেখুন। টানা ১২ সপ্তাহ পেস্তা খেলে ওজন কমবেই। তাই ওজন কমাতে পাতে রাখুন পেস্তা।

4
শুক্রবার থেকে আকাশ ঢেকেছে কালো মেঘে। আর ভোজনরসিক বাঙালির কাছে বৃষ্টি মানেই খিচুড়ি। বৃষ্টিভেজা দিনে গরম গরম ধোঁওয়া ওঠা খিচুড়ির মজাই আলাদা। সঙ্গে একটু ইলিশ পেলে তো লা-জবাব! তবে সাধারণ খিচুড়ি নয়, আজ জেনে নিন পঞ্চরত্ন খিচুড়ির বিশেষ রেসিপি। 
উপকরণ : ১ কাপ সেদ্ধ চাল, ১ কাপ পাঁচমেশালি ডাল(সমপরিমাণ মুগ, মুসুর, ছোলা, অড়হর, বিউলি), ১ কাপ পেঁয়াজ কুচি, ১ চামচ আদা বাটা, ১ চামচ রসুন বাটা, ১ চামচ ধনে গুঁড়ো, ২ চামচ জিরে বাটা, ১/২ আধ কাপ টমেটো কুচি, ৪ টি কাঁচালঙ্কা, ১/২ চামচ গরম মশলা গুঁড়ো, ফোড়নের জন্য গোটা গরম মশলা, ২টি তেজপাতা, পরিমাণ মতো হলুদ, নুন, চিনি, সাদা তেল, ২ চামচ ঘি।

প্রণালী : ছোলার ডাল ও বিউলির ডাল সেদ্ধ হতে সময় লাগে। তাই রান্নার বেশ কিছুক্ষণ আগেই ছোলার ডাল ও বিউলির ডাল ভিজিয়ে রাখুন। বাকি চাল ও ডাল ভাল করে ধুয়ে নিন। এবার একটি কড়াইতে ছোলার ডাল ও বিউলির ডাল সেদ্ধ হতে দিন। নুন ও হলুদ দিয়ে কড়াই ঢাকা দিয়ে রাখুন। ডাল আধসেদ্ধ হয়ে এলে বাকি ডালগুলি মিশিয়ে দিন। আরও কিছুক্ষণ ফুটতে দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী জল দিন।

এবার খানিকটা গরম জল করে নিয়ে ডালের কড়াইতে ঢেলে দিন। এবার আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা চাল কড়াইতে দিন। কড়াইতে চাল-ডাল যতক্ষণ ফুটছে অপর একটি কড়াইতে তেল গরম করতে দিন। তাতে গরম মশলা, লঙ্কা, তেজপাতা ফোড়ন দিন। নেড়েচেড়ে পেঁয়াজকুচি, রসুন বাটা, আদা বাটা দিয়ে ভেজে নিন। টমেটো কুচি দিয়ে দিন। একটু কষিয়ে নিয়েই এই ফোড়ন ফুটতে থাকা চাল-ডালের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। সবকিছু সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শেষের দিকে ক্রমাগত নাড়াচাড়া করতে ভুলবেন না। নয়তো খিচুড়ি তলা থেকে জ্বলে উঠতে পারে। নেড়েচেড়ে আঁচে কিছুক্ষণ রেখে উপর থেকে ঘি ও গুঁড়ো গরম মশলা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

বৃষ্টির দিনে গরম গরম অমলেটের সঙ্গে জমে যাবে পঞ্চরত্ন খিচুড়ি।

5
যত দিন যাচ্ছে, ততই চড়ছে তাপমাত্রার পারদ! আর এই গরমে রীতিমতো হাসফাঁস অবস্থা আট থেকে আশি— সকলের। গরমের তীব্র দাবদাহে শরীর সুস্থ রাখতে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস দ্রুত বদলে ফেলতে হবে। সুস্থ থাকতে হলে এই গরমে তেলে ভাজা, মশলাদার খাবার-দাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। তবে এর সঙ্গে পাতে রাখতে হবে কয়েকটি সাধারণ সবজি, যেগুলি এই গরমে আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই সবজিগুলির সম্পর্কে যেগুলি চড়া গরমেও আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে...

১) গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সবচেয়ে সহজলভ্য সবজি হল শশা। এই গরমে সুস্থ থাকতে শশার চেয়ে ভাল কিছু হতেই পারে না! ফাইবারে ভরপুর শশা খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে। তাই তরকারি, স্যালাডে বা এমনই— দিনে যতটা সম্ভব শশা খান।

২) চাঁদি ফাটা গরমে শরীর আর পেট ঠান্ডা রাখতে লাউয়ের জুড়ি মেলা ভার! লাউয়ের ৯২ শতাংশই হল জল। এ ছাড়াও লাউয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। সব মিলিয়ে জলের ঘাটতি মিটিয়ে শরীরকে ডি-হাইড্রেশনের হাত থেকে বাঁচাতে লাউ অত্যন্ত উপকারী একটি সবজি। এ ছাড়াও ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামে সমৃদ্ধ লাউ খুবই পুষ্টিকর!

৩) তিক্ত স্বাদের জন্য করলা বা উচ্ছে অনেকেই তেমন পছন্দ করেন না। কিন্তু জানেন কি, করোলায় রয়েছে ‘পলিপিটাইড-পি’ নামের একটি যৌগ যা স্বাভাবিক ভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে! এতে ক্যালোরি রয়েছে নামমাত্র। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও উচ্ছে বা করলা খুবই উপকারী!

৪) ঢ্যাঁড়স সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে রক্তের শর্করার মাত্রা। এই গরমে হজমের সমস্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যায়। ঢ্যাঁড়স এই সমস্যাগুলি সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

6
Skin / রূপচর্চার বাগান
« on: June 20, 2019, 07:40:49 PM »
রূপচর্চায় গাছগাছড়ার ব্যবহার আজকের নয়। সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকেই এই ধরনের রূপচর্চার কথা শোনা যায়। পরবর্তী কালে বিভিন্ন গাছগাছড়া ও ফুলের রস থেকেই প্রসাধনী তৈরি শুরু হয়। বাজার থেকে কিনে আনা প্রসাধনীর উপরে ভরসা না করে যদি বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া যায় রূপচর্চার বাগান, তবে কেমন হয়? দেখা যাক, কী ধরনের গাছ রাখতে পারেন সে বাগানে।

তুলনা নেই তুলসীর
তুলসীর মঞ্জরি থেকেই নতুন গাছ তৈরি হয়। ফলে একটা তুলসী গাছ বাড়িতে থাকলে তার থেকেই একাধিক গাছ তৈরি হয়ে যায়। তুলসীর পাতা বাটা ত্বক ও চুল দুইয়ের পক্ষেই ভাল। ত্বকে কোনও ব্যাকটিরিয়া বাসা বাঁধতে দেয় না। আর স্ক্যাল্পে লাগালে খুসকিও হয় না।
চুলের যত্নে ভৃঙ্গরাজও ভাল কাজ দেয়। বিশেষ করে আমলকী, হরিতকী ও বহেড়ার সঙ্গে ভৃঙ্গরাজ মিশিয়ে তেলে ফুটিয়ে নিতে হবে। তার পরে শ্যাম্পু করার আগের রাতে পুরো চুলে ভাল করে মেখে রাখলে খুসকি, চুলে পাক ধরা, চুল পড়ে যাওয়ার মতো অনেক সমস্যার মোকাবিলা করে। ভৃঙ্গরাজ গাছ পেতে আয়ুর্বেদের দোকানে খোঁজ করতে পারেন। আমলকী, হরিতকী গাছের জন্য অনেকটা জমির প্রয়োজন। তাই জায়গার অভাবে এগুলো কিনে নেওয়াই ভাল।

গোলাপেরই বাগে
অনেকের বাগানেই এই গাছটি থাকে। ত্বকের যত্নে এর ব্যবহার বিবিধ। গোলাপের পাপড়ি ফুটিয়ে গোলাপজল তৈরি করে রাখতে পারেন। প্রত্যেক দিন স্নানের জলে এই গোলাপজল মিশিয়ে নিলে সারা দিনের ক্লান্তি কাটবে। অন্য দিকে গোলাপ জলকে টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন মুখে। আবার যাঁদের ঠোঁট কালো হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে, তাঁরা গোলাপের পাপড়ি বেটে, মধু সহযোগে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখতে পারেন। এতে ঠোঁটের রং হালকা হয়ে আসবে।

অ্যালো ভেরার আলোয়
বহু বছর ধরে ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে অ্যালো জেল ব্যবহার করা হয়ে আসছে। অ্যালো ভেরার জেলে ভিটামিন এ, সি এবং ই থাকে। ফলে ত্বককে ময়শ্চারাইজ় করে ত্বকের বলিরেখা দূর করতে এর বিকল্প কমই। এ ছাড়া ত্বকের পোড়া-কাটা দাগ মেলাতেও অ্যালো ভেরা খুব কাজে লাগে। অ্যালো ভেরা টবে পুঁতলে বেশ তাড়াতাড়ি বাড়ে। তবে তার জন্য প্রয়োজন একটু উষ্ণ আবহাওয়া। বাড়ির যে দিকে রোজ রোদ আসে, সে দিকেই অ্যালো ভেরা গাছ রাখতে পারেন। এতে গাছ বাড়েও তাড়াতাড়ি, পাতা বেশ পুরুষ্টও হয়। ফলে জেলের পরিমাণও বাড়ে।

যৌবন ধরে রাখতে জবা
ত্বকের ইলাস্টিসিটি ধরে রাখতে জবার জবাব নেই। যার জন্য এই গাছ বোটক্স গাছ নামেও পরিচিত। অন্য দিকে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর থাকায় জবা ফুল দূষণের মোকাবিলা করতেও ত্বককে সাহস জোগায়। ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বা রাস্তাঘাটে ধুলো-ধোঁয়ায় ত্বক খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। জবা ফুল চুলের জন্যও খুব ভাল। নারকেল তেলের সঙ্গে জবা ফুল ফুটিয়ে রোজ সেই তেল চুলে ও স্ক্যাল্পে লাগালে চুল ঘন হয়। জবা গাছের যত্ন নেওয়াও খুব কঠিন নয়।

ল্যাভেন্ডারে লালিত্য
এই গাছ করাও খুব কঠিন নয়। তবে রোদ ও জল জরুরি। ল্যাভেন্ডার গাছে ফুল আসতেও সময় লাগে। তবে ফুল এলে ভরে যায়। ল্যাভেন্ডারের পাপড়িগুলো একটা বাটিতে নিন। তার পরে একটি পাত্রে গরম জল ঢেলে এই পাপড়িগুলো তার মধ্যে ভিজিয়ে রাখুন। ঘণ্টাখানেক পরে পাপড়ি ছেঁকে জলটা নিয়ে তার মধ্যে ওটমিল পাউডার মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই ফেসপ্যাক মুখে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন। এতে ত্বকের রং অনেক পরিষ্কার হবে। একইসঙ্গে ত্বক সতেজ থাকবে।

সৌন্দর্যে সূর্যমুখী
এই ফুলকে ন্যাচারাল সানস্ক্রিন বলা যেতে পারে। সূর্যমুখী ফুলে ভিটামিন ই থাকে প্রচুর পরিমাণে, যা ত্বকের দাগছোপ, বলিরেখা দূর করে। চুলের ডগা ফাটার মতো সমস্যারও মোকাবিলা করে। রূপচর্চায় উপকারী ভিটামিনের মধ্যে ই ভিটামিনের গুরুত্ব অপরিসীম। আর এই ভিটামিন বেশি থাকায় সূর্যমুখী ফুলও ব্যবহার করতে পারেন রূপচর্চায়। সূর্যমুখী বীজের তেলও রূপচর্চায় বহুল ব্যবহৃত। তবে এই ফুলের বাগান করতে অনেকটা জায়গার প্রয়োজন।

জুঁইয়ের জাদুতে
এর জন্য অবশ্য খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন নেই। ছোট টবেই জুঁইগাছ বাড়তে পারে। খুব বেশি যত্নেরও প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু সৌন্দর্যচর্চায় জুঁইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। জুঁই ফুলের নির্যাস, মধুর সঙ্গে মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন। ত্বকের ময়শ্চার বজায় থাকবে। এ ছাড়া চুলের কন্ডিশনার হিসেবে, স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতেও জুঁইয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এর জন্য নারকেল বা আমন্ড তেলে জুঁই ফুল দিয়ে রাখুন। তেল মাখার আগে একটু গরম করে নিতে হবে। শ্যাম্পু করার ঘণ্টাখানেক আগে চুলে ও স্ক্যাল্পে এই তেল মাখুন। এতে স্ক্যাল্পে কোনও ব্যাকটিরিয়া বাসা বাঁধবে না। একই সঙ্গে স্ক্যাল্পে খুসকিও হবে না। চুলের কন্ডিশনিংও হবে।

গাছগুলো কিন্তু দুষ্প্রাপ্যও নয়। সহজেই নার্সারিতে পেয়ে যাবেন। আর বাড়িতেই যদি রূপচর্চার বাগান করে নেওয়া যায়, তা হলে প্রসাধনী সম্পর্কেও নিশ্চিন্ত থাকা যাবে।

7
জুস, কোল্ড ড্রিঙ্ক, কোল্ড কফি, মিল্ক শেক বা ওই জাতীয় পানীয় আমরা অনেকেই স্ট্র দিয়ে খাই। বাড়িতে না হলেও রেস্তরাঁয় এ সব অর্ডার করলে পরিবেশনের সময় সঙ্গে স্ট্র দেবেই। কিন্তু স্ট্র দিয়ে জুস, কোল্ড ড্রিঙ্ক, কোল্ড কফি, মিল্ক শেক ইত্যাদি খাওয়া কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক...

১) স্ট্র দিয়ে জুস, কোল্ড ড্রিঙ্ক, মিল্ক শেক ইত্যাদি খাওয়ার সময় পেটে অতিরিক্ত হাওয়াও চলে যায়। এর ফলে গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকলে তা আরও বেড়ে যেতে পারে। দেখা দিতে পারে হজমের আরও নানা সমস্যা।

২) স্ট্র দিয়ে তরল কিছু পান করার সময় মুখের পেশীতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। নিয়মিত স্ট্র ব্যবহার করলে মুখে দ্রুত বলিরেখার সৃষ্টি হয়।

৩) পাত্রে চুমুক দিয়ে জল বা কোনও পানীয় খেলে দাঁত আর মুখের মধ্যে জমা ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে সাফ হয়ে যায়। স্ট্র ব্যবহার করলে তা হয় না। উল্টে দাঁতের বা মুখের একটা নির্দিষ্ট অংশে অতিরিক্ত চিনি জমে ক্ষতির আশঙ্কা বেড়ে যায়।

৪) প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা এখন প্রায় সকলেই অবগত। আর স্ট্র প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয়। তাই স্ট্র দিয়ে ঠান্ডা বা গরম পানীয় খাওয়ার সময় এর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা মিশে যেতে পারে ওই পানীয়র সঙ্গে। ক্ষতিকর প্লাস্টিকের কণা শরীরে ঢুকে রক্তের সঙ্গে মিশে গেলে নানা মারণ রোগের সৃষ্টি করতে পারে।

8
লিচু খেতে কে না ভালবাসেন! রসালো এই ফলটির স্বাদ যেমন, তেমনই এর কয়েকটি আশ্চর্য গুণ রূপচর্চার ক্ষেত্রেও অপরিহার্য। রোগ প্রতিরোধে আর রূপচর্চার ক্ষেত্রে লিচুর আশ্চর্য কয়েকটি ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক...

১) লিচুতে রয়েছে ফাইটোকেমিক্যালস যা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। এই ফাইটোকেমিক্যালস চোখে ছানি পড়া আটকাতে সাহায্য করে।

২) লিচুতে রয়েছে অলিগোনল নামের একটি উপাদান যা শরীরে ভাইরাসকে বাড়তে দেয় না। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৩) লিচুতে ফ্যাট আর ক্যালোরির পরিমাণ থাকে নামমাত্র। তাই ওজন বাড়ার ভয় নেই।

৪) ত্বকের কালচে দাগ-ছোপ দূর করতে লিচুর রস অত্যন্ত কার্যকরী! ৫-৬টা লিচু চটকে তা মুখে মেখে মিনিট পনেরো রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ২ দিন এমন করতে পারলে মুখের ত্বকের কালচে দাগ-ছোপ সহজেই দূর হয়ে যাবে।

৫) রোদে পোড়া ত্বকের ট্যান দূর করতে লিচুর রস অত্যন্ত কার্যকরী! ৪-৫টা লিচু চটকে তার সঙ্গে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল মিশিয়ে সেটি মুখে ও হাতে পায়ের ট্যান পড়া ত্বকে ভাল করে মেখে নিন। ৩০ মিনিট রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ দিন এমন করতে পারলে ফারাক চোখে পড়বে সকলেরই।

৬) ত্বকের বলিরেখা দূর করতে লিচুর রসের জুড়ি মেলা ভার! লিচুর রস মুখে মেখে মিনিট দশেক রেখে ধুয়ে ফেলুন। ফল পাবেন হাতে নাতে।

9
ডিম প্রায় প্রতি দিন সব বাড়িতেই কম-বেশি আনা হয়। সুষম, পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় সবচেয়ে সহজলভ্য হল ডিম। বাড়িতে ছোট বাচ্চা থাকলে ডিমের প্রয়োজন আরও বেড়ে যায়। কিন্তু জানেন কি ওজন কমাতেও ডিম অত্যন্ত কার্যকরী! তিন রকম পদ্ধতিতে ডিম খেতে পারলে ওজন দ্রুত কমবে। আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক...

পদ্ধতি ১: ডিম আর নারকেল তেল

নারকেল তেল আমাদের বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। তাই তেল বা মাখনের পরিবর্তে নারকেল তেল দিয়ে ডিমের ওমলেট তৈরি করে খেয়ে দেখুন। উপকার পাবেন।

পদ্ধতি ২: ডিম আর ওটমিল

ডিম আর ওটমিল একসঙ্গে খেয়ে দেখুন। এই দুই উপাদানের মিশেলে ঝটপট ওজন কমবে। খাবার ধীরে ধীরে হজম করায় ওটমিল। ওটমিল পাচক রস ক্ষরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং একই সঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণে বাধা দেয়। ডিম আর ওটমিল একসঙ্গে খেতে পারলে আমাদের বিপাক প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে।

পদ্ধতি ৩: ডিম আর পালং শাক

ডিমের সঙ্গে খান পালং শাক। পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। পালং শাক খেলে দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভরা থাকে বা খিদে বোধ হয় না। তাই ডিমের সঙ্গে খান পালং শাক অবশ্যই একসঙ্গে পাতে রাখুন।

10
তাপমাত্রার পারদ এখনও উর্দ্ধমুখী। মাঝে দু-এক পশলা বৃষ্টি আর কালবৈশাখীর দৌলতে ঘণ্টা খানেকের জন্য স্বস্তি মিললেও প্যাচপেচে গরমের ঠেলায় সকলেই নাজেহাল। এই গরমে সবচেয়ে আগে আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ত্বকের। ত্বকের নানা সমস্যা এই সময় মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। কালচে ছোপ, ট্যান ইত্যাদি আরও নানা সমস্যা একের পর এক বাড়তে থাকে।

গরমে বাড়তে থাকা ত্বকের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে মোক্ষম দাওয়াই হল ‌ভিটামিন-সি। এই গরমের হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতে তাই অনেকেই ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ সিরাম ব্যবহার করেন। বাজারে ২০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা— বিভিন্ন দামে এই সিরাম কিনতে পাওয়া যায়। তবে বাড়িতেও এই সিরাম বানিয়ে নিতে পারেন একেবারে সামান্য খরচে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী ভাবে বাড়িতে বানাবেন ভিটামিন-সি সিরাম...

ভিটামিন-সি সিরাম বানানোর পদ্ধতি:

২ চামচ গোলাপ জলের সঙ্গে আধা চামচ ভিটামিন-সি পাউডার মিশিয়ে নিন।

এ বার এর সঙ্গেই মিশিয়ে নিন ২ চামচ ভেজিটেবল গ্লিসারিন। এ বার এই মিশ্রণ ঘণ্টা খানেক ফ্রিজে রেখে দিন।

ঘণ্টা খানেক পর মিশ্রণটি ফ্রিজ থেকে বের করে এর সঙ্গে ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। ব্যস, ত্বকের যত্ন নিন বাড়িতে তৈরি ভিটামিন-সি সিরামে। তবে হ্যাঁ, যাঁদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল তাঁরা ভিটামিন-সি পাউডার কিছুটা কম পরিমাণে ব্যবহার করবেন।

11
আমাদের দেশে প্রাচীন কাল থেকেই পুজো-পাঠে আর খাবারের সুগন্ধ বাড়াতে কর্পূরের (ভোজ্য) ব্যবহার করা হয়। চোখ বন্ধ করেও শুধু মাত্র গন্ধেই কর্পূর চেনা যায়। তবে শুধু পুজো-পাঠ বা খাবারের সুগন্ধ বাড়াতেই নয়, বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রেও প্রাচীন আয়ুর্বেদিক চিকিত্সায় যুগ যুগ ধরে কর্পূর ব্যবহার করা হয়। আজ জেনে নেওয়া যাক কর্পূরের কয়েকটি অজানা, আশ্চর্য ব্যবহার...

১) কর্পূরের ট্যাবলেট ঘরের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে দিন। কর্পূরের গন্ধে মশা ঘর ছেড়ে পালাবে।

২) ঘরের দুর্গন্ধ কাটাতে কর্পূরের ট্যাবলেট ঘরের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে দিন। দেখবেন এটি রুম ফ্রেশনারের কাজ করবে।

৩) সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে বা বুকে কফ জমে গেলে কর্পূরের সাহায্য নিতে পারেন। কর্পূরের গন্ধে বন্ধ নাক ছেড়ে যাবে। সরষের তেল বা নারিকেল তেলের সঙ্গে আন্দাজ মতো কর্পূর মিশিয়ে সামান্য গরম করে নিন। উষ্ণ অবস্থাতেই এই তেলের মিশ্রণটি বুকে, পিঠে ভাল করে মালিশ করতে পারলে দ্রুত আরাম পাওয়া যাবে।

৪) অতিরিক্ত চুল ঝরা রোধ করতে আর খুশকির সমস্যা দূর করতে কর্পূর একেবারে অব্যর্থ একটি উপাদান। নিয়মিত মাথায় মাখার তেলের সঙ্গে কর্পূরের গুঁড়ো মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে পারলে চুল ঝরার পরিমাণ অনেকটাই কমে যাবে। চুলে শ্যাম্পু করার আগে এই তেলের মিশ্রণ মাথার তালুতে আর চুলের গোড়ায় মাখতে পারলে খুশকির সমস্যাও দ্রুত কমবে।

৫) ব্রণ ও ব্রণর দাগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে কর্পূর অত্যন্ত কার্যকরী! কয়েক ফোঁটা কর্পূর এসেনশিয়াল অয়েল বা কর্পূরের গুঁড়ো এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, নারকেল তেল বা আমন্ড তেলের সঙ্গে মিশিয়ে কয়েক দিন কেখে দিন। এ বার ওই তেল ব্রণ আক্রান্ত ত্বকে ভাল করে মালিশ করতে পারলে ব্রণর সমস্যা দ্রুত কমবে, সেই সঙ্গে ব্রণর দাগও ফিকে হয়ে যাবে।

৬) ত্বকের চুলকানি বা র‍্যাশের সমস্যায় কর্পূর অত্যন্ত কার্যকরী। এক টুকরো ভোজ্য কর্পূর সামান্য জলের সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকের আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে, কিছু ক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের চুলকানি বা র‍্যাশের সমস্যা দ্রুত কমে যাবে। তবে খেয়াল রাখবেন, কখনওই কাটা বা ক্ষত স্থানে কর্পূর ব্যবহার করবেন না। কারণ কর্পূর রক্তের সঙ্গে মিশে গেলে শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন: যখন তখন হেঁচকি? বন্ধ করুন এই ১০টি অব্যর্থ উপায়ে

৭) ছারপোকা তাড়াতে কর্পূর অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। ছারপোকার সমস্যা থেকে মুক্ত পেতে প্রথমে বিছানার চাদর ধুয়ে, তোষক, ম্যাট্রেস সব দীর্ঘ ক্ষণ রোদে দিন। এর পর একটি বড় কর্পূরের টুকরো কাপড়ে মুড়ে বিছানা ও ম্যাট্রেসের মাঝে রেখে দিন। কর্পূরের গন্ধে ছারপোকারা বিছানার ধারেকাছেও ঘেঁষবে না।

৮) বাড়িতে পিঁপড়ের উপদ্রব বেড়েছে? তাহলে এই সমস্যা থেকে দ্রুত রেহাই পেতে বাজার চলতি ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে জলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে ঘরের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে দিন। কর্পূরের ঘন্ধে পিঁপড়ে ঘর ছেড়ে পালাবে।

12
ওজন কমিয়ে শরীরকে সুন্দর আকৃতি দেওয়ার জন্য আমরা কত কিছুই না করি! খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া, খাদ্য তালিকা থেকে একাধিক খাবার বাদ দেওয়া— আরও কত কী! এ ছাড়াও দ্রুত ওজন কমানোর একাধিক ঘরোয়া টোটকা (পাতি লেবুর রস, জিরা, রসুন ইত্যাদি) আমরা অনেকেই কাজে লাগাই। জানেন কি, মেথি বীজের সাহায্যে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব? ভেষজ মশলা হিসেবে মেথি বীজ আমাদের সবার কাছেই বেশ পরিচিত। চলুন, জেনে নেওয়া যাক মেথি বীজ ব্যবহার করে দ্রুত ওজন কমানোর ৫টি দুর্দান্ত কৌশল।

১) ভাজা মেথি: কিছুটা মেথি একটি পাত্রে নিয়ে সামান্য আঁচে তেল ছাড়াই ভেজে নিয়ে সেটিকে গুঁড়ো করে নিন। এর পর সামান্য উষ্ণ জলের সঙ্গে ওই মেথির গুঁড়ো মিশিয়ে সকালে খালি পেটে নিয়মিত খেতে পারলে ওজন দ্রুত কমবে। ফল পাবেন হাতেনাতে। এটি চটজলদি ওজন কমানোর চমৎকার একটি উপায়।

২) অঙ্কুরিত মেথিবীজ: অঙ্কুরিত মেথি বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিনয়েড, ভিটামিন এ, বি, সি এবং ই। এর সঙ্গেই এর মধ্যে থাকা পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যামাইনো অ্যাসিড, জিংক, হজম সহায়ক বিভিন্ন খনিজ পদার্থ এবং আরও অনেক কিছু রয়েছে।

একটি পাতলা কাপড় জলে ভিজিয়ে নিন। এ বার একটি বাটিতে মেথি বীজ নিয়ে সেটি ওই পাতলা ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে অন্তত ৩ রাত এই ভাবে রেখে দিন। ৩ দিন পর মেথি বীজগুলি অঙ্কুরিত হলে সেগুলি খেতে পারলে ওজন কমবে দ্রুত। চটজলদি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

৩) মেথি চা: মেথি বীজের চা ওজন কমাতে এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া হজম ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের রাখার ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত কার্যকর! সামান্য জল দিয়ে কিছু মেথি বীজ বেটে নিন। একটি পাত্রে খানিকটা জল ফুটিয়ে নিয়ে তার সঙ্গে ওই মেথি পেস্ট মিশিয়ে দিন। চাইলে এর সঙ্গে কিছু ভেষজ মশলাও দেওয়া যেতে পারে। যেমন, আদা বা দারচিনি। তার পর পাত্র ঢাকনা দিয়ে ঢেকে একসঙ্গে সবকটি মশলা অন্তত ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। প্রতিদিন খালি পেটে এই চা খেতে পারলে ফল পাবেন হাতেনাতে।

৪) মেথি ভেজানো জল: মেথি ভেজানো জল খেতে পারলে তা দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। কারণ, এটি খেলে তা খাবারের পরিতৃপ্তি এনে দেয়। যার ফলে খিদে বোধ কম অনুভূত হয় এবং খাওয়ার ইচ্ছেটা কমে যায়। এর ফলে দ্রুত ওজন কমতে থাকে।

এ ছাড়াও, ১ কাপ মেথি জলে সারারাত ভিজিয়ে রাখে সেটি পরদিন জল ছেঁকে নিয়ে খালি পেটে চিবিয়ে খেতে হবে। এই ভাবে নিয়মিত খেতে পারলে ফল পাবেন হাতেনাতে। চটজলদি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

৫) মেথি ও মধু চা: শরীরের আকর্ষণীয় আকৃতি পেতে ও দ্রুত ওজন কমাতে মধুর সঙ্গে মেথি বীজ মিশিয়ে বানানো চা চমৎকার কর্যকরী। প্রথমে মেথিবীজ গুঁড়ো করে নিতে হবে। সেই মেথি গুঁড়ো জলে দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে এবং এ ভাবে অন্তত ৩ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। তারপর সেই জলটা ছেকে নিয়ে তাতে লেবুর রস ও মধু যোগ করতে হবে। ভাল ফলাফল পেতে এই মিশ্রণটি প্রতিদিন সকালে খেতে হবে। এতে আপনার শরীরের ওজন দ্রুত কমবে।

এই পাঁচটি উপায়ে মেথি বীজ ব্যবহার চটজলদি ওজন কমানো সম্ভব। তাহলে আর দেরি না করে আজ থেকেই শুরু করে দিন।

13
যত দিন যাচ্ছে, তত বাড়ছে গরম। তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঘাম আর অস্বস্তি। ফের ভিড় বাসে-ট্রেনে যাতায়াতের সময় ঘামের দুর্গন্ধে অস্থির হয়ে ওঠার সময় এসে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঘামের দুর্গন্ধ সামাল দিতে ভরসা সুগন্ধি বডিস্প্রে। তবে গরম পড়লেই যে শুধু বডিস্প্রের প্রয়োজন পড়ে, তা কিন্তু নয়! এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ। কিন্তু সব বডিস্প্রের সুগন্ধ দীর্ঘ ক্ষণ স্থায়ি হয় না। যাঁদের অত্যাধিক ঘাম হয়, তাঁদের শরীরে কোনও বডিস্প্রের সুগন্ধই দীর্ঘস্থায়ি হয় না। তবে বডিস্প্রের সুগন্ধ দীর্ঘস্থায়ী করতে এই ৫টি কৌশল কাজে লাগিয়ে দেখুন, আর তফাৎ নিজেই বুঝে নিন...

১) বডিস্প্রের গন্ধ দীর্ঘস্থায়ি করতে শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণত, বগলে বডিস্প্রে ব্যবহারের পর ঘামের গন্ধে তা অল্প সময়ের মধ্যেই ফিকে হয়ে যায়। এ জন্য শরীরের যে অংশগুলি ঘামে না বা অপেক্ষাকৃত কম ঘামে যেমন, কানের পেছনে, গলায় ইত্যাদি জায়গায় বডিস্প্রে ব্যবহার করলে তার গন্ধ দীর্ঘ ক্ষণ স্থায়ী হবে।

২) বডিস্প্রের সুগন্ধি শরীরে স্প্রে করার সঙ্গে সঙ্গেই গায়ে জামা পরে ফেলবেন না। বডিস্প্রের সুগন্ধি সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়া পর্যন্ত কিছু ক্ষণ অপেক্ষা করুন, তারপর জামা পরুন। এর ফলে ডিওড্রেন্টের গন্ধ দীর্ঘ ক্ষণ স্থায়ী হবে।

৩) অনেকেই বডিস্প্রে বা ডিওড্রেন্ট কাপড়ে ব্যবহার করেন এবং স্প্রে করার পরে জায়গাটি ভাল করে ঘষে নেন। এই কাজটি একেবারেই করবেন না। এতে সুগন্ধি আরও তাড়াতাড়ি ফিকে হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: জেনে নিন আন্ডারআর্মের কালচে দাগ তোলার অব্যর্থ কৌশল

৪) আপনি যে ব্র্যান্ডের বডিস্প্রে ব্যবহার করছেন, ওই একই ব্র্যান্ডের এবং একই সুগন্ধযুক্ত অন্য প্রসাধনীও ব্যবহার করুন। এতে বডিস্প্রে বা ডিওড্রেন্টের গন্ধ দিনের শেষে ফিকে হয়ে গেলেও অন্য প্রসাধনের সুগন্ধি আপনাকে সতেজ রাখবে।

৫) আপনার বডিস্প্রেটি যদি একেবারেই অল্প সময় স্থায়ী হয়, তাহলে সেটিকে সব সময় অপনার সঙ্গেই রাখুন এবং কিছু ক্ষণ পর পর ব্যবহার করুন।

14
মানসিক চাপ এমন একটা সমস্যা, যা থেকে চটজলদি রেহাই পাওয়া মুশকিল! বিভিন্ন কারণে আমরা অনেকেই দিনের বেশির ভাগ সময় মানসিক চাপের মধ্যে কাটাই যার প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরের উপরেও। উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, হজমের সমস্যা এমনকি স্নায়ুর সমস্যা পর্যন্ত দেখা দিতে পারে উদ্বেগ আর মানসিক চাপ থেকে। তাই সবচেয়ে আগে আমাদের উদ্বেগ বা মানসিক চাপ দূর করা উচিৎ। উদ্বেগ বা মানসিক চাপ কি চাইলেই দূর করা যায়? নিশ্চয়ই যায়। এমন বেশ কিছু খাবার আছে, যা খেলে উদ্বেগ, মানসিক চাপ নিমেষেই কেটে যেতে পারে। আসুন সেগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক...

১) কাঠবাদামে রয়েছে ভিটামিন বি আর ভিটামিন ই, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করতে অত্যন্ত কার্যকর। যখন আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে, তখন আমরা মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার মতো সমস্যায় কম ভুগি। তাই প্রতিদিন অন্তত ৫-৬টা কাঠবাদাম পাতে রাখুন। উপকার পাবেন।

২) যদিও অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, তবে মানসিক চাপ কাটাতে সামান্য চিনি খেয়ে দেখতে পারেন। এতে আমাদের মস্তিষ্কের উদ্দীপ্ত পেশিগুলি শিথিল হওয়া শুরু করে এবং মানসিক চাপ ধীরে ধীরে কমে যায়। তবে ডায়বেটিসের আক্রান্ত যাঁরা, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি একেবারেই উচিৎ নয়।

৩) চিনির বিকল্প হিবে অনেকেই আজকাল মধু ব্যবহার করেন। মানসিক চাপ বা উদ্বেগ কমাতেও মধু খুবই উপকারী।

৪) মিষ্টি আলু খেলে আমাদের মানসিক চাপ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। তাই মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার মতো সমস্যায় মিষ্টি আলু সেদ্ধ করে খেতে পারেন। উপকার পাবেন।

৫) ডার্ক চকলেট মানুষের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি খাবার। চকলেট খেলে ‘এন্ডোরফিন’ নামের এক রকম হরমোনের নিঃসরণ ঘটে যা আমাদের মানসিক চাপ বা উদ্বেগ দ্রুত কাটাতে সাহায্য করে। তবে, সাধারণ মিল্ক চকলেট নয়, ডার্ক চকলেট খাওয়াই স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী।

৬) সবুজ সবজি যেমন, শসা, ব্রকলি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড আর ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এই উপাদানগুলি আমাদের মস্তিস্কে তৃপ্তির অনুভূতি সৃষ্টি করে। প্রতিদিন পাতে রাখুন সবুজ শাক-সবজি। দেখবেন মানসিক চাপের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

15
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চুল পাকবেই কিন্তু তা বলে অল্প বয়সেই চুল পেকে গেলে তা অনেকেরই অস্বস্তির কারণ হয়। বার্ধক্য এবং জিনগত কারণ ছাড়াও অতিরিক্ত স্ট্রেস এবং শরীরে পুষ্টির অভাব থেকেও চুল পেকে যেতে পারে তাড়াতাড়ি। নিয়মিত স্ট্রেস-রিলিফ এক্সারসাইজ করলে এবং প্রয়োজনমতো ভিটামিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড-সমৃদ্ধ খাবার খেলে অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়ার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
জেনে নিন তেমনই ৯টি খাবারের কথা। এগুলি পাকা চুল রোধের পাশাপাশি স্ক্যাল্প ভাল রাখে এবং নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।
আখরোট : আখরোটে থাকে প্রচুর পরিমাণ কপার বা তামা। এই তামাই চুলে মেলানিন উৎপন্ন করে, যা থেকে চুল থাকে কালো।
শেলফিশ : যে কোনো সামুদ্রিক মাছ যেমন, অয়স্টার, চিংড়ি বা কাঁকড়ায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। ওমেগা-৩ চুলে পাক ধরা আটকায়।
লিভার : প্রাণীজ লিভার ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ হয়। এই ভিটামিনটি যেমন রক্তস্বল্পতা দূর করে তেমনই চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধ করে।
ব্রকোলি : চুলে পাক ধরা আটকাতে শরীরে প্রয়োজন পরিমিত পরিমাণ ফোলিক অ্যাসিড। যা প্রচুর অনুপাতে পাওয়া যায় ব্রকোলিতে।
সূর্যমুখী বীজ : সূর্যমুখী বীজের তেলে ভিটামিন ই, আয়রন, জিঙ্ক এবং ভিটামিন বি৬ রয়েছে। রান্নায় তাই সানফ্লাওয়ার অয়েল ব্যবহার করা ভাল। এছাড়া এই তেল দিয়ে বাদামের পেস্ট তৈরি করে স্ক্যাল্পে লাগালেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।
ডাল : ডালেও রয়েছে প্রচুর ভিটামিন বি১২ এবং বি৯। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একবাটি ডাল রাখা খুবই জরুরি।
কাবলি ছোলা : কাবলি ছোলা ভিটামিন বি সমৃদ্ধ একটি খাবার। রোজ না হলেও সপ্তাহে দু'তিনদিন খেলেও উপকার হবে।

Pages: [1] 2 3 4