Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - mdashraful.eee

Pages: [1] 2 3 ... 5
1
English / Re: The Oxford Word of the Year 2018 is…
« on: March 28, 2019, 01:36:42 PM »
good to know

3
Software Engineering / Re: Architecture and types of DSS
« on: March 28, 2019, 01:33:24 PM »
good to know

4
Law / Re: Qualitative vs. Quantitative Research
« on: March 28, 2019, 01:32:35 PM »
good to know

5
EEE / Re: A world of wireless power
« on: March 28, 2019, 01:23:10 PM »
good to know

6
EEE / Re: A thrust to Neuron
« on: March 28, 2019, 01:13:36 PM »
hmm.

7
EEE / শ্রেষ্ঠ বিয়ে?!
« on: March 25, 2019, 12:06:32 PM »
বার্সেলোনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বিয়ের ঘটনাটি এ দেশের পত্র-পত্রিকাতেও বেশ ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। মিডিয়ার এক উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে ছিল এ সংক্রান্ত খবরাখবর। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কোথায় সম্পন্ন হচ্ছে, অতিথি হয়ে কারা আসছেন, কারা আসছেন না, নাচ-গান কে করবেন, কে করবেন না, খাবারের মেনু কী হচ্ছে, বর-কনে কী পোষাক পরবেন, সেই পোষাক কোন ফ্যাশন ডিজাইনারের প্রস্তুতকৃত ইত্যাদি নানা খুঁটিনাটিতে এদেশের মিডিয়াও ছিল বেশ সরগরম। আর মিডিয়ার সরগরম হওয়ার অর্থ হচ্ছে দেশের এক বিপুলসংখ্যক জনতার ব্যস্ত হওয়া এবং তাদের বিপুল সময় এসবের পেছনে ব্যয় হওয়া। এ জাতীয় ব্যক্তিগত বিষয়কে ইস্যু বানিয়ে জনসমক্ষে প্রচারে ব্যক্তি ও সমাজের কী কল্যাণ রয়েছে তা আমাদের মতো বেরসিকদের সত্যিই বোধগম্য নয়। এই প্রশ্ন তোলাটাও হয়তো অনেকের কাছে অদ্ভুত বলে বোধ হতে পারে। কিন্তু আসলেই কি তাই? সত্যিই কি বিষয়টি প্রশ্ন করার মতো নয়? আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই সমাজে এখনও এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা এই প্রশ্নের সাথে একমত, কিংবা অন্তত এই প্রশ্নটিকে একটি যৌক্তিক প্রশ্ন বলেই মনে করেন। সমাজের সকল মানুষ তো আর গড্ডলিকা প্রবাহে ভেসে যায় না। সব যুগেই সব সমাজেই থাকে প্রশ্ন করার মত কিছু হৃদয় ও মস্তিষ্ক। অন্যরা হুজুগে মাতলেও এরা অন্তত হুজুগে মাততে প্রস্তুত হন না। যাই হোক লিওনেল মেসির সূত্রে আর্জেন্টিনার আর সেই সূত্রে বিশ্বকাপ ফুটবলের কথা মনে পড়ে গেল। একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ছাড়া আর কোনো দেশের সমর্থক প্রায় পাওয়াই যেত না। বিশ্বকাপ শুরু হলে গোটা দেশ ছেয়ে যেত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকায়। এখন অবশ্য আরো অনেক দেশের পতাকা উড়তে দেখা যায়। মিডিয়ার প্রচারণা আর জনগণের মাতামাতিতে এখন আরো ভয়াবহ অবস্থার তৈরি হয়। মিডিয়া অনেকখানি কোমল করে এর নাম দিয়ে থাকে ‘বিশ্বকাপজ্বর’। এখন ঢাকায় চিকুনগুনিয়া জ্বরের যে প্রকোপ বিশ্বকাপ-মওসুমে গোটা দেশে বিশ্বকাপ-জ্বরের প্রকোপও তার চেয়ে কোনো অংশে কম হয় না। কিন্তু কৌতুকের বিষয় হচ্ছে, ঐ সময় খোদ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলেও সম্ভবত এই পরিমাণ মাতামাতি হয় না। মনে পড়ছে গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রধানমন্ত্রী বলে ফেললেন, ‘আর্জেন্টিনার সবগুলো ম্যাচ টিভিতে দেখার সুযোগ পাননি।’ অর্থাৎ মাঠে বসে দেখার জন্য সফরের তো প্রশ্নই আসে না, ঘরের টিভিতেও তিনি সবগুলো ম্যাচ দেখতে পারেননি। তাঁর এ কথায় ফুটবল-ফ্যানেরা অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। কেউ কেউ তাকে নিষ্ঠুর বলেও অভিহিত করেছেন। কিন্তু সেটা আসলে স্বাভাবিক ব্যাপারই ছিল। অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি সবকিছু ছেড়ে খেলা নিয়ে মত্ত হয়ে পড়বেন তা ভাবাই যায় না। আরো আগে যখন এই দেশে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর্ব চলছে ঐ সময় এক জাতীয় দৈনিকে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়েছিল যে, কোনো এক বাংলাদেশী সাংবাদিক তাঁর সামনে বাংলাদেশের কথা ওঠালে ম্যারাডোনা প্রশ্ন করেছিলেন, ‘বাংলাদেশ কোন দেশের নাম?’ পরে অবশ্য বিত্তবান ভক্তদের কল্যাণে ম্যারাডোনাও এই দেশে এসেছেন, মেসিও প্রীতিম্যাচ খেলে গেছেন। কিন্তু একটু চিন্তা করুন, এই দেশে যখন একশ্রেণীর তরুণ-তরুণী মেসি-ম্যারাডোনার নামে পাগল ঐ সময় ঐ নায়কদের এটুকুও জানা নেই যে, পৃথিবীতে ‘বাংলাদেশ’ নামের একটি দেশ আছে! কিছুটা রূঢ় শোনালেও বাস্তবতা তো এমনটাই দাঁড়াচ্ছে যে, যে দেবতার চরণে এই বিপুল ভক্তির অর্ঘ্য, সেই দেবতাই ভক্তকুলের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরাসক্ত। কবির ভাষায়- كل يدعي حبا بليلى + وليلى لا تقر لهم بذاك অর্থ : প্রত্যেকেই দাবিদার লাইলা- প্রেমের/কিন্তু লাইলা তো সে দাবি স্বীকার করে না। যাই হোক, যে কথাটি বলতে চেয়েও বারবার অন্য প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছি, তা হচ্ছে, আর্জেন্টাইন একজন ফুটবলার লিওনেল মেসির বিয়ে নিয়ে যে ব্যাপক আয়োজন-আলোচনা, এটা এবং এ জাতীয় বিষয়বস্তু ব্যক্তি ও সমাজ এবং দেশ ও জাতির প্রয়োজন ও বাস্তব কল্যাণ বিবেচনায় কতটা যথার্থ? প্রয়োজন ও কল্যাণ তো দূরে এই সকল প্রচার-প্রচারণায় নতুন প্রজন্মের চিন্তা ও বিশ্বাসগত এবং আদর্শ ও জীবনাচারগত অবক্ষয়ের যে উপাদানগুলো রয়েছে তা বিস্মৃত হওয়াও কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? ঐ আপাত চাকচিক্যময় ভোগবাদী জীবনধারার সাথে তো আমাদের পবিত্র ও নির্মল জীবনধারার কোনোই সম্পর্ক নেই। পশ্চিমা জীবনধারার ভেতরের যে শূন্যতা ও অন্ধকার, তা যদি সঠিকভাবে উপলব্ধি করা না যায় তাহলে এর বাহ্যিক ঝলকানিতে প্রতারিত হয়ে বিপথগামী হওয়ার এবং সর্বস্ব হারিয়ে রিক্ত-নিঃস্বে পরিণত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকছে। শুধু সম্ভাবনাই নয় মুসলিম দেশগুলোতে পশ্চিমা ক্ষতিকর জীবনধারা বিস্তারের কুফল ইতিমধ্যে সমাজ ভুগতে আরম্ভ করেছে। কাজেই ঐ জীবনধারার দীনতা সম্পর্কে মুসলিম নর-নারীর, বিশেষত তরুণ-প্রজন্মের সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আলোচ্য বিষয়টিতে দেখুন, লিওনেল মেসির বিয়ে নিয়ে এই যে প্রচার-প্রচারণা, কোনো কোনো গণমাধ্যম যাকে অভিহিত করছে ‘শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিয়ে’ বলে সেই বিয়েটার প্রকৃতি আসলে কী? মেসি কাকে বিয়ে করেছেন? ঐ নারীটিকেই, যার সাথে ইতোমধ্যে তিনি নয় বছর বসবাস করেছেন। এদের দুটো পুত্র সন্তানও রয়েছে। একজনের বয়স চার আর অপরজনের এক। হায়রে শ্রেষ্ঠত্ব! যে বিয়েতে কোনো নতুন বর-কনের দেখা মিলল না, যে দম্পতির কোনো প্রথম বা দ্বিতীয় সন্তান হবে না, যে বিয়েতে কোনো দরিদ্র তো দূরে থাক সাধারণ ধনীরও জায়গা হয়নি সেই বিয়েকেই বলা হচ্ছে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিয়ে! প্রপাগান্ডা আর কাকে বলে! যাই হোক প্রশ্ন হচ্ছে, এত বছর একত্রে থাকার পর এখন বিয়ের প্রয়োজন কেন? পশ্চিমা জীবনধারায় আইনগতভাবে বিয়ের প্রয়োজন নেই। পরস্পর সম্মতির ভিত্তিতে নারী-পুরুষ একত্রে এক ছাদের নিচে বসবাস করতে পারে। সন্তানও নিতে পারে। সামাজিকভাবে ও আইনগতভাবে এতে তেমন কোনো বাধা নেই। বাধ্যবাধকতার কোনো ব্যাপার নেই। এরপরও বিয়ের প্রয়োজন কেন? দৈনিক যুগান্তরের রিপোর্টে বলা হয়েছে- ‘চার বছরের থিয়াগো এবং এক বছরের মাতেওকে নিয়ে মেতে আছেন তারা সুখের সংসারে। সেই সুখ পরিপূর্ণ করতে প্রায় নয় বছরের ঘরণি আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে বিয়ে করছেন মেসি।’ (দৈনিক যুগান্তর, ২৯ জুন ২০১৭) অর্থাৎ একসাথে বসবাস এবং সন্তান-সন্ততি সত্ত্বেও এই যুগলের সুখ পূর্ণতা পায়নি। সেই পূর্ণতার সন্ধানেই অবশেষে বিয়ে। এক সাক্ষাৎকারে তারা বলেছেন, নিজেদের সম্পর্ক স্থায়ী করার জন্যই তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। মনে পড়ছে কয়েক বছর আগের এমনি আরেকটি বিয়ের কথা। পশ্চিমের আরেক বয়স্ক ধনাঢ্য যুগলের বিয়ের খবর ঐ সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সে যুগল বিবাহ ছাড়াই বহু বছর একত্রে বসবাস করার পর এবং তাদের সন্তানেরা যৌবনে পদার্পণ করার পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, সন্তানগণের আবদার হল তাদের মা-বাবার মধ্যে যেন বিবাহিত জীবন তারা দেখতে পায়। অর্থাৎ অবিবাহিত মা-বাবার সন্তান পরিচয় দিতে তাদের সংকোচ হচ্ছিল। এই যে ‘সুখের পূর্ণতা’ কিংবা ‘স্থায়ী সম্পর্কের নিশ্চয়তা’ অথবা ‘বিবাহিত পিতা-মাতার সন্তান বলে পরিচিত হওয়ার আগ্রহ’ এগুলো আসলে কেন? এ কীসের অভাববোধ? আজ দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুসলিম সমাজের একটি অংশ যেসবের জন্য লালায়িত সেই অর্থ, যশ-খ্যাতি ও চাকচিক্য সবই তো ওদের আছে। এরপরও কীসের অভাব, কীসের শূন্যতা? এটা বুঝতে হলে পশ্চিমা সমাজের শুধু বাইরের দিকটা দেখলেই চলবে না। তাদের ভেতরেও একটু উঁকি দিতে হবে। এদের পরিবার, নারী-পুরুষের সম্পর্ক, সন্তান ও মা-বাবা, ওল্ডহোম- এই সবগুলো একটু ঘুরে আসতে হবে। এরপর এদের মনের ভেতরে উঁকি দিয়ে তাদের অতৃপ্তি ও অস্থিরতারও কিছু তত্ত্ব নিতে হবে। তাহলেই পুরো চিত্রটা আপনার সামনে উপস্থিত হবে। আপনি তখন উপলব্ধি করবেন, যে আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তিনি তাকে একটি ফিতরত ও স্বভাব দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। এই যে চাহিদা এটা মানুষের সেই সনাতন স্বভাবেরই চাহিদা। স্বভাবের সাথে মানুষ যতই বিদ্রোহ করুক, তাকে আবার স্বভাবের কাছেই ফিরে আসতে হবে। দ্বীনে ফিতরত-স্বভাব-ধর্ম ইসলামের মাধ্যমে জীবনের যে স্বাভাবিকতা আল্লাহ আমাদের দান করেছেন এর কারণে বাইরের শত অপূর্ণতা ছাপিয়ে মুসলিম পরিবারগুলোতে বিরাজ করে এক অপার্থিব পূর্ণতা। মুসলিমসমাজের অতি স্বাভাবিক এই বিষয়গুলো অর্থাৎ পারিবারিক বন্ধন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, মায়ের মমতা, বাবার বাৎসল্য, সন্তান-সন্ততির সেবা ও আনুগত্য এবং একে অপরের কাছে থাকার আকাক্সক্ষা, যা স্বাভাবিক হওয়ার কারণেই প্রায়শ আমাদের চেতনারও বাইরে, এগুলো যে পশ্চিমা সমাজেও অতি কাম্য ও আরাধ্য তা নানা সময় নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। অব্যাহত মিথ্যা প্রচারণা, ইসলামোবোফিয়ার বিস্তার এবং শত ষড়যন্ত্রের মধ্যেও পশ্চিমা দেশগুলোতে নওমুসলিমের সংখ্যা তো আর এমনি এমনিই বাড়ছে না। ইসলাম যে বিয়ের বিধান দান করেছে তা কেন? ইসলামে বিয়ের বন্ধন শুধু নারী-পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণের উপায় নয়। এটি একটি চুক্তি ও অঙ্গিকার, যার দ্বারা সাব্যস্ত হয় কিছু কর্তব্য, কিছু অধিকার, সাব্যস্ত হয় দুনিয়া ও আখেরাতে জবাবদিহিতা। আর এসব কারণে এটি পারস্পরিক আস্থা-ভালবাসা এবং পূর্ণতা ও নির্ভরতার এক উপায়। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে- وَ مِنْ اٰیٰتِهٖۤ اَنْ خَلَقَكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ اِذَاۤ اَنْتُمْ بَشَرٌ تَنْتَشِرُوْنَ وَ مِنْ اٰیٰتِهٖۤ اَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوْۤا اِلَیْهَا وَ جَعَلَ بَیْنَكُمْ مَّوَدَّةً وَّ رَحْمَةً اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّتَفَكَّرُوْنَ. তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদেরকে মৃত্তিকা হতে সৃষ্টি করেছেন। তারপর এখন তোমরা মানুষ, সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছ। আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের স্ত্রীদিগকে, যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও। আর তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে। -সূরা রূম (৩০) : ২০-২১ অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- يٰا اَیُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمُ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَةٍ وَّ خَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَ بَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِیْرًا وَّ نِسَآءً وَ اتَّقُوا اللهَ الَّذِیْ تَسَآءَلُوْنَ بِهٖ وَ الْاَرْحَامَ اِنَّ اللهَ كَانَ عَلَیْكُمْ رَقِیْبًا. হে মানব! তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদিগকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রী এবং তাদের দুজন থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু নর ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা কর আর সতর্ক থাক জ্ঞাতি-বন্ধন বিষয়ে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। -সূরা নিসা (৪) : ৪-১ বস্তুত আল্লাহর নামের মাঝেই রয়েছে মানুষের হৃদয়-মনের প্রশান্তি ও স্থিরতা। আর একমাত্র আল্লাহর ভয়ই হচ্ছে মানুষের সকল কর্ম ও আচরণের নিয়ন্ত্রক। কাজেই নারী-পুরুষের এবং সমাজের সকল শ্রেণির পারস্পরিক হক ও অধিকার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা এবং পরস্পরের জুলুম-অবিচার থেকে আত্মরক্ষার রক্ষাকবচ হচ্ছে আল্লাহর ভয়। যে বন্ধন আল্লাহর নামে হয় সেই বন্ধনেই মানুষের হৃদয়-মন প্রশান্তি লাভ করে। কুরআন মাজীদের ইরশাদ- أَلَا بِذِكْرِ اللهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ শোনো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়সমূহ প্রশান্ত হয়। -সূরা রা‘দ (১৩) : ২৮ আর আল্লাহর বিধান পালনের মাঝেই মানব জীবনের সুখ-শান্তি, কল্যাণ ও নিরাপত্তা। এই বোধ মানুষের স্বভাবের ভেতর গচ্ছিত রাখা আছে। কাজেই এটা মানুষের ফিতরত। আর মানুষকে তার ফিতরতের দিকেই ফিরে আসতে হবে। যারা পশ্চিমের ভোগবাদী জীবনের বাহ্যিক ঝলকানিটুকুই দেখেন তাদের কর্তব্য এই সকল দৃষ্টান্তের ভেতরের সত্যটিও উপলব্ধি করা। তখন ঐ জীবনধারার শূন্যতা ও হাহাকারটুকু আবিষ্কার করা সম্ভব হবে। আর তখনই ইসলাম আমাদের যা দান করেছে তার মর্ম ও মাহাত্ম্যও আমাদের সামনে ফুটে উঠবে। رفعتوں كى جستجو ميں ٹهوكريں تو كها چكے + آستان يار پر اب سر جهكا كر ديكهئے অর্থ : গৌরবের অন্বেষায় অনেকবারই তো হোঁচট খেয়েছ/এবার একবার দেখ বন্ধুর সমীপে শীর নত করে।

8
EEE / আমি কে? part 2
« on: March 25, 2019, 12:04:21 PM »
নূরগুলো খুব কোমল করে বললো, আমরা ফিরেশতা। তুমি ইনসান। যতদিন তুমি এখানে থাকবে, আল্লাহর হুকুমে আমরা তোমার দেখা-শোনা করবো এবং তোমাকে হেফাযত করবো। ‘আল্লাহ’ শব্দটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি খুশী হয়ে গেলাম। ‘কী যেন ছিলো, কী যেন নেই’ সেই অস্বস্তিটা একেবারে দূর হয়ে গেলো। মনে পড়ে গেলো রূহের জলসা। সেই জলসায় আল্লাহ সমস্ত রূহকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমি কি তোমাদের রব নই? সমস্ত রূহ বলেছিলো, আমিও বলেছিলাম, অবশ্যই আপনি আমাদের রব।

নূরের ফিরেশতাদের জিজ্ঞাসা করলাম, আমি এখানে কেন? এখানে এত অন্ধকার কেন? রূহের জগতে তো কোন অন্ধকার ছিলো না। শুধু নূর ছিলো, সবকিছু কত আলোকিত ছিলো!

ফিরেশতারা বললো, তুমি রূহের জগতে ছিলে। এখন তুমি তোমার শরীরে প্রবেশ করেছো। আল্লাহর হুকুমে এখানে তোমার শরীর তৈরী করা হয়েছে এবং তোমাকে তোমার শরীরে প্রবেশ করানো হয়েছে।

ফিরেশতাদের কথায় আমি খুব অবাক হলাম। নড়াচড়া করে আমার শরীরকে বোঝার চেষ্টা করলাম। ফিরেশতারা ব্যস্ত হয়ে আমার চারপাশে জড়ো হলো, আর আমাকে বললো, বেশী নড়াচড়া করো না, তাহলে তোমার মায়ের কষ্ট হবে। আমি আরো অবাক হলাম, মা! রূহের জগতে এ শব্দ তো কখনো শুনিনি! বড় মধুর তো শব্দটি! মা! কাকে বলে মা! কেমন তিনি দেখতে! কিছুই বুঝতে না পেরে আমি শুধু অবাক হই, আর ভাবি, মা! মা! কে আমার মা! কোথায় তিনি! কোথায় আমি! আমার মায়ের কাছে কীভাবে যাবো আমি!

ফিরেশতারা হেসে আমাকে বলে, তুমি তো এখন তোমার মায়ের গর্ভে, তোমার মায়ের উদরে। তাই তো এখানে এত অন্ধকার। তুমি এখন এখানে থাকবে। তারপর যখন সময় হবে তখন আল্লাহর হুকুমে তুমি মায়ের গর্ভ থেকে বের হয়ে দুনিয়াতে যাবে। তখন তোমার মাকে তুমি দেখতে পাবে। তোমার মা তোমাকে অনেক আদর করবেন। এখন যেমন অনেক কষ্ট করে তোমাকে গর্ভে ধারণ করছেন, তেমনি তখন অনেক কষ্ট করে তোমাকে লালন পালন করবেন।

9
EEE / আমি কে? part 1
« on: March 25, 2019, 12:03:37 PM »
অদৃশ্য জগতের কোনো কিছুকে শুধু কল্পনার ভিত্তিতে আকীদা বানানো যায় না। এমনকি তথ্য হিসেবেও গ্রহণ করা যায় না। সে জন্য দরকার যথাযোগ্য দলীল। তবে অদৃশ্য জগতের কোনোকিছু নিয়ে ভাবতে দোষ নেই; যদি সে ভাবনায় মুনকার কিছু না থাকে। এমনি একটি সুন্দর ভাবনা পেশ করা হয়েছে লেখাটিতে।

আল্লাহ তাআলা কবুল ও মাকবুল করুন। আমীন।-মুহাম্মাদ আবদুল মালেক

আমার কোন নাম ছিলো না, আমার কোন শরীর ছিলো না। আমাকে তখন শুধু রূহ বলা হতো। তখনকার কথা আমার কিছু মনে নেই। শুধু মনে আছে, সমস্ত রূহকে আল্লাহ একত্র করেছিলেন। রূহের সেই জলসায় আমিও হাযির ছিলাম। নূর থেকে আওয়াজ শুনেছিলাম, তোমরা আমাকে চিনেছো? বলো তো আমি কে? আমি কি তোমাদের রব নই? সমস্ত রূহ একসঙ্গে বলেছিলো, আমিও বলেছিলাম, অবশ্যই আপনি আমাদের রব।

রূহদের সেই জলসার পর কত যুগ পার হলো, আমার কিছু মনে নেই, আমার কিছু জানা নেই।

কিছুদিন আগে হঠাৎ আমাকে বলা হলো, চলো, তোমার শরীর তৈরী হয়েছে। এখন তোমাকে রূহের জগত ছেড়ে প্রবেশ করতে হবে শরীরের জগতে। আমি অবাক হলাম, কারণ আমি জানি না, শরীর কী? শরীর কোথায়? শরীরের জগত কেমন? সেখানে গিয়ে আমি কী করবো?

হঠাৎ আমি নড়ে উঠলাম। আমি?! আমি কে? আমি কোত্থেকে এলাম? কোথায় এলাম? এখানে এত অন্ধকার কেন? হঠাৎ দেখি, চারদিকে অনেক নূর! মনে হয় আমার পরিচিত! কোথায় যেন দেখেছি! কোথায় যেন একসঙ্গে থেকেছি! তাতে আমার অজানা ভয়টা দূর হলো, অস্থিরতাটা শেষ হলো। তবু কিসের যেন একটুখানি অস্বস্তি! কী যেন ছিলো! কী যেন নেই! নূরগুলো আমাকে দেখে হাসে, যেন অভয় দিতে চায়। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কে আমি? কে তোমরা? কোথায় যেন তোমাদের দেখেছি!

10
ছোট বেলায় ফার্সী সাহিত্যে শেখ সা‘দী রাহ.-এর একটি নীতিবাক্য পড়েছিলাম-

خوردن براۓ زيستن ست، نہ زيستن براۓ خوردن.

অর্থাৎ বেঁচে থাকার জন্য আহার, আহারের জন্য বেঁচে থাকা নয়।

বক্তব্যটি সম্ভবত অনেকেরই জানা, অন্যান্য ভাষাতেও তা থাকবে। নীতিগতভাবে এই বক্তব্যের সাথে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়, দ্বিমত থাকলেও সেটা নিজের ভেতর পুষে রাখাটাই শ্রেয় মনে করার কথা, কিন্তু এখন আমাদের চারপাশের পরিবেশে এই নীতিবাক্য যেন সেকেলে হয়ে পড়েছে। খাবার-দাবার নিয়ে অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ি, নানা প্রসঙ্গে ফোর স্টার, ফাইভ স্টার হোটেলগুলোর হেন অফার, তেন অফার দৃষ্টে মনে হয় এখন যেন খাওয়ার জন্যই মানুষের বেঁচে থাকা!

এই কথাগুলো আমার সাধারণত মনে পড়ে পবিত্র রমযান মাসে। দেশের নামকরা হোটেলগুলো থেকে সাহরি-ইফতারের নানা ক্যাটাগরির অফারের ছড়াছড়ি দেখে প্রতিবারই মনে হয় কিছু লিখি। কিন্তু যখন মনে পড়ে তখন আর সময় থাকে না, রমযানের পত্রিকা প্রেসে চলে যায়। তাই এবার এ বিষয়ে দুটি কথা একটু আগেভাগেই বলার ইচ্ছা করেছি।

আগেভাগে বলার পিছনে আরেকটি কারণও অবশ্য আছে। এজাতীয় অফার আগে দেখা যেত সাধারণত বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি নবআবিষ্কৃত ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষেও দেখা গেল এইসব অফারের ছড়াছড়ি। ফুর্তিবাজ প্রকৃতির লোকদের জন্য এইসব অফার লোভনীয় হয়ে থাকে। ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ ধরনের অফারে যার পেটে ক্ষিধে নেই তারও জিভে জল আসে! অথচ এসব যে পুঁজিবাদের নানা অপকৌশল তা সচেতন ব্যক্তিদের কাছে অস্পষ্ট নয়।

এখানে স্বভাবতই এই প্রশ্নটি সামনে এসে যায় যে, তাহলে নানাবিধ দিবস উদ্ভাবন ও তার প্রচার-প্রতিষ্ঠার পেছনে কি একশ্রেণির লোকের মুনাফা হাসিলের পরিকল্পনাই কার্যকর। দিবসের নামে নানা প্রকারের অনাচার-অশ্লীলতা বিস্তারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের গাঁটের টাকা খসানো ছাড়া আর কিছু তো এসব ক্ষেত্রে নজরে পড়ে না। একেকটি দিবস বা উৎসবকে কেন্দ্র করে খাবার-দাবার, পোষাক-আশাক, ফ্যাশন-বিনোদনের যেন ঝড় বয়ে যায়। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমাজের মধ্যবিত্ত নামে আখ্যায়িত শ্রেণিটি। একটি শ্রেণি তো আছে, যারা অর্থ ঢালার জায়গা খুঁজে পায় না। বৈধ-অবৈধ, হালাল-হারামের বাছ-বিচার ছাড়া যারা বিত্তের পাহাড় গড়েছেন তাদের জন্য এইসব আয়োজনে অর্থ ব্যয় খাবারের পর মিষ্টিমুখের মতো প্রীতিকর হলেও সমাজের বৃহত্তর মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্যে এইসব অফার-আয়োজন কতটা উপযুক্ত তা ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে বৈ কি। অপরিমেয় বিত্তের অধিকারী না হওয়ায় এই শ্রেণিটিকে দুই পথের যে কোনো একটি অবলম্বন করতে হয়; হয়তো নিজের ও পরিবার-পরিজনের অতি প্রয়োজনীয় বিষয়াদিতে কাটছাঁট করে এইসব অপচয়ের জন্য অর্থ-সংস্থান করতে হয়, কিংবা অন্যায়-অবৈধ পথে অতিরিক্ত উপার্জন খোঁজ করতে হয়। বলা বাহুল্য যে, এর কুফল শুধু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বৃহত্তর সমাজকেও তা অনৈতিকতার পথে ধাবিত করে। পুঁজিবাদী অর্থ ও সমাজ-ব্যবস্থার এই সুদূরপ্রসারী কুফল সম্পর্কে সচেতন হওয়া অতি প্রয়োজন।

 

ইফতার-সাহরি

কথা শুরু হয়েছিল সাহরি-ইফতারি নিয়ে। আজ থেকে কয়েক বছর আগেও প্রসঙ্গটি শুধু ইফতারিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। চকবাজার ও পুরান ঢাকার ইফতার-সামগ্রী ও ইফতার-আয়োজন ছিল বেশ আলোচিত। কিন্তু এখন তা আর ইফতারির মধ্যে সীমবদ্ধ নেই। এখন সাহরি নিয়েও আছে ব্যাপক মাতামাতি। বড় বড় হোটেলগুলোতে এখন সাহরি-ইফতারির নানা আয়োজন থাকে। আয়োজনের সাথে থাকে বিস্তর প্রচার-প্রচারণা। যেন রমযান মাসটি শুধুই সাহরি আর ইফতারির জন্য। রমযানের মূল করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে আলোচনার পরিবর্তে সাহরি-ইফতারিতে কোথায় কী মেনু, কোথায় কী অফার তা-ই হয়ে ওঠে মুখ্য। পুঁজিবাদের এই সর্বগ্রাসী বিজ্ঞাপনের মাঝেই বিজ্ঞাপনের স্বার্থে উচ্চারিত হয় ‘সংযম’ কথাটিও! পরিহাসের ব্যাপার হল মূল্য ছাড় বা অফারের ঘোষণা আসে শুধু খাবার ও পোশাক-প্রসাধনীর ক্ষেত্রে। যেসব জায়গায় মূলত স্বল্প সংখ্যক ধনাঢ্য শ্রেণির লোকদেরই প্রবেশাধিকার থাকে। অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় ও আম জনতার ভোগ্য ও ব্যবহার্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে তা করা হয় আকাশচুম্বি। যার দরুন সাধারণ মানুষের জীবন যাপন হয়ে ওঠে কঠিন থেকে কঠিনতর।

এভাবে রোযা ও রমযানের মূল শিক্ষা ও আবেদন যেমন চাপা পড়ে যায় তেমনি খরচও বেড়ে যায়। যা জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে। মোবাইল ফোনে-ইমেইলে নানা প্রকারের অফার এত বেশি আসতে থাকে যে, সেগুলো পরিষ্কার করতেও উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়।

ফ্রি আসলে কি ফ্রি?

কুরবানীর গরুর হাটে মাঝে মাঝে বিশালাকারের গরুগুলোর সাথে ছাগলও ফ্রি দেওয়া হয়। কয়েক বছর আগে আমাকে কেউ একজন প্রশ্ন করেছিল ঐ ফ্রি ছাগলটি দিয়ে ওয়াজিব কুরবানী দেয়া যাবে কি না? উত্তরে আমি বলেছিলাম ফ্রি দিতে যাবে কেন? সে কি আপনার আত্নীয় হয়? এটিকে ফ্রি নাম দেয়া হলেও মূলত দুটি পশুর একত্রে দাম নেয়া হয়েছে। আপনি যে মূল্য পরিশোধ করেছেন তাতে উভয় পশুর মূল্যই রয়েছে। আকর্ষণ সৃষ্টির জন্য কেবল ফ্রি নাম দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বড় বড় ডিসকাউন্ট ও এটা ফ্রি ওটা ফ্রি জাতীয় অফারগুলোও একই প্রকৃতির। সামান্য বিবেক খাটালেই বুঝে আসবে যে, এসবই তাদের নিজের স্বার্থে। একেকটি উপলক্ষকে কেন্দ্র করে তাদের বিক্রির পরিমাণ বহু গুণ বাড়িয়ে নেয়ার স্বার্থেই তারা এ কৌশল অবলম্বন করে। আর এক শ্রেণির অবুঝ ক্রেতা প্রয়োজন না থাকলেও তথাকথিত ‘ফ্রি’ বা ডিসকাউন্ট পাওয়ার আশায় তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বিষয়টি অনেক বিস্তৃত। পুঁজিবাদের এজাতীয় ব্যাপারগুলোর কু প্রভাব এবং তাদেরই মালিকানাধীন মিডিয়া তথা টেলিভিশন, পেপার-পত্রিকা এবং বর্তমানের সোশ্যাল মিডিয়ায় ওগুলোর বিজ্ঞাপনের অত্যাচার নিয়ে বলার আছে অনেক কিছুই। আজ আমি শুধু বলতে চাচ্ছি, পবিত্র রমযানে যেন আমরা অপ্রয়োজনে এসবের পিছে না ছুটি।

আমরা হয়তো পুঁজিবাদের এই বিশ্বব্যাপী আগ্রাসনকে ঠেকাতে পারব না কিন্তু নিজেকে তো নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

নানা উপলক্ষে এইসব অফারের ফাঁদে পা না দিয়ে আসুন আমরা স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত হই। হালাল উপার্জনে মিতব্যয়ী জীবন যাপন করি। তাহলে আমাদের দুনিয়াও সুন্দর হবে, আখিরাতও সুন্দর হবে। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন- আমীন।

11
EEE / পিতৃত্বের ছায়া
« on: November 15, 2018, 10:32:48 AM »
প্রত্যেক বাবা, প্রত্যেক মা সন্তানের কল্যাণ কামনা করে। এই পরিমাণ কল্যাণ কামনা করার নযির তো অন্য কোনো সম্পর্কের মধ্যে পাওয়া যেতেই পারে না। শিক্ষকের মধ্যে এই গুণ বা এই তবিয়ত কিছু পরিমাণ হলেও আসা দরকার। কিছু ছায়াপাত হওয়া দরকার। মায়ের মমতা, বাবার শফকতের কিছু পরিমাণ ছায়া শিক্ষকের মধ্যে পাওয়া দরকার এবং এটা যদি কোনো শিক্ষকের মধ্যে আসে তাহলে ইনশাআল্লাহ সে তার শিক্ষক-জীবনে কিছু না কিছু যাহেরী কামিয়াবী হাসিল করবে। আর আখেরাতের কামিয়াবী তো আছেই।

দুনিয়াতে শিক্ষক জীবনটা, শিক্ষকতার যে পেশা, শিক্ষকতার যে অযীফা, এটাতে যাহেরী কামিয়াবী ইনশাআল্লাহ হবে। আল্লাহ তাআলা যেন উজব থেকে হেফাযত করেন। আল্লাহ তাআলা যেন শোকর করার তৌফিক দান করেন। আমি আমার শিক্ষকতার শুরু থেকে, যখন আমি তরুণ তখনই আমি মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের এই অনুভূতিটা আমার ছেলেদের মধ্যে অনুভব করি। যখন এই সমস্ত শব্দ উচ্চারণ করাও বয়সের সাথে খাপ খায় না। এই কারণে (আল্লাহর প্রশংসা) আমার তালেবে ইলমদের মুহাববত আমি পেয়েছি। এটা আপনাদের ক্ষেত্রেও  এরকম হবে। আপনার মধ্যে যদি এই ছায়াটা থেকে থাকে তাহলে দেখবেন আপনার ছেলেরা আপনাকে মুহাববত করবে।

কোনো শিক্ষকের মধ্যে পিতৃত্বের ছায়া আছে, মাতৃত্বের ছায়া আছে অথচ তার ছেলেরা তাকে মুহাববত করে না, এটা হবে না ইনশাআল্লাহ। এই জিনিসটার এখন বড় অভাব।

যার মধ্যে পিতৃত্বের ছায়া থাকবে, মাতৃত্বের ছায়া থাকবে, সে কিন্তু ছাত্রদের খেদমত নেওয়ার আগে জিজ্ঞাসা করে নিবে। এই জিজ্ঞাসা না করাটাই দলীল যে, তার মধ্যে শফকত নেই। খেদমত করা পর্যন্ত আছে, কিন্তু বাপ হিসাবে খেদমত নেওয়া, মা হিসাবে খেদমত নেওয়া, এই বৈশিষ্ট্যটাই নেই। জিজ্ঞাসা করতে হবে। হুট করে বলে, এটা করো তো। এটা করার মতো অবস্থায় সে আছে কি না দেখতে হবে।

পাহাড়পুরী হুযুর একটা কথা বলেছিলেন। তিনি কামরায় গেছেন। কামরায় যাওয়ার পর একটা ছেলে শুয়ে আছে। তল্লাশি করতে গেছেন। ছেলেটা যে শুয়ে থাকা থেকে উঠছে না উনি বুঝে ফেলেছেন যে, মনে হয় অসুস্থ। কিন্তু অন্য উস্তাদ গিয়ে তাকে কান ধরে উঠিয়েছে। ‘আমরা এখানে কামরায় ঢুকছি এখনো শুয়ে আছো!’

হুযুর শান্ত করলেন। দেখেন যে, আসলে সে অসুস্থ। উঠতে পারছে না। মনে করবেন, কত বছর আগের ঘটনা। আমার শিক্ষকতার প্রথম যুগের ঘটনা। আমার মনে আছে। আমার মনে হয়েছে, এই লোকটা তো উস্তাদ হওয়ার উপযুক্ত না। এখন আমার মধ্যে যেন এই গুণ আসে। এই গুণটা যার মধ্যে যেই পরিমাণ আসবে, সে সেই পরিমাণ কামিয়াবি লাভ করবে।

এবং তার কামিয়াবি ইনশআল্লাহ কেউ রোধ করতে পারবে না।

যে যেই পেশায় আছে সে যদি ঐ পেশায় সফল না হয় এরচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য তো আর নেই। যে লেখক তার লেখায় যদি সফলতা না আসে, যে ওয়ায়েয তার যদি ওয়াযের পেশায় সফলতা না আসে, তার যদি ডাইরির পাতা খালি থাকে, তাহলে এরচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য নেই। আমি ওয়ায করতে পারি না। এটা কোনো দোষ না। কিন্তু যে ওয়ায়েয তার ওয়ায করতে না পারাটা দোষের। আমি যে শিক্ষক, শিক্ষকতার পেশায় যদি সফল না হই ...! এটার সফলতার জন্য একেবারে অপরিহার্য একটা শর্ত তার মধ্যে পিতৃত্বের ও মাতৃত্বের ছায়া থাকতে হবে।

এখানে দু’একজন ছাত্রও আছে। এই জন্য আর একটা দিকও বলতে হয়। সেই ছাত্র কামিয়াবি হাসিল করতে পারবে না, যার মধ্যে সন্তান হওয়ার যে একটা কৃতার্থতা আছে, সাআদতমন্দী যেটাকে বলে, বাপ ধমক দিলেও সহীহ না দিলেও সহীহ, ধমক দিলেও মা ধমক না দিলেও মা, মা খেতে দিলেও মা খেতে না দিলেও মা, যে তালেবে ইলমের মধ্যে এই জিনিসটা নেই সে সারাজীবন পড়তে পারে, কিন্তু কামিয়াব তালেবে ইলম হতে পারবে না। আর যার মধ্যে এই গুণটা আছে, উস্তাদের অনেক আচরণ তার বরদাশত হয়ে যাবে। বরদাশতযোগ্য যে হয় না এটার কারণ হল ঐ সাআদতমন্দী তার মধ্যে নেই। মা বলতে পারে আজকে তোরে ভাত দিব না। তারপরও মা মাই। এটা কেন, যেহেতু তার মধ্যে সন্তান হওয়ার যে গুণটা সেটা আছে। উস্তাদের সাথে এই সন্তান হওয়ার যে গুণ এটার একটা ছায়া থাকতে হবে। সে তার সন্তান। এই ছায়াটা যেন তার মধ্যে থাকে। এই ছায়াটা যেই ছাত্রের মধ্যে নেই ..., সন্তানের ছায়া, সন্তানের ছায়াটা থাকতে হবে। এই ছায়াটাও এখন নেই ।

আমার উস্তাদ মীর ছাহেব রাহ. পটিয়ার বাণী মুফতী আজিজুল হক রাহ. এর খাবার রান্না করতেন। খাবার রান্ন করা মানে মসল্লা পাটায় বেটে তার পর তরকারি রান্না করা। একদিন উনি পাটায় মসল্লা পিষছেন। হুযুরের মুখে শোনা, তিনি পিষছেন আর মুফতী সাহেব রাহ. চৌকিতে শোয়া ছিলেন। ‘আহমদ তোমার কষ্ট হইতেছে’, হুযুর উনার ভাষায় বলছিলেন। আমি ঘাড় বেকা করে তাকাইলাম, ‘আমার মা-বাবার লগে এদ্দুর করলাম না অইলে এটা আবার কষ্ট কী, এই যে, সন্তানত্ব, উনি যে সন্তান আর এই যে চৌকিতে যিনি শোয়া আছেন উনি যে তার বাপ এই ছায়াটা পড়েছে। এই জন্য উনি কামিয়াব। তালেবে ইলম সফল হওয়ার জন্য তার মধ্যে সন্তানত্বের ছায়া থাকতে হবে। আর উস্তাদের কামিয়াব হওয়ার জন্য পিতৃত্বের ও মাতৃত্বের ছায়া থাকতে হবে।

এখনও এই যমানায় মাদরাসাতুল মদীনায় আলহামদুলিল্লাহ কিছু ছাত্রর মধ্যে দেখি সন্তানত্বের ছায়া। এই যে কথাগুলো বলছি কিছু কিছু ছেলের সূরত আমার জেহেনে এসে আছে, যাদের মধ্যে এই গুণগুলি আছে। আগের যামানার সাথে তুলনা করছি না। এই যামানার কথা বলছি। এই যামানায় যদ্দুর থাকার কথা অদ্দুর আছে।

12
EEE / নারীগণ সমাজের মূল স্তম্ভ
« on: November 15, 2018, 10:30:24 AM »
আমাকে আদেশ করা হয়েছে- আপনাদের খেদমতে দ্বীনের কিছু কথা আরয করতে। দ্বীনের কথা বলতে সবসময় অত দীর্ঘ সময় নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন পড়ে না। আল্লাহ তাআলা যদি ইখলাছের সাথে কিছু বলার ও শোনার তাওফীক দান করেন, তাহলে অল্প কথাতেও অনেক ফায়দা হয়। আর আল্লাহ হেফাযত করুন- ইখলাস যদি না থাকে, তাহলে লম্বা-চওড়া বয়ানও বেকার হয়ে যায়।

মূলত আমি নসীহত করার যোগ্য কেউ নই। তবে মুরুব্বীদের থেকে শুনেছি যে, আল্লাহ তাআলা নারী জাতিকে এ উম্মতের বিনির্মাণের ভূমিকায় অবতীর্ণ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে নারীগণ হচ্ছেন একটি সমাজের মূল স্তম্ভ-ফাউন্ডেশন। তাদের উপর ভর করেই পুরো সমাজ দাঁড়িয়ে থাকে এবং গোটা জাতি প্রতিপালিত হয়।

আমি তো বলি, আজ আমরা যেসব বড় বড় আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখ, মুফতী-মুহাদ্দিস-মুফাসসির, ওলী-বুযুর্গের কথা শুনি, নাম শোনামাত্র তো তাদের কীর্তিগুলো মনে পড়ে যায়, কিন্তু পর্দার অন্তরালের ঐসব নারীদের কথা আমাদের খুব কমজনেরই মনে আসে, যাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও কুরবানী, শ্রম ও মেহনত  এবং তালীম ও তরবিয়তের বদৌলতে আজ এঁরা এত বড় বড় ব্যক্তিত্বে পরিণত হতে পেরেছেন।

ইমাম আবু হানীফা রাহ.-কে আজ কে না চেনে! ইমাম বুখারী রাহ.-কে কে না জানে!! কিন্তু ঐসব মা কেমন ছিলেন, যারা ইমাম আবু হানীফা, ইমাম বুখারী রাহ. প্রমুখের মত মহারত্নগুলোকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন! জন্মের পর সঠিক তরবিয়তে বড় করেছিলেন। যার ফলে তারা চাঁদ সুরুজের মত অন্ধকার দুনিয়ায় আলো বিকিরণ করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ তাদের খিদমাত থেকে আলো পাবে ইনশাআল্লাহ।

এসব বুযুর্গানে দ্বীন যাদেরকে আজ আমরা চিনি, আল্লাহ তাআলার দরবারে তো তারা  (ইনশাআল্লাহ) অবশ্যই মকবুল ও মনোনীত হয়েছেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে থেকে দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাওয়া এসব মা-জননী যারা এ বুযুর্গদেরকে গর্ভে ধারণ করেছেন, বলুন আল্লাহর দরবারে তাদের মর্তবা কত উঁচু হতে পারে! ভাগ্যবতী এসব মায়ের নামধামের কোনো ফিকির ছিল না। ছিল না পদ-পদবীর কোনো লালসা। ব্যস, আল্লাহর দেওয়া আমানত-সন্তানের এমন তরবিয়ত তারা করে গেছেন, যার ফলে তাঁরা চাঁদ-সুরুজ হয়ে দুনিয়া আলোকিত করেছেন। এ বিবেচনায় চিন্তা করে দেখুন, আল্লাহ তাআলা মাতৃজাতিকে কত উচ্চ আসনে সমাসীন করেছেন!

মাতৃকোলকে রাব্বুল আলামীন সন্তানের সর্বপ্রথম বিদ্যালয় বানিয়েছেন। আমাদের ইতিহাসে এমন ঘটনা অনেক যে, মা-সন্তানের মুখে যখন দুধ দিবেন, তখন তার যবানে তিলাওয়াত জারি থাকত। সূরা ইয়াসীন তিলাওয়াত করে করে সন্তানকে দুধ পান করাতেন মায়েরা। বলুন, যে শিশুর প্রতিপালন ও তরবিয়ত এমন কোলে হয়, জাতির জন্য সে কত উজ্জ্বল আলো হতে পারে! আমার বলার উদ্দেশ্য হল, আপনারা আপনাদেরকে চিনতে ও বুঝতে চেষ্টা করুন।

 

13
ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল সালাত। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

أَوّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَلَاتُهُ.

কিয়ামত দিবসে বান্দার সর্বপ্রথম হিসাব নেওয়া হবে সালাতের মাধ্যমে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৬৯৪৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৮৬৬

হযরত উমর রা.-এর প্রসিদ্ধ বাণী-

إِنّ أَهَمّ أَمْرِكُمْ عِنْدِي الصّلَاةُ. فَمَنْ حَفِظَهَا وَحَافَظَ عَلَيْهَا، حَفِظَ دِينَهُ. وَمَنْ ضَيّعَهَا فَهُوَ لِمَا سِوَاهَا أَضْيَعُ.

নিশ্চয়ই আমার কাছে তোমাদের সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সালাত। যে ব্যক্তি সালাতের হেফাযত করল, যত্ন সহকারে তা আদায় করল, সে তার দ্বীনকে হেফাযত করল। আর যে তাতে অবহেলা করল, (দ্বীনের) অন্যান্য বিষয়ে সে আরো বেশি অবহেলা করবে। -মুয়াত্তা মালেক, বর্ণনা ৬; মুসান্নাফে আবদুর রযযাক, বর্ণনা ২০৩৮

সালাত মূলত খোদাপ্রদত্ত এক মহান নিআমত। রাব্বুল আলামীনের এক বিশেষ উপহার, যা বান্দাকে সকল প্রকার অশ্লীলতা, পাপাচার, প্রবৃত্তিপূজা, ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসের অন্ধ মোহ থেকে মুক্ত করে পূত-পবিত্র ও উন্নত এক আদর্শ জীবনের অধিকারী বানিয়ে দেয়। বিকশিত করে তোলে তার ভেতরের সকল সুকুমারবৃত্তি। তার জন্য  খুলে দেয় চিরস্থায়ী জান্নাতের সুপ্রশস্ত দুয়ার।

সালাত হচ্ছে হিকমাহপূর্ণ এক অলৌকিক তরবিয়ত-ব্যবস্থা। সালাতের মাধ্যমেই ইখলাস, আত্মশুদ্ধি ও আত্মবিলোপের মহৎ গুণাবলির পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে, যা বান্দাকে পৌঁছে দেয় আল্লাহর সান্নিধ্যের স্বর্ণশিখরে।

সালাত এমন এক নিয়ন্ত্রক শক্তিতে পূর্ণ যে, খাঁটি মুসল্লি নামাযের বাইরের পরিবেশেও এমন কোনো কাজ করতে পারে না, যা মানুষের দৃষ্টিতে সালাতের ভাব-মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। অদৃশ্য থেকে মূলত সালাতই নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে তার রাত-দিনের সকল গতিবিধি। শয়তানের ধোঁকায় যদি মুসল্লি কখনো কোনো অন্যায় বা অশোভনীয় কাজে লিপ্ত হতে চায় তখন নামাযের তরবিয়তে দীক্ষিত বিবেক তাকে বলে, তুমিই বল, একটু পরে যখন তুমি সালাতে তোমার মহান প্রভুর সামনে দাঁড়াবে তখন কি তোমার এই ভেবে লজ্জাবোধ হবে না যে, কেমন কালো মুখ ও কলুষিত হৃদয় নিয়ে তুমি আপন মালিকের সামনে দাঁড়াচ্ছ? যিনি অন্তর্যামী, তোমার গোপন-প্রকাশ্য সকল বিষয়ে সম্যক অবগত। যিনি ছাড়া তোমার আর কোনো ইলাহ নেই। যিনি তোমার একমাত্র আশ্রয়দাতা, যাঁর সামনে তোমাকে বার বার দাঁড়াতে হবে। যার কাছে তোমার সকল চাওয়া-পাওয়া। প্রতিটি মুহূর্তে তুমি যাঁর মুখাপেক্ষী। এগুলো জানার পরও কি তুমি তাঁর নাফরমানিতে লিপ্ত হবে? সালাত এভাবে মুসল্লিকে উপদেশ দিতে থাকে এবং পাপাচারে লিপ্ত হওয়া থেকে বাধা দেয়। আল্লাহ তাআলার ঘোষণা-

اِنَّ الصَّلٰوةَ تَنْهٰی عَنِ الْفَحْشَآءِ وَ الْمُنْكَرِ.

নিশ্চয়ই সালাত অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। -সূরা আনকাবূত (২৯) : ৪৫

ইমাম তবারী, ইবনে কাসীর, কুরতুবী, আলূসীসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ তাফসীরকারের মত অনুসারে আয়াতের মর্ম হল, তাকবীর, তাসবীহ, কেরাত, আল্লাহর সামনে কিয়াম ও রুকু-সিজদাহসহ অনেক আমলের সমষ্টি হচ্ছে সালাত। এ কারণে সালাত যেন মুসল্লিকে বলে, তুমি কোনো অশ্লীল বা অন্যায় কাজ করো না। তুমি এমন প্রভুর নাফরমানী করো না, যিনি তোমার কৃত ইবাদতসমূহের প্রকৃত হকদার। তুমি এখন কীভাবে তাঁর অবাধ্য হবে, অথচ তুমি এমন আমল করেছ, যা তাঁর বড়ত্ব ও মহত্ত্বকে প্রকাশ করে। এরপরও যদি তাঁর অবাধ্য হও তবে এর মাধ্যমে তুমি স্ববিরোধী কাজে লিপ্ত  হলে। (আর স্ববিরোধী কাজের মাধ্যমে ব্যক্তি কোন্ স্তরে নেমে আসে সেটা তোমার ভালোই জানা আছে।) -রুহুল মাআনী, ১০/৪৮২

প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্ত নামাযে প্রতি রাকাতে বান্দাহ বলতে থাকে-

مٰلِكِ یَوْمِ الدِّیْنِ.

[(তুমি) কর্মফল-দিবসের মালিক।] আর তার স্মরণ হতে থাকে, তাকে কাল কর্মফল দিবসে মালিকের সামনে দাঁড়াতে হবে। সুতরাং তাঁর নাফরমানী থেকে, তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচতে হবে। কোনো গুনাহ যদি নামাযের আগে হয় তাহলে তার গুনাহের কথা স্মরণ হয় ও লজ্জাবোধ হয়; বান্দা অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে গুনাহ না করার সংকল্প করে। তেমনি যদি কোনো গুনাহের নিয়ত থাকে তখন বান্দার মনে হয়, আমি আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো; কাল কিয়ামতের দিনও তাঁর সামনে দাঁড়াতে হবে। তাহলে কীভাবে আমি নামাযের পর অমুক গুনাহ করার কথা ভাবতে পারি! এভাবে নামায বান্দাকে গুনাহ থেকে ফিরিয়ে রাখে, কৃত গুনাহ থেকে পবিত্র করে।

14
ইদানীং আমরা সব কাজ করি ছবি তোলার জন্য। বিয়ের অনুষ্ঠান করি ছবি তোলার জন্য, বেড়াতে যাই ছবি তোলার জন্য, কারো সাথে দেখা করি ছবি তোলার জন্য এবং এমনকি কিছু রান্না করি কিংবা কোথাও খেতেও যাই ছবি তোলার জন্য। এবং এই যে তোলা ছবিগুলো, স্মরণীয় কিংবা সহজেই ভুলে যাওয়ার মত মুহুর্তের ছবিগুলো, আমরা অতি অবশ্যই ফেসবুক বন্ধু বা সকলের সাথে শেয়ার করি। ছবি তোলা এবং শেয়ার করার বিষয়টা নিশ্চয়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ, নয়তো এমন গণহারে আমরা তা করছি কেন?

অমুক নান্দুস এ খাইতে গিয়া ছবি দিসিলো, আমিও তো আসছি... দিব না? নাইলে সবাই ভাব্বে আমি সারাদিন ঘরেই খাই! এইটা কিছু হইলো? একটা ইজ্জত আছে না...

আমি যে কক্সবাজার গিয়া বীচে বেকাইয়া বইসা ছিলাম, এইটা আমার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মনে রাখার মত একটি ঘটনা। না হয় প্রতি বছর-ই আমি কক্সবাজার যাই, তাতে কি?

আমি শুধু নান্দুস না, কুদ্দুসের দোকানের সিংগাড়াও খাই। প্রতিদিন ভার্সিটির ফ্রেঞ্জদের সাথে আমার দেখা হয়। আমি প্রতিদিন তাদের সাথে ছবি তুলি এবং আপলোডাই। এ সকল ছবি ই আমার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি। কোন সমস্যা?

আমি দোকান থেকে এক প্যাকেট বোম্বে স্টিক্স কিনলেও সেইখানা হাতে লইয়া ছবি তুলি। কারন, উহাও একটি স্মরণীয় মুহুর্ত। জামা-কাপড় তো বটেই, এক খানা রুমাল কিনিলেও উহার ছবি তুলিয়া শেয়ার না দিলে আমার অস্বস্তি লাগে। তাই আমি ছবি তুলি এবং শেয়ার করি। টাকা-পয়সা তো লাগতেসে না ভাই...

প্রশ্ন হল, মানুষ ছবি তোলে কেন? এর মাজেজা কি? আমার ব্যক্তিগত ধারণা, কোন স্মরণীয় মুহুর্তের ছবি তোলা হয় মুহুর্তটা ধরে রাখার জন্য। অনেক বছর পর কোন এক দিন ছবিটা নিজে দেখে বা আপনজনকে দেখিয়ে পেছনে ফিরে যাওয়ার জন্য। স্মরনীয় মুহুর্ত নিশ্চয়ই খুব ঘন ঘন আমাদের জীবনে আসেনা। খুব সাধারণ ঘটনাও স্মরণীয় হতে পারে তা ঠিক, কিন্তু সেটা কোন নিয়মিত বা প্রাত্যহিক ঘটনা হতে পারে কী? সব মুহুর্তের ছবি তুলে আমরা সেই সব ছবিগুলোকে গুরুত্বহীন করে ফেলছি যেগুলো আসলে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারতো। আমরা স্মরণীয় মুহুর্তের ছবি তুলছি না বরং লোক দেখানোর জন্য ছবি তুলে সাধারণ কিছু মুহুর্তকে অসাধারণ বানাতে চাইছি যা আসলে সম্ভব নয়।

কেন আমাদের এই লোক দেখানো নেশা? অর্থহীন এই অনুকরণের অসারতা আমরা কেন বুঝি না? আমার আছে বলেই কি সব উজাড় করে দেখাতে হবে? হয়তো তাই... নইলে থাকার মূল্যটাই বা কি থাকলো...

Pages: [1] 2 3 ... 5