Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Mafruha Akter

Pages: [1] 2 3 ... 15
1
কি জিভে পানি চলে এসেছে? ফলটিই এমন যে, এর নাম শুনলেই জিভে পানি চলে আসে। চাটনি হোক কী আচার। সব যুগের সব বয়সী নারীর সবচেয়ে লোভনীয় ফল যে তেঁতুল সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে শুধু স্বাদের দিক থেকেই নয়, আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও এই ফলটি অসাধারণ।

শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর কর্মক্ষমতা বাড়াতে তেঁতুলের জুড়ি মেলা ভার। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা দেহের প্রদাহ কমিয়ে বিভিন্ন রোগ দূরে রাখে। দৃষ্টিশক্তি, ত্বক বা শারীরিক নানা সমস্যায় ফলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই রোগ মুক্ত সুস্থ শরীরের জন্য নিয়মিত তেঁতুল খাওয়া যেতেই পারে।


 
তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি, ই এবং বি। সেই সঙ্গে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং ডায়াটারি ফাইবার। শক্তাশালী সব অ্যান্টিঅক্সিডন্টও রয়েছে ফলটিতে। টানা ১ মাস তেঁতুল খেলে আমাদের দেহে এমন সব পরিবর্তন আসে যা অকল্পনীয়। এবার চলুন জেনে নিই কি সেই পরিবর্তনগুলো।

১. হজম ক্ষমতা বাড়ায়  বহুকাল ভারি খাবার খাওয়ার পর টক জাতীয় খাবার খেয়ে আসছে মানুষ। তবে সবচেয়ে কার্যকরী যে টক, সেটা হলো তেঁতুল। তেঁতুলের ডায়াটারি ফাইবার হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ নিশ্চিৎ করে। ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও তেঁতুলের বিলিয়াস সাবস্টেন্সও আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত এবং বদ-হজমের আশঙ্কা হ্রাস করে। ক্রনিক কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা দূর করতেও তেঁতুল দারুন কাজে আসে। এক কথায় পেটের ভিতরে ঘটে চলা ছোট-বড় প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে এই ফলটি। ফলে যে কোনও ধরনের পেটের রোগ হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

২. হৃৎপিণ্ড চাঙ্গা হয়ে ওঠে রক্তচাপ বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তেঁতুল খাওয়াতে বলেন বড়রা। কিন্তু এতে কোনো উপকার হয় বলে জানা যায় না। কিন্তু নিয়মিত খেলে উপকার পাওয়া যায় এটা প্রমাণিত। তেঁতুলের বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে রক্তে উপস্থিত বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে, হার্টের কর্মক্ষমতা কমাতে ব্লাড প্রেসার এবং কোলেস্টেরল নেতিবাচক ভূমিকা রাখে। তাই শরীর যখন এই দুই ক্ষতিকর রোগ থেকে দূরে থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন তেঁতুল খাওয়া কতটা উপকারী।

৩. রক্ত প্রবাহের উন্নতি ঘটে

তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, যা শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ বাড়ায়। ফলে দেহে রক্তস্বল্পতা দূর করে। আমাদের দেশের সিংহভাগই নারীই অ্যানিমিয়ার শিকার। তাই এদেশে তেঁতুল খাওয়া প্রয়োজনীয়তা যেন আরও অনেক বেশি। আর তেঁতুল যেহেতু নারীদের খুব পছন্দের তাই রক্তস্বল্পতা আক্রান্ত হওয়ার আগেই নিয়মিত তেঁতুল খেয়ে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

৪. নার্ভের কর্মক্ষমতা বাড়ে

বি কমপ্লেক্স হল এমন ভিটামিন, যা ব্রেইন ফাংশনের উন্নত করার কাজে অংশ নেয়। এই ভিটামিনটি দেহের স্নায়ুকোষের শক্তি বাড়ায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কগনেটিভ ফাংশনে উন্নতি ঘটে। সঙ্গে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তিও বাড়তে শুরু করে। আর তেঁতুলে বি কমপ্লেক্স ভিটামনিটি রয়েছে প্রচুর মাত্রায়।

৫. ওজন হ্রাসে সাহায্য করে তেঁতুল আমাদের দেহে হাইড্রোক্সিসিট্রিক অ্যাসিড বা এইচ সি এ-এর মাত্রা বৃদ্ধি করে। এই উপাদানটি শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ঝরিয়ে ওজন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এখানেই শেষ নয়, তেঁতুল খাওয়া শুরু করলে এর ফাইবারে খিদে কমিয়ে দেয়। তাই যারা ওজন কমতে চেষ্টা করছেন তারা নিয়মিত তেঁতুল খেতে পারেন।

৬. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেঁতুল দারুনভাবে কাজ করে। ফলটি কার্বোহাইড্রেটের শোষণ মাত্রা কমিয়ে দিতে সক্ষম। ফল ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। এখন প্রশ্ন করতে পারেন কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে সুগারের কী সম্পর্ক? শরীরে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা বাড়তে থাকলে তা ভেঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রাও বৃদ্ধি করে। সে কারণেই অনিয়ন্ত্রত মাত্রায় কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খেতে মানা করেন চিকিৎসকরা।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে

প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি থাকায় তেঁতুল শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৃদ্ধি করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে শুধু সংক্রমণ নয়, ছোট-বড় কোনো রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

অনেকেই বলেন তেঁতুল খেলে রক্ত পানি হয়ে যায়। এমন ধারণা একদমই অমূলক। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আর যারা মনে করেন তেঁতুল শুধু মেয়েদের ফল, তারা লজ্জা ভেঙ্গে তেঁতুল খেতে শুরু করুন। তাহলে বুঝবেন মেয়েরা তেঁতুল খেয়ে আপনাদের চেয়ে এগিয়ে আছে।

2
পুরো শরীরে জালের মতো ছড়িয়ে আছে রক্তনালী বা রক্ত চলাচলের মসৃণ রাস্তা। এর মধ্যে বিশুদ্ধ রক্ত যাতায়াতের রাস্তাকে ধমনী এবং দূষিত রক্ত যাতায়াতের রাস্তাকে শিরা বলা হয়। বিভিন্ন কারণে রক্তনালীর গায়ে চর্বি জমে রক্তনালী ব্লক হয়ে সরু বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসে রক্তনালী ব্লক হয়ে পড়াটাও অস্বাভাবিক নয়। এতে হার্টের নানা সমস্যা হতে পারে। কাজেই সময় থাকতেই সচেতন হোন। সুস্থতা নিশ্চিতে এমন কিছু খাবার খান যেগুলো রক্তনালীর ব্লক রোধে কাজ করবে।


 
১. আপেল প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে নাকি ডাক্তারের কাছে যেতে হয় না, এ কথাটি অনেকেই হয়তো শুনেছেন। আপেল একটি সুস্বাদু ফল। আপেলে পেকটিন নামক এমন এক কার্যকরী উপাদান রয়েছে, যা দেহের খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। একইসঙ্গে রক্তনালীতে প্লাক জমার প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১ টি করে আপেল খেলে রক্তনালীর শক্ত হওয়া এবং ব্লক হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪০% পর্যন্ত কমে যায়।

২. দারুচিনি এই গ্রহের সবচেয়ে বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ভেষজ। এর মিষ্টি স্বাদ এবং সুন্দর সুবাস জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে প্রায় প্রত্যেক সংস্কৃতির দ্বারা সম্মানিত হয়ে আসছে। দারুচিনিতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্ডিওভ্যস্কুলার সিস্টেমের সার্বিক উন্নতিতে কাজ করে থাকে। গবেষণা বলছে, প্রতিদিন মাত্র ১ চামচ দারুচিনি গুঁড়ো খেলে দেহের খারাপ কোলেস্টেরল কমে যায়। এতে করে রক্তনালীতে প্লাক জমে ব্লক হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সহজ হয়।

৩. কমলার রস অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের একটি আদর্শ উৎস কমলার রস। শরীর রোগ মুক্ত রাখতে এর অবদান অপরিসীম। ভিটামিন সি’য়ে ভরপুর এই পানীয় দেহে চমৎকার সব উপকারে আসে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ২ কাপ বিশুদ্ধ কমলার রস পান করলে রক্ত চাপ স্বাভাবিক রাখে। কমলার রসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালীর সার্বিক উন্নতিতে কাজ করে। ফলে রক্তনালী ড্যামেজ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।

৪. ব্রকলিফুলকপির মতোই দেখতে সবুজ রঙের সবজিটির নাম ব্রকলি। চাইনিজ জাতীয় খাবারে ব্যবহৃত অন্যতম প্রধান উপকরণ এই সবজি। দেশেও চাষ হচ্ছে ব্রকলির। কাঁচা কিংবা রান্না করে, ব্রকলি খাওয়া যায় দুইভাবেই। ব্রকলিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে রয়েছে, যা দেহের ক্যালসিয়ামকে হাড়ের উন্নতিতে কাজে লাগায়। আবার রক্তনালী নষ্ট করার হাত থেকে রক্ষা করে এটি। এছাড়া ব্রকলির ফাইবার উপাদান দেহের কোলেস্টেরল কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমিয়ে আনে।

৫. তিসিবীজ প্রায় ৬ হাজার বছর ধরে তিসিবীজ বা ফ্ল্যাক্স সিড খাবার হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে আসছে এবং এটিই সম্ভবত বিশ্বে চাষ করা সবচেয়ে পুরনো এবং প্রথম সুপার ফুড। তিসিবীজে প্রচুর পরিমাণে আলফা লিনোলেনিক অ্যাসিড রয়েছে, যা উচ্চ রক্তচাপ কমায় এবং রক্তনালীর প্রদাহকে দূর করতে সহায়তা করে। একইসঙ্গে রক্তনালীর সুস্থতাও নিশ্চিত করে।

৬. গ্রিন টি ৪ হাজার বছর পূর্বে চীনে মাথা ব্যথার ওষুধ হিসেবে এর ব্যবহার শুরু হলেও সময়ের ব্যবধানে সারা বিশ্বে এর ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়।সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সবুজ চা বা গ্রিন টি-তে প্রচুর পরিমাণে ক্যাচেটিন রয়েছে, যা দেহে কোলেস্টেরল শোষণ কমায় এবং হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে বিশেষভাবে সহায়তা করে। প্রতিদিনের চা কফির বদলে গ্রিন টি পান করলে দেহের সুস্থতা নিশ্চিত হয়।

৭. তৈলাক্ত মাছ ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ কথাটা উল্টে গিয়ে শহর অঞ্চলে অনেকে, বিশেষত শিশু-কিশোরেরা ঝুঁকছে মাংসের দিকে। তবে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন সপ্তাহে কমপক্ষে দুই দিন তেলযুক্ত মাছ খাবার পরামর্শ দিচ্ছে। সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছের ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমিয়ে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ ও নীরোগ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৮. সবুজ শাক-সব্জি উদ্ভিদে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, মিনারেলস, ফাইবার এবং বিশেষ ধরণের ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকে। এর সবই হার্ট এবং রক্তনালীর জন্য উপকারী। পালং শাক, লেটুস, ব্রুকলি, বেল পেপার, এসপারাগাস ভিটামিন বি-সিক্স সমৃদ্ধ। যা, homocystein (একপ্রকারের এ্যামিনো এসিড) ও সি-রিয়্যাক্টিভ প্রোটিন এর মাত্রাহ্রাস করে হার্ট এবং রক্তনালী সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

3
ডাল বেটে পিঁয়াজু খাওয়া একটা বেশ বড় ঝামেলাই বটে। এই প্রনালিতে একদিন আপনি ডাল গুঁড়ো করে রাখলে খেতে পারবেন বেশ অনেক দিন। আর এই ডালের গুঁড়ো সহজে নষ্টও হবে না।

উপকরণ :
মসুরির ডাল ১/২ কাপ
মুগের ডাল ১/২ কাপ
বেসন প্রয়োজন মত
পেঁয়াজ, ধনে পাতা, কাঁচা মরিচ কুচি স্বাদ মত
আদা ও রসুন গুঁড়ো বা বাটা স্বাদ মত
এক চিমটি ভাজা জিরার গুঁড়ো (ইচ্ছা)
লবণ ও তেল প্রয়োজনমত
বেকিং পাউডার ১ চিমটি

প্রস্তুত প্রণালি :
– মুগের ডাল ভাজবেন না। দু রকম ডাল ভালো করে ধুয়ে কুলায় মেলে দিয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। এবার এই ডালগুলো ব্লেন্ডারে মিহি গুঁড়ো করে নিন। আপনি চাইলে মসলা গুঁড়ো করার দোকান থেকেও গুঁড়ো করিয়ে আনতে পারেন।

– গুঁড়ো করার পর একে এয়ার টাইট বাক্সে সংরক্ষণ করুন। এবার প্রশ্ন হচ্ছে এই ডালের গুঁড়ো দিয়ে পেঁয়াজু তৈরি করবেন কীভাবে? চলুন , জেনে নিই সেই উপায়।

– প্রয়োজনমত ডালের গুঁড়ো নিন, তারপর এর সম পরিমাণ পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। খুব ভালো হবে যদি একটু উষ্ণ পানি দিতে পারেন। উষ্ণ পানি Water দিয়ে ভিজিয়ে ডালটাকে ঢেকে রাখুন কয়েক ঘণ্টা।

– কিছুক্ষণের মাঝেই ডালের গুঁড়ো পানি শুষে নিয়ে একদম নরম ডাল বাটার মত হয়ে যাবে। যদি দেখেন যে ডাল বেশী পানি শুষে নিয়েছে, তাহলে আরও একটু পানি দিতে পারে। তবে পানি যত কম হবে আর ডালের গুঁড়ো যত মিহি হবে, ততই ভালো হবে ডালের মিশ্রণ।

– ডালের গুঁড়ো ভিজে নরম হয়ে গেলে এতে পরিমাণ মত বেসন, লবণ, আদা-রসুন বাটা, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ কচি যোগ করুন। চাইলে জিরা গুঁড়োও দিতে পারেন। ডাল বেশী নরম হয়ে গেলে বেসন বেশি দেবেন। নাহলে পিঁয়াজু বানাতে যেটুক প্রয়োজন, কেবল সেটুকই দিন।

– চুলায় তেল গরম করুন, ডুবো তেলে মুচমুচে করে ভেজে তুলুন। এই পেঁয়াজু অনেকক্ষণ মুচমুচে থাকবে।

4
(১) অনেক সময় তরকারিতে তেল বেশি হয়ে যায়। কী করবেন তখন? প্রথমে তরকারিটি ঠান্ডা করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নামতে দিন। তারপর পরিমাণ বুঝে নিয়ে ছেড়ে দিন কয়েক টুকরো বরফ। কয়েক সেকেন্ড পর দেখবেন বরফের শরীরে বসে গেছে বাড়তি তেল। তাড়াতাড়ি বরফ তুলে ফেলে দিন। আবার গরম করে নিন তরকারি।

(২) দুধ যদি ফেটে যায় অথবা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয় তাহলে একটু লেবুর রস মিশিয়ে পুরোপুরি ছানা তৈরি করে চিনি মিশিয়ে জ্বাল করে নিন। চমৎকার নাশতা তৈরি হবে, মিষ্টিও তৈরি হবে।

(৩) সরষে ইলিশ! নাম শুনলেই জল আসে মুখে কিন্তু অনেক সময় বাটা সরিষায় থাকে তিতকুটে স্বাদ। এটা রোধ করতে বাটার সময় সামান্য লবণ ও কাচামরিচ দিলে তিতা ভাব চলে যায়।

(৪) তরকারিতে লবণ বেশি দিয়ে ফেললে এক দলা ময়দার খামির তরকারিতে ছেড়ে ফুটতে দিন। পরে ময়দার দলাটি তরকারি থেকে তুলে ফেলে দিন। তরকারির অতিরিক্ত লবণ কমে যাবে।

(৫) ডিম সিদ্ধ করার সময় অনেক ক্ষেত্রে ফেটে সাদা অংশ বের হয় পড়ে। সেক্ষেত্রে এক চিমটি লবণ পানিতে দিয়ে সেই পানিতে ডিম সিদ্ধ করুন। ডিম ফাটবেনা।
(৬) মাংস সিদ্ধ না হলে কাঁচা পেঁপের টুকরো ফেলে দিতে পারেন মাংসের হাঁড়িতে অথবা সুপারির বড় টুকরা ফেলে দিন। আবার রান্না শেষে সুপারির টুকরোটি তুলে ফেলুন।

(৭) কেক বানাতে গিয়ে যদি ডিমের পরিমান কম থাকে তাহলে একটু র্কণফ্লাওয়ার ব্যবহার করে দেখবেন ডিমের ঘাটতি কেটে গেছে।

(৮) লাড্ডু জাতীয় মিষ্টি বেশি দিন ঘরে রাখলে বাসি হয়ে যায়। খেতেও ভালো লাগেনা। তাই এই লাড্ডুগুলো হাত দিয়ে ভেঙে অল্প দুধে ফুটিয়ে নিন। চমৎকার পায়েস তৈরি হবে।

(৯) নেতিয়ে পড়া লেটুস পাতা তরতাজা করতে হলে একটি আলুর খোসা ছাড়িয়ে কুচিকুচি করে লেটুসপাতাসহ ঠান্ডা পানিতে ছেড়ে দিন।

(১০) অসাবধানতা বশত পোলাও রান্না শেষে দেখলেন খুব বেশি নরম বা জ্যাবজ্যাবে হয়ে গেছে, তখন একটুও মন খারাপ না করে একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন তোয়ালে বিছিয়ে তার ওপর পোলাও ঢেলে রেখে দিন। কিছুক্ষণ পর দেখবেন পোলাওয়ের জ্যাবজ্যাবে ভাবটি তোয়ালেতে টেনে কেমন ঝরঝরে করে তুলেছে।

5
Food / ভিন্ন স্বাদের ‘দই মাছ’
« on: March 19, 2019, 01:29:54 PM »
মাছের স্বাদ এখন পাবেন দইয়ের সঙ্গেও। সবসময় একঘেয়েমি মাছের স্বাদে অনেকেই সাক শিটকায়! তাই স্বাদের ভিন্নতায়  খাবার টেবিলে পরিবেশন করুন দই মাছ। চলুন তবে জেনে নিন রেসিপিটি-
উপকরণ: ৫০০ গ্রাম মাছ, এক চিমটি হলুদ, স্বাদমতো লবণ, এক কাপ টক দই, ৩ চামচ পেঁয়াজ বাটা, ১ চামচ আদা বাটা, ১ চামচ রসুন বাটা, ১ চামচ কাঁচা মরিচ, ১ চামচ হলুদ বাটা, ৪ চামচ সরিষার তেল, ২টি তেঁজপাতা, ১ চামচ জিরা, ২টি লবঙ্গ, ৪টি এলাচ, ১ চামচ দারুচিনি, ১ চামচ চিনি।   


 
প্রণালী: দই, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, লঙ্কা বাটা, হলুদ একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে সরিয়ে রাখুন৷ তেল গরম করে মাছ ভেজে নিন৷ এবার ওই গরম তেলেই দিন তেঁজপাতা, গোটা জিরা, লবঙ্গ, দারুচিনি ও এলাচ৷ আগে তৈরি করে রাখা দইয়ের মিশ্রণ ঢেলে ভালো করে নাড়ুন৷ ভাজা মাছ ছেড়ে দিয়ে এবার সঙ্গে যোগ করুন স্বাদমতো চিনি ও লবণ। এবার গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন দই মাছ৷

6
রুটি, পরোটা বা গরম ভাতের সঙ্গে পাঁচ মিশালি সবজির নিরামিষের তুলনা হয় না। এই রেসিপিটি আপনি যেকোনো ভাত রুটি যেকোনো কিছুর সঙ্গেই খেতে পারবেন। আর এটি স্বাস্থ্যকরও বটে। বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি এই নিরামিষ স্বাদে ও পুষ্টিতে সমান। তবে জেনে নিন পাঁচ মিশালি সবজির নিরামিষ তৈরির রেসিপি-
উপকরণ: আলু ১ কাপ, গাজর ১ কাপ, মটর আধা কাপ, মিষ্টি কুমড়া ১ কাপ, পেঁয়াজ সুন্দর করে কেটে নিতে হবে, লবণ পরিমাণমতো, পাঁচফোড়ন আধা টেবিল চামচ, জিরা আস্ত আধা টেবিল চামচ, সরিষা আধা টেবিল চামচ, হলুদ ১ চা চামচ, লাল মরিচ গুঁড়ো আধা চা চামচ, ধনে গুঁড়ো আধা চা চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আস্ত কাঁচা মরিচ ৮ টি, ধনেপাতা এক গোছা, তেল পরিমাণ মতো।
প্রণালী: সবজিগুলো ভালো করে ধুয়ে কেটে নিতে হবে। এরপর কড়াইয়ে তেল দিয়ে পাঁচফোরন, জিরা ও সরিষা ভেজে এরপর তেলে পেঁয়াজ দিয়ে ভেজে নিন। এরপর হলুদ, মরিচ গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, লবণ, আদা বাটাসহ সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নিন। মশলায় আলু দিয়ে ঢেকে রাখুন। আলু একটু সেদ্ধ হয়ে এলে মিষ্টি কুমড়া ও গাজর দিয়ে দিন। ঢাকনা খোলা রাখুন না হলে সবজির রঙ নষ্ট হয়ে যাবে। সবজি সব ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে গেলে নামানোর আগে ধনেপাতা দিয়ে নেড়ে নামিয়ে ফেলুন।

7
Food / ‘চিকেন পাস্তা’
« on: March 19, 2019, 01:23:09 PM »
উপকরণ: পেনে পাস্তা-৫০০ গ্রাম, চিকেন ছোট টুকরা-২ কাপ, অলিভ অয়েল-২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ-১টি (মিহি কুচি), রসুন কোয়া কুচি-৬টি, পার্সলে গুড়া- ১ চা চামচ, টমেটো কুচি- ৫০০ গ্রাম, লবণ-(স্বাদ মত), গোলমরিচ-পরিমাণ মত।

পদ্ধতি: প্যানে অলিভ অয়েল দিয়ে এতে রসুন কুচি হালকা বাদামী করে ভেজে আলাদা করে তুলে রাখুন। ঐ তেলেই পেঁয়াজ ভেজে তারপর টমেটো দিয়ে ১০ মিনিট রান্না করুন। টমেটো গলে গেলে লবণ, গোলমরিচের গুড়া আর পার্সলে গুড়া দিয়ে আরো কয়েক মিনিট রান্না করুন। হয়ে গেল টমেটো সস।

আলাদা প্যানে অল্প তেলে অল্প লবণ আর গোল মরিচ গুড়া দিয়ে চিকেন টুকরোগুলো ভেজে নিন। পাস্তা সিদ্ধ করে নিন, তারপর ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে হাফ চা চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে পাস্তা গুলো মাখুন। এতে পাস্তা আঠার মত লেগে থাকবে না। টমেটো সসের মধ্যে পাস্তা আর চিকেন দিয়ে ২ মিনিট বেশি আঁচে ভাজুন। উপরে চীজ চড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার চিকেন পাস্তা।

8
Food / ঘরেই তৈরি করুন চানাচুর
« on: March 19, 2019, 01:16:44 PM »
চানাচুর সবসময়ই লাগে। কিন্তু বাজারের চানাচুরে ভরসা নেই, কি দিয়ে তৈরি, কীভাবে তৈরি। তাই ঝটপট ঘরেই তৈরি করে ফেলুন মুচমুচে চানাচুর ভাজা খুব সহজেই-
উপকরণ: বেসন ২ কাপ, চিড়া ১ কাপ, বাদাম ১ কাপ, চিনি ১ চা চামচ, টেস্টিং সল্ট আধা চা চামচ, লবণ স্বাদ মতো, লেবুর রস ১০ চা চামচ, গুঁড়া ৮ চা চামচ লাল মরিচের, রসুন বাটা ২ কোয়া, আদা বাটা ২ চা চামচ, ধনে পাতা বাটা ৩ চা চামচ, পানি পরিমাণ মতো।

ণালি: চিড়া ও বাদাম বাদে বাকি সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। মিশ্রণটি দুভাগে ভাগ করে নিন। একভাগ একটু পাতলা করে মিশ্রণ তৈরি করে নিন এবং অপরভাগ রুটি বেলার মতো ডো তৈরি করে নিন। এরপর চুলায় তেল দিয়ে অনেক গরম করে নিন। পাতলা মিশ্রণটি অল্প করে তেলে দিয়ে খুব জোরে নেড়ে নিন। এতে করে ঝুড়ি ঝুড়ি তৈরি হয়ে যাবে। ভালো করে ভেজে তুলে নিন। এবার ঝুড়ি তৈরির একটি ছাঁচ নিয়ে ডো ডলে ডলে লম্বাটে চানাচুরের মতো করে তেলে ফেলতে থাকুন। কড়া আঁচে ভালো করে ভেজে তুলে নিন। এবার একটি পরিবেশন ডিসে বাদাম, চিড়া ও ভেজে নেয়া চানাচুর একসাথে মিশিয়ে ফেলুন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেলো আপনার পছন্দের চানাচুর ভাজা খুব সহজেই।

9
সহজে তৈরি করুন ভিন্ন মজাদার এ রেসিপি।
উপকরণ :

- বাইন মাছ বড় একটি

- পেঁয়াজ টুকরা করা ১ কাপ

- লবণ স্বাদ অনুযায়ী

- আদাবাটা ১ চা চামচ

- রসুন বাটা ১ চা চামচ

- হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ

- মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ

- জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ

- আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ

- কাঁচামরিচ ৫-৬টি

- তেল পরিমাণ মতো ও তেজপাতা ২টি

প্রণালী : প্রথমে মাছ কেটে ছোট ছোট টুকরা করে ভালো করে লবণ দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন। একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজের টুকরা দিয়ে ভাজা ভাজা করে একে একে সব গুঁড়া মশলা এবং লবণ দিয়ে মশলা কষিয়ে নিয়ে তাতে বাইন মাছের টুকরা এবং কিউব করা আনারস দিয়ে আবার কষিয়ে পরিমাণ মতো পানি, জিরা গুঁড়া এবং কাঁচামরিচ দিয়ে ভুনা ভুনা করে নামিয়ে পরিবেশন করুন আনারস দিয়ে বাইন মাছ ভুনা।

10
আরবি:
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌاللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيد

উচ্চারণ:
‘আল্লাহুম্মা সাল্লেআ’লা মোহাম্মদাও ও আ’লা আলি মোহাম্মদ, কামা সাল্লাইতা আ’লা ইব্রাহিমা ও আ’লা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আ’লা মোহাম্মাদেওঁ ও আ’লা আলি মোহাম্মদ, কামা বারকতা আ’লা ইব্রাহিমা ও আ’লা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ।’


 
অর্থ:
‘হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর এই রূপ রহমত নাজিল করো, যেমনটি করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তার বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করো, যেমন বরকত নাজিল করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়।’

জুমার দিনে হাতের নখ কাটা, উত্তম রূপে গোসল করা, পরিষ্কার জামা-কাপড় পরিধান করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, আগে আগে মসজিদের যাওয়ার চেষ্টা করা, ধুমপান না করা, সুন্দর ভাবে দাঁত মেসওয়াক বা ব্রাশ করা।

মসজিদে প্রবেশ করে দুরাকাত তাহইয়াতুল মসজিদের নামাজ আদায় করা, ইমাম সাহেবের খুৎবা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা উত্তম। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি খুৎবার সময় অবহেলা করে সময় নষ্ট করে তার নামাজ নষ্ট হয়ে যায়’। (মুসলিম শরীফ)

ইমাম সাহেবের সঙ্গে দুই রাকাত জুমার ফরজ নামাজ আদায় করার পর প্রতিবেশীদের খোঁজ-খবর নেয়া, গরীব দু:খীদের সুখ-দুখের খবর নেয়া এবং কথাবার্তা বলা উত্তম।


 
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করি, আমরা যেন যথাযথ ভাবে পবিত্র জুমা দিবসের গুরুত্ব উপলদ্ধি করে এ দিনের আদব ও আমলগুলো সঠিক ভাবে করতে পারি। আল্লাহুম্মা আমিন।

11
প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমার দিন সেরা দিন ও আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহর কাছে তা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের চেয়েও উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ)
আমলের দিক থেকে মহান আল্লাহ তায়ালা যেসব দিনকে ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করেছেন এর অন্যতম হলো জুমার দিন। এ দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক আহকাম ও ঐতিহাসিক নানা ঘটনা। সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ।

অন্য হাদিসে আছে, ‘যেসব দিনে সূর্য উদিত হয়েছে এরমধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন।’ জুমার দিনকে মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

জুমার ফজিলত সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘এক জুমা থেকে অপর জুমা উভয়ের মাঝে (গোনাহের জন্য) কাফ্ফারা হয়ে যায়, যদি কবিরা গোনাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে থাকে।’ (মুসলিম)

মুসলিম সমাজে জুমাবার একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিন জুমার নামাজ আদায় করা হয়। মুসলমানরা জুমার নামাজ আদায়ে মহান আল্লাহর ঘর মসজিদে সমবেত হন। জুমার আজানের আগেই সব কর্মব্যস্ততা ত্যাগ করে জুমার নামাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে মসজিদে গমন করা মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব।

পবিত্র জুমা সম্পর্কে মহান আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মনে রাখবে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন পবিত্র জুমাবার। জুমার নামাজ আদায়ে রয়েছে অশেষ কল্যাণ।’

জুমার নামাজ সম্পর্কে মহান আল্লাহর রাসূল (সা.) আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিনা কারণে তিন জুমার নামাজে যাওয়ায় অবহেলা করে সে যেন ইসলামকে অবজ্ঞা করল এবং তার হৃদয়ে মরিচা পড়ে যায়।’

জুমার দিন আজানের পরও মসজিদগুলো ফাঁকা থাকে। খুৎবার শেষ পর্যায়ে তড়িঘড়ি করে মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশ করে যা ধর্মীয় দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়।

পবিত্র জুমা দিবসে মুসলমান ধনী-দরিদ্র, উচু-নীচু, ছোট-বড় সকলে একই কাতারে দাঁড়িয়ে জুমার নামাজ আদায় করে। কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র জুমার নামাজ আমাদের ওপর অপরিহার্য করেছেন।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

‘হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে (মসজিদে) এগিয়ে যাও এবং বেচা-কেনা (দুনিয়াবি যাবতীয় কাজকর্ম) ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে।’ (সূরা: জুমা, আয়াত: ০৯)।


 
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সালাতুল জুমা বা জুমার নামাজ আদায়ের জন্য আহ্বান করেছেন। হজরত রাসূলে পাক (সা.) এর বাণী, ‘যে ব্যক্তি অলসতা করে পর পর তিন জুমা উপস্থিত হবে না আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেবেন।’

দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের সমাজের অনেক মুসলিম ভাইয়েরা মহান আল্লাহ তায়ালা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী শ্রবণের পরেও জুমার নামাজ আদায় করে না বরং সমাজে নানাবিধ অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

পবিত্র জুমা দিবসে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতীর জীবনের সর্বক্ষেত্রে সত্য-ন্যায়, ত্যাগ ও সৎকর্মের অনুশীলন এবং দেশের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে রহমত, বরকত ও মাগফিরাত কামনা করুন।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ‘জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতা থাকে, যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম মসজিদে প্রবেশ করে তার নাম লিখে রাখে। এর উদাহরণ হলো, প্রথম ব্যক্তি একটি উট কোরবানীর সাওয়াব পাবে, এরপর যে ব্যক্তি প্রবেশ করবে একটি গরু কোরবানীর সাওয়াব পাবে, এর পর যে প্রবেশ করবে সে দুম্বা কোরবানীর সাওয়াব পাবে, এরপর যে প্রবেশ করবে সে মোরগ কোরবানীর সাওয়াব পাবে।’ (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
জুমা দিবসে করণীয়: সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে জামাতের সহিত ফজরের নামাজ আদায় করে জুমার আগে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। দয়াল নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে মহান আল্লাহ পাক তার জন্য জুমার মাঝের সময়টা নূর দ্বারা ভরিয়ে দেয়।’ (বায়হাকী শরীফ)

12
লম্বা চুলের খুব সাধারণ একটি সমস্যা হল চুলের আগা ফাটা। চুলের আগা ফেটে দুই ভাগ হয়ে যাওয়াকে মূলত আগা ফাটা বলে। এর কারণে চুলে কোন হেয়ার স্টাইল যেমন মানায় না তেমনি চুল লম্বা হয় না। বিভিন্ন কারণে চুলের আগা ফাটতে পারে। অতিরিক্ত চুল ধোয়া, সূর্যের রশ্নি, ধুলা বালি, দূষণে চুল থাকা, অতিরিক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার, গরম পানিতে চুল ধোঁয়া, চুলের যত্ন না নেওয়া, তেল না দেওয়া, কেমিক্যাল পণ্য অতিরিক্ত ব্যবহার করা ইত্যাদি চুলের আগা ফাটার অন্যতম কারণ। চুলের আগা ফাটা রোধ করার জন্য অনেক নামী দামী হেয়ার ট্রিটমেন্ট করে থাকেন, কিন্তু এতেও এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এই সমস্যার সহজ সমাধান পাবেন আপনার ঘরে! ঘরোয়া কিছু উপায়ে চুলের আগা ফাটা চিরতরে দূর করে ফেলুন।

১। ডিম
চুলের আগা ফাটা রোধে সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী উপায় হল ডিম। ডিম, অলিভ অয়েল অথবা বাদাম তেল, মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি চুলে ভাল করে লাগিয়ে রাখুন। ৩০-৪৫ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এছাড়া একটি ডিম এক চামচ পানি দিয়ে ফেটে চুলে লাগিয়ে নিন। তারপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে একবার করুন।

২। হট অয়েল ডিপ কন্ডিশনার
অলিভ অয়েল, বাদাম তেল, নারকেল তেল অথবা কাস্টার অয়েল কিছুক্ষণ গরম করে নিন। এটি চুলে ভাল করে ম্যাসাজ করে লাগান। ৪৫ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে এক থেকে দুইবার করুন। এটি চুলে পুষ্টি যুগিয়ে চুলের আগা ফাটা রোধ করে দিবে।

৩। পেঁপে
পাকা পেঁপের সাথে আধা কাপ টকদই ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে নিন। ৩০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। পেঁপেতে অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং আরও অনেক ভিটামিন রয়েছে যা চুলকে নরম কোমল করার পাশাপাশি আগা ফাটা রোধ করে দিবে।

৪। কলা
একটি পাকা কলা, দুই টেবিল চামচ টকদই, গোলাপ জল এবং লেবুর রস ভাল করে মিশিয়ে নিন। এরপর প্যাকটি চুলে লাগিয়ে ফেলুন। এক ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করুন। কলার পটাশিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন এবং ভিটামিন সি, এ,ই চুলের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে আগা ফাটা রোধ করতে সাহায্য করে।

৫। মধু
মধু এবং টকদই মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর এটি চুলে ভাল করে লাগান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। জাদুকরী এই প্যাকটি দ্রুত চুলের আগা ফাটা দূর করে থাকে।

13
মিষ্টিকুমড়ার বিচি : মিষ্টি কুমড়ার বিচিতে রয়েছে অনেক উচ্চমাত্রার জিঙ্ক। যা ঠাণ্ডার স্থায়িত্বকাল কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়ার বিচি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে থাকে। সবচাইতে বড় ব্যাপার হলো, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা নতুন করে ঠাণ্ডা লাগা থেকে প্রতিরোধ করে।
রসুন: রসুন তার অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানসমূহের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বহু বছর ধরেই, ঠাণ্ডার সমস্যা দূর করতে রসুন ব্যবহূত হয়ে আসছে। রসুনে রয়েছে অষষরপরহ, যেটা এক ধরনের সালফিউরিক উপাদান। যা বিশেষ এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরি করে ঠাণ্ডার সমস্যায় ওষুধের মতো কাজ করে।
কমলালেবু: কমলালেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, যা বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল ইনফেকশন্স ও সাধারণ ঠাণ্ডার সমস্যায় খুব ভালো কাজ করে থাকে। কমলালেবু মূলত খুব শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রক্তের শ্বেতরক্ত কণিকার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। কমলালেবু অন্যতম দারুণ একটি উপাদান ঠাণ্ডা কমানোর জন্য।

মাশরুম: মাশরুম সাধারণ ঠাণ্ডা-সর্দি ও অন্যান্য ধরনের ইনফেকশনের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে। মাশরুম ঈুঃড়শরহবং এর উত্পাদন বৃদ্ধি করে থাকে, যা ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে।
দই: দই রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং সাধারণ ঠাণ্ডা ও ইনফেকশনের সমস্যার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিকভাবে লড়ায় করতে সাহায্য করে থাকে। দইয়ে রয়েছে কিছু দারুণ ও উপকারী উপাদান, যা সাধারণ ঠাণ্ডার সমস্যা ও অন্যান্য ভাইরাল ইনফেকশনের সমস্যাকে প্রতিহত করে থাকে।
দুধ: দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ডি। যা ঠাণ্ডার বিরুদ্ধে কাজ করে করে থাকে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, যাদের ভিটামিন-ডি এর স্বল্পতা রয়েছে তার তুলনামূলকভাবে বেশি ঠাণ্ডার সমস্যায় ভুগে থাকেন।
আদা: আদাতে রয়েছে বিশেষ ধরনের একটি উপাদান- সেসকুইটার্পিনস, যা সর্দি ও কাশির ক্ষেত্রে খুব বেশি উপকারী। একদম তাজা আদা খাওয়ার ফলে, সেটি জযড়হড়ারত্ঁং এর বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে এবং শরীরে অ্যান্টিভাইরাল কেমিক্যাল উত্পাদনে সাহায্য করে থাকে।
গ্রিনটি: গ্রিনটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে রোগ-প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমূহ এবং এতে রয়েছে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানসমূহ। গ্রিনটিতে রয়েছে ক্যাটেচিন নামক এক প্রকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা সাধারণ ঠাণ্ডার সমস্যায় খুব দারুণ কাজ করে বলে দেখা গেছে।

গরুর মাংস: গরুর মাংসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক। যা রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। এই শ্বেত রক্তকণিকা শরীরে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে। গরুর মাংস খাওয়ার ফলে শরীর যে প্রোটিন পায়, সেটা থেকে শরীর অ্যান্টিবডিসমূহ তৈরি করে, যা ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে।
আপেল: অন্যান্য সব ফলের মাঝে আপেলের গুনাগুনা বরাবরই অনেক বেশি। আপেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমূহ। শুধু একটি আপেলে রয়েছে ১৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি এর সমপরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট! আপেলে থাকা রোগ-প্রতিরোধী ফ্ল্যাভনয়েড ঠাণ্ডা ও জ্বরের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে।
হলুদ: হলুদে রয়েছে অনেক উচ্চ মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমূহ এবং প্রাকৃতিক প্রদাহ-বিরোধী উপাদান। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে হলুদ খেলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায় এবং ঠাণ্ডার সমস্যা দেখা দেবার সম্ভবনাও কমে যায়।
মুরগির স্যুপ: গরম ও উষ্ণ তরল খাবার, যেমন: স্যুপ শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করতে এবং মিউকাস নিঃসরণ এর হার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। মুরগির স্যুপে থাকা উচ্চ মাত্রার প্রোটিন এবং সবজি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে থাকে। ঠাণ্ডার সমস্যার জন্য স্যুপকে সুপারফুড হিসেবে বলা হয়ে থাকে।
গাজর: দারুণ এই প্রাকৃতিক সবজীতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন-এ। যা শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুব দারুণভাবে কাজ করে থাকে। তাই ঠাণ্ডাভাব দেখা দিলে গাজর খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

14
ক্যানসারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যথাযুক্ত ক্যানসার হিসেবে স্টমাক ক্যানসার বা পাকস্থলী ক্যানসার পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু এ রোগে ভুক্তভোগীদের অনেকের মধ্যে ব্যথা এ রোগের প্রাথমিক সতর্কীকরণ উপসর্গ নয়। নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হেলথ সিস্টেমের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং সার্জিকেল অনকোলজিস্ট ইউমার্ট সার্পেল বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, পাকস্থলী ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ের সবচেয়ে অধিক কমন বৈশিষ্ট্য হতে পারে- এ পর্যায়ে তেমন উল্লেখযোগ্য উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মাঝেমধ্যে পাকস্থলী ব্যথা অনুভব করে থাকি এবং তা লোকজনকে পাকস্থলী ক্যানসারের কথা মনে করিয়ে দুশ্চিন্তায় ফেলে।’ তিনি যোগ করেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাকস্থলী ব্যথা পাকস্থলী ক্যানসারের রেজাল্ট নয়।’ পাকস্থলী ক্যানসার হওয়ার মাত্রা কেমন? আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির মতে, মোটামুটিভাবে, ১১১ জন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে একজন তার জীবনকালে কোনো না কোনো সময় পাকস্থলী (গ্যাস্ট্রিক) ক্যানসারে ভুগবে এবং এ রোগটি পুরুষদের মধ্যে অধিকতর কমন। ডা. সার্পেলের মতে, ‘আপনার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার মধ্যে এ রোগ হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।’

(i).মল বা বমির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া: ডা. সার্পেল বলেন, ‘পাকস্থলী ক্যানসারের নিশ্চিত উপসর্গ ছাড়াও কোলাইটিস এবং ক্রোনস ডিজিজ উভয় ক্ষেত্রেই রক্তমল হতে পারে, মল বা বমি যে কোনো একটার সঙ্গে রক্ত যাওয়া ডিমান্ড করে যে আপনি একজন জিআই ডাক্তারের কাছে যান।’ যদি রক্তপাত পাকস্থলী ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাহলে আপনার মলের রক্ত মেরুন বা আলকাতরার মতো কালো হতে পারে। অন্যদিকে, বমির রক্ত উজ্জ্বল লাল হতে পারে এবং বমির গঠন হতে পারে অসূক্ষ্ম কফি গ্রাউন্ডের মতো, কারণ এটি আংশিকভাবে হজম হয়েছে।

(ii). দ্রুত ক্ষুধা চলে যাওয়া: আপনি ক্ষুধার্ত ছিলেন, যখন আপনি খেতে বসলেন- কয়েক গ্রাস বা কামড়ের পর আপনার ক্ষুধা চলে গেছে এবং খাবারটি খেতে আর ভালো লাগছে না। এটি হতে পারে পাকস্থলী ক্যানসারের অন্যতম উপসর্গ। ডা. সার্পেল বলেন, ‘বিশেষ করে যদি আপনার ক্ষুধা সচরাচরের তুলনায় দ্রুত মিটে যায়, তাহলে আপনার একে অবহেলা করা উচিত নয়।’
(iii). অন্ত্রে ব্যথা হওয়া: কিছুক্ষেত্রে পাকস্থলী ব্যথা পাকস্থলী ক্যানসারের উপসর্গ। ডা. সার্পেল বলেন, ‘কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনার ব্যথা অন্যান্য অন্ত্র বা পেটের অসুস্থতার কারণে হতে পারে, ক্যানসারের জন্য নয়।’ তিনি বলেন, পাকস্থলী ক্যানসার সম্পর্কিত ব্যথার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- ব্যথা অনবরত হবে এবং ব্যথা হবে ‘কামড় খাওয়া’ প্রকৃতির। তিনি আরো বলেন, ‘এটি এমন কিছু নয় যে আপনি শুধু একদিনের জন্য অনুভব করবেন, এটি দুই সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে এবং আবারো ফিরে আসতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আপনার পাকস্থলীর মধ্যখানে নিস্তেজ ব্যথা হচ্ছে ক্লাসিক পাকস্থলী ক্যানসার ব্যথা।’

(iv). অপ্রত্যাশিতভাবে ওজন হ্রাস পাওয়া: ডা. সার্পেল বলেন, ‘অনেক শারীরিক অবস্থা, যেমন- টাইপ-১ ডায়াবেটিস, অ্যাডিসন’স ডিজিজ এবং ক্রোন’স ডিজিজ, অপ্রত্যাশিতভাবে ওজন কমাতে পারে। এ তালিকায় পাকস্থলী ক্যানসার অন্তর্ভুক্ত করুন।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘যদি আপনি ওজন হারাতে থাকেন এবং ডায়েটিং না করেন, তাহলে তা এমন কিছু যাতে আপনার মনোযোগ দেয়া উচিত।’ এরকম ওজন হ্রাসের ব্যাপারে সচেতন থাকুন, কারণ এই ওজন হ্রাস ধীরে ধীরে হতে পারে। হঠাত্ ওজন হ্রাসের বিষয়টি আপনার লক্ষ্যে নাও আসতে পারে। এ জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর আপনি স্কেলের সাহায্য নিতে পারেন। ৬ মাসের মধ্যে কয়েক পাউন্ড ওজন হ্রাসের জন্য দুশ্চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু আপনার প্রচেষ্টা ব্যতীত উল্লেখযোগ্যভাবে ওজন হ্রাস পেয়ে থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
(v). বুকজ্বালা হওয়া: ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের রিসোর্স অনুসারে, বুকজ্বালা, বদহজম এবং অসুস্থ অন্ত্রের অন্যান্য কমন উপসর্গও হতে পারে পাকস্থলী ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্কীকরণ উপসর্গ। ডা. সার্পেল বলেন, ‘এ রকম উপসর্গসমূহ ক্যানসারের তুলনায় অন্যান্য শারীরিক দুরবস্থার নির্দেশক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’ কিন্তু উপসর্গ যেটারই হোক না কেন, আপনার উচিত হবে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া।

(vi). পেটফোলা, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া: আপনার পাকস্থলীতে ক্যানসার বিকশিত হলে আপনার পেটফোলা, ডায়রিয়া/ কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা বাওয়েল মুভমেন্ট বা মলত্যাগে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। এসব উপসর্গের প্রত্যেকটা এককভাবে ক্যানসারের লক্ষণ না হলেও এদের সঙ্গে এ প্রতিবেদনের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে আপনাকে ক্যানসার সম্পর্কিত ফলো-আপ টেস্টিং করতে হতে পারে, যদি আপনার ডাক্তার এসবের জন্য অন্য কোনো সমস্যাকে চিহ্নিত না করে।

15
নারীর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অনেক। পিরিয়ডের দিনগুলোতে জীবাণুমুক্ত পরিবেশ বজায় না থাকলে নানা ধরনের জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস। তাই অপরিচ্ছন্নতা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় বিশেষ করে জরায়ুমুখের ক্যানসার। কিশোরী বয়স থেকে তাই এ ব্যাপারে সচেতন থাকা জরুরি।

এইচপিভি নামের দুষ্ট ভাইরাস: জরায়ুমুখের ক্যানসারের পেছনে নাটের গুরু হিসেবে ধরা হয় এই ভাইরাসকে। পুরো নাম হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধীরে ধীরে কোষের গঠনকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। নানা স্তর পেরিয়ে একসময় রূপ নেয় আগ্রাসী ক্যানসারে। এইচপিভি ভাইরাস আছে এক শর বেশি ধরনের। এর মধ্যে এইচপিভি ১৬ ও ১৮ মূলত ক্যানসারের জন্য প্রায় ৭০ শতাংশ দায়ী।আশার কথা, বেশির ভাগ এইচপিভি সংক্রমণ আপনাআপনি সেরে যায়। কিছু সংক্রমণ যেতে পারে ক্যানসারের দিকে।
সুরক্ষার আছে উপায়: জরায়ুমুখের ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়ার উপায় আছে। ঝুঁকিগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। বাল্যবিবাহকে না। বেশি সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নজর দিতে হবে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে। কন্যাসন্তানের জন্য এইচপিভি টিকা। বড়দের জন্য ক্যানসার স্ক্রিনিং।

বিশেষ সময়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ: মাসের বিশেষ সময়টি একসময় ছিল বিব্রতকর, নানা বিড়ম্বনায় ভরা। স্কুল কামাই, কাজে বিরতি। পুরোনো ন্যাকড়ার অস্বাস্থ্যকর ব্যবহার। প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে জ্ঞানের অভাব। এখন অন্তত দু–একটা শ্রেণির নারীদের আর পুরোনো কাপড়ে নির্ভরতা নেই। স্কুল কামাই, কাজে বিরতির দরকার নেই। আধুনিক জীবাণুমুক্ত ন্যাপকিনে স্বাচ্ছন্দ্য আর স্বাস্থ্যকর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কিন্তু এর জন্য যে আর্থিক সামর্থ্যটুকু চাই, সবার তা নেই। গ্রাম ও শহরের অগণিত দরিদ্র নারীর জন্য চাই অক্ষয়কুমাররূপী একজন ‘প্যাডম্যানের’।

Pages: [1] 2 3 ... 15