Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Anuz

Pages: [1] 2 3 ... 45
1
বাংলাদেশ এখন এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারে গত দুই যুগে সিঙ্গাপুর ও হংকংকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ এই অবস্থানে উঠল। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) বিবেচনা করে প্রতিটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কত হয়েছে, সেই হিসাব করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। আর এভাবে দেশগুলোর অর্থনীতির আকার নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাবে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মোট ৭০ হাজার ৪১৬ কোটি ডলারের সমপরিমাণ পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টি হয়েছে। এডিবির ‘কি ইনডিকেটরস ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এই চিত্র উঠে এসেছে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) অনুসারে হিসাব করলে বিভিন্ন দেশের আর্থিক সক্ষমতার তুলনামূলক প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়। এডিবির প্রতিবেদনে পিপিপি অনুযায়ী এশিয়ায় সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ চীন। দেশটির মোট জিডিপির আকার ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৩ কোটি ডলার। দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত, যেখানে জিডিপির আকার ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার। এডিবির ওই প্রতিবেদনে এশিয়ার ৪৯টি দেশের মধ্যে কার কত জিডিপির আকার, তা দেখানো হয়েছে।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে। সেই বার্তা হলো—বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়ন করছে, সামষ্টিক অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থায় আছে, বিনিয়োগের সুযোগও বাড়ছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় মাথাপিছু আয় কিছুটা বাড়লেই জিডিপির আকারও অনেক বেড়ে যায়। এবার দেখা যাক, গত দেড় যুগে বাংলাদেশের অর্থনীতির যাত্রাটি কেমন ছিল। এডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০০ সালে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল সিঙ্গাপুর। ওই বছর বাংলাদেশে মাত্র ১৫ হাজার ১৮০ কোটি ডলারের পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টি হয়েছিল। তখন সিঙ্গাপুরে সৃষ্টি হয়েছিল ১৬ হাজার ৭১৮ কোটি ডলারের পণ্য উৎপাদন ও সেবা। এরপর বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে। পরের ১০ বছরেই সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশ। ২০১০ সালে বাংলাদেশের জিডিপির আকার দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ৪০৫ কোটি ডলার। ওই বছরই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে পড়ে সিঙ্গাপুর। তখন সিঙ্গাপুরে পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ৩৩২ কোটি ডলার। এরপর বাংলাদেশের শুধু এগিয়ে যাওয়ার গল্প। ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরের চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশ বেশি। একইভাবে হংকংকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। এই দেশটিও ২০০০ সালে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো হংকংকে পেছনে ফেলে দেয় বাংলাদেশ। গত বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বেড়ে হংকংয়ের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি হয়েছে। তবে উন্নয়নের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ওই দুটি দেশের চেয়ে অনেক পেছনে।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দেড় যুগে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দারিদ্র্যবিমোচনে অগ্রগতি তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। শ্রমশক্তিতে কর্মক্ষম মানুষের অংশ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বেশি। এশিয়া-প্যাসিফিকের অর্থনীতিতে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে চীন, ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, তাইপে, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম। তবে ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ এখন প্রায় সমান্তরালে অবস্থান করছে। গত বছর ভিয়েতনামের জিডিপির আকার ছিল ৭১ হাজার ১২১ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র ৭০০ কোটি ডলার বেশি। ১০-১৫ বছর আগে বাংলাদেশের চেয়ে বেশ এগিয়ে ছিল এই দেশটি। এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে ছোট অর্থনীতির দেশ হলো টুভালু। দেশটি গত বছর মাত্র ৫ কোটি ডলারের সমপরিমাণ পণ্য ও সেবা সৃষ্টি করতে পেরেছে। মজার বিষয় হলো, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৫টি ক্ষুদ্র দ্বীপদেশ সারা বছরেও বাংলাদেশের ১০ শতাংশের সমপরিমাণ পণ্য ও সেবা সৃষ্টি করতে পারে না। ২০১৮ সালে পাপুয়া নিউগিনি, ফিজি, কিরিবাতি, সামোয়া, ভানুয়াতুসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওই ১৫টি দেশের মোট জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৬৮ কোটি ডলার।

2
বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের বাকি এক মাসেরও বেশি। কিন্তু ভারতের ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিমাচের যেন তর সইছে না! স্বাগতিক কাতারের বিপক্ষে ড্র করে টগবগে মেজাজে থাকা স্টিমাচ বাজিয়ে দিয়েছেন প্রতিবেশী দুই দেশের লড়াইয়ের দামামা। সমর্থকদের প্রতি তাঁর বার্তা, কলকাতার সল্ট লেকে বা যুব ভারতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে দেখতে চান ৮০ হাজার দর্শক। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে রোববার।

ভারতের বাছাইপর্বের শুরুটা ভালোই হয়েছে বলা যায়। গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই দল ওমানের ও কাতারের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছে তারা। প্রথম ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১০ মিনিটে ২ গোল হজম করে হার মাঠ ছাড়তে হয়। মঙ্গলবার দোহায় বর্তমান এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক কাতারের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে দলটি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাছাইপর্ব শুরু হয়েছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১-০ গোলের হার দিয়ে। ১০ অক্টোবর ঘরের মাঠে কাতারের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। পাঁচ দিন পরেই সুনীল ছেত্রীদের বিপক্ষে মুখোমুখি হতে হবে জামাল ভূঁইয়াদের। এ ম্যাচ দিয়ে ৩৪ বছর পর কলকাতার মাটিতে ভারতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল (১৯৮৫ সালে শেষবার বাংলাদেশ ফুটবল দল খেলেছিল কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে)। কলকাতার মাঠে অবশ্য বাংলাদেশ শেষবার খেলেছিল ১৯৮৭ সালে, তৃতীয় সাফ গেমসে। সেবার নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ।

কলকাতার মানুষের ফুটবল প্রেম এত দিনে জানা হয়ে গিয়েছে স্টিমাচের। এ কারণে তাঁর প্রত্যাশাও একটু বেশি, ‘আমরা শুনেছি কলকাতার মানুষ খুবই ফুটবলপ্রেমী। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে পুরো গ্যালারিভর্তি দর্শক চাই। কাতারের বিপক্ষে দুর্দান্ত ম্যাচের পর এটা আমরা প্রত্যাশা করি। দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে আপনাদের সমর্থন প্রয়োজন।’ যুব ভারতীয় স্টেডিয়ামে ৮০ হাজার দর্শকের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। ম্যাচের দিন কলকাতার যুব ভারতী স্টেডিয়ামে নিশ্চয় দর্শকের ঢল নামবে। তবে স্বাগতিকদের পাশাপাশি সেদিন বাংলাদেশের পক্ষেও গলা ফাটানোর মতো মানুষের অভাব হওয়ার কথা না। গ্যালারিতে বসে খেলাটি দেখার জন্য ইতিমধ্যে অনেক বাংলাদেশি সমর্থকও কলকাতা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

3
Commerce / টাকার খোঁজে সরকার
« on: September 12, 2019, 12:41:30 PM »
খরচ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। ব্যয়ের খাত কেবল বড়ই হচ্ছে, অথচ আয়ে আছে বড় ঘাটতি। ব্যয়ের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ নেই সরকারের কাছে। বরং টাকার সংকটে আছে সরকার। সরকার পরিচালনার খরচ বেড়েছে। বাড়ানো হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা। বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ায় সুদ পরিশোধ ব্যয়সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আকার বাড়ছে উন্নয়ন ব্যয়ের। আরও আছে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের বিপুল আগ্রহ।

সব মিলিয়ে সরকারের ব্যয়ের তালিকা দীর্ঘ। কিন্তু রাজস্ব আয়ের বাইরে সরকারের জন্য অর্থের উৎস হচ্ছে ঋণ নেওয়া। আর এই ঋণ এখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফলে সরকার অর্থ সংস্থানের নানা উপায় খুঁজছে। যেমন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার অলস অর্থ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন, মহাসড়ক থেকে টোল আদায়, টেলিকম কোম্পানির কাছ থেকে চাপ দিয়ে অর্থ আদায় ইত্যাদি। সরকার এখন যেকোনোভাবে অর্থ পেতে যে মরিয়া, এটি তারই প্রমাণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আবার সরকারের ব্যয় বাড়লেও এর স্বচ্ছতা নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন। প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি, একতরফাভাবে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, জবাবদিহির অভাব, জনগণের করের টাকায় সরকারি বিভিন্ন অদক্ষ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, করের বোঝা বৃদ্ধি—এসব নিয়েও আছে নানা সমালোচনা।

বড় ব্যয়, কম আয়

২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয়ে মোট ঘাটতি ছিল ৭২ হাজার কোটি টাকা। তবে পরবর্তী সময়ে বাজেট সংশোধন করলেও রাজস্ব আয়ে মোট ঘাটতি দাঁড়ায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা। আয়ে বড় ঘাটতি নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছর। কর-জিডিপির অনুপাতের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সর্বনিম্ন অবস্থানে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট বক্তৃতায় নিজেই বলেছেন, ‘দেশে ৪ কোটি নাগরিক মধ্যম আয়ের অন্তর্ভুক্ত থাকলেও আয়কর দেয় মাত্র ২১-২২ লাখ।’ আয় বাড়াতে গত ১ জুলাই নতুন ভ্যাট আইন চালু করা হলেও ব্যবসায়ীদের চাপে তা অনেকটা প্রায় আগের আইনের মতোই রয়ে গেছে। এ থেকে রাজস্ব আদায়ে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন না। আবার উৎসে কেটে নেওয়া হয় বলে চাকরিজীবীদের কাছ থেকেই আয়কর বেশি পায় সরকার। যাঁরা ফাঁকি দেন, তাঁরা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন। সব মিলিয়ে সরকারের আয় বাড়ানোর পথ এখনো অনেকটাই সীমিত হয়ে আছে। তারপরও চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের ব্যয় পরিকল্পনা বিশাল, প্রায় সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা, বাকিটা সরকারের পরিচালন ব্যয়। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের বিপুল অর্থ খরচের চাহিদা আছে। কিন্তু সরকার এখন আয় করার কঠিন পথে না গিয়ে সহজ পথে হাঁটার চেষ্টা করছে। রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানোর দিকেই সরকারের এখন নজর দেওয়া উচিত। তা না করে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে টাকা নিতে চায়। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হতে চাই। কিন্তু এত কম রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত দিয়ে তা সম্ভব নয়। তাই অর্থ সংগ্রহের সহজ পথে না গিয়ে রাজস্ব খাত সংস্কারের কঠিন পথেই যেতে হবে।’

ঋণের ফাঁদে সরকার
এদিকে, আয়ের তুলনায় ব্যয় যত বাড়ছে, সরকারও তত বেশি ঋণের ফাঁদে পড়ছে। যেমন গত অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৯০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরেও তা ছিল সাড়ে ৮৭ হাজার কোটি টাকা। সরকারের নেওয়া মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ এখন জিডিপির প্রায় ১৭ শতাংশ।
গত ১০ বছরে সরকার সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা। এতে দুর্নীতি না কমলেও ব্যয় বেড়েছে বিপুল। মোট বাজেটের ২৮ শতাংশই খরচ হয় বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে। আরেকটি বড় খাত হচ্ছে সুদ পরিশোধ, প্রায় সাড়ে ১৮ শতাংশ। সরকার প্রতিবছর ঋণ করে ঘাটতি মেটাচ্ছে। আর এ ঋণের বড় অংশই আসছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্রের মতো অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। সঞ্চয়ের নিরাপদ বিকল্পের অভাব ও জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ে সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও কমাতে পারছে না। এতে সুদ পরিশোধ ব্যয়সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিশাল বাজেট-বড় ঘাটতি-ব্যয়বহুল ঋণ-সুদ পরিশোধ-আবার বড় বাজেট-আবার ঘাটতি-আরও সুদ পরিশোধ—এভাবেই ঋণের এই ফাঁদে পড়ে আছে বাংলাদেশ।

অর্থের সন্ধানে সরকার
স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ—এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে এখন প্রায় সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা আছে। সরকারের নজর এখন এখানে। এই অর্থের ৭৫ শতাংশ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে একটি নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিপরিষদ। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিডিপি) সদস্য শামসুল আলম এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্তটি অর্থনীতির জন্য খুব ইতিবাচক। এসব প্রতিষ্ঠান তো সরকারেরই। এই উদ্যোগ কার্যকর হলে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা পাওয়া যাবে, যা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সমান। সরকার এখন বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, টাকার দরকার আছে।
তবে সরকারের এই পরিকল্পনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এতে তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকিং খাতে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকগুলো থেকে টাকা তুলে নিলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হবে। সরকার কীভাবে বিষয়টি ব্যবস্থাপনা করবে, এটা বড় বিষয়। কারণ, বেসরকারি, বিশেষত নতুন ব্যাংকগুলো এসব টাকার ওপর নির্ভর করেই চলছে।

এদিকে, টেলিযোগাযোগ খাতের বড় দুই কোম্পানি গ্রামীণফোন ও রবির কাছে ১৩ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে নানাভাবে চাপ দিচ্ছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর কোনো সুরাহা হচ্ছে না। বরং চাপ দিয়ে অর্থ আদায় করা সম্ভব বলে সরকারের একটি পক্ষের ধারণা। পাশাপাশি ৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে দেশের জাতীয় মহাসড়ক ব্যবহারের ওপর টোল আদায়ের নির্দেশ দেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল বুধবার এ নিয়ে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘দেশের মহাসড়কে টোল আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পর এখান থেকে সরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রধানমন্ত্রী নিজেই যেহেতু ঘোষণা দিয়েছেন এরপর তো নড়ন-চড়নের কোনো বিষয় নেই।’ চারটি মহাসড়কে টোল আরোপের বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি। মহাসড়কে টোল আদায় করা হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের ব্যয় বেড়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান এ বিষয়ে বলেন, অনেক দেশেই সাধারণ সড়কের বিকল্প হিসেবে টোল রোড থাকে। সেখানে নিরবচ্ছিন্ন গতি ও রাস্তা ভালো থাকে বলে বাড়তি খরচ দিলেও চাপ তৈরি হয় না। বাংলাদেশে রাস্তাঘাট যদি একই থাকে, চলাচল নিরবচ্ছিন্ন না হয়, তাহলে টোলের কারণে মানুষের ব্যয় বাড়বে।

খরচ বেশি, জবাবদিহি কম
সরকার এখন ১১টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই ১১ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা আছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা। বেশির ভাগ বড় প্রকল্পেই খরচ ও বাস্তবায়নের সময় বেড়েছে। এতে এর অর্থনৈতিক উপযোগিতাও কমছে। আবার সরকার এখন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি সহায়তার তুলনায় স্থানীয় উৎস থেকে বেশি অর্থ ব্যয় করছে। এই অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন। ফলে প্রকল্পে একেকটি বালিশের দাম পড়ছে ৬ হাজার টাকা, চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বই কেনা হচ্ছে ৮৫ হাজার টাকায়, আর পর্দার দাম হয়ে যাচ্ছে ৩৭ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এখন তহবিল ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের ঘাটতি একদিকে দুর্নীতি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝাও চাপছে। সামগ্রিক বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সরকার অনেক অপ্রয়োজনীয় ব্যয় করছে। ১ টাকার কাজ ৫ টাকায় হচ্ছে। জনগণের সম্পদের স্বচ্ছ ব্যবহার করা গেলে এমনটি হতো না। এটা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার একটা বড় দুর্বলতা। সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, দেশীয় উৎস থেকে ঋণ করলে খরচের জবাবদিহি কম। বিদেশি ঋণে অনেক শর্ত থাকে। এ জন্য সরকার দেশীয় উৎসের দিকেই ঝুঁকছে। এতে দেশের ব্যবসায়ীদের ঋণ নেওয়ার সুযোগ যেমন কমে আসছে, তেমনি করের বোঝা কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর পড়ছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়।

4
এখন জিমেইলের যুগ। নানা কাজে অনেকেই জিমেইল ব্যবহার করছেন। কিন্তু ইয়াহু কিংবা অন্য মেইল ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের মেইলে আসা বার্তাগুলো জিমেইলে স্থানান্তর করে নিতে পারে। জিমেইলে সে সুবিধা রয়েছে। গুগল ইয়াহু, আউটলুকের মতো মেইল থেকে জিমেইলে মেইল স্থানান্তর করার জন্য বিনা মূল্যের একটি সেবা তৈরি করে রেখেছে। কয়েকটি ধাপে আপনার পুরোনো মেইল থেকে নতুন মেইলে স্থানান্তর করতে পারেন। জেনে নিন ধাপগুলো:

১. জিমেইল অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। ডান কোনায় সেটিংস অপশনে যান। সেটিংস আইকনটিতে ক্লিক করুন।
২. ‘অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ইমপোর্ট’ অপশনে যান। সেখানে ‘ইমপোর্ট মেইল অ্যান্ড কনটাক্টস’ অপশনে ক্লিক করুন। একটি নতুন উইন্ডো পাবেন।
৩. বক্সে অন্য মেইল অ্যাড্রেস টা লিখুন। এবং কন্টিনিউ ক্লিক করুন।
৪. এখানে গুগলের প্রদর্শিত শাটলক্লাউড নীতিমালায় সম্মতি দিতে হবে। পড়ে সম্মতি দেওয়ার পর ‘কন্টিনিউ’ চাপুন।
৫. নতুন উইন্ডো পাবেন। নেক্সট স্টেপে গিয়ে আপনার আইডি–পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। আগে থেকে সাইনইন করা থাকলে এ ধাপ এড়াতে পারেন।
৬. টুলটিকে এরপর আপনার মেইল স্থানান্তরের জন্য অনুমতি দিতে হবে। অনুমতি দিয়ে ‘ইয়েস’ করুন।
৭. টুলটি মেইলে অনুমতি পেলে ‘অথেনটিকেশন সাকসেসফুল’ দেখাবে। উইন্ডো বন্ধ করে দিন।
৮. উইন্ডো বন্ধ করার পর কী কী স্থানান্তর করবেন, তা ঠিক করে দিন। এখানে মেইল, কন্টাক্টসহ দরকারি বিষয়গুলো নির্বাচন করে দিন। এরপর ইমপোর্ট ক্লিক করুন।
৯.ওকে ক্লিক করে উইন্ডো বন্ধ করে দিন।
১০. স্টার্ট ইমপোর্ট দেওয়ার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। টুলটি আপনার মেইল স্থানান্তর শুরু করবে। তথ্যের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে এতে কতটা সময় লাগবে। আপনি চাইলে ‘অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ইমপোর্ট’ থেকে মেইল স্থানান্তর বন্ধ করে দিতে পারবেন।

5
লিচ যখন উইকেটে আসেন, ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার ৭৩ রান। ততক্ষণে মোটামুটি সবাই নিশ্চিত, অ্যাশেজের এই টেস্টটাও জিততে চলেছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বেন স্টোকস আর জ্যাক লিচ যে নৈরাশ্যবাদীদের দলে ছিলেন না! সেখান থেকে তিলে তিলে গড়ে তুললেন জুটি। যে জুটিতে পরবর্তী এক ঘণ্টা টেল-এন্ডার জ্যাক লিচ একের পর এক বলে কোনোভাবে নিজের প্রাণরক্ষা করে চললেন, ওদিকে স্টোকস চালালেন তাণ্ডব। আর তাতেই রচিত হলো ইংল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় জয়। লিচের ১৭ বলে করা এক রান কাগজে-কলমে কিছু না হলেও সময়ের হিসাবে সেঞ্চুরির সমান মর্যাদা পাচ্ছে। আলোচনা উঠেছে, এটাই সেরা এক রানের ইনিংস কি না!

লিচ উইকেটে টিকে না থাকলে স্টোকস ক্রিজে ওই মহাকাব্য রচনা করতে পারতেন না। আর সেই মহাকাব্য রচিত না হলে টেস্ট হারার পাশাপাশি অ্যাশেজটাও হাতছাড়া হতো ইংলিশদের। তাই লিচকে নিয়ে মাতামাতি চলছেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিচ-বন্দনায় মেতেছেন সবাই। অনেকের মতে, এটাই টেস্ট ইতিহাসের সেরা এক রানের ইনিংস! ইংল্যান্ডের লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনই যেমন, টুইটারে লিখেছেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা এক রানের ইনিংস হিসেবে লিচের এই ইনিংসটার মর্যাদা পাওয়া উচিত।’ করবিনের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন, ‘জ্যাক লিচ, আমার নায়ক। ইতিহাসের সেরা অপরাজিত এক রান!’

ইংলিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের সাংবাদিক শচীন নকরানির মতে ইতিহাসের না হলেও অ্যাশেজের সেরা এক রানের ইনিংস তো বটেই, ‘অ্যাশেজ ইতিহাসের সেরা এক রানের ইনিংস খেলল জ্যাক লিচ। অসাধারণ ধৈর্য ও রক্ষণাত্মক মানসিকতার প্রদর্শনী দেখাল সে। চশমা পরা কিংবদন্তিকে আমার টুপিখোলা সম্মান!’ ইএসপিএনের সাংবাদিক ইয়ান ডার্ক লিখেছেন, ‘অ্যাশেজ ইতিহাসের সেরা এক রানের ইনিংস খেলেছেন জ্যাক লিচ।’

বিটি স্পোর্টসের সাংবাদিক নিক মুলিন্সও একই কথা বলেছেন, ‘টেস্ট ইতিহাসের সেরা অপরাজিত এক রানের ইনিংস দেখলাম!’ ইংলিশ কৌতুকাভিনেতা জিওফ নোকটের মতেও বিশ্বসেরা এক রানের ইনিংস এটাই। একজন লিখেছেন, ‘ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা এক রানের ইনিংসের দৌড়ে এইমাত্র জ্যাক লিচ মাখায়া এনটিনিকে পেছনে ফেলল!’

6
রিকি পন্টিংয়ে নিশ্চয়ই মন খারাপ! ইংল্যান্ডের ৯ উইকেট ফেলে দিয়েও হেডিংলিতে অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত জিততে পারল না। কিন্তু কোনো বীরের বীরত্বের কাছে তো হেরে যেতেও আনন্দ। পন্টিংয়ের অনুভূতিটাও এমন। বেন স্টোকস কাল যে ইনিংসটি খেলে ইংল্যান্ডকে জেতালেন, তেমন কিছু অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সফল অধিনায়কও টেস্টে আগে কখনো দেখেননি বলেই জানিয়েছেন।

দলের নিশ্চিত হারের সামনে দাঁড়িয়ে এমন অবিচলও থাকা যায়! উল্টোদিকে একের পর এক উইকেট পড়ছে। হারের শঙ্কা কালো মেঘ হয়ে ঘিরে ধরেছে, কিন্তু স্টোকস শেষ পর্যন্ত পাল্টা–আক্রমণ করে গেলেন। কী সে আক্রমণের ধরন! অস্ট্রেলীয় বোলাররা সবাই দিশেহারা, হিসাব-নিকাশ, পরিকল্পনা সবকিছুই ছত্রখান। টেস্ট ক্রিকেটে বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ের ইতিহাস লিখতে গেলে স্টোকসের হেডিংলির ইনিংসটি আনতেই হবে। প্রথম ইনিংসে ৬৭ রানে অলআউট হয়ে টেস্ট জেতার কীর্তিটাই যেখানে ঘটল ১৩১ বছর পর, তার ওপর স্টোকসের বীরত্ব। ৩৫৯ তাড়া করতে নেমে ২৮৬ রানে ৯ উইকেট পড়ে যাওয়ার অনেকেরই স্টেডিয়াম ত্যাগ করার কথা, কিংবা টেলিভিশন বন্ধ করে দেওয়ার কথা। ইন্টারনেটে লাইভ স্কোর দেখতে থাকলে, সেটি বাদ দিয়ে অন্য কিছুতে মনোযোগ দেওয়ার কথা। অনেকে হয়তো তেমন কিছু করেছিলেনও। কিন্তু যাঁরা করেছিলেন, আফসোসটা নিশ্চয়ই এখন তাঁদের কুরে কুরে খাচ্ছে। ইতিহাসের সেরা টেস্ট ইনিংসের মর্যাদা অনেকেই দিচ্ছেন স্টোকসের ১৩৫-কে।

পন্টিং স্টোকসের এই ইনিংসকে দেখছেন টেকনিক্যাল দৃষ্টি দিয়েই, ‘দেখুন, স্টোকসের ইনিংসটিতে কোনো ভুল নেই। গোটা ইনিংসে তাঁকে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। অনেক পরিকল্পনা বদলাতে হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি সিদ্ধান্তই নিখুঁত।’ পন্টিংয়ের সেরা টেস্ট ইনিংস এটিই, ‘আমি নিশ্চিত, আমি টেস্ট ক্রিকেটের ময়দানে এর চেয়ে ভালো কিছু অতীতে দেখিনি। প্রথম ৬৪ বলে ২ রান করেছিল স্টোকস। কিন্তু আমার সব সময় মনে হয়েছে, স্টোকস যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে, তাহলে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা থাকবে।’

স্টোকসের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া আর পাল্টা আক্রমণের ব্যাপারটি পন্টিংয়ের দৃষ্টিতে দুর্দান্ত, ‘তার মারগুলো ছিল দুর্দান্ত। ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য ৭৩ রান দরকার ছিল, তখন সে মেরেছে। সে মেরেছে এমন একটা সময় যখন ইংল্যান্ডের ৯ উইকেট পড়ে গেছে। কোনো সন্দেহ নেই। তার পুরো ইনিংসই ছিল অবিস্মরণীয় ও অসাধারণ। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না, আমি কী দেখলাম।’

7
ডায়াবেটিস রোগীর অতিরিক্ত গ্লুকোজের কারণে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায়, ফলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিসের রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম। যাঁদের ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ ভালো নয় (রক্তের গ্লুকোজ কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে বেশি) তাঁদের ডেঙ্গু জ্বর হলে ক্ষতির তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। রক্তের গ্লুকোজের তিন মাসের গড় বা এইচবিএওয়ান সির মাত্রা বেশি থাকলে ডেঙ্গুর জটিলতার ঝুঁকি বেশি তা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত। ডেঙ্গু রোগের মৃত্যুর কারণ প্রধানত ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (ডিএসএস)। ডায়াবেটিসের রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাঁদের মৃত্যুহারও অনেক বেশি।
ডেঙ্গুর এ মৌসুমে ডায়াবেটিসের রোগীরা যা মনে রাখবেন:

: বাড়িতে বা আশপাশে কারও ডেঙ্গু হলে সতর্ক থাকুন। দিনের বেলা মশারির নিচে ঘুমাবেন, মশানিরোধক ক্রিম ব্যবহার করুন। ডেঙ্গু হলে যথেষ্ট পানি ও তরল পান করবেন, তবে ডায়াবেটিস থাকার কারণে চিনিবিহীন তরল বেছে নিন। যেমন—চিনিবিহীন ফলের রস, খাওয়ার স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ ইত্যাদি।

: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। এতে জটিলতার ঝুঁকি কমে। খালি পেটে ৬ মিলিমোলের নিচে, খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর ৮ মিলিমোলের নিচে এবং এইচবিএওয়ানসি ৭–এর নিচে রাখাকে সুনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বলে।

: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা এর জটিলতা থাকলে (যেমন—কিডনি রোগ, প্রস্রাবে আমিষ যাওয়া, হৃদ্‌রোগ) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়াই শ্রেয়।

: ডেঙ্গু হলেও ডায়াবেটিস রোগীর সাধারণ ওষুধ বন্ধ করা যাবে না, যেমন—ইনসুলিন, মুখে খাওয়ার ওষুধ ইত্যাদি। তবে এসজিএলটি ইনিহিবটর পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডেঙ্গু হলে অরুচি বেড়ে যায়, বমি হতে পারে, রোগী কিছু খেতে পারে না। তাই রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে। ইনসুলিন বা মুখে খাওয়ার ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দরকার।

: বেশির ভাগ ডায়াবেটিসের রোগী উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, অ্যাসপিরিন ইত্যাদি গ্রহণ করেন। ডেঙ্গুর সময় অ্যাসপিরিন বন্ধ রাখাই ভালো। রক্তচাপ কমে যাওয়ার প্রবণতার ওপর নির্ভর করে রক্তচাপের ওষুধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

: ডায়াবেটিসের সঙ্গে কিডনি বা হার্টের জটিলতা থাকলে স্যালাইন দেওয়ার বিষয়ে অতি সতর্কতা প্রয়োজন।

8
এক সাংবাদিক কাল রসিকতা করেই বললেন, ‘রাসেল ডমিঙ্গোকে নিয়ে ভালোই লাভ হলো বিসিবির’। কোচের বাজারে হাই প্রোফাইলরা যে ‘দাম’ হাঁকছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকান কোচকে বেছে নিয়ে টাকার অঙ্কে একটু লাভই হয়েছে বিসিবির।
ট্যাক্স বা আয়কর বাদে ডমিঙ্গো মাসে পাবেন ১৫ হাজার ডলারের কাছাকাছি, টাকায় যেটি ১২ লাখ ৬৮ হাজার। আয়করসহ প্রোটিয়া কোচের বেতন দাঁড়াবে ১৮ হাজার ডলারের মতো। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে কোচদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পেয়েছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। শ্রীলঙ্কান কোচ মাসে পেতেন ২৫ হাজার ৮০০ ডলার, টাকায় যেটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার। বছরে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা, আগেই বলা হলো বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ কোচ স্টিভ রোডসকে বিসিবি দিত ২২ হাজার ডলার বা সাড়ে ১৮ লাখ টাকা। সে তুলনায় ডমিঙ্গোকে কমেই পেয়েছে বিসিবি।

অবশ্য আরও খরচ করতে নাকি আপত্তি ছিল না বিসিবির। সে কারণেই তারা পেতে চেয়েছিল মাইক হেসনকে। ভারতের কোচ হতে সাক্ষাৎকার দেওয়া হেসন বিসিবির কাছে পারিশ্রমিকটা অবশ্য একটু বেশিই চেয়ে ফেলেছিলেন, মাসে যেটি ৩০ হাজার ডলারেরও (২৫ লাখ টাকা) বেশি। তার শর্তও ছিল অনেক। আগামী ৩-৪ মাসের আগে কাজে যোগ দিতে পারবেন কি না, এটি নিয়েও ছিল সংশয়। বেতন চাচ্ছেন বেশি, কবে আসবেন সেটিও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না—বিসিবি কেন হেসনের জন্য বসে থাকবে! ডমিঙ্গোকে তাই দ্রুত নিয়ে নেওয়া যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে তাদের।

বাংলাদেশে আসা বিদেশি কোচিং স্টাফদের থাকার ব্যবস্থা দুই রকম। কেউ গুলশান-বনানীতে ফ্ল্যাট নিয়ে থাকেন, কেউ আবার হোটেলে থাকেন। তাঁরা যেখানেই থাকুন, ভাড়াটা বিসিবিই দিয়ে থাকে। ডমিঙ্গোর ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হবে না। সাবেক এ দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ বিশ্বমানের ইনস্যুরেন্স পাবেন, যেটি বিশ্বের বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় কিংবা কোচ পেয়ে থাকেন। চালকসহ ২৪ ঘণ্টা গাড়ি থাকবে তাঁর জন্য। শুধু নিজেই নন, কোচের পরিবারের জন্য থাকবে ভ্রমণভাতা। সঙ্গে যোগ হবে বোনাস। সাধারণত বোনাস তো আছেই, থাকবে সফর, ম্যাচ, পারফরম্যান্স বোনাসও। কখনো কখনো সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মীও থাকবে, তবে সেটি নির্ভর করছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে পা রেখেই ডমিঙ্গো পরিচিত পরিবেশ পাবে, কোচিং স্টাফে যে আরও তিনজন দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ আছেন—ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি, পেস বোলিং কোচ চার্লস ল্যাঙ্গেভেল্ট আর ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক। টাকার অঙ্কে লাভ-লোকসান কতটা হলো, সেটি নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বাংলাদেশ কতটা সাফল্য পায়, সেটির ওপর নির্ভর করবে ডমিঙ্গোকে এনে বিসিবির কতটা লাভ হলো।

9
পাকিস্তান দলে আপাতত কোচ নেই; কমান্ড্যান্ট আছেন! মিসবাহ-উল হককে দেওয়া হয়েছে ক্যাম্প কমান্ড্যান্টের দায়িত্ব। কোনো ক্রিকেট দলে এমন পদ এর আগে কখনো ছিল কি না কে জানে! বিশ্বকাপ ব্যর্থতার দায়ে কোচ মিকি আর্থার আর তাঁর সহকারীদের ছেঁটে ফেলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। নতুন কোচ নিয়োগের আগে পিসিবি ধীরে চলো নীতি নিয়েছে। তবে এর মধ্যে পাকিস্তানের নতুন ক্রিকেট মৌসুম শুরু হয়ে যাচ্ছে। তারই প্রস্তুতি নিতে পাকিস্তান ১৭ দিনের প্রাক মৌসুম ক্যাম্প করবে। এই ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকবেন মিসবাহ-উল হক। ২২ আগস্ট লাহোরে শুরু হবে ক্যাম্প।

সাবেক অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যান মিসবাহ দীর্ঘ মেয়াদে পাকিস্তানের দায়িত্ব নিতে পারেন, এমন একটা গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর স্বদেশি কোচের অধীনে দলের দায়িত্ব সঁপে দেওয়ার একটা দাবি উঠেছে। অবশ্য পাকিস্তানের সদ্য বিদায়ী ব্যাটিং কোচ গ্রান্ট ফ্লাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, সাবেক কিছু পাকিস্তানি ক্রিকেটারই নাকি তাঁদের পিঠে ছুরিটা মেরেছে। মিসবাহ দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব নেবেন কি না, তা বোঝা যাবে শিগগিরই। আপাতত তাঁর দায়িত্ব আসন্ন ঘরোয়া ও পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচির জন্য ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করা। ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হবে পাকিস্তানের ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস টুর্নামেন্ট কায়েদ-এ আজম ট্রফি।

পাকিস্তানের ক্রিকেটে এমনিতেই বেশ কিছু বড় রদবদল এসেছে। কোচিং স্টাফদের ছাঁটাই ছাড়াও কেন্দ্রীয় চুক্তির খেলোয়াড় সংখ্যা ছেঁটে কমিয়ে আনা হয়েছে। যাঁদের মধ্যে শীর্ষ ‘এ’ ক্যাটাগরিতে মাত্র দুজন। সাফল্য পেলে পুরস্কৃত হওয়ার পাশাপাশি ব্যর্থ হলে তার প্রাপ্যও পেতে হবে, এই হলো পিসিবির বার্তা। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ১৪ ক্রিকেটারের সঙ্গে আরও ৬ জনকে নিয়ে ক্যাম্প শুরু করবেন মিসবাহ।

কায়েদ-এ আজম ট্রফিতে ৩১টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ হবে এবার। এর পাশাপাশি হবে ঘরোয়া ওয়ানে পাকিস্তান কাপ। এ মৌসুমে পাকিস্তান ৬টি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও নয়টি টি-টোয়েন্টিও খেলবে। মিসবাহকে বিশেষ করে টেস্ট দলের দিকনির্দেশনার জন্য দীর্ঘ মেয়াদেও যে ভাবা হতে পারে সে ইঙ্গিত আছে পিসিবি পরিচালক জাকির খানের কথায়, 'পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল কোচ ছিলেন মিসবাহ। বিশেষত তিনি জানেন এই যুগে টেস্ট ক্রিকেট কীভাবে খেলতে হয়। আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ যখন দুয়ারে, পিসিবি চায় পাকিস্তান দল যেন নিজেদের মাটিতে দুই টেস্টের হোম সিরিজে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হওয়ার আগে লাল বলের ক্রিকেটে সেরা প্রস্তুতি নিতে পারে।'

10
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন কোচ হিসেবে রাসেল ডমিঙ্গোকেই নির্বাচন করল বিসিবি। আজ সংবাদ সম্মেলনে নতুন কোচ হিসেবে ডমিঙ্গোর নাম জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। তাঁর সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছে বিসিবি। ২১ আগস্ট বাংলাদেশের কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজে যোগ দেবেন ৪৪ বছর বয়সী ডমিঙ্গো। এর আগে বিসিবিতে সাক্ষাৎকার দিতে ঢাকায় এসেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এ কোচ।

সাক্ষাৎকারে ডমিঙ্গো দুই ভাবে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন বিসিবির পরিচালকদের সামনে। একটি পরিকল্পনা ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে। আরেকটি ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে লক্ষ্য রেখে। তাঁর পরিকল্পনা ভালোই লেগেছে বলে তখন জানিয়েছিলেন সাক্ষাৎকার বোর্ডে উপস্থিত বিসিবির এক পরিচালক। শুরুতে অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোচ হওয়ার দৌড়ে টিকে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোচ মাইক হেসন ও ডমিঙ্গো। দুজনের মধ্যে শুধু ডমিঙ্গোই ঢাকায় এসে সাক্ষাৎকার দিয়ে গেছেন।

বড় পর্যায়ে ক্রিকেট না খেললেও কোচিংয়ের ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে ডমিঙ্গোর। খেলা ছাড়ার পর অর্জন করেন স্পোর্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং মার্কেটিংয়ের ওপর ডিগ্রি। এরপর মাত্র ২৫ বছর বয়সেই দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন প্রভিন্স যুব দলের কোচের দায়িত্ব পেয়ে যান তিনি। পরের ১২ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৯ , বি দল ও এ দলের দায়িত্ব পালন করেন ডমিঙ্গো। ২০০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া দল ওয়ারিয়র্স কোচের দায়িত্বও পান তিনি। ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হন গ্যারি কারস্টেন। তখন ডমিঙ্গোকে নিজের সহকারী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। এক বছরের মাথায় সহকারী কোচ থেকে টি-টোয়েন্টি দলের হেড কোচে উন্নীত হন ডমিঙ্গো। ২০১৩ সালে গ্যারি কারস্টেনের বিদায়ের পর তিন সংস্করণেই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচের দায়িত্ব পান ডমিঙ্গো। তাঁর অধীনে ১৩ টেস্ট সিরিজের ৮টিতে জয়ী হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান থেকে সাতে নেমে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে দুইয়ে টেনে তুলেছিলেন ডমিঙ্গো।

ডমিঙ্গোর সময়ে ২২ ওয়ানডে সিরিজের ১৪টিতে জয়ী হয়ে ওয়ানডেতে শীর্ষ দল হিসেবে জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র জয়টি আসে তাঁর সময়েই। টি-টোয়েন্টিতে ৪২ ম্যাচের মধ্যে ২৩ জয় এসেছে এ সময়। তাঁর অধীনে ২০১৫ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৭ সালে ওটিস গিবসনের হাতে দায়িত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ছাড়েন ডমিঙ্গো। উপমহাদেশের কোনো দলের সঙ্গে এর আগে কাজ করেননি ডমিঙ্গো। দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরেও কোনো দলের সঙ্গে কাজ করেননি তিনি। তাঁর কোচিংয়ে বিশেষ ব্যাপার হলো, ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে যান, কিন্তু ক্রিকেটাররা যেন তাদের দায়িত্ব পালন করেন সেদিকেও সর্বদা খেয়াল রাখেন।

11
ন্যায্য দাম না পেয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে কোরবানির পশুর ৯০০টি চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও সৈয়দপুর হোসাইনিয়া হাফিজিয়া আরাবিয়া দারুল হাদিস মাদ্রাসার পক্ষে থেকে বিভিন্ন গ্রাম থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া বিক্রির জন্য দুই দিন ধরে চেষ্টা করেও ন্যায্য দামে তা বিক্রি করতে পারেনি। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে চামড়াগুলো মাটি চাপা দেয় তারা। ওই মাদ্রাসার মুহতামিম সৈয়দ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য এবারও আমাদের মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানি দাতাদের কাছ থেকে কোরবানির পশুর ৯০০ চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে গরুর চামড়া রয়েছে ৮০০টি এবং ছাগলের চামড়া ১০০টি। এসব চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে চামড়াগুলো মাটি চাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘চামড়াগুলো সংগ্রহ ও চামড়ায় লবণ ব্যবহারে জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।’

সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া বলেন, চামড়ার দামে এমন পতনে ক্ষুব্ধ হয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য সংগৃহীত চামড়াগুলো মাটি চাপা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

রাত ১০টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে নয় শ চামড়া মাটি চাপা দেওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আর্থিকভাবে এখন স্বাবলম্বী। ফলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তারা এ ধরনের কাজ করেছে।’

12
কমনওয়েলথ গেমসের আগামী আসর অনুষ্ঠিত হবে ২০২২ সালে বার্মিংহামে। এ সংস্করণ দিয়ে ক্রিকেটকে আবারও ফেরানো হবে কমনওয়েলথ গেমসে। মেয়েদের শীর্ষ আট দল টি-টোয়েন্টি সংস্করণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে কমনওয়েলথ গেমসের (সিডব্লিউজি) আগামী আসরে। সিডব্লিউজি ফেডারেশন সভাপতি ডেম লুই মার্টিন বলেন, ‘আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। কমনওয়েলথ গেমসে ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে পেরে আমরা খুশি।’

২০২২ কমনওয়েলথ গেমসে মেয়েদের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এজবাস্টনে। ক্রিকেট সবশেষ অন্তর্ভুক্ত ছিল ১৯৯৮ কমনওয়েলথ গেমসে। সেবার ৫০ ওভার সংস্করণের ফাইনালে স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছিল শন পোলকের দক্ষিণ আফ্রিকা। এদিকে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকেও ফেরানো হতে পারে ক্রিকেট। এমসিসি বিশ্ব ক্রিকেট কমিটির সভাপতি মাইক গ্যাটিং জানিয়েছেন এ খবর। তাঁর কমিটিকে আইসিসির নতুন প্রধান নির্বাহী মানু স্বহনে বলেছেন, অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে অনেকটা পথ অগ্রসর হওয়া গেছে। এমসিসির এই বিশ্ব ক্রিকেট কমিটির সদস্য বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

সংবাদমাধ্যমকে গ্যাটিং বলেন, ‘আইসিসির প্রধান নির্বাহী মানু স্বহনের সঙ্গে কথা হয়েছে। ২০২৮ অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করানোর ব্যাপারে তিনি খুব আশাবাদী। ক্রিকেটের জন্য এটি হবে দারুণ খবর।’ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে এর আগে একবারই ক্রিকেট খেলা হয়েছে—সেটি ১৯০০ সালে প্যারিস অলিম্পিকে। সেবার ফ্রান্সকে ১৫৮ রানে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছিল ব্রিটেন।

13
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর্দা নেমেছে প্রায় এক মাস হতে চলল। অথচ ফাইনালের রেশ এখনো রয়ে গেছে। ফাইনালে মার্টিন গাপটিলের সেই ওভার থ্রো নিয়ে এখনো চলছে তর্ক-বিতর্ক। সেই বিতর্কিত ওভার থ্রো সেপ্টেম্বর মাসে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ম নির্ধারণ সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব বা এমসিসি। ফাইনালে ইংল্যান্ডের ইনিংসে জয়ের জন্য শেষ ৩ বলে দরকার ছিল ৯ রান। এমন পরিস্থিতিতে মার্টিন গাপটিলের থ্রো বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে বাউন্ডারি সীমানা টপকে যায়। আর ব্যাটসম্যানরা দৌড়ে ২ রান নেওয়ায় আম্পায়ার মোট ৬ রান যোগ করতে বলেন স্কোরবোর্ডে। এটা নিয়েই যত বিতর্ক।

সুপার ওভারেও ম্যাচ টাই হওয়ায় শিরোপার নিষ্পত্তি হয়েছে বাউন্ডারি সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে, যেখানে এগিয়ে থেকে শিরোপা জিতেছে ইংল্যান্ড। আর হৃদয় জিতেছে নিউজিল্যান্ড। তবে ভরপুর উত্তেজনার এ ম্যাচেও জন্ম নিয়েছে বিতর্ক আর সেটি ইংল্যান্ডের ইনিংসে শেষ ওভারে, ১ রান নিয়ে।

শেষ ৩ বলে ৯ রান দরকার ছিল ইংল্যান্ডের। ট্রেন্ট বোল্টের করা চতুর্থ বলটি ডিপ মিডউইকেটে পাঠিয়ে ২ রান নিতে চেয়েছিলেন বেন স্টোকস। মার্টিন গাপটিল বেশ ভালো থ্রো করেছিলেন। স্টাম্পে সরাসরি লাগলে হয়তো রানআউট হতে পারত। সে শঙ্কাতেই পড়িমরি করে ডাইভ দিয়েছিলেন স্টোকস। বল তাঁর ব্যাটে লেগে থার্ড ম্যান দিয়ে পার হয় সীমানা! পুরো ঘটনা এবং স্টোকসের ক্ষমা প্রার্থনাসুলভ চাহনি দেখে তখনই বোঝা গেছে, এ বাউন্ডারি হওয়ায় তাঁর ইচ্ছাকৃত কোনো হাত ছিল না। নিতান্ত অনিচ্ছাকৃতভাবেই ঘটে গেছে।

সে যা-ই হোক, মাঠের সহকর্মী আম্পায়ারের সঙ্গে আলোচনা করে স্কোরবোর্ডে ৬ রান (দৌড়ে ২ রান ও ওভার থ্রোতে ৪ রান) যোগ করার সিগন্যাল দেন আরেক আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। কিন্তু আম্পায়ারের দেওয়া ৬ রান নিয়েই বিতর্ক। কারণ ওটা ৬ রান না, ৫ রান হবে। কারণ আইনের ১৯.৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ফিল্ডারের ওভার থ্রো কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে করা কোনো কিছু থেকে বাউন্ডারি হলে...বাউন্ডারি যোগ হবে এবং ব্যাটসম্যানরা একসঙ্গে যত রান নিয়েছেন সেটাও, যদি থ্রোয়ের সময় তাঁরা ইতিমধ্যেই একে অপরকে পার হয়ে যান। আইনের শেষের কথাটি নিয়েই প্যাঁচ লেগেছে। ওই ঘটনার ভিডিও রিপ্লে দেখে পরিষ্কার বোঝা গেছে, গাপটিল থ্রো করার সময় ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস ও আদিল রশিদ দ্বিতীয় রান নেওয়ার জন্য একে অপরকে ক্রস (পার হওয়া) করেননি। অর্থাৎ গাপটিল যখন থ্রোয়ের জন্য বল তুলছিলেন, স্টোকস ননস্ট্রাইক প্রান্তে আর আদিল রশিদ স্ট্রাইকারের প্রান্তে ছিলেন। অর্থাৎ দৌড়ে ২ রান নয়, ১ রান হবে আর সঙ্গে বাউন্ডারি—মোট ৫ রান।

আইনটির অস্পষ্টতার কারণেই এ প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ফিল্ডারদের থ্রো নিয়ে যেমন পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি, তেমনি গোটা প্রক্রিয়ায় ব্যাটসম্যানদের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। গাপটিলের থ্রো কিন্তু উইকেটরক্ষক বরাবরই ছিল। ব্যাটসম্যানের ব্যাটে লাগার কারণে তা ওভার থ্রো হয়েছে। ফলে ওভার থ্রো এর নিয়ম নিয়ে পর্যালোচনায় বসবে ক্রিকেটের নিয়ম নির্ধারণ সংস্থা এমসিসি। তাদের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘বিশ্বকাপের ফাইনালে ওভার থ্রো বিতর্কের দিকে নজর রেখে ওভার থ্রোর ১৯.৮ ধারা নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই বিষয়ে আইনে যা আছে, তা স্পষ্ট হলেও ফাইনালের বিতর্কিত ওভার থ্রো নিয়ে সেপ্টেম্বরে পর্যালোচনায় বসবে সাব কমিটি।

14
মনে জেগেছে প্রশ্ন? বাংলাদেশের ফুটবলারের প্রতি মিনিটের আয় এত টাকা? হ্যাঁ, এবার সদ্য সমাপ্ত প্রিমিয়ার লিগে এমনটাই হয়েছে। মাঠের খেলার সময় ও পারিশ্রমিকের বিচার হিসাবে এমন দুর্দান্ত কাণ্ড করেছেন দিদারুল হক। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ৩২ লাখ টাকায় শেখ জামাল থেকে ডিফেন্ডার দিদারুলকে দলে ভিড়িয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ক্লাব বদল করলেও নতুন দলের জার্সিতে প্রিমিয়ার লিগে খেলা হয়েছে মাত্র একটি ম্যাচ। ময়মনসিংহে সাইফ স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে বদলি নেমে এই ডিফেন্ডার খেলেছিলেন মাত্র ২৩ মিনিট। মিনিটে ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা!

৩২ লাখ টাকায় ক্লাব বদল। সুতরাং দেশের ফুটবলের প্রেক্ষিতে সে ফুটবলার হিসেবে কেমন, আপাতত সে প্রশ্নে যাওয়ার দরকার আছে বলে মনে হয় না। ৩৯ বছর বয়সেও এখন দারুণ ফিট সাবেক এই সেনা সদস্য। গত মৌসুমেও শেখ জামাল ধানমন্ডির অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। তাঁর নেতৃত্বে তারুণ্য নির্ভর জামাল লিগ শেষ করেছিল টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে। আর লিগের মোট ২২ ম্যাচের ২১টিতেই মাঠে ছিলেন এই সেন্টারব্যাক। ২১টি ম্যাচেই মাঠে ছিলেন পুরো সময়।

ধারাবাহিকভাবে কয়েক মৌসুম ভালো খেলার সুবাদেই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্ত করতে তাঁকে ৩২ লাখ টাকা দিতে কার্পণ্য করেনি সাফল্য পিপাসু বসুন্ধরা। দুর্দান্ত প্রতাপে দল চ্যাম্পিয়ন হলেও দিদারুলের মাঠে নামার সৌভাগ্য হয়নি। হতাশার এক মৌসুম শেষে স্বাভাবিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, ‘খুবই খারাপ একটা মৌসুম কাটালাম। এ রকম হবে জীবনেও ভাবিনি। এত টাকা নিয়ে খেলতে পারব না, এটা খুবই কষ্টের। অনেক হিসেব করেই আমি বসুন্ধরায় গিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবাহনী থেকে নাসিরকে (নাসিরউদ্দিন চৌধুরীকে) নিয়ে আসায় আমার জন্য খেলাটা কষ্ট হয়ে যায়। সঙ্গে বিদেশি ডিফেন্ডাররা তো ছিলই।’

প্রায় ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে এবার তারকার হাঁট বসিয়েছিল বসুন্ধরা। দেশের প্রায় সব ভালো খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভালো মানের বিদেশি। মুখে মুখে হিসেব করেই বলে দেওয়া যায় তাদের পুরো রক্ষণভাগের দাম হবে প্রায় ২ কোটি টাকা। লিগের প্রথম পর্ব পর্যন্ত স্পেন অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের হয়ে খেলা সেন্টারব্যাক জর্জ গোতর ছিলেন। লিগের দ্বিতীয় পর্বে কিরগিজ মিডফিল্ডার বখতিয়ার দুশবেকভকেও খেলানো হয়েছে সেন্টারব্যাক পজিশনে। এ ছাড়া চোট কাটিয়ে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন নুরুল নাঈম ফয়সাল। আর শুরু থেকে নাসিরউদ্দিন তো ছিলই। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণভাগের সেনা হয়ে ওঠার সুযোগ হয়নি সাবেক এই সেনা সদস্যের।

এর পেছনে স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোনকেও কিছুটা দায়ী করছেন দিদারুল, ‘অস্কার ব্রুজোন যাকে দেখতে পারেন না, তাঁর খেলার কোনো সুযোগ নেই। সে আমাকে অনুশীলনেও সুযোগ দিয়ে দেখেননি, আমি পারি কিনা। হয়তো অন্য যে কোনো কোচের অধীনে থাকলে কম-বেশি খেলার সুযোগ পেতাম।’ ক্লাব বদলের ইঙ্গিতও দিয়ে রাখলেন। তাঁর নতুন গন্তব্য হতে পারে পুরোনো শেখ জামাল। যে ক্লাবের জার্সিতেই পেশাদার ফুটবলে আসা দিদারুলের।

দিদারুলের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে। সেনাবাহিনীর জার্সিতে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে নজর কাড়ায় ২০১৩-১৪ মৌসুমে তাঁকে দলে ভেড়ায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র। এর পরে সে সময়ের সাড়া জাগানো ক্লাব শেখ জামাল ধানমন্ডির জার্সি গায়ে তুলে নিয়ে টানা চার মৌসুম খেলা। জামালের জার্সিতে জিতেছেন দুইটি লিগ শিরোপা, ফেডারেশন কাপ ও ভুটানের কিংস কাপের শিরোপা। এর আগে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে নতুন জীবন শুরু করার জন্য ২০১২ সালে সেনাবাহিনী থেকে নেন স্বেচ্ছা অবসর।

দিদারুলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে লোডভিক ডি ক্রইফ তাঁকে জাতীয় দলে জায়গা দেন। গোয়ায় ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ছিলেন বাংলাদেশ দলে। এর পরে জাতীয় দলে খেলার সৌভাগ্য না হলেও টানা চার মৌসুম শেখ জামালের রক্ষণভাগ জমাট রাখার দায়িত্বটা ভালোই করেছেন। এবারই ধানমন্ডির মায়া ছেড়ে বসুন্ধরার আবাসিক এলাকায় তাঁবু গেড়ে ছিলেন। কিন্তু নতুন ক্লাবে সময়টা গিয়েছে একেবারে যাচ্ছে তাই।

15
এবারের ঈদের পুরো ছুটিটা হচ্ছে শেষ বর্ষায়। এক দিন ছুটি নিলে ৯ দিনের বেশ দীর্ঘ ছুটি পাওয়া যাবে। চাইলে দেশের ভেতরেই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে আসা যায়। বর্ষাকালে বাংলাদেশের রূপ সত্যি দেখার মতো। প্রকৃতি হয়ে ওঠে সবুজ, নদী-পুকুর-খাল-বিল হয়ে ওঠে জলে ভরপুর। এর ওপর থাকে মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি। সে এক অসাধারণ ব্যাপারই বটে। এই বর্ষাকালে ঘুরতে গিয়ে ভালো লাগবে, দক্ষিণবঙ্গের তেমন কিছু জায়গার কথা রইল আপনাদের জন্য।

স্বরূপকাঠির পেয়ারাবাগান

যদি যেতে চান ভরা বর্ষায়, তবে বিশাল বিশাল পেয়ারাবাগানের পাশাপাশি দেখতে পাবেন পেয়ারার এক ভাসমান বাজার। যেটার শুরু স্বরূপকাঠি থেকে, আর শেষ হয় গিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরের আটগর কুরিয়ানায়। সারি সারি পেয়ারার বাগানের ফাঁকে ফাঁকে চলে যায় ছোট ছোট ক্যানেল ডিঙিনৌকা। এসব নৌকায় যাওয়া যায় পেয়ারাবাগানের একদম গভীরে। চাইলেই গাছ থেকে পেড়ে খাওয়া যায় পেয়ারা, যত ইচ্ছে। তবে সঙ্গে করে নিয়ে আসা যাবে না। নিয়ে আসতে হলে কিনেই আনতে হবে। এখানে যেতে হলে রাতের লঞ্চ জার্নি শেষ করে উঠে পড়তে হবে ভাড়া করা ছোট নৌকায়। যতক্ষণ খুশি পেয়ারাবাগানের চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করে ফিরে আসতে পারেন। চাইলে থেকেও যেতে পারেন কোনো এক পেয়ারাবাগানে।

শাপলার গ্রাম সাঁতলা

সকালে স্বরূপকাঠিতে নেমে নাশতা করে নিতে পারেন যেকোনো হোটেলে বা লঞ্চঘাটে। এরপর সোজা একটি ট্রলার ভাড়া করে চলে যান সাঁতলা, যেখানে রয়েছে মাইলের পর মাইল পানিপথ, বিলজুড়ে ফুটে থাকা গাঢ় গোলাপি শাপলা ফুলের মনোমুগ্ধকর আয়োজন। একটি ডিঙিতে করে ভেসে পড়ুন সাঁতলার শাপলা বিলে, কতক্ষণ ভেসে বেড়াবেন, সে আপনার ইচ্ছা। সাদা আর গোলাপি শাপলার সঙ্গে হঠাৎ এই বিলের কোথাও দেখা যায় বিরল প্রজাতির বেগুনি শাপলা। স্বচ্ছ জলে চোখ নামালে দেখা যায় হরেক রঙের শেওলা, রং বেরঙের মাছ, ইচ্ছে হলে বিলের নরম আর ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে নিতে পারেন নিজেকে। স্থানীয় রেস্টুরেন্টে চেখে দেখতে পারেন মিষ্টি পানির দারুণ সুস্বাদু মাছ।

গুঠিয়া মসজিদ
আজকাল বরিশাল যাঁরা ভ্রমণে যান, বিশেষ করে বরিশালের বাইরে থেকে, তাঁদের কাছে গুঠিয়া জামে মসজিদ এক বিশেষ আকর্ষণ নিঃসন্দেহে। কেননা প্রায় অজপাড়াগাঁয়ের এত চমৎকার কারুকাজ, এত নান্দনিক আর আধুনিকতার মিশেলে কোনো স্থাপনা খুব সহজে চোখে পড়ে না। বরিশাল শহর থেকে স্বরূপকাঠি পেয়ারা বাজারে যাওয়ার পথে বানারীপাড়ার একটু আগেই পথের পাশে পড়বে এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। যেটার জন্য খুব বেশি সময় নষ্ট করতে হবে না। তাই একবার দেখে আসতেই পারেন।

বাংলার বাঘ এ কে ফজলুল হকের বাড়ি
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। ‘বাংলার বাঘ’ নামে পরিচিত ফজলুল হকের জন্ম, শিক্ষা, বেড়ে ওঠা বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। চাইলে এই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জন্মভিটাও দেখে আসতে পারেন।

জীবনানন্দের বাড়ি

দক্ষিণ বাংলায় যাবেন আর ‘রূপসী বাংলার কবি’ জীবনানন্দের বাড়ি যাবেন না? তাই সময় করে ঘুরে আসতে পারেন বরিশালকে বিখ্যাত করে তোলা জীবনানন্দ দাশের বাড়ির উঠানেও। বরিশাল শহরেই জীবনানন্দের বাড়ি।

সুন্দরবনের ছোঁয়া
বরিশাল থেকে আর কিছুটা দক্ষিণে গেলেই পেয়ে যাবেন বাংলাদেশের অপার প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বনভূমি, সুন্দরী সুন্দরবনের দেখা। যেখানে শুধু বন নয়, চিরাচরিত সবুজ বনভূমির সঙ্গে দেখা মিলতে পারে দুর্লভ বেঙ্গল টাইগার, চঞ্চলা হরিণের পাল, খালের কাদায় কাদায় কুমিরের রোদ পোহানো, নানা রকম বন্য জীবের অভয়ারণ্যের রোমাঞ্চকর স্বাদ। এ সময় গেলে আপনি শুধু করমজল পর্যন্ত যেতে পারবেন।

শাহি বাংলার পুদিনার শহর

দক্ষিণবঙ্গের বাগেরহাটের অন্যতম স্থান শাহি বাংলার পুদিনার শহর নামে। ঘুরে আসতে পারেন এই প্রাচীন শহরটি থেকে। এই শহরটি আজ থেকে প্রায় ছয় শ বছর আগে তৈরি হয়। এখানে ষাটগম্বুজ মসজিদসহ আরও অন্যান্য প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে।

ঈদের দীর্ঘ ছুটি কাজে লাগিয়ে ঘুরে আসতে পারেন দক্ষিণবঙ্গ। দেশের যেকোনো জায়গা থেকে সড়কপথে যেকোনো সময়ই যেতে পারবেন। তবে এই সময় নদীপথে গেলে পাবেন বাড়তি রোমাঞ্চ। ঢাকা থেকে নদীপথে যেতে পারেন স্বরূপকাঠি। সেখান থেকে বরিশাল, বাগেরহাট, খুলনা হয়ে ফিরতে পারেন নদীপথে বা সড়কপথে।

Pages: [1] 2 3 ... 45