Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Md. Alamgir Hossan

Pages: [1] 2 3 ... 35
1
বিভিন্ন দেশে, এবং বাংলাদেশে শ্রমবাজারেও এখন ‘গিগ অর্থনীতির’ (gig economy) প্রসার ঘটেছে। সেই আলোকেই পাঠাও, উবার, সহজ, ওভাই

প্রভৃতি রাইড শেয়ারিং যাতায়াতব্যবস্থা বিচার করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ কথা প্রথম আলোর গোলটেবিল বৈঠকে সেদিন বললেন ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজি, কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এম্পাওয়ারমেন্টের সিনিয়র ডিরেক্টর আসিফ সালেহ।

গিগ ইকোনমি হচ্ছে একধরনের খণ্ডকালীন কাজের ব্যবস্থা। সেখানে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থায়ী কর্মী নিয়োগ না করে স্বল্প সময়ের জন্য কিছু বিশেষজ্ঞ কর্মী বিশেষ শর্তে নিয়োগ করে। তাঁদের কাজের ধরাবাঁধা সময় হয়তো থাকে না। কর্মী নির্দিষ্ট সময়ে চাহিদা অনুযায়ী কাজ করে দেন। সকালে হয়তো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লেকচার দিলেন, দুপুরে কিছুক্ষণ উবার অ্যাপে যুক্ত হয়ে কয়েক ঘণ্টা কাজ করলেন, সন্ধ্যায় কিছুক্ষণ আউটসোর্সিংয়ের কাজ করলেন। এটাই হলো গিগ ইকোনমি। কর্মীর প্রতিটি কাজই সমাজের সবাই সম্মানের চোখে দেখেন। কর্মী খুশি। আয় বেশি। তাঁর কাজের স্বাধীনতাও বেশি।

আসিফ সালেহ বললেন, ব্র্যাকের এক জরিপে দেখা গেছে, এ দেশের মানুষ তাদের প্রথম সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করছেন বেকারত্ব আর দ্বিতীয়টি যাতায়াত সমস্যা। পাঠাও, উবার প্রভৃতি রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থা এই দুটি সমস্যার সমাধানে অবদান রাখছে। এখনই অন্তত এক লাখ তরুণের খণ্ডকালীন কাজ ও পর্যাপ্ত আয়ের ব্যবস্থা হচ্ছে। অন্যদিকে বড় শহরগুলোতে যাতায়াতের ঝুটঝামেলা কমছে। রাইড শেয়ারিংয়ে যাতায়াতের ব্যয়ও সাধ্যের মধ্যে।

১৯ মার্চ প্রথম আলোর গোলটেবিল বৈঠকটি ছিল রাইড শেয়ারিং নীতিমালা সবার কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করার জন্য কয়েকটি অনুচ্ছেদের প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে। সহযোগিতায় ছিল পাঠাও, উবার ও সহজ। সেখানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম বললেন, ‘সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে। যেহেতু আগে কম্পিউটার অ্যাপের মাধ্যমে এ ধরনের পরিবহনব্যবস্থা আমাদের দেশে ছিল না, তাই নতুন করে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। যদি কোথাও সংশোধন দরকার হয়, আমরা আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করব।’

একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি। সেদিন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ডাকলাম। সাত কিলোমিটার দূরের গন্তব্যে যেতে ভাড়া চাইলেন ২৫০ টাকা। বললাম, পাঠাও বা উবারে তো ২০০ টাকায় যাওয়া যায়। অটোরিকশাচালক বললেন, ঠিক আছে ২০০ টাকা। পরে তিনি নিজেই বলেন, ‘স্যার, ওভাই–এ যোগ দিমু। যাত্রীও খুশি, আমিও খুশি। লাভও বেশি। ভাড়া নিয়া ঝগড়াঝাঁটি আর ভালো লাগে না।’

সরকার যে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে, পরিবহনে এই নবাগত রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থা তারই সুফল। কিন্তু পাঠাও, উবার, সহজ, ওভাই, ওবোন প্রভৃতি ১৬টি কোম্পানি চলছে, যদিও এখনো ওরা সরকারের তালিকাভুক্তির সনদ পায়নি। ৫ মার্চ সংসদে প্রশ্নোত্তরে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন বিবেচনাধীন। রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো কিছু শর্ত পূরণ করতে পারছে না। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা, ২০১৭’–এর কিছু অনুচ্ছেদের সংশোধন দরকার। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এরশাদুল আলম বলেন, রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আরও বিকাশের স্বার্থেই কয়েকটি অনুচ্ছেদ সংশোধন করা দরকার।

সরকার বোঝে যে রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব রয়েছে। তাই সরকার চায় আপাতত এই ব্যবস্থা চলুক। অবশ্য দ্রুতই নীতিমালা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে সনদের ভিত্তিতে চলার ব্যবস্থা করা হবে। এটা সবাই চায়। বেশ কয়েকটি নীতির পরিবর্তন প্রয়োজন। যেমন একজন গাড়ির মালিক শুধু একটি গাড়ি রাইড শেয়ারিংয়ে দিতে পারবেন, একটির বেশি প্রতিষ্ঠানে গাড়ি চালাতে পারবেন না, অন্তত এক বছর পার না হলে নতুন গাড়ি রাইড শেয়ারিংয়ে দেওয়া যাবে না, সার্ভার দেশেই রাখতে হবে ইত্যাদি। ভ্যাট-ট্যাক্সেরও সমস্যা আছে।

এই শর্তগুলোর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন বিআরটিএর ইঞ্জিনিয়ারিং উইংয়ের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন মোল্লা। তাঁদেরও যুক্তি আছে। আবার ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম বললেন, নিরাপত্তার স্বার্থে রাইড শেয়ারিংয়ের সব তথ্য দেশেই রাখা দরকার। স্টার্ট-আপ বাংলাদেশের টিম লিডার নাঈম আশরাফী বললেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ডেটা সিকিউরিটি ও স্টোরেজের ব্যবস্থা আছে। দেশের সার্ভারে সব তথ্য সংরক্ষণ ও নিরাপদে রাখা সম্ভব।

কিন্তু এ নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। কারণ, রাইড শেয়ারিংয়ের শত শত গাড়ি একসঙ্গে যখন চলছে, তখন প্রতি মুহূর্তে লাখ লাখ তথ্য আদান–প্রদানের প্রয়োজন। এটা কি আমাদের দেশের সার্ভারে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে? যদি থাকে, তাহলেও ওই ব্যবস্থায় উত্তরণে কিছু সময় লাগবে। এখনই এই শর্ত পূরণ কঠিন।

এই কথাগুলো পাঠাওয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস, উবার বাংলাদেশের প্রধান (লিড) জুলকার কাজী ইসলাম ও সহজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা কাদির খুব যুক্তিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করেন। এখানে লক্ষণীয়, এঁদের সবাই তরুণ উদ্যোক্তা। তাঁদের চোখেমুখে অনেক স্বপ্ন। মনে হয় উন্নত বাংলাদেশ তাঁদের হাতের মুঠোয়। এটাই তো তারুণ্যের ধর্ম।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান আলোচনার মূল কথাগুলো তুলে ধরে বলেন, রাইড শেয়ারিং খাতকে আরও শক্তিশালী করে তোলা দরকার। তাই কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের জন্য বিআরটিএ, রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো, যানবাহনের মালিক, যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ হতে পারে।

আমাদের দেশে পাঠাও, উবার, সহজ, ওভাই প্রভৃতি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ই-পরিবহনে বিপ্লব ঘটাতে পারে। একে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া আমাদের কর্তব্য।

2

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে গুলি চালানোর ঘটনা ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ায় এ দুটি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ফ্রান্সের মুসলিম সংগঠন ফ্রেন্স কাউন্সিল অব দ্য মুসলিম ফেইথ (সিএফসিএম)।

নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদ ও এর কয়েক কিলোমিটার দূরের লিনউড মসজিদে ১৫ মার্চ জুমার নামাজের সময় গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালান ব্রেনটন টারান্ট নামের এক অস্ট্রেলিয়ান শ্বেতাঙ্গ। এ সময় হেলমেটে লাগানো ক্যামেরার মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য সরাসরি ফেসবুকে সম্প্রচার করেন তিনি। হামলায় ৫০ জন নিহত হন। হামলার ৩৬ মিনিট পর একটি গাড়ি থেকে ব্রেনটনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ফেসবুক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে সমর্থন দিয়েছে নিউজিল্যান্ড মুসলিমদের একটি গ্রুপ।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তারা। ইউটিউবের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে ফেসবুক ও ইউটিউবের ফ্রান্স শাখার বিরুদ্ধে সহিংস ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করে জঙ্গিবাদ ছড়ানো ও মানুষের মর্যাদাভঙ্গের মতো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের ফেডারেশন অব ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র আনোয়ার ঘানি বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, তাঁরা ওই পদক্ষেপ সমর্থন করেন। ওই প্ল্যাটফর্মগুলো বড় ধরনের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ওই সন্ত্রাসী তার ঘৃণ্য অপকর্ম বিজ্ঞাপনের মতো প্রচার করতে চাইছিল।

ঘানি বলেন, তাঁদের সংগঠন মামলার কথা ভাবছিল। কিন্তু হামলার পর ব্যস্ত থাকায় মামলা করতে পারেনি।

গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডের প্রাইভেসি কমিশনার জন এডওয়ার্ডস বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর ফেসবুকের নীরব থাকা আমাদের দুঃখের ঘটনার প্রতি অসম্মান জানানো।’

ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও ঘৃণিত বক্তব্যর জায়গা নয় ফেসবুক। নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও এ দুঃখের ঘটনায় আক্রান্ত পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রয়েছে। ঘটনা ঘটার পর আমরা দ্রুত আমাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ওই ভিডিও সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছি। এ ছাড়া আমরা কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছি।’

এক ব্লগপোস্টে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেসবুকে পোস্ট হওয়া ওই সন্ত্রাসী হামলার তিন লাখ ভিডিও তারা সরিয়েছে।

3
অসংখ্য মানুষের ফোন আজকাল নানাভাবে, নানা কারণে ট্যাপ করা হচ্ছে। স্মার্টফোনের যুগে ফোন ট্যাপ করাটা আরও সহজ! কারণ, এর জন্য আপনার মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক হ্যাক করার প্রয়োজন হবে না। হ্যাকাররা শুধু আপনার ফোনের ভালনেরাবিলিটি বা দুর্বলতা খুঁজে বের করে সহজেই আপনার ফোনকে ‘ট্যাপিং ডিভাইজ’-এ পরিণত করে ফেলতে পারে। কিন্তু কী করে বুঝবেন আপনার ফোনে কেউ আড়ি পাতছে কি না? আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু সংকেত, যেগুলো সঠিকভাবে লক্ষ করলে আপনি সহজেই বুঝে যাবেন আপনার ফোন কেউ ট্যাপ করেছে কি না!

⇒ফোন করার সময় বা ফোনে কথা বলার সময় অদ্ভুত সব ‘ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ’ বা শব্দ শুনতে পাওয়া যায়, তাহলে তা ফোন ট্যাপ করার কারণে হতে পারে। ফোনে কথা বলার সময় আপনি যদি অনর্গল বিপ বিপ শব্দ শুনতে পান, তাহলে হতে পারে আপনার ফোন ট্যাপিংয়ের শিকার হয়েছে।

⇒যদি দেখেন কল চলাকালে দুই প্রান্তের নেটওয়ার্ক বার ফুল থাকা সত্ত্বেও বারবার ভয়েস ব্রেক হচ্ছে, তাহলে তা ফোন ট্যাপ করার জন্য হতে পারে।

⇒যদি দেখেন হঠাৎ করে আপনার ফোনের ব্যাটারির চার্জ অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছে, ফোন ট্যাপ হওয়ার কারণে এমনটা হতে পারে। আপনার ফোন কল কোনো অ্যাপের সাহায্যে তৃতীয় পক্ষের কাছে পাঠানোর সময় ফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্বিগুণ ক্ষয় হয় আর এ জন্যই ফোন ট্যাপ করা হলে ফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে বা ফোনটি অস্বাভাবিক গরম হয়ে উঠতে পারে। তবে স্মার্টফোনে একসঙ্গে অনেকগুলো অ্যাপলিকেশন অন থাকলেও এমনটা হতে পারে।

⇒ফোনে কোনো রকম সন্দেহজনক পরিবর্তন লক্ষ করলে নিশ্চিত হতে আপনার ফোনটি শাটডাউন করে দেখুন। যদি সম্পূর্ণ ফোন শাটডাউন হওয়ার পরেও স্ক্রিনে আলো জ্বলে থাকে বা ফোন শাটডাউন হতে অনেক বেশি সময় লাগে কিংবা শাটডাউন ফেল হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে অবশ্যই কোনো সমস্যা রয়েছে।

⇒যদি দেখেন আপনার ফোন কোনো কারণ ছাড়াই রিস্টার্ট হয়ে যাচ্ছে বা হঠাৎ হঠাৎ করে ফোনের আলো জ্বলে উঠছে, তাহলে বুঝতে হবে আপনার ফোনে নিশ্চয়ই কোনও রিমোট আক্সেস রয়েছে বা বাইরে থেকে কেউ আপনার ফোন নিয়ন্ত্রণ করছে! তবে এসব ফোনের সফটওয়্যারের সমস্যার কারণেও হতে পারে।

⇒আপনি নিশ্চয় লক্ষ করে থাকবেন, কোনো কল করার সময় ফোনটি যদি কোনো স্পিকারের সামনে থাকে, সে ক্ষেত্রে স্পিকার থেকে অনর্গল বিপ বিপ শব্দ শোনা যায়। এ ছাড়া কোনো কল চলাকালে সামনে থাকা ল্যাপটপ বা টিভিতেও অনর্গল শব্দ শোনা যেতে পারে। যদি কখনো দেখেন, ফোন থেকে কোনো কল না করলেও আপনার ফোন স্পিকারের সামনে বা টিভির সামনে নিয়ে গেলে ওই একই রকম বিপ বিপ শব্দ শোনা যাচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে অবশ্যই সমস্যা রয়েছে বা আপনার ফোন কেউ ট্যাপ করে রেখেছে।

⇒স্প্যাইং অ্যাপগুলো আপনার ফোনের সেলুলার ডেটা ব্যবহার করতে পারে। যদি আপনার ফোনে কোনো ডেটা প্ল্যান অ্যাকটিভ করা না থাকে, সে ক্ষেত্রে ফোনের বিল অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ফোনের বিলের বিস্তারিত তথ্য হাতে পেলে যাচাই করে দেখলেই অসংগতি রয়েছে কি না বুঝে নিতে পারবেন! তবে প্রিপেইড নম্বরের ক্ষেত্রে এই অসংগতি ধরার তেমন কোনো উপায় নেই।

4
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু এসব প্রযুক্তি প্রয়োগে নৈতিকতা বা মানদণ্ড ঠিক করা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই), অটোমেশন ও এ–সংক্রান্ত প্রযুক্তি খাতে নৈতিকতা ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছে।

ওই পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, যুক্তরাজ্যের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপকসহ আট সদস্য রয়েছেন।

গুগল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আট সদস্যর ওই উপদেষ্টা পরিষদ গুগলের সবচেয়ে জটিল চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো বিবেচনা করবে।

সম্প্রতি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিস আয়োজিত এমআইটি টেকনোলজি রিভিউস এমটেক ডিজিটাল সম্মেলনে ওই পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

গুগল তাদের উঠতি প্রযুক্তিগুলো ব্যবহারের যে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, তা নিয়ে বাইরে যেমন সমালোচনা হচ্ছে, তেমনি গুগলের কর্মীরাও সমালোচনা করছেন।

গত বছরের জুন মাসে গুগল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, এআই প্রযুক্তিযুক্ত ড্রোন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে তারা পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করবে না। নৈতিকতার সঙ্গে যায় না বলে ম্যাভেন নামের ওই প্রকল্পে গুগলের কর্মীরা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান। অনেকেই পদত্যাগপত্র জমা দেন।

ওই সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বেশ কিছু নীতিমালা প্রকাশ করে তা মানার অঙ্গীকার করে গুগল। এর মধ্যে ‘সামাজিকভাবে উপকারী’ ও ‘মানুষের দায়বদ্ধতার’ বিষয়গুলো যুক্ত থাকবে।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অ্যাডভান্সড টেকনোলজি এক্সটারনাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল (এটিইএসি) নামের ওই পরিষদের সদস্যরা এপ্রিল মাসে প্রথমবার সভা করবেন। গুগলের বৈশ্বিক কার্যক্রমের প্রধান কেন্ট ওয়াকার বলেন, এ বছর ওই পরিষদ আরও তিনটি সভা করবে।

গুগলের ওই পরিষদে যুক্ত হচ্ছেন গণিতবিদ বুবাকার বাহ, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম জোসেফ বার্নস, বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক জোয়ানা ব্রাইসন।

ফেসিয়াল রিকগনিশনের মতো প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবেন তাঁরা। গত বছরে গুগলের তৎকালীন ক্লাউড কম্পিউটিং বিভাগের প্রধান ডিয়ান গ্রিন বলেন, বিভিন্ন তথ্যের অভাবে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির অন্তর্নিহিত পক্ষপাত রয়েছে।

‘রোবটস শুড বি স্লেভস’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে গবেষক ব্রাইসন রোবটের সঙ্গে মানুষের মতো আচরণের চলের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়েছেন। ব্রাইসন লিখেছেন, ‘রোবটকে মানুষের মতো করে তোলা হলে আমরা শুধু সত্যিকার মানুষকেই অমানুষ করে তুলব না, এর পাশাপাশি দায়িত্ববোধ ও সম্পদ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বাজে সিদ্ধান্ত নিয়ে উৎসাহিত করে বসব।’

ব্রাইসন ২০১৮ সালে বলেছিলেন, এআই সিস্টেম কীভাবে পরিচালিত হয়, তা সঠিকভাবে জানানোর ব্যর্থতার বিষয়টির ক্ষেত্রে জটিলতার অজুহাত দেওয়া উচিত নয়। যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত কোনো সিস্টেম কোনো ক্ষতি করে, তখন এই সিস্টেমের পেছনের মানুষগুলোকে যাতে ধরা যায়, সে বিষয়টি আমাদের জানা প্রয়োজন।’

5
এত দিন মনে করা হতো, জন্মের সময় মস্তিষ্কে যে পরিমাণ কোষ থাকে, সারা জীবন তাই–ই রয়ে যায়। তবে নতুন একটি গবেষণা বলছে, মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় সারা জীবনই নতুন কোষ তৈরি হয়। একজন সুস্থ মানুষের কমপক্ষে ৯৭ বছর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। স্পেনের মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা নিবন্ধ যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার মেডিসিন–এ গত সোমবার প্রকাশিত হয়েছে।

মানুষের মস্তিষ্কের কোষ নিউরন নিজেদের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠায়। এই প্রক্রিয়া শুরু হয় জন্মের সময় থেকেই। অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের শেষ দিকে তাদের মস্তিষ্কে নতুন কোষের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে নিউরোজেনেসিস (নতুন নিউরনের উদ্ভবপ্রক্রিয়া) অব্যাহত থাকে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক ছিল। নতুন গবেষণায় ৫৮ জন মৃত মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে কাজ করেন গবেষকেরা। যাঁদের বয়স ছিল ৪৩ থেকে ৯৭ বছরের মধ্যে। মূল মনোযোগ দেওয়া হয় মস্তিষ্কের ‘হিপ্পোকাম্পোস’ অংশে, যা স্মৃতি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। মূলত এই অংশেই আলঝেইমার রোগ আক্রমণ করে।

জন্মের পর থেকে নিউরন মস্তিষ্কে পরিপূর্ণ রূপে থাকে না। বয়স বৃদ্ধি ও পরিপক্ব হওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে তা পূর্ণতা পায়। গবেষকেরা মস্তিষ্কে এই অপরিণত বা ‘নতুন’ নিউরনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন। গবেষক ড. মারিয়া লরেন্স-মার্টিন বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, মানুষ যতক্ষণ নতুন কিছু শিখছে, ততক্ষণ নতুনভাবে নিউরনের বৃদ্ধি ঘটছে এবং এটি আমাদের জীবনের প্রতি মুহূর্তেই ঘটে চলেছে।’

কিন্তু আলঝেইমার রোগীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। আলঝেইমারের প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন নিউরন বৃদ্ধির সংখ্যা প্রতি মিলিমিটারে ৩০ হাজার থেকে কমে দাঁড়ায় ২০ হাজারে। ড. লরেন্সের মতে, রোগটির একদম শুরুতে এই হ্রাসের পরিমাণ থাকে ৩০ শতাংশ। তিনি বলেন, নতুন কোষ তৈরি কমার কারণ কাজে লাগানো যাবে আলঝেইমার এবং বার্ধক্যজনিত রোগের চিকিৎসায়।

আলঝেইমার রিসার্চ ইউকে গবেষণার প্রধান ড. রোসা সানচো বলেন, ‘যদি কখনো আমরা জীবনের শুরুর দিকে নিউরন হারাতে শুরু করি, সে ক্ষেত্রে এই গবেষণা দেখাচ্ছে যে পরবর্তী সময়ে নতুন কোষের সৃষ্টি হতে থাকবে, এমনকি ৯০ বছর পর্যন্ত।’

6

নতুন কোনো ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে ভাবছেন? একটি নতুন পণ্য বা সেবা বাজারে আনার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো বাজার গবেষণা।

বাজার গবেষণা কী?

সহজ করে বললে, আপনি যাদের সম্ভাব্য গ্রাহক মনে করছেন, তারা একটি পণ্য কিংবা সেবা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়কে প্রাধান্য দেয়, সে ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করাই হলো বাজার গবেষণা। ধরুন, আপনি একটি কাপড়ের দোকান দেওয়ার কথা ভাবছেন। আদৌ তার চাহিদা আছে কি না, কোন ধরনের কাপড়ের চাহিদা বেশি, প্রতিযোগী কারা, সমস্যা ও সম্ভাবনার জায়গাগুলো কী—এসব বিষয়ে নিশ্চয়ই আপনি তথ্য সংগ্রহ করবেন। এই তথ্য সংগ্রহ করাই হলো বাজার গবেষণা।

বাজার গবেষণা কেন করতে হয়?

প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে মানুষের অনেক চাহিদাই অপ্রকাশিত। বিশ্বে গাড়ির সবচেয়ে বড় কোম্পানির (উবার) নিজস্ব কোনো গাড়ি থাকবে না, সেটা কি কেউ কখনো কল্পনা করেছিল? কল্পনাশক্তি দিয়ে যা ভাবা কঠিন, কিন্তু বাস্তবে সম্ভব হতে পারে, এমন বিষয়গুলোর জন্যই বাজার গবেষণা করতে হয়। বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন গবেষণার সর্বোচ্চ ধাপ হিসেবে মানুষের সৃজনশীল কল্পনাশক্তিকে বিশ্বাস করতেন।

আজ যে পণ্য মানুষের চাহিদা পূরণ করছে, কাল সেটা বাজার থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে। ব্যবসার সার্বিক মুনাফার কিংবা টিকে থাকার লড়াইয়ের সঙ্গে বাজার বিশ্লেষণ করার সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি গভীর। কে ক্রেতা আর কে ভোক্তা কিংবা ইন্ডাস্ট্রির কোন ধাপের সঙ্গে নিজের পণ্যটি যাচ্ছে অথবা বাজারে এই পণ্যের মার্কেট শেয়ার কতটুকু আছে এবং ভবিষ্যৎ অবস্থান কী হতে যাচ্ছে—এই সবকিছুর সঙ্গে পর্যাপ্ত তথ্যের কার্যকরী গবেষণা জরুরি।

আবার হতে পারে, প্রতিযোগীদের পণ্যের চেয়ে আপনার পণ্যটি বিশেষ কী সুবিধা নিয়ে আসছে, সেটির যথার্থ প্রচার না করেই আপনি বাজারে পণ্য ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিচ্ছেন। যা কিছু অন্যের থেকে ভিন্ন, সেটি ক্রেতাদের বোঝাতে হবে। অন্যথায় পণ্য তার বাজার তৈরিই করে নিতে পারবে না। পণ্যের জন্য বাজার গবেষণার কয়েকটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে:

১. পণ্য অনুযায়ী বাজার ও প্রতিযোগীকে বোঝা

২. আমার ক্রেতা কারা, সেটি সঠিকভাবে অনুধাবন করা

৩. প্রতিযোগীদের তুলনায় আমার পণ্য কী কী বিশেষ সুবিধা দেবে, তা নির্ধারণ

 ৪. পণ্য বাজারজাতকরণের কৌশল নির্ধারণ

 ৫. সার্বিক বিচার বিশ্লেষণের পর পণ্যের প্রচারণা শুরু করা

স্বনামধন্য মার্কিন প্রকৌশলী ও শিক্ষক ডব্লিউ এডওয়ার্ড ডেমিংয়ের মতে, ‘তথ্য ছাড়া আপনি শুধুই ভিন্নমতের একজন মানুষ মাত্র।’ বাজার গবেষণার প্রথম ধাপেই আপনাকে নিজের পণ্যের বাজার বুঝতে হবে এবং সেই বাজারে কারা আপনার শক্তিশালী প্রতিযোগী, তাঁদের শনাক্ত করতে হবে। প্রতিযোগীদের ব্যবসার কৌশল বুঝে তাঁদের দুর্বল দিক এবং মূল শক্তিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করতে হবে।

যে ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার ব্যবসার পণ্য বা সেবাটি অবস্থান করছে, সেই ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্লেষণ করে বাজারে আপনার এবং প্রতিযোগীদের পণ্যের মার্কেট শেয়ার নিরূপণ করতে হবে। এ সবকিছু করার সময় আপনার ‘টার্গেট কাস্টমার’ কারা, সেটি নির্ধারণ করে ফেলুন। প্রতিযোগীদের তুলনায় আপনার পণ্য বা সেবা কী এমন বিশেষত্ব নিয়ে বাজারে হাজির হয়েছে, সেটি স্পষ্ট থাকতে হবে। অবশ্যই বাজারে টিকে থাকতে হলে অন্যের তুলনায় কিছু বিশেষত্ব থাকতেই হবে।

এবার আপনাকে কৌশলী হতে হবে। কীভাবে আপনি আপনার পণ্য বা সেবা বাজারজাতকরণ করবেন, সে ক্ষেত্রে বিশেষ কী আকর্ষণ রাখা যায়, যা ক্রেতাদের আপনার পণ্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে, সে বিষয়ে একটি পরিকল্পনা গুছিয়ে ফেলতে হবে। সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণের পর আপনি আপনার পণ্যের প্রচারণা শুরু করতে পারেন।

7
রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকে বেসরকারি আমানতের পরিমাণ কমছে। তার বিপরীতে বাড়ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত। ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সোনালী ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ব্যাংকটিতে বেসরকারি খাতের আমানত কমে গেছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। আর সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত বেড়েছে আরও ৯ হাজার কোটি টাকা।

সারা দেশেই ছড়িয়ে আছে সোনালী ব্যাংকের শাখা। এরপরও ব্যাংকটিতে বেসরকারি খাতের আমানত কমে যাওয়ায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তবে কী ব্যাংকটির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থায় চিড় ধরেছে? অবশ্য ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, আস্থার ঘাটতি নয়, আমানতের সুদহার কমে যাওয়ায় বেসরকারি খাতের আমানত কমেছে। এ কারণে ব্যাংকটির মোট আমানতও আগের বছরের চেয়ে খুব বেশি বাড়েনি।

জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বছরের মধ্যভাবে আমানতে ৬ শতাংশ সুদহার কার্যকর করা হয়। এরপরই বেসরকারি খাতের আমানত কমে যায়। অনেক মানুষ নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা না করে সাময়িক লাভের জন্য বেশি সুদের জন্য টাকা অন্য ব্যাংকে নিয়ে গেছেন। এ কারণেই বেসরকারি আমানত কমে গেছে। আমরা সরকারি নির্দেশনা পুরোপুরি পালন করছি। সব ব্যাংক এ নির্দেশনা মানলে তহবিলের এত নড়াচড়া হতো না।’

জানা গেছে, ২০১৮ সাল শেষে ব্যাংকটির আমানত বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত ৪৭ হাজার ৬২০ কোটি টাকা ও বেসরকারি খাতের ৬১ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি আমানত ছিল ৩৮ হাজার ১২৯ কোটি টাকা ও বেসরকারি খাতের আমানত ছিল ৬৮ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। ফলে ২০১৮ সালে এসে সরকারি আমানত আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ৯ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। তবে বেসরকারি খাতের আমানত কমে গেছে ৬ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। যদিও ২০১৭ সালে ব্যাংকটিতে সরকারি আমানত কমেছিল ও বেসরকারি আমানত বেড়েছিল।

এদিকে ব্যাংকটির আমানত লাখ কোটি টাকা ছাড়ালেও ঋণ বিতরণ হয়েছে আমানতের অর্ধেকেরও কম। জানা গেছে, ব্যাংকটি ঋণ বিতরণের চেয়ে সরকারি–বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে টাকা ধার দিয়ে আয়ের নিরাপদ পথে হাঁটছে। এ কারণে ২০১৮ সাল শেষে ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। গত সোমবার বার্ষিক সম্মেলনে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুল জানান, হল–মার্ক কেলেঙ্কারি থেকে শিক্ষা নিয়ে রক্ষণশীল ব্যাংকিংয়ের পথ বেছে নিয়েছে ব্যাংকটি।

ঋণ কম বিতরণ করার বিপরীতে ব্যাংকটি খেলাপি ঋণ আদায়েও উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১৮ সালে ব্যাংকটি প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায় করেছে। এর মধ্যে নগদ আদায় করেছে মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা। বাকি ২ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃ তফসিল করে আদায় দেখিয়েছে ব্যাংকটি। এর ফলে বছর শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৩ কোটি টাকায়। খেলাপি ঋণ বেশি থাকায় মতিঝিলের ছয়টি করপোরেট শাখার ঋণ একটি শাখায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ আদায়ে আইন সংশোধনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারিশ পাঠিয়েছে সোনালী ব্যাংক। ২০১২ সালে হল–মার্ক কেলেঙ্কারির পর থেকে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়। ২০১৯ সালে এসে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

8
রোজ তিনটা করে খেজুর খান। চালিয়ে যান এক সপ্তাহ। তারপর আরও কয়েকটা দিন। অভ্যাস হয়ে গেল তো? এটা আর ছাড়বেন না। ফলটা কী?

আপনি যদি দিনে তিনটা করে খেজুর এক সপ্তাহ খান, তাহলে সাত দিনে আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হারিয়ে যাবে। রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়বে। খাবারের রুচি বাড়বে। আর বাড়াবে আপনার হজমক্ষমতাও। শরীর অবশকারী যেকোনো ধরনের রোগে খেজুর হলো মোক্ষম দাওয়াই।

এ ছাড়া অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিশ্বস্ত ও সেরা সৈনিকের নাম খেজুর। খেজুর কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের এক গবেষণায় জানা যায়, নিয়মিত খেজুর খেলে কোলন স্বাস্থ্য ভালো থাকে। খেজুর উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো কোলন ক্যানসারের জন্য দায়ী কোষগুলোকে মেরে ফেলে। সূত্র: এনডিটিভি অবলম্বনে

9
Allied Health Science / মধুর যত গুণ
« on: March 28, 2019, 01:08:36 AM »
পুষ্টিগুণ ও উপাদেয়তার দিকটি বিবেচনা করে যদি আমরা খাবারের একটি তালিকা করি, সে তালিকার প্রথম সারিতেই থাকবে ‘মধু’র নাম। এটি শরীরের জন্য উপকারী এবং নিয়মিত মধু সেবন করলে অসংখ্য রোগবালাই থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত।

মধুর উপাদান
মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫ থেকে ১২ শতাংশমন্টোজ। আরও থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো অ্যাসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ শতাংশএনকাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি।

মধুর উপকারিতা

শক্তি প্রদায়ী : মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী খাদ্য। তাপ ও শক্তির ভালো উৎস। মধু দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।

হজমে সহায়তা: এতে যে শর্করা থাকে, তা সহজেই হজম হয়। কারণ, এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে, তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিয়া করে। পেটরোগা মানুষের জন্য মধু বিশেষ উপকারী।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এটি ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ১ চা–চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়।

রক্তশূন্যতায়: মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে বলে এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক। কারণ, এতে থাকে খুব বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ।

ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে: বলা হয়, ফুসফুসের যাবতীয় রোগে মধু উপকারী। যদি একজন অ্যাজমা (শ্বাসকষ্ট) রোগীর নাকের কাছে মধু ধরে শ্বাস টেনে নেওয়া হয়, তাহলে সে স্বাভাবিক এবং গভীরভাবে শ্বাস টেনে নিতে পারবে। অনেকে মনে করে, এক বছরের পুরোনো মধু শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বেশ ভালো।

অনিদ্রায়: মধু অনিদ্রার ভালো ওষুধ। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা–চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এটি গভীর ঘুম ও সম্মোহনের কাজ করে।

যৌন দুর্বলতায়: পুরুষদের মধ্যে যাঁদের যৌন দুর্বলতা রয়েছে, তাঁরা যদি প্রতিদিন মধু ও ছোলা মিশিয়ে খান, তাহলে বেশ উপকার পাবেন।

প্রশান্তিদায়ক পানীয়: হালকা গরম দুধের সঙ্গে মিশ্রিত মধু একটি প্রশান্তিদায়ক পানীয়।

মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায়: মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায় মধু ব্যবহৃত হয়। এটা দাঁতের ওপর ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। দাঁতে পাথর জমাট বাঁধা রোধ করে এবং দাঁত পড়ে যাওয়াকে বিলম্বিত করে। মধু রক্তনালিকে সম্প্রসারিত করে দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। যদি মুখের ঘায়ের জন্য গর্ত হয়, এটি সেই গর্ত ভরাট করতে সাহায্য করে এবং সেখানে পুঁজ জমতে দেয় না। মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে গড়গড়া করলে মাড়ির প্রদাহ দূর হয়।

পাকস্থলীর সুস্থতায়: মধু পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে এবং হজমের গোলমাল দূর করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্রলিক অ্যাসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয় বলে অরুচি, বমিভাব, বুকজ্বালা এগুলো দূর করা সম্ভব হয়।

তাপ উৎপাদনে: শীতের ঠান্ডায় এটি শরীরকে গরম রাখে। এক অথবা দুই চা–চামচ মধু এক কাপ ফুটানো পানির সঙ্গে খেলে শরীর ঝরঝরে ও তাজা থাকে।

পানিশূন্যতায়: ডায়রিয়া হলে এক লিটার পানিতে ৫০ মিলিলিটার মধু মিশিয়ে খেলে দেহে পানিশূন্যতা রোধ করা যায়।

দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে: চোখের জন্য ভালো। গাজরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে।

রূপচর্চায়: মেয়েদের রূপচর্চার ক্ষেত্রে মাস্ক হিসেবে মধুর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। মুখের ত্বকের মসৃণতা বৃদ্ধির জন্যও মধু ব্যবহৃত হয়।

ওজন কমাতে: মধুতে নেই কোনো চর্বি। পেট পরিষ্কার করে, চর্বি কমায়, ফলে ওজন কমে।

হজমে সহায়তা: মধু প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। তাই মধু সহজে হজম হয় এবং হজমে সহায়তা করে।

গলার স্বর: গলার স্বর সুন্দর ও মধুর করে।

তারুণ্য বজায় রাখতে: তারুণ্য বজায় রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিহার্য। এটি অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। শরীরের সামগ্রিক শক্তি ও তারুণ্য বাড়ায়।

হাড় ও দাঁত গঠনে: মধুর গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়াম দাঁত, হাড়, চুলের গোড়া শক্ত রাখে, নখের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে, ভঙ্গুরতা রোধ করে।

রক্তশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে: এতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, যা রক্তশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

আমাশয় ও পেটের পীড়া নিরাময়ে: পুরোনো আমাশয় এবং পেটের পীড়া নিরাময়সহ নানাবিধ জটিল রোগের উপকার করে থাকে।

হাঁপানি রোধে: আধা গ্রাম গুঁড়ো করা গোলমরিচের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু এবং আদা মেশান। দিনে অন্তত তিনবার এই মিশ্রণ খান। এটা হাঁপানি রোধে সহায়তা করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমায়: দুই চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ রসুনের রস মেশান। সকাল-সন্ধ্যা দুইবার এই মিশ্রণ খান। প্রতিনিয়ত এটার ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ কমায়। প্রতিদিন সকালে খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত।

রক্ত পরিষ্কারক: এক গ্লাস গরম পানির সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধু ও এক চামচ লেবুর রস মেশান। পেট খালি করার আগে প্রতিদিন এই মিশ্রণ খান। এটা রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া রক্তনালিগুলোও পরিষ্কার করে।

রক্ত উৎপাদনে সহায়তা: রক্ত উৎপাদনকারী উপকরণ আয়রন রয়েছে মধুতে। আয়রন রক্তের উপাদানকে (আরবিসি, ডব্লিউবিসি, প্লাটিলেট) অধিক কার্যকর ও শক্তিশালী করে।

হৃদ্‌রোগে: এক চামচ মৌরি গুঁড়োর সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধুর মিশ্রণ হৃদ্‌রোগের টনিক হিসেবে কাজ করে। এটা হৃৎপেশিকে সবল করে এবং এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায়: মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ভেতরে এবং বাইরে যেকোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতাও জোগান দেয়। মধুতে আছে একধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান, যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে।

10
Business Administration / Informative Issues
« on: August 09, 2018, 04:24:18 PM »
সঞ্চয়পত্রে সুদের হার পুনর্নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ কাজ করলেও আগামী নির্বাচনের আগে তা পরিবর্তন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
৭৫ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি

নয় মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার পর্যালোচনা জুলাইয়ে: মুহিত

মঙ্গলবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানের শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা জানান তিনি।

গত মে মাসে বাজেটপূর্ব এক আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বাজেটের পর সঞ্চয়পত্রের সুদ হার সমন্বয় করার কথা বলেছিলেন।

তবে সংসদে বাজেট আলোচনায় অধিকাংশ সংসদ সদস্য সঞ্চয়পত্রে সুদের হার না কমানোর দাবি জানান।

মুহিত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইআরডিকে কাজ করতে বলা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

কবে নাগাদ সঞ্চয়পত্রের নতুন সুদহার কার্যকর হবে হবে- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনের আগে সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাস্তবায়ন করার সম্ভাবনা নাই।”

ফাইল ছবি ফাইল ছবি
আগামী জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্র বিক্রির ক্ষেত্রে ‘অটোমেশন’ পদ্ধতি চালু করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

সুদের হার বেশি ও নিরাপদ বিনিয়োগ বলে সঞ্চয়পত্রের ব্যাপক চাহিদা। তবে সঞ্চয়পত্রে মানুষের বিনিয়োগ বাড়ায় সরকারের ঋণের পরিমাণও বাড়ছে।

সবশেষ ২০১৫ সালের ১০ মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ হার গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেনি।

11
দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করার কথা জানা থাকলেও কতক্ষণ ব্রাশ করা উচিত সেটা অনেকেই জানেন না। মুখগহ্বর ও দাঁতের সুস্বাস্থ্যের জন্য এই প্রশ্নের উত্তর জানা থাকা চাই।

আর ব্রাশ করা ছাড়াও দাঁতের সুরক্ষায় আরও অনেককিছু রয়েছে। এই বিষয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে দাঁতের যত্ন নেওয়ার বেশ কয়েকটি পন্থা এখানে দেওয়া হল।

প্রয়োজনীয়তা: অল্প সময়ে ব্র্রাশ করা সেরে ফেললে দাঁত পুরোপুরি পরিষ্কার নাও হতে পারে। জরিপ বলে, বেশিরভাগ মানুষ ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ডেই দাঁত ব্রাশের পাট চুকিয়ে ফেলেন। ফলে ‘পেরিওডনটাইটিস’ ও ‘জিনজিভাইটিস’ নামক জটিলতা দেখা দিতে পারে। আবার মুখে পুরু ‘প্লাক’য়ের আস্তর থেকে ধমনীতেও ‘প্লাক’ জমতে পারে। এজন্যই বলা হয় মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য আপনার সার্বিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক তথ্য দিতে পারে।

ব্রাশ করার সময়: দন্ত্যচিকিৎসকদের মতে, দুই মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করা আদর্শ। আবার কিছু চিকিৎসকের মতে, দুই মিনিট যথেষ্ট নয়, তিন মিনিট সময় ব্যয় করা উচিত। তবে তিন মিনিট ধরে ব্রাশ করা ছোটদের ক্ষেত্রে কষ্টসাধ্যও বটে।

গবেষকদের মতে, দুই মিনিটের তুলনায় যারা মাত্র ৪৫ সেকেন্ড ব্রাশ করেন তারা মুখগহ্বর থেকে মাত্র ২৬ শতাংশ ‘প্লাক’ পরিষ্কার করতে পারেন।

কৌশল: কতক্ষণ দাঁত ব্র্রাশ করছেন তার থেকেও জরুরি বিষয় হল কোন কৌশলে দাঁত ব্রাশ করছেন। হালকা চাপে, সবগুলো দাঁতের গোড়া ও মাঢ়ির প্রতিটি অংশে ব্রাশ করা অত্যন্ত জরুরি। দাঁত আর মাঢ়ির পাশাপাশি জিহ্বা ও গালের ভেতরের অংশেও ব্রাশ চালানো গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লস: ব্রাশ করার মতোই জরুরি ফ্লসের ব্যবহার। এতে ‘প্লাক’ জমা হওয়া রোধ হয় এবং মুখগহ্বরের  বিভিন্ন জটিলতা এড়ানো যায়।

টুথব্রাশ: ভালোমানের ব্রাশ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করা ভালো। কারণ এতে দাঁত আরও ভালোভাবে পরিষ্কার হবে, যা ভুল ধারণা। সবসময় নরম ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত। কারণ শক্ত ব্রাশের কারণে দাঁতের এনামেলের আস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সাধারণ ব্রাশের বদলে বৈদ্যুতিক ব্রাশ ব্যবহার করার উল্লেখযোগ্য কোনো বাড়তি উপকার নেই। তবে বৈদ্যুতিক ব্রাশে সময় নির্ধারণ করে দেওয়া যায়। ফলে ওই সময় পর ব্রাশটি সয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

বেশিক্ষণ ব্রাশ করলে: দীর্ঘক্ষণ ব্রাশ করার কোনো ক্ষতি নেই। তবে, অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের ক্ষতি হয়। এতে দাঁতের এনামেলের আস্তর এবং মাঢ়ির টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলাফল হতে পারে দাঁতের সংবেদনশীলতা। তাই হালকা চাপে দাঁত ব্রাশ করতে হবে।

12
আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়, আমি নিজেও এ-নিয়ে অনেক লিখেছি। কিন্তু একটি বিষয়ে খুব বেশি আলোচনা দেখি না, তা হলো উচ্চশিক্ষা যেমন পিএইচডির পরে কীভাবে ক্যারিয়ার গড়তে হবে। এ নিয়েই আজকের লেখা।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আমেরিকায় দুইটি অপশন—মাস্টার্স, অথবা পিএইচডি। ডিগ্রি শেষ হওয়ার আগে থেকেই চাকুরি খোঁজার কাজটি শুরু করতে হয়, কারণ চাকুরির সাক্ষাৎকার থেকে শুরু করে অফার পাওয়া এবং কাজ করার অনুমতি অর্জন পর্যন্ত অনেকদিন সময় লেগে যায়। তাই যদি কেউ স্প্রিং সেমিস্টারে পড়া শেষ করেন, তাহলে মোটামুটি আগের বছরের ফল সেমিস্টার থেকে চাকুরি খুঁজতে হবে।

পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের জন্য চাকুরির বাজারটা একটু ছোট। মানে কোয়ালিফিকেশন অনুসারে চাকুরি চাইলে সুযোগের সংখ্যাটা কম। আমেরিকার অধিকাংশ কোম্পানিতেই মাস্টার্স লেভেলের ডিগ্রি হলেই চলে, পিএইচডির খুব একটা দরকার নাই। এ কথাটা রিসার্চ ল্যাব আর ইউনিভার্সিটি ছাড়া মোটামুটি সব কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য। পিএইচডি করার পরে কোথায় চাকুরি করবেন সেটি আগে ঠিক করেন। এক সাথে একাধিক দিকে চেষ্টা চালাতে অসুবিধা নাই।

পিএইচডিধারীরা সাধারণত অ্যাকাডেমিয়া, রিসার্চ ল্যাব, বা ইন্ডাস্ট্রি—এ তিনটি জায়গায় যথোপযুক্ত চাকুরি পেতে পারেন। দেখা যাক কোথায় কীভাবে নিয়োগ হয়—

প্রায় সব পিএইচডি শিক্ষার্থীরই স্বপ্নের সোনার হরিণ হলো টেনিউর ট্র্যাক অ্যাকাডেমিক চাকুরি। পিএইচডি শেষ করার পর সরাসরি অথবা কয়েক বছর পোস্ট ডক করে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসাবে টেনিউর ট্র্যাকের চাকুরিতে যোগ দেয়া যায়। তার পরে ছয় বছর গবেষণা ও শিক্ষকতায় ভালো কাজ দেখালে এবং রিসার্চ গ্রান্ট বা ফান্ডিং বাগাতে পারলে টেনিউর পাওয়া যায় এবং মোটামুটি সারাজীবনের জন্য পাকা চাকুরি পাওয়া যায়। আর অ্যাকাডেমিক চাকুরির সম্মানও অনেক। বেতনের দিক থেকে কোম্পানির চাকুরির চাইতে কিছুটা কম হলেও নানা সুযোগ-সুবিধার বিচারে অ্যাকাডেমিক চাকুরির তুলনা নেই। আর গবেষণা করাটা পেশার সাথে সাথে যাদের নেশাও বটে, তাদের জন্য প্রফেসর হিসেবে চাকুরি করাটা সবচেয়ে ভালো।

নানা ইউনিভার্সিটিতে টেনিউর ট্র্যাক বা টিচিং/রিসার্চ প্রফেসর হিসেবে চাকুরি পেতে হলে পিএইচডি শেষের বছরখানেক আগে থেকে প্রক্রিয়াটি শুরু করতে হয়। আপনার রিসার্চ ফিল্ডের নানা ম্যাগাজিন/সোসাইটি ইত্যাদির সাইটে চাকুরির বিজ্ঞাপন পাবেন। যেমন, কম্পিউটার সাইন্সে কম্পিউটিং রিসার্চ এসোসিয়েশন (CRA)-এর সাইটে এসব প্রফেসর চাকুরির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়। সিভি, রিসার্চ/টিচিং স্টেটমেন্ট, কাভার লেটার এগুলোসহ আবেদন করতে হয়। সাথে দিতে হয় ৩-৪টি রেফারেন্স লেটার। সিলেকশন কমিটি এসব আবেদন দেখে প্রথমে ফোন ইন্টারভিউ এবং পরে অন-সাইট ইন্টারভিউতে ডাকতে পারে। অন-সাইট ইন্টারভিউতে মূলত রিসার্চের উপরে একটি লেকচার, এবং কখনো কখনো ক্লাস লেকচার দিতে হয়। আর সারাদিনের বাকি সময় থাকে সার্চ কমিটি বা অন্যান্যদের সাথে ইন্টারভিউ। এমনকি ব্রেকফাস্ট/লাঞ্চ বা ডিনারের সময়েও গল্পের ছলে ইন্টারভিউ চলে। অধিকাংশ জায়গায় ফল থেকে শুরু করা অ্যাকাডেমিক চাকুরির ইন্টারভিউ জানুয়ার-মার্চের মধ্যে হয়ে যায়। এগুলো অবশ্য টেনিউর ট্র্যাকের জন্য, টিচিং বা রিসার্চ প্রফেসর, যা আসলে অস্থায়ী পদ, সেগুলোর জন্য আলাদাভাবে ইন্টারভিউ হতে পারে অন্য সময়েও। আর সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পরিচিত লোকজনের মাধ্যমে হয়, যেমন কনফারেন্সে কোনো প্রফেসরের সাথে দেখা হওয়ার পর তাঁকে অনুরোধ করে বা আপনার অ্যাডভাইজরের যোগাযোগের মাধ্যমে এগুলো অনেক সময়ে পাওয়া যায়।

তবে কিছু তিক্ত সত্য জানিয়ে রাখি—অ্যাকাডেমিক টেনিউর ট্র্যাক চাকুরি পাওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার হয়ে গেছে। প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রায় ৪০০-৫০০টি আবেদন আসে। এর মধ্যে প্রাথমিক ফোন বাছাইতে সুযোগ পেতে হলে আসলে আপনার অ্যাপ্লিকেশনটাকে কারো ঠেলা দেয়া লাগবে। এর জন্য আপনার পিএইচডি অ্যাডভাইজর হলেন মোক্ষম ব্যক্তি। আর আপনার পরিচিতি থাকলে একটু ঠেলা দিলে প্রাথমিক বাছাইতে সামনে আসতে পারেন। কিন্তু যাই হোক, প্রতি বছর যতো পিএইচডি ডিগ্রি দেয়া হয়, তার মাত্র ১০-১৫% অ্যাকাডেমিক টেনিউর ট্র্যাকের চাকুরি পান। সেই সংখ্যাও কমছে। আর অনেক ক্ষেত্রেই সদ্য পিএইচডি পাশ করা কারোর বদলে কয়েক বছর পোস্টডক করাদের প্রাধান্য দেয়া হয়। কাজেই চরম ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে অ্যাকাডেমিক টেনিউর ট্র্যাক চাকুরি পেতে হলে।

অ্যাকাডেমিক চাকুরি পেতে হলে কী করতে হবে? প্রথমত, ভালো মানের গবেষণা করতে হবে, নামকরা কনফারেন্স বা জার্নালে পেপার ছাপাতে হবে। সংখ্যার চাইতে মান গুরুত্বপূর্ণ। তাই পিএইচডি করার সময়ে দরকার হলে সময় নিয়ে ভালো কাজ করুন। দ্বিতীয়ত, আপনার অ্যাডভাইজরও বাছতে হবে দেখে শুনে। ইউনিভার্সিটির পরিচিতির পাশাপাশি আপনার অ্যাডভাইজর কেমন নামকরা সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয়ত, নেটওয়ার্কিং করতে হবে। এবং চতুর্থত, ইন্টারভিউতে গেলে সেখানে সবাইকে পটাতে হবে ভালো লেকচার দিয়ে আর কথোপকথনে সঠিকভাবে প্রফেশনাল কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে। খুব ভালো রিসার্চ করেছে কিন্তু আচার-আচরণে অপেশাদার কিংবা অভদ্র এরকম হলে কাজ হবে না। ইন্টারভিউর পুরো সময়টিতে সবাইকে ভালো করে বিমুগ্ধ করতে হবে সবভাবে।

অ্যাকাডেমিক চাকুরি আবার বেশ কয়েক রকমের হতে পারে—টেনিউর ট্র্যাক ফ্যাকাল্টি (প্রফেসর), নন-টেনিউর ট্র্যাক টিচিং বা রিসার্চ ফ্যাকাল্টি (প্রফেসর বা সাইন্টিস্ট), অথবা স্বল্পমেয়াদী পোস্ট-ডক্টোরাল ফেলো। এগুলোর মধ্যে পার্থক্যটা একটু বলা দরকার। আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে টেনিউর সিস্টেম চালু। টেনিউর হচ্ছে অনেকটা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো, মানে চাকুরি আজীবন পাকা করার ব্যবস্থা। যেসব প্রফেসরের টেনিউর আছে, তাঁদের চাকুরি যাবার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। আমেরিকার আর কোনো চাকুরিতে এরকম জব সিকিউরিটি নাই। অন্যান্য এলাকা যেমন কোম্পানির চাকুরিতে যেমন লে-অফ-এর মাধ্যমে ছাঁটাই হওয়ার আশংকা থাকে, সেখানে টেনিউরপ্রাপ্ত প্রফেসররা কেবল চারিত্রিক স্খলন বা এরকম গুরুতর অপরাধ, ইউনিভার্সিটির পুরো ডিপার্টমেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া—এসব কারণেই কেবল চাকুরি হারাতে পারেন। তবে টেনিউরের এ নিরাপত্তা পেতে হলে অনেক কষ্ট করতে হয় বটে। অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর হিসাবে যোগ দেয়ার পর প্রথম ছয় বছর প্রচণ্ড খেটেখুটে গবেষণা, শিক্ষা, এবং প্রশাসনিক নানা কাজে দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়, পেতে হয় বড় অংকের ফান্ডিং/গ্রান্ট। এসবের পরে টেনিউর রিভিউর বৈতরণী পেরুতে পারলে মিলে টেনিউর। তাই টেনিউর ট্র্যাকের চাকুরির প্রথম ছয় বছর বেশ খাটাখাটুনি যায়।

প্রফেসর হিসেবে ক্যারিয়ারের সুবিধা-অসুবিধা দুইটাই আছে। অসুবিধার মধ্যে আছে কাজের কোনো সময় অসময় না থাকা। নিজের খাতিরেই হয়তো রাতে বা সপ্তাহান্তে কাজ করতে হয়। অন্যান্য কোম্পানির চাকুরিতে যেমন ৫টার সময় অফিস থেকে বেরুলেই কাজ শেষ। প্রফেসরদের কাজ আসলে কেবল পেশা না, নেশাতেও পরিণত হয়। ফলে বাসায় ফিরেও হয়তো সময় বের করে পেপার লেখা, গ্রান্ট প্রপোজাল লেখা, অথবা কোর্স গ্রেডিং/শিক্ষার্থীদের ইমেইলের জবাব দেয়ার কাজ করতে হয়। প্রফেসরি তাই দিনে আট ঘণ্টার কাজ না, বরং এটা একটা লাইফস্টাইলে পরিণত হয়।

কিন্তু সুবিধা? প্রচুর সুবিধা আছে। অনেকেরই ধ্যান-জ্ঞান সবই হয় গবেষণাকে ঘিরে। আর প্রফেসর হিসাবে এ কাজটি অনেক ভালো করে করা চলে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ল্যাবে যেমন কোম্পানির সুবিধামত বাণিজ্যিক লাভ আছে এমন কাজই কেবল করা যায়, প্রফেসর হিসেবে স্বাধীনতা অনেক। আর শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়মিত মেশা, তাদের জীবন গড়তে সাহায্য করা, এসব তো অমূল্য! এর পাশাপাশি অন্যান্য অনেক স্বাধীনতা আছে। যেমন, আটটা-পাঁচটা অফিস ঘড়ির কাঁটা ধরে করার বাধ্যবাধকতা নাই। প্রায় সব প্রফেসরই নিজেই নিজের বস, কাজেই সময় ম্যানেজ করাটা নিজের উপরেই। আর সামারে কিংবা উইন্টার ভ্যাকেশনের সময়ে অলিখিতভাবে অনেক ছুটি মেলে। যদিও প্রায় সব প্রফেসরই নিজের তাগিদে এ সময়টাতেও কাজ করেন গবেষণায়, সেটি অন্য ব্যাপার। বসের আধিক্য নাই। অধিকাংশ জায়গাতেই একজন প্রফেসরের মোট তিন বা চার জন বস থাকে। ডিপার্টমেন্ট চেয়ার, ডিন, প্রভোস্ট, আর ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট। তাও অনেকটাই ইনফর্মাল, ম্যানেজার এসে ধমকাচ্ছে, ছড়ি ঘুরাচ্ছে এসবের ব্যাপার নাই।

বেতনের দিক থেকে অধ্যাপনার বেতন কোম্পানির চাকুরির বেতনের চাইতে একটু কম কাগজে-কলমে, কারণ কোম্পানির চাকুরির বেতন বলা হয় ১২ মাসের হিসাবে, আর প্রফেসরদের চাকুরির বেতন নয় মাসের হিসাবে। সামারের তিন মাসে অবশ্য প্রফেসরেরা বেকার থাকেন না, প্রায় সবাই-ই সামার কোর্স নিয়ে অথবা রিসার্চের ফান্ড থেকে সামারের বেতন যোগাড় করেন। ফলে সেটি যোগ করার পর প্রফেসরদের বেতন কোম্পানির চাকুরির কাছাকাছি পৌছে যায় বটে।

আর অধিকাংশ স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বেশ ভালো রকমের পেনশন ও বেনিফিটস প্যাকেজ থাকে। ফলে অবসর নেয়ার পরে ভালো অংকের পেনশন পাবার নিশ্চয়তা থাকে। তাছাড়া স্বাস্থ্যবীমাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা অনেক। আর ইউনিভার্সিটির শহরে থাকা-খাওয়াসহ জীবনযাপনের খরচও কম হয় বলে বড় শহরের কোম্পানির চাকুরির চাইতে আসলে এক দিক থেকে প্রফেসরদের বেতনের ক্রয়ক্ষমতা বরং বেশিই হয়।

আর সব শেষে বলতে পারি ইমিগ্রেশনের সুবিধা। ইউনিভার্সিটির এইচ-ওয়ান-বি-এর কোটার ঝামেলা নাই, যে কোনো সময়েই আবেদন করা যায়। আর ইউনিভার্সিটির মাধ্যমে গ্রিনকার্ড পাওয়াটাও বেশ সহজ। ইউনিভার্সিটির অফিসই সব কাজ করে দেয়। কাজেই সব মিলিয়ে টেনিউর ট্র্যাকের প্রফেসরের চাকুরিটা আমেরিকায় যেমন অত্যন্ত সম্মানের, তেমনই অন্যান্য সুবিধার দিক থেকে অতুলনীয়। তবে এ কারণে এই চাকুরির সংখ্যাও কম এবং এরকম চাকুরি পাওয়ার প্রতিযোগিতাও অনেক বেশি।

নন-টেনিউর ট্র্যাকে কন্ট্রাক্ট বেসিসে টিচিং ফ্যাকাল্টি নেয়া হয় অনেক জায়গাতেই। এসব চাকুরির টাইটেল হয় টিচিং প্রফেসর। এক্ষেত্রে টেনিউরের সুবিধা নাই। আর প্রতি সেমিস্টারে ৩/৪টি করে কোর্স পড়াতে হয়। তবে রিসার্চ করার বাধ্যবাধকতা নাই। অনেকেই এ দিকে যান প্রতিযোগিতা কম বলে আর পড়াতে ভালোলাগে বলে। এর সাথে সাথে নন-টেনিউর ট্র্যাকে রিসার্চার পজিশনও থাকে, রিসার্চ প্রফেসর অথবা সাইন্টিস্ট হিসাবে নিয়োগ পাওয়া যায় ইউনিভার্সিটিতে। তবে এ পদগুলো প্রায় সব ক্ষেত্রেই গ্রান্টনির্ভর মানে রিসার্চ সেন্টারের ফান্ডিং-এর উপরে পদ থাকা না থাকা নির্ভর করে। বড় ইউনিভার্সিটিতে ভালো ফান্ডিংসহ রিসার্চ সেন্টার থাকে, যেখানে বহু রিসার্চ প্রফেসর বা সাইন্টিস্ট নিয়োগ করা হয়। এদের পড়ানোর বাধ্যবাধকতা নাই, পুরোটা সময় দিতে হয় গবেষণাতেই।

অ্যাকাডেমিক চাকুরির মধ্যে সবশেষে বলবো পোস্ট-ডক্টোরাল ফেলো হিসেবে চাকুরির কথা। এগুলো মূলত পিএইচডি করার পর প্রফেসরের অধীনে গবেষক হিসাবে কাজ করার খণ্ডকালীন (১, ২, বা ৪ বছরের) চাকুরি। প্রফেসরেরা নানা প্রজেক্টে সাহায্যের জন্য পিএইচডিধারী গবেষক খোঁজেন। ল্যাবে সিনিয়র রিসার্চার হিসেবে কাজ করার জন্য পোস্ট-ডক্টোরাল ফেলো হিসাবে কাজ শুরু করা যায়। অনেক বিষয় যেমন বায়োলজি-সংক্রান্ত বিষয়ে অ্যাকাডেমিক লাইনে যেতে হলে পোস্ট-ডক করাটা প্রায় বাধ্যতামূলক। আবার কম্পিউটার সাইন্সে বাধ্যতামূলক না হলেও অভিজ্ঞতা অর্জন এবং কাজ শেখার জন্য অনেকে আজকাল ১/২ বছর পোস্টডক করছেন। এরকম চাকুরি পাওয়াটা বেশ সহজ। প্রথাগত ইন্টারভিউ লাগে না, মূলত নিয়োগকারী প্রফেসরের সাথে খাতির করতে পারলেই এরকম চাকুরি পাওয়া সম্ভব। তবে সমস্যা হলো এগুলো অস্থায়ী চাকুরি। সবাই জানে যে ১ বা ২ বছর, বা বড়জোর ৪ বছর পোস্ট-ডক করবে, তারপর স্থায়ী চাকুরি খুঁজে নিবে। তবে পাশ করার পরে পরে চাকুরি নিয়ে মাথা ঘামাবার চাইতে বছর কয়েক পোস্টডক করে নিলে নতুন ইউনিভার্সিটির ব্র্যান্ডিংটা কাজে লাগতে পারে। আর ধীরে সুস্থে টেনিউর ট্র্যাকের চাকুরি পাওয়ার সময়ও মেলে। বেতন বেশ কম, অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসরদের অর্ধেকের মতো হয়। তবে যেকোন সময়েই এ চাকুরি পাওয়া সম্ভব যদি নিয়োগকারী প্রফেসর রাজি থাকেন। তাই স্বল্পমেয়াদী চাকুরি হিসাবে পিএইচডি করার পরে পোস্ট-ডক মন্দ নয়।

এখন দেখা যাক একাডেমিয়ার বাইরে আর কী কী সুযোগ আছে।

পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের একটি বড় গন্তব্য হলো রিসার্চ ল্যাব বা গবেষণাগার। সরকারি বা বেসরকারি প্রচুর রিসার্চ ল্যাব আছে যাদের বড় কাজ হলো রিসার্চের পিছনে সময় দিয়ে নতুন কিছু আবিষ্কার করা।

আমেরিকার সরকারের অনেকগুলো ন্যাশনাল ল্যাব আছে, এগুলো প্রচণ্ড মর্যাদাকর ও বিখ্যাত। যেমন লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাব, লরেন্স বার্ক্লে ল্যাব, আরাগোন ন্যাশনাল ল্যাব, ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাব, প্যাসিফিক-নর্থওয়েস্ট ন্যাশনাল ল্যাব ইত্যাদি। এসব ল্যাবে বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে গবেষণা হয়ে থাকে। সেজন্য পিএইচডি ডিগ্রিধারী গবেষক ও বিজ্ঞানীদের কাজের সুযোগ আছে। ন্যাশনাল ল্যাবের সুবিধা হলো সুনাম। প্রতিটি ন্যাশনাল ল্যাবই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নামকরা প্রতিষ্ঠান। আর এখানকার চাকুরির নিরাপত্তাও বেশ ভালো। ব্যবসায়িক ল্যাব না হওয়ায় অনেক বিষয়ে মৌলিক গবেষণার সুযোগ আছে। অসুবিধার দিক হলো, কিছু কিছু ল্যাবে নানা রকমের গোপন গবেষণা চলে বলে সেখানে কাজ কেবল নাগরিক বা গ্রিনকার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দারাই পারেন। তবে নন-ক্লাসিফাইড/সিক্রেট কাজও আছে।

ন্যাশনাল ল্যাব ছাড়াও নানা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নামকরা গবেষণাগার আছে। বেল ল্যাবসের নাম আমরা অনেকেই জানি, কিন্তু মাইক্রোসফট রিসার্চ, আইবিএম রিসার্চ, এসবের মতো মৌলিক গবেষণার প্রতিষ্ঠান আছে। এসব জায়গার সুবিধা হলো ভালো মানের গবেষণা করা যায় খুব ভালো রিসার্চারদের সাথে। সামারে সাহায্য করার জন্য পাওয়া যায় ইন্টার্ন। তবে দুয়েকটি জায়গা বাদে আসলে ইচ্ছামতো গবেষণা সেভাবে করা চলে না, কোম্পানির সুবিধা হয় এমন কাজই করতে হয়। মাইক্রোসফট রিসার্চ বা আইবিএম রিসার্চে একসময় ইচ্ছামতো কাজ করার অপশন থাকলেও এখন কমে এসেছে বলে শুনেছি।

রিসার্চ ল্যাবে কাজের সুবিধার মধ্যে আছে ভালো বেতন, নানা সুযোগ সুবিধা, যেমন কোম্পানির ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ডেটা নিয়ে কাজের সুযোগ ইত্যাদি। অসুবিধার মধ্যে রয়েছে ইচ্ছামতো কাজের বদলে অনেক সময়েই কোম্পানির স্বার্থে কাজ করতে হয়। আবার অনেক সময়ে প্যাটেন্ট পাওয়ার আগে পর্যন্ত রিসার্চ পাবলিশ করা যায় না। রিসার্চ ল্যাবে একসময়ে ছাঁটাই হতো না, তবে ইদানিং অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হওয়াতে অনেক ল্যাব বন্ধ হয়ে গেছে বটে।

নানা কোম্পানিতেও প্রকৌশলী বা অন্যান্য পদে পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা কাজ করতে পারেন। যেমন গুগল, ফেইসবুক, মাইক্রোসফটে প্রচুর মানুষ রিসার্চ ল্যাবের বাইরেও ডেভেলপমেন্ট অংশে কাজ করেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি যে, যেসব কাজ মাস্টার্স করেই করা সম্ভব, পিএইচডি করার পরে সেসব কাজে যোগ দেয়াটা আসলে এক অর্থে সময়ের অপচয়। অনেক কাজে রিসার্চের দরকার হলেও দেখা যায় যে নন-পিএইচডি বসের বা ম্যানেজারের অধীনেই দিব্যি সেসব কাজ চলছে। কোম্পানির এরকম চাকুরিতে আসলে কার কী ডিগ্রি বা ইতিহাস আছে সেটি ব্যাপার না, কে কী কাজ পারে সেটাই ব্যাপার। তার জন্য পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা অতিরিক্ত কোনো সুবিধা তেমন পান না।

যাহোক, এই শ্রেণীর কাজের সুবিধা হলো ডেভেলপমেন্ট ছাড়া আর কোনো মাথাব্যথা নাই। কাজেই বাসায় ফেরার পরে কাজ নিয়ে চিন্তা নাই, পড়ানোর ঝামেলা নাই। বেতনও অনেক ক্ষেত্রে বেশ ভালো। ছুটি/বেনিফিট/স্টক অপশন এসব তো আছেই। তবে বেতনের অংকটা আসলে বিভ্রান্তিকর। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রচণ্ড খরুচে জায়গায় দুই লাখ ডলার বছরে পেলেও সেটি আসলে অপেক্ষাকৃত কম খরচের স্টেটের ৯০ হাজার ডলার বেতনের চাকুরির চাইতে কম বেতনের এক অর্থে । থাকাখাওয়ার খরচ হিসাব করলে ৯০ হাজারেই অনেক ভালো করে থাকা চলে।

একটি বিষয় আসলে আলোচনা করা হয়নি। সেটি হলো, উদ্যোক্তা হওয়া বা স্টার্টাপ খোলার ব্যাপারটি। পিএইচডির পর নানা চাকুরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসাবেও ক্যারিয়ার গড়া যায়। পিএইচডির সময়ে ৪/৫ বছর একটি জিনিষের প্রশিক্ষণ অনেকটা পরোক্ষভাবে হয়, তা হলো কোনো সমস্যার সমাধান করার জন্য জানপ্রাণ নিয়ে লেগে থাকা। থিসিস শেষ করার জন্য এই যে প্রচেষ্টা, এতো একাগ্রভাবে কাজ করা, এই ব্যাপারটি কিন্তু উদ্ভাবন ও নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার জন্যও পরবর্তিতে কাজে লাগতে পারে। আমার পরিচিত অনেকে পিএইচডির পর কোনো কোম্পানিতে না ঢুকে নিজেই স্টার্টাপ খুলে বসেছেন। এটিতে ঝুঁকি আছে অনেক, তবে নিজের জন্য কাজ করার মজাও আলাদা।

প্রশ্ন হতে পারে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এটা কি বাস্তবসম্মত? কারণ ভিসাসংক্রান্ত কারণে সরাসরি নিজে উদ্যোগ শুরু করা যায় না শুরুতে। এখানে দুইটি ব্যাপার আছে—প্রথমত, শুরুতে কয়েক বছর ইন্ডাস্ট্রিতে বা অন্যত্র কাজ করে ইমিগ্রেশনের ব্যাপারটি গুছিয়ে নিয়ে তারপর স্টার্টাপ খুলে বসা যায়। আর দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞান বা প্রকৌশলে পিএইচডির পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসা-সংক্রান্ত আরও কিছু প্রশিক্ষণ বা ডিগ্রি করে নিলে প্রডাক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং, মানে একটি আইডিয়াকে প্রটোটাইপ থেকে প্রডাক্টে কীভাবে আনা চলে, সেটি বোঝা সম্ভব।

সুবিধাটা কী এ রকমের ক্যারিয়ারে? নিজের বস নিজে হওয়া, নিজের হাতে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, এর মতো আনন্দের কাজ কি আর কিছু হতে পারে? যারা অ্যাকাডেমিক লাইনে যাবেন না, তারা ইন্ডাস্ট্রির চাকুরির বাইরে এ-দিকে ক্যারিয়ার করার কথা ভাবতে পারেন। আপনার প্রডাক্ট ঠিকমতো হিট হলে বড় কোনো কোম্পানি স্টার্টাপকে কিনে নিতে পারে মোটা অংকে। হোয়াটসঅ্যাপের কথা মনে আছে তো? মাত্র ১৮ মাসের পুরানো কোম্পানিকে ফেইসবুক কিনে নিয়েছিলো ১৮ বিলিয়ন ডলারে (স্টার্টাপ-সংক্রান্ত আইডিয়াটি প্রদানের কারণে ড. বিপ্লব পালকে ধন্যবাদ)।

কাজেই সবসময় গতানুগতিক অ্যাকাডেমিয়া, ল্যাব, আর ইন্ডাস্ট্রি—এসবের মধ্যে চিন্তা সীমাবদ্ধ না রেখে একটু বৃত্তের বাইরে ভাবতে পারেন।

রাগিব হাসান: সহযোগী অধ্যাপক, দি ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহাম, যুক্তরাষ্ট্র।

13
০১ এপ্রিল- দেশ থেকে বেকার সমস্যা দূরীকরণে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, বাংলাদেশে চাকরির অভাব নেই, তবে যোগ্য লোকের অভাব আছে। তরুণদের অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেকে যোগ্য এবং দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
 
শনিবার রাজশাহীর বাঘা উপজেলা অডিটোরিয়ামে ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং ও সিভি রাইটিং-এর উপর আয়োজিত ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন তিনি।
 
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীদিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে। হতাশা মানুষকে পিছনে ঠেলে দেয় উল্লেখ করে তিনি কাউকে হতাশ না হবার পরামর্শ দেন।
 
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে যাতে একটি লোকও বেকার না থাকে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই ওয়ার্কশপ। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এধরণের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
 
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম, কমিউনিটি রেডিও বড়ালের পরিচালক মো. শাহরিয়ার লিঙ্ক, এনআরবি এর বিজনেস কোঅর্ডিনেটর নাহিদ ফেরদৌস রনীসহ বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

14
উচ্চশিক্ষিত বেকার মো. শরিফুল ইসলাম সাজু। বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলা সদরের বেলগছা ইউনিয়নের ডাইরপাড়া গ্রামে। তিনি দু’বছর আগে মাস্টার্স শেষ করেছেন। অনার্সে পড়ার সময় থেকেই চাকরির সন্ধানে আবেদন করতে থাকেন। বিভিন্ন চাকরিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও দেখা গেছে মৌখিক পরীক্ষায় আর হয়ে ওঠেনি। এভাবে চাকরি খুঁজতে খুঁজতে এখন হতাশ তিনি। আর কোনো চাকরিতেই দরখাস্ত করছেন না।
কোনো কাজও করছেন না। এখন বাড়িতেই শুয়ে-বসেই সময় কাটে। সাজুর মতো এ রকম বেকারের সংখ্যাই বেশি। তবে সরকারি জরিপের তথ্যে বেকারের খাতায় এদের নাম উঠছে না। দেশে সাজুসহ তার মতো প্রকৃত কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে কর্মক্ষম কিন্তু শ্রমশক্তিতে যোগ হয়নি এমন মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৫৬ লাখ। অথচ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞা অনুযায়ী এদের বেকার বলা হচ্ছে না।

একটু ঘুরিয়ে বলা হচ্ছে, এরা কর্মের সঙ্গে যুক্ত নয়, এরা শ্রমশক্তির বাইরে। বেকার বলা হচ্ছে ২৬ লাখ ৮০ হাজারকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শ্রমশক্তি জরিপের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে এ চিত্র। সম্প্রতি শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সংস্থাটি।
বিশেষজ্ঞরা আইএলও’র বেকারের সংজ্ঞাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তারা বলেন, এ সংজ্ঞা বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। তাদের মতে, বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না হওয়াসহ তিন কারণে দেশে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থানের সমন্বয় নেই। অর্থাৎ যে হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে একই হারে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। ফলে এই প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থান তৈরিতে তেমন ভূমিকা রাখছে না। এ ছাড়া বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না হওয়া এবং সরকারি বিনিয়োগের কার্যকর ব্যবহার হচ্ছে না। এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে। ফলে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মোট কর্মোপযোগী মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত ৬ কোটি ৮ লাখ মানুষ। বাকি ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ কর্মক্ষম তবে শ্রমশক্তির বাইরে। এর মধ্যে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত নারী-পুরুষ আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএলও’র সংজ্ঞার মধ্যে না পড়লেও বাংলাদেশে এরাই হচ্ছে প্রকৃত বেকার। আইএলও’র সংজ্ঞায় বেকার হচ্ছে যারা জরিপের সময় থেকে গত এক মাসের মধ্যে কাজ খুঁজেছেন, কিন্তু পাননি। তাদেরই বেকার হিসেবে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে যারা সপ্তাহে ১ ঘণ্টা কাজ করেছেন (মূল্য পরিশোধ হোক বা না হোক) তারা কর্মে নিয়োজিত হিসেবে ধরা হয়েছে। তা ছাড়া যারা এক মাসের মধ্যে কোনো কাজ খোঁজেননি তারা শ্রমশক্তির বাইরে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএলও বেকারের যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে তা বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। কর্মে নিয়োজিত ৬ কোটি ৮ লাখ মানুষের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে আছেন দুই কোটি ৪৭ লাখ, শিল্পে এক কোটি ২৪ লাখ এবং সেবা খাতে যুক্ত দুই কোটি ৩৭ লাখ মানুষ। কর্মক্ষম তবে শ্রমশক্তির বাইরে থাকা ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজারের মধ্যে নারীর সংখ্যা তিন কোটি ৬৩ লাখ ৩৩ হাজার এবং পুরুষ এক কোটি ১৯ লাখ ৪৭ হাজার।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, আইএলও’র সংজ্ঞা মেনে জরিপ করায় প্রকৃত বেকারের সংখ্যা উঠে আসছে না। এর ফলে আসল বেকারের হিসাব পাওয়া যায় না। আইএলও’র বেকারের সংজ্ঞা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কেননা এ হিসাবে দেখানো হচ্ছে, দেশে বেকার সংখ্যা অনেক কম। কিন্তু প্রকৃত চিত্র হচ্ছে বেকার অনেক বেশি। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার অনেক বেড়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা কর্মক্ষম কিন্তু শ্রমশক্তির বাইরে তারাও প্রকৃত অর্থে বেকার। এর মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক রয়েছে, যারা কাজ করতে চান না। সেটি আলাদা কথা। তাই এক কথায় বলা যায়, দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক বেশি।

জরিপ পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলএমআইএস প্রকল্পের পরিচালক কবির উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, শ্রমশক্তির বাইরে থাকা ১৫ বছর বয়সের ওপরের এই মানুষগুলোর মধ্যে গৃহিণীদের একটি অংশ আছে। একটি অংশ আছে যারা বর্তমানে লেখাপড়ার সঙ্গে যুক্ত নয়। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের সঙ্গেও এরা যুক্ত নয়। কিংবা কোথাও কোনো কাজও এরা করছে না। এই অংশকে শ্রমবাজারে যুক্ত করা উচিত বলে মনে করে বিবিএস। তিনি বলেন, আইএলও’র সংজ্ঞা অনুযায়ী এরা বাংলাদেশে বেকার হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে না। আবার কাজ করছে এ ধরনের পরিসংখ্যানের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে না। এদের সম্পর্কে বলা হচ্ছে শ্রমশক্তির বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের শ্রমশক্তির বাইরে (বেকার) ছিল ৪ কোটি ৬৬ লাখ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার। তুলনামূলক পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এ ধরনের কর্মহীন মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিবিএসের জরিপে আইএলও’র সংজ্ঞা অনুযায়ী যে বেকার সংখ্যা দেখানো হয়েছে, বাস্তব অবস্থা তার ধারেকাছেই নয়। বাস্তবে বেকারের সংখ্যা অনেক বেশি। কেননা শ্রমশক্তির বাইরে থাকা মানুষগুলোর অধিকাংশই মহিলা ও তরুণ। এরা অনেকেই সামাজিক, পারিবারিক ও কর্মস্থলের পরিবেশের অভাবসহ নানা বাঁধার কারণে কর্মে যুক্ত হতে পারছে না। আর একটি অংশ আছে যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ খুঁজতে খুঁজতে হতাশ হয়ে পড়েছেন। যখন জরিপ চলে তখন হয়তো কাজ খোঁজা বাদ দিয়েছেন। ফলে তারা বেকারের তালিকায় আসেননি। আরেক ধরনের কর্মক্ষম মানুষ রয়েছেন যারা দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় কাজ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখেন না বলেই কাজ খোঁজেন না। তারা মনে করে যেহেতু কাজ পাব না সেহেতু খামাখা কেন স্টাম্প, ব্যাংক ড্রাফট বা দরখাস্ত লিখে অর্থ ব্যয় করব। ফলে তারাও কিন্তু বেকারের সংজ্ঞার মধ্যে আসেনি। প্রকৃতপক্ষে এরাও তো আসল বেকার।

বেকার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যেখানে প্রতি বছর প্রবৃদ্ধি বাড়ছে তার আগের অর্থবছরের চেয়ে বেশি হারে। কিন্তু তার কোনো প্রতিফল কর্মসংস্থানে পড়ছে না। তাছাড়া সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও যেভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে তা মানসম্মত হচ্ছে কিনা সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ খুব কম হচ্ছে। যেটা হচ্ছে সেটা হয়তো পুরনো যন্ত্রপাতি রিপ্লেসমেন্ট হচ্ছে। তাহলে সেটা তো কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে না। এক্ষেত্রে শিল্পের সম্প্রসারণও হচ্ছে না। এর বাইরে নতুন বিনিয়োগ যেগুলো আসছে সেগুলোর বেশির ভাগই অটোমেশন হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে খণ্ডকালীন বেকারের একটি চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে টাইম রিলেটেড আন্ডার ইমপ্লয়েডের (খণ্ডকালীন বেকার) সংখ্যা ১৪ লাখ ৬৫ হাজার। যারা সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার কম কাজ করে। ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সের এসব মানুষের মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ২৬ হাজার এবং মহিলার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৯ হাজার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সম্ভাব্য শ্রমশক্তি তৈরি হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ ৩৪ হাজার। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ৪৬ হাজার আর নারীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৮৭ হাজার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, জরিপের তথ্য সঠিকভাবে উঠে আসে কিনা এ বিষয়ে পরিসংখ্যান নিয়ে সব সময়ই প্রশ্ন থেকে যায়। তিনি বলেন, বাস্তবতা বিবেচনা করে বলতে পারি দেশে ২৬ লাখ ৮০ হাজারের চেয়ে প্রকৃত বেকার অনেক বেশি। তাছাড়া আমাদের ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যারা শ্রমশক্তির বাইরে রয়েছে তাদের অধিকাংশই বেকার।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ২০১২ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন ২২ লাখ কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। কিন্তু কাজ পায় মাত্র ৭ লাখ। বাকি ১৫ লাখ থাকে বেকার। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষিত অর্থাৎ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যারা শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন তারাও রয়েছেন। প্রতি বছর এই ১৫ লাখ শ্রমশক্তি বেকারের সংখ্যা শুধু বাড়িয়েই চলেছে।

15
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করাকে বাংলাদেশের জন্য এক বড় মাইলফলক হিসেবে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব হাওলিয়াং সু।
তিনি বলেছেন, এই উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য যুগপৎ চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের সৃষ্টি করেছে। শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা হারানোর ফলে রফতানি ক্ষতির মুখে পড়বে।
তবে বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বার্তা যাবে যে, বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ উপযুক্ত স্থান। এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটায় দাতারা বাংলাদেশকে সাহায্য দেবে না। তবে উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেবে।
হাওলিয়াং সু রোববার রাজধানী ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি চার দিনের সফরে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সফরে আসেন। তিনি এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দান অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
তিনি এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ সংক্রান্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ আয়োজিত এক কর্মশালায় যোগ দেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
সফরের অংশ হিসেবে তিনি রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করতে টেকনাফ সফর করেছেন। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর তার প্রভাব সম্পর্কে জেনেছেন।
এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের জন্য মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুর দশা থেকে উন্নয়ন ঘটানোর শর্ত রয়েছে। জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ উত্তরণের এ সব শর্তই পূরণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এখনও আরও অনেক কিছু করার রয়েছে। তবে অব্যাহতভাবে প্রত্যাশিত শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বাংলাদেশ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই যোগ্যতা ধরে রাখতে পারলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে।’
এলডিসি থেকে উত্তরণ কোনো ফাঁদ নয়। তবে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে উত্তরণ একটি বড় ফাঁদ। একে বলে মধ্যম আয়ের ফাঁদ। চীন, ভারতসহ বিশ্বের বহু দেশ এই ফাঁদ থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারছে না। বাংলাদেশ ২০৪১ সালে উন্নত বিশ্বে রূপান্তরের টার্গেট নিয়েছে।
জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল মধ্যম আয়ের ফাঁদ থেকে উত্তরণ ঘটানো। এক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তন, উদ্ভাবনী, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং শাসন ব্যবস্থার উত্তরণ ও বৈষম্য দূরীকরণ জরুরি। নির্বিঘ্ন উত্তরণ ঘটাতে আমাদেরকে কাজ করতে হবে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে তা অর্জন করতে হবে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে হবে। টেকসই নগরায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
সামাজিক বৈষম্য দূর করতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনয়ন করতে হবে। এসব প্রয়োজন ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের জন্য।
বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ মানবসম্পদ উন্নয়ন বিশেষ করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সহস্রাব্দ লক্ষ্য অর্জনে খুব ভালো করেছে। এখন দক্ষতা অর্জন, উদ্যোক্তা হওয়ার যোগ্যতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার উন্মেষ ঘটাতে হবে।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব হাওয়ালিয়াং সু রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সেখানে বনজ সম্পদ ধ্বংস হয়ে পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়ছে
এই প্রভাব এখনই দৃশ্যমান। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের রোহিঙ্গাদের দেখভাল করতে প্রচুর সময় দিতে হচ্ছে। জাতিসংঘ এসব প্রভাবের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। তবে তিনি এও বলেন যে, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণে বড় কোনো সমস্যা হবে না।
এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ সঠিক পথে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সঠিক পথেই আছে। এ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিগত অনেক বছর ধরেই ৬ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশ রফতানিতে শুল্ক ও কোটা সুবিধা হারানোর ফলে যে ক্ষতি হবে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২৪ সালের পর এসব সুবিধা হারাবে এটা ঠিক।
তবে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার কারণে বেশ কিছু সুবিধাও লাভ করবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের ভালো ধারণা সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার ফলে এই বার্তা যাবে যে, বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশই সঠিক স্থান। দাতারা আরও কোনো সাহায্য দেবে না। তবে কারিগরি সহায়তা দেবে অংশীদার হিসেবে।

Pages: [1] 2 3 ... 35